Home Blog Page 429

মিরাজের হাত ধরে সাকিবের ১১ বছরের রেকর্ডে নতুন পালক

হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর চট্টগ্রাম টেস্টে দাপুটে পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়। মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামদের তোপের সামনে সফরকারীরা দাঁড়াতেই পারেনি। জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারানোর পথে রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। এ নিয়ে তিনি সাকিব আল হাসানের ১১ বছরের পুরোনো কীর্তিতে ভাগ বসালেন।
এখন পর্যন্ত একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফাইফার নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের দুজনের। সর্বোচ্চ দুইবার এই কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব। এ ছাড়া সোহাগ গাজীর এমন নজির রয়েছে একবার। সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটারের রেকর্ডটির বয়স ১১ বছর হয়েছে। সাকিব ২০১৪ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই টেস্টে ব্যাট হাতে ১৩৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে দুই ইনিংসেই ফাইফার নিয়েছিলেন। সেঞ্চুরির পাশাপাশি দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি টাইগার ক্রিকেটার হিসেবে কেবল সাকিবের রয়েছে।
সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আরেকবার টেস্টে ফাইফার ও সেঞ্চুরি করেন ২০১১ সালে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে, সোহাগ গাজী ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান এবং ৭৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। এতদিন একই টেস্টে ফাইফার ও সেঞ্চুরির কীর্তি ছিল এই দুজনের। এরপর ১১ বছর আর কেউ ওই কীর্তিতে নাম লেখাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে এবার সেই রেকর্ডটিই ভাগাভাগি করলেন মিরাজ।
সব মিলিয়ে টেস্টে ইতিহাসে এমন কীর্তি নেওয়ার ঘটনা ৩৯টি। এর মধ্যে তিনটি বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ এক ইনিংসেই কেবল ব্যাট করেছে। যেখানে সাদমান ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪৪ রান। এর আগে শুরুতে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ২২৭ রানে অলআউট হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ লিড পায় ২১৭ রানের। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে সফরকারীরা মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। যা চলতি সিরিজের চার ইনিংসে তার তৃতীয় ফাইফার। এ নিয়ে টেস্টে তার ফাইফারের সংখ্যা ১৩টি। বাংলাদেশিদের মধ্যে সাকিব সর্বোচ্চ ১৯ এবং তাইজুল ১৬ বার টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। তবে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি সর্বোচ্চ ৩ বার রয়েছে কেবল মিরাজের। এ ছাড়া সাকিব-তাইজুল টেস্টে ১০ উইকেট নেন ২ বার করে।

আমেরিকা: এক যুদ্ধ-আসক্ত রাষ্ট্রের গল্প

যখন বিশ্বে যুদ্ধ, সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা বিদেশি অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ আসে, তখন প্রথম যে দেশের নাম উঠে আসে তা হলো আমেরিকা। অবাক করা বিষয় হলো, ২৪৮ বছরের ইতিহাসের মধ্যে ২৩২ বছরই এই দেশটি যুদ্ধের মধ্যে কাটিয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ইতিহাসের মাত্র ৬ শতাংশ সময় তারা যুদ্ধহীন থেকেছে। বিষয়টি শুধু একটি দেশের ইতিহাসের অংশ নয়, বরং অনেকেই মনে করেন যুদ্ধই যেন আমেরিকার অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন আমেরিকা ক্রমাগত সরাসরি যুদ্ধ, গোপন অভ্যুত্থান এবং আন্তর্জাতিক সংকটে জড়িয়ে পড়ে। এটা কি শুধুই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, নাকি দেশটির টিকে থাকার কৌশলের অপরিহার্য অংশ? অনেকের ধারণা, যুদ্ধের সঙ্গে আমেরিকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক কৌশল এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, এটি তাদের রাষ্ট্রীয় চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধে আসক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে তার এই বক্তব্য যে অতিরঞ্জিত নয়, সেটি অনায়াসে বুঝা যায়। ১৭৭৫ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমেরিকা প্রায় সবসময়ই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো যুদ্ধে লিপ্ত থেকেছে।

আমেরিকার আধিপত্যবাদী যুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৮৪৬ থেকে ১৮৪৮ সালের মধ্যে মেক্সিকোর জমি দখল করা হয়, ১৮১১ থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত চলে আমেরিকান আদিবাসীদের গণহত্যা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৯১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা, শীতল যুদ্ধের সময় কোরিয়া ও ভিয়েতনামে সামরিক হস্তক্ষেপ, ১৯৫৩ সালে ইরানের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো, এসব কিছুই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকেন্দ্রিক নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমেরিকার আগ্রাসন থামেনি। আফগানিস্তান ও ইরাক দখল, লিবিয়ায় সামরিক অভিযান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ড্রোন হামলা, সিরিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার নানা দেশে তাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সামরিক অভিযান আরও একাধিকবার সংঘটিত হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, আমেরিকার এই যুদ্ধনীতি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হয়। ২০২৩ সালে দেশটির অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অস্ত্র বাজারের ৫১ শতাংশ দখল করে আছে আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি। যুদ্ধের মাধ্যমে নতুন অস্ত্রের বাজার সৃষ্টি করা, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত করিডোরের দখল নেওয়া এসবই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির পেছনে বড় কারণ। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে তাদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

শুধু তাই নয়, আমেরিকা নিজেদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ অন্য জাতিগুলোর ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার একবার বলেছিলেন, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে যুদ্ধপ্রেমী দেশ, কারণ তারা সবসময় অন্যদের ওপর নিজেদের মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।

বর্তমানে এই যুদ্ধক্ষুধা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার হুমকি, পানামা খাল পুনর্দখলের দাবি, এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য বারবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব ইস্যু এখন মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এগুলো সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যেন আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ডিএনএর অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। শান্তির প্রয়োজন তাদের নেই, বরং যুদ্ধই তাদের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। তবে এই প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ধারা কি চিরকাল চলবে? নাকি বিশ্ব একসময় এই যুদ্ধবাজ নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে?

বর্তমানে আমেরিকার ইতিহাস, তাদের রাষ্ট্রীয় কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, শান্তি তাদের প্রধান লক্ষ্য নয়। বরং যুদ্ধই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান উপায়। তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা ৮৪% শুল্ক আরোপের ঘোষণা চীনের

মার্কিন পণ্যের ওপর বুধবার (৯ এপ্রিল) নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। লাইভ প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন আমদানি পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ক আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আরও ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৪% করবে বেইজিং।

সিএনএন জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই চীনা পণ্যের ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, এটি তার সমান। এটি বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

শুল্ক আরোপের পাশাপাশি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১২টি আমেরিকান কোম্পানির ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং আরও ছয়টি মার্কিন কোম্পানিকে ‘অনির্ভরযোগ্য সত্তা’র তালিকায় যুক্ত করেছে। এই তালিকার কোম্পানিগুলোকে চীনে ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ‘একের পর এক ভুল’

চীনের স্টেট কাউন্সিল ট্যারিফ কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের ওপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি একের পর এক ভুল। এটি চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করে এবং নিয়ম-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রতিশোধমূলক শুল্ক ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট চীনকে ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সবচেয়ে খারাপ অপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, চীন একটি শুল্ক চুক্তিতে আসতে এবং আলোচনা করতে চায় না।

তিনি বলেন, আমি আপনাকে বলতে পারি যে, এই বৃদ্ধি (চীনের) জন্য ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি আমাদের চীনে রপ্তানির চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ১৩১ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হলেও আজ শনিবার এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আসামিপক্ষের আইনজীবী, আসামিদের পরিবারের সদস্য এবং ভিকটিম আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ ও বাবা বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আবরার ফাইয়াজ বলেন, রায় বহাল রয়েছে। আমরা অবশ্যই সন্তুষ্ট। আমরা আশা করবো অতি দ্রুত যে প্রক্রিয়াগুলো আছে সেগুলো সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা হোক।

আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, নিম্ন আদালতের রায় বহাল রয়েছে।

এ রায়টা যেন অতিদ্রুত কার্যকর হয়। আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। এ রায় দ্রুত কার্যকরে সরকারের কাছে দাবি জানাই।একজন আসামির জেল থেকে পলাতকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমরা ছয় মাস পরে জানলাম।

এটা আমাদের কাছে প্রশ্ন না করে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন করাই ভালো। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। 

এর আগে শুনানি শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার, খন্দকার বাহার রুমি, নূর মুহাম্মদ আজমী ও রাসেল আহম্মেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জব্বার জুয়েল, লাবনী আক্তার, তানভীর প্রধান ও সুমাইয়া বিনতে আজিজ।

আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, মাসুদ হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ শিশির মনির।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। পরে কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেন। পাশাপাশি অনেকে ফৌজদারি আপিলও করেছেন।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ওই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম ওরফে তানভির, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, মো. সাদাত এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মো. মিজানুর রহমান মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এহতেশামুল রাব্বি অরফে তানিম, মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল প্রকাশ জিসান, মুজতবা রাফিদ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, মো. আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মো. মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোব
র রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা। পরে রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

 

বিপিএম পদক পেলেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা

সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদক পেলেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ অনুষ্ঠানে তাকে এ পদক তুলে দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
একই দিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো ৬১ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এ পদক দেয়া হয়েছে। মোট চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক দেওয়া হয়। এগুলো হলো বিপিএম-সাহসিকতা, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সাহসিকতা ও পিপিএম-সেবা।
মো. জুয়েল রানা ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদপুর জোনে যোগদানের পর থেকেই মোহাম্মদপুর জোনে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময়োপযোগী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং পুলিশের হারিয়ে যাওয়া সম্মান পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মোহাম্মদপুর জোনের কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার এই জনকল্যাণমুখী পুলিশিং সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

বিমানের ইকোনমি ক্লাসে চড়ে প্রশংসায় ভাসছেন রজনীকান্ত

দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তকে বলা হয় মহাতারকা। ভারতের কোনো কোনো স্থানে তাকে দেবতার মতো সম্বোধনও করা হয় বলে শোনা যায়। এছাড়াও তার সিনেমা হিটের অসংখ্য নজির তো রয়েছেই। এত বড় অভিনেতা হয়েও বিমানের ইকোনমি ক্লাসে তাকে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। বিমানে তাকে এমন অবস্থায় দেখে অন্যান্য যাত্রীরা এসে ভিড় করলেন।

দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মুহূর্তে বিমান সিনেমা হলে রূপ নিল। অনুরাগীদের হাততালি, উচ্ছ্বাস অনায়াসে সামলাতে হাসিমুখে হাত নাড়লেন রজনীকান্ত। এরপরেই বসে পড়লেন নিজের আসনে। এমন এক মহাতারকাকে কাছ থেকে দেখে অভিভূত সবাই। মুহূর্তে সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে।

রজনীকান্তের আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে তিনি রজনীকান্ত নামে পরিচিতি লাভ করেছে। অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তার এমনও দিন গেছে, একসময়ে দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য তাকে দিন-রাত কাজ করতে হয়েছে। কখনো কুলি হয়ে জিনিসপত্র বয়ে দিয়েছেন, কখনো বাসের টিকিট কেটেছেন কন্ডাক্টর হয়ে। আজ সেই তিনি ৪০০ কোটি রুপির মালিক। তারপরও তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন না। বিমানে চড়েন ইকোনমি ক্লাসে।

গত বছরও রজনীকে এভাবেই বিমানের ইকোনমি ক্লাসে চড়তে দেখা যায়। সামান্য ধনী কিংবা খ্যাতির আলোয় সামান্য ভেসে থাকা মানুষও যেখানে বিজনেস ক্লাস ছাড়া বিমানে চড়েন না। সেখানে রজনীর এ অভ্যাস বলে দেয় এ বিনয়ই তাকে মহাতারকা করেছে। পাশাপাশি বিমানে উঠে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথাবার্তা চালিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে পেরেছিলেন মানুষের মাঝে থেকেই তিনি তারকা হয়ে উঠতে জানেন।

রজনীকান্তকে ২০২৪ সালের ‘ভেট্টিয়ান’ সিনেমায় শেষবার দেখা যায়। এবার অপেক্ষা ‘কুলি’ ও ‘জেলার ২’-র। ভক্তরা মুখিয়ে রয়েছেন ‘থালাইভা’র নতুন সিনেমার জন্য। এরই ফাঁকে বিমানে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারকাকে নিয়ে মজেছে নেটিজেনরা।

সারা বিশ্বে এই নায়কের অনুসারীও অসংখ্য, রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। এমন সময়েও নিজের সেই শুরুর দিনগুলো ভোলেননি তিনি। তাই আকাশে উড়েও পা তার মাটিতেই- এমনই বলছেন নেটিজেনরা।

‘পাত্রপক্ষ চায়, বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেই’

বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। পরিবার থেকে বহুদিন ধরে বিয়ে নিয়ে চাপ দেওয়া হলেও, অভিনয় ছাড়ার শর্তে কোনও সম্পর্কেই রাজি নন অভিনেত্রী। নিজের ক্যারিয়ারকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তার সঙ্গে আপস করার প্রশ্নই ওঠে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বলিউড বাবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি এখনও সঠিক জীবনসঙ্গীর খোঁজে আছেন। এর মধ্যে বহু পাত্রপক্ষের সঙ্গে দেখা হয়েছে, যাদের অনেকেই চেয়েছেন- বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেই।

এমন প্রস্তাব পেয়ে প্রত্যেকবারই বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

 

নুসরাত বলেন, ‘আমি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাই না, যে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে আপত্তি জানাবে। আমি জানি, কাকে বিয়ে করব, তা তখনই ঠিক হবে যখন এমন কাউকে পাব, যিনি আমাকে এবং আমার পেশাকে মেনে নেবেন।’

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, কিছুদিন আগে ঠাকুমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েও ঠাকুমা বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বয়স হচ্ছে, মা-বাবারও বয়স বাড়ছে- এখনই উপযুক্ত সময় কাউকে জীবনে নিয়ে আসার।’ এমনকী অভিনেত্রীর বাবা নাকি রীতিমতো হাল ছেড়ে দিয়েছেন! বলছেন, ‘আর বুঝিয়ে কাজ নেই।’

তবে নুসরাতের বক্তব্য, তিনি বাড়িতে এই নিয়ে ঝগড়া করেন না। বরং সবার কথা মন দিয়ে শুনলেও, সিদ্ধান্তটা নিজের মতোই নিতে চান।

তার কথায়, ‘বিয়ে তখনই করব, যখন মনে হবে এই মানুষটাই ঠিক।’

নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের ব্যাপারে খোলা মনেই ভাবেন এবং পাত্রপক্ষের সঙ্গে দেখা করতেও রাজি থাকেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল হয় না, কারণ অনেকেই চান তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন।

একইসঙ্গে রসিকতা করে বলেন, ‘এই মিটিংগুলোর খাবারের মেনু কিন্তু আমি ঠিক করি। ফলে পাত্র পছন্দ না হলেও, খাওয়াটা অন্তত ভালো হয়!’

এদিকে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নুসরাতের হরর ছবি ‘ছোড়ি ২’, যা ১১ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে এসেছে। ক্যারিয়ারে ফোকাস করছেন অভিনেত্রী এবং আপাতত বিয়ে নয়, পেশাই তার প্রথম অগ্রাধিকার।

‘সন্দেহজনক’ আউট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিসিবি

ম্যাচে চলছে তখন ৪৪ তম ওভার। শেষ উইকেটে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ৭ রান। স্ট্রাইকে থাকা মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বসেন। এতটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে। তবে এর পর সাব্বির যেটা করেছেন তা নিয়েই আলোড়ন তৈরি হয়েছে গোটা ক্রিকেট মহলে।

বল মিস করার পর আউট থেকে বাঁচতে ব্যাটটি পপিং ক্রিজে ঢুকিয়েও রহস্যজনকভাবে বাইরে এনে রাখেন সাব্বির। আর তাতেই শাইনপুকুরকে হারতে হয়েছে ৫ রানে। সাব্বিরের এমন সন্দেহজনক আউট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা ক্রিকেট পাড়ায়। আজ ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সেই আউটকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি)।

বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০২৪-২৫-এর গুলশান ক্রিকেট ক্লাব এবং শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে উদ্বেগের বিষয়টি অবগত আছে বোর্ড। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট এবং লীগের টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যেই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিসিবি খেলার অখণ্ডতা বজায় রাখার এবং ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো ধরণের দুর্নীতি বা অসদাচরণের প্রতি বোর্ডের শূন্য-সহনশীলতা নীতি রয়েছে বলেও জানানো হয়।

তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

ইনজুরি কাটিয়ে মেসির জোড়া গোল, ভক্তদের ভাষায় ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’

ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছিল ইনজুরির সময়টা। বাড়ছিল ভক্তদের অপেক্ষাও। সবুজ ঘাসের গোল বলটাও যেনো মিস করতে শুরু করেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে। অবশেষে মাঠে ফেরার গানে শুধু সাড়াই দেননি এলএমটেন। ৩৭ বছর বয়সে ইনজুরি থেকে দুই মাস দুই দিন পর ফিরে জোড়া গোলে রিতিমত মাতালেন মঞ্চ, মেজর লিগে রেকর্ড গড়ে পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ভক্তদের ভাষায়, ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’।

