Home Blog Page 39

টানা পাঁচ সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, এরপর কী ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে

০

সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি নেই রাধিকা আপ্তের। তবে শুধু দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য যুক্ত করার পক্ষপাতী নন এই অভিনেত্রী। এবার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমনই কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।

‘পার্চড’, ‘হান্টার’, ‘ম্যাডলি’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মতো সিনেমায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন রাধিকা। তবে তার বক্তব্য, সিনেমার প্রয়োজনে কোনো দৃশ্যে নগ্নতা থাকলে তাতে আপত্তি নেই। আপত্তি তখন, যখন এর প্রয়োজনীয়তা নেই।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের ধারণা তৈরি হয়, ভবিষ্যতেও হয়তো সহজে এমন দৃশ্যে রাজি হয়ে যাবেন অভিনেত্রী।

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক

রাধিকার ভাষায়, ‘অনেকে ভাবতেন—এ তো করে দেবে। তখন আমাকেই বলতে হতো, শুনুন, আমি এগুলো করব না। আগে আমি জানতে চাই, আপনি কেন এ ধরনের দৃশ্য চাইছেন?’

অভিনেত্রী জানান, এমন প্রশ্নের জবাবে অনেক সময় তাকে বলা হতো, ‘করে দাও না একটু।’ এমনকি এক পরিচালক তাকে চিত্রনাট্যে না থাকা ১৫ সেকেন্ডের একটি চুম্বনের দৃশ্য ইম্প্রোভাইজেশন হিসেবে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে রাধিকা পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সরি, আপনি কী বললেন?’

আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়ে রাধিকা বলেন, শুটিংয়ের সময় তাকে শার্টের বোতাম খোলা অবস্থায় একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শট দিতে বলা হয়েছিল। এতে তিনি রাজি হননি। তার যুক্তি ছিল, অ্যাকশন দৃশ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে। ফলে শার্টের বোতাম খোলা থাকলে পোশাকের ভেতরের অংশ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক

রাধিকা আপ্তে। ছবি: ফেসবুক

২০১৬ সালে ‘পার্চড’ ছবির একটি নগ্ন দৃশ্য ভাইরাল হওয়া নিয়েও কথা বলেছেন রাধিকা। তাঁর আক্ষেপ, ছবির মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার বদলে শুধু ওই সাহসী দৃশ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছিল।

রাধিকার মতে, পর্দায় চমক তৈরি করার নামে অভিনেত্রীদের নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সেই দিকটিই সামনে আনলেন এই অভিনেত্রী।

নাটোরে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

০

নাটোরের লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ঈশোরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ঈশ্বরপাড়া গ্রামের আতিকুল ইসলামের সন্তান আতিয়ারা খাতুন (৯) ও আবু বক্কর (৬)।

স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে বাড়ির পাশে শিশু আতিয়ারা খাতুন ও আবুবক্কর খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে পাশের একটি পুকুরে নেমে যায় তারা দুজন। বিষয়টি তাদের পরিবারের কেউ টের পায়নি। দীর্ঘ সময় সন্তানদের না দেখে খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। বিকেল ৫টার দিকে পাশের পুকুরের পানিতে ভাই-বোনকে ভাসতে দেখে। পরে পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের বাবা আতিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার দুইটা সন্তান। তারা আমার কলিজা ছিলো। তারা দুজনে একসঙ্গে খেলতে গিয়েছিল, এক সঙ্গেই চলে গেলে। কখন যে তারা দুজন পুকুরে গেছে আমরা বুঝতেই পারিনি। আমার সব শেষ। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব।

এদিকে ভাই-বোনের এক সঙ্গে মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লালপুর থানার (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে ‘ক্লিনিং ডে’

০

দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান (‘ক্লিনিং ডে’) পরিচালিত হয়েছে।

শনিবার ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত এ কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার ডিএসসিসির সবগুলো ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আরও গতিশীল করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকা, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, ছাদ ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় নিবিড় অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনকালে কোথাও জমে থাকা পানি পাওয়া গেলে তা অপসারণ এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে সাথে সাথে তা ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে পানি জমে থাকতে পারে– এমন ডাব বা নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ার ও ফুলের টবসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়।

অভিযানকালে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কার্যকর লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকদের অংশগ্রহণে র‍্যালি থেকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব প্রচার করা হয়। পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন শি, বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প

