Home Blog Page 410

বৃহস্পতিবার শাহবাগে ছাত্রদলের সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহবাগ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বুধবার সাম্য হত্যার ঘটনায় প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদলের একদল শিক্ষার্থী। এদিকে সাম্য হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল ঘাতকসহ সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে ক্যাম্পাসে নয় মাসে দুই খুন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থার দায় স্বীকার করে উপাচার্য এবং প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে ছাত্রদল এবং বামপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুরে তারা প্রক্টর অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় তারা ‘আর চাই না, আর চাই না এন‌এস‌আইয়ের প্রক্টর,’ ‘ক্যাম্পাসে লাশ ঝুলে, প্রক্টর কী করে’, ‘আমার ভাই কবরে , খুনি কেন বাহিরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই ,সাম্য হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে আমরা সকল প্রকার রাজনীতির বাইরে থাকতে চাই।

ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত: সেনাবাহিনী প্রধান

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে।

বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করেন। ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনেক কর্মকর্তা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নির্বাচন ছাড়াও করিডর, বন্দর, সংস্কারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সেখানে উপস্থিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যগুলো জানা গেছে।

সেনাপ্রধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর-সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, পলিটিক্যাল কনসেনসাসের (রাজনৈতিক ঐকমত্য) মাধ্যমে সেটা হতে হবে।

‘মব ভায়োলেন্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা আক্রমণের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনী এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ জনতার নামে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা আর সহ্য করা হবে না।

সংস্কার প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি।

সামনে ঈদুল আজহা। মানুষ যেন নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারে, সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বলেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব।’

ঈদুল আজহায় ট্রেনযাত্রা: ১ জুনের টিকিট বিক্রি শুরু

আগামী ৭ জুনকে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ধরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।  বৃস্পতিবার দেওয়া হচ্ছে আগামী ১ জুনের টিকিট। তবে স্টেশনের কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবং দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট।

এবার ঈদে পাঁচ রুটে ১০টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। এসব ট্রেনের মধ্যে কিছু ট্রেন আগামী ৪ থেকে ৬ জুন এবং ঈদের পরে ৯ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে। এ ছাড়া ঈদের দিনও কিছু ট্রেন চলবে। স্পেশাল ট্রেনের টিকিট স্টেশনের কাউন্টার থেকে পাওয়া যাবে, অনলাইনে বিক্রি হবে না।

এ ছাড়া এবার ঈদে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে সারাদেশে। এসব ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার ৩১৫। এর বাইরে প্রতিটি ট্রেনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে স্টেশনের কাউন্টার থেকে।

ঈদ উপলক্ষ্যে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা যায়, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ৩১ মে’র আসন বিক্রি হয়েছে গত ২১ মে; ২ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৩ মে; ৩ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৪ মে; ৪ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৫ মে; ৫ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৬ মে এবং ৬ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৭ মে।

রেলওয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে ৭ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করবে। এ সময় কেনা টিকিটগুলো যাত্রীরা রেলওয়েকে ফেরত দিতে পারবেন না। প্রতিজন টিকিটপ্রত্যাশী ৪টি আসনের টিকিট একবার একসঙ্গে সংগ্রহ করতে পারবেন।

কেন খাবেন কাঁচা কাঁঠাল

পাকা কাঁঠালের মিষ্টি রসালো স্বাদ অনেকেরই প্রিয়। তবে শুধু পাকা নয়, কাঁচা কাঁঠালেরও রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। তরকারি হিসেবে সুপরিচিত এই ফলটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২ এর পাশাপাশি পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানে ভরপুর কাঁচা কাঁঠাল শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা কাঁঠাল খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায়:

তারুণ্য ধরে রাখে: বয়স বাড়লেও চেহারায় তার ছাপ ফেলতে বাধা দেয় কাঁচা কাঁঠাল। নিয়মিত এটি খেলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় এটি হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

হজমক্ষমতা বাড়ায়: পেটের নানা সমস্যা সমাধানে কাঁচা কাঁঠাল এক দারুণ দাওয়াই। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফাইবার কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়াও, পেটের অম্লতা ও আলসার কমাতে কাঁচা কাঁঠাল খাওয়া যেতে পারে। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে: যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য কাঁচা কাঁঠাল একটি চমৎকার খাবার। এতে চর্বির পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাই বেশি খেলেও ওজন বাড়ার তেমন কোনো ঝুঁকি থাকে না। বরং এটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।

