Home Blog Page 417

সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনের ডাক ছাত্রদল সভাপতির

সাম্য হত্যার বিচার না হলে প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সাম্য হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তবে মিছিলে কোনো ব্যানার ছিল না। টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের কলাভবন এলাকাসহ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভ মিছিলের পর সমাবেশে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘উপাচার্যের গতকালের (মঙ্গলবার) আচরণের নিন্দা জানাই। একাত্তরের পরাজিত শক্তির কোনো লজ্জা শরম নেই। এই হত্যা নিয়ে ওরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্য হত্যার বিচার না হলে প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারে বিরুদ্ধে আন্দোলন নামব। উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ চাই।’

এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রক্টর ও উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান নেতা-কর্মীরা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। শাহরিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা এলাকায়।

শিক্ষার্থীদের নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষার্থীদের নতুন এক বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন কিছু গড়ার সক্ষমতা রাখি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়।

গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পটভূমি স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যে সভ্যতা চলছে তা একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনীতির সভ্যতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে অর্থনীতি তৈরি করেছি তা মানুষের জন্য নয়, বরং ব্যবসার জন্য।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসাকেন্দ্রিক এই সভ্যতা আত্মঘাতী এবং তা টিকবে না।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আনন্দিত। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭২ সালে চবিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং কীভাবে গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রামে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের সহায়তা করতে গঠিত হয়েছিল তা তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম হয়েছিল চবির অর্থনীতি বিভাগে।

অনুষ্ঠানে, চবি কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ইউনূসকে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি লিট) উপাধিতে ভূষিত করে। চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার অধ্যাপক ইউনূসের হাতে ডি লিট সনদ তুলে দেন।

চবি আজ দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করে, যেখানে ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় এনসিপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর কাকরাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা বলেছেন, সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু শারীরিক লাঞ্ছনা বর্বরতা। মাহফুজ আলমের সঙ্গে যা হয়েছে, তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কী হতে পারে, সেই প্রশ্নও করেছেন তারা।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মাহফুজ আলম এর উপর হামলার নিন্দা জানায় সাথে নিন্দা জানাই, যারা উল্লাস করছেন তাদেরও। হামলাকারী কোন ইনটেনশনে (উদ্দেশ্যে) হামলা করেছে, তা এখনো অজানা। সেটা খুঁজে বের করা হোক। এই হামলাকে জাস্টিফিকেশন (ন্যায্যতা) দেওয়ার সুযোগ নেই। দোষীকে আইনের আওতায় আনা হোক। সঙ্গে যেসব ন্যায্য দাবি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছেন, সেসব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।’

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাহফুজ আলম শিক্ষা উপদেষ্টা নন কিংবা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত নন। তারপরও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে। আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি নিজের অফিস কিংবা প্রশাসনিক জায়গায় আপনাদের না ডেকে বের হয়ে রাজপথে আপনাদের কাছে গিয়েছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, সেটার জন্য আপনাদের প্রতি ধিক্কার। আপনাদের আগে কমিটমেন্ট দেওয়ার পরও কেন কাজগুলো বাস্তবায়ন হলো না, সেটার জন্য আপনাদের তো শিক্ষাসচিবকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। শিক্ষা উপদেষ্টাকে জবাবদিহি করানো উচিত। সেটা না করে যিনি আপনাদের কথা শুনতে গিয়েছেন, আপনারা তাঁকে আঘাত করেছেন!’

গত মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন উল্লেখ করে সারজিস আলম লেখেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজ ভাইকে জানাই। তিনি আজকে রাতে নয়টায় আপনাদের মিটিংয়ের সময় দেন এবং এটাও বলেন যে আগামীকাল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন। তারপর তিনি এটাও বলেছেন, এই দুই জায়গায় সমস্যাগুলোর কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেলে তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেবেন। তারপরও আপনারা আপনাদের মতো করে কর্মসূচি করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় সুশীল উপদেষ্টার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তারা জনগণকে ডিল করতে ভয় পায়। তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় না হলেও ছাত্র উপদেষ্টাদের পাবলিক ডিলিংস করতে সামনে ঠেলে দেওয়া হয়।’

তিনি লিখেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর আগেও একবার মুভমেন্ট করেছে। দাবিগুলো যৌক্তিক। তারপরও কেন আজকে তাদের এই মুভমেন্ট করতে হলো এর জবাবদিহি এই সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে করতে হবে। চাপে পড়লে কাজ করে নাহয় অফিস করে এমন দুর্বল ব্যক্তিত্বের মানুষ অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারে আমরা প্রত্যাশা করিনা।,

মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—আপনাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি বলেই তিনি আপনাদের কাছে এসেছেন। কিন্তু এ ধরনের উগ্র ও হঠকারী আচরণ ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মাহফুজ আলম আইনি পথে হাঁটবেন কি না, জানি না। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বের উচিত প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক আচরণের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লেখেন, ‘সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু শারীরিক লাঞ্ছনা বর্বরতা এবং সেটির কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা নেই। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণও সন্দেহজনক। সব জনদাবির সম্মুখে ছাত্র উপদেষ্টাদের ঠেলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটির বিষয়ে কেন এখনো যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেটিও এই অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ মাহফুজ আলমের সঙ্গে যা করেছেন, তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কী হতে পারে! মতের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন মাহফুজ আলম আমাদের ভাই। ভাইয়ের সম্মানে আঘাত করতে আইসেন না…।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলার বিচার দাবি করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় লিখেছেন, ‘কিন্তু মাহফুজ আলমের ওপর যেভাবে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটল, তার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে কথা বলার সৎসাহস দেখানোর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি তৎপর হতো, তাহলে আজকের এ ঘটনা ঘটতো না। বোতল মারার ঘটনায় আমি বিশ্বাস করি না কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী এ কাজ করবে। সাধারণের মধ্যে লুকিয়ে থেকে স্যাবোটাজ (অন্তর্ঘাত) যারা করে, হয়তো তাদেরই কাজ এটা।’

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলাকারীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

এনসিপির আরও বেশ কয়েকজন নেতা মাহফুজ আলমের ওপর বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদারসহ সংগঠনটির কয়েকজন নেতাও মাহফুজ আলমের সঙ্গে হওয়া এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গতকাল বুধবার রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে গিয়েছিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

কমলো উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক রুটে লিটারপ্রতি ৭৫ সেন্ট থেকে কমিয়ে ৬০ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারপ্রতি ১১১ টাকা থেকে কমিয়ে ৯৩ দশমিক ৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এত দিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে আসছিল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এখানে জেট ফুয়েলের দাম বেশি, সে কারণে সুযোগ থাকার পরও অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে না। ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করলে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি বিশ্বে দেশের ইমেজ শক্তিশালী হয়।

নতুন করে নির্ধারিত এ দর মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে এবং আমদানি মূল্যের অংশটুকু প্রতি মাসে সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। এর অর্থ হলো—আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে দেশেও দাম বাড়বে, আর কমলে দেশেও কমবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার প্রমুখ।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দেয়। এরপর গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১–এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পর গত ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি করে বিইআরসি। বিপিসি আন্তর্জাতিক রুটের জন্য লিটারে ১ সেন্ট কমানো ও অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেট ফুয়েল বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টন। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ টনে।

এর আগে ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সব ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করে। তারপর থেকে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশের ধারাটি বাতিল করে দিলে গতিশীল হতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আগের মতোই এখনো নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যে প্রবিধানমালার দোহাই দিয়ে জ্বালানি তেল এত দিন নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেগুলো এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ঝুলে থাকা প্রবিধানমালা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিকে নাড়াচাড়া শুরু হলেও এখন আবার চাপা পড়ে গেছে।

স্থগিত হওয়া আইপিএল পুনরায় শুরু হচ্ছে

এক সপ্তাহ স্থগিত থাকার পর আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ইন্ডয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। শনিবার থেকে টুর্নামেন্ট শুরুর নতুন সূচি ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

