Home Blog Page 412

জোড়া সেঞ্চুরিতে স্বস্তি নিয়ে দিন পার করল বাংলাদেশ

গলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্টে দিনের শুরু আর শেষের চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেও স্বাগতিকদের পক্ষে ছিল স্কোরবোর্ড, দিনশেষে তার দখল নিলো বাংলাদেশ। দুই অভিজ্ঞ তারকা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম জোড়া সেঞ্চুরিতে টাইগারদের বেশ ভালোভাবেই কক্ষপথে রেখেছেন। দিন শেষে ৯০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৯২ রান।

অধিনায়ক শান্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দেড় বছরের বিরতি শেষে। আর মুশফিক পেয়েছেন ১২তম সেঞ্চুরি। তিনিও এমন ইনিংসের দেখা পেলেন ৯ মাস পর। দিনশেষে শান্ত ১৩৬ ও মুশফিক ১০৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। দুজন মিলে গড়েছেন ২৪৭ রানের জুটি। যা টেস্টের চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ জুটি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের এই সিরিজ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করেছে বাংলাদেশ। যদিও এদিন শুরুটা আশাব্যঞ্জক হয়নি। দলীয় মাত্র ৪৬ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। শুরুতেই (দলীয় ৫ রানে) আউট হয়েছেন এনামুল হক বিজয়। ১০ বলে শূন্য রান করে তিনি আসিথা ফার্নান্দোর বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর মুমিনুল হক এবং সাদমান ইসলাম মিলে যোগ করেন ৩৪ রান। দুজনকেই ফিরিয়েছেন অভিষিক্ত লঙ্কান স্পিনার থারিন্দু রত্ননায়েকে। মুমিনুল ২৯ এবং সাদমান ১৪ রান করেছেন।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশকে বিপদ থেকে টেনে তুলতে কার্যকর জুটি প্রয়োজন ছিল। সেই চাহিদাই পূরণ করেছেন শান্ত-মুশফিক। দিনের শেষ পর্যন্ত তারা লঙ্কানদের আর কোনো আনন্দের উপলক্ষ্য পেতে দেননি। প্রায় সাড়ে তিন গড়ে শান্ত-মুশফিক রান তুলেছেন। ৭৩.৫ ওভারে দলীয় খাতায় তোলেন ২৪৭ রান। শান্ত যেখানে প্রয়োজন অনুসারে বোলারদেরও পর চড়াও হয়েছেন, মুশফিক ছিলেন হিসাবী ব্যাটার। বাউন্ডারির চেয়ে সিঙ্গেল রানকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন। বিলাসী শট খেলার ঝুঁকি নেননি তেমন। ফলে ১৭৬ বলে শতক পূর্ণ করার পথে কেবল ৫টি চার মেরেছেন অভিজ্ঞ এই তারকা।

মুশফিককে অবশ্য বড় ইনিংস খেলতেই হতো। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতা ও সমালোচনার জেরে মার্চেই ওয়ানডেতে অবসরের ঘোষণা দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারও ছিল হুমকির মুখে। ফলে তার আজকের ইনিংসটি ছিল অস্বস্তির সেই সময় থেকে বেরিয়ে আসার মন্ত্র। গত আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯১ রান করেছিলেন মুশফিক। এরপর খেলা ৭ টেস্টের ১৩ ইনিংসে তিনি ফিফটিও পাননি। ১৩ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪০ রানের।

অন্যদিকে, সেঞ্চুরি তো দূরের কথা ২০২৪ সালে টেস্টে শান্ত’র ব্যাটিং গড়ই ছিল মাত্র ২১.১৩। তবে ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফরম্যাটটিতে পুরোনো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে শান্তকে আরেকটি সেঞ্চুরি পেতে ১৫ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর টেস্টে তিনি শেষ সেঞ্চুরি করেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এ নিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন শান্ত, সবমিলিয়ে ষষ্ঠ।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে থারিন্দু রত্ননায়েকে সর্বোচ্চ ২টি এবং আসিথা ফার্নান্দো একটি উইকেট শিকার করেছেন।

আলিয়ার ইমেইলে মেয়ে রাহার ছোট বেলার গল্প

মেয়ে রাহা আসার পর বদলে গেছেন মা অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। জন্মের পর থেকেই প্রতি মাসে রাহাকে একটি করে ই-মেইল লিখে পাঠিয়ে আসছেন আলিয়া। তাতে লেখা থাকে-আজ রাহা প্রথম হেঁটেছে এক পা, আজ সে দাদির কোলে ঘুমিয়ে পড়েছিল, আজ সে বাবার গালে এক ছোট্ট চুমু খেয়েছে। সেই ই-মেইলের সঙ্গে থাকে অসংখ্য ছবি–কখনও বাবার সঙ্গে খেলায় মত্ত, কখনও মায়ের কাঁধে মাথা রেখে ঘুম। ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টে সাজিয়ে রাখা থাকে ছোট ছোট মুহূর্তের জীবন্ত স্মৃতি।

আলিয়া বলেন, আমি চাই, রাহা যখন বড় হবে। ওর যখন ১৫ বছর বয়স হবে, তখন আমি তাকে মেইল বক্সটি দিয়ে বলব, ‘এই দেখো, এগুলো তোমার ছোটবেলার গল্প। এইভাবে আমরা তোমায় ভালোবেসে বড় করেছি।’ রাহা আসার পর অনেক কিছুই বদলেছে আলিয়ার জীবনে। আগের তুলনায় অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে পারেন তিনি, অনেক কিছু বুঝে নিতে পারেন সময় নিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া বলেন, ‘আমি নিজেকে নতুন করে চিনতে শিখেছি।’ তবে এই মাতৃত্বের যাত্রা একেবারে খোলামেলা ছিল না শুরু থেকেই। প্রথমদিকে মেয়েকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন রণবীর ও আলিয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরুতে রাহার একটিও ছবি প্রকাশ করেননি। কারণ ক্যামেরা আর ফ্ল্যাশ থেকে রাহাকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন তারা। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় অনেক কিছু। একদিন আলিয়া নিজেই নিয়ে এলেন ছোট্ট রাহাকে পাপারাৎসির সামনে। সেদিন সবাই অবাক হয়েছিলেন। কারণ, ক্যামেরা দেখে ভয় পায়নি একরত্তি রাহা। সাবলীলভাবে তাকিয়ে পোজও দিয়েছিল। যেন একেবারে তৈরি সে, এই দুনিয়ার আলো আর ক্যামেরার ঝলক সামলাতে। এরপর চলতি বছরে বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার পর থেকে আরও বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন রণবীর ও আলিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাহার সব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন। পাপারাৎসিকে অনুরোধ করেছেন, যেন রাহার ছবি না তোলা হয়। রণবীর তো এমনিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপস্থিত। আলিয়াও এখন মেয়েকে নিয়ে খুবই রক্ষণশীল। তিনি চান, রাহা নিজের ইচ্ছায় বড় হোক, নিজের শর্তে পরিচিত হোক দুনিয়ার সঙ্গে।

একই ক্লাসে পড়লেও একে অপরকে চিনতেন না জাহিদ-মিমি

দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান ও আফসানা মিমি। মজার বিষয় হল একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ালেখা করেছেন এই দুই তারকা। তবে একে অপরকে চিনতে না তারা। পরিচয় হয়েছে ঢাকায় মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে।

চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের হৈমবালা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা জাহিদ হাসান ও আফসানা মিমি। চতুর্থ শ্রেণির পর আর সেখানে পড়া হয়নি জাহিদ হাসানের। কারণ, স্কুলটি ছিল মেয়েদের। সেই স্কুলে ছেলেরা শুধু চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে পারতো। ফলে পঞ্চম শ্রেণিতে অন্য স্কুলে ভার্তি হতে হয় জাহিদ হাসানকে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন জাহিদ হাসান ও আফসানা মিমি। একই স্কুলে পড়ালেখা করলেও একে অপরকে চিনতেন না তারা। পরিচয় হয়েছে ঢাকায় এসে।

আফসানা মিমি বলেন, ‘কাছাকাছি সময় আমরা কাজ করতে এসেছি। আমরা যখন থিয়েটার করতে করি তখন থেকে আমাদের পরিচয়। সেটা নব্বই দশকের শুরুতে। জাহিদ মঞ্চে বেশিদিন কাজ করেননি। তবে ওই সময়টাতে যারা মঞ্চে তার নাটক দেখেছেন তারা কোনোদিন জাহিদকে ভুলতে পারবে না। সেটা দিয়েই মঞ্চে তার অভিষেক ঘটলো। আমরা পাগলের মত তার অভিনয় দেখতাম। তখনও আমরা বন্ধু হইনি।’

এরপরই জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা মঞ্চে অভিনয়ের জন্য বিভিন্ন কোর্স করতাম। তখন আমি টেলিভিশনে কাজ করি। বিভিন্ন গ্রুপ থেকে শিল্পীরা আসতো। তেমনি একটি গ্রুপ থেকে মিমি এসেছে। পরে জানলাম মিমি আর আমি এক স্কুলে, একই ক্লাসে পড়তাম। তখন থেকে আমাদের বন্ধুত্ব।

জাহিদ হাসানের কথায়, ‘সেই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা এখন পারিবারিক হয়ে গেছে। আমার মনে আছে- আমি যখন অসুস্থ ছিলাম মিমি হাসপাতালে না আসতে পারলেও ড্রাইভারকে দিয়ে আমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিত। তখন আমার কান্না পায়। বন্ধু, বোন না মিমি আমার পরিবারের অংশ।’

আফসানা মিমি বলেন, ‘সাদিয়া ইসলাম মৌকে বিয়ের পর আমাদের বন্ধুত্ব আরও ভালো হয়। জাহিদ হাসানের সঙ্গে যদি আমার কোনোদিন মতের বিরোধ হয় আমি জনি মৌ সব সময়ে আমার পক্ষে অবস্থান নেয়।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় পর ‘উৎসব’ সিনেমা দিয়ে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি, জাহিদ হাসান, যা মুক্তি পেয়েছে ঈদে। এতে জাহিদ-মিমি ছাড়াও অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আয়মান সাদিকসহ এক ঝাঁক তারকা।

অন্তর্বর্তী সরকার একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত: মাসুদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জাতির প্রধান প্রত্যাশা ছিল—সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। অথচ তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছে, যা ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি জাতীয় ঐক্য বিনির্মাণে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন।

এই জামায়াত নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধু ভোটের রাজনীতি করে না। আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জনগণের কল্যাণের জন্য। জামায়াতের রাজনীতি হচ্ছে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অনিয়মকারীদের আশ্রয় দেয় না, বরং মসজিদের ইমাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমাদের বন্ধু সংগঠনের কেউ কেউ নির্বাচনের আগেই নিজেদের জন্য ২৮০ আসন নিশ্চিত বলে দাবি করছেন। এ ধরনের বক্তব্য সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করতে পারে। জাতি শঙ্কিত—ভোটের আগেই তারা নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে বসতে পারে।” তিনি সব রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতার মোহ পরিহার করে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “ভোটের রাজনীতির কারণে দেশের শ্রমিকরা বারবার প্রতারিত হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তাদের শোষণ করা হয়েছে। তাই শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী আদর্শে সমাজ গড়ার লক্ষ্যে শ্রমিকদের এগিয়ে আসতে হবে।”

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী তাসনুভা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের ফাঁস হওয়া অডিও ফোনালাপে যে নারী কণ্ঠ শোনা গেছে, সেটি নিজের নয় বলে দাবি করেছেন দলটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবীন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

তাসনুভা জাবীন তার পোস্টে লিখেছেন, “শুধু এটুকু বলি, যার অডিও আমার নামে বলে ফটোকার্ড, ভিডিও কনটেন্ট বানিয়ে ভরায় ফেলছেন, আমি বা আমরা খুব সহজে তার নাম প্রকাশ করে আমার বিরুদ্ধে হওয়া এই জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তার নাম পাল্টা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছি।”

এই নেত্রী অভিযোগ করেন, “রাজনীতিতে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো খুব পরিকল্পনামাফিক এই ভয়াবহ সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে আমাকে ঘিরে। আমি শুধু বুঝি, আমার কথা বা লেখা গুরুত্বপূর্ণ না হলে এত মানুষ আমাকে নিচে নামানোর এত আপ্রাণ চেষ্টা করত না। এসবের উত্তর ‘সময়’ অবশ্যই দিবে। আল্লাহ ভরসা।”

এর আগে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের একটি ফোনালাপ ফাঁস করেন প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে সারোয়ার তুষারকে এনসিপির এক নারী নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে শোনা যায়। প্রবাসী ওই সাংবাদিকের দাবি, কুপ্রস্তাব দেওয়া নারী কণ্ঠটি এনসিপির এক নেত্রীর। এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই ঘটনার জেরে সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এনসিপি। তাকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ জানানো হয়।

তবে, সারোয়ার তুষার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল স্বপ্রণোদিত হয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তিনি লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেবেন।

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় ৪৫২ জন নিহত: এইচআরএএনএ

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ৪৫২ জন মানুষ নিহত এবং ৬৪৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১০৯ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় ১৮৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১২৩ জন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে যে, নিহত ১১৯ জন এবং আহত ৩৩৫ জন ব্যক্তি সামরিক নাকি বেসামরিক তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এত বিপুল সংখ্যক হতাহতের তথ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শতাধিক নাগরিক নিহতের তথ্য জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এইচআরএএনএ-এর এই নতুন পরিসংখ্যান চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছে।

ইরানে ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ

ক্রমবর্ধমান ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের সাইবার সিকিউরিটি কমান্ড সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একই সাথে দেশটির নাগরিকদের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস।

সাইবার সিকিউরিটি কমান্ডের ঘোষণায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা দলের সদস্যরা স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, পোর্টেবল কম্পিউটারসহ কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁস প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, চলমান সংঘাতে হতাহতের খবর আসছে উভয় পক্ষ থেকেই। ইরানের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৪৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ২২৪ জন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য ১০৯ জন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে ইরানের হামলায় গুরুতর আহত ১৫৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান। গত চার দিন ধরেই উভয় দেশ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এই সংঘাতের মুখে তেহরান ছাড়ছেন শহরটির অনেক বাসিন্দা। চলমান এই অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর নতুন দুজনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৫০৬ জন।

এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৫ জনের করোনা শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ইশরাকের বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল অফেন্সের’ অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না নিয়েই বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ করার অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন নগর ভবনের মিলনায়তন ও অফিস দখল করে নাগরিক সেবাদানে বাধা দিচ্ছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ইশরাক হোসেনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নাগরিক সেবাদান শতভাগ বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্ব নেননি, কিন্তু নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়ে নগর ভবনের মিলনায়তন ও অফিস দখল করেছেন। এমতাবস্থায় নাগরিক সেবা বিঘ্নিত করা বাড়তে থাকলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুটিংয়ে নিখোঁজ মডেল, খালে মিলল ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

ভারতের হরিয়ানায় মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতল (২৩) নামে এক মডেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার হরিয়ানার সোনিপাতের খরখোদা এলাকার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিখোঁজের একদিন পর শীতলের বোন নেহা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ২৩ বছর বয়সী এই মডেল ১৪ জুন আহার গ্রামে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ে গিয়েছিলেন, এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর নেহা শীতলের প্রাক্তন বন্ধু সুনীলের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন এবং দাবি করেছেন যে সে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

পুলিশ শীতল মডেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পেশায় মডেল শীতল হরিয়ানার সঙ্গীত জগতের সাথেও যুক্ত ছিলেন এবং মাত্র ছয় মাস আগে তার সঙ্গীত জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই কমল কৌর নামে এক ইনফ্লুয়েন্সরের মরদেহ পাঞ্জাবের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনা ঘটায় রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।