০

এক দশকের বেশি সময় পর আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিরল খনিজসহ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী বুধবার ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংয়ের বিমান অবতরণের সময় তাকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের বিদেশি কোনো নেতাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর ঘটনা বিরল। সফরকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের স্টেট ফ্লোরে তাদের জন্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর রোজ গার্ডেনে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন দুই নেতা। পরে তারা বৈঠকে বসবেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে শি জিনপিং ও পেং লিয়ুয়ানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করবেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দুই নেতাই সেখানে বক্তব্য দেবেন। নৈশভোজে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সুন্দর পিচাই, ডেল টেকনোলজিসের প্রধান মাইকেল ডেল, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের প্রধান জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সদ্য সাবেক প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এরপর আগামী শুক্রবার শি জিনপিং ও পেং লিয়ুয়ান আবার হোয়াইট হাউসে যাবেন। সেখানে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে ব্যক্তিগত চা-আড্ডার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। এরপর শি জিনপিং জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে বাণিজ্য, শুল্ক, কৃষিপণ্য, বিরল খনিজ ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাইওয়ান ও দেশটির জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজও আলোচনায় আসতে পারে। ইরান ও দেশটির তেল রপ্তানি নিয়েও কথা হতে পারে। শির সঙ্গে বিওয়াইডি, শাওমি, সিএটিএলসহ বড় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। ২০১৫ সালের পর প্রায় ১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন শি।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন ফের তারেক রহমানের দিল্লি সফর আয়োজনের চেষ্টা ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক করছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা

০

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ভারত ও বাংলাদেশ আবারও সরকারি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসেই এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

দ্য হিন্দু বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিছুটা ধাক্কা খায়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থানে বাস করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তারা ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এই সফরের এজেন্ডা নির্ধারণের কাজ করছেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকার একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তারেক রহমান চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন। এর পর অক্টোবর ও নভেম্বরে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা রয়েছে। এরই মধ্যে নভেম্বরের একটি উপযুক্ত সময়ে তাঁর নয়াদিল্লি সফরের সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ এই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ঢাকা একটি অনুকূল সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দেবে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু বলেছিল, বিএনপি সরকার চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে।

সম্প্রতি ভারতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনা এবং তাঁর শীর্ষ কয়েক মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

ঢাকার বর্তমান প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু দাবি করেছে, লন্ডনে থাকাকালেও তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পর ভারতের মনোভাব বোঝার জন্য তারেক রহমান দেশটিতে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৮ সালে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করেছিল। ওই দলে ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

০

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৩৪২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে।  ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সরকারি অর্থায়নে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকার ইলেকট্রিক জিপ কেনা যাবে

০

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও পাবলিক সেক্টর করপোরেশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি অর্থায়নে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) জিপ কেনা যাবে। সরকারের জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-২ বা এর ওপরের লেভেলের কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ সর্বোচ্চ এই দামের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।

সম্প্রতি কোন গ্রেডের কর্মকর্তারা কত দামের ইভি ব্যবহার করতে পারবেন, তা উল্লেখ করে নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এতে গ্রেডভেদে কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির তিনটি ধরন ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জিপ ও কার কেনার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মূল্যসীমা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রেড-৩ বা এর নিচের গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রতিটি জিপ গাড়ির সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত বা সমমানের পদে কর্মরতরা সরকার থেকে গাড়ি সুবিধা পান। তাদের মধ্যে যারা সরকার থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি নেননি, তাদের জন্য সরকার থেকে গাড়ি সুবিধা দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি অর্থায়নে কর্মকর্তাদের জন্য ইভি কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবেশ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইভি আমদানির শুল্ক-করও কমিয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের এফইভির মোটর পাওয়ার হবে কমপক্ষে ২০০ কিলোওয়াট। ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং রেঞ্জ হবে কমপক্ষে ৪৩০ কিলোমিটার। এছাড়া ৮ বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টিসহ চার্জিং (ডিসি ফাস্ট) কমপক্ষে ৮০ কিলোওয়াট হতে হবে।

অন্যদিকে, রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের এফইভির মোটর পাওয়ার হবে কমপক্ষে ১৫০ কিলোওয়াট। এর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং রেঞ্জ হবে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার। এছাড়া ৮ বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টিসহ চার্জিং (ডিসি ফাস্ট) কমপক্ষে ৮০ কিলোওয়াট হতে হবে।

আর কারের মোটর পাওয়ার হবে কমপক্ষে ৯৫ কিলোওয়াট, ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং রেঞ্জ হবে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার। এছাড়া ৮ বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টিসহ চার্জিং (ডিসি ফাস্ট) কমপক্ষে ৮০ কিলোওয়াট হতে হবে।

হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

০

আশির দশকের কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিফাত চৌধুরীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও নিদ্রাহীনতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এই অভিনেতা। তার চিকিৎসা চলছে এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রিফাত চৌধুরী দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘হাউসফুল’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘পাটিগণিত’, ‘ফোর টোয়েন্টি’, ‘সিক্সটি নাইন’, ‘বনমানুষ’, ‘বাইসাইকেল’, ‘৪২০’, ‘ক্যারাম’, ‘মুড়ির টিন’সহ বহু জনপ্রিয় নাটকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ‘সিক্সটি নাইন’ নাটকের ‘জাতীয় কাকা’ চরিত্রটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি কবি হিসেবেও রিফাত চৌধুরীর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। ১৯৮৪ সালে ‘আলিঙ্গনের নাম’ কবিতার মাধ্যমে তার কবিতার জগতে প্রবেশ। এ পর্যন্ত তার ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে অসুস্থ রিফাত চৌধুরী আবার অভিনয়ে ফিরতে এবং কবিতা লিখতে চান। তার চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য সহকর্মী, বন্ধু এবং শিল্প-সাহিত্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

অপ্রতিম হত্যা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, ফাহিম আহমেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এক জীবনে আর কি চাই!

০

এক জীবনে আর কি চাই!

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে এ জীবনে কত কিছু দেখলাম। পাকিস্তান ভাঙ্গা দেখলাম। স্বাধীন বাংলাদেশ দেখলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম, তাঁর দেশে ফিরে আসা দেখলাম, তার শাসনামল দেখলাম, তাঁর মৃত্যু দেখলাম। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মেজর জিয়ার নির্মম হত্যাকান্ড দেখলাম। সাত্তারকে দেখলাম, বিনা রক্তপাতে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ দেখলাম। নূর হোসেনের ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখার কারণে পুলিশের গুলীতে হত্যা দেখলাম। শেখ হাসিনা’র আগমন দেখলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন দেখলাম। এরশাদের পতন দেখলাম। খালেদা জিয়ার উত্থান দেখলাম। পতন দেখলাম। তত্বাবধায়ক সরকার দেখলাম, এর বিলুপ্তি দেখলাম। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস দেখলাম। বিচার বিভাগ, মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস দেখলাম। শেখ হাসিনা’র শাসন দেখলাম, ক্ষমতাচ্যুতি দেখলাম। জুলাই ষড়যন্ত্র ও মব ভায়োলেন্স দেখলাম। জামাতের গর্তে থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসা দেখলাম। বিশ্ব-বাটপার ইউনূসের দেশ-বিক্রী দেখলাম। এখন দেখছি তারেক জিয়ার উত্থান। এক জীবনে আর কি চাই? আপাতত: দু’টি জিনিষ দেখার অপেক্ষা (১) জুলাই জঙ্গীদের শেষ পরিণতি (২) শেখ হাসিনা’র পুন:-প্রত্যাবর্তন।  

 

ভারত খারাপ, চীন ভাল

পাকিস্তানে কোন কম্যুনিষ্ট নেই, নেই বাম  আন্দোলন। চীনে কোন ইসলামিষ্ট নেই, নেই কোন ইসলামিক জঙ্গী তৎপরতা। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, ‘মাইরের ওপর ওষুধ নেই’। বাংলাদেশে সামাজিক সম্প্রীতি বলতে কিছু নেই, কখনো ছিলোনা, আছে শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য। চরম ধর্মীয় বিভেদ, বৈষম্য,সাম্প্রদায়িক নির্যাতন থাকা সত্বেও এগুলো কোন ইস্যুই নয়? কারণ হচ্ছে, দেশটা কট্টর সাম্প্রদায়িক, সমাজটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভরপুর, মানুষগুলো মনে ঘৃণা আর ঘৃণা। অন্যদিকে ভারতে আপনি কম্যুনিষ্ট পাবেন, বাম আন্দোলন পাবেন; ইসলামিষ্ট পাবেন, পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী পাবেন, ভারত ভাঙ্গার কথাবার্তা শুনবেন। সামাজিক মৈত্রী আছে-বৈষম্যও আছে; সাম্প্রদায়িকতা আছে- ব্যাপক অসাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠী ও চেতনা আছে!! একদল মুসলমানের বিপক্ষে আছে, বিশাল একটি জনগোষ্ঠী মুসলমানের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা চীনে আপনি একটি ইহুদি পরিবার পাবেন না, ভারতে বিপুল সংখ্যক ইহুদি নিরাপদে বসবাস করে? অথচ ভারত ভালো না। বাঁশ দিলেও পাকিস্তান ভাল, চীন ভালো। 

 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? সেখানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়েছে, তিনজন নিহত, পুলিশসহ বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছে। ঠিক কি ঘটেছিলো জানা মুশকিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিউজ, ভিডিও দেখে যা জানা যায় তা হচ্ছে, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি তাঁদের ধর্মানুষ্ঠান পালন করছিলো, একদলের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে অন্য দলের ব্যাঘাত ঘটে। এনিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি, উত্তেজনা ও পরে সেটি দাঙ্গায় রূপ নেয়। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ অন্তত: ৮জনকে গ্রেফতার করেছে। নেপাল ল্যান্ডলকড রাষ্ট্র, সীমান্ত ভারত ও চীনের সাথে। ২০২১ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩কোটি’র একটু কম, ৮২% হিন্দু, ৯% বৌদ্ধ, মুসলিম ৫.১%, খ্রিষ্টান ৩%। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, অভিযোগ রয়েছে সেখানে গত দুই দশকে প্রচুর বাংলাদেশী মুসলমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। নেপালে আনুমানিক দেড়লক্ষ মুসলমান আছে, অধিকাংশ সুন্নি। অধিকাংশ মুসলমানের বসবাস দক্ষিণের ‘টেরাই’ অঞ্চলে। বেশকিছু রোহিঙ্গা নেপালে ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশী কট্টরপন্থী মুসলমান নেপাল থেকে ভারত বিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রীতি রাজাকার মামুনুল হক নেপাল গেছেন।