Home Blog Page 37

সাত কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

০

সেতু আছে, কিন্তু তাতে ওঠার জন্য দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি ছয় বছরেও মানুষের কোনো কাজে আসেনি। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন যেন সংযোগহীন এক অবকাঠামো। কৃষককে ফসল নিয়ে হাট-বাজারে যেতে হচ্ছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে। এদিকে উদ্বোধনের আগে সেতুর বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙন।

ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গনির ঘাটের এই সেতুর এমন দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ধীরগতি চলার পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। এতে সেতুর দুই পাশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত যোগাযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় বছর ধরে অপেক্ষার পর সেতু দাঁড়িয়েছে ঠিকই; তার সঙ্গে দাঁড়ায়নি দুই পাশের যোগাযোগ। সাড়ে ৭ কোটি টাকার এই সেতু এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়; বরং অপূর্ণ কাজের এক দৃশ্যমান স্মারক। তাদের অপেক্ষা–কবে রাস্তা হবে, কবে সেতু খুলবে, কবে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে না গিয়ে সরাসরি বাজারে পৌঁছানো যাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, চরকুড়ুলিয়া এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর ২০২১ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। সময় বাড়ার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।
দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেতু শেষ হলেও দুই পাশে তৈরি হয়নি প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই।

সেতুটি চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে তাদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, সেতুটি চালু হবে– এই আশায় তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। সেতু নির্মাণের পরও রাস্তা না থাকায় আগের দুর্ভোগই রয়ে গেছে।

এদিকে সেতুটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুর বর্তমান অবস্থা দেখে তাদের কারও কারও মনে হচ্ছে, এটি যেন বহু বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ কোনো স্থাপনা।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান যাচাই করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কথা বলতে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ফুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাড়া মেলেনি। এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর হিমাগারে পড়ে আছে আলু বাড়ছে লোকসানের বোঝা

০

আলু ঘরে তুলেছিলেন লাভের আশায়। সেই আলুই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাদুল্লাপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে উৎপাদন, পরিবহন, শ্রমিক ও সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। প্রতি কেজি আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা। ফলে ধাপেরহাটের আরভি কোল্ডস্টোরে মজুত করা আলুর বড় অংশই পড়ে আছে। ব্যবসায়ীর কেউ কেউ পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন, কারও আবার নতুন করে আলু ব্যবসায় নামার সামর্থ্যও ফুরিয়ে এসেছে।

হিমাগারটিতে চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু মজুত করেছিলেন স্থানীয় চার শতাধিক ব্যবসায়ী ও কৃষক। প্রতি বস্তায় আলু ছিল ৬৫ কেজি। বর্তমানে এর মধ্যে ৯৫ হাজার বস্তা বা প্রায় ৬ হাজার ১৭৫ টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু তুলছেন না বলে জানিয়েছেন হিমাগার কর্তৃপক্ষ।

আরভি কোল্ডস্টোরের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, আলু কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি, চটের বস্তা, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়া– সব মিলিয়ে প্রতি কেজিতে ব্যবসায়ীদের ৬ থেকে ৮ টাকা লোকসান হচ্ছে। এ কারণে অনেকে আলু তুলছেন না।

ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সব খরচ মিলিয়ে এক কেজি আলু কোল্ডস্টোরে রাখা পর্যন্ত তাঁর ব্যয় হয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। কিন্তু এখন বিক্রি করতে গেলে পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা। তাঁর ভাষায়, ‘এভাবে লোকসান দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’ আরেক ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, গত মৌসুমে লোকসান গুনে পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। এবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে আলু মজুত করেছিলাম। এবারও লোকসান হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

সাদুল্লাপুরে চলতি মৌসুমে লালপাকড়ি, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, সাদাহল্যান্ড ও বার্মা জাতের আলুর চাষ বেশি হয়েছে। রোপণ মৌসুমে বীজের দামও ছিল বেশি।

শহরের সুজন বীজ ভান্ডারের মালিক সুজন কুমার সরকার বলেন, রোপণ মৌসুমে তিনি প্রতি কেজি বীজ আলু ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অনেক কৃষক এর চেয়েও বেশি দামে বীজ কিনেছেন। এর সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১২ টাকা ছাড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাদুল্লাপুরে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ২৫০ টন। এর আগের ২০২৪-২৫ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার ৫০০ টন। উপজেলায় বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ২০ হাজার টন। সেই হিসাবে চলতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর প্রায় ৩৬ হাজার ২৫০ টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। উৎপাদন বাড়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

গত মঙ্গলবার সাদুল্লাপুর শহরের খোলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি মহাজনের কাছ থেকে আলু কিনেছেন। মহাজন আবার গ্রামের পাইকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। কয়েক দফা হাতবদলের পর সেই আলু খুচরা বাজারে আসছে।

সাধারণ ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজিতেই আলু পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির তুলনায় দাম কম থাকায় ক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন।

তীলকপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, টানা দুই মৌসুম ধরে আলুতে লোকসান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চাষের আগ্রহ কমছে। এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন মৌসুমে আলুর চাষ কমে যেতে পারে।

ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রণোদনা না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। তাঁর মতে, আলুর চাষ কমে গেলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ভোক্তাদের বেশি দামে আলু কিনতে হতে পারে। তাই এখনই কৃষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয় চাহিদার তুলনায় গত দুই মৌসুমে আলুর উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। জমির ধরন অনুযায়ী এ এলাকায় কিছুটা বিলম্বে আলু উৎপাদন হওয়ায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষক উপকৃত হতে পারেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজারদরে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও আলু মজুত করে রাখা প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি প্রণোদনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ ৮০ জন বিজয়ী পেলেন ৭৮টি মোটরসাইকেল ও দুটি ফ্রিজ

০

বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘এমইপি অ্যাকসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ বিজয়ী সংবর্ধনা ও উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নতমানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। এতে দেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়কারীদের মধ্যে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও দুটি ফ্রিজ তুলে দিয়ে এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে বাজার আরও বিস্তৃত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

গ্রুপটির পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসবে। সেজন্য অংশীদার-গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিশেষ এই অফার আগামী অক্টোবর হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ১০ একর জমিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের স্বীকৃতি প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে এমইপি গ্রুপ নতুন কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ ৮০ জন বিজয়ী পেলেন ৭৮টি মোটরসাইকেল ও দুটি ফ্রিজ

০

বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘এমইপি অ্যাকসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ বিজয়ী সংবর্ধনা ও উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নতমানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। এতে দেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়কারীদের মধ্যে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও দুটি ফ্রিজ তুলে দিয়ে এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে বাজার আরও বিস্তৃত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

গ্রুপটির পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসবে। সেজন্য অংশীদার-গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিশেষ এই অফার আগামী অক্টোবর হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ১০ একর জমিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের স্বীকৃতি প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে এমইপি গ্রুপ নতুন কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের স্কুলে হামলা: এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল যুক্তরাষ্ট্র ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

০

ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে হামলার পেছনে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে একটি হলো- এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের পাশাপাশি কর্মী কমানো এবং দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তাড়াহুড়াও প্রাণঘাতী হামলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হামলাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো দায় স্বীকার করেনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তারা যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১২৩ শিশুসহ ১৫০ জনের বেশি নিহত হন। বিদ্যালয়টির পাশেই একটি নৌঘাঁটি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেটিই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

ঘটনাটি নিয়ে গত মার্চ মাসে তদন্ত শুরু হয়। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও তা কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তদন্তটি শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মে মাসে কংগ্রেস সদস্যদের তিনি জানান, ‘এ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’ কিন্তু প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য কতটা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে প্রথম দিককার কিছু বিবরণ দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে হামলাটি ঘটেনি। বরং একাধিক ছোট সিদ্ধান্তের কারণে এমনটা হয়েছে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে রাজি হননি। তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কয়েকদিনে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে থেকে ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু হাতে সময় ছিল কম। তাই তাড়াহুড়া করে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করা হয়। স্থাপনাটি সম্পর্কে মূল তথ্যের ঘাটতি, বেসামরিক সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মী কমানো এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভুলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, জটিল সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করা হয় ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের’ মাধ্যমে। এআই চালিত সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে প্যালান্টির টেকনোলজিস। সফটওয়্যারটি দেড়শোর বেশি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলো সমন্বয় করে। যাতে কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ সহজ হয়। ব্লুমবার্গকে কর্মকর্তারা বলেছেন, সেন্টকমের কিছু কর্মী এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টির সামনে স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টির সামনে স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

গত এক বছরে ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমকে মার্কিন সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান প্রযুক্তিতে পরিণত করেছে পেন্টাগন। বেশ কয়েকজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ম্যাভেনের মূল প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরে কাজ করছেন। তাদের দায়িত্ব নিরাপদ সামরিক পরিবেশের মধ্যে সফটওয়্যারটি সচল রাখা।

কর্মকর্তারা বলেন, সেন্টকমের কর্মীরা আশা করেছিলেন গোয়েন্দা তথ্যে যদি পুরোনো কিছু থাকে, তাহলে ম্যাভেন সেটি শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেবে। কিন্তু কেন তারা এমনটি আশা করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়।

প্যালান্টিরের এক মুখপাত্র বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করার জন্য কোম্পানিটি দায়ী নয়। মিনাব হামলায় তাদের সফটওয়্যারের ত্রুটি থাকার বিষয়টিও প্রমাণ হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনও মন্তব্য করেনি। একজন মুখপাত্র শুধু বলেছেন, ‘ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।’ অপরদিকে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না।

ডিজিটাল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নতুন রূপে স্টেডফাস্ট

০

দেশের অন্যতম কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্ট নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে। ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সেবার মান আরো সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে নতুন লোগো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন। পরে ই-কমার্স উদ্যোক্তা, মার্চেন্ট ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন লোগো উন্মোচন করেন স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি। নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, মার্চেন্ট অ্যাপ ও গ্রাহক অ্যাপের নতুন সংস্করণও উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

স্টেডফাস্টের নতুন লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘ঘুড়ি’। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, ঘুড়ি আকাশে উড়লেও এর সুতো থাকে হাতে। একইভাবে মার্চেন্টের পণ্য দেশের যে প্রান্তেই পৌঁছাক, এর নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য মার্চেন্টের হাতেই থাকবে— এই ধারণা থেকেই নতুন ব্র্যান্ড ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থার ঘুড়ি, আপনার হাতে’। তবে প্রতিষ্ঠানের পুরোনো স্লোগান ‘সবার আগে, সবখানে’ অপরিবর্তিত থাকছে।

স্টেডফাস্ট জানিয়েছে, নতুন পরিচিতির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল অটোমেশন বাড়ানো, পার্সেলের ট্রেসেবিলিটি উন্নত করা, দেশজুড়ে কাভারেজ বাড়ানো, দ্রুত ও নিরাপদে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমানে তিন লাখের বেশি ই-কমার্স উদ্যোক্তা ডেলিভারি সেবার জন্য স্টেডফাস্টের ওপর নির্ভর করছেন। কয়েক হাজার ডেলিভারি রাইডার দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবা দিচ্ছেন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় হোম ডেলিভারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও সারা দেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও কাজ করছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাতে পারছেন।

ব্র্যান্ড পরিচিতি পরিবর্তন হলেও মার্চেন্টদের জন্য বিদ্যমান সেবার শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে স্টেডফাস্ট। এর মধ্যে ডেলিভারি চার্জ, পরের দিনের পেমেন্ট, রাইডার সেবা ও কাভারেজ আগের মতোই থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন বলেন, ‘দশ বছর আগে আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করেছিলাম। আজ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের রাইডাররা পৌঁছে যাচ্ছেন। আমাদের কাজটা বদলায়নি, কিন্তু আমাদের সামর্থ্য বদলেছে। আজকের স্টেডফাস্ট শুধু দ্রুত নয়, প্রযুক্তিনির্ভর। নতুন লোগো সেই পরিবর্তনকেই স্বীকৃতি দিল।’

স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি বলেন, ‘ঘুড়িটা আমাদের, সুতো আর নাটাইটা আমাদের মার্চেন্টদের। আগামী দিনে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানুষে বিনিয়োগ করে আমরা সেই আস্থার জায়গাটা আরও শক্ত করতে চাই।’ অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের দশ বছরের পথচলা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

যানবাহনে আগুনের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

০

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি এবং যানবাহনে আগুনের প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। দলটির অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বোমাবাজি এবং আগুন সন্ত্রাস করেছে।

রোববার রাতে শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর অঞ্চলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান। তারা আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, মো. শহীদুল্লাহ, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য মাস্টার আশরাফুল আলম, মনিরুল ইসলাম মৃধা, অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেল, আব্দুল মোতাকাব্বির প্রমুখ।

কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির তোড়জোড়

০

সারাদেশে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সশরীরে গিয়ে নির্ধারিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে বড় একটি চিত্র– চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনই করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশে অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন করেছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এ হিসাবে পাস করা প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তির আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। তারা কেন আবেদন করেনি, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এর ব্যাখ্যা নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন।

বিপুল আসন, কম শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার দেশের আট হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন ২৬ লাখ এক হাজার ৭৭৯টি। বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থীর। ফলে মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। ভর্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তন) এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার পর প্রকৃত খালি আসনের চিত্র স্পষ্ট হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্বিতীয় ধাপের ফল অনুযায়ী, এ ধাপে আট লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়ে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়।

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। এর পর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে এ ফি যথাক্রমে তিন হাজার ও চার হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার টাকা।

৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনিরাপদ চারপাশ, সহজ শিকার শিশুরা

০

মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবার নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ যে ঘর, সেই ঘরেও এখন নিরাপদ নয় শিশু। আবার যে বাড়ি বা পাড়া-মহল্লায় স্বচ্ছন্দের শৈশব কাটানোর কথা, সেই জায়গায়ও নির্মমতার শিকার হচ্ছে কোমল প্রাণ। এতে ঘরে ও বাইরে– দুই স্থানেই সে অনিরাপদ।

চারপাশ অনিরাপদ হওয়ার পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং, মাদক, আইনি দুর্বলতা, পারিবারিক অসচেতনতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা। কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে শিশুর বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থান ভারত ৯৬, পাকিস্তান ১৫৫, গ্রিস প্রথম এবং আফগানিস্তান সর্বনিম্ন স্তরে (১৯৪তম)। শিশুদের জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিরাপত্তা এবং অধিকার ভোগ করার পরিবেশ– এই পাঁচটি বিষয়ে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। একে বলা হচ্ছে ‘কিডস রাইটস ইনডেক্স’। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করা দেশকে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছ।

কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও একাডেমিক যৌথ উদ্যোগ। নেদারল্যান্ডসের এরাসমাস ইউনিভার্সিটি রোটেরডাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ যৌথভাবে ২০১০ সালে এ উদ্যোগ শুরু করে।

২০১৩ সালে তারা প্রথম শিশু অধিকার সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি-আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় ২৫৪ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হিসাবে মাসে ৩১ জনের বেশি শিশুর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ৮১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার ৪৯ জন। এই আট মাসে নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ৩৬ শিশুর। নিহত ২৫৪ শিশুর প্রায় ৪৩ শতাংশের ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু রয়েছে ৭৪ জন। এটি মোট নিহতের প্রায় ২৯ শতাংশ। কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি ছোট শিশুরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ৭ থেকে ১২ বছরের ৬০ জন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আসক বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সূত্র থেকে শিশুর লাশ উদ্ধারের এই তথ্য পেয়েছে তারা।

আসকের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী তাহমিনা রহমান সমকালকে বলেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেখানে ব্যর্থ হওয়া যাবে না। নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুর লাশ পাওয়া যাবে– এটা দেখতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব জীবিত উদ্ধার করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা এখন পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে– এদিকে নজর রাখা জরুরি। তথ্যের অধিকার থেকে যেমন শিশু-কিশোরদের বঞ্চিত করা যাবে না, আবার ইন্টারনেটে সে কী করছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক শিশু নিখোঁজ থাকছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, পরিবারের সদস্যরা জানেন না। সন্তানের অপেক্ষায় অনেকে বছরের পর বছর পার করছেন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনও মেলেনি। এ হিসাবে নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন উদ্ধার হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্তমানে সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে পুলিশ। এতে নিখোঁজের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।

পুলিশ সদরদপ্তরের পৃথক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। আগস্ট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে দুই হাজার ১৫৬টি, জুলাইয়ে দুই হাজার ৩৩৬, জুনে দুই হাজার ২০০, মে মাসে এক হাজার ৯৫২, এপ্রিলে দুই হাজার ১১, মার্চে এক হাজার ৪৮৫, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ১৮১ ও জানুয়ারিতে এক হাজার ২৮১টি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় একই পরিবারের ১০, ৭ ও ২ বছরের তিন শিশুকে হত্যা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর পাবনায় চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ে শিশু নিখোঁজ হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১)। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এক পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিন বোনের মধ্যে সিপার বয়স ১০ এবং ইকরা ১৭ বছর ও সাইমা আক্তারের বয়স ছিল ২১ বছর। আগস্টে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে খুন করা হয় ১২ বছরের ছেলে আয়ুশকে। একই মাসে মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর ২৪ আগস্ট নদী থেকে তাঁর এক বছরের সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবিকতা বা মানবতাবোধ উন্নত হচ্ছে না। শিশুরা দুর্বল বলে স্বার্থ আদায়ের জন্য তাদের নির্যাতন এবং হত্যা করা হচ্ছে। মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। শিশু কেবল বাইরের পরিবেশেই অনিরাপদ নয়, পরিচিত জায়গায় এমনকি অনেক সময় নিকটাত্মীয় তাদের বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সঠিক সুরক্ষার অভাব শিশুদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। বাবা-মায়ের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ভার্চুয়াল জগতেও শিশুরা প্রতিনিয়ত অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্মিলিত সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিশুবান্ধব হতে হবে। শিশুবান্ধব হতে হবে সমাজ এবং সমাজের মানুষকে। এটি না হলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।

৮ বছর ধরে অচল দেড় কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

০

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রায় প্রকল্পটি প্রায় আট বছর ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সরকারি অর্থের এই বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, কৃষি, মৎস্য, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং ইউএনওর বাসভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে প্রকল্পটি চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে পুরো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচলহীন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আট বছর ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলো মেরামত বা পুনরায় চালুর বিষয়ে এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘ দিন রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পড়ে থাকলে সেগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাটারি, ইনভার্টার, কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের প্রকল্প অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে সরকারি বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়।
এদিকে প্রকল্পটি স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোনো প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা মেইনটেন্যান্স সুবিধা ছিল এবং প্রকল্পটির বিকল হওয়ার পর কেন সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি– এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং স্থানীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি সচল করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে। ব্যয় কম হলে এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকলে তহবিল থেকেই কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।