Home Blog Page 423

নতুন পোপ নির্বাচিত হলেন আমেরিকান রবার্ট প্রিভোস্ট

রোমান ক্যাথলিক গির্জার নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন আমেরিকান রবার্ট প্রিভোস্ট। তিনি প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের উত্তসূরি হলেন। পোপ হিসাবে রবার্টের নাম হবে পোপ লিও। কার্ডিনালরা দ্বিতীয় দিনে এসে গোপন ভোটের মাধ্যমে নতুন পোপ নির্বাচন করতে পেরেছেন।

ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি থেকে সাদা ধোঁয়া বের হয়েছে। অর্থাৎ রোমান ক্যাথলিকদের নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দুই দিনে পোপ নির্বাচিত হওয়া আগেরবারের দুই কনক্লেভের (নির্বাচনের প্রক্রিয়া) সময়সীমার সঙ্গে মিলছে।

নতুন পোপের দুই পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিস ও পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ-দুজনই দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৭৮ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল নির্বাচিত হয়েছিলেন তিন দিনে। তিনি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা পোপ ছিলেন।

ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার পোপ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই দিন স্থানীয় সময় বিকেলে প্রথম দফায় ভোট দেন কার্ডিনালরা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হয়। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটে পোপ হিসেবে কেউ নির্বাচিত হননি। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে দুই দফা ভোটাভুটির পরও কালো ধোঁয়া বের হয় চিমনি দিয়ে। তাই এদিন আবারও ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পোপ নির্বাচনের প্রথা অনুযায়ী কনক্লেভের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন চারবার ভোট দেন কার্ডিনালরা।

এবারের কনক্লেভের মাধ্যমে ২৬৭তম পোপ নির্বাচিত হলেন। এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন ৭০টি দেশের ১৩৩ জন কার্ডিনাল। যে কার্ডিনালদের বয়স ৮০ বছরের নিচে, প্রথা অনুযায়ী তারাই কেবল নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন। নির্বাচনের সময় তাঁদের কঠোর গোপনীয়তা মেনে চলতে হয়।

দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান এনসিপির

দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান এনসিপির

কাশ্মীরের পেহেলগাম ইস্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারত ও পাকিস্তানে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে দুই দেশ। এ নয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। বিশ্বনেতারও এই হামলার ইস্যুতে প্রতিক্রীয়া জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
উভয়পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অন্তর্র্বতী সরকারকে দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, গতকাল দিবাগত রাতে ভারত কর্তৃক পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে আরো ঘনীভূত করেছে এবং এক ধরনের যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সরাসরি আঘাত করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বিবাদমান উভয়পক্ষকে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতির স্বার্থে যথাযথ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
দলটির সালেহ যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চক্রান্তে লিপ্ত। তারা সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের জান-মালের ক্ষতি সাধনে সক্রিয় রয়েছে।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের এবং এর সার্বভৌম নাগরিকদের দ্বারা সংগঠিত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে এনসিপি। এই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনসিপি সক্রিয় ভূমিকা পালনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জনগণের সংগঠিত শক্তি এবং সর্বাত্মক সতর্কতাই বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র ও বৈদেশিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে সক্ষম

আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী

আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, কেউ দীর্ঘদিন রাজনীতি করেনি বা আওয়ামী লীগের আমলে যারা দোসর ছিলেন না, এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন, যারা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, টাকা পাচার পছন্দ করেননি কিংবা নিজেরাও এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় এ ধরনের মানুষ বিএনপির নতুন প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে।
তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে অনেক আগেই দূরে সরে গেছেন। ক্লিন ইমেজ রয়েছে যাদের। এছাড়া শ্রমিক, কৃষক, ব্যাংকার অর্থাৎ এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত তারা সবাই আমাদের নতুন সদস্য হতে পারবেন, যদি আমাদের দলের আদর্শ ধারণ করেন।
আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী
রিজভী বলেন, বিএনপির নতুন সদস্য হতে পারবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যারা বিএনপিকে পছন্দ করেন, তারা আগ্রহী হবেন বিএনপির সদস্য হতে, এটা প্রত্যাশা করি। কারণ, এখন তো শেখ হাসিনার সেই আগ্রাসন আর নেই।
তিনি আরও বলেন, এবার বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হতে হলে আগে প্রাথমিক সদস্য ফরম নিতে হবে এবং রশিদ কাটতে হবে। এভাবেই যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সদস্য পদ দেওয়া হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। ১৪ মে থেকে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত এ মেয়াদ বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশের কথা বলা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী বর্ণিত অধিক্ষেত্রে অর্থাৎ সারা দেশে ও সময়কালে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ডে প্রেষণে নিয়োজিত সমমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) সারা দেশে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ ধারার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যক্রম চালাতে পারবেন।’ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দুই মাস বা ৬০ দিনের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সরকার।
পরে ১৫ নভেম্বর, ১২ জানুয়ারি ও ১৩ মার্চ তিন দফায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া ক্ষমতা দুই মাস করে বাড়িয়ে আসছে সরকার।

আ. লীগের বিচারে সরকারের নতুন উদ্যোগ, জানালেন উপদেষ্টা

আ. লীগের বিচারে সরকারের নতুন উদ্যোগ, জানালেন উপদেষ্টা

গণহত্যায় জড়িত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রভিশন যুক্ত করা হবে। ফ্যাসিস্ট লীগের বিচার হবেই।
তিনি আরো বলেন, বিচারকাজ তরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হচ্ছে।

দেশে তিন স্তরে কমছে ইন্টারনেটের দাম

দেশজুড়ে তিনটি স্তরে ইন্টারনেটের দাম কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানান তিনি।

ফয়েজ আহমেদ লিখেছেন, ফাইবার অ্যাট হোমের ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছেন নতুন তিনটি স্তরে ইন্টারনেটের মূল্য কমছে। এরমধ্যে আইটিসি পর্যায়ে ১০ শতাংশ, আইআইজি পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং এনটিটিএন বা ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্য হ্রাস করবেন তারা।

‘এর আগে, আইএসপি লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঁচ এমবিপিএসের পরিবর্তে ৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএস ইন্টারনেট প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তারও আগে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে পর্যায়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি সকল আইআইজি এবং আইএসপি গ্রাহকদের জন্য ১০ শতাংশ এবং পাইকারি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ মোট ২০ শতাংশ দাম কমিয়েছে।

এ নিয়ে ইন্টারনেট লাইসেন্স রেজিমের মোট তিন থেকে চারটি স্তরে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাকি আছে শুধু মোবাইলসেবা দাতা ৩টি বেসরকারি কোম্পানির দাম কমানোর ঘোষণা।’

ইতোমধ্যেই সরকার মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বিডব্লিউডিএম এবং ডার্ক ফাইবার সুবিধা প্রদান করেছে জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেটের দাম না কমানোরও কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ কিংবা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না।

‘সরকার মোবাইল সেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে পলিসি সাপোর্ট দিয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তরগুলোতে পাইকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটের দামও কমিয়েছে। এখন তাদের জাতীয় উদ্যোগে শরিক হওয়ার পালা। আশা করছি মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানোর পদক্ষেপে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিও সামান্য কিছুটা কমে আসবে।’

ফয়েজ আহমেদ জানান, ঈদুল ফিতরের দিন থেকে সরকারি মোবাইল সেবা টেলিটক ১০ শতাংশ মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার আশা করে অতি দ্রুতই তিনটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য পতনের ঘোষণা দেবে। সরকার এখানে দুই ধরনের মূল্য ছাড় আশা করে।

১. মার্চ মাসে এসআরও অ্যাডজাস্টমেন্ট বাবদ মোবাইল কোম্পানিগুলো যে মূল্য বাড়িয়েছিল সেটা কমাবে। (সরকার শুল্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে তা থেকে সরে এসেছে, কিন্তু সে মতে বর্ধিত মূল্য কমায়নি মোবাইল কোম্পানিগুলো।)

২. আন্তর্জাতিক গেটওয়ে/আইটিসি, আইআইজি এবং ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন পর্যায়ে যতটুকু পাইকারি দাম কমানো হয়েছে তার সমানুপাতিক হারে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমাবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী ফেসবুকে আরও ‍লিখেছেন, বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের মানে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি। এমতাবস্থায় গ্রাহকস্বার্থে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিদায় স্কাইপ: ইন্টারনেট যোগাযোগের এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে একে অপরের সাথে জুড়ে রাখার পর, জনপ্রিয় ভিডিও ও অডিও কলিং সফটওয়্যার স্কাইপ সোমবার (৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই অ্যাপটি স্কাইপি বা স্কাইপে নামেই বেশি পরিচিত ছিল।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের ধারণাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছিল স্কাইপ। ২০০৩ সালে বাজারে আসার পর থেকেই বিনামূল্যে ভয়েস ও ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা দিয়ে এটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে কিছু বিশেষ ফিচার যুক্ত করে পেইড সংস্করণও চালু করা হয়, তবে এর মূল আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যে যোগাযোগের সুযোগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্কাইপের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্কাইপের জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছিল। সেই সময় অ্যাপটির সক্রিয় মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১১ সালে মাইক্রোসফট ৮৫০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কে স্কাইপকে কিনে নেয়। সেই সময় মাইক্রোসফটের অনলাইন যোগাযোগ কৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল এই অ্যাপটি। তবে সময়ের সাথে সাথে হোয়াটসঅ্যাপ, জুম এবং খোদ মাইক্রোসফটের টিমসের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয়তার দৌড়ে স্কাইপকে পেছনে ফেলে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলোতেও যখন অডিও-ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা যুক্ত হলো, তখন অনেকেই একসময়ের অপরিহার্য স্কাইপের ব্যবহার ভুলতে শুরু করেন।

অবশেষে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাইক্রোসফট ঘোষণা করে যে তাদের বিভিন্ন যোগাযোগ সেবাকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ৫ মে স্কাইপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে মাইক্রোসফট তাদের ‘টিমস’ প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আরও বেশি মনোযোগ দেবে।

ফলে আজ থেকে স্কাইপের পেইড এবং ফ্রি উভয় সংস্করণই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্কাইপ ফর বিজনেস’ আরও কিছু দিন চালু থাকবে। যদিও মাইক্রোসফট তাদের স্কাইপ ডট কম ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ সুবিধা রেখেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্কাইপের কন্টাক্ট এবং চ্যাট হিস্টোরি খুব সহজেই মাইক্রোসফট টিমসে স্থানান্তর করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াতে পুরোনো লগইন পাসওয়ার্ডের কোনো পরিবর্তন হবে না, কেবল স্কাইপের পরিবর্তে একটি টিমস অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। ব্যবহারকারীরা ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তাদের ডেটা ডাউনলোড অথবা মাইগ্রেট করার সুযোগ পাবেন। এরপর স্কাইপের সমস্ত তথ্য চিরতরে মুছে দেওয়া হবে।

এটা যুদ্ধ নয়, মুনাফার খেলা: নচিকেতা

জীবনমুখী গানের শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সুরে ফুটে উঠেছে ফুটপাতের বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে যুদ্ধবিরোধী বার্তাও। সেই গানেই আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি-‘একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে।’

সম্প্রতি কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জবাবে মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মিরের ৯টি স্থানে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত, যাকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গায়ক নচিকেতা। ভারতীয় এক পত্রিকায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নিয়ে আমি আতঙ্কিত একটা কারণেই-সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। আপনি-আমি।’

নচিকেতা বরাবরই স্পষ্টভাষী। তাঁর মতে, ‘‘পৃথিবীতে যত যুদ্ধ হয়েছে, সবকিছুর পেছনেই বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। সব যুদ্ধই ‘স্পনসর’ করা হয়! আমি সেটা প্রমাণ করতেও পারি।”

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মুনাফাবাজির প্রসঙ্গ টেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন নচিকেতা। তিনি বলেন, ‘রকফেলারদের তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা সেই সময় জার্মানি ও ইতালি-উভয় দেশকেই পেট্রোল সরবরাহ করেছিল। এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে-কারও মতে এটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আবার কারও মতে কেবলই ব্যবসা।’

গায়কের উপলব্ধি, ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, যুদ্ধ আসলে মুনাফার খেলা। আর কারা এই মুনাফা পায়-তা বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে কষ্ট হয় না।

অপারেশন সিঁদুরে বলিউড তারকাদের সমর্থন

পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে ভঙ্গ করে বিভিন্ন চুক্তি। জম্মু-কাশ্মীরে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মধ্যরাত পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের পদক্ষেপ নেয় ভারত সেনাবাহিনী।

‘অপারেশেন সিঁদুর’ নামের মিশনে পাকিস্তানের ৯ টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মতে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন বলিউড তারকারা। পরেশ রাওয়াল, রিতেশ দেশমুখ, নিমরত কৌর, সুনীল শেঠি, অনুপম খের সহ আরও কিছু তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

অপারেশন সিঁদুর-এর হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে রিতেশ লেখেন, ‘হিন্দ সেনাদের জয়, ভারত মায়ের জয়।’ পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর লেখেন, আমাদের বাহিনীর জন্য প্রার্থনা করছি। এক জাতি, আমরা সবাই তোমার পক্ষে। জয় হিন্দ, বন্দে মাতারাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের লিখেছেন, ‘ভারত মাতার জয় অপারেশন সিঁদুর।’

নিমরত কৌর লিখেছেন, আমরা সেনাবাহিনীর পাশে আছি। এক দেশ, এক মিশন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন প্রবীণ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। তিনি কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে পাওয়া সূত্রমতে, পেহেলগাম হামলার প্রতিবাদে এটি কেবল ভারতের প্রথম পদক্ষেপ। পরবর্তীতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন খালেদা জিয়া, উজ্জীবিত বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে মনে করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পর, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ মে) উন্নত চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরার সময় তাকে হেঁটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লন্ডনে চার মাস পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থাকায় তিনি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, বিএনপি প্রধান এবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র সংকটে রয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি গণতন্ত্রের অগ্রদূত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অপরিহার্য।”

দলের নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপিকে পথ দেখাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দলের বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে তিনি অবশ্যই আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, গণতন্ত্র উত্তরণ এবং গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় তিনি সবসময় আমাদের নেতৃত্বে থাকবেন।”

বিএনপির নেতারা মনে করেন, সভা-সমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে। তবে, সবকিছুই নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর।