Home Blog Page 39

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়েছেন উদ্যোক্তারা

০

তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত ফেব্রিক্স বা কাপড় আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি সক্ষমতা কমবে দেশের। বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী লিড টাইম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উৎপাদন ও জাহাজীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ব্র্যান্ড-ক্রেতারা বাংলাদেশের বিকল্প উৎস দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ ও রপ্তানি কমবে।

সরকারের নতুন আমদানি নীতিতে নিট কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত বিধান বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে লেখা পৃথক চিঠিতে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬-২৯ সাল মেয়াদের আমদানি নীতি ঘোষণা করে। আমদানি নীতির ধারা-২৫-এ বলা হয়, ‘শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির শর্তাবলির উপধারা-১২ নিট ফেব্রিক্স আমদানি যোগ্য হইবে না।’ এ নীতির কারণে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন উদ্যোক্তা রপ্তানিকারকরা। নতুন আমদানি নীতি ঘোষণার আগের এলসির ভিত্তিতে আমদানি করা অনেক নিট ফেব্রিক্স চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করতে সমস্যা হচ্ছে। আগে খোলা এলসির নিট ফেব্রিক্সও বন্দরে আসার পথে রয়েছে। ওইসব চালান খালাসেও সমস্যা হবে। এতে স্বাভাবিক রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো। নিট পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্সের বড় একটা অংশ, প্রায় ৯০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ১০ শতাংশের মতো আমদানি করতে হয়। এ ছাড়া দেশে সহজলভ্য হলেও ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি ফেব্রিক্স ব্যবহারে শর্ত দিয়ে থাকে। তখন আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, এর আগে কখনও এ রকম নীতি সংকটের মুখে পড়তে হয়নি। নতুন আমদানি নীতির খসড়া নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তখন প্রতিবাদ করলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিধানটি ভুলক্রমে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চূড়ান্ত করার আগে এ ধারা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় চূড়ান্ত নীতিমালায় নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধের বিষয়টি বহাল রয়েছে। এটা কিছুতেই মানা যায় না। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তারা। না হলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের চেয়েও এই সংকট আরও প্রকট হবে শিল্পের জন্য।

বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা বিকেএমইএর চিঠিতে বলা হয়, রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ক্রেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয় তাদের। বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নিট পোশাকের ফেব্রিক্স উৎপাদন ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা, নির্ধারিত মান ও ডিজাইন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বিদেশি ফেব্রিক্স বেশি আমদানি করতে হয়। এ বাস্তবতায় আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত বা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকেএমইএর মতো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয় তৈরি পোশাকের ওভেন পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যেক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য

কারখানাগুলো। তবে বিজিএমইএর
অনেক সদস্য একই সঙ্গে বিকেএমইএরও সদস্য। এ ছাড়া ফ্যাশনেবল সিনেথেটিক নিট পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে অনেক ওভেন কারখানা। সে হিসেবে নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিজিএমইএ-ও ক্ষতিগ্রস্ত।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে পাঠানো বিজিএমইএর চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হয়। নির্ধারিত মান, ডিজাইন বজায় রাখা ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজন হয়। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় সংগ্রহ করতে হয়। এ ধরনের আমদানির সুযোগ সীমিত হলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মান, সুনির্দিষ্ট ধরন, রং, ডিজাইন ও ধরনের কাপড় অনেক সময় স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। ফলে এসব ক্ষেত্রে বিদেশি উৎস থেকে ফেব্রিক আমদানি করতে হয়। নতুন নীতির সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল থাকলে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
চিঠিতে বিজিএমইএ বলেছে, রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সমীচীন হবে না। এতে রপ্তানি সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। এই বাস্তবতায় দেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ আগের মতো বহাল থাকা জরুরি। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে অথবা ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) বা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় নিট কাপড় আমদানির সুযোগ বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।

দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য

০

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তাঁর গলা ধরে আসছিল।
সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর খোঁজখবর রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে– নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।’ মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিঃসন্দেহে। তবে সব সময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই। বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে এসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওনার মৃত্যু, নিঃসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে– তুলে ধরে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই। … এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।’
ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো আপনাকে জানাব ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন … কিছু মনে করবেন না, আমি খোলাখুলি বলি … কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।’

দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা জেল খেটেছি … দলটা এখনও ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটার বদনাম হতে পারে না, এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, যুবদল সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সরকারকে জামায়াত জোট ৬ দফা না মানলে এক দফা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ

০

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী হুবহু সংবিধান সংস্কার না করলে ছয় দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথসভাগুলোতে এসব কথা বলেছেন তারা।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রথম পথসভার পর গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে লংমার্চ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হয়। নেতাকর্মীর ভিড়ে তা জনসভায় রূপ নেয়। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে লংমার্চ। সেখানে সমাবেশের মাধ্যমের কর্মসূচির ইতি টানা হয়।

লংমার্চের বহরে হাজারখানেক গাড়ি থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। কুমিল্লার মেঘনা-গোমতী সেতুতে ছয় শতাধিক গাড়ি পার হয়েছে টোল দিয়ে। তবে গাড়ির প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। কারণ, ১১ দলের নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের তাদের গাড়ি নিয়ে কুমিল্লায় সেতু পার হওয়ার আগে ফেরত আসে। আবার কুমিল্লার নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে যুক্ত হয় সেতু পার হওয়ার পর।

প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি জামায়াতও। জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে তেল পুড়িয়ে লংমার্চের সমালোচনা করছেন বিএনপির মন্ত্রী, নেতা, সমর্থকরা। তবে তা নাকচ করেছে জামায়াত-এনসিপির জোট। ১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, এগুলো অযৌক্তিক বিরোধিতা। ২০১১ ও ১২ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লংমার্চ হয়েছিল। তখনও তো জ্বালানি খরচ হয়েছিল।

গণভোটের ফল অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে জামায়াত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ করবে ১১ দল। পরের মাসে খুলনা ও সিলেটের পথে লংমার্চ হবে ছয় দফা দাবিতে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
‘আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না’
লালদীঘি ময়দানে জনসভায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা কাউকে বিদায় দিতে চাই না। কিন্তু কেউ নিজ থেকেই যদি বিদায় নিতে চায়, তাহলে আমরা কি তাকে সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে পানি খাওয়াব?’

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এবারের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু বাকিগুলো এ রকম হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল সোজা। কিন্তু আঙুল বাঁকাতে বাধ্য করবেন না।’

গণরায় মেনে না নিয়ে সরকার মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করছে বলে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না। বাংলাদেশে পরিবর্তন আসবেই। লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদীরা হেরে যাবে।’

অলি আহমদ বলেন, ‘অতীতে অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু কখনও ছয় মাস পর কাউকে বলতে শুনিনি– সরকার টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনার ভয় নেই। আপনার সমস্যা আপনার আশেপাশের লোকজন।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল সহযোগিতা না করলে তারেক রহমান সরকার চালাতে পারবেন না– বিষটা মেনে নেন। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এই লংমার্চে দেখা গেছে, বিকল্প কারা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নতুন করেও কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেব না।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, দেশে আর গুম-খুন হবে না। কিন্তু দেখলাম, আমাদের বন্ধুরা ক্ষমতায় বসে সব ভুলে গেছেন।’

মতিঝিলে হাজারো নেতাকর্মীর জমায়েত 
শনিবার ভোর থেকেই শাপলা চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করেন ১১ দলের নেতাকর্মীরা। তবে তাদের অধিকাংশ ছিলেন জামায়াতের নেতাকর্মী। এর বাইরে এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের কিছু উপস্থিতি ছিল। অন্যান্য দলের নেতারা মঞ্চে থাকলেও তাদের কর্মীদের সমাগম-মিছিল দেখা যায়নি।

মতিঝিলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পথসভা রূপ নেয় জনসভায়। সেখানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি– জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।

বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে গালাগাল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সিফাত আবদুল্লাহর মুক্তি দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ নেই; অথচ ভূতুড়ে বিল আছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ বিরক্ত হয়ে সিফাত নামে একজন তরুণ কী বলেছিল, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। তাকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি ওলটপালট করে দিয়েছিল।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাইছে, তাদের রুখতে লংমার্চ। এতে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে।

অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করেছে; দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, একই পরিণতি হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখন না বুঝলে তাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যা প্রত্যেক স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে।

পথে পথে ভিড়, পথসভা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পথে রাস্তার দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ছিল এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফতের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে সমবেতদের ছিল আগ্রহ।

যানজট এড়াতে লংমার্চের গাড়ি এক সারিতে চলে মহাসড়কে। ছাদখোলা গাড়ি থেকে হাত নাড়িয়ে সমবেত নেতাকর্মী ও পথচারীদের অভিবাদন জানান জামায়াত আমিরসহ জোটের অন্য নেতারা। তাদের দেখতে ভিড় করা মানুষে নানা জায়গায় সড়ক বন্ধ হয়। পথসভার এলাকাগুলোতে সড়ক বন্ধ হওয়ায় যানজট হয়।

সন্ধ্যার আগে মিরসরাইয়ে পথসভা করে ১১ দল। এতে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস দিতে ব্যর্থ। কৃষক সার পায় না। উচ্চ মূল্যে কিনতে হচ্ছে। সব জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সরকার আছে সব জায়গায় দলীয়করণে। বিএনপি সরকার অকার্যকর, অদক্ষ।

এক দফার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা এখনও সরকারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু ছয় দফা পূরণ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা দেব।

এই পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। এর আগে ফেনীর মহিপালে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথম দিন থেকেই বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

অন্য পথসভার মতো ফেনীতে জামায়াত আমির সমবেতদের কাছে জানতে চান, ওই এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি হয় কিনা? সমবেতরা বলেন, ‘হ্যাঁ হয়।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানেও এই অবস্থা?

নামে পথসভা হলেও মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে তা জনসভায় রূপ নেয়। বক্তৃতা করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, এই চোখ রাঙানি কোথায় ছিল সাড়ে ১৫ বছর? সরকারের অনুগ্রহে অনুমতি না পেলে রাস্তায় ১০ জন মানুষ নিয়ে নামার সাহস আপনারা করেননি। এখন চোখ রাঙান– এগুলো ভয় করি না। সব পর্যায়ে বেপরোয়া, নির্লজ্জ-বেহায়া দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে?

কুমিল্লায় দুই পথসভা 
প্রথমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এবং পরে চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চের পর ঢাকায় সমাবেশ হবে। আপনারা চিড়ামুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের দাবি আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ।

এই পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সংসদে সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তাঁর কোনো খবর নেই। তাঁর দলেরই জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মাদকে সয়লাব। আর সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে।’ তিনি তাঁর নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না, তিনি আবার সব মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।

কুমিল্লা বিভাগের দাবিকে সমর্থন করে জামায়াত আমির বলেছেন, এত বছর ধরে আন্দোলন হলেও বিভাগ করা হচ্ছে না। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? সরকারকে পরিষ্কার বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাইপানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দিন। নোয়াখালী বিভাগও দিন। সবদিক থেকে উত্তম হলে কুমিল্লার বিমানবন্দর চালু করুন।

অলি আহমদ বলেন, ছয় দফা না মানলে ডিসেম্বর মধ্যে এই সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে বলেছিলাম, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। তা-ই হয়েছে।

মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি করে গিয়েছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। মানুষ এখন সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ১২শ টাকার বিদ্যুৎ বিল চার হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।

পদুয়ার পর চৌদ্দগ্রামে পথসভা করে ১১ দল। জামায়াতের নায়েবে আমির এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের লংমার্চকে স্বাগত জানান তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। ঢাকার পর প্রথম সভায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ দলের নেতারা বলেন, সরকার প্রতারণা করছে।

লংমার্চে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন। বিভিন্ন পথসভায় বক্তৃতা করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ ১১ দলের এমপিরা লংমার্চে অংশ নেন।

(এ প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।)

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল দুই কোম্পানির নথিতে মিল, ভাড়াও বেশি বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় দৈনিক ভাড়া ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি

০

দেশে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে দরপত্র ছাড়াই চীনা কোম্পানি সিএনইইর প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে টার্মিনালটির দৈনিক তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার ভাড়া নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় এটা ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ব্যবস্থায় সিএনইইর প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেয়। একই প্রকল্পে এর আগে এনএস এনার্জি নেভিগেশন যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সঙ্গে সিএনইইর (চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড) প্রস্তাবের তথ্য, ভাষা ও উপস্থাপনায় অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। এমনকি সিএনইইর নথিতে থাকা একটি মানচিত্রে এনএস এনার্জি নেভিগেশনের নামও রয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশনের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সংসদ সদস্যের এক আত্মীয় জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

দুই কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এনএস এনার্জি নেভিগেশন গত ১২ মে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এর প্রায় এক মাস পর ১৯ জুন একই প্রকল্পে সিএনইই প্রস্তাব জমা দেয়। দুই প্রস্তাবেই কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় টার্মিনাল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

শুধু প্রকল্পের স্থান নয়, দুই প্রস্তাবের কারিগরি কাঠামোতেও মিল আছে। উভয় নথিতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার সংরক্ষণ ক্ষমতার এফএসআরইউ, বেস হিসেবে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। মহেশখালী আরএলএনজি টাই-ইন পয়েন্ট থেকে চার থেকে ছয় কিলোমিটার অফশোরে টার্মিনাল স্থাপন, ১৮ থেকে ২০ মিটার পানির গভীরতা এবং চার থেকে ছয় কিলোমিটার সাবসি পাইপলাইনের কথাও দুই নথিতে রয়েছে।

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সংযোগের পরিকল্পনাও একই। দুই প্রস্তাবেই বিদ্যমান মহেশখালী-আনোয়ারা ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইনের সঙ্গে সংযোগের কথা বলা হয়েছে। টার্মিনালের সুবিধা হিসেবে দ্রুত বাস্তবায়ন, কম মূলধন ব্যয়, পরীক্ষিত এফএসআরইউ প্রযুক্তি, কম ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়গুলোও প্রায় একই ভাষা ও কাঠামোয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কাঠামোতেও মিল রয়েছে। উভয় কোম্পানি ২০ বছর মেয়াদি বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) পদ্ধতিকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হিসেবে দেখিয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) মডেলের কথা বলা হলেও এফএসআরইউ হস্তান্তরের খরচের কারণে সেটিকে বেশি ব্যয়বহুল বলা হয়েছে। টার্মিনাল ইউজ অ্যাগ্রিমেন্ট (টিইউএ) ও ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (আইএ) করার কাঠামোও একই রকমের।

বাস্তবায়ন সময়সূচির ক্ষেত্রেও একই তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি হলে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য দুই প্রস্তাবেই রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের শীতকালকে কাজে লাগিয়ে অফশোর ও সাবসি কাজ শুরুর যুক্তিও একইভাবে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। কোম্পানির দায়িত্ব হিসেবে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন, ভূভৌত ও ভূপ্রকৌশল জরিপ, মুরিং বিশ্লেষণ, প্রকল্পের অর্থায়ন এবং টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব হিসেবে অনুমোদন ও লাইসেন্স, এফএসআরইউ নোঙরের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়ার বিষয় রাখা হয়েছে।

কোম্পানির নাম, তারিখ, স্বাক্ষরকারী, প্রচ্ছদ এবং নিজস্ব কোম্পানি পরিচিতির পরিশিষ্ট বাদ দিলে মূল প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে একই ভাষা, তথ্য ও কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি স্পেসিফিকেশন, প্রকল্পের সুবিধা, বাণিজ্যিক কাঠামো, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টনের মতো অংশে এই মিল দেখা গেছে।

চীনা কোম্পানির ভাড়া বেশি
এদিকে ভাড়ার হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ১৫ বছরের জন্য প্রতিদিন তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার চেয়েছে সিএনইই। ২০২৫ সালে সরকারের করা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ ধরনের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়ার বেঞ্চমার্ক ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ ডলার। অর্থাৎ, সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া ওই বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ চালু রয়েছে। একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জির। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিটের দুই লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। ফলে সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া এসব টার্মিনালের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনে সামিট গ্রুপের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে করা ওই চুক্তিতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতার টার্মিনালের জন্য সামিট প্রতিদিন তিন লাখ ডলার ভাড়া চেয়েছিল। পরে চুক্তিটি বাতিল করে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সামিট আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া সামিটের ওই প্রস্তাবের চেয়েও প্রতিদিন ৪২ হাজার ডলার বেশি। ১৫ বছরে এই অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ডলার। এক ডলার ১২২ টাকা হিসাবে তা প্রায় দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

