Home Blog Page 428

নির্বাচনে জিতে সিঙ্গাপুরের ক্ষমতায় আবারও পিএপি

সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছে পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। এর মধ্য দিয়ে টানা ৬৬ বছরের মতো দেশটির ক্ষমতায় টিকে থাকল দলটি। এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়াংয়ের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

শনিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টের ৯৭টি আসনের মধ্যে ৮৭টি পেয়েছে পিএপি। এছাড়া ৩৩টি নির্বাচনি এলাকার বেশিরভাগেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে দলটি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে পিএপি। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। ফলাফল ঘোষণার পরপরই পতাকা নেড়ে ও আনন্দ করে বিজয় উদযাপন করেন পিএপির সমর্থকরা।

১৯৫৯ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের শাসনক্ষমতায় রয়েছে এই দলটি।

নির্বাচনে জয় পেয়ে সিঙ্গাপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়াং। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন অর্থনীতিবিদ।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে একের পর এক শুল্কারোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার ওই তালিকা থেকে বাদ যায়নি সিঙ্গাপুরও। এ কারণে নির্বাচনি প্রচারের সময় এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর দেশটি পরিচালনার জন্য জনগণের সমর্থন চেয়েছিলেন লরেন্স।

এবার নির্বাচন জিতে তিনি বলেন, ‘এই ফলাফল সিঙ্গাপুরকে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে আরও ভালো অবস্থানে রাখবে।’

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক ইউজিন তান বলেন, ২০২০ সালের পর বিরোধীদের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়াটা বিস্ময়কর। তবে দীর্ঘদিন ধরে যারা সেবা দিয়ে আসছে, জনগণ তাদের প্রতিই আস্থা রেখেছেন বলেন মন্তব্য করেন তিনি।

গত বছর সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লরেন্স ওয়াং। এর আগে দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলে লি হসিং লুং। তিনি আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইয়েওয়ের ছেলে। লিয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে লি কুয়ান ইউয়ের শুরু করা পারিবারিক রাজনীতির অবসান ঘটে।

গতকালের ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনে মূল বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি ১০টি আসনে জয় পেয়েছে। গত নির্বাচনেও তারা ১০টি আসন পেয়েছিল। সিঙ্গাপুরে কোনো বিরোধী দলের এটি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার ঘটনা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ, জীবিকার উচ্চ ব্যয়, আয় বৈষম্য, নাগালের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যবস্থা ও মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা—এসব বিষয় বিশেষত তরুণদের মধ্যে পিএপির জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে।

বিরোধীদলগুলো জানিয়েছে, পার্লামেন্টে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে অনেক সময় সম্পদের অভাব, বিভক্ত সমর্থন ও দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ঘাটতির কারণে তাদের পিছিয়ে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেন তারা। তাছাড়া, নির্বাচনি এলাকার সীমার পুনর্বিন্যাস পিএপিকে বাড়তি সুবিধা দেয় বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা প্রীতম সিং জানান, তারা আরও ভারসাম্যপূর্ণ পার্লামেন্টের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, ‘ফলাফল যা হয়েছে তা ভুলে আমরা আগামীকাল থেকেই আবার কাজ শুরু করব।’

ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের সংসদীয় উপস্থিতি বাড়াতে না পারলেও কিছু এলাকায় শেয়ার ভোট বাড়িয়ে নিজেদের সমর্থন আরও সুসংহত করেছে বলে করেন মন্তব্য করেন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাজনীতি বিশ্লেষক ব্রিজেট ওয়েলশ। তবে অন্য ছোট বিরোধী দলগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

ওয়েলশের মতে, ‘বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরের ভোটাররা স্থিতিশীলতাকে বেছে নিয়েছেন। তরুণদের সঙ্গে ওয়াংয়ের সহজ-সরল বোঝাপড়া এবং পিএপিতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নতুন মুখ নিয়ে আসাও ভোটে প্রভাব ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই ফলাফলকে বলি, লরেন্স ও ট্রাম্পের প্রভাব। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ লরেন্সের ম্যান্ডেটকে আরও শক্তিশালী করেছে।’

