Home Blog Page 4

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২, সুনামি সতর্কতা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।

গ্যাস সংকট থাকছেই, সামিটের সরবরাহ শুরু এক্সিলারেট বন্ধ

একটি টার্মিনাল চালু হয়েছে, আরেকটি বন্ধ। ফলে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এখনও কাটেনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বন্ধ থাকা সামিট এলএনজি টার্মিনাল গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এর আগেই গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত ১০টা পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি।

সামিটের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানোর কথা। গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছানোর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু এক্সিলারেট কখন চালু হবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে সামিট চালু হওয়ার পরও গ্যাসসংকট কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গত কয়েক দিনের সংকটের পেছনে শুধু বৈরী আবহাওয়াই নয়, সামিটের টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো গ্রহণ না করার ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। সৌদি আরামকোর পাঠানো ‘আলহামরা’ কার্গোটি মহেশখালীর সামিট টার্মিনালে যুক্ত করা হয়নি। টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্গোটি পুরোনো হওয়ায় জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। তাই কার্গোটি গ্রহণ না করে ফেরত পাঠানো হয়।

তবে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র বলছে, ওই জাহাজে ২০২১ সালের দিকে এলএনজি নেওয়া হয়েছিল। ফলে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে কার্গোটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা গেলে গত দুই-তিন দিনের গ্যাস সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ সেই ঝুঁকি নেয়নি।

আরামকোর কার্গোটি ফিরে যাওয়ায় সামিটের মজুত এলএনজি দিয়েই কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার ২০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেওয়া হয় মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল ভিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়। এই কার্গো যুক্ত হলেও তা থেকে টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হতে সময় লাগে। তবে গতকাল রাতের মধ্যেই এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

এদিকে কার্গো যুক্ত হওয়ার পর টার্মিনাল তার মজুত করে রাখা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডে অল্প অল্প করে গ্যাস দেওয়া শুরু করে সামিট।

সামিটে নতুন কার্গো যুক্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ার আশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই স্বস্তি পুরোপুরি মিলছে না।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ৬ আগস্ট একটি বয়লার দিয়ে সীমিত পরিসরে সরবরাহ শুরু হয়েছিল। টার্মিনালটির দুটি বয়লারের প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুরো সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এজন্য পুরো টার্মিনাল প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে আবার কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারেনি এক্সিলারেট।

ফলে সামিটের সরবরাহ বাড়লেও জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রত্যাশামতো বাড়বে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি বিশাল
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুটের ঘরে। বৃহস্পতিবার সামিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে কিছুটা ঘাটতি কমবে। অন্যদিকে এক্সিলারেট বন্ধ থাকায় সেই সুবিধার একটি অংশ আবার কমে যাবে। তাই শনিবার সামিটের সরবরাহ ৫৫ কোটি ঘনফুটে উঠলেও দেশে গ্যাসের ঘাটতি থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তার ওপর নতুন কার্গো সময়মতো আসা এবং সমুদ্রের আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুতেও ভোগান্তি
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ সচল রাখতে গ্যাস দেওয়ায় অন্যান্য খাতে জোগান কমেছে। ফলে গ্যাসের সংকটের সঙ্গে বিদ্যুতের ভোগান্তিও যুক্ত হয়েছে।

তবে শুক্রবার বৃষ্টি ও ছুটির দিনের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। ফলে আগের কয়েক দিনের তুলনায় লোডশেডিং কম হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৮২০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০ মেগাওয়াট। রাত ৮টার দিকে চাহিদা বেড়ে ১৫ হাজার ৬৭৩ মেগাওয়াট হলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২১১ মেগাওয়াটে।
এর আগের দিনগুলোতে ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। ৯ আগস্ট সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট এবং ১১ আগস্ট তিন হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবারও সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট।

নারায়ণগঞ্জে শুক্রবারও কয়েক দফা লোডশেডিং হয়েছে। সিলেটেও গত কয়েক দিনে ৩৫ থেকে ৬৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। গাজীপুরে অবশ্য শুক্রবার বেশির ভাগ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সামান্য।

