Home Blog Page 432

জনগণ নির্বাচন আদায় করে নেবে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারই চায় না নির্বাচন হোক। তিনি বলেন, নির্বাচন দিতে চাইলে ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। নইলে জনগণ নির্বাচন আদায় করে নেবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান অনেক সংস্কার করেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সংস্কার করার জন্য কখনই বিদেশ থেকে কাউকে আমদানি করেন নাই। কিন্তু এই সরকার কিছু বিদেশি লোককে আমদানি করেছে সংস্কার করার জন্য। সংস্কার সংস্কার করতে করতে তারা এমন জায়গায় চলে গেছে যে, তারা আর নির্বাচন দিতে চায় না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খুব দুঃখের সঙ্গে একটি কথা বলি, দেখলাম ইউনূস সাহেব জাপানে বসে বিএনপি সম্পর্কে বদনাম করছেন। একটু লজ্জাও লাগল না। দেশের সম্পর্কে বিদেশে বসে বদনাম করতে। তিনি (ড. ইউনূস) বললেন, একটি দল নির্বাচন চায়। আমরা বলতে চাই, একটি লোক নির্বাচন চায় না, সে হলেন ড. ইউনূস। উনি নির্বাচন চায় না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা ইউনূস সাহেব স্বয়ং বলেছেন। আমরা বলিনি। পরে তিনি (ড. ইউনূস) আবার নির্বাচন জুনের কথা বলেছেন। নির্বাচন যদি করতে হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই করতে হবে। আর যদি নির্বাচন করতে না চান, সেই দায়দায়িত্ব ইউনূস সাহেবের। বাংলাদেশের জনগণ এই নির্বাচন আদায় করবে। নইলে এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ঠিক থাকবে না।’

মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব সম্মেলন হজ

মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব সম্মেলন হজহজ আদায় করা মুমিনদের জীবনের এক বড় সৌভাগ্য। আল্লাহ আল কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর অবশ্য কর্তব্য হলো ওই পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহর হজ করা। পবিত্র হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইসলাম ধর্ম পাঁচটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এগুলো হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রসুল এ সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম, জাকাত আদায়, হজ করা ও রমজানে সিয়াম পালন (বুখারি, মুসলিম)।’

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘হে আমার উম্মত! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং সামর্থ্য হলে তোমরা হজ আদায় কর (মুসলিম) হজ সবার ওপর ফরজ নয়।’ হজ মূলত মুসলমানদের বিশ্ব সম্মিলন।

হজ ফরজ হতে হলে এ শর্তগুলো থাকা জরুরি- ১. মুসলমান হওয়া। কোনো অমুসলিমের জন্য হজ আদায় করার অনুমতি নেই। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র। তারা যেন মসজিদে হারামের কাছেও না আসে (সুরা তাওবাহ, আয়াত ২৮)।’ ২. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের ওপর হজ ফরজ নয়। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি থেকে আমলনামার কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে। তারা হলো- পাগল, যতক্ষণ না তার মস্তিষ্ক সুস্থ হয়। ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জেগে ওঠে। শিশু, যতক্ষণ পর্যন্ত সে প্রাপ্তবয়স্ক না হয় (মুসতাদরাক)।’ আজাদ বা স্বাধীন হওয়া। দাস-দাসীর ওপর হজ ফরজ নয়।

হজ আদায় করার সামর্থ্য থাকা। এ সামর্থ্য তিন দিক থেকে থাকা শর্ত যথা- ক. দৈহিক সামর্থ্য। অর্থাৎ কাবা শরিফ পর্যন্ত সফর করার শারীরিক যোগ্যতা থাকা। শারীরিকভাবে অক্ষম, অন্ধ, খোঁড়া, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, জরাজীর্ণ বৃদ্ধ স্বয়ং চলাফেরায় অক্ষম এরূপ লোকের ওপর হজ ফরজ নয়। এমন ব্যক্তির যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে তাহলে বদলি হজ করানো ওয়াজিব। খ. আর্থিক সামর্থ্য। অর্থাৎ পরিবারপরিজন, চাকরবাকরদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে কোনো ব্যক্তির কাছে হজে যাওয়া-আসা ও পাথেয় খরচ থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হবে। গ. নিরাপত্তা। যাতায়াতের পথ নিরাপদ থাকা। ৫. রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা না থাকা। ৬. হজের সময় বা মৌসুম হওয়া। হজের মৌসুম বলতে শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিনকে বোঝায় অথবা এমন সময়কে বোঝায় যখন থেকে রাষ্ট্রে হজের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

