Home Blog Page 397

৩ টি দল বাদে বাকি সবাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে: নুরুল হক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক দাবি করেছেন যে, তিনটি রাজনৈতিক দল বাদে বাকি সব দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছে। তিনি নিক্কেই এশিয়া ফোরামে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত একটি বক্তব্যকে ‘সঠিক নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নুরুল হক।

নুরুল হক জানান, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় বলা হয়েছে আগামী ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে তিনি বলেন, “বিএনপিসহ আমরা বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছি। এটাও প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত রোডম্যাপের মধ্যে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যেই তাদের প্রস্তাবনাগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, এখন চাইলে ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন হতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকে তিনটি রাজনৈতিক দল বাদ বাকি সব দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে।” ওই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম জানতে চাইলে নুরুল হক সরাসরি বলতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের ‘বুঝে নিতে’ বলেন।

সংস্কারের বিষয়ে নুরুল হক বলেন, “যে সংস্কারগুলোর বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে, সে সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হোক। সব সংস্কার চাইলে এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু সংস্কার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও কিছু সংস্কারের জন্য সংসদের প্রয়োজন হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সে জন্য আমরা বলেছি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যতটুকু সংস্কার করা যায় সেদিকে হাঁটা উত্তম।”

নুরুল হক নুর আরও বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের কিছু সদস্যকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা আপত্তি তৈরি হয়েছে। ফলে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের এই বৈঠকে গণঅধিকার পরিষদসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই বৈঠকে অংশ নেন।

২ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

সুরমা, কুশিয়ারা, মনুসহ সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ৮ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবারও (৩ জুন) এসব নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার (২ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু নদের পানি সমতল বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদের পানি সমতল আরও বাড়তে পারে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

একই সময়ে সারি, গোয়াইন, যাদুকাটা, ধলাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতলও বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এরপরের দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী এক দিন হ্রাস পেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী ৪ দিন নদ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। এরপরের একদিন নদ-নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অন্যদিকে, গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৫ দিন গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে; তবে উভয় নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।

ঈদে ট্রেনের ফিরতি যাত্রা: ১৩ জুনের টিকিট বিক্রি শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৩ জুন ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদ পরবর্তী ফেরত যাত্রার জন্য ১৪ জুনের টিকিট আগামীকাল ৪ জুন এবং ১৫ জুনের অগ্রিম টিকিট ৫ জুন পাওয়া যাবে। সকাল ৮টা থেকেই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সব টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদযাত্রার সকল টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া, আজ থেকে দেশের অভ্যন্তরে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের ডে-অফ (সাপ্তাহিক ছুটি) প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ঈদযাত্রায় ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, ঈদ অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এই নিয়মাবলী যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কার্যকর করা হয়েছে।

পিএসজির বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে সহিংসতায় নিহত ২

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের বিজয় উদ্‌যাপনকালে ফ্রান্সে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১৯২ জন। এ ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাতে পিএসজি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও আশেপাশের এলাকায় বিজয় উন্মাদনা শুরু হয়। ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানকে হারানোর পর শুরু হওয়া এ উৎসব উদ্‌যাপন একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতায় আজ রোববার সকাল পর্যন্ত ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু প্যারিসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯১ জনকে। তাদের মধ্যে ৩২০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৪ জন প্যারিসের অধিবাসী।

সংঘর্ষ চলাকালে চ্যাম্পস এলিসেস সড়কে কিছু বাস স্টপেজ ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় পিএসজির হাজার হাজার সমর্থক বিখ্যাত এই সড়কে ভিড় করেছিলেন।

১১ বছর পর আইপিএলের ফাইনালে প্রীতির পাঞ্জাব

সবশেষ ২০১৪ সালে আইপিএলের ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব কিংস। অবশেষে ১১ বছর পর আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে পাঞ্জাবের দলটি। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে পাঞ্জাব কিংস। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৩ রানের বিশাল পুঁজি পায় মুম্বাই। লক্ষ্য তাড়ায় শ্রেয়াস আইয়ারের অধিনায়কোচিত ইনিংসে ভর করে ৬ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় পাঞ্জাব।

এদিন টস জিতে প্রথমে মুম্বাইকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাঞ্জাব। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাইয়ের। দলীয় ১৯ রানে রোহিত শর্মাকে হারায় মুম্বাই। তবে এরপর দলের হাল ধরেন জনি বেয়ারস্টো এবং তিলক ভার্মা। দুইজনের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে মুম্বাই। তবে বেয়ারস্টোকে তুলে নিয়ে তাদের ৫১ রানের জুটি ভাঙেন বিজয়কুমার।

এরপর সূর্যকুমারকে নিয়ে ৭২ রানে জুটি গড়েন ভার্মা। এরপর তিন বলের মধ্যে এই দুই ব্যাটারকে হারায় মুম্বাই। দুইজনই ৪৪ রান করে ফেরেন। শেষ দিকে নামান ধীরের ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ২০৩ রানের বিশাল পুঁজি পায় মুম্বাই। পাঞ্জাবের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমারজাই।

২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই প্রভসিমরন সিংকে হারায় পাঞ্জাব। এরপর বড় জুটি গড়ার দিকেই এগোচ্ছিলেন জস ইংলিশ ও আরিয়া। তবে তাদের জুটি বড় হতে দেননি অশ্বনী কুমার। আরিয়ার উইকেট তুলে নেন তিনি। তার কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন অজি ব্যাটসম্যান ইংলিশও। তখন পাঞ্জাবের স্কোর ৭.৫ ওভারে ৭২ রানে ৩ উইকেট।

তখন নেহাল ওয়াধেরাকে নিয়ে এগোতে থাকেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। দুইজনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যটা সহজ হয়ে যায় পাঞ্জাবের জন্য। ওয়াধেরা ২৯ বলে ৪৮ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান আইয়ার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত এক ওভার ও ৫ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় পাঞ্জাব। আইয়ার ৪১ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুম্বাইয়ের হয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন অশ্বনী কুমার।

মঙ্গলবারের একই ভেন্যুতে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দুই দলই এখন পর্যন্ত আইপিএলের শিরোপা জেতেনি। ফলে এবারের ফাইনালে যে দলই জিতবে তারাই হলে আইপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন। এবারের আসরের প্রথম কোয়ালিফায়ারে দুই দলের মুখোমুখি দেখায় জয় পেয়েছিল বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু।

এক নজরে বাংলাদেশের ৫৩টি জাতীয় বাজেট

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার বিকেল ৩টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন।এটি হবে দেশের ৫৪তম বাজেট। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। সংসদ না থাকায় ভিন্ন আঙ্গিকে পেশ হবে এবারের বাজেট।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশনে তাঁর বক্তব্য একযোগে প্রচার করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চলতি বাজেটের চেয়েও ছোট বাজেট দেওয়া হবে। আগামী ২০২৫–২৬ অর্থবছর সরকারি ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

এর আগে সংসদের বাইরে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই বছরের ৯ জুন তখনকার অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সেদিনও ছিল সোমবার। বেলা ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়েছিল মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বাজেট বক্তব্য।

এবার সংসদ না থাকায় সংসদের আলোচনা বা বিতর্কের কোনো সুযোগ থাকছে না। তবে বাজেট ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নাগরিকদের নিকট মতামত চাইবে অর্থ মন্ত্রণালয়। মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আগামী ২৩ জুনের পর যেকোনো একদিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী এক জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট হবে বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রথম বাজেট। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

নিচে ক্রমানুসারে বাংলাদেশের ৫৩টি জাতীয় বাজেট এক নজরে তুলে ধরা হলো। এখানে বাজেটের পরিমাণ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থবছর-উপস্থাপক-মোট বাজেট-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি):

১৯৭২-৭৩- তাজউদ্দিন আহমেদ- ৭৮৬ কোটি টাকা – ৫০১ কোটি টাকা।

১৯৭৩-৭৪- তাজউদ্দিন আহমেদ- ৯৯৫ কোটি টাকা – ৫২৫ কোটি টাকা।

১৯৭৪-৭৫- তাজউদ্দিন আহমেদ- ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা – ৫২৫ কোটি টাকা।

১৯৭৫-৭৬- ড. আজিজুর রহমান মল্লিক- ১ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা – ৯৫০ কোটি টাকা।

১৯৭৬-৭৭- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান- ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা – ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

১৯৭৭-৭৮- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান- ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা – ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।

১৯৭৮-৭৯- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান- ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা – ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

১৯৭৯-৮০- ড. এম এন হুদা- ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা – ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

১৯৮০-৮১ এম সাইফুর রহমান- ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা – ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

১৯৮১-৮২- এম সাইফুর রহমান- ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি- ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা।

১৯৮২-৮৩- এ এম এ মুহিত- ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা – ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

১৯৮৩-৮৪- এ এম এ মুহিত- ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।

১৯৮৪-৮৫- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

১৯৮৫-৮৬- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা – ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।

১৯৮৬-৮৭- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা – ৪ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।

১৯৮৭-৮৮- এম সাইয়েদুজ্জামান- ৮ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

১৯৮৮-৮৯- মেজর জেনারেল মুনিম- ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।

১৯৮৯-৯০- ড. ওয়াহিদুল হক- ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

১৯৯০-৯১- মেজর জেনারেল মুনিম- ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা – ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

১৯৯১-৯২- এম সাইফুর রহমান- ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা – ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৯২-৯৩- এম সাইফুর রহমান- ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা – ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

১৯৯৩-৯৪- এম সাইফুর রহমান- ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা – ৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

১৯৯৪-৯৫- এম সাইফুর রহমান- ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা – ১১ হাজার কোটি টাকা।

১৯৯৫-৯৬- এম সাইফুর রহমান- ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা- ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

১৯৯৬-৯৭- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৯৭-৯৮- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

১৯৯৮-৯৯- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা – ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

১৯৯৯-২০০০- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা – ১২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।

২০০০-০১- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা- ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

২০০১-০২- শাহ এ এম এস কিবরিয়া – ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা – ১৯ হাজার কোটি টাকা।

২০০২-০৩- এম সাইফুর রহমান- ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা- ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

২০০৩-০৪- এম সাইফুর রহমান- ৫১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা- ২০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

২০০৪-০৫- এম সাইফুর রহমান- ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা- ২২ হাজার কোটি টাকা।

২০০৫-০৬- এম সাইফুর রহমান- ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা- ২৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

২০০৬-০৭- এম সাইফুর রহমান- ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা- ২৬ হাজার কোটি টাকা।

২০০৭-০৮- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা- ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

২০০৮-০৯- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা- ২৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

২০০৯-১০- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা- ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

২০১০-১১- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা- ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

২০১১-১২- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা- ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

২০১২-১৩- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা- ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

২০১৩-১৪- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা- ৬০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৪-১৫- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা- ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

২০১৫-১৬- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা- ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

২০১৬-১৭- এ এম এ মুহিত- ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা- ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮- এ এম এ মুহিত- ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা- ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯- এ এম এ মুহিত- ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা- ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯-২০- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা- ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

২০২০-২১- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা- ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

২০২১-২২- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা- ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

২০২২-২৩- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা- ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪- আ হ ম মুস্তফা কামাল- ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা- ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

২০২৪-২৫- এ এইচ মাহমুদ আলী- ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা- ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

তারপর আওয়ামী লীগের চার মেয়াদে সাড়ে ১৫ বছরে আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০ বার, আ হ ম মুস্তফা কামাল পাঁচবার এবং আবুল হাসান মাহমুদ আলী একবার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

নির্বাচিত সরকারের আমলের এসব বাজেট জাতীয় সংসদেই উপস্থাপন করা হয়। পরে মাসজুড়ে সেই প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হত সংসদে। জুন মাসের শেষ দিকে সংসদে পাস হত নতুন অর্থবছরের বাজেট।

নগদের গ্রাহকদের অর্থ ঝুঁকিতে: বাংলাদেশ ব্যাংক

মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ লিমিটেডের গ্রাহকদের টাকা ও তথ্যের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবগুলোর স্বাক্ষরদাতা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক অডিট কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম কেপিএমজি সম্পন্ন করছিল।

প্রকৃত অর্থ জমা ছাড়াই ‘নগদ’ অতিরিক্ত কমপক্ষে ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ইস্যু করেছে। এতে করে ডাক বিভাগ তথা সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সমপরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু রাষ্ট্রের বৈধ মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর আঘাত, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একচেটিয়া অর্থ ইস্যুর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এ ছাড়া অনুমোদনহীন ৪১টি পরিবেশকের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা ‘নগদ’ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, যা মূলত বিভিন্ন সরকারি ভাতা বিতরণের অর্থ ছিল।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানিয়েছে, একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ১৮ হাজার ২৩৩ জন গ্রাহকের হিসাবে বেআইনিভাবে অর্থ পাঠানোর কারণে ‘নগদ’-এর ক্ষতি হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ‘নগদ’ নিয়ে গভর্নরের উদ্দেশে একটি আধা সরকারি চিঠি দেন, যা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতিতে জানানো হয়, ৭ মে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক ও তার দল ‘নগদ’-এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না।

এ সুযোগে মামলার আসামি ও ‘নগদ’-এর সাবেক এমডি তানভীর আহমেদ মিশুক নিজেকে বৈধ এমডি দাবি করে মামলার অন্য আসামি শাফায়েত আলমকে ই-মেইলের মাধ্যমে ‘নগদ’-এর সিইও হিসেবে নিয়োগ দেন। যদিও এতে পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, প্রশাসক দলের ই-মেইল, ফাইন্যান্স ও আইটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, এমনকি ই-মানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ১২ মে থেকে প্রশাসক দল কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম কেপিএমজিকে দিয়ে ‘নগদ’-এর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তাদেরকে কোনো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না, ফলে অডিট কার্যক্রম থেমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ‘নগদ’-এর গ্রাহকদের অর্থ ও তথ্য বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ৪০টিরও বেশি বিমান ধ্বংসের দাবি

রাশিয়ার অভ্যন্তরে চারটি বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার ইউক্রেনের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) এই হামলা চালায়। এতে রাশিয়ার ৪০টি বোমারু বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। খবর সিবিএস নিউজ’র।

ইউক্রেনের এই দাবি সত্য হলে, এটিই হবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রুশ সামরিক ঘাঁটিতে চালানো হামলার মধ্যে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা, যা মস্কোর জন্য এক বড় ধাক্কা।

ইউক্রেন এর আগে এমন হামলা চালালেও তার মাত্রা এত ব্যাপক ছিল না। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা শান্তি আলোচনা শুরুর আগে দিয়ে এই ড্রোন হামলা হল।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউক্রেনের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার ৪০ টির বেশি বোমারু বিমানে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫ এবং টিইউ-২২। দু’টো যুদ্ধ বিমানই ইউক্রেইনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে ব্যবহার করে থাকে রাশিয়া।

অন্যদিকে রাশিয়ার গণমাধ্যম মুরমানস্ক এবং ইরকুটস্ক অঞ্চলের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে। তবে বলেছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তার শেয়ার করা একটি ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে কয়েকটি বড় বোমারু বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এগুলো টিইউ-৯৫ যুদ্ধবিমান বলেই মনে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে খেলতে’ সতর্ক করল চীন

তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে খেলতে’ সতর্ক করেছে চীন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এক মন্তব্যের পর বেইজিং এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হেগসেথ বলেছেন, তাইওয়ানের জন্য একমাত্র হুমকি এশিয়ার শক্তি চীন। সূত্র: আল জাজিরা।

শনিবার (৩১ মে) শাংরি-লা ডায়লগে বক্তব্য প্রদানকালে হেগসেথ তাইওয়ানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য চীনের বিরুদ্ধে এক সম্ভব্য মহড়া চালানোর অভিযোগ করেছেন।

তাইওয়ান একটি পৃথক সরকার শাসিত দ্বীপ হলেও চীন একে নিজেদের অংশ দাবি করে। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে নিজেদের অংশ করে নিতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করারও হুমকি দিয়েছে বেইজিং। তবে তাইওয়ান সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির জনগণই এর ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

হেগসেথের এমন মন্তব্যের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দ্রুতই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বলা হয়েছে, তাইওয়ানের বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ। এজন্য বিদেশি শক্তিকে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ বিষয়ে মন্তব্যে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন এই মন্তব্য এশিয়া প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ‘পাউডার কেজ’ এ পরিণত করতে পারে।

বরিশালে বৈছাআ এর মুখ্য সংগঠকসহ ৩ জনের পদত্যাগ

বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ ৩ নেতা পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনের অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি তাদের। আজ রোববার (১ জুন) রাতে বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই তিন নেতা।

পদত্যাগ করা নেতারা হলেন- জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক হাসিবুল আলম তুরান, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আবিদ ও সদস্য তাহসিন আহমেদ রাতুল।

সংবাদ সম্মেলনে তুরান বলেন, ‘সংগঠনের জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন উদ্দিন সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। তিনি কিছুদিন আগে নগরীতে চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান। এর সঙ্গে আমি জড়িত না। তারপরও আমার নাম জড়ানো হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার না করে মব তৈরি করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত এবং সচেতনতা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে সংগঠনটি। পুরনো রাজনৈতিক ধারায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলা বাণিজ্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি নিজেদের মধ্যে কোন্দলও সৃষ্টি করা হচ্ছে। এখন নারীরা রাস্তায় নামতে ভয় পান। তাদের নানা অপবাদ ও ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এ সব কর্মকাণ্ড জুলাইয়ের শহীদ-আহতদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানির শামিল।’

সংবাদিকাদের প্রশ্নের জবাবে পদত্যাগ করা তিন নেতা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য তারা জুলই আন্দোলনে নিয়েছিলেন। এখন যা হচ্ছে- তাতে মানুষের অভিশাপ নেওয়া লাগছে। অভিশাপমুক্ত থাকতে তারা পদত্যাগ করেছেন।

৩ নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ দলে অপকর্ম হয়ে থাকলে আগে প্রতিবাদ করেননি কেন তারা? আমার কাছে কারো কোনো অপকর্মের প্রমাণ নেই। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেব।’