রাজধানীতে চুলা জ্বলছে না
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় সময় গ্যাসের চাপ থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে চুলা জ্বলছে না, কোথাও রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার কিংবা মাটির চুলা ব্যবহার করছে। কিন্তু গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও স্বস্তি মিলছে না; কারণ সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরা, মিরপুর, আগারগাঁও, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার বাসিন্দারা গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পাম্পে দীর্ঘ লাইন
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। কোথাও ভোররাত থেকে অপেক্ষা করেও কয়েক ঘণ্টা পর গ্যাস মিলছে। আবার অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়েই ফিরতে হচ্ছে চালকদের।

হাজীপাড়া এলাকায় শুক্রবার ভোরে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এক পাশের সারি প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কেউ ১৭৯ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, কেউ আবার ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি গ্যাসও পাননি।

সিলেটেও একই চিত্র। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি গ্যাস না পেয়ে চালকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও সড়কে যানবাহন আড়াআড়ি রেখে প্রতিবাদ করায় তীব্র যানজট হয়েছে, আটকে পড়েছে অ্যাম্বুলেন্সও।

চাঁদপুরে ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে কয়েকটিতে শুক্রবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। হাজীগঞ্জে গ্যাস না পেয়ে চালকরা সড়ক অবরোধ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বুধবার থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের পাশাপাশি পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া থেকে মদনপুরের স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা, কিন্তু এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাঁচপুরের ৩০ টাকার ভাড়াও বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

চালকদের ভাষ্য, ফিলিং স্টেশনে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অনেক গাড়ি রাস্তায় নামানোও সম্ভব হচ্ছে না।

কুমিল্লার হোমনা ও মেঘনাতেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনে। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা এবং ৩০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

সামিট-এক্সিলারেট চালু, গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুরুতে সামিট থেকে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও রাতে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়।

একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দুই টার্মিনাল মিলে এলএনজি থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও যথেষ্ট।

সংকটের পেছনে দুই টার্মিনাল
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট আবার গ্যাস দেওয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।

এখনও অনিশ্চয়তা 
তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে ওই পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি চালু হলে এক্সিলারেটের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জামালপুর গ্যাসের জন্য রাতভর অপেক্ষা, অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ।

বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে অটোরিকশা চালাতে না পারায় আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অটোরিকশাচালক আশরাফুল বলেন, ‘রাতভর অপেক্ষা করেও গ্যাস পাইনি। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাড়ির জমার টাকা জোগাড় করাসহ পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরেক চালক সুরুজ আলী বলেন, গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের কারণে অনেক চালক প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অবরোধের কারণে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল, রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়েছে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

বাবার ইচ্ছাতেই বিশ্বকাপটা খেলেছিলেন মেসি

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত কাটিয়ে ফের খেলায় ফিরেছিলেন। ইন্টার মায়ামির জার্সি গায়ে জড়িয়ে গোলও করেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু কয়েক দিন পরই আর্জেন্টাইন জাদুকর হারান তাঁর প্রিয় বাবা হোর্হে মেসিকে। বাবাকে হারানোর পর বুধবার প্রথম মুখ খোলেন মেসি। বাবাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা লিখেছেন মেসি। যেখানে শুরুতেই লিখেছেন, ‘বাবা, আমি এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না যে তুমি নেই। আর কোনোদিন তোমাকে দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না– এটা ভাবতেই পারছি না। আমি জানি, তুমি অনেক কষ্টে ছিলে আর মুক্তি পাওয়াটাই তোমার জন্য ভালো হয়েছে; কিন্তু তুমি বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের তো একসঙ্গে আরও অনেক কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

বয়স বাড়লেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে খেলার জন্য বাবার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান মেসি, ‘তুমি সব সময় আমাকে এই শেষ বিশ্বকাপটা খেলতে বলতে; কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীরটা বেশি খারাপ হয়ে গেল। এই প্রথমবার এমন হলো যে তুমি কোনো টুর্নামেন্টে থাকতে পারলে না। তবে মা আমাকে বলেছিল, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে আর ট্রাভেল করার মতো অবস্থায় আসবে। আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠব আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারবে।’

অসুস্থতার কারণে মেসির বাবা বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে পারেননি। সেটিও ফুটে উঠেছে মেসির বার্তায়, ‘যা যা ঘটেছিল, সেসব নিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি বলেই আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছিলাম। তুমি তো কিছুই এনজয় করতে পারোনি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি; কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি, সেটি তুমি জানতেও পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে– তোমার সেখানে থাকা আর খেলাটাই দরকার ছিল। আমি তোমাকে এগুলো বলছি কারণ, একমাত্র এই বিষয়টা নিয়েই আমরা কথা বলতে পারিনি, কারণ বাকি সব তো তুমি আগেই জানতে। আমাদের প্রতিদিন কথা হতো, আর আমার ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই আমরা দেখা করতাম।’

যে বাবার কারণে ফুটবলার হয়েছেন, সেই বাবা চলে যাওয়ায় ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত মেসি, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, বুঝতে পারছি না! কীভাবে সামনে এগিয়ে যাব, সেটিও জানি না। আমি তো শুধু ফুটবলই খেলেছি। এখন আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে যে আমি আর বেশিদিন এটি চালিয়ে যেতে পারব কিনা। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুমি আমার পাশে ছিলে। আর একটুখানি সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারলে না কেন, তাহলে তো আমরা একসঙ্গেই শেষ করতে পারতাম? আমি জানি, তোমার আসল আনন্দ ছিল তোমার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে পাওয়া… আর সবার অজান্তে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতে আমাকে খেলতে দেখে।’

ছোটবেলায় হোর্হে নিজের সন্তানকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে যেতেন। শৈশবের সেই কথাও বার্তায় লিখেছেন মেসি, ‘আমি যখন একদম ছোট ছিলাম, তখন থেকেই সবকিছু এমন ছিল। কাজ থেকে বাড়ি ফিরেই তুমি আমাকে সব ট্রেনিং সেশনে নিয়ে যেতে। আর তুমি কাজে ব্যস্ত থাকতে বলে অনেক কিছু আমাকেই মায়ের কাছে নিয়ে যেতে হতো। স্বভাবতই, তুমি আমার একটা ম্যাচও মিস করতে না। আমাকে খেলতে দেখে তুমি যেমন টেনশনে কষ্ট পেতে, তেমনই উপভোগও করতে– যদিও মুখে কখনও খুব একটা প্রশংসা করতে না। তুমি একাধারে বাবা, বন্ধু আর রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলে। প্রতিটি মুহূর্তে তোমার যে রোলে থাকা দরকার ছিল, তুমি ঠিক সেটাই করেছ আর কখনও কোনো ভুল করোনি। কিছুটা রাগারাগি বা ঝগড়াঝাঁটি বাদ দিলে দিনশেষে তুমিই সব সময় ঠিক ছিলে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু তোমার কথামতোই হতো।’

বাকি জীবনে বাবাকে মিস করবেন বলে জানান মেসি, ‘তোমাকে খুব মিস করব, তবে তুমি সব সময় আমাদের মাঝে থাকবে, বিশেষ করে আমার বাচ্চাদের মানুষ করার ক্ষেত্রে। কারণ, তুমি আমাকে যেভাবে শিক্ষা দিয়েছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই গাইড করছি। ওপারে শান্তিতে থেকো বাবা, আর এখান থেকে যেভাবে আমাদের আগলে রাখতে, ওপর থেকেও সেভাবেই খেয়াল রেখো। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’ সামাজিক মাধ্যমে বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তায় মন্তব্য করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, “এই কঠিন সময়ে তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে অনেক বড় একটা আলিঙ্গন। শক্ত থাকো ‘লিও’।”

স্টার্ককে ফিরিয়ে হাসানের ৪ উইকেট, ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

আবারও আঘাত হেনেছেন হাসান মাহমুদ। মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

৪৬.৫ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করেন হাসান। পিচে পড়ে বল কিছুটা বাইরে সিম করায় শরীর থেকে দূরে ব্যাট চালান স্টার্ক। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দী করেন লিটন দাস।

১১ বলে ১ রান করে ফিরেছেন স্টার্ক। ৪৭ ওভার শেষে ১৭৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের শিকার এখন ৪ উইকেট। এক প্রান্তে অবশ্য এখনো দলকে টেনে নিচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ।

হাসানের তৃতীয় শিকার কামিন্স, ৭ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আবারও আঘাত হেনেছেন হাসান মাহমুদ। এবার প্যাট কামিন্সকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন ডানহাতি এই পেসার। এটি তার তৃতীয় উইকেট। ৪৪.৩ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরেবল পেয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কামিন্স। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন লিটন দাস।

১৯ বলে ৯ রান করে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। কামিন্সের বিদায়ে ১৭২ রানে সপ্তম উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। এক প্রান্তে অবশ্য এখনো ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ। ৪৫.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে আছে স্মিথ ও স্টার্ক।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

এবার তাসকিনের আঘাত, ষষ্ঠ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

এবার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আঘাত হানলেন তাসকিন আহমেদ। ৩৮.৩ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফেরালেন বিউ ওয়েবস্টারকে। ১০ বলে ১২ রান করে ফিরেছেন এই অজি ব্যাটার। অফ স্টাম্পের ওপর করা বলটি ভুল লাইনে ডিফেন্ড করতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান ওয়েবস্টার। তাসকিনের ইন সুইং বলে রীতিমতো উড়ে গেছে ওয়েবস্টারের অফ স্টাম্প। ফলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অজিরা। ৩৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে আছে স্মিথ ও কামিন্স।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

ক্যারিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেন এবাদত

প্রথম সেশনে চার উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে ৫০ পেরিয়ে যায় তাদের জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। শর্ট লেন্থের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয় ক্যারির ব্যাটে। বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। অস্ট্রেলিয়া হারায় পঞ্চম উইকেট।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনে স্মিথের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন ক্যারি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুজন। ক্যারি কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও অন্য প্রান্তে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন স্মিথ। পেসারদের দিয়ে শুরু করার পর ইনিংসের ৩০তম ওভারে স্পিনার আক্রমণে আনেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

প্রথম সেশনেই চার উইকেট

ডারউইন টেস্টের প্রথম সেশনটা বেশ ঘটনাবহুলই কাটল বাংলাদেশের। হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতের সঙ্গে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের একটি করে উইকেটে লাঞ্চে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।

হাসান মাহমুদ ২৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাসকিন ২৬ ও ইবাদত ১৭ রানে নিয়েছেন একটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭ রানে অপরাজিত আছেন স্টিভেন স্মিথ।

১২তম ওভারে জ্যাক ওয়েদারেল্ডকে ২৩ রানে ফেরান হাসান। দুই ওভার পর তার বলে বোল্ড হন ট্র্যাভিস হেড, করেন ২২ রান। সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে চতুর্থ সাফল্য এনে দেন তাসকিন। এর আগে এবাদতের বলে জীবন পেয়েছিলেন স্মিথ, স্লিপে তার ক্যাচ মিস করেন তানজিদ হাসান তামিম।

প্রথম সেশনেই দুটি রিভিউ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। হেডের বিপক্ষে এবাদতের বলে নেওয়া প্রথম রিভিউয়ে বল অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। পরে স্মিথকে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলতে নেওয়া রিভিউতেও আল্ট্রা এজে বল ব্যাটে লাগার প্রমাণ মেলেনি। ক্যাচ মিস ও দুটি রিভিউ নষ্ট হলেও চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম সেশন শেষে স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ।

দায়িত্ব ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি আগস্ট মাসের শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী লেভিট।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানানোর পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেভিট সিদ্ধান্তটিকে ‘মিশ্র অনুভূতির’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানা জন্মের পর হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনে ফিরে এসে তিনি বুঝতে পারেন, একই সঙ্গে দুই ছোট সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।

লেভিট বলেন, ‘প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে যে পরিমাণ সময়, শক্তি ও মনোযোগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্য ভালো মা হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই হোয়াইট হাউস ছেড়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লেভিটের দুই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।’

লেভিটের পদে কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। তবে লেভিটের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও তাঁর সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, লেভিট তাঁর অন্যতম প্রধান বাহ্যিক উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিজয়ের লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন লেভিট। এর আগে তিনি ট্রাম্প-সমর্থক সুপার প্যাক ‘মাগা ইনক’-এর মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেন।

২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে জয় পেলেও মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছেন লেভিট। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক প্রেস সেক্রেটারিদের তুলনায় লেভিট সংবাদ সম্মেলন করেছেন তুলনামূলক কম। তবে ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে প্রচার এবং ডেমোক্র্যাট ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় তাঁকে নিয়মিত ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

চাঁদের আড়ালে হারিয়ে গেল সূর্য, কোটি মানুষের চোখে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রজন্মের অন্যতম সেরা ও নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছেন। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এ সূর্যগ্রহণে যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে দেখা যায়। তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা গেছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে শুরু হওয়া এ সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মানুষের ভিড় জমে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের অনেক মানুষ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চাঁদের ধীরে ধীরে সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার দৃশ্য উপভোগ করেন। উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকলেও সূর্যগ্রহণ দেখতে মানুষের আগ্রহে কমতি ছিল না।

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে উত্তর স্কটল্যান্ড থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা দক্ষিণের দিকে এগিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দেশটির বেশিরভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে। কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে। ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্য থেকে দেখা এটিই ছিল সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ।

তবে আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দৃশ্য ছিল আরও অসাধারণ। সেখানে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় সরলরেখায় অবস্থান করায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অনেকটাই কমে গিয়ে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে। পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের করোনা বা বাইরের উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডল দৃশ্যমান হয়।

চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও এ দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আ কোরুনিয়ায় যান। পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই উল্লাস করছিলেন এবং অসাধারণ দৃশ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়। এবারের গ্রহণে যুক্তরাজ্যের মানুষ আংশিক গ্রহণ দেখলেও স্পেনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রাস দেখা গেছে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে গড়ে প্রতি ১৮ মাসে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ খুবই বিরল। একই এলাকায় গড়ে প্রায় ৪০০ বছর পর পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার এক বিশেষ সময় আসছে। এ সময়ে সূর্যগ্রহণপ্রেমীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে একাধিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।

তবে যুক্তরাজ্য থেকে শিগগির পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ নেই। ২০২৭ সালে দেশটির কিছু এলাকা থেকে একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।

এরপর আরও বড় সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ২০৮১ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দেশটির কিছু এলাকা থেকে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়ার দৃশ্য দেখা যেতে পারে। আর যুক্তরাজ্য থেকে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে সর্বশেষ ১১ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম।

স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ৫ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।

গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।

এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

গ্যাসে বড় ধাক্কা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।

দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।

সিএনজি স্টেশনে চাপ
পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর সামান্য টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও।

কয়লা ও আমদানিতে টান
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পটুয়াখালীর নোরিংকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াট কমে এখন মিলছে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট কমে উৎপাদন হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ আমদানির ঘাটতি। জাতীয় গ্রিডের কারিগরি ও কয়লা সরবরাহ সমস্যার কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কমে আমদানি হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট।

পল্লি এলাকায় দুর্ভোগ বেশি
দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

শহর-গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র
জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির চাপ পড়েছে রাজধানী ও আশপাশ এলাকাতেও। কেরানীগঞ্জে সকাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল বেলা ১১টায় যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ আসে। দুপুর ২টায় আবার গিয়ে ফেরে বিকেল ৪টায়। সন্ধ্যায় গিয়ে আসে রাত সাড়ে ৮টায়।

ঢাকার উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগে গতকাল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরেছে দুপুর ১২টার পর। পান্থপথেও দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে তা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। নরসিংদীর রায়পুরায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং সাভারে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোতেও সংকট তীব্র। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর একটি কারখানার উৎপাদন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে প্রায় আট ঘণ্টা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে মঙ্গলবার ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল সাত মেগাওয়াট।

শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোনো কোনো দিন ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় লোডশেডিং হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জেলা শহরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সেখানে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট।

নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ মিলেছে প্রায় অর্ধেক।

ক্ষোভে হামলা, নিরাপত্তা চায় ৮০ সমিতি
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও পাবনায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা হয়। এতে লাইনম্যান আব্দুল লতিফ মারধরের শিকার হন।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। লোডশেডিংয়ে অভিযোগে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করেন কয়েক শ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে গালাগাল, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ
সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ১২ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

সমাধান কোন পথে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। মালয়েশিয়া থেকে অন্তত এক এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সংকট কমাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে নেয়নি। তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। ফলে যে সংকট একদিন না একদিন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন সামনে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করতে হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।