মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে ফিলিস্তিনের গাজায়। দিন দিন দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তা-ব বাড়ছে। ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ও কৌশল। নতুন করে সেই কৌশলে যোগ হয়েছে ‘খাবারের প্রলোভন’। ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সেই প্রলোভন এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই সুযোগটিই নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। খাবারের আশায় ত্রাণ শিবিরে জড়ো হওয়া গাজাবাসীর ওপর বোমা ফেলে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। গত আট দিনে বিভিন্ন ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০২ জনকে হত্যা করেছে দখলদাররা। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাফাহ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত সহায়তা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনে (জিএইচএফ) হামলা চালায় তারা। সেখানে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘রাফার আল আলম এলাকায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণ পেতে আসা বেসামরিক মানুষদের ওপর অমানবিক হামলা চালানো হয়েছে।’
মাহমুদ আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাঙ্ক ও ড্রোন ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’ এর আগে রোববার একই স্থানে হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হয়েছিল, যদিও ইসরায়েল সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
গাজা উপত্যকার উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ভোরবেলা থেকে হাজারো মানুষ ত্রাণ পেতে আল আলম মোড়ের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন। সে সময় ইসরায়েলি সেনারা ট্যাঙ্ক ও ড্রোন থেকে গুলি চালাতে থাকে। তখন ত্রাণপ্রত্যাশীরা কোনোভাবে সেনাদের জন্য বিপজ্জনক ছিলেন না।
খাদ্যসহায়তা প্রত্যাশাকারীদের ওপর হামলাকে অযৌক্তিক বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে , গাজার বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করা যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্কের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি, ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে তিন দিন ধরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। এটি অগ্রহণযোগ্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজাবাসী খাবারের জন্য জীবন বিপন্ন করছে, যা একদমই মেনে নেওয়া যায় না।
ইসলাইল বর্বরতা: গাজায় খাদ্যের প্রলোভন দেখিয়ে ১০২ জনকে হত্যা
আওয়ামী লীগ আগে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা
আল-জাজিরাকে ড. ইউনূস
নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে কিনা, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার উপস্থাপক। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্নের জবাবের একটি অংশ আওয়ামী লীগকেই নির্ধারণ করতে হবে। দলটি আগে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা। তারা এখনো কিছু ঘোষণা করেনি। তা ছাড়া নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেটাসহ অন্যান্য বিষয় রয়েছে।
আল-জাজিরার বৈশ্বিক নেতাদের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান ‘টক টু আল-জাজিরা’য় এ কথা বলেন ড. ইউনূস। রোববার ‘মুহাম্মদ ইউনূস: রিয়েল রিফর্ম অর জাস্ট আ নিউ রুলিং ক্লাস ইন বাংলাদেশ?’ শিরোনামে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন কিনা, সে প্রশ্নও করা হয়। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, সেটা নয়। অন্যান্য দল আছে যারা বলতে পারে যে, এই আইনের অধীন তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা নির্বাচন আয়োজন করবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে কিনা, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নও করা হয়।
উত্তরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই থাকবে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, আমরা বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা নির্বাচন আয়োজন করব। আমাদের এ ধরনের নির্বাচন হতে চলেছে।’
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে সংস্কারের তালিকা ছোট হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন এবং তালিকা বড় হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন জুনের পরে যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপস্থাপক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে এক প্রশ্নে বলেন, এটা কি বলা ঠিক যে শেখ হাসিনার পতনের পরের ‘মধুচন্দ্রিমা’ এখন সম্ভবত শেষ হয়েছে। কিছু বেশ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব আপনাকে দিতে হবে। কারণ, পুরনো ক্ষমতাধরদের প্রভাব রয়েছে, অন্যরা রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে চাইতে পারে। যেমন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এর সমাধান কি বাংলাদেশ একা করতে পারে?
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর জবাবে বলেন, ‘দুটি বিষয়, একটি জনগণের অধৈর্য নিয়ে, তা মধুচন্দ্রিমা শেষ হোক বা না হোক। বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে এখনো মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো তাদের জন্য ভালো সমাধান। তারা বলছে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেতে দাও। আজ আমাদের নির্বাচন। কেউ তা বলেনি। এই দিকেই আমরা যাচ্ছি। আমরা এমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি যেখানে লোকেরা বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের হস্তান্তর করো।’
প্রফেসর ড. ইউনূসের কাছে ওই উপস্থাপক জানতে চেয়ে বলেন, আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে জানতে চাই। স্পষ্টতই তিনি এখনও দাবি করেন যে তিনি এখনও বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারত থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার উপস্থিতি কীভাবে দেখে ভারতের সরকার?
