Home Blog Page 400

কমল ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি : সরকারিতে ৫০, বেসরকারি ৩০০ টাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা (এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম) করানোর জন্য ৫০ টাকা রাখা হবে, যা গত বছরের অর্ধেকেরও কম। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিসিয়াল নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই ফি নীতিমালা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু শনাক্তের প্রধান পরীক্ষা এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএমের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে, এর বেশি নয়। এছাড়া, সিবিসি পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সরকারি হাসপাতালে এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করায়, ডেঙ্গু পরীক্ষা আগের ১০০ টাকার চেয়ে অর্ধেক কম মূল্যে করানো যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি ফি নেওয়া যাবে না। যদি কোথাও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় যেকোনো জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ রোগীদের আর্থিক বোঝা কমানো এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাহরাইনের জালে ৭ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

ইয়াংগুনে এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘সি’তে ২ জুলাই স্বাগিতক মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাহরাইন বেশ এগিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে ঋতুপর্না চাকমা-শামসুন্নাহাররা। ১২৮ নাম্বারে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বিভাগেই পেরে ওঠেনি ৯২তম স্থানে থাকা বাহরাইন।

ম্যাচের ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র দলকে প্রথম এগিয়ে নেন। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের লম্বা ক্রস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে চোখে লেগে থাকার মতো গোল করেন তিনি। বাঁ পায়ের চিপ শটে জালে পাঠান বল।

এরপর ১৬ মিনিটে ঋতুপর্না চাকমার গোলটিও দেখার মতো ছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করা সেই গোলটির রিপ্লে দেখান তিনি। ৪০ মিনিটে লিড ৩-০ করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তহুরার জোড়া গোলে ৫-০ গোলে শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে বাহরাইন কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করলেও ৬০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে দলটি। ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে বাহরাইনের বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মুনকি আক্তার। শেষ দিকে অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ৮-০ ব্যবধানের জয় হতে পারতো।

মহররম মাসের ফজিলত ও আমল

হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী শরিয়তে এই মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত ও বরকতময় মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এর অসাধারণ ফজিলত বর্ণিত আছে। মহররম মাস শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এটি ইবাদত, তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনার এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে নফল রোজা ও ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা মুমিনদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য পথ খুলে দেয়। আসুন, এই সম্মানিত মাসের বিশেষ কিছু ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

পবিত্র কোরআনে মহররমকে ‘আরবাআতুন হুরুম’ বা সম্মানিত চার মাসের অন্যতম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল, যা এর পবিত্রতা ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহররম মাসের রোজাকে রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হচ্ছে- আল্লাহর মাস ‘মুহররম’-এর রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হচ্ছে- রাত্রিকালীন নামাজ।” (সহিহ মুসলিম, ১১৬৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহররম মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস বলেও অভিহিত করেছেন। যদিও সকল মাসই আল্লাহর, তবে এই নামকরণ মহররমের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। যেমনভাবে পৃথিবীর সব ঘর আল্লাহর হওয়া সত্ত্বেও কেবল কা’বাকে ‘বাইতুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। এই বিশেষ সম্পর্ক মহররম মাসে অধিক রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।

মহররম মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এই মাসের সঙ্গে তওবা কবুলের ইতিহাস জড়িত। একটি হাদিসে এসেছে, আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি রমজানের পর রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১/১৫৭)

মহররমের রোজার মধ্যে আশুরার (১০ই মহররম) রোজার ফজিলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।” (সহিহ বুখারি: ১/২১৮)

এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অসাধারণ সুযোগ। এই সময়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা এবং কৃত গুনাহের জন্য তওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।

অজান্তেই শরীরে ঢুকছে ডায়াবেটিস, লক্ষণগুলো দেখা দেয় ঘুমের মধ্যেই

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এই চারটি বিষয় সরাসরি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে অনেক সময় দিনের বেলা যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়, তার কিছু নিঃশব্দ বার্তা আমাদের ঘুমের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

ঘুমের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে, সেগুলো হলো:

১. ঘুমিয়ে উঠেও ক্লান্তিভাব: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি শরীর চাঙ্গা না লাগে এবং দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে তা শরীরে ইনসুলিন কার্যকারিতার ব্যাঘাতের লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসে শরীর সঠিকভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ঘুমের পরও সতেজ অনুভব হয় না।

২. ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম: রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে বা ঘামিয়ে ঘুম ভেঙে গেলে সেটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া) লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাম স্বাভাবিক ঘটনা নয় এবং অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব পেয়ে ঘুম ভাঙা: রাতের বেলা বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের একটি প্রচলিত লক্ষণ। উচ্চমাত্রার রক্তশর্করা শরীরকে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দিতে বাধ্য করে, যার ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যেতে পারে।

৪. ঘুমের মধ্যে তীব্র পিপাসা অনুভব: ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যা ঘুমের মাঝেই তীব্র পিপাসা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

৫. হাত-পায়ে ঝিমঝিম বা অসাড়তা: ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ু ক্ষতির (ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি) কারণে রাতে ঘুমানোর সময় হাত-পায়ে ঝিমুনি, অস্বস্তি বা অসাড়ভাব অনুভূত হতে পারে।

এই ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা—যেমন: নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করার অভ্যাস—টাইপ-টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। রোববার (২৯ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দিনের মত রোববার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করন। কার্যালয় খোলা থাকলেও কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন। এতে আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু পরীক্ষণ শুল্কায়ন আউটপাশ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এক শ্রমিক জানান, দুদিন হলো স্যারদের আন্দোলন চলছে। এখনো সমাধান হয়নি। ফলে গতকাল থেকে আমরা কোনো কাজ পাচ্ছি না।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও ক্লিয়ারিং না পাওয়ায় ট্রাকগুলো আটকা পড়ে আছে।

একজন উপদেষ্টা আওয়ামী এমপির মতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত : মির্জা ফখরুল

মুরাদনগরের বাসিন্দা উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লা জেলাধীন মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক নারীকে শ্লীলতাহানী ও নির্যাতনের এক নির্মম কলঙ্কজনক ঘৃণ্য ঘটনা।

এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের মানুষকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। অথচ একটি কুচক্রী মহল এই কাপুরোষিত ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নিজেরাই সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ী দখল ও নির্যাতন করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।

তিনি বলেন, ওই এলাকার একজন উপদেষ্টা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুরাদনগরে ক্রমাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।

দুস্কৃতিকারিরা আশকারা পেয়ে সমাজবিরোধী নানা অপকর্মে মেতে উঠেছে। আর এ ক্ষেত্রে তারা দেশ-বিদেশ থেকে অবিরাম মদত পাচ্ছে। উপদেষ্টা যদি জনসেবার চেয়ে আত্মসেবাতেই ব্যস্ত থাকেন তাহলে এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত হবে। মুরাদনগরের বাসিন্দা উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, মুরাদনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীর শ্লীলতাহানী ও সহিংসতা মনুষ্যত্বহীন, অমানবিক, পাশবিক ও মহল বিশেষের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের অভিসন্ধি। আবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার আওয়ামী নোংরা কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। হাসিনার পতনের পরেও আমাদের চিরচেনা সেই সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে না এনে বরং বিনষ্ট করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। এদিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা অর্থবিত্তে সজ্জিত।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নারী নির্যাতনসহ সহিংস সন্ত্রাসের গোপন অভিযান চালিয়ে উদোরপিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য তারা বিপজ্জনক গোপন অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

শক্তিশালী পক্ষের আশির্বাদ আছে বলেই দুর্বৃত্তরা সহিংস কার্যাবলী চালাতে উৎসাহিত হচ্ছে। তবে সত্যের জন্য, সম্মানের জন্য ও আত্মমর্যাদার জন্য ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলকে দুস্কৃতিকারি পাষণ্ডদের প্রতিহত করতে হবে সুস্থ সমাজ ও নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য।

তিনি আরো বলেন, নারী নির্যাতনকারী অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। তারা মানবসভ্যতার শত্রু, আমি অবিলম্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনকারী দুস্কৃতিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

আ. লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতাকে বেধড়ক মারধর

আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে দলের নেতা-কর্মীরা বেধড়ক মারধর করে লাঞ্ছিত করেছে। এসময় আতাউর রহমানের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পা ভেঙে দেওয়া হয়।

রোববার বেলা ১ টায় বন্দরের ২৭ নাম্বার ওয়ার্ডের হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে সোনারগাঁও বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের দিকে। বজলুর রহমান সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের অনুসারী।

স্থানীয়রা জানায়, ৪১২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হরিরামপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কারে শ্রমিক নিয়োগের টেন্ডার পেয়ে দুপুর একটার দিকে সেখানে কয়েকজন পুলিশসহ সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল ও তাঁর লোকজন যায়। এ সময় তারা গাড়ি থেকে নামার পরপরই সেখানে থাকা সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমানসহ লোকজন তাঁকে গালমন্দ করে মারধর শুরু করে। এ সময় আতাউর রহমান মুকুলের জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় পা। এ সময় সেখানে থাকা পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়ে মুকুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করায়। পরে তাঁকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

আহত সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল অভিযোগ করে বলেন, ‘বন্দরের হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক সরবরাহের একটি টেন্ডার আমরা পেয়েছি। আজকে এই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার সিগনেচার করার শেষদিন ছিল। এখানে ঝামেলা হতে পারে এই চিন্তা করে আগেই থানায় জিডি করে রাখি ও সাথে চারজন পুলিশ নিয়ে হরিপুর আসি। গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতা বজলু ও তাঁর ৪০/৫০ জন লোক আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা মারধর করে আমার জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। সেখানে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকেও তারা মারধর করে।’

অভিযোগের বিষয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ‘২৭ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দোসর আলাউদ্দিন একটি ঠিকাদারি নিয়েছে। তাঁর পক্ষ নিয়ে মুকুল আসছেন কাজ করতে। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে হেনস্থা করেছে। আমার এই বিষয়ে কিছু জানা নেই।’

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কাজ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় ওসি।

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার বিরুদ্ধে ‘কঠিন’ ব্যবস্থা নিল ইরান

তীব্র সংঘাতময় ১২ দিন শেষে অবশেষে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সংঘাতের মূল কারণ ছিল ইরানের পরমাণু উন্নয়ন কর্মসূচি। মূলত, ইরানের পরমাণু উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইসরায়েল ইরানের ওপর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এরপর ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। একপর্যায়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলে। এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে আপাতত এই সাময়িক শান্তি উভয় পক্ষের জন্যই স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

টানা ১২ দিনের এ সংঘাত চলাকালীন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা— আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ইরান। এ অবস্থায় সংস্থাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছেন, আর ইরানে ঢুকতে দেওয়া হবে না জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে। একইসঙ্গে ইরানি পরমাণু স্থাপনাগুলোতে নজরদারি ক্যামেরা বসাতেও দেওয়া হবে না সংস্থাটিকে।

রোববার ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময় এলো, যখন ইরান ও আইএইএ-এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

অবশ্য মাত্র কয়েকদিন আগেই ইরানের পার্লামেন্ট এক আইন পাস করেছে, যেখানে আইএইএ-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর পেছনে রয়েছে গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ওই দিন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে কমপক্ষে ৬০৬ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৩৩২ জন আহত হয়েছেন।

জবাবে ইরানও ইসরায়েলের ওপর মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের দেওয়া তথ্যমতে, এতে কমপক্ষে ২৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত গত ২৪ জুন থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

নরওয়ের যুবরাজের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

নরওয়ের যুবরাজের ছেলের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণসহ ২৩টি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসি সূত্র মতে, নরওয়ের ভবিষ্যৎ রাজার এই সৎছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে এর আগে গত বছর তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ মাস তদন্তের পর নরওয়েজিয়ান পুলিশ এখন মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ এবার তারাই ঠিক করবেন বলে জানান পুলিশ অ্যাটর্নি আন্দ্রেয়াস ক্রুসজেউস্কি।

হোইবির আইনজীবী পেটার সেকুলিক বলেন, তার মক্কেল অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে যৌন নির্যাতন এবং সহিংসতার অভিযোগসহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তিনি কোনো দায় স্বীকার করেননি।

২৮ বছর বয়সী এই যুবক কোন রাজকীয় পদবি বা সরকারি দায়িত্বে নেই। গত বছর একটি হামলা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপরই একের পর এক নারী নির্যাতনের তথ্য সামনে আসতে থাকে তার বিরুদ্ধে।

অসলো জেলা পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, তারা বিপুলসংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষাৎকার, তল্লাশি এবং ডিজিটাল উপাদান পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। আইনি সীমাবদ্ধতা ও প্রমাণের অভাবে যৌন অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

ক্রুসজেভস্কি বলেন, নিশ্চিত না হয়ে মামলায় নির্যাতিতের প্রকৃত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তবে সংখ্যাটি দুই অঙ্কের।

নরওয়ের রয়েল হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।

এনবিআরের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা এনবিআরের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার (২৯ জুন) রাতে এ ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

জানা গেছে, সরকারের কমিটি গঠন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ রবিবারও চলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি’। রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার রোধ ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে  আন্দোলনকারীরা আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন তারা। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম।