Home Blog Page 393

আমরা গণভবন জয় করেছি, জাতীয় সংসদকেও জয় করব: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’ তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট লক্ষ্য ছিল গণভবন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সংসদ।

আমরা গণভবন জয় করেছি। এবার জাতীয় সংসদকেও আমরা জয় করব। সামনের নির্বাচনে তরুণদের বিজয় উদ্‌যাপন হবে। কিন্তু তার আগে অবশ্যই সংস্কারের সুরাহা, বিচারের সুরাহা হতে হবে।’

রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খুনি হাসিনার বিচার আমরা দেখতে চাই। সংস্কার দেখতে চাই। নতুন সংবিধান দেখতে চাই।

এই প্রজন্ম বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান।’

পথসভায় নাহিদ বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেমেছিলাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে। আমার ভাই আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহীর ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিলেন। আমাদের স্বপ্ন কেবল শেখ হাসিনার পতন ছিল না। ছিল সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নানা শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে সংস্কারের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বীকার করছি, আমাদের ভুল হয়েছিল। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আজকে আমরা শপথবদ্ধ, এই ভুল আমরা আর করব না। আমরা আর সুযোগ দেব না। স্বৈরতন্ত্রের, পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তুলব।’

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক ইমরান ইমন, রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মোবাশ্বের আলী। পথসভা শেষে রাজশাহী নগরের গণকপাড়া এলাকায় দলটির মহানগরের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

শিবির নয়, লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল ছাত্রদলের নাছির

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ২৯ জুলাই লাল ব্যাজ ধারণ করার প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

রবিবার (৬ জুলাই) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয় ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন।

আব্দুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “২৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন এবং কালো ব্যাজ ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর ওইদিন বিকেলে ছাত্রদলের নাছির ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন নাছির ভাই রাষ্ট্রীয় কালো ব্যাজের বিপরীতে লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব দেন। রাকিব (ছাত্রদলের সভাপতি)  ও নাছির ভাইয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আমাদের একাধিকবার কথা হয়।”

তিনি লিখেন, “পরে আমি সাদিক কায়েম (শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা) ভাইকে ফোন দিয়ে বিষয়টা জানাই। তিনি বললেন, ‘আলোচনা করে আমাকে জানাচ্ছেন।’ কিছুক্ষণ পরে তিনি ফোন দিয়ে সম্মতি দেন।”

তিনি আরও লিখেন, “প্রতিদিন কর্মসূচি ফাইনাল করার আগে আমরা চারজন- আমি, মাসউদ, রিফাত, মাহিন আলোচনা করতাম। শিবির এবং ছাত্রদলের সঙ্গে অনেক সময় গ্রুপ কলে মিটিং করে কর্মসূচি ফাইনাল করতাম। তারই ধারাবাহিকতায় ঐদিনও আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম। রিফাত বললো যে, ‘শোক দিবসের প্রতিবাদে আমরা কালো কাপড় চোখে মুখে বাঁধতে পারি’। আমি রিফাতকে নাসির ভাইয়ের আইডিয়ার কথা বললাম, লীগ যেহেতু কালো কাপড় দিছে, আমরা এইক্ষেত্রে লাল কাপড় বাঁধতে পারি। মাহিনও একই প্রস্তাব দিল।”

নাছির উদ্দীন নাছিরের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল জানিয়ে আব্দুল কাদের বলেন, “পরবর্তীতে সাদিক ভাই এবং নাছির ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চোখেমুখে লাল কাপড় বাঁধার কর্মসূচি ফাইনাল করা হলো এবং ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেওয়ার আহবান জানানো হলো। যাদের কাছে লাল কাপড় নেই, তারা যেনো প্রোফাইল ‘লাল’ করে। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সেই সময়ে রিফাত রশিদ দেশবাসীর প্রতি এমন আহবান জানিয়েছিলেন। প্রোফাইল পিকচারের সঙ্গে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ জুড়ে দেওয়ার বিষয়ে সাদিক ভাই পরামর্শ দেন। পরামর্শের আলোকে তিনি কিছু হ্যাশট্যাগও দিয়ে দেন।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব প্রথম তিনি দেন। এক সাক্ষাৎকারে ফরহাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক ও কালো পতাকার পরিবর্তে লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব তিনি প্রথম শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি সাদিক কায়েমকে দেন এবং পরে তারা প্রেস বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের পাঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে তুমুল বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে হঠাৎ বন্যা হয়। এতে একটি খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়েছেন দুই ডজনের বেশি শিশু। নিখোজ শিশুদের খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা। খবর সিএনএন ও এএফপির

স্থানীয় সময় শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে প্রবল বর্ষণের ফলে সেখানকার গুয়াদালুপ নদীর পানি প্রায় নয় মিটার (২৯ ফুট) বেড়ে যায়। গ্রীষ্মকালীন ওই ক্যাম্পটি নদীর ধারেই ছিল। এতে ৭৫০ শিশু অবস্থান করছিল।

কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, যারা বন্যায় মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। শনিবার সকালে বন্যার পানি সরে যেতে শুরু করলে ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৮৫০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কার কাউন্টির কাছের শহর কারভিলের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্ট‌ন রাইস জানিয়েছেন, ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ২৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, কার কাউন্টিতে বন্যার জরুরি অবস্থা মূলত শেষ হয়ে এসেছে। তবে তারা আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে এবং বন্যা পর্যবেক্ষণ চালু আছে।

ডাল্ট‌ন রাইস বলেন, উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সহায়তার জন্য এক হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে আছেন। এতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু মানুষকে গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সহায়তার জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের গার্ডের হেলিকপ্টারও এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

আফগানদের ইরান ছাড়ার শেষ দিন আজ

ইরানে বসবাসকারী লাখ লাখ আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীকে দেশ ছাড়তে শেষবারের মতো নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। স্বেচ্ছায় ইরান ত্যাগের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন আজ রোববার। এরপর কাল থেকে ‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’ আফগানদের গ্রেপ্তার করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার

এমন এক সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ওই সংঘাতে জড়িয়ে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও।

গত মার্চ মাসে ইরান সরকার একটি আদেশ জারি করে। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগানদের ৬ জুলাইয়ের (আজ রোববার) মধ্যে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তা না হলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আদেশে জানানো হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইরান থেকে আফগানদের গণহারে ফেরত পাঠানো হলে আফগানিস্তান আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং তালেবান শাসন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা এই মানুষদের অনেকে কয়েক দশক ধরে ইরানে বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, তেহরান ২০২৩ সালে ‘অবৈধভাবে’ দেশে বসবাসকারী বিদেশিদের বহিষ্কারের জন্য একটি অভিযান শুরু করে। পরে চলতি বছরের মার্চে ইরান সরকার একটি সময়সীমা ঘোষণা করে-যার মধ্যে যারা বৈধতা ছাড়া অবস্থান করছে, তাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে প্রায় সাত লাখ আফগান ইরান ছেড়েছে, শুধু জুন মাসেই ফিরে গেছে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।

ইরানে প্রায় ৪০ লাখ আফগান শরণার্থী ও অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের অনেকে সেখানেই জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা, অবশেষে মৃত্যু

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে প্রতিবেশী দাদা দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে লজ্জায় বিষপান করে এক তরুণী। ১৫ দিন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গতকাল শনিবার রাতে মারা যায় সেই তরুণী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আজ রোববার দুপুরে অভিযুক্ত ধর্ষকের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক তাদের প্রতিবেশী। গত ২১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় তার মেয়ে বিষপান করে। পরে তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তার মেয়ে জানায় চাচাতো দাদা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রায়ই ধর্ষণ করত।

পূর্বের মতো গত ২৭ মে রাতে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ২১ জুন লোকলজ্জায় তার মেয়ে বিষপান করে। পরে প্রথমে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৮ জুন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় মারা যায় তার মেয়ে।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা গত ৩০ জুন বোচাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই দিনই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