এদিকে, সিঙ্গাপুর ও লরেন্স ওয়াংকে এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর প্রায় ৬০ বছর ধরে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

নবনির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ওয়াংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সবজি, মাছে অস্বস্তি কমেছে চালের দাম

নিত্যপণ্যের দাম কোনোভাবেই সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না। কিছু দিন পর দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও সাধারণ ক্রেতারা। মাছ, মুরগি, সবজি- কোনো কিছুতেই নেই স্বস্তি।

রাজধানীর বাজারে এখন সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। গেল এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। মাছের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এখন প্রায় অধিকাংশ সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অথচ মাসখানেক আগেও ৪০/৪৫ টাকা কেজির মধ্যে অনেক সবজিই পাওয়া যেত। পেঁয়াজের দামও কয়েক সপ্তাহ বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় আটকে আছে।

তবে দীর্ঘ সময় পর বাজারে চালের দাম নিম্নমুখী। ইরি-বোরো ধানের চাল আসায় নতুন মিনিকেট চালের দাম কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, শীত মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে এ সময় সবজির দাম কমে আসে। কিন্তু এখন সে তুলনায় গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম বেশি। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্য করল্লা, ঝিঙে, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি, পটোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কচুর লতি, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মাস আগেও এসব সবজি কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হয়েছে।

তবে টম্যাটো, পেঁপে ও আলুর দাম তুলনামূলক কম আছে। প্রতি কেজি টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

বাজারে মাছের দামও কিছুটা বাড়তি। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ইলিশসহ চিংড়ি মাছের দাম বেশি। প্রতি ৭০০ গ্রামের এক হালি ইলিশ ৫ হাজার টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতিপিস দুই থেকে তিন হাজার টাকা দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। ৪০০-৫০০ গ্রামের মাছ ১২০০-১৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে প্রতি কেজি চাষের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং নদীর চিংড়ি ১০০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে এর দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কম থাকে। কই, শিং, শোল, ট্যাংরা ও পুঁটির দাম বাড়তি। চাষের রুই, তেলাপিয়া ও পাঙাশও আগের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি চাষের রুই, কাতলা ৩২০-৩৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৪০ টাকা ও পাঙাশ ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা, খিলগাঁও ও তালতলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৮০ টাকায়। যেখানে পুরোনো একই চালের দাম ৭৮ থেকে ৮৮ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৪ থেকে ৮ টাকা কমেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, নতুন চালের দাম প্রতি বস্তায় (২৫ কেজি) ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। এখন প্রতি বস্তা মিনিকেটের দাম ২০০০ টাকার মধ্যে এসেছে, যা আগে ২২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দামই কমেছে। তবে পুরোনো কোনো চালের দাম এখনো কমেনি বলে জানান তারা। এদিকে বাজারে মোটা চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, মাঝারি চালের দাম ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি সরু নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা। বাজারে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লায় এ দাম আরো ৫ টাকা বেশি। এ ছাড়া বেশ কয়েক সপ্তাহ নিম্নমুখী ডিমের দরে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দামে। মাসখানেক ধরেই এই দামের আশপাশে রয়েছে ডিমের দর।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি ১৭০ থেকে ১৮০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এপ্রিলে ১৭ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে এপ্রিল মাসটা মোটেও ভালো কাটেনি বিনিয়োগকারীদের। ঈদের ছুটি কাটিয়ে শুরু হওয়া লেনদেনে লাগাতার পতনে ঘটায় এ মাসে ঢাকার বাজারে প্রধান সূচক কমেছে ৩০২ পয়েন্ট এবং বাজার পুঁজি হারিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরো মাসের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫২১৯ পয়েন্ট নিয়ে শুরু হওয়া লেনদেন মাস শেষে এসে ঠেকেছে ৪৯১৭ পয়েন্টে।

মাসে মোট ১৮ কার্যদিবস বাজারে লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ কার্যদিবসেই হয়েছে পতন। পতনের ধাক্কায় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, হয়নি নতুন করে অর্থলগ্নি। এতে করে বাজার হারিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি।

শুধু প্রধান সূচক নয়, মাসিক লেনদেনে বেহাল দশা শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসেও। পুরো মাসে এ খাতের সূচক কমেছে ৭৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে, বাছাইকৃত ভালো কোম্পানির শেয়ারেও হয়েছে বড় পতন। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ৯২ পয়েন্ট।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিসংখ্যান বলছে, এক মাসে ১১ হাজার ৪২৯ জন বিনিয়োগকারী নিজেদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা তুলে নিয়েছেন। বাজারে জিরো ব্যালেন্সের বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চালু থাকা বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক মাসে ১০ হাজারের ওপরে কমেছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এভাবে বাজারে পতন হতে থাকলে দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। যারা বুকে আশা বেঁধে এখনও বাজারে আছেন, প্রতিদিনই আশাভঙ্গ হচ্ছে তাদের। বাজারের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাওয়ায় কোনোভাবেই বাজার ঠিক করা যাচ্ছে না।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে শেয়ার ব্যবসা করছেন তারেক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হতো, ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লোকসান হবে না। বিনিয়োগকারীরা মন্দ শেয়ারে বিনিয়োগ করে, তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েক মাসে যেসব শেয়ারের দাম কমেছে তার বেশিরভাগই ভালো কোম্পানি। কী করে ১০০ টাকার শেয়ার ৩০-৪০ টাকায় নেমে আসে-এর জবাব কমিশন দিতে ব্যর্থ।’

আরেক বিনিয়োগকারী মনসুর আলী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মার্জিন ঋণের কারণে। এই ঋণ নিয়ে যারা শেয়ার কিনেছেন, ফোর্স সেলের কারণে তাদের ভালো শেয়ারও বিক্রি হয়ে গেছে। এতে করে বাজারে প্রতিটি শেয়ারের ওপর খারাপ প্রভাব পড়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের এক সদস্য বলেন, ‘মার্জিন ঋণ বাজারে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়য়েছে। এতদিন এই ঋণ প্রদান ও গ্রহণে শক্ত কোনো রীতি ছিল না। সম্প্রতি কমিশনের কাছে টাস্কফোর্স মার্জিন ঋণ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকা, সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা এবং বাজার বিনিয়োগ না থাকলে ঋণ দেওয়া হবে না মর্মে সুপারিশ করা হয়েছে।’

কমিশনের কাছে লক-ইন শেয়ার, উদ্যোক্তা শেয়ার, প্লেসমেন্ট, অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, বন্ড, ডিবেঞ্চার ও অতালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডে মার্জিন ঋণের অর্থ ব্যবহার না করার সুপারিশ জানিয়েছে টাস্কফোর্স।

বাজারে পুঁজি জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। এসব কোম্পানি বাজারে আনতে পারলে বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।’

তবে কমিশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাজারে বড় কোনো আইপিও আসার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে করে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’

তার ওপর সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ এবং পরবর্তীতে ২১ কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের মতো ঘটনা বাজারে ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনেনি বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার দুপুরের মধ্যে ভিসা আবেদন না করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত

হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সোমবার (৫ মে) দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় হজে যেতে পারবেন না হজযাত্রীরা।

লিড বা সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভিসা হয়নি বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (৩ মে) দুপুর বারোটায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তার বরাত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব হজযাত্রীর পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্য দিয়ে এখনও ভিসার আবেদন দাখিল করা হয়নি, তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন নুসুক মাসার প্লাটফর্মে এ দাখিল করতে হবে।
এরপরে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বন্ধ করে দেওয়ার পর আর কোনোভাবেই ভিসার আবেদন দাখিল করা যাবে না। ফলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যেসব হজযাত্রীর ভিসার আবেদন দাখিল করা হবে না, তারা চলতি বছরে হজে যেতে পারবেন না।

এ কারণে সোমবার দুপুর ১২ টার মধ্যে পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্যসহ ভিসার আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।

এতে আরও বলা হয়, হজ এজেন্সির অবহেলার কারণে কোনো হজযাত্রীর ভিসার আবেদন ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে দাখিল করা না হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সিকেই বহন করতে হবে।

এছাড়া, তাদের অবহেলার কারণে কোন হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হলে ওই সমন্বয়কারী এজেন্সি বা লিড এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১’ ও ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন হজ পালন করবেন।

ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২২,২০৩ হজযাত্রী। চলতি বছর হজ পালনের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২২ হাজার ২০৩ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে দু’জন হজযাত্রী মারা গেছেন।

রোববার (৪ মে) সকালে হজ পোর্টালে প্রকাশিত পবিত্র হজ-২০২৫ প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, সৌদি আরবে যাওয়া সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৪ হাজার ৫৬৪ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ১৭ হাজার ৬৩৯ জন। মোট হজ ফ্লাইট সংখ্যা ৫৪টি।

সর্বশেষ ২ মে হজযাত্রী ফরিদুজ্জামান (৫৭)। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো দুজন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৩ জন হাসপাতালে

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (৩ মে) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন।

রবিবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছে ৫৩ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯ জন।

বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ দশমিক ০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ০ শতাংশ নারী।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৭০৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ নারী।

আল্লামা নদভীর ইন্তেকালে চরমোনাই পীরের গভীর শোক জানাজায় অংশ নেবেন ইসলামী আন্দোলনের উচ্চ প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশের প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন, বিদগ্ধ আরবী সাহিত্যিক, কওমি শিক্ষাব্যবস্থার যুগান্তকারী সংস্কারক আল্লামা সুলতান যওক নদভীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

আল্লামা সুলতান যওক নদভীর ইন্তেকালের সংবাদে শোক প্রকাশ করে চরমোনাই পীর বলেন, আল্লামা সুলতান যওক নদভী ছিলেন আমাদের ইলমি রাহবার। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে তার যুগান্তকারী চিন্তা ও পদক্ষেপ জাতিকে এক উচ্চমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। একজন বাঙালি হয়েও আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তার পারদর্শিতা আরব বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। তিনি জগৎবিখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহর একজন একনিষ্ঠ ও সার্থক অনুসারী ছিলেন। তার ইন্তেকালে জাতি একজন ইলমি, আমলি ও আধ্যাত্মিক রাহবার হারালো।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার আব্বাজান শায়খ সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম রাহিমাহুল্লাহর সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। সেই সূত্র ধরে আমি ও আমার ভাইদের তিনি স্নেহ ও মমতায় দিকনির্দেশনা দিতেন। পরম মমতায় আগলে রাখতেন। তার মৃত্যুতে আমি ও আমার পরিবারও একজন দরদী অভিভাবক হারালাম। চরমোনাই পীর মরহুম সুলতান যওক নদভী রাহিমাহুল্লাহর শোকাহত আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের প্রতি সহমর্মীতা জ্ঞাপন করেছেন।

আল্লামা সুলতান যওক নদভী রাহিমাহুল্লাহর জানাজায় অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্জ জান্নাতুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডক্টর বেলাল নুর আজিজ, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল আলহাজ্ব আল মুহাম্মাদ ইকবাল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নুরুল বশর আজিজিসহ চট্রগ্রাম মহানগর, জেলার নেতৃবৃন্দ।