আগামী তিন জুন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রথম কোয়ালিফায়ার ২৯ মে, এলিমিনেটর ৩০ মে এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে এক জুন। গ্রুপ পর্বের ভেন্যু ঠিক করলেও প্লে-অফের মাঠ এখনও চূড়ান্ত করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

এর আগে কাশ্মীরের পেহেলগামে সস্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটকের নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে শুক্রবার এক সপ্তাহের জন্য আইপিএল স্থগিত করেছিল বিসিসিআই।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের হামলার কারণে পাঞ্জাব-দিল্লি ম্যাচে ব্ল্যাকআউট করে দেয়া হয়েছিল ধর্মশালা স্টেডিয়াম। পরদিন জরুরি সভা ডেকে টুর্নামেন্ট স্থগিত করে বোর্ড। আসর শুরু হলেও বিদেশিদের পাওয়া যাবে কি না, সে নিয়ে রয়েছে সংশয়।

পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র: বর্তমানে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গুজরাট টাইটানস। তবে সমান পয়েন্ট থাকলেও ০.৪৮২ রান রেটে পিছিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দ্বিতীয় স্থানে। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব কিংস। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪, দিল্লি ক্যাপিটালস ১৩, কলকাতা নাইট রাইডার্স ১১ এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস ১০ পয়েন্ট নিয়ে এখনও প্লে-অফ দৌড়ে টিকে আছে।

অন্যদিকে চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস এরইমধ্যে প্লে-অফের রেস থেকে ছিটকে পড়েছে। টুর্নামেন্টে এখনও ১২টি লিগ এবং ৪টি প্লে-অফ ম্যাচ বাকি রয়েছে।

আট বউ নিয়ে প্রকাশ্যে মোশাররফ করিম

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের জন্য সিরিজ নির্মাণ করছেন দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। সিরিজের নাম ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। এতে প্রধান চরিত্রে ট্রাকচালক আব্বাস চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

যিনি একজন দুর্দান্ত প্রেমিক হৃদয়ের মানুষ। দেশের সাত জেলায় সাত সংসার তার। করতে চান আটটি বিয়ে। তখনই বাধে ঝামেলা।

এবার জানা গেল এই সিরিজে তার আট বউয়ের চরিত্রে কে কে অভিনয় করছেন।

সিরিজটিতে তার বউয়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সাদিয়া আয়মান, তানজিকা আমিন, রুনা খান, মৌসুমি হামিদ, ফারহানা হামিদ, জুই করিম ও অদিতি বৃষ্টি। যাদের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে রবিবার। পোস্টারে সাত বউয়ের সঙ্গে আছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

কমেডির এই গল্পে মোশাররফ করিমের চরিত্রের নাম ‘আব্বাস’। তাকে ঘিরে এগিয়ে যাবে সিরিজের গল্প।

এর আগে অমিতাভ সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’ বানিয়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন এই। এটি ছিল একটি রাস্তার গল্প। এবার আবারও এমনই একটি গল্প নিয়ে আসছেন এ নির্মাতা। ঘোষণাটি আশার পর দর্শকদেরও আগ্রহ বেড়েছে সিরিজটি নিয়ে। তবে এটি মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে যেসব পোশাক নিষিদ্ধ

কান চলচ্চিত্র উৎসবে আসছে বড়সড় পরিবর্তন। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি চোখ থাকে এই রেড কার্পেটের দিকে, যেখানে তারকারা তাদের স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের তাক লাগিয়ে দেন।২০২৫ সালের ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নগ্নতা এবং অতিরিক্ত বিশাল ও ভলিউমিনাস পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নতুন নিয়মাবলীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রেড কার্পেট সহ উৎসবের কোনো অংশেই নগ্নতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

শালীনতা বজায় রাখা এবং ফরাসি আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত পোশাক অতিরিক্ত বড়, বিশেষ করে যেগুলোর সাথে লম্বা ট্রেন বা ঘের থাকে যা চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে অথবা আসন গ্রহণে অসুবিধা তৈরি করে, সেই পোশাকগুলোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার গালা স্ক্রিনিংয়ের সময় বড় আকারের ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক বা টোট ব্যাগ নিয়ে প্রবেশও নিষিদ্ধ। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট অতিথিকে রেড কার্পেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ম করার মূল উদ্দেশ্য ফ্যাশনকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং উৎসবের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সম্মানজনক রাখা এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বড় পোশাক অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে চলাচলকে কঠিন করে তোলে এবং দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া, ২০২২ সালে রেড কার্পেটে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদে এক নারীর টপলেস হয়ে প্রতিবাদ এবং সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তারকাদের অতিমাত্রায় স্বচ্ছ বা ‘নেকড’ পোশাক পরিধানের প্রবণতা হয়তো কান কর্তৃপক্ষকে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে আমেরিকান গায়ক কানিয়ে ওয়েস্টের স্ত্রী বিয়াঙ্কা সেনসোরির পোশাক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কও এই নিয়মের পিছনে একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কানের রেড কার্পেটের ড্রেস কোড নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মহিলাদের হাই হিল পরা বাধ্যতামূলক করার একটি অলিখিত নিয়ম ছিল, যা নিয়েও বেশ সমালোচনা হয়েছিল। ২০১৫ সালে কিছু মহিলাকে ফ্ল্যাট জুতো পরার কারণে রেড কার্পেটে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হয়। অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একবার রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে তার হিল জুতো খুলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আসে।

সৌদির সঙ্গে ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান সৌদি আরব সফরে যেসব চুক্তি হচ্ছে তার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্য সামরিক উপকরণ কিনবে। এ প্যাকেজের আওতায় রাডার সিস্টেম ও পরিবহন বিমান কেনার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অস্ত্রের বড় সরবরাহকারী দেশ। যদিও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছিল জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকার সময়। ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ভূমিকা উদ্বেগ প্রকাশ করে তখন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছিল বাইডেন প্রশাসন।

এর আগে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডও দেশ দুটির সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন। যদিও সৌদি আরব সবসময় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছেন। দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি আগামী চার দিন উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকবেন।

তার এবারের সফরে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নতুন বিনিয়োগ বিশেষ করে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এটি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বৈঠক করবেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের সঙ্গে। পরে তিনি রিয়াদের সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দেবেন, যাতে নামিদামি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারাও থাকবেন। ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালি থেকে সৌদি আরবে বিনিয়োগের বিষয়টিতেও দৃষ্টি দেয়া হবে।

বুধবার ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেবেন। শুক্রবার আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে তার চারদিনের সফর শেষ হবে।

গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় বর্বর ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা চলছেই। দখলদার বাহিনীর নৃশংস হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় ভূখণ্ডটিতে আরও অন্ততপক্ষে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত নগরটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে।

বুধবার এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা তীব্রতর করেছে এবং মধ্যরাত থেকে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন উত্তর গাজায় নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার ইউরোপীয় এবং নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই সর্বশেষ হামলাগুলো শুরু হয়েছে। হাসপাতালে হওয়া ওই হামলায় নিহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এ হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

১৪ দলের নিবন্ধন বাতিল চায় গণঅধিকার পরিষদ

জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। এ বিষয়ে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছে গণঅধিকারের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আবেদনে দলটি উল্লেখ করে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে। জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার কারণে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইভাবে তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল বাংলাদেশের নাগরিকের ওপর চালানো গণহত্যাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, তার অন্যতম সহযোগী ও বৈধতাদানকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টিসহ জোটবদ্ধ বাকি দলগুলো। তাই গণহত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে এই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করানোর আহ্বান করছে গণঅধিকার পরিষদ।

গণঅধিকার প্রত্যাশা করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ তাদের দোসরদের নিবন্ধন বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনক্ষোভ দূর করতে আপনার (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, মাহফুজুর রহমান খান, হাবিবুর রহমান রিজু, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন।