Home Blog Page 42

স্পেনে তাপপ্রবাহে মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে গত এক মাসে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জুন মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল কেবল ২০১৭ সালের জুনে। দেশটি তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে।

নিহতদের প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ২২ জনের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি। ৭২০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। ১৫ বছরের কম বয়সী মাত্র একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। দেশটির এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কাতালোনিয়া অঞ্চলে- ২১৮ জন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুনের দিকে দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরের দিনগুলোতে তা অব্যাহত ছিল।

খামেনির একটি শব্দে যেভাবে ইরানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলো

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বলা একটি শব্দ দেশটির ঐক্যে যতটা ফটল ধরিয়েছে, তা ৪০ দিনের যুদ্ধও করতে পারেনি। বিতর্ক তৈরি করা সেই শব্দটি হলো ‘আলাল-উসুল’। যার অর্থ- ‘নীতিগতভাবে’।

যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তি বা সমঝোতাকে অনুমোদন দেওয়ার ফার্সি ভাষার একটি বিবৃতিতে মোজতবা এই শব্দটি ব্যবহার করেন। চুক্তি অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি এই চুক্তি চাননি। বলেন, ‘নীতিগতভাবে, আমার ভিন্ন মত ছিল।’

দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও শব্দটির রেশ এখনো তেহরানের ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র, গণমাধ্যম ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই শব্দটি ইরানকে একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করা আদৌ উচিত কি না?

শব্দটির নানা ব্যাখ্যা
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এমন এক শাসনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে। তবে সমঝোতা স্মারকের অনুমোদনে মোজতবার ওই শব্দের ব্যবহার অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। ফলে বিভিন্ন গোষ্ঠী এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে।

এক পক্ষের মতে, এই শব্দটি ইঙ্গিত দেয়- মোজতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর মতো সংশয়বাদী নেতা ভেঙে পড়া অর্থনীতি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে যুদ্ধের হুমকি এড়ানোর পথ হিসেবে কূটনীতিকে বেছে নিয়েছেন।

অন্য পক্ষের মতে, সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে ‘ভিন্ন মত’ উল্লেখ থাকাটা চুক্তি প্রতিহতের সবুজ সংকেতকে ইঙ্গিত করে। এই পক্ষের সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা একটি ফাঁদ। আলী খামেনিকে হত্যাকারী শত্রুদের কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। নতুন কোনো ছাড় দেওয়ার ফাঁদে না পড়ে ইরানের উচিত এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসা।

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

তেহরান থেকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, বিবৃতির ওই একটি শব্দ বর্তমানে শাসনব্যবস্থার ভেতরে সংকট তৈরি করেছে। এটি কমান্ডারদের, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। তারা ভাবছেন মোজতবা এই আলোচনায় খুশি নন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সন্দেহ বেড়েছে
পার্লামেন্টে কট্টরপন্থীদের আধিক্যের কারণে এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তেহরানের ওই কর্মকর্তা সন্দেহের উদাহরণ হিসেবে কট্টরপন্থী আলেম ও এমপি মাহমুদ নাবাবিয়ানের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খামেনির কিছু গোপন চিঠি পড়ে শোনান নবাবিয়ান। তিনি দাবি করেন, চিঠিগুলো প্রমাণ করে চুক্তির আলোচনাকারীরা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অমান্য করে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।

নাবাবিয়ান এমন দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন পরিচালক পদত্যাগ করেন। তেহরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, সাক্ষাৎকারে নবাবিয়ান যা বলেছেন তা সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত সবকিছুকেই বড় ধরনের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

এই সন্দেহের দোলাচল রণক্ষেত্রেও পৌঁছে গেছে। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দায়িত্বরত আইআরজিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই প্রণালি দিয়ে কারা পার হবে তা আমরা ঠিক করব। এ দায়িত্ব তেহরানের এসি রুমে বসে থাকা কেউ কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো কর্মকর্তার নয়। আমরা এখানে আছি এবং আমরাই ঠিক করব কে আসবে আর কে যাবে।’

তেহরান থেকে দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেছেন, শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পুরো বিষয়কে প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি নীরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলা।

এদিকে মোজতবার বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁর শ্বশুর ও সাবেক স্পিকার গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল। গত সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, মোজতবা দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ঐক্যের কথা বলে আসছেন। তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে বিভক্ত করবেন- এটা ভাবা যায় না।

আদেলের মতে, এই বার্তাটিকে একটি লাইনে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্পূর্ণভাবে পড়তে হবে। ‘আলাল-উসুল’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যাই বিভেদের কারণ হয়েছে। মোজতবা চুক্তিকে নস্যাৎ করা তো দূরের কথা, তিনি বরং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ইরানি আলোচকদের হাত শক্তিশালী করছেন।

রাজনৈতিক কৌশল
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিবৃতিতে এমন শব্দের ব্যবহার এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশলকে ইঙ্গিত করে। মোজতবার বাবা আলি খামেনিও এমন কৌশল অবলম্বন করতেন। মোজতবা সম্ভবত চুক্তির দায় নিজের কাঁধে নিতে চাননি। তাই তিনি বিবৃতিতে নিজের অবস্থান এমনভাবে তুলে ধরেছেন যা সব অবস্থাতেই তাঁর জয় নিশ্চিত করে।

চুক্তিটি সফল হলে অনুমোদনকারী হিসেবে মোজতবা নিজেও কৃতিত্ব পাবেন। আর যদি ভেস্তে যায়, তবে তিনি নিজের ‘ভিন্ন মত’ থাকার দোহাই দিতে পারবেন। তখন সব ব্যর্থতার দায় বর্তাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর।

আলী খামেনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও ঠিক এমন কাজ করেছিলেন। তিনি প্রথমে একটি রেড লাইন বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকারের করা চুক্তিটি যখন ব্যর্থ হয়, তখন আলী খামেনি সেটির দায় নিতে চাননি।

তেহরানের একজন বিশ্লেষক টেলিগ্রাফকে বলেন, অন্তত সাতটি গোষ্ঠী মোজতবার বিবৃতির মূল বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা তৈরি করছেন। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে কট্টরপন্থীরা। তারা চুক্তির আলোচনাকারীদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অপরদিকে আছে সরকারপন্থী গণমাধ্যম। তারা সমঝোতাকে প্রচার করছে জাতীয় বিজয় হিসেবে।

সাতটি গোষ্ঠীর মধ্যে একাংশ আবার মনে করছে, মোজতবার উল্লেখ করা ওই শব্দের হয়তো বিশেষ বা গভীর কোনো অর্থই নেই।

কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবে, বিশ্বাস প্রেসিডেন্টের

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপপর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলকে রুখে দিয়ে নকআউটের টিকিট পেয়েছে দলটি। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাউন্ড অব ৩২-এ আফ্রিকার দেশটির প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের কথাই শুনিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দেশের।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক আসরেই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখায় তারা। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে নবাগত দলটি। একই সময়ে স্পেনের কাছে উরুগুয়ের পরাজয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্বের সব ম্যাচে জয় নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শক্তির বিচারে আর্জেন্টাইনদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলতে নামবো। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের সবসময় মানুষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা আছে।’

নেভেস জানান, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা। নকআউটে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি সেই যাত্রার স্বাভাবিক পরিণতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লেখার জন্য, আর সেই পথেই এখন আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করার সুযোগ এসেছে। তাই একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামবো। আমাদের লক্ষ্য একটাই, পরের রাউন্ডে ওঠা।’

জার্মানির সেই গোল কেন বাতিল, ব্যাখ্যা দিল ফিফা

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বাতিল হওয়া গোল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির জোনাথন তাহর গোলটি বাতিল করায় অনেকেই ভিএআরের সমালোচনা করেছেন। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিএআরে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক উল্লেখ করে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ফুটবলে সময় অপচয় বন্ধ করতে এবং খেলাটি আরও সুন্দর করতেই কিছু কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে।

শেষ ষোলোতে ওঠার ওই লড়াইয়ে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচে ১-১ গোলের সমতা ছিল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন সেন্টার ব্যাক জোনাথন তাহ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গোল বাতিল করেন রেফারি।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। জার্মানির ভক্ত-সমর্থকদের মতে, তাহর গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

তবে এসব সমালোচনা গায়ে মাখছে না ফিফা। সংস্থাটির রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি বলের প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, বিশেষ করে গোলরক্ষকের নড়াচড়ায় বাধা দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ফাউল হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোলরক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এসব নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

 

ফিফার রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনায় গোল বাতিল হলে সেটি অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়।’

এ সময় ম্যাচে কালক্ষেপণ কমাতে ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন কলিনা। গোল কিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং চোট পেলে খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার নিয়ম ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন কলিনা বলেন, ‘এ পদক্ষেপগুলো সবই অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

কোডভিত্তিক সব লেনদেন আজ থেকে বাংলা কিউআরে

আজ ১ জুলাই থেকে কোডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলা কিউআরে শুরু হচ্ছে। যে কোনো ব্যাংক, এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে সব ধরনের পরিশোধ করা যাবে।

এতে দোকান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে আর আলাদা কিউআর রাখতে হবে না। মঙ্গলবার মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআর ভালোভাবে বাস্তবায়ন হলে পুরো লেনদেন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ কমবে। এটাকে জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআর লেনদেনের একটি পর্যায় পর্যন্ত খরচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর বাদ দিয়ে বাংলা কিউআর চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত এপ্রিলে একটি সার্কুলার দেয়। সেখানে বলা হয়, সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওগুলোকে তাদের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব মালিকানার কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলা কিউআরে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তঃলেনদেন নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পয়েন্টে গ্রাহকের জন্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে বলা হয়।

অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০ দশমিক ৩২৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

খামেনির জানাজায় ইরান যাচ্ছে জামায়াত প্রতিনিধি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল। দলটির নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার জামায়াত নেতা আগামী ৩ জুলাই তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি। এ হামলায় ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের ইতি টানতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ আলোচনা চালাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের ওপর হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। ফলে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এর মধ্যেই তেহরান সরকার জানিয়েছে আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা ৪ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও মাশহাদ—এই তিনটি শহরে কয়েকদিন ধরে জানাজা ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলবে। ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে জানাজা হবে। কোম শহরে আরেকটি জানাজা হতে পারে। আলী খামেনিকে ৯ জুলাই তাঁর নিজ শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (রহ.) মাজারে দাফন করা হবে।

আলী খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের দলগুলোর মধ্যে জামায়াত শোক জানিয়ে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে সই করে। সংসদে আলী খামেনিকে শহীদ আখ্যা দিয়ে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান সরকারের আমন্ত্রণে শহীদ খামেনির শেষ বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন দলীয় প্রতিনিধিরা। জামায়াত এমপি মো. নুরুল আমীন ও ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং দলীয় ডা. এসএম খালিদুজ্জামান তেহরান যাবেন। প্রতিনিধিদল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।

নতুন ৩ উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা তিনটি হচ্ছে- চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও।’ একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে করা হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

অধস্তন আদালতে বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট বাধ্যতামূলক নয়

দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচারক এবং আইনজীবীদের পোশাকবিধিতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য কালো কোট পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না।

মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা গাউন পরিধান করবেন। পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে সাদা ফুলশার্ট অথবা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সাদা নেক ব্যান্ড পরবেন। তবে তাদের জন্য কালো কোট পরা বাধ্যতামূলক নয়।

আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও আগের পোশাকবিধির অন্যান্য অংশ বহাল রাখা হয়েছে। তারা সাদা ফুলশার্ট অথবা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই পরিধান করবেন। তবে তাদের জন্যও কালো কোট ও গাউন পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালতসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেষবারের মতো বিটিভি প্রাঙ্গণে ‘পাপেটম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার

আজীবন যে প্রাঙ্গণকে সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা ও নির্মাণশৈলীতে সমৃদ্ধ করেছেন, শেষ বিদায়েও সেখানেই ফিরলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও বাংলাদেশের পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ‘পাপেটম্যান’ খ্যাত মুস্তাফা মনোয়ার। মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজা। শেষ বিদায় জানাতে সহকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত হন।

সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ।

জানাজায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদ। তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন শিল্পী নন, টেলিভিশন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য মানুষের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড। তাঁর সঙ্গে আড্ডা মানেই ছিল নতুন কিছু শেখা।

নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও স্মরণ করেন ম হামিদ। তিনি বলেন, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির সুযোগ পেলেও মুস্তাফা মনোয়ারের পরামর্শেই তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দেন। “তিনি বলেছিলেন, ‘ওখানে তোমার জায়গা নয়, তুমি টেলিভিশনে আসো।’ তাঁর সেই পরামর্শই আমার কর্মজীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে।”

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তাঁর অবদান নেই। বিটিভির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমিসহ নানা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বদের তালিকায় মুস্তাফা মনোয়ারের নাম থাকবে প্রথম সারিতে।

তিনি বলেন, কৈশোর থেকেই আমরা তাঁর সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে পরিচিত। তিনি অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী ছিলেন। যে দায়িত্বই পালন করেছেন, সেখানেই রেখে গেছেন তাঁর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সবার জন্যই সৌভাগ্যের। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিটিভিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।