চোখের জন্য উপকারী: কাঁচা কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন বিদ্যমান, যা চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কাঁচা কাঁঠাল খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।

হাড়কে করে মজবুত: এই ফলে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। তাই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাঁচা কাঁঠাল খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী: কাঁচা কাঁঠাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটি ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও, এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এমনকি পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

রক্তস্বল্পতা কমায়: কাঁচা কাঁঠালে কোলেস্টেরলের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটি খেতে পারে এবং এটি শক্তির একটি ভালো উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তাল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য কাঁচা কাঁঠাল তাই বিশেষ উপকারী।

ধূমপান ত্যাগ করলে শরীরে যে পরিবর্তন হয়

ধূমপান শুধু ব্যক্তির ফুসফুসই নয়, ধীরে ধীরে পুরো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। দীর্ঘদিনের ধূমপান হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে শরীর নিজের পুরোনো সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক ধূমপান ত্যাগ করার পর শরীরে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে:

ধূমপান ত্যাগ করা ২০ মিনিটের মধ্যেই আমাদের রক্তচাপ কমে গিয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়। হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসে জমে থাকা নিকোটিন শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। ফলে ঘ্রাণ ও স্বাদ বোধ বাড়বে।

* ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার তিনদিনের মধ্যে আপনার ব্রঙ্কিয়াল টিউব প্রসারিত হবে। ফলে অনেক স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে পারবেন, এনার্জি ফিরে আসবে, স্ট্রেস কমবে।

* দুই সপ্তাহের মধ্যে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়ে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে হাঁটাচলা করতে আগে যে হাঁফিয়ে উঠতেন, এই সময় থেকে তা কমে গিয়ে এনার্জি ফিরে পাবেন।

* ৩-৯ মাসের মধ্যে বুঝতে পারবেন আপনার আর নিশ্বাস নিতে বিশেষ কষ্ট হচ্ছে না। ধূমপানের কারণে যে খুকখুকে কাশি হতো তাও অনেক কমে এসেছে। এই সময় থেকে ব্রঙ্কিয়াল টিউবের ফাইবার আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে থাকে। যা ফুসফুস থেকে ব্যাকটেরিয়ার দূর করে পরিষ্কার রাখে।

* ধূমপান ছাড়ার ১ বছর পরও যারা কোনও দিন ধূমপান করেননি তাদের তুলনায় আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে দ্বিগুণ।

সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার ৫ বছরের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। কোনও দিন ধূমপান না করলেও যে ঝুঁকি থাকে, ৫ বছর পর ঝুঁকির পরিমাণ ঠিক ততটাই কমে আসে।

ধূমপানের ফলে ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর ১০ বছর সময় লাগে ফুসফুসের আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে।

ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে

স্থলবন্দর দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শর্ত অনুযায়ী তৈরি পোশাক, ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সুতা, সুতার উপজাত ও আসবাব রপ্তানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

আগে যেসব স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রপ্তানিমুখী গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকত, এখন সেখানে শুধু কয়েকটি পণ্যবাহী গাড়িই চোখে পড়ছে। সব মিলিয়ে বন্দর-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামতে পারে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় যশোরের বেনাপোল বন্দরে আসা ৩৬টি ট্রাকের মধ্যে ১২টি সোমবার ফেরত গেছে ঢাকায়। ২৪টি ট্রাক এখনও বন্দরের কার্গো ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে। ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস এখনও আগের এলসি/টিটির পণ্য আমদানি বিষয়ে সমাধান দেয়নি। এসব পণ্য এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানি হবে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার কিছু পণ্য ভারতে গেলেও রোববার থেকে বন্ধ রয়েছে সিলেটের কয়েকটি স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন। শেওলা স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার বিকাশ সরকার জানান, শনিবার সাত ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রোববার থেকে কোনো পণ্য যায়নি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি কারখানায় চাঁদা দাবি ও কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

মঙ্গলবার (২০ মে) বেজার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে কতিপয় স্থানীয় সন্ত্রাসী কারখানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে এবং পরবর্তীতে কারখানার কর্মকর্তাদের মারধর করে।

বেজা জানায়, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কারখানার পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ এরই মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সরকার এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে বেজা আরও জানায়, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গেই দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপরতার প্রমাণ দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস দমন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেজা ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা কেবলই সমাজ ও অর্থনীতির শত্রু। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এসব কার্যকলাপ সমর্থন করে না। তাদের ইতিবাচক ভূমিকা ছাড়া দেশে টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এ ধরনের অপরাধ দমন এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক ও প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করে না, বরং দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চালের দাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগ

জাপানে চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া দেশটির কৃষিমন্ত্রী তাকু ইটোকে অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ মে) তিনি তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দু’দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নিলেন।

 

 

এর আগে, গত রবিবার (১৮ মে) একটি রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ইটোকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে কখনো চাল কিনতে হয়নি, সমর্থকদের উপহারেই চালের সংস্থান হয়।” এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

সমালোচকরা এই মন্তব্যকে চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যায়িত করেন। জুলাই মাসের জাতীয় নির্বাচনের আগে এমনিতেই দুর্বল অবস্থানে থাকা প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারের জন্য এটি নতুন করে সমস্যা তৈরি করতে পারত।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ইটো বলেন, “চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা যখন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তখন আমি একটি অত্যন্ত অসংগত মন্তব্য করেছি। তাই প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার যখন চালের মূল্য নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমার এই পদে থাকা সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি।”

কৃষিমন্ত্রীর এই পদত্যাগ জাপানের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ইশিবার সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য, জাপানে চালের মূল্যবৃদ্ধি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।

বুকার পুরস্কার পেলেন ভারতীয় লেখিকা বানু মুশতাক

বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বুকার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ভারতীয় লেখিকা বানু মুশতাক। মঙ্গলবার (১৯ মে) ৭৭ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান সাহিত্যিকের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার কান্নাড়া ভাষার গল্পসংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর জন্য তিনি এই বিশেষ সম্মাননা পেলেন। বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন দিপা ভাস্তি।

বানু মুশতাকের পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ ‘হার্ট ল্যাম্প’ দক্ষিণ ভারতে বসবাসরত মুসলিম নারীদের প্রাত্যহিক জীবন নিয়ে রচিত ১২টি ছোট গল্পের সংকলন। এই বইয়ে নারীদের পারিবারিক জীবনের নানা চিত্র এবং তাদের নিরন্তর সংগ্রাম অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, মুশতাকের লেখনী সমাজের প্রান্তিক অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই অংশের জীবনকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

পেশাগত জীবনে বানু মুশতাক একাধারে একজন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবী। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। তার এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা ও সমাজ সচেতনতা তার সাহিত্যকর্মেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা তাকে বিশ্ব মঞ্চে এই অনন্য স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। বুকার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু ভারতীয় সাহিত্যকেই নয়, বিশ্বজুড়ে নারী লেখকদেরও অনুপ্রাণিত করলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের আহ্বান ইশরাকের

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে অবিলম্বে সব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার(২১ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ইশরাক হোসেন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “গণতান্ত্রিক ভাষায়, রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে যৌক্তিক কারণে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। যেহেতু এটা প্রতীয়মান যে আপনারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, হয়তো আগামীতে সরাসরি যুক্ত হবেন। এটাও অনেকটা স্পষ্ট, আপনারা নির্বাচন করবেন। তাহলে আপনাদের পদত্যাগের দাবি কি অযৌক্তিক? নাকি এটাই সঠিক পদক্ষেপ হবে এবং আপনাদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের অবসান ঘটবে।”

ইশরাক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, “আপনাদেরই নাহিদ ইসলাম যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সেটাই অনুসরণ করুন। উনি চাইলে হয়তো আরও কিছুদিন মন্ত্রিত্ব করে তারপর এনসিপি তে যেতে পারতেন। একটা সময় ছিল সার্জিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহরা জোরালোভাবে দাবি করলে ওনারাও হয়তো মন্ত্রিত্ব নিতে পারতেন। কিন্তু তারা রাজনীতি করবেন বলে সেই কর্মপন্থা বেছে নিয়েছেন। হয়তো একদিন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে পূর্ণাঙ্গভাবে মন্ত্রীর দায়িত্ব, ক্ষমতা ও সম্মান আবার পাবেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতার ইমেজকে আরও বৃদ্ধি করবে। ইশরাক মনে করেন, সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দলীয় ও সাংগঠনিক কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে তারা দেশ ও জনগণকে আরও ভালো কিছু দিতে পারবেন। অন্যথায় ক্ষমতা ধরে রাখলে দলীয় লোকজনকে বিশেষ সুবিধা দিতেই হবে, যা থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নয়।