কোনো ব্যক্তির জীবনের কোনো একটি বছরে উপরিউক্ত শর্তগুলোর সমন্বয় ঘটলে তার ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়। সে যদি ওই বছর হজ আদায় না করে এবং পরে যদি সামর্থ্য হারিয়েও ফেলে তবু সে হজ আদায়ের দায় থেকে মুক্ত হবে না। মহিলাদের হজ ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরও দুটি শর্ত রয়েছে। ১. মহিলাদের সঙ্গে স্বামী অথবা এমন কোনো মুহরিম পুরুষ থাকা। মুহরিম তারা যাদের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ। কোনো নারী যদি মুহরিম সঙ্গী ছাড়া হজ করে তার হজ আদায় হবে, কিন্তু মুহরিম ছাড়া সফরের কারণে গুনাহ হবে। এ ক্ষেত্রে বদলি হজ করানোই উত্তম। ২. স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের কারণে ইদ্দত পালনকালে নারীরা হজে গমন করবে না (ফাতহুল বারি)।

হজ কখন আদায় করতে হয় এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত আছে। একদল আলেম মনে করেন কোনো ব্যক্তি যখন হজ করার সামর্থ্য লাভ করে তখন ওই বছরই হজ আদায় করা কর্তব্য। অন্যথায় বিলম্বের কারণে গুনাহগার হবে। বিলম্ব করে পরবর্তী কোনো বছরে আদায় করলেও হজ হয়ে যাবে। কিন্তু অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। কেননা হজ অনাদায়ী রেখে মৃত্যুবরণ করলে মারাত্মক গুনাহ হবে। হজ আদায়ের আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তার জীবদ্দশায়ই বদলি হজ করানো উচিত। আর এ সুযোগও না পেলে ওয়ারিশদের উচিত ওই ব্যক্তির বদলি হজ আদায় করে তাকে দায়মুক্ত করা।

কেননা হজ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর মহান আল্লাহর হক। আরেক দল আলেম বলেন, হজ ফরজ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে বিলম্ব করলে দোষ নেই। কারণ হজ ফরজ হয়েছে ষষ্ঠ হিজরিতে, রসুল (সা.) হজ আদায় করেছেন দশম হিজরিতে। তাই দেরি করে হজ করলে তাতে অসুবিধা নেই। তবে সব আলেম একমত, হজ ফরজ হলে বিনা কারণে দেরি করা উচিত নয় (তাফসিরে ইবনে কাসির)। আল্লাহতায়ালা আমাদের হজ-ওমরাহ জিয়ারতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবুল করুন। আমিন।

লিভার ভালো রাখবে এই চার পানীয়

শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। প্রোটিন হজম, খনিজ সঞ্চয়, পিত্ত উৎপাদন এবং রক্ত ​​পরিস্রাবণ সহ ৫০০টিরও বেশি কাজ করে এই লিভার। এটি অ্যালকোহল এবং ওষুধের মতো পদার্থ ভেঙে ফেলতেও কাজ করে। তাই লিভারকে ভালো রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে চারটি পানীয়ের কথা বলা হলো যা লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে-

কফি: কফি প্রেমীদের জন্য সুখবর। হ্যাঁ, কফি লিভারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত কফি পান করলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) এবং লিভার ফাইব্রোসিসের মতো লিভারের রোগের ঝুঁকি কমে। এর কারণ হলো, কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায় এবং লিভারের কোষকে রক্ষা করে।

২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন ২ কাপ কফি পান করলে প্রায় সব ধরণের লিভারের রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। এটি ফ্যাটি লিভার এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। কফি পান করার সময়, অতিরিক্ত চিনি বা অতিরিক্ত ক্রিম এড়িয়ে চলতে ভুলবেন না। ক্যাফেইনমুক্ত কফিও একই রকম উপকারিতা প্রদান করে।

গ্রিন টি: লিভারের রোগের ওপর গ্রিন টি প্রতিরোধমূলক এবং থেরাপিউটিক উভয় প্রভাব ফেলে। এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট (EGCG) এর মতো ক্যাটেচিনে সমৃদ্ধ গ্রিন টি লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য একটি শক্তিশালী সহযোগী। ২০১৫ সালের গবেষণার একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, গ্রিন টি লিপিড বিপাক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যা লিভারে লিপিড জমা কমায়।

গ্রিন টিতে থাকা প্রচুর পলিফেনলিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের জন্যও উপকারী। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা লিভারের ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি উপকারিতা প্রদান করতে পারে।

বিটরুটের রস: বিটের রস লিভারের জন্য বেশ উপকারী। নাইট্রেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে বিটালাইন সমৃদ্ধ বিটরুটের রস প্রদাহ-বিরোধী এবং ডিটক্সিফাইং উপকারিতা প্রদান করে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিটের রস লিভারের অক্সিডেটিভ ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সপ্তাহে একবার বা দুইবার বিটরুট রস উপকারী হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।

এক কাপ গরম চা: কে জানত লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখা চা পান করার মতোই সহজ! চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, এবং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি লিভারের ওপরও প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলে। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, চা খাওয়ার ফলে লিভারের স্টিটোসিস এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করা হয়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস পায়। বিশেষ করে ডার্ক টি-তে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়াতে মিষ্টি ছাড়া চা বেছে নিন এবং প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপের মধ্যে সীমিত রাখুন, অতিরিক্ত খেলে লিভারের উপর চাপ পড়তে পারে।

দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

একইসঙ্গে বাজুসের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাজুসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলজার আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রসঙ্গত, আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর তাঁতীবাজার নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বাজুসের সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কর্মসূচি স্থগিত

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সারা দেশে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ কর্মসূচি পালন হয়েছে। তবে ঈদুল আজহা সামনে রেখে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অনির্দিষ্টকালের এই কর্মসূচি স্থগিত করেছে বাজুস।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে মো. রিপনুল হাসানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি ভিত্তিহীন মামলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপপ্রচার চালিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। রিপনুল হাসান কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং কখনও কোনও রাজনৈতিক পদেও ছিলেন না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই ঘটনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সারা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার (২৯ মে) প্রতিবাদস্বরূপ দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেন। বাজুস কেন্দ্রীয় কমিটি এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায় এক বিবৃতিতে জানান, সহ-সভাপতি রিপনুল হাসানকে হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি দিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করছি।

তিনি আরও জানান, ঈদুল আজহার আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) থেকে সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাজুস।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে রাজস্ব ভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  জারিকৃত অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুতির প্রক্রিয়ার শুরু থেকে প্রতিটি ধাপে এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন ও চরম অসহযোগিতা করেছেন এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ রাজস্ব কাঠামো নিয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা জানানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রশাসনের এই কর্মকর্তা তার পূর্ববর্তী পদে থাকা অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে বিশৃংখলা সৃষ্টিসহ জুলাই পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কর ফাঁকি বিষয়ে সহযোগিতা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিট কার্যক্রম বন্ধ করেন।

এছাড়াও, নজিরবিহীনভাবে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে অযৌক্তিক এবং অপরিকল্পিতভাবে ভ্যাট হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরী করেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সরকারের সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের গঠনমূলক ও সার্থক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবিসমূহের বিষয়ে সরকারকে শুরু থেকেই বিভ্রান্ত করে সরকারের সাথে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দুরত্ব তৈরির অপচেষ্টা করে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত ও জটিল করেছেন। তার অবস্থান অতি নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রমূলক না হলে এই সমস্যা অনেক আগেই সুরাহা হয়ে যেতো বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইতোপূর্বে ঘোষিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেনি। কিন্তু বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। সরকারের আন্তরিক হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে আমাদের ন্যায্য দাবীসমূহ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের যৌক্তিক এই দাবি বাস্তবায়নে প্রতি পদে পদে বাধা সৃষ্টিকারী, প্রসেস টেম্পারিং ও সবার অগোচরে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্হাপনার মূল কাঠামো ধ্বংসের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এই চেয়ারম্যানের হাতে প্রকৃত সংস্কার কার্যক্রম হুমকির মুখে বিধায় আমরা আশা করছি সরকার অবিলম্বে এ বিষয়ে চূডান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেও হঠাৎ করে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ফলে চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করে তারা কর্মবিরতিতে যান।

ফেনীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯ মিমি বৃষ্টিপাত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। শুক্রবার (