ম্যাচের শুরুতেই অ্যারন লং যখন গোল করলেন, ইন্টার মায়ামি তখন খাদের কিনারায়। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া দলের সামনে তখন দুই গোল ফিরিয়ে দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ। লিওনেল মেসি নামের জাদুকর আছে যে দলে, তাদের জন্য অসম্ভব বলে তো কিছু নেই! ৩৭ বছর বয়সেও সেরা সময়ের ছবি মেলে ধরে সেই চ্যালেঞ্জ জিতেই ইন্টার মায়ামিকে সেমি-ফাইনালে তুললেনে আর্জেন্টাইন মহানায়ক।

কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লস অ্যাঞ্জেলস এফসিকে ৩-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় মেসির দল পৌঁছে গেল শেষ চারে।

জোড়া গোল করে সেই জয়ের নায়ক মেসি। পিছিয়ে থাকা দলের আশা ফেরে তার গোলে, পরে জয়সূচক গোলও আসে তার পা থেকে।

প্রথম লেগে লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে ১-০ গোলে হেরে আসা মায়ামি দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে আরও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের নবম মিনিটেই। জটলার মধ্য থেকে মায়ামির রক্ষণের ভুলে নবম মিনিটে গোল করেন অ্যারন লং।

৩১তম মিনিটে চকিতে ফ্রি-কিক নিয়ে সরাসরি বল জালে পাঠান মেসি। মায়ামি মেতে ওঠে উল্লাসে। তবে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার উগো লরিস ও অন্যরা কেউ তখনও প্রস্তুতই ছিলেন না। তাদের দাবির মুখে ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি।

তবে মিনিট চারেক পরই সমতায় ফেরে মায়ামি। লুইস সুয়ারেসের টোকায় বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকেই আচমকা শট নেন মেসি। তার বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কোনাকুনি শট আশ্রয় নেয় জালে।

মায়ামির দ্বিতীয় গোলটি ছিল অদ্ভুত। ৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলমুকে আলতো করে চিপ করেন নোয়াহ অ্যালেন। তার সতীর্থ ফেদেরিকো রেদোন্দো ছুটে গিয়েও বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি, তবে উড়ন্ত বল ধরতে এগিয়ে এসে ফ্লাইট বুঝতে পারেননি লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার লরিসও। বল মাটিতে পড়ে ঢুকে যায় জালে।

৮২তম মিনিটে মায়ামির কর্নার থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলমুখে জটলার মধ্যে হ্যান্ডবলের আবেদন তোলেন মেসিরা। ভিএআর দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, মার্ক দেলগাদোর হাতে লেগেছে বল। থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া পেনাল্টিতে গোল করেন মেসি।

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দফায় বড় বিপদ থেকে মায়ামিকে রক্ষা করেন গোলকিপার অস্কার উস্তারি। শেষ বাঁশি বাজতেই খ্যাপাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো।

মাগুরায় ছাত্রদলের আহবায়ক চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সি কে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়  কেন্দ্রীয় সংসদের  সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মাগুরা জেলা  শাখার অধীনস্থ শ্রীপুর উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মুন্সি ইয়াসিন আলী সোহেলকে  কে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো এবং ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের তার ৎেকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার ও নির্দেশ দেন।

মাগুরা  শ্রীপুর উপজেলার আহবায়ক সোহেল মুন্সির  বিরুদ্ধে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফয়জুর রহমান নামে এক স্কুলশিক্ষক হুমকির মুখে ওই শিক্ষকের এখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এমন সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশিত হলে উর্ধতন নেতৃবৃন্দের নজরে আসে এবং জেলা ছাত্রদল সোহেল মুন্সি কে একটি কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন এবং নোটিশে বলা হয় আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষ জনক জবাব দিতে বলা হয়।

নোটিশের সঠিক জবাব না পাওয়ায় এবং চাঁদা,সরকারি জমি দখল,সরকারী গাছ কাটা সহ সকল ধরনের অপরাদ প্রাথমিক  প্রমানিত  হওয়ায় জেলা কমিটি শ্রীপুর  উপজেলা আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী  সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করে। তারই প্রেক্ষিতে ২৭/০৪/২৫ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সিকে  সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেন।