Home Blog Page 369

জুলাই সনদ’ কতদূর

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে টানা ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবার চোখে ধরা দেয় একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন। ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের এই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকারকে। স্বপ্নদ্রস্টা হয়ে সরকারের প্রধান হয়ে আসেন নোবলেজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূস। এরপরই শুরু হয় রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কারের নানা কার্যক্রম। সবার দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, ‘জুলাই সনদ’ তৈরী ও বাস্তবায়নের। এজন্য সময়সীমাও জানিয়ে দেয়া হয়।

গত ১০ মে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে জাতির উদ্দেশে ঘোষণা দেন ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। যে সময়সীমা শেষ হয় ২৫ জুন। কথা রাখতে পারেনি সরকার। ফের বাড়ানো হয় সময়।

প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা জানান, জুলাই সনদ ঘোসণা করা হবে জুলাই মাসের মধ্যেই। এজন্য জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাইদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটি বেঁছে নেয়া হয়। কিন্তু দফায় দফায় সংলাপ করেও এখন পর্যন্ত সংবিধানের মূলনীতিসহ মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। অথচ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ মাস। যে কারণে অনেকটা হতাশই হয়ে পড়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার সপ্তম দিনের আলোচনার শুরুতে বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, আবু সাঈদের শাহাদাত্বার্ষিকীতে সবাই মিলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব। কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। আমরা খানিকটা শঙ্কিত যে, সে জায়গায় আমরা যাব না।’ এর আগে গত সপ্তাহের বৈঠকে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দেয়ার অনুরোধ করে বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ফ্যাসিস্ট শাসকের তকমা পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই মাস ছিল উত্তাল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নেমে এসেছিলেন রাস্তায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আপামর জনতা। যার ফলশ্রুতিতে গদি ছেড়ে পালাতে হয় টানা ১৬ বছর ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকা শেখ হাসিনাকে।

কতটুকু এগুলো সনদ: ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা সংলাপ, পর্যালোচনা ও মতবিনিময়ের পরও সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবের অন্তত অর্ধেক বিষয়েই এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি, বিশেষ করে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে বিরোধ স্পষ্ট।

কমিশনের চলমান সংলাপে দেখা যায়, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া, এমনকি সংবিধানের মূলনীতির প্রায় প্রতিটি মৌলিক ইস্যুতেই রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন অবস্থানে। কেউ বলছে নির্বাচনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া কোনো সংস্কারই টেকসই নয়, কেউ আবার ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের আগেই কোনো আলোচনাকে অর্থহীন বলছে। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হলে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে ‘জুলাই সনদ’? নাকি মতবিরোধ, সংশয় আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতরেই হারিয়ে যাবে প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের স্বপ্ন?

গত দুই সপ্তাহের সংলাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে এই অবস্থানে একমত রয়েছে সমমনা এলডিপি, এনডিএম, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট এবং ১১ দলীয় জোট। তারা এ দুটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই নিজেদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দলগুলোর মতে, এই প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এনসিসি গঠনের মাধ্যমে নির্বাহী শাখার কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনে করছে, যারা এনসিসি গঠনের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে চান না।

এ ছাড়া সংলাপে অংশ নেয়া ৩০টি দল ও জোট কেবল ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিলের বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে একমত হয়েছে। তবে এখানেও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থবিল ও আস্থা প্রস্তাবের বাইরে সংবিধান সংশোধনের সময়েও সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। বিপরীতে বিএনপি বলেছে, যুদ্ধাবস্থাতেও সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, এটি গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী একটি প্রক্রিয়া। তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়নে উচ্চকক্ষের অস্তিত্ব জরুরি কি না, এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিএনপি মনে করে, দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজন নেই। জামায়াতে ইসলামী পুরো সংসদে আনুপাতিক নির্বাচন চাইলেও, ঐকমত্যের স্বার্থে আপাতত শুধু উচ্চকক্ষকে ভোটের ভিত্তিতে গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

দলটির মতে, এতে সব দলের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে, যা সংসদীয় সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই রকমভাবে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত আছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন- এমন সাংবিধানিক বিধান যুক্ত করার বিষয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও আরও কয়েকটি দল এই সীমাবদ্ধতার পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সময়সীমা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিএনপি, এলডিপি ও এনডিএম। দলগুলো মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের মতো মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতি বদলের বিষয়ে দলগুলো একমত হলেও কী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে বা এই নির্বাচনে কারা ভোটার হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে নারী আসনের ক্ষেত্রেও। নারী আসন ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার ব্যাপারে সব দলই মত দিয়েছে, তবে কী প্রক্রিয়ায় এই আসন নির্বাচিত হবে, তা নিয়ে রয়ে গেছে অনৈক্য। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সরাসরি ভোটের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। দল দুটি বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে বর্তমানে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন কঠিন। তাদের মতে, এ বিষয়ে আরও সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াই বাস্তবসম্মত। বিপরীতে, এনসিপি বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হওয়া উচিত।

দ্বিমত দেখা দিয়েছে সংবিধানের মূলনীতি নিয়েও। বিএনপি বলছে, তারা পঞ্চদশ সংশোধনীকে মানে না এবং সংবিধানকে সংশোধন করে সেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়, যেখানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। দলটির দাবি, ভবিষ্যতে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তারা সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সংযুক্ত করবে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলো ১৯৭২ সালের সংবিধানে বর্ণিত মূল চার নীতির পক্ষে অনড়। তাদের মতে, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ- এই মূলনীতিগুলোই রাষ্ট্রের ভিত্তি। এগুলো থেকে সরে এসে কোনো জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করে।

জামায়াতে ইসলামী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোতে একমত হলেও, তারা বিএনপির মতো পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফেরার পক্ষে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা ১৯৭২ সালের ‘মুজিববাদী’ মূলনীতির বিরোধী। দলটির মতে, যদি ওই মূলনীতি বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামো নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব আসে, তবে তারা তা আলোচনা করবে।

অনিশ্চয়তার পথে সনদ তৈরি: কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এরইমধ্যে ‘ঐকমত্য’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। বৈঠকে উঠে এসেছে ক্ষোভ, আসন বিন্যাস নিয়ে আপত্তি, কোনো কোনো দলের অতিরিক্ত সময় পাওয়া এবং একাধিক নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ। নিবন্ধনহীন দলের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি পক্ষ। সংলাপের দ্বিতীয় ধাপের শুরুর দিনই উত্তেজনার রেশ ছড়ায়।

লন্ডনে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দেয়া যৌথ বিবৃতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী এই সংলাপ বয়কট করে। যদিও পরদিন দলটি সংলাপে ফিরে আসে। কিন্তু জামায়াতের ফিরে আসার দিনই দলটির প্রতি কমিশনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম এবং এলডিপির একাংশ সংলাপ বয়কট করে। পরে তারা আবার আলোচনায় যোগ দেয়। এই টানাপোড়েন, পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও আস্থার সংকট রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘জুলাই সনদ’ তৈরির প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারার বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হচ্ছে না, এটাই আমাদের দেশের পাওয়ার পলিটিক্সের বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতার প্রতি যে আকর্ষণ, এক্ষেত্রে একদলের সঙ্গে অন্যদলের তেমন একটা পার্থক্য নেই।

অভ্যুত্থানের পর পরই জুলাই সনদ তৈরি করা উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর পরই সমন্বয়করা সনদ তৈরির কাজটি করে ফেলতে পারতেন। ওই সময় যতটা সমন্বয়কদের প্রতি মানুষের আস্থা, ভালোবাসা বা আবেগ কাজ করছিল, সেটা এখন আর নেই। ফলে এখন সবগুলো রাজনৈতিক দল একমত হয়ে একটা সনদ করবে- এটা আমার কাছে অসম্ভব মনে হয়।

উদ্বেগ জুলাই যোদ্ধাদের: জুলাই সনদ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জুলাই যোদ্ধা সংসদ। তারা সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পালনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকার প্রতিশ্রুতি পালন না করলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

জুলাই যোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আরমান হোসেন শাফিন সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বারবার সময়ক্ষেপণ ও অজানা অনিশ্চয়তা তাদের শঙ্কিত করে তুলছে। এদিকে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে জুলাই গণ-ঐক্য।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার যদি ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা না করে, তবে সেটা হবে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা। এই সরকার ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে অসম্মান করছে। তারা আরও অভিযোগ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই বিভিন্ন স্থানে জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’। এসব ঘটনার কোনো বিচার না হওয়াকেও আন্দোলনকারীরা সরকারের নীরব সহযোগিতা হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, জুলাই কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটা অন্যায়-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ প্রতিরোধের গৌরবময় অধ্যায়। এই অধ্যায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দিতে হবে। না দিলে কঠোর কর্মসূচি আসবে, তার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

যা বলছে রাজনৈতিক দলগুলো: মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন অনৈক্যতে এখন প্রশ্ন উঠেছে- জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের যে প্রস্তুতি চলছে, তা আদৌ কতটা সফল হতে যাচ্ছে? অথবা অধিকাংশ বিষয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে ‘জুলাই সনদ’ কতটা গ্রহণযোগ্য বা বাস্তবসম্মত হবে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সুষ্ঠু নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, ৫০ শতাংশ ভোটও পায়নি। উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৬৫-৬৬ শতাংশ ভোট প্রয়োজন, যা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্য ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্ভব হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে এমন ঐকমত্য আরও অসম্ভব। আমাদের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে তাতে মত দিয়েছি।

তিনি বলেন, যদি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সকল প্রস্তাবে আমাদেরকে শতভাগ একমত হতে বলা হয়, তাহলে তো আলোচনার দরকার ছিলো না। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য পোষণ হলে যে সমস্ত বিষয়গুলোতে দলসমূহ একমত হবে, সেই বিষয়গুলো একত্রিত করে জুলাই সনদ বা জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তো এখন এখানে যদি আমাদেরকে বাধ্য করা হয়, এই সমস্ত বিষয়ে একমত হতেই হবে, সেটা তো সঠিক হলো না।

সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দরকষাকষি চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা এখনো মৌলিক সংস্কারের বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে আছি। বিএনপিসহ কয়েকটি দলের দ্বিমতের কারণে মৌলিক সংস্কারের জায়গায় ঐকমত্যে আসা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরিতে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। সরকার জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র না করে তবে ৩ আগস্ট এনসিপি সম-মনাদের নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি। অনেক বিষয়ে আবার হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় আটকে যাচ্ছে। সেগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি। এটা তো একটা নেগোসিয়েশনের প্রশ্ন। বিতর্ক হবেই, এর মধ্যে দিয়ে কোনো একটা জায়গায় পৌঁছানো যাবে। কমিশনের অধিকাংশ বিষয়েই তো আমরা একমত। মূল সমস্যা ৮-১০টি বিষয় নিয়ে, যেখানে মতভিন্নতা আছে। রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়েও মতপার্থক্য আছে। এটা সমাধান হওয়া কঠিন।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সেটি জনগণ মেনে নেবে না। জুলাইয়ের কোনো আইনি স্বীকৃতি এবং মৌলিক সংস্কার ছাড়া আমরা নির্বাচনের পক্ষে নই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা তো শুরু থেকেই জুলাই সনদের বিষয়ে বলে আসছি। কারণ জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে একটা প্রত্যাশা ছিল। জুলাই সনদ এজন্য হওয়া দরকার যে, সামনে যারাই ক্ষমতায় আসুক যাতে বিগত দিনের মতো একদলীয় শাসন কায়েম না করে। বিগত দিনের মতো স্বৈরাচারী ভূমিকা পালন না করে। সঠিকভাবে যাতে দেশ চলে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ হলো জুলাই অভ্যুত্থানের একটা অঙ্গীকার। যা না করাটা হবে বিশাল আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণা। সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি যদি সহযোগিতা করে, তাহলে এই সনদ তৈরি সহজ হবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, জুলাই সনদ করতে না পারার কোনো কারণ দেখি না। অভ্যুত্থানকে আমলে নিয়ে এটা তৈরি করতেই হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হলে ‘জুলাই সনদ’ হওয়া উচিত।

৪৪তম বিসিএসের ফল ঘিরে নতুন আন্দোলনের আভাস

৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশে আরেকটি বড় ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক সহ-মুখপাত্র ও অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান, যা এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকেই শেয়ার করেছেন।

মিরাজ মিয়ার অভিযোগ, ৪৪তম বিসিএসের প্রায় ১২ হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে রাষ্ট্র বড় ধরনের প্রতারণা করতে যাচ্ছে। তার মতে, নিয়োগযোগ্য অসংখ্য পদ খালি থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে সেগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ৪০তম, ৪১তম এবং ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশের আগে পদসংখ্যা বাড়ানো হলেও, বর্তমান সরকার আমলে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে বলেন, জনপ্রশাসন সচিবের কাছ থেকে পদসংখ্যা বৃদ্ধির চিঠি তার কার্যালয়ে পৌঁছালেও তাতে স্বাক্ষর করা হয়নি। মিরাজ মিয়া আরও বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সবকিছু আবার দলীয়করণ হতে যাচ্ছে। জেনারেল ক্যাডার ও শিক্ষা ক্যাডারে পর্যাপ্ত পদ খালি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পূরণ না করার পেছনে কোনো যুক্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।

৪৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলা ৪৪তম বিসিএসকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিসিএস উল্লেখ করে মিরাজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রিলি, লিখিত ও ভাইভায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পরীক্ষার্থীদের সদিচ্ছার অভাবে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের আন্দোলনের কারণে বর্তমান সরকার ক্ষমতায়, তাদের কথা কেন শোনা হচ্ছে না।

মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান যে, “খালি পদ থাকা সত্ত্বেও ড. ইউনূস পদ বাড়াচ্ছেন না”—শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের বিষয়ে তার জানা উচিত। এই পরিস্থিতি নতুন করে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

গাজা যুদ্ধে ৮৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ৮৮০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিহত সেনাদের নামের তালিকা প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।

আইডিএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত সেনাদের মধ্যে ৩২৯ জন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা সীমান্তে হামাসের আক্রমণের সময় মারা যান। এছাড়া, হামাস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে স্থল আক্রমণ ও সীমান্ত অভিযানে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৩৬ জন সেনা।

এদিকে, ইসরায়েল পুলিশ গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৮ জন সদস্য নিহত হওয়ার তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের অনেকেই অফিসার পদমর্যাদার ছিলেন।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ৮০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ। একইসঙ্গে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েলে সংঘর্ষে ১৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইরাক থেকে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন সেনা নিহতের তথ্যও নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

আইডিএফের তালিকায় যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কয়েকটি মারাত্মক ঘটনাতেও নিহতের তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিম তীরে গুলিতে একজন, লেবানন সীমান্তে গোলাবারুদের ত্রুটির কারণে একজন এবং উত্তর ইসরায়েলে ট্যাঙ্ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা-ইসরায়েল সংঘাতে প্রায় ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, গাজা উপত্যকাজুড়ে দখলদার বাহিনীর ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক হামলায় এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৩২ জন ফিলিস্তিনি। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে ফোনালাপ, যা বলল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই ফোনালাপের বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় প্রকাশ করেছে। সোমবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই সংলাপকে তিনি “উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে।

এনবিআরের চাকরিকে অত্যাবশ্যক সেবা করে প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা গতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন সকল কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনসমূহের সব শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার রোববার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এনবিআরের আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তিনি যোগ করেন, পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করলে কারও কোনো সমস্যা হবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে মানুষের সেবা করলে সেখানে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

গেজেটে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় এনবিআরের এসব কার্যক্রম অত্যাবশ্যক। এসেনশিয়াল সার্ভিসেস (সেকেন্ড) অর্ডিন্যান্স, ১৯৫৮ এর সেকশন ৩ এর ক্ষমতাবলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, জনকল্যাণমূলক সেবা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জননিরাপত্তা বা জনগণের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জনগণের জন্য অসহনীয় কষ্টের কারণ হলে এবং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া যায়।

এই ঘোষণা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, তবে প্রয়োজনে তা বাড়ানো যাবে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ঘোষিত চাকরির ক্ষেত্রে সরকার কর্মীদের কর্মস্থল ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিতে পারবে এবং ধর্মঘট নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে গেলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থারও সুযোগ আছে আইনে। বর্তমানে ১৮ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে এখন এনবিআরের উল্লিখিত সব শ্রেণির চাকরি যুক্ত হলো।

কমল ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি : সরকারিতে ৫০, বেসরকারি ৩০০ টাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা (এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম) করানোর জন্য ৫০ টাকা রাখা হবে, যা গত বছরের অর্ধেকেরও কম। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিসিয়াল নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই ফি নীতিমালা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু শনাক্তের প্রধান পরীক্ষা এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএমের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে, এর বেশি নয়। এছাড়া, সিবিসি পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সরকারি হাসপাতালে এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করায়, ডেঙ্গু পরীক্ষা আগের ১০০ টাকার চেয়ে অর্ধেক কম মূল্যে করানো যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি ফি নেওয়া যাবে না। যদি কোথাও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় যেকোনো জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ রোগীদের আর্থিক বোঝা কমানো এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাহরাইনের জালে ৭ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

ইয়াংগুনে এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘সি’তে ২ জুলাই স্বাগিতক মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাহরাইন বেশ এগিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে ঋতুপর্না চাকমা-শামসুন্নাহাররা। ১২৮ নাম্বারে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বিভাগেই পেরে ওঠেনি ৯২তম স্থানে থাকা বাহরাইন।

ম্যাচের ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র দলকে প্রথম এগিয়ে নেন। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের লম্বা ক্রস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে চোখে লেগে থাকার মতো গোল করেন তিনি। বাঁ পায়ের চিপ শটে জালে পাঠান বল।

এরপর ১৬ মিনিটে ঋতুপর্না চাকমার গোলটিও দেখার মতো ছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করা সেই গোলটির রিপ্লে দেখান তিনি। ৪০ মিনিটে লিড ৩-০ করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তহুরার জোড়া গোলে ৫-০ গোলে শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে বাহরাইন কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করলেও ৬০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে দলটি। ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে বাহরাইনের বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মুনকি আক্তার। শেষ দিকে অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ৮-০ ব্যবধানের জয় হতে পারতো।

মহররম মাসের ফজিলত ও আমল

হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী শরিয়তে এই মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত ও বরকতময় মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এর অসাধারণ ফজিলত বর্ণিত আছে। মহররম মাস শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এটি ইবাদত, তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনার এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে নফল রোজা ও ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা মুমিনদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য পথ খুলে দেয়। আসুন, এই সম্মানিত মাসের বিশেষ কিছু ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

পবিত্র কোরআনে মহররমকে ‘আরবাআতুন হুরুম’ বা সম্মানিত চার মাসের অন্যতম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল, যা এর পবিত্রতা ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহররম মাসের রোজাকে রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হচ্ছে- আল্লাহর মাস ‘মুহররম’-এর রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হচ্ছে- রাত্রিকালীন নামাজ।” (সহিহ মুসলিম, ১১৬৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহররম মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস বলেও অভিহিত করেছেন। যদিও সকল মাসই আল্লাহর, তবে এই নামকরণ মহররমের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। যেমনভাবে পৃথিবীর সব ঘর আল্লাহর হওয়া সত্ত্বেও কেবল কা’বাকে ‘বাইতুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। এই বিশেষ সম্পর্ক মহররম মাসে অধিক রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।

মহররম মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এই মাসের সঙ্গে তওবা কবুলের ইতিহাস জড়িত। একটি হাদিসে এসেছে, আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি রমজানের পর রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১/১৫৭)

মহররমের রোজার মধ্যে আশুরার (১০ই মহররম) রোজার ফজিলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।” (সহিহ বুখারি: ১/২১৮)

এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অসাধারণ সুযোগ। এই সময়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা এবং কৃত গুনাহের জন্য তওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।

অজান্তেই শরীরে ঢুকছে ডায়াবেটিস, লক্ষণগুলো দেখা দেয় ঘুমের মধ্যেই

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এই চারটি বিষয় সরাসরি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে অনেক সময় দিনের বেলা যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়, তার কিছু নিঃশব্দ বার্তা আমাদের ঘুমের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

ঘুমের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে, সেগুলো হলো:

১. ঘুমিয়ে উঠেও ক্লান্তিভাব: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি শরীর চাঙ্গা না লাগে এবং দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে তা শরীরে ইনসুলিন কার্যকারিতার ব্যাঘাতের লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসে শরীর সঠিকভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ঘুমের পরও সতেজ অনুভব হয় না।

২. ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম: রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে বা ঘামিয়ে ঘুম ভেঙে গেলে সেটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া) লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাম স্বাভাবিক ঘটনা নয় এবং অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব পেয়ে ঘুম ভাঙা: রাতের বেলা বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের একটি প্রচলিত লক্ষণ। উচ্চমাত্রার রক্তশর্করা শরীরকে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দিতে বাধ্য করে, যার ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যেতে পারে।

৪. ঘুমের মধ্যে তীব্র পিপাসা অনুভব: ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যা ঘুমের মাঝেই তীব্র পিপাসা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

৫. হাত-পায়ে ঝিমঝিম বা অসাড়তা: ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ু ক্ষতির (ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি) কারণে রাতে ঘুমানোর সময় হাত-পায়ে ঝিমুনি, অস্বস্তি বা অসাড়ভাব অনুভূত হতে পারে।

এই ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা—যেমন: নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করার অভ্যাস—টাইপ-টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। রোববার (২৯ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দিনের মত রোববার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করন। কার্যালয় খোলা থাকলেও কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন। এতে আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু পরীক্ষণ শুল্কায়ন আউটপাশ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এক শ্রমিক জানান, দুদিন হলো স্যারদের আন্দোলন চলছে। এখনো সমাধান হয়নি। ফলে গতকাল থেকে আমরা কোনো কাজ পাচ্ছি না।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও ক্লিয়ারিং না পাওয়ায় ট্রাকগুলো আটকা পড়ে আছে।