Home Blog Page 382

মার্কিন সামরিক বিমানে ফেরত পাঠানো হলো ৩৯ বাংলাদেশিকে

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট ২০২৫) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৯ জন দেশে ফিরেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো এই বাংলাদেশিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী বাংলাদেশিদেরও নিয়মিত ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি মাসে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন।”

বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ, আফগানিস্তান, বলিভিয়া, ক্যামেরুন, চাদ, কোস্টারিকা, কঙ্গো, ইকুয়েডর ও গিনির ওপর ১৫ শতাংশ, আলজেরিয়া ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর ৩০ শতাংশ, ব্রাজিল ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর ১০ শতাংশ এবং ব্রুনাইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা দেশটির গড় ১৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ শুল্কের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

৯০ দিনের শুল্ক বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেন। তবে, দ্বিপাক্ষিক শুল্ক চুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। এই আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

শুল্ক কমানোর প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, এই অর্ডার বাংলাদেশ বিমানের বহর বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ। এছাড়া, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশের শুল্ক কমানোর এই পদক্ষেপ দেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। তবে, চূড়ান্ত শুল্ক চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।

মেসির হাতে বার্বি রোলেক্স, দাম ১১ কোটি টাকা

গেল শনিবার খেলার মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ঝুলছিল তার মাথার ওপর। তবে সে ম্যাচে গ্যালারিতে বসেই আলোচনায় এসেছিলেন মেসি। তার হাতে ছিল এক আশ্চর্য ঘড়ি, যার দাম প্রায় সাত লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি।

ইন্টার মায়ামি ও সিনসিনাতির মধ্যকার গোলশূন্য ম্যাচে খেলেননি মেসি। তাই সেদিন মাঠের গ্যালারিতে ছেলের সঙ্গে বসেই খেলা উপভোগ করছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

তবে আলোচনার মূল কারণ ছিল তার হাতে থাকা উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ‘বার্বি’ রোলেক্স ডেটোনা ঘড়ি। এই ঘড়িটি তৈরি হয়েছে গোলাপি স্যাফায়ার ডায়মন্ড আর ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনার সমন্বয়ে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, রোলেক্স এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি ‘বার্বি’ ডেটোনা বানিয়েছে। এই ঘড়ি বাজারে কেনা যায় না, কোম্পানি সরাসরি কিছু ‘বিশেষ’ ক্রেতাকে এটি কেনার সুযোগ দেয়।

‘দ্য ক্রাউন’ নামের অভিজাত ক্রেতাদের তালিকায় জায়গা পেতেই হয়তো ফোন পেয়েছেন মেসি। জানা গেছে, এই ঘড়ির জন্য সেলিব্রিটিরা গড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ করেছেন। তবে বাজারে যদি এটি বিক্রির জন্য আসে, দাম দাঁড়াতে পারে ৭ লাখ পাউন্ড বা তার চেয়েও বেশি।

এই ‘বার্বি’ ঘড়ি এতটাই বিরল যে, মেসি ছাড়া কেবল হলিউড অভিনেতা মার্ক ওয়ালবার্গের হাতে এটি দেখা গেছে।

কলকাতায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল

কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী শান্তা পাল। পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশ যাদবপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে তাকে। শান্তা পালের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতের ভোটার, আধার কার্ড।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ২৮শে জুলাই তাকে বিক্রমগরের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছে কিভাবে তার কাছে আধার-ভোটার কার্ড গেল? সেগুলো আসল নাকি নকল সেটাও যাচাই চলছে।

জানা গেছে, কলকাতায় অ্যাপ ক্যাবের ব্যবসা করতে গিয়েই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত শান্তা পাল। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সাল থেকে যাদবপুরের বিজয়গড়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তিনি। তবে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন-ভিন্ন ঠিকানা দিয়ে থাকতেন তিনি।

সম্প্রতি আবার এই শান্তা ঠাকুরপুকুর থানাতেও প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখানেও ভিন্ন ঠিকানা। বাংলাদেশের দুই নামী সংস্থারও মডেল ছিলেন তিনি। একাধিক বিউটি প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তারের পরে পুলিশের সন্দেহ হয় এখানেই। এত ঠিকানা একজন মানুষের কীভাবে থাকতে পারে? এরপর তদন্ত শুরু হয়। তারপর তাঁর কাছ থেকে একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় বাংলাদেশের মাধ্যমিকস্তরের অ্যাডমিট কার্ড। এমনকী বিমানসংস্থার আইডি কার্ডও।

‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’ ছবিতে নাকি বড়পর্দায় অভিষেক হয়েছিল তাঁর। এছাড়াও তামিল ছবি ‘ইয়েরালাভা’ ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। যে ছবি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বনাথ রাও। তা ছাড়া বাংলাদেশের নানা প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন তিনি।

হতাশা আর যন্ত্রণার কথা জানালেন গুণী অভিনেত্রী ডলি জহুর

বিনোদন জগতের ছোট ও বড় দুই পর্দার জনপ্রিয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ব্যাপক ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। দর্শকদের সেই ভালোবাসায় এখনো নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এ গুণী অভিনেত্রী। তবে অনেক দিন পর একটা হতাশা আর যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করলেন ডলি জহুর। জানালেন সিনেমায় কাজ করেও ঠিকমতো পারিশ্রমিক না পাওয়ার কথা।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডলি জহুর বলেন, ‘আমরা যারা মা-খালা চরিত্রে অভিনয় করি, কোনো মর্যাদা ইন্ডাস্ট্রিতে পাইনি এটি সত্যি কথা।

তিনি বলেন, মায়ের অভিনয় করতাম, টাকা কম পেতাম। প্রায়ই সময়মতো পারিশ্রমিক পেতাম না। আমাকে সারাজীবন শুনতে হয়েছে আপনি টাকার জন্য কাজ করেন নাকি? টাকার জন্য নাকি কাজ করি না?

অভিনেত্রী বলেন, ২০১১ সালে যখন আমি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসি, তখন আমি পারিশ্রমিকের ৩৪ লাখ টাকা রেখে এসেছি।

স্বামী অসুস্থতার সময় আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন ডলি জহুর। সেই সময় তার বিপদে কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি তার পাওনা টাকা কোনো প্রযোজক কিংবা পরিচালক তাকে দেননি।  অভিনেত্রী বলেন, স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত, তার অসুস্থতার সময় এক পরিচালককে কাঁদতে কাঁদতে বলেছি কিছু টাকা আমার তুলে দেন, আমার স্বামীকে ব্যাংককে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, আমার পাওনা টাকা তোলার জন্য, যাকে দায়িত্ব দিলাম, তার কাছেও আমি টাকা পেতাম। এরপর তিনি কি করলেন, আমার পাওনা টাকা তুলে দেওয়া তো দূরে থাক, তাকে আর খুঁজেই পাওয়া গেল না। কোনো যোগাযোগই করেনি, নিজেও কোনো টাকা দেননি।

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘ঘানি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন জলি জহুর। ২০২১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় তাকে। বর্তমানে অভিনেত্রী সিনেমা না করলেও ছোটপর্দায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।

দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়ে এনজিওবাদের খপ্পরে: গয়েশ্বর

দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে এনজিওবাদের খপ্পরে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও এনজিওবাদের খপ্পরে পড়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা হলেও ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত শঙ্কা যাবে না। দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে নিয়ে দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন কখনোই সংস্কার শেষ করতে পারবে না। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসররা এখনো রয়ে গেছে।’

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় জেলার সিনিয়র নেতারা।

এর আগে, আলোচনা শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমিরের হার্টে ব্লক, বাইপাস সার্জারি শনিবার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে শনিবার (২ আগস্ট) তার বাইপাস সার্জারি করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে হাসপাতাল ত্যাগ করলেও চিকিৎসকের ফলোআপে ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করানো হয় তাকে। চিকিৎসকরা তার হার্টের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান। এরপর সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।

জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতা এবং সফল অস্ত্রোপচারের জন্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বেইজিংয়ে বন্যায় বৃদ্ধাশ্রমের ৩১ জনের মৃত্যু

চীনের বেইজিংয়ের উপকণ্ঠে ভয়াবহ বন্যায় এক বৃদ্ধাশ্রমেই ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই চলাফেরায় অক্ষম ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মিয়ুন জেলায় অবস্থিত ওই বৃদ্ধাশ্রম বা নার্সিংহোমে পানির উচ্চতা বুকসমান হয়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জরুরি সেবা কর্মীরা পানিতে হেঁটে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। নিহতদের বেশিরভাগই চলাফেরায় অক্ষম ছিলেন বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম।

স্থানীয় প্রশাসন স্বীকার করেছে, জরুরি পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল এবং এই ঘটনা তাদের জন্য একটি ‘বেদনাদায়ক শিক্ষা’ ও ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে কাজ করেছে।

বিবিসি বলছে, বন্যার সময় নার্সিংহোমটিতে প্রায় ৭৭ জন বাসিন্দা ছিলেন। পানির উচ্চতা প্রায় ২ মিটার বা ৬ ফুট হয়ে যাওয়ায় এদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন সেখানে আটকে পড়েন বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম।

তাইশিটুন শহরে অবস্থিত এই নার্সিংহোমে মূলত শারীরিকভাবে গুরুতর অক্ষম, নিম্নআয়ের এবং সামাজিক সহায়তা পাওয়া প্রবীণদের দেখাশোনা করা হয়।

ভারতের অর্থনীতি ‘মৃত’: রাহুল গান্ধী

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দেশের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সত্যটি শনাক্ত করতে পেরেছেন। বৃহস্পতিবার টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আপনারা দ্বিধায় আছেন? সারা পৃথিবী জানে, বিজেপি ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। কীভাবে? আদানিকে সহায়তা করে।”

রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেন, রাশিয়ার তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ১ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর এই জরিমানা কার্যকর হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আঘাত করতে পারে। রেটিং এজেন্সি ইক্রার প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক ও জরিমানা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এটি ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে।” শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিকূল প্রভাবের কারণে ইকরা আগেই এই অর্থবছরে ভারতের জন্য তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পূর্বাভাস ৬.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.২ শতাংশ করেছে।

কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য চুক্তি করতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে বোর্বন হুইস্কি ও মোটরসাইকেলের মতো পণ্যে শুল্ক কমিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য এই ঘাটতি কমানো।

ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভারতের শিল্প খাতের এফআইসিসিআইর প্রেসিডেন্ট হর্ষবর্ধন আগারওয়াল এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং জানান, এই শুল্ক স্পষ্টভাবে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আটক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন, মিলেছে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৭ জুলাই ওই কর্মকর্তাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত আদালত পূর্ণ তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ওই সেনা কর্মকর্তার কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়েও আরেকটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।