জবাবে ড. ইউনূস বলেছেন, আমাদের বিমসটেকে (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনোমি কোঅপারেশন) একটি বৈঠক ছিল। যেখানে বিমসটেকভুক্ত সকল দেশের প্রধানরা ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেখানে ছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করেছি এবং স্পষ্ট করে বলেছি যে, ঠিক আছে- আপনারা যদি তাকে রাখতে চান তাহলে এ বিষয়টি এমন কিছু নয় যা আপনাদের সঙ্গে মীমাংসা করতে পারি। যেহেতু তিনি ভারতে আছেন তাই অবশ্যই তাকে চুপ থাকতে হবে, কেননা তার কথা বলা আমাদের জন্য সমস্য তৈরি করে। তিনি বাংলাদেশের ভেতরে মানুষকে উত্তেজিত করার জন্য কথা বলছেন, যাতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই কথার প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি কী বলেছেন জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, আমি যদি মূল বিষয়টি উল্লেখ করি- তিনি বলেছেন, ভারত এমন দেশ যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া সকলের জন্যই উন্মুক্ত। যার ওপর আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না।
উপস্থাপক জানতে চান, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি কি মনে করেন যে, ভারত তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে? তাকে কি দেশে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত? আর আপনি কি এ বিষয়ে কোনো সহায়তা পাবেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই হাসিনাকে ফেরত পেতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছি। তবে তারা এখনও এতে সাড়া দেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নোটিশ দেবে। এরপর এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যাবে।
আল জাজিরার উপস্থাপক ড. ইউনূসকে বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি আপনাকে বলেছেন যে, আমরা(ভারত) তার বাকস্বাধীনতা নিয়ে কিছুই করতে পারবে না। যদিও ভারতে বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারেও কোনো নিশ্চয়তা দেননি তিনি। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, না। মোদি এমন কোনো নিশ্চয়তা দেননি। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কেমন প্রভাব ফেলছে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জানি তাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন, আর আমাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন। কিন্তু আমরা আদালত থেকে আইনি নোটিশ আসার অপেক্ষায় আছি।
ড. ইউনূস কি ইচ্ছা করেই ভারতের আগে চীন সফর করেছিলেন? এর মাধ্যমে তিনি কি কোনো বার্তা দিতে চেয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, যারা চেয়েছে আমি সকলের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছি। এ কারণেই আমি চীনে গিয়েছিলাম এবং এখন আমি মালয়েশিয়া যাব। এখন আমি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আছি। আমি আশপাশের অনেক দেশ সফর করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে জোট সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। কেননা বর্তমানে সার্ক কিছুটা অচলাবস্থার মধ্যে আছে। জোটটি কাজ করছে না। আমি সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, আসুন আমরা পুনরায় সার্ক পুনরুজ্জীবিত করি। একে অপরকে সহযোগিতা করি। একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার আরেকটি প্রচেষ্টার অংশ হচ্ছে বিমসটেককে কেন্দ্র করে। সেখানেও আমি বলব, আসুন আমরা একত্রিত হই এবং নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করি। একত্রে কাজ চালিয়ে যাই। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতি। তাই বিমসটেকের বিভিন্ন সভা আয়োজন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
গুমের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও সিটিটিসি’র: তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন
দেশে সংঘটিত বেশিরভাগ গুমের পেছনে পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) জড়িত ছিল। এমন তথ্য উঠে এসেছে গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুমের শিকার ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেছেন।
এছাড়া, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন ইউনিটের বিরুদ্ধে গুমে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধেও গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডিজিএফআই ও এনএসআই মূলত গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। আইনগতভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার এখতিয়ার তাদের নেই। অথচ এ সংস্থাগুলোর সদস্যরা যেভাবে আটক, অপহরণ ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের শামিল। এটি দেশের আইন ব্যবস্থায় সমান্তরাল অবৈধ শক্তি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। তদন্ত কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নিজ কার্যপরিধি বা দায়িত্বের সীমা এবং নিয়মনীতি (এসওপি) অমান্য করে অভিযান চালিয়েছে। এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: অ্যা স্ট্রাকচারাল ডায়াগনোসিস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দ্বিতীয় অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনটি বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে গুমের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি বাহিনীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা
বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। সংস্থাটি দেশের প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও তদন্ত এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মূল দায়িত্ব।
বাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে রয়েছে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ বাহিনী বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে (বিশেষত ২০০৯ সালের পর) পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে নির্যাতন, মতপ্রকাশের অধিকার দমন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ বাড়তে থাকে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করে নিরপেক্ষ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বদলে সরকারপন্থি ‘এনফোর্সার’ হিসেবে কাজ করে। সে সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ নামে পরিচিত বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের আগে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো না। হেফাজতে নির্যাতনের বিষয়টিও ছিল ব্যাপক। অনেক ভুক্তভোগী মারধর, বৈদ্যুতিক শক, পানিতে চুবিয়ে রাখা এবং অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা জানান। যদিও ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ আইন পাস করে তৎকালীন সরকার, কিন্তু বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এটির প্রয়োগ হয়েছে। অল্প সংখ্যক কর্মকর্তাকে এই আইনের আওতায় বিচার করার হয়েছে। ছাত্র আন্দোলন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও দমন-পীড়ন চালায় পুলিশ। বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহৃত হয়েছে ভিন্নমত দমনে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কিংবা প্রচার চালানোর মতো অস্পষ্ট অভিযোগে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিশনের মতে, বহু রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সরকারের সমালোচকদের গুম করেছে পুলিশ। তাদের অনেককেই নির্যাতনের পর বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এসব ঘটনা ধারাবাহিকতা পুলিশের ভেতরে জবাবদিহির অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সংবিধান অনুযায়ী নাগরিক সুরক্ষা ও আইনের শাসনের বিপরীত।
র্যাব: আইন রক্ষা বাহিনী থেকে দমনযন্ত্রে রূপান্তর
২০০৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আধাসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গঠিত হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের লক্ষ্যে এ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বর্তমানে র্যাবের অধীনে দেশব্যাপী মোট ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নের অধীনে তিন থেকে চারটি ‘ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি’ (সিপিসি) কাজ করে। বাহিনীটি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১০টি কার্যকর শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে অপারেশন, গোয়েন্দা, আইন ও গণমাধ্যম এবং বিমান শাখা অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশন) অধীন এবং প্রশাসন ও অর্থ, যোগাযোগ ও এমআইএস, তদন্ত ও ফরেনসিক, প্রশিক্ষণ ও অভিযোজন, এবং গবেষণা ও উন্নয়ন শাখাগুলো অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) অধীন কাজ করে। র্যাবের প্রধান কার্যালয় ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে র্যাব অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হতে থাকে। তদন্ত কমিশন শত শত অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে র্যাবের বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, র্যাবের হাতে আটক হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এতে বাহিনীটির আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়।
র্যাব গঠনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাহিনীটিকে সন্ত্রাসবাদ দমন বাহিনী হিসেবে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু পরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনকারী ডেথ স্কোয়াডে পরিণত হয় র্যাব। বাহিনীটি শুরু থেকেই ব্যাপক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেছে। তবে তাদের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত তদারকির অভাব থাকায় নির্যাতনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাজ্য প্রায় এক দশক আগে র্যাবকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে র্যাব এবং বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। র্যাবের গোয়েন্দা শাখা বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে গোপন অভিযান চালাত। এসব অভিযানে সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের নামে বহু অপহরণ ও গোপন স্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হতো। এই ধরনের অভিযানের জন্য সবচেয়ে সমালোচিত ছিল ‘টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ বা টিএফআই সেল, যা ঢাকার কুর্মিটোলায় র্যাব-১ সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত।
যদিও প্রকাশ্যে এটিকে একাধিক সংস্থার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, বাস্তবে এটি পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হতো র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সরাসরি তত্ত্বাবধানে।
টিএফআই সেলে হাজার হাজার মানুষকে দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস ধরে অন্ধকার কক্ষে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় আটকে রাখা হতো। ৩৮টি সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, এ কেন্দ্রে বন্দিদের পিটিয়ে, বিদ্যুৎ শক দিয়ে, উল্টে ঝুলিয়ে, মাথা ঘুরিয়ে বা এমনকি শরীরের অঙ্গ ছিঁড়ে নির্যাতন করা হতো। শিশু ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি। যদিও সেলটি পরিচালনায় সেনা সদস্যরাই মূলত নিয়োজিত ছিলেন, তবে পুলিশের সদস্যরাও এসব অভিযানে অংশ নিতেন।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে র্যাব গোয়েন্দা বা স্থানীয় ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে সরাসরি অপহৃত বা ডিজিএফআই-এর হেফাজত থেকে আনা ব্যক্তিদের এ সেলে আনা হতো। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, যাতে খোঁজ ও শনাক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কমিশন এখনো প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন কেন্দ্রটি সম্পর্কে নতুন নতুন অভিযোগ পাচ্ছে, যা নির্যাতনের ব্যাপকতা ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর র্যাব বাহিনী সেলের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে সক্রিয় হয়। নির্যাতনের প্রমাণ মুছে ফেলতে সেলগুলোর গঠন বদলে বড় করা হয়, নির্যাতন কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়, নজরদারি ক্যামেরা খুলে ফেলা হয় এবং ফরেনসিক প্রমাণ নষ্ট করতে মেঝের টাইলস পর্যন্ত খুঁড়ে ফেলা হয়। এটি ছিল প্রমাণ নষ্ট করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শুধু অপরাধ দমনের বাইরে যাওয়ার নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ারও। বিরোধী দল, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষদের ওপর দমন-পীড়নে র্যাবকে ব্যবহার করা হয়। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, র্যাব সদস্যরা জানতেন যে তাদের বিচার হবে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি তাদের বেপরোয়া করে তোলে বলে অভিযোগ তাদের। এর ফলে জনমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভয় জন্মায়, মানুষ বিচার পাওয়ার আশা হারায় এবং গোটা ব্যবস্থায় জবাবদিহি হীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সরকার পরিবর্তনের পরও র্যাব নামে বাহিনীটি এখনো টিকে আছে। তবে র্যাবের অতীত কার্যক্রম ও জনমনে তৈরি করা ভয় ও অনাস্থা এখনো গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। কমিশন মনে করে, সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে র্যাব বাহিনীটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করা দরকার। এটি না হলে দায়মুক্তির চক্র বন্ধ হবে না, জনআস্থা ফিরবে না এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়া সম্ভব হবে না।
এনএসআই’র আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন: গুম কমিশন
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে কাজ করে তা নিশ্চিত করার জন্য এর যথেষ্ট আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।
গুম সংক্রন্ত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এনএসআই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশের প্রধান বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে কাজ করে, দেশীয় এবং বিদেশি উভয় ধরনের গোয়েন্দা তথ্য এই সংস্থার আওতায় থাকবে। এই সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং রাজনৈতিক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের ওপর নজরদারি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে। এটি সীমান্ত গোয়েন্দা সংস্থার সাথেও জড়িত এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি পর্যবেক্ষণ করে। এনএসআই অন্যান্য সংস্থার সাথে কাজ করে, যেমন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), এরফলে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ওভারল্যাপিং, অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আন্তঃসংস্থাগত সংঘাত দেখা দেয়। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকীকরণের কারণে এর কার্যকারিতা গুরুতর তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, সংস্থাটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ওপর কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ এবং দমন করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এনএসআই তার ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং তদারকি ব্যবস্থা সংজ্ঞায়িত করে এমন একটি বিস্তৃত সংবিধান সম্মত আইন ছাড়াই কাজ করে। এতে স্বাধীন সংসদীয় বা বিচার বিভাগীয় তদারকির অভাব রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণহীন কর্তৃত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিশন এনএসআই-কে জোরপূর্বক গুমের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এটিকে নির্যাতন এবং অন্যান্য দুর্ব্যবহারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করে, যেখানে এর কার্যক্রমের অস্বচ্ছতার কারণে ভুক্তভোগীদের আইনি আশ্রয় সীমিত।
যদিও এনএসআই জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সন্ত্রাসবাদ দমন এবং গোয়েন্দা প্রচেষ্টায় অবদান রেখেছে, তবুও এটি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এরমধ্যে রয়েছে রাজনীতিকরণ, স্বচ্ছতার অভাব, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ।
সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন (সিটিটিসি)
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ (সিটিটিসি) ইউনিটকে সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধমূলক কার্যকলাপ মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতে সাতটি বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ (সোয়াত), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, অবৈধ অস্ত্র বিরোধী ইউনিট, ক্যানাইন ইউনিট ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট। সিটিটিসি উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার দাবি করলেও, এটি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মতো অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে যে অপব্যবহার ও দায়মুক্তি দিয়ে আসছে তার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি যখন তারা অন্যান্য সংস্থার তুলনায় অল্প সময়ের জন্য বেআইনিভাবে বন্দীদের আটক করে, তখনও সিটিটিসি কর্মীরা আইনি ব্যবস্থার কৌশলগত অপব্যবহারের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতি করে বলে জানা গেছে। এই ইউনিটটি অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য পরিচিত। যার ফলে ‘নির্দিষ্ট’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘আইনশৃঙ্খলা’ পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস দমনের নামে বিদেশি সরকার কর্তৃক সমর্থিত র্যাবের মতোই, সিটিটিসি আন্তর্জাতিক সমর্থন থেকে উপকৃত হয়েছে। তবুও, র্যাবের মতো এই বিদেশি সমর্থন, তাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে ঝুঁকে পড়া রোধ করতে পারেনি।
সিটিটিসি জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটকের মতো গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে।
বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে মানবাধিকার কর্মীরা তথাকথিত সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এগুলো আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের অবিশ্বাসকে আরো সুদৃঢ় করেছে। কমিশন এমন অসংখ্য ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যেখানে ব্যক্তিদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে ও জিজ্ঞাসাবাদের আড়ালে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, পরে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। চাপের মুখে দেওয়া এই ধরনের স্বীকারোক্তি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। কমিশনের সাক্ষাৎকার নেওয়া ভুক্তভোগীরা সিটিটিসি হেফাজতে থাকাকালীন মানসিক যন্ত্রণা ও শারীরিক নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেছেন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবে যার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নির্যাতন চলতে থাকে। সিটিটিসি যথাযথ প্রমাণ বা আইনি ভিত্তি ছাড়াই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে। বিশেষ করে যারা সরকারের বিরোধী বলে বিবেচিত রাজনৈতিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ছিল, তাদেরকেই গ্রেফতার করা হয়।
এই পদক্ষেপগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগীরা তাদের বিনা অপরাধে আটক করার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা অবিচারের ইঙ্গিতই বহন করে। সিটিটিসি অস্বচ্ছতার আড়ালে কাজ করেছে। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে কিছুই জানতে দেওয়া হয় না।
তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও, অর্থপূর্ণ জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। অবৈধ আটক থেকে শুরু করে নির্যাতন পর্যন্ত অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা খুব কমই বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। ফলস্বরূপ, সিটিটিসি দায়মুক্তির একটি অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এ ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত র্যাবের সম্মানও ক্ষুণ্ন করেছিল। কমিশনের অনুসন্ধানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, সিটিটিসি একটি নিরপেক্ষ সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা হিসাবে কাজ করার পরিবর্তে, সেই অনুশীলন ও দায়মুক্তির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে- আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এক সময় এই কারণেই অন্যান্য সংস্থাগুলোর নিন্দা করেছিল। যদি র্যাবের পরিণত একটি সতর্কীকরণ হিসেবে কাজ করে, তাহলে সিটিটিসি এখন একই রকমের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা, বিদেশি মদদ ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের ফলে পদ্ধতিগত লঙ্ঘন ও জনসাধারণের আস্থা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রথমবার বিগব্যাশে বাবর আজম
জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের বর্তমান পরিকল্পনায় না থাকলেও আন্তর্জাতিক তারকা বাবর আজমকে দলে ভেড়ালো অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ লিগ (বিবিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি সিডনি সিক্সার্স। ২০২৫ মৌসুমে তিনি সরাসরি চুক্তিতে খেলবেন এই দলে। এটাই তার প্রথম বিগব্যাশ অভিজ্ঞতা। ক্রিকেটপাকিস্তান
বিগব্যাশ লিগের নিয়মানুযায়ী, ড্রাফট শুরুর আগে প্রতিটি দল একজন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে প্রি-সাইন করতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বাবরকে দলে টেনেছে সিডনি সিক্সার্স। ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্লেয়ার ড্রাফটের আগেই বাবরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন করে তারা।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবর আজমের মতো অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের একজন ব্যাটারকে পাওয়ায় দলের শক্তি অনেক গুণ বেড়ে যাবে। তার সঙ্গে একই দলে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা স্টিভেন স্মিথ, শন অ্যাবটসহ আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা।
বিগত মৌসুমে সিক্সার্সই ছিল একমাত্র দল যারা কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে প্রি-সাইন করেনি। এবার তারা বাবরের মতো তারকাকে টেনে এনে স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য এনেছে।
তবে বাবরের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ব্যাটে নেই চেনা ছন্দ, পাকিস্তান দলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জায়গাও হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিগব্যাশে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি।
এদিকে চুক্তির পর এক বিবৃতিতে বাবর বলেন, এটা দারুণ এক সুযোগ। বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর একটি বিগব্যাশ এবং এমন সফল একটি দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। দলের সাফল্যে ভূমিকা রাখতে চাই, ভক্তদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই এবং পাকিস্তানে আমার পরিবার ও সমর্থকদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।
অস্ট্রেলিয়ায় এবার প্রথমবারের মতো বাবরের আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে বাবরের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন শুরু।
৩ সপ্তাহের দেনদরবারের পর ২০০০ কোটিতে হলো দুই পক্ষের সমঝোতা
তিন সপ্তাহ ধরে দেনদরবার চলেছে। লিভারপুল দুবার প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রথমে ১০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের, পরে ১১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের। দুটি প্রস্তাবেই নিশ্চয়তা ছিল ১০ কোটি পাউন্ডের, বাকি অঙ্কটা শর্তসাপেক্ষ। নিশ্চয়তার অঙ্ক নিয়ে সমস্যা ছিল না, তবে শর্তসাপেক্ষ অঙ্কটার পরিমাণ আর সেসবের শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বায়ার লেভারকুসেন দুবারই লিভারপুলের প্রস্তাব বাতিল করে দেয়।
তবু লিভারপুল সমর্থকদের সম্ভবত তেমন দুশ্চিন্তা ছিল না। ইউরোপের ফুটবলে দলবদলবিষয়ক খবরের জন্য বিখ্যাত প্রায় সব সাংবাদিকই জানিয়ে রেখেছিলেন, ফ্লোঘিয়ান ভিয়ের্তশকে পেতে রেয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখের আগ্রহ থাকলেও দৌড়ে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল শুধু লিভারপুলই। ১০ কোটি পাউন্ডের ‘নিশ্চিত অঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতাও হয়ে যাওয়ায় বাকিটা নিয়ে সমঝোতা শুধু সময়ের ব্যাপার বলেই জানা গিয়েছিল।
সেই সমঝোতাও অবশেষে হয়ে গেছে দুই পক্ষে। বিবিসি, ইএসপিএন, ইংল্যান্ডের দ্য টাইমসসহ প্রায় সব সংবাদমাধ্যমই জানাচ্ছে, ফ্লোঘিয়ান ভিয়ের্তশকে পেতে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে সমঝোতা হয়ে গেছে লিভারপুল আর লেভারকুসেনের। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা প্রায় ২০০০ কোটি টাকা!