উচ্চ ভাড়ার কারণ হিসেবে সিএনইই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, এফএসআরইউ নির্মাণের উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে এ ধরনের টার্মিনালের চাহিদা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। জ্বালানি সচিব জিয়াউল হক এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মোবাইলে ফোন দিলেও তারা ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম সমকালকে বলেন, আগের টার্মিনালগুলোর তুলনায় নতুন এফএসআরইউর ভাড়া এত বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এ ধরনের বড় চুক্তির আগে দর ও ব্যয়ের কাঠামো আরও ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ডিভাইসে অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ, আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ অবস্থান শনাক্তে ঝুঁকি

০

মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনাদের ডিভাইসে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্তে বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহারের আশঙ্কার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। সেনাসদস্যদের ফোন ও কম্পিউটার থেকে মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি বা অ্যাড ট্র্যাকার সুবিধা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশ করা বিভিন্ন বাহিনীর চিঠি এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিনেটর রন ওয়াইডেনকে দেওয়া চিঠিতে মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুই মাস আগেই সব কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও তাদের উইন্ডোজ ডিভাইসে সুবিধাটি অতি সম্প্রতি বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ২০২১ সালের আগেই এই সুবিধা বন্ধ করা হয়। আর অ্যান্ড্রেয়েড ও অ্যাপল ডিভাইসে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিফল্ট হিসেবে ট্র্যাকারগুলো ডিজেবল রাখা হচ্ছে।

স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে থাকা এই বিজ্ঞাপন ট্র্যাকারগুলোর কাজ হলো ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট লোকেশন ও ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ শনাক্ত করা। ডেটা ব্রোকার বা তথ্য কেনাবেচা করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এসব ট্র্যাকার থেকে ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরে তা বিক্রি করে।

কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপরও নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিও ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে– এমন আশঙ্কায় সেনাসদস্যদের ফোন জমা নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল ট্র্যাকার বন্ধ করেই পুরো ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। নেটওয়ার্ক ডেটা বা কারিগরি কৌশল ব্যবহার করে অন্য উপায়েও স্মার্টফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ থেকে যায়।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ ভ্যান্স 
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার এই সংঘাত কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এ কথা বলেন। সংঘাত বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, কবে নাগাদ এই সংঘাত শেষ হবে তা ইরানিদের ওপর নির্ভর করছে। তারা ঠিক কবে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? আমি মনে করি বাস্তবতা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।’ ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভ্যান্স বলেন, মূল সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। এখন আমাদের মনোযোগ হলো, ইরান যেন বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। আমি একে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি গুলি বিনিময় চলছে না।

তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ নয়
ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের এই অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে ইইউ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এতে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তারা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি বা মার্কিন নীতি অনুসরণ করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়নি।

হরমুজে সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি দক্ষিণ কোরিয়ার 
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য আইনসভার অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

০

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।

চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এটিকে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানে হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে বড় ধরনের কোনো লড়াই হয়নি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিরতি দিয়ে দিয়ে হামলা’ চালাচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তিনি দাবি করেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।

আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে সেখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থাকতে পারে। তবে ইরানের দাবি, স্থাপনাটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রেখেছে। তার ভাষ্য, এর ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি ট্রাম্প। তবে তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি-ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান? খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ৫খাবার

০

সাধারণ খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ রাখে। দৈনন্দিন কিছু খাবার হজমতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফার্মেন্টেড খাবার থেকে শুরু করে ফাইবারযুক্ত ডাল, নির্দিষ্ট কিছু ফল অন্ত্র-বান্ধব খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন হতে পারে।

ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য পাঁচটি খাবারের কথা জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছে দই, ফার্মেন্টেড খাবার, হালকা কাঁচা কলা, পেঁপে এবং ফাইবারযুক্ত ডাল। এসব খাবারের প্রত্যেকটিই অন্ত্রকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সহায়তা করে।

দই এবং অন্যান্য ফার্মেন্টেড দুগ্ধজাত খাবার

ডা. শেঠির প্রথম পছন্দ হলো দই এবং বাটারমিল্ক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রাকৃতিকভাবে গাঁজানো এই খাবারগুলিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে। এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের মতে, এসব খাবার বুকজ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো হজম সংক্রান্ত সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের জন্য ফার্মেন্টেড 
টক দই, পান্তা ভাত, অতিরিক্ত তেল-মসলা ছাড়া ঘরোয়া আচার  ভালো ব্যাকটেরিয়ার উৎস। এছাড়া কিমচি ও সর্কআউট বাঁধাকপি বা অন্যান্য সবজি গাঁজন করে তৈরি এই খাবারগুলোতে প্রচুর মাইক্রোবিয়াল বৈচিত্র্য থাকে।

ডা. শেঠি বলেন, ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া শ্বেতসারকে আংশিকভাবে ভেঙে দেয়, যা নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে।

হালকা কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ডা. শেঠির খাদ্যতালিকায় হালকা কাঁচা কলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পুরোপুরি পাকা নয়-এমন কলাগুলোতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা কোলনের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন , এই প্রক্রিয়াটি বিউটিরেটের মতো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা কোলনের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে

পেঁপেতে প্যাপেইন নামক একটি এনজাইম রয়েছে, যা প্রোটিন হজমের সাথে জড়িত। ডা.শেঠি বলেন, প্যাপেইন প্রোটিন হজমে এবং মলত্যাগকে সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন,পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করতে পারে।

আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার 
আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল এবং শিম। ডা.শেঠির মতে, এই খাবারগুলো প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরের কার্যকারিতাকে সহায়তা করে।

‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২৫০০তম অনুষ্ঠান উদযাপন

০

সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম পর্বে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই ভবনে গত বৃহস্পতিবার এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় ২৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছানোকে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের মতে, দর্শকের আগ্রহ, আস্থা ও ভালোবাসাই অনুষ্ঠানটির দীর্ঘ পথচলার প্রধান শক্তি।

সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের সামনে তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরছে ‘টু দ্য পয়েন্ট’। সময়ের সঙ্গে বিষয়বস্তু ও গণমাধ্যমের ধরনে পরিবর্তন এলেও প্রাসঙ্গিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে তা উপস্থাপনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে অনুষ্ঠানটি।

‘ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ, আজিজুল বারি হেলাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল হোসেন তাপস, এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, ড. জাহেদুল বারী ও মনিরা পারভিন, ইউসিবি পিএলসি’র চিফ কমিউনিকেশন অফিসার জিসান কিংশুক হক, লে. ক. (অব.) শরিফ উদ্দিন, মেজর খোশরোজ সামাদ, দৈনিক যায়যায়দিন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজিব ওনাসিস এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে চ্যানেল আইয়ের সকল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশই প্রথম।

দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই সংবাদের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান, ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট-এর প্রযোজক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজু আলীম, জয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর তারিকুল ইসলাম মাসুম, বিশেষ প্রতিনিধি রিজভী নেওয়াজ এবং উপস্থাপক তুহিনুর সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আয়োজনে বক্তারা বলেন, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘টু দ্য পয়েন্ট’ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২,৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছেছে। এর পেছনে রয়েছে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরলস পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং দর্শকের ধারাবাহিক সহযোগিতা।

তারা আরও বলেন, ২,৫০০টি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; এটি দর্শকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি আস্থার সম্পর্কের প্রতিফলন। দর্শকের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ে যুক্ত থাকা উপস্থাপক, সাংবাদিক, আলোচক, গবেষক, বিশ্লেষক ও কলাকুশলীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন সবাই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সময়ে টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের তথ্য গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে দর্শকের চাহিদা ও তথ্য গ্রহণের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাসঙ্গিক ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শকের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।

রাউজানে যুবক খুন থানায় মামলা, পাঁচ দুর্বৃত্তকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ

০

চট্টগ্রামের রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম নামে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

এদিকে করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান ফেসবুকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
আবদুল করিমের (৩৫) বাড়ি উপজেলার হারপাড়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, করিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে কেরানীহাট বাজারের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা করিমকে প্রথমে চাপাতি দিয়ে কোপায়। পরে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে।  করিম নিজেকে ‘যুবদল কর্মী’ পরিচয় দিতেন, এমন তথ্য নাকচ করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ উপজেলায় এ নিয়ে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী খুন হয়েছেন ২৪ জন।

ফেসবুকে রায়হানের গুলি ছোড়ার ভিডিও
রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মো. রায়হান। রায়হান বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাজ্জাদ হোসেনের দলের আরেক সদস্য ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হান একটি নাইন এমএম পিস্তল হাতে নিয়ে পরপর তিনটি গুলি ছুড়ছেন। তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।