৯ মাসেও আ.লীগ নিষিদ্ধ হয়নি, এটাই আমাদের ব্যর্থতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ফ্যাসিস্ট দলে পরিণত হয়েছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে, যা নাগরিক থেকে দেশের মানুষের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (০২ মে) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। এ সরকারের হাতে বিচার ব্যবস্থাও জিম্মি। সরকার যদি বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জনতার আদালতেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশন আগ্রহ দেখায় না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণাকারী অংশ হয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা শেখ হাসিনাকে খুনি বলা যায় কি না– এ প্রশ্ন করে, তারা সাংবাদিক না, তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারের অভিযোগ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, স্বাধীনতার পর ‘আমার সোনার বাংলা’ স্বপ্ন মুজিববাদী সংবিধানে ব্যর্থ হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ থেমে গেছে, সমাজতন্ত্রের নামে পুঁজির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারেনি। পরে ছাত্র-জনতাই রাজপথে নেমেছে। কিন্তু ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর ৯ মাস পার হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যায়নি। এ বাস্তবতাই আমাদের ব্যর্থতা।

১৮ বছরে ২২ লাখ উদ্যোক্তার কাছে এসএমই ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের টেকসই উন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, এসএমই ফাউন্ডেশন গত ১৮ বছরে দেশব্যাপী প্রায় আড়াই লাখ উদ্যোক্তাকে সরাসরি এবং প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তাকে পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। সহায়তার আওতায় ছিল দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাজার সম্প্রসারণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি, এসএমই ক্লাস্টার উন্নয়ন, গবেষণা, এবং নীতিমালা প্রণয়নে পরামর্শ প্রদান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম সরদার এবং এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

সভায় জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা উপকারে এসেছে প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তার। এ ছাড়া ১১টি জাতীয় ও ৯১টি আঞ্চলিক এসএমই পণ্যমেলা আয়োজন, ১৭৭টি এসএমই ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণ ও একটি ক্লাস্টারে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার (সিএফসি) স্থাপন করা হয়েছে। ৫৭ জন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার।

তবে সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন অংশীজন জানান, দেশের ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার বিপরীতে এই উদ্যোগগুলো এখন পর্যাপ্ত নয়। ফলে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে এসএমই নীতিমালা ২০২৫। দেশের এসএমই খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাই এসএমই ফাউন্ডেশনের অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, ট্রেডবডি, অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার, ক্লাস্টার, একাডেমিয়া, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও এসএমই উদ্যোক্তারা।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে হাইব্রিড পদ্ধতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

সভায় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল ও প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান, শরীআহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

মিরাজের দারুণ শতকে ২১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ করল ৪৪৪। শুরুতে সাদমান ইসলামের ১২০, শেষদিকে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের শতক ছাড়াও এদিন দেখার মতো ছিল তানজিম সাকিবের ব্যাটিং, ৮০ বল খেলে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রান করেন অভিষিক্ত সাকিব।

মেহেদি হাসান মিরাজ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড নিয়ে গেছেন ২১৭ রানে। ঘরের মাঠে টেস্টে ১৫ ইনিংস পর ৪০০ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত মিরাজ ব্যক্তিগত ১০৪ রান উইকেট হারালে ৪৪৪ রানে থামে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বোলাররা এদিন খুব একটা চ‍্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি টাইগার ব‍্যাটারদের। গতকাল তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তির কারণ হওয়া লেগ স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকিসা আজ সকালের সেশনে নিতে পারেন কেবল তাইজুলের উইকেট।

এরপর তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে লিড ২০০ ছাড়িয়ে নিয়ে যান মিরাজ। বাংলাদেশের রান যখন ৪৩৮, জিম্বাবুয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন স্পিনার ওয়েসলি মাধেভেরে। তানজিম সাকিব ৪১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলে ভাঙে ৯৬ রানের ৯ম উইকেট জুটি।

টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে করেছিলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। এরপর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি মিরাজ। ভিনসেন্ট মাসেকিসাকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে হলেন স্টাম্পড। ১৬ বল খেলা হাসান মাহমুদ কোনো রান না করেই থাকেন অপরাজিত।