Home Blog Page 402

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের যেসব জায়গায় হচ্ছে ঈদুল আজহা উদযাপন

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী জেলার বেশ কিছু গ্রামের মুসল্লিরা আজ শুক্রবার থেকে ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল থেকে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। অন্যদিকে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের আরেক পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল, মাদরাসা মাঠ, সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ ১২টি ঈদগাহ মাঠে এবং উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর বেপারী বাড়ি জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর ঢালী বাড়ি মসজিদ, দক্ষিণ বলাখাল হাজী বাড়ি, দক্ষিণ বলাখাল স্কুল বাড়ি, পাঁচানী দরগাম মসজিদ, পূর্ব পাঁচানী সরকার বাড়ি, দেওয়ানজিকান্দি প্রধানিয়াবাড়ী মসজিদ, সাড়ে পাঁচানী প্রধানিয়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা ভেন্ডরবাড়ী মসজিদ, পাড়ে পাঁচানী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ১৮টি জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্ব-স্ব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে ধর্মীয়রীতি অনুযায়ী তারা পশু জাবাই করেন।

লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে আজ শুক্রবার ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও সদর উপজেলার বশিকপুরসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি এই ঈদুল আজহা উদযাপন করে।

সকাল ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ও নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ইদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় ঈদের নামাজের অনেকগুলো জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ইমামতি করেন মাওলানা রুহুল আমিন।

জানা গেছে, এসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি পৃথক পৃথকভাবে স্ব স্ব ঈদ গাঁ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। মাওলানা ইসহাক (রা.) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।

পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী কলাপাড়ায় সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন আগাম ঈদুল আজহা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় কলাপাড়ার উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ্সূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের নাইয়াপট্রি জামে মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ দুই মসজিদে অনুষ্ঠিত নামাজে সবচেয়ে বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

কোরবানির পশুকে কষ্ট দেবেন না

কোরবানির পশু মানুষের মতোই প্রাণী। আমাদের যেমন প্রাণ আছে, আমাদের যেমন দুঃখ-কষ্ট ও আনন্দ-বেদনা আছে! কোরবানির পশু তথা গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষ ইত্যাদিরও কিন্তু দুঃখ-কষ্ট ও আনন্দ-বেদনা রয়েছে। আছে অনুভব, ক্লান্তি ও ব্যাথা। গরু-ছাগলেরও বুদ্ধি আছে কিন্তু জ্ঞান নেই, অমানবিক আচরণে গরু-ছাগল ও পশু-পাখি কাঁদে, কষ্ট পায়।

আমাদের ধর্ম ইসলাম কোনো পশুকে অপ্রয়োজনীয় ও অমানবিক কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং অপ্রয়োজনে কোরবানির পশুর পায়ে রশি বাঁধা, পশুর ঘাড় মুচকানো এবং জবেহ করার পর পশুর নড়াচড়া বন্ধ হওয়ার পূর্বে চামড়া ছাড়ানো বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, জবেহ বা কোরবানির পূর্বে গরু-ছাগলের প্রতি ভালো আচরণ করা এবং পশুর যত্ন নেওয়া আমাদের জন্য জরুরি।

আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতিটি বস্তুর প্রতি অনুগ্রহ করা আবশ্যক করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন কাউকে হত্যা করবে উত্তম পন্থায় হত্যা করবে, আর তোমরা যখন কোনো পশুকে জবাই করবে উত্তম পন্থায় জবেহ করবে। তোমরা জবেহ করার পূর্বে ছুরিকে শাণিত করে নেবে এবং যতটুকু সম্ভব পশুকে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।’ -সহিহ মুসলিম: ১৯৫৫

হাদিস শরিফে আরও এসেছে, ‘তোমাদের কেউ যখন পশু জবেহ করে, সে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং পশুর সামনে থেকে তা আড়ালে রাখে এবং সে যেন তার জবেহের পশুকে স্বস্তি দেয়।’ -ইবনে মাজাহ: ৩১৭২

মনে রাখতে হবে, আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য সন্তানের জায়গায় পশু কোরবানির বিধান দিয়েছেন, বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে কোরবানির পশুকে যত্ন করা দরকার।

দেখবেন, কোরবানির পশুকে আদর করলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে না। অবুঝ শিশুদের সঙ্গে মানুষ যেভাবে কথা বলো, কোরবানির পশুর সঙ্গেও সেভাবে কথা বললে, সেও আপনার মনের কথা বুঝবে অথবা বুঝার চেষ্টা করবে এবং চোখের চাহনি বা মাথা নেড়ে কথার উত্তর দেবে।

মানুষের সঙ্গে পশুদের ভালোবাসা আদিম, আদিমতম। প্রিয় মনিবের জন্য পশুর আত্মাহুতি আর প্রিয় পশুর জন্য মানুষের মন ভাঙা আর অশ্রুসিক্ত হওয়া নতুন নয়। প্রতিবছর কোরবানিতে অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়- পশু বিক্রির পর বিক্রেতা কান্না করছেন। পোষা পশুকে অন্যের কাছে তুলে দিতে বুক ফেঁটে যাচ্ছে।

পোষা বা প্রিয় প্রাণীর ওপর মানুষের মমত্ববোধের প্রায় সব কাহিনিই মানবিক। আর এ ধরনের দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে কোরবানি ঈদ এলে। প্রতিবছর এ দেশে লাখো পশু কোরবানি হয়। আর এর অধিকাংশ পশুই তার মালিকের প্রিয় বনে যায়। নিয়মিত দেখভাল করার কারণে একসময় অবলা এই প্রাণীগুলোর প্রতি মানুষের এক অকৃত্রিম মমত্ববোধ জন্ম নেয়।

তাই শেষ অনুরোধ, পশুর সঙ্গে ‘পশুর’ মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন। পশু বিরক্ত হয় এমন কাজ করবেন না।

ট্রাম্প অকৃতজ্ঞ, আমি না থাকলে নির্বাচনে হেরে যেতেন: মাস্ক

সরকারি একটি বিলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রীতিমতো ঝগড়া শুরু হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সেই সঙ্গে মার্কিন এই ধনকুবের ব্যবসায়ী-শিল্পপতি দাবি করেছেন যে তিনি যদি আর্থিক সহায়তা না দিতেন— তাহলে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যেতেন ট্রাম্প।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মাস্ক বলেন, “আমি না থাকলে ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে যেতেন, রিপ্রেজেন্টেটিভের (মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ) নিয়ন্ত্রণ থাকত ডেমোক্র্যাটদের দখলে আর সিনেটে (কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ) রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটদের অনুপাত থাকত ৫১-৪৯।”

“কী অকৃতজ্ঞতা!“

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠতার শুরু ২০২৪ সালের জুলাই থেকে। সে সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছিল। রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রচারণা সভায় তখন মাস্ককে নিয়মিত দেখা গেছে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিলে কমপক্ষে ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার চাঁদা দিয়েছেন মাস্ক।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ নেওয়ার পর সরকারি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সরকারি ব্যয় সংকোচন করতে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি বা ডজ নামের একটি দপ্তর খোলে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই দপ্তরের প্রধান করা হয় মাস্ককে।

মাস্ক ডজের প্রধান নির্বাহী হওয়ার পর কয়েক মাস ধরে সরকারি অর্থ অপচয় রোধের নামে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও বিভাগের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়, স্থগিত করা হয় প্রায় সব ধরনের বৈদেশি সহায়তা প্রদান, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থাতেও সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনপ্রিয়তা কমতে থাকে ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একাধিক আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চাকরিচ্যুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ সহায়তা প্রদান স্থগিত করায় দেশের ভেতরেও সমালোচনায় বিদ্ধ হতে থাকে ট্রাম্প প্রশাসন।

মাস্কের নিয়োগ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের এমপিদের একাংশ এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির নেতা-কর্মীদের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিলেন। কংগ্রেস এখনও ডজকে সরকারি বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল মাস্কের। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বিল স্বাক্ষরকে ঘিরে নতুন তিক্ততার সৃষ্টি হয় ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে।

গত মাসে কর হ্রাস সংক্রান্ত ‘জনকল্যাণমূলক’ বিলে অনুমোদন দেওয়ার পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘এটি একটি বড় এবং সুন্দর বিল’ (ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট)। তার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

মাস্ক দাবি করেন, তিনি এবং তার সহকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে থেকে এত দিন ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয়’ কমাতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেসব ব্যর্থ হয়ে যাবে ওই একটি বিলের কারণে। বিলটি তাকে দেখানোর আগেই ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসে পাশ করানোর জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন মাস্ক।

সরকারি বিল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে বর্তমান ডজ তথা মার্কিন প্রশাসন থেকে বিদায় নেন মাস্ক। ট্রাম্প এই বিদায়কে স্বাগত জানান।

এদিকে সরকারি পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বিলটি বাতিলের জন্য আরও তৎপর হয়ে উঠেছেন মাস্ক। আটকানোর জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জনগণকে মাঠে নামার আহ্বানও জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী-শিল্পপতি।

মাস্কের এ আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় তিনি ব্যক্তিগত কারণে এ বিলের বিরোধিতা করছেন। কারণ পর্যায়ক্রমে কর সংস্কারের এ বিলের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে তার মালিকানাধীন কোম্পানি টেসলার ওপর।”

আইসিসির ৪ বিচারকের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চার বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

যুক্তরাষ্ট্রও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অবৈধ পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কো রুবিও। খবর রয়টার্সের

বিবৃতিতে বলা হয়,‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এখন আর নিরপেক্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তারা ভুলভাবে দাবি করছে যে, তাদের এমন সীমাহীন ক্ষমতা আছে, যার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো তদন্ত ও বিচার চালাতে পারে। এই বিপজ্জনক দাবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্রদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।’ এই মিত্রদের মধ্যে যে ইসরায়েলও অন্তর্ভুক্ত- তাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া চার বিচারক হলেন- উগান্ডার বালুঙ্গি বোসা, পেরুর লুজ ডেল কারমেন ইবানেজ, বেনিনের রেইনি আদেলাইদে সোফিয়া আলাপিনি গানসোউ এবং স্লোভেনিয়ার বেতি হোলার। নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই বিচারকদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পত্তি ও আর্থিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। এই লেনদেনের মধ্যে অর্থ, পণ্য বা সেবা প্রদানও অন্তর্ভুক্ত।

সরকার চাইলে জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিতে পারত: সালাহউদ্দিন আহমেদ

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছেন তাতে জাতির আশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার রাতে তিনি মন্তব্য করেন। 

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করা হয়েছে তাতে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ৫০ এরও অধিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। সরকার চাইলে সর্বোচ্চ জানুয়ারি মধ্যে নির্বাচন দিতে পারত, তবে যেটা করা হয়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি যে আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।’

জুলাই সনদ প্রনয়ণ করলে নির্বাচনে এনসিপির দ্বিমত নেই: নাহিদ ইসলাম

এই কমিশনের অধীনে এনসিপি নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৬ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে এ মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। জনমতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে জুলাই সনদ প্রনয়ণ করলে নির্বাচনে এনসিপির কোনো দ্বিমত নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি দলের চাপ প্রয়োগের কারণেই প্রধান উপদেষ্টা এই সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। সব ধরনের নির্বাচনী আশঙ্কা বা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য একটা সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি গাড়িতেই গরু নিয়ে গেলেন ইউএনও

সভায় যোগ দিতে সরকারি গাড়িতেই রাজশাহী এসেছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। সভা শেষ করে সোজা হাটে গিয়ে তিনি কোরবানির গরু কিনেছেন। তারপর সেই সরকারি গাড়িতেই তুলে নিয়ে গেছেন গরু। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে আমের কেনাবেচার সময় আড়তদারদের বাড়তি ওজন নেওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভা ছিল। এ সভায় এসেছিলেন বাগাতিপাড়ার ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। তিনি এখন বাগাতিপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনারেরও (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ডাবল কেবিন পিকআপ নিয়েই তিনি সভায় আসেন। সভা শেষ হয় দুপুরে। এরপর রাজশাহীর সিটিহাটে গিয়ে তিনি কোরবানির জন্য একটি গরু কেনেন। সেই গরু তিনি গাড়ির পেছনের কেবিনে তুলে নেন। আর সামনের কেবিনে বসেন ইউএনও। এভাবে তিনি সরকারি গাড়িতে রাজশাহী থেকে গরু নাটোর নিয়ে যান।

জানতে চাইলে ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, ‘আমার বাগাতিপাড়া উপজেলায় কোনো পশুহাট নেই। আমাকে বাগাতিপাড়াতেই ঈদ করতে হচ্ছে। একটা কোরবানি তো দিতে হবে। আশপাশে খোঁজ নিয়েও আমি গরু পাইনি। তাই মিটিং শেষ করে আসার সময় দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের মাঝারি আকারের একটা গরু রাজশাহী থেকেই কিনে এনেছি।’

সরকারি গাড়িতে গরু ওঠানো ঠিক হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো গাড়িতে অবৈধ কিছু তুলিনি। একটা গরু, গাড়ির পেছনের কেবিনে জায়গা ছিল। তাই তুলে নিয়েছি। আমরা তো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় অনেক কিছুই জব্দ করে গাড়ির ওই জায়গাটাতে তুলে আনি। কিন্তু গরু আনার কারণে নানা কথা শুরু হয়েছে।’

তবে গাড়িতে গরু পরিবহনের কাজটি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক না, এটা নিন্দনীয়। এটা আমরা আশা করি না। এ বিষয়ে একটু খোঁজখবর নেব। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এমন না করেন।’

জুলাই মাসে ঘোষিত হবে ‘জুলাই সনদ’: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসেই সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে আমরা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারবো বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব ও অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা একটি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তারা আমাকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানায়। আমি বলেছিলাম, দেশের সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে সকলে মিলে এ ঘোষণাপত্র দেওয়া ভালো হবে। সেই প্রেক্ষিতেই আমরা ‘জুলাই সনদ’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তাঁর ভাষ্যমতে, এই ‘জুলাই সনদ’ একটি প্রতিশ্রুতি, যেখানে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়েছে, তার তালিকা থাকবে। এই সনদে স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক দলগুলো জাতির কাছে সেসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী আশু করণীয় সংস্কার কাজগুলো আমরা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাকি অংশের অনেক কাজও আমরা শুরু করে যেতে চাই। আশা করি, নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাকি কাজগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

বেঙ্গালুরুরে নিহত পরিবার ও আহতদের পাশে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স

বিরাট কোহলিদের ১৮ বছরের স্বপ্নপূরণের একদিন না যেতেই হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হলো পুরো ভারত। আইপিএলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় কর্ণাটকের রাজ্য সরকার ও আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নিহত হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য ‘আরসিবি কেয়ারস’ নামে একটি ফান্ড গঠনের কথাও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

গতকাল বেঙ্গালুরুতে চিন্নাস্বোয়ামী স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন করেছেন কোহলিরা। আর তাতে যোগ দিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১১ জন মারা যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন পঞ্চাশের অধিক।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মামলা করল পুলিশ

বিরাট কোহলি দীর্ঘ ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন ঠিকই। কিন্তু এই শিরোপার আনন্দ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু করবে কী, উল্টো মামলার মুখে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

কোহলিদের দল বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মামলা করেছে তাঁর শহরের পুলিশ। নেপথ্যের কারণটাও সবার জানা। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বোয়ামী স্টেডিয়ামে বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অর্ধশতাধিক। এই ঘটনায় কর্ণাটকের রাজ্য ক্রিকেট বোর্ড, ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট ও আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

এই মামলার দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে মন্ত্রী সভায় আলোচনা চলছে। পুলিশ পাঁচটি ধারায় এই মামলা দায়ের করেছে। কর্নাটক সরকার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে সেই তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নিহত হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য ‘আরসিবি কেয়ারস’ নামে একটি ফান্ড গঠনের কথাও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।