রেস্ট হাউজে নারীসহ ওসিকে আটক করে ছাত্রদল নেতার চাঁদাবাজি

যশোর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্ট হাউজে ‘নারীসহ ওসিকে আটকে চাঁদা দাবির’ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে। অভিযোগের তীর ছাত্রদলের এক নেতার দিকে, যিনি ৫-৬ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে হানা দেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায়। সিসিটিভি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর পাউবোর পুরোনো রেস্ট হাউজের ‘কপোতাক্ষ কক্ষে’ অবস্থান করছিলেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা দরজা ধাক্কা দেওয়ার পর ওসি সাইফুল ইসলাম বাইরে বের হন। এরপর ধস্তাধস্তি করে তাকে আবার কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওসির কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এবং পরে দুই লাখ টাকায় আপসরফা হয়।

ঘটনার সময় রেস্ট হাউজে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘টাকা লেনদেন এবং রেস্ট হাউজ ভাঙচুরের সময় আমাকেও মারধর করা হয়।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‌ওসি সাইফুল স্ত্রী পরিচয়ে একজন নারীকে নিয়ে বাংলোয় ওঠেন। আমি নিজে দরজা খুলে দিই। কপোতাক্ষ (কক্ষ) গুছিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে যাই। এরপর কিছু সময় পর ওসি স্যার নাশতা আনতে শহরের একটি হোটেলে পাঠান। আর ওসি সাইফুল ইসলাম ওই নারীসহ কক্ষে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করার পরে এলাকার কিছু লোকজন প্রবেশ করেন। রেস্ট হাউজের সামনে এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। এর কিছুক্ষণ পর সাইফুল ইসলাম দরজা খুলে বের হেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর চক্রটি তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই নারীসহ ঘরে ঢোকেন।’

তবে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একজন বন্ধুকে নিয়ে যশোরে এসেছিলাম। ছাত্রদল নেতারা পূর্বপরিচিত, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব প্রচার চালানো হচ্ছে।’

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা গোলাম হাসান সনি দাবি করেছেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে রেস্ট হাউজে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো নারী পাইনি, ওসির সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুরোধে ওসিকে রেস্ট হাউজের কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা এখন তদন্তাধীন।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সফর স্থগিত, ২০২৬-এ আসছে ভারত

চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে যে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল, তা ১৩ মাস পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

বিসিসিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই বোর্ডের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা ও পারস্পরিক সুবিধার দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যথাসময়ে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সূচির সময় পিছিয়ে গেলেও ম্যাচের সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। এর আগে সবশেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর করেছিল ভারত। সেবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারলেও ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল টাইগাররা।

গত ৩০ জুন বিসিবির বোর্ড সভা শেষে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলাপ চলছে, ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে। পরের সুবিধাজনক উইন্ডোতে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। তারা বেশ সহযোগিতাপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ করছে। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা।”

উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

তুর্কমেনিস্তানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বাছাই পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ

নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে স্থান আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। তবে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল জয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

মূলপর্বে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের জালে মাত্র একটি গোল হজম করে, যা ছিল স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে। টানা তিন জয়ে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলার জন্য প্রস্তুত।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ ছিল অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৩ মিনিটেই গোলের সূচনা করেন স্বপ্না রানী। এরপর ৬ ও ১৩ মিনিটে জোড়া গোল করেন শামসুন্নাহার। ১৬ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আরও তিনটি গোল আসে মনিকা, ঋতুপর্ণা ও তহুরা খাতুনের পা থেকে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ঋতুপর্ণা। এতে ৭ গোলের বিশাল লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর যদিও আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসে, তবে ২০১০ সালে ভুটানের বিপক্ষে গড়া ৯-০ গোলের সর্বোচ্চ জয় রেকর্ডটি অক্ষত থাকে। পুরো বাছাইপর্বজুড়েই বাংলাদেশ দারুণ ছন্দে ছিল। প্রথম ম্যাচে তারা বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ ব্যবধানে হারায়, যে জয়ই তাদের মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।

আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপের আসর বসবে। এই প্রতিযোগিতায় সেরা ছয়ের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারলেই ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা ও তহুরাদের এই পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে এখন আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

তানজিন তিশার সন্তান দাবি করে ছবি প্রকাশ করলেন জাওয়াদ নির্ঝর

সম্প্রতি একটি টকশোতে অভিনেত্রী তানজিন তিশা মা হওয়ার ইচ্ছার কথা জানানোর পর, সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার ‘সন্তান’-এর ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। নির্ঝর দাবি করছেন, তিশার পূর্বে বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে, যা অভিনেত্রী এতদিন অস্বীকার করে এসেছেন।

শনিবার (৫ জুলাই) জাওয়াদ নির্ঝর তার ফেসবুকে তিনটি ছবি প্রকাশ করেন।  এই ছবিগুলোকেই তিনি তিশার সন্তান হিসেবে দাবি করেছেন। দুটি ছবিতে দেখা যায়, তানজিন তিশা একটি শিশুকে গভীর মমতায় কোলে নিয়ে আছেন। আরেকটি ছবিতে দুটি শিশুকে দোলনায় বসে থাকতে দেখা গেলেও, নির্ঝর তাদের মুখ ঢেকে দিয়েছেন। ছবিগুলো পোস্ট করে নির্ঝর লিখেছেন, “সেলিব্রিটি হওয়ার পর মানুষ কি তার গর্ভের সন্তানকেও অস্বীকার করতে পারে।”

নির্ঝর দাবি করেছেন, তিশার আগের বিয়ের খবর এবং পুত্রসন্তানের খবর মিথ্যা নয়। তার ভাষ্যমতে, এই ছবিগুলো তিশার মিডিয়ায় আসার আগের। তিনি আরও জানান, তিশার সাবেক স্বামী বর্তমানে দুবাইতে থাকেন এবং তাদের একটি পুত্রসন্তান আছে। সেই পুত্রসন্তানটি এখন ঢাকায় তার দাদির কাছে থাকে।

তিশার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে নির্ঝর আরও লেখেন, “তিশা টকশোতে মিথ্যা কথা বলেছেন। বছরখানেক আগে তানজিন তিশাকে নিয়ে স্টোরি করতে গিয়ে আমরা তার পুত্রসন্তান এবং সাবেক স্বামীকে খুঁজে বের করেছিলাম। তিশা আপনি প্রমাণ করেন, এই বাচ্চা আপনার ছিল না।”

জাওয়াদ নির্ঝরের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করছেন। নির্ঝর মন্তব্যের ঘরে তিশার আরও কিছু পুরনো ছবি দিয়েছেন, যা তার মিডিয়ায় আসার আগের ছবি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (৪ জুলাই) জায়েদ খানের সঞ্চালনায় টকশো ‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’-এর প্রথম পর্বে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তানজিন তিশা। সেখানেই তিনি জায়েদ খানের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, পাঁচ বছর পর তিনি নিজেকে একজন মা হিসেবে দেখতে চান এবং এর মধ্যে বিয়ে করে মা হতে চান। তিশা আরও বলেন, “দেখুন, এভাবে হয়তো কেউ বলবে না, যেভাবে আমি বলেছি। কারণ মানুষের প্রফেশনাল লাইফের সঙ্গে পারসোনাল লাইফটাও গুরুত্বপূর্ণ। সেটিকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। লুকানোরও কিছু নেই।”

খারাপ ব্যাংকগুলোর পুনর্বাসনে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক’: অর্থ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক খারাপ ব্যাংকগুলোকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে এবং ইসলামী ব্যাংকে আস্থা ফিরে আসছে, যা এর একটি উদাহরণ। শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, অন্যান্য ব্যাংকগুলোর জন্য ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট করা হয়েছে। এই আইনের প্রথম শর্ত হলো, যারা ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কারও টাকা মার যাবে না, তবে এক্ষেত্রে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, এনবিআরের চলমান সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী করণীয় নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা এ বিষয়ে আলোচনা করে সুপারিশ পেশ করবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি বাজেটে অনেক পণ্যের ওপর ইনপুট ট্যাক্স কমিয়ে আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ-আমেরিকার ট্রেড অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে তাল মেলানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ‘ডুইং বিজনেস’ সহজীকরণে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, একটি ব্যবসা শুরু করতে যাতে উদ্যোক্তাদের একাধিক সংস্থায় ঘুরতে না হয়, সে লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম এবং নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী প্রমুখ।