তবে আগের দুই প্রস্তাবের মতোই এই প্রস্তাবেও লেভারকুসেনকে ১০ কোটি পাউন্ডের নিশ্চয়তা (গ্যারান্টিড পেমেন্ট) দিয়েছে লিভারপুল। বাকি ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড শর্তসাপেক্ষ (অ্যাড-অন), যা ক্লাব হিসেবে লিভারপুল ও ক্লাবটিতে ভিয়ের্তশের পারফরম্যান্সের বিভিন্ন সূচকের ওপর নির্ভর করবে। লিভারপুল-এভারটনের মতো ক্লাবের খবরের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সাংবাদিক পল জয়েস দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে লিখেছেন, শর্তগুলো এমন যে, ইংল্যান্ড ও ইউরোপে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে লিভারপুল ও ভিয়ের্তশের পারফরম্যান্স টানা ভালো হলেই কেবল ওই অঙ্কের পুরোটা পাবে লেভারকুসেন।
তবে ১০ কোটি পাউন্ডের ‘নিশ্চয়তা’তেই লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়ে যাচ্ছেন ভিয়ের্তশ। এর আগে লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলেন দারউইন নুনিয়েস, যদিও ২০২২ সালে তাঁকে কেনার সময়ে লিভারপুলের খরচ হিসেবে যে ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বলা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমে, তার মধ্যে ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডই ছিল শর্তসাপেক্ষ (যার সবটুকু পূরণ হয়নি বলেই ধারণা)।
আর যদি সব শর্ত পূরণ হওয়ায় বাকি ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডও লেভারকুসেনের একাউন্টে পাঠাতে বাধ্য হয় লিভারপুল, সে ক্ষেত্রেই কেবল দলবদলটা ইংলিশ ফুটবলেই এ যাবতকালের সবচেয়ে দামি দলবদল হবে।
তা ইউরোপের এই সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান প্লেমেকারদের একজন, বয়সের হিসেবে যাঁর ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা সময়টা আগামী পাঁচ-ছয় বছরই হতে যাচ্ছে, যাঁকে পেতে ইউরোপের সেরা সব ক্লাব উন্মুখ ছিল – এমন একজনের জন্য এ দাম যথাযথ কি না, সে বিতর্কে ভোটটা লিভারপুলের পক্ষে যাওয়ারই সম্ভাবনা বেশি!
ভিয়ের্তশকে পেতে কার সঙ্গে লড়াই করতে হয়নি লিভারপুলকে! এবং কী অবিশ্বাস্য পরিস্থিতি থেকে দলবদলটা ঘুরিয়ে ফেলেছেন লিভারপুলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রিচার্ড হিউজেস ও ডিরেক্টর অব ফুটবল মাইকেল এডওয়ার্ডস! সঙ্গে যোগ হয়েছে কোচ আর্নে স্লটের বিশ্লেষণভিত্তিক দারুণ প্রেজেন্টেশন, যেখানে ভিয়ের্তশকে কীভাবে খেলানো হবে এবং আগামী বছরগুলোতে তাঁকে ঘিরেই কীভাবে লিভারপুল দলটা সাজবে সে ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা দেওয়া হয়েছিল। দ্য অ্যাথলেটিক থেকে শুরু করে টাইমস… ইউরোপের বিখ্যাত সব সংবাদমাধ্যমেই ভিয়ের্তশের ব্যাপারে বলা হয়, ভিয়ের্তশ আর তাঁর বাবা টাকা-পয়সার চেয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের অগ্রগতিবিষয়ক বিশ্লেষণভিত্তিক এমন পরিকল্পনাকেই সব সময় তাঁর ক্যারিয়ারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি।
এই মে মাসের শুরুতেও জার্মানিতে ধারণা ছিল, ফ্লোঘিয়ান ভিয়ের্তশ বায়ার্ন মিউনিখেই যাচ্ছেন। ২২ বছর বয়সী জার্মান প্লেমেকারের বাবা – যিনি আবার ভিয়ের্তশের এজেন্টও – হানস-ইওয়াখিম ভিয়ের্তশের সঙ্গে বায়ার্নের আলংকারিক সভাপতি উলি হোভেনেসের সম্পর্ক ভালো, এর জেরে বায়ার্ন – এবং জার্মানিতে – ভিয়ের্তশের পরবর্তী ক্লাব নিয়ে সংশয় তেমন একটা ছিল না।
কিন্তু বায়ার্নের অতি-আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত কাল হলো তাদের জন্য। তাদের দিক থেকে আগেভাগেই সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলো যে, ভিয়ের্তশ বায়ার্নেই যাচ্ছেন। বায়ার্ন ভেবেছিল, এতে লেভারকুসেনকে চাপে ফেলে দাম কমাতে বাধ্য করা যাবে। এ ব্যাপারে ১৮ মে পর্যন্ত নাকি ভিয়ের্তশের বাবার সঙ্গে সেভাবে আলোচনাই করেনি বায়ার্ন! অথচ ভিয়ের্তশ ও তাঁর বাবা দলবদলের আগে আগ্রহী সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপে আগ্রহী ছিলেন।
ওদিকে লেভারকুসেন চায়নি, তাদের দলের সেরা খেলোয়াড় জার্মানিতেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ক্লাবে যাক, ভিয়ের্তশ সেদিকটি নিয়ে ভেবেছেন। তা ছাড়া বায়ার্ন কোচ ভাঁনস কম্পানিও বায়ার্নে জামাল মুসিয়ালা ও ভিয়ের্তশকে কীভাবে একসঙ্গে খেলাবেন, সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি। কম্পানির পরিকল্পনার সঙ্গে নাকি বায়ার্নের কর্তাব্যক্তিরা একমত ছিলেন না। সব মিলিয়ে বায়ার্নকে ‘রিজেক্ট’ করে দেন ভিয়ের্তশ।
ম্যানচেস্টার সিটি ভিয়ের্তশকে পেতে আগ্রহী ছিল। ভিয়ের্তশও প্রাথমিকভাবে আগ্রহী ছিলেন পেপ গার্দিওলার সঙ্গে কাজ করতে। কেভিন ডি ব্রুইনার জায়গায় ভিয়ের্তশকে আদর্শ বিকল্প হিসেবেও ভেবে রেখেছিল সিটি। তবে সিটির সঙ্গে আলোচনায় যখন ভিয়ের্তশ প্রশ্ন করেন সিটিতে গার্দিওলা কতদিন থাকবেন (গার্দিওলার চুক্তি শেষ ২০২৭-এ), সে প্রশ্নের উত্তর পাননি। ফল? যদিও সিটির দিক থেকে দাবি করা হয়েছে, ভিয়ের্তশকে কেনার প্রকল্পে খরচ তাদের কাছে বেশি মনে হওয়ায় তারা আর আগ্রহী নয়, দ্য টাইমস জানাচ্ছে, ভিয়ের্তশই মূলত সিটিকে ‘না’ বলে দিয়েছেন।
রেয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের কথা শোনা গিয়েছিল। লেভারকুসেনে ভিয়ের্তশের কোচ শাবি আলোনসোই এখন মাদ্রিদের কোচ বলে আলোচনাটা এগিয়েছে। তবে মাদ্রিদের স্কোয়াডে এই মুহূর্তে একজন অ্যাটাকিং প্লেমেকারের চেয়েও রক্ষণ ও মাঝমাঠের অন্য জায়গায় খেলোয়াড়ের দরকার বেশি। মাদ্রিদ চেয়েছিল, ভিয়ের্তশ লেভারকুসেনে চুক্তি নবায়ন করে আরেক বছর থেকে যান, যে চুক্তিতে একটা ‘রিলিজ ক্লজে’র ব্যবস্থাও থাকবে। কিন্তু ভিয়ের্তশ লিভারপুলের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের পরিকল্পনা মনে ধরায়, পাশাপাশি তাঁর চোখে সেরা লিগ প্রিমিয়ার লিগে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় লেভারকুসেনে চুক্তি নবায়ন নিয়ে অত গা করেননি।
ফল? দৌড়ে শেষ পর্যন্ত থাকল শুধু লিভারপুল! তিন সপ্তাহ ধরে লেভারকুসেনের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের। গ্যারান্টিড পেমেন্টের ১০ কোটি পাউন্ড নিয়ে সমঝোতা আগেই হয়ে গিয়েছিল, ‘অ্যাড অনে’র শর্ত নিয়েই যা দেনদরবার হয়েছে। অবশেষে লিভারপুল সমর্থকদের স্বস্তির খবর হয়ে সব দেনদরবারে সমঝোতার খবরই এল। এখন শুধু মেডিক্যালে ভিয়ের্তশের পাস করার অপেক্ষা। তাঁর সঙ্গে লিভারপুল প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দ্য অ্যাথলেটিকের ডেভিড অর্নস্টেইন।
নিজের শরীরকে প্রতিদিন ধন্যবাদ জানাই: তামান্না
নিজের শরীরকে প্রতিদিন ধন্যবাদ জানাই’- কথাটি অদ্ভুত শোনালেনও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেকে নিয়ে এমন কথাই বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। কেন বলেছেন তিনি এমন কথা?
এর কারণ হলো—দীর্ঘদিন ধরে শরীরচর্চা, আত্মবিশ্বাস ও ‘সেলফ-লাভ’ নিয়ে তিনি লড়ে যাচ্ছেন। তার মতো যারা একইভাবে লড়তে চান তাদের জন্য এই বার্তা একটি অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামান্না বলেন—‘আমি সত্যিই আমার শরীরকে ভালোবাসি। কাজের ব্যস্ত দিনের শেষে গোসলের সময়, আমি শরীরের প্রতিটি অংশকে স্পর্শ করে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু আমি জানি প্রতিদিন সে কীভাবে আমাকে সহ্য করে।
এই স্বীকারোক্তি শুধু এক তারকার নয়, বরং নিজের শরীর, মন ও সৌন্দর্য নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক রূঢ় বার্তা।
‘একটা সময় ছিল যখন আমি ভাবতাম ছিপছিপে চেহারা হলেই আমি সুন্দর। কিন্তু পরে বুঝলাম, ওটা আসলেই আমাকে ভালো অনুভব করাতো না। সুন্দর লাগার অনুভূতি আসলে আমার ওজনের ওপর নির্ভর করত না’— মন্তব্য তামান্নার।
তামান্না আরও বলেন, ছোটবেলায় মনে করতাম ‘ছিপছিপে শরীর’ মানেই ‘সুন্দর’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে শিখেছি, সৌন্দর্য বা আত্মসম্মান কেবল শরীরের মাপে আটকে থাকে না।
তামান্নাকে সম্প্রতি দেখা গেছে ‘সিকান্দর কা মুকাদ্দর’ ছবিতে, যেখানে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন অবিনাশ তিওয়ারি ও জিমি শেরগিল।
‘তাণ্ডব’ নেমে উঠল ‘টগর’
চিত্রতারকা শাকিব খানের আলোচিত সিনেমা ‘তাণ্ডব’ নেমে গেল হল থেকে। আর সেই হলে মুক্তি পেল আদর আজাদ ও পূজা চেরি অভিনীত সিনেমা ‘টগর’।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নওগাঁ জেলার দেলুয়াবাড়ি এলাকার ফাইভস্টার সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল শাকিব খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘তাণ্ডব’। তারকাবহুল সিনেমাটি প্রচারণার পরও আশানুরূপ দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে শাকিব খানের সিনেমা নামিয়ে আদর আজাদের সিনেমাটি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় হল কর্তৃপক্ষ।
হল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাণ্ডব হাই রেন্টালে চালানো হচ্ছিল, কিন্তু দর্শকসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছিল। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় সিনেমা হলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই ‘তাণ্ডব’ নামিয়ে দিয়ে মুক্তি দিয়েছে আলোচিত সিনেমা ‘টগর’।
হল ম্যানেজার বলেন, দর্শকরা ভিন্ন স্বাদের গল্প খুঁজছে। টগরের গান, ট্রেইলার দেখে মনে হয়েছে ভালো কিছু হবে। তাছাড়া ঢাকার আজাদেও সেল ভালো। আমরা সিঙ্গেল স্ক্রিনের সিনেমাই চালাতে চাই।
আলোক হাসান পরিচালিত ও এআর মুভি নেটওয়ার্ক প্রযোজিত টগর চলতি সপ্তাহে মাল্টিপ্লেক্সের শো স্থগিত রাখলেও চলছে ঢাকার আজাদ, কিশোরগঞ্জের বাবু টকিজ-এ।
ড. ইউনূস-তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে যা বলল জামায়াত
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় বৈঠকটি শেষ হয়। পরে ওই হোটেলেই যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে কথা বলেন খলিলুর রহমান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার রাতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার যুগান্তরকে বলেন, আমরা এ বৈঠক ও আলোচনাকে গণতন্ত্রকামী জনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও ইতিবাচক মনে করি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে রাজনৈতিক দল এবং সরকারপ্রধানের মধ্যে সংলাপ ও মতবিনিময় সবসময়ই সৌহার্দ-সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে।এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকে বিচার-সংস্কার সেভাবে প্রাধান্য পায়নি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠককে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সেখানে অভ্যুত্থান পরবর্তী বিচার ও সংস্কার সেভাবে প্রাধান্য পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ফেসবুকে তিনি লেখেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠককে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। জাতীয় ঐক্যমত্যের প্রশ্নে, দেশের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের এমন সুসম্পর্কই কাম্য।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, হতাশার বিষয়- বৈঠকে নির্বাচনের মাস ও তারিখ যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বিচার ও সংস্কার সেভাবে প্রাধান্য পায়নি। এই সরকার শুধু নির্বাচন দেওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো রূপ নয় বরং একটি অভ্যুত্থানের উপর দাঁড়িয়ে, দেশের মানুষের অসংখ্য ত্যাগের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার কাছে দায়বদ্ধ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ, মৌলিক সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন নির্বাচনের পূর্বশর্ত।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদের পূর্বে নির্বাচনের মাস আর তারিখ নিয়ে কথা বলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়বদ্ধতা ভুলে যাওয়ার নামান্তর। সনদ রচনার পরেই নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লেখেন, দেশের স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, প্রশাসনকে প্রভাবিত করা, পেশিশক্তির প্রদর্শনসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা দৃষ্টান্ত প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। যেটা নির্বাচনের অন্যতম আরেকটি পূর্বশর্ত।
এনসিপির এই নেতা পোস্টে আরও বলেন, নির্বাচনের মাস এপ্রিল কিংবা ফেব্রুয়ারি যেটাই হোক না কেন, তার চেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে নির্বাচনের পূর্বে জুলাই সনদ দৃশ্যমান বিচার এবং মৌলিক সংস্কার গুলো হচ্ছে কিনা।
আত্মগোপন করেছেন নেতানিয়াহু!
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আজ শুক্রবার ভোররাতে বিমান হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইরনার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত তাঁকে গ্রিসে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজের একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে অধিকৃত এলাকার বাইরে দুটি জঙ্গি বিমানের পাহারায় নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজকে অজ্ঞাত গন্তব্যের দিকে চলে যেতে দেখা গেছে। ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল১২ জানিয়েছে, বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবতরণ করেছে।
শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক সামরিক হামলা চালায়।
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি, খাতাম আল-অনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রশিদসহ অন্তত ২০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।


