Home Blog Page 412

বাংলাদেশে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার (১৯ মে) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীকে টেলিফোনের মাধ্যমে এই বিষয়ে জানানো হয় এবং মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে স্টারলিংকের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “স্টারলিংক অফিসিয়ালি বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে তারা ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানায় এবং আজ সকালে তাদের এক্স হ্যান্ডেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে।”

তিনি আরও জানান, স্টারলিংক প্রাথমিকভাবে দুটি প্যাকেজ নিয়ে বাজারে এসেছে – ‘স্টারলিংক রেসিডেন্স’ এবং ‘রেসিডেন্স লাইট’। এর মধ্যে একটির মাসিক খরচ ৬০০০ টাকা এবং অন্যটির ৪২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির জন্য গ্রাহকদের এককালীন ৪২ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এই প্যাকেজগুলোতে কোনো ডেটা ব্যবহারের সীমা থাকছে না এবং গ্রাহকরা ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতির আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের গ্রাহকরা আজ থেকেই এই সেবার জন্য অর্ডার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে যাত্রা শুরুর বিষয়ে স্যারের (প্রধান উপদেষ্টার) যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি পূরণ হলো।”

তিনি আরও বলেন, “যদিও এই সেবা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, তবে এর মাধ্যমে দেশের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার বিকল্প তৈরি হলো। পাশাপাশি, যেসব দুর্গম এলাকায় ফাইবার অপটিক কেবল বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ এখনো পৌঁছায়নি, সেসব এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী অন্যান্য কোম্পানিগুলোও তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারবে। এছাড়াও, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ফ্রিল্যান্সার এবং নতুন উদ্যোক্তারা সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের নিশ্চয়তা লাভ করবেন।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, এই অর্জনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে স্টারলিংক দক্ষিণ এশিয়ার একটি নতুন বাজারে প্রবেশ করলো। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা বাড়ছে নিউইয়র্কে

সেনেটে মাইনোরিটি লিডার হিসেবে চাক শুমার এবং হাউযে মাইনোরিটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাকিম যেফ্রিজ। দুজনেই নির্বাচিত হন নিউ ইয়র্ক স্টেইট থেকে। নিউ ইয়র্ক স্টেইটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা বাড়ছে দলটির সমর্থকদের মধ্যে।

তারা মনে করছেন, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছেন না নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট জনপ্রতিনিধিরা। বিশেষ করে সেনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমারের পদত্যাগ চাইছেন অনেকে। অন্যদিকে কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিয়া কর্টেজকে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সেনেটে মাইনোরিটি লিডার হিসেবে চাক শুমার এবং হাউযে মাইনোরিটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাকিম যেফ্রিজ। দুজনেই নির্বাচিত হন নিউ ইয়র্ক স্টেইট থেকে। ফেডারেল পর্যায়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকলেও সে তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের পারফরম্যান্স অনেকটাই নিস্তেজ, যা হতাশ করছে দুই মাইনোরিটি লিডারের নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের। দল নিয়ে হতাশা কাজ করছে তাদের মধ্যে।

সম্প্রতি প্রকাশিত মেরিস্ট পোলের জরিপ বলছে, ৫৩ শতাংশ নিউ ইয়র্কার মনে করছেন, ডেমোক্র্যাট সেনেট মাইনোরিটি লিডারের পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত চাক শুমারের। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো শুমার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিপক্ষেও মত দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ নাগরিক।

তারা মনে করেন, নিউ ইয়র্ক থেকে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া ৭৪ বছর বয়সী শুমারের উচিত এখন অন্য কোনো ডেমোক্র্যাটকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া, তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৫ শতাংশ মনে করেন, শুমারের আবারও সেনেটর হওয়া উচিত। স্টেইটের পাশাপাশি সিটিতেও ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। সাবেক গভর্নর অ্যান্ডিউ কুওমো মেয়র প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের কাছে সব জরিপে এগিয়ে আছেন।

মেয়র পদে আগামী ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে অংশ না নিয়ে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের ইনডিপেনডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা তার সমর্থকদের হতাশ করেছে। এর ফলে সিটি প্রশাসনেও বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন নিউ ইয়র্কাররা।

অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় আছেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও কর্টেজ। সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে সঙ্গে নিয়ে দেশের বিভিন্ন সিটিতে সমাবেশ করে যাচ্ছেন তিনি। লোকসমাগমও ভালোই হচ্ছে তার জনসভায়, যা উজ্জীবিত করছে অনেক ডেমোক্র্যাটকে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় নিউইয়র্কে আনন্দ মিছিল, সমাবেশ এবং মিষ্টি বিতরণ

জঙ্গি সংগঠন এবং মানবতা ও গণতন্ত্রের দুশমন হিসেবে আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ এবং ফ্যাসিস্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দাবিতে ১২ মে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘বাংলা ব্লগ’র উদ্যোগে এক আনন্দ-সমাবেশ হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ব্লগ’র অন্যতম সংগঠক ও বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানানো হয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক বন্ধুদের অবহিত করার জন্য।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর নিউইয়র্কের এই সমাবেশ থেকে আনন্দ মিছিল এবং প্রবাসীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণও করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার খবরে নিউ ইয়র্কে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলন’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতা আব্দুল কাদের। অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে মানবতাবিরোধী ও জঙ্গি সংগঠন। এরা স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সংগঠন। এটি পরম সত্য যে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সালে পাকিস্তানি আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফেরার পর পচাত্তরে তিনি বাকশাল কায়েম করলেন। এসবই স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। কারণ, একাত্তরের চেতনা ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে তিনি হত্যা করলেন বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করলেন, জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করলেন। শুধু তাই নয়, ১/১১ এর সঙ্গেও আঁতাত করেছিলেন। আর এভাবেই শেখ হাসিনাও প্রমাণ করেছেন যে তিনি একাত্তরের স্বাধীনতার বিরোধী। গিয়াস আহমেদ বলেন, টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপ এবং গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়াটা যৌক্তিক ছিল। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মানবতাবিরোধী সংগঠন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন, এবং স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সংগঠন। এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন রিটা রহমান, এম এ সবুর, মনিরুল ইসলাম, দেওয়ান কাউসার, শাহাদৎ হোসেন রাজু, নীরা রাব্বানী, মো. হারুন মিয়া, হাসান সিদ্দিক, নূর আমিন, আবুল কালাম প্রমুখ। বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখন সময় হচ্ছে ১৫ বছরের অপশাসনের দায়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সমুচিত শাস্তি প্রদানের। সে অপেক্ষায় রয়েছে প্রবাসীরাও।

সাকিব ব্যর্থ হলেও প্লে-অফ নিশ্চিত করলো লাহোর কালান্দার্স

সমীকরণ ছিল একেবারেই সহজ। যারা জিতবে তারাই চলে যাবে পিএসএলের প্লে-অফে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানকে খেলতে দেখা গেছে বটে, তবে দিন ছিল একেবারেই মলিন। তবুও পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে ২৬ রানের জয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে তার দল লাহোর কালান্দার্স।

রোববার বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান জড়ো করে লাহোর কালান্দার্স। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত সময়ে ৮ উইকেটে ১২৩ রানের বেশি করতে পারেনি পেশোয়ার জালমি। আর তাতেই এবারের আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাবর আজমদের।

লাহোরের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন ওপেনার ফখর জামান। এছাড়া ১০ বলে ২২ রান করেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। দুই ওপেনারের ব্যাটে ভর করেই বড় পুঁজির ভিত পায় লাহোর। ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাকিব গোল্ডেন ডাক মেরেছেন। নিজের প্রথম বলেই ডেনিয়েলের বলে বোল্ড হন ফাইন লেগে শট খেলতে গিয়ে।

জবাব দিতে নেমে সালমান মির্জা, শাহিন আফ্রিদিদের বোলিং তোপের মুখে পড়ে পেশোয়ার। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ছিটকে পড়ে ম্যাচ থেকেই। সাকিব ২ ওভার বল করে দেন ১৮ রান। আরও ১ ওভার তাকে দিয়ে করানোর সুযোগ থাকলেও শাহিন সেই পথে হাঁটেননি। লাহোরের হয়ে সালমান মির্জা একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট।

ছয় দলের টুর্নামেন্টে সব দল ১০টি করে ম্যাচ খেলবে। প্লে-অফে ওঠা লাহোর কালান্দার্স ১০ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার ও ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে। সমান ম্যাচে ৪ জয় ও ৬ হারে ৮ পয়েন্ট পেশোয়ার জালমির অবস্থান পাঁচে। আর কোনো ম্যাচ না থাকায় বাবরের দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

পাকিস্তানি শিল্পী নিষিদ্ধে টুইঙ্কল খান্নার রসিকতা

পেহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পাকিস্তানি শিল্পীদের। মাওরা হোসেন, ফাওয়াদ খান ও মাহিরা খানদের মতো পাক অভিনেতাদের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে বলিউডের ছবির পোস্টার থেকে।

এ বিষয়ে নজরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতা করে একটি পোস্ট দিয়েছেন টুইঙ্কেল খান্না।

টুইঙ্কেল তার পোস্টে লিখেছেন, ‘কিছু দিন আগেই ফের মুক্তি পেয়েছিল ‘সনম তেরি কসম’ সিনেমাটি। তারপর থেকে ছবির গানগুলো বারবার করে শুনছি। দেখলাম গানের অ্যালবামের প্রচ্ছদ থেকে শিল্পী মাওরা হোসেনের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারলাম, ফাওয়াদ খান ও মাহিরা খানের ছবিও তাদের বলিউড সিনেমার পোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

এর পরেই ব্যঙ্গ করে টুইঙ্কেল লিখেছেন ‘সুনাগরিক হিসেবে একটা দায়িত্ব পূর্ণ করতে চাই। ঢিনচ্যাক তালের গান গেয়ে বেড়ানো পূজার কণ্ঠে আবিদা পারভীন ও ফরিদা খানমের গানগুলোও এবার মুছে ফেলা হোক। এতে পাকিস্তানি শ্রোতাদের ভালো শিক্ষা দেওয়া যাবে!’

দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলো ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর হামলায় রোববার উপত্যকাটিতে দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই ১৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সংবাদমাধ্যমটিকে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬৯ জনই প্রাণ হারিয়েছেন গাজার উত্তরাঞ্চলে। যেখানে দখলদাররা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

এর আগে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসির একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার সময় সেখানকার মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থায় চালানো ওই হামলায় শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন।

গাজায় ব্যাপক স্থল হামলা শুরুর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে “গতকাল, অপারেশন গিডিয়ন চ্যারটের অংশ হিসেবে আমাদের দক্ষিণ কমান্ডের স্যান্ডিং এবং রিজার্ভ সেনারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ব্যাপক স্থল হামলা শুরু করেছে।”

প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানিয়েছে, স্থল হামলায় সহযোগিতা ও হামাসের পাল্টা হামলা প্রতিহতে গত এক সপ্তাহে তাদের বিমানবাহিনী হামাসের ৬৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যার মধ্যে ছিল হামাসের বিভিন্ন সেল, সুড়ঙ্গ এবং ট্যাংক বিধ্বংসী সাইট।

এখন পর্যন্ত হামাসের কয়েক ডজন সদস্য এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এছাড়া গাজার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো দখল করে রাখার তথ্য জানিয়েছে দখলদারদের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

যমুনা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি, শাহবাগ ছাড়ল ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। আজ রোববার বিকেলে এ হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহবাগে অবরোধ প্রত্যাহার করার কথা জানান তিনি।

সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতার সাথে সাথে সরকারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে একটি হত্যার আসামি গ্রেপ্তার করতে পারছে না সরকার।’

সমাবেশে নিহত সাম্যর ভাই অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম‍্যর চরিত্র হননের চেষ্টা করছে যা মিথ্যাচার।’

এর আগে দুপুরে সাম্যের খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা বলছেন, বেধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও মূলহোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় তাদের এ কর্মসূচি।

কাশ্মিরে গুলিতে ভারতীয় সৈন্য নিহত

ভারতশাসিত কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। উপত্যকাটির আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী সাম্বা জেলায় একটি সেনা চৌকিতে নিজের রাইফেলের গুলিতে তিনি নিহত হন বলে দাবি করা হচ্ছে।

নিহত ওই সৈন্য আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে রোববার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, জম্মু ও কাশ্মিরের সাম্বা জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন একটি সেনা চৌকিতে নিজের সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে এক সেনাসদস্য মারা গেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে।

মারা যাওয়া সেনার বয়স ২৮ বছর এবং তিনি তেলেঙ্গানা রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। নিহত হওয়ার সময় তিনি সাম্বা জেলার বর্ডার আউটপোস্ট সরোজ-এ প্রহরার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানেই হঠাৎ করে তার রাইফেল থেকে গুলি ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কেন তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বিস্তারিত তথ্য এখনো তদন্তাধীন।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ডিউটির কারণে অনেকে মানসিক অবসাদে ভোগেন বলেও অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার চায় জামায়াতে ইসলামী

গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের বাস্তবায়ন চায় জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভাষ্য, সংস্কারকে স্থায়ী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই গণভোট প্রয়োজন। যাতে সংবিধানের সংশোধনী বা অন্য কোন উপায়ে ভবিষ্যতে বাতিল করা না যায়। গণভোট জাতীয় নির্বাচনে আগে না কি একসঙ্গে হবে তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।

রোববার জাতীয় সংসদে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে বিফ্রিংয়ে দলের এই অবস্থান জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। জামায়াত আগের প্রস্তাবে জানিয়েছিল, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল চায়। আগের নিয়মে সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি হবেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশনের সঙ্গে সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে।

ডা. তাহের বলেন, গত ২৬ এপ্রিল প্রথম দিনের সংলাপে যেসব বিষয়ে জামায়াত একমত ছিল না, এর কয়েকটিতে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে রাজি হয়েছে। সংস্কারের জন্য দেশ ও জাতির স্বার্থে জামায়াত দলীয় সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠেছে। অন্য দলগুলোর কাছ থেকে একই ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা’

ধ্রুবজিৎ কর্মকার (২২) নামে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসআই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কলেজের অমর একুশে হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়।

মরদেহের পাশে পড়েছিল একটি চিরকুট। সেই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সরি মা, বাবা। আমি ধ্রুবজিৎ, সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ব্যাংকের কার্ডের টাকাগুলো মাকে দিয়ে দিও। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। পরের বার ফার্মেসি নিয়ে পড়ব। এত চাপ আমার পক্ষে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। বিদায়। হরে কৃষ্ণ।’

জানা যায়, ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের মনোতোষ কর্মকার ও সুপ্তা কর্মকারের ছেলে ধ্রুবজিৎ।

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রোববার পরীক্ষা চলাকালীন ধ্রুবজিৎ নকলসহ ধরা পড়ে। কর্তব্যরত শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার খাতা নিয়ে হল থেকে তাকে বের করে দেন। এ ঘটনার পরপরই হোস্টেলের নিজ কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে ধ্রুবজিৎ। বিষয়টি জানার পরপরই উদ্ধার করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ধ্রুবজিৎ এর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে।’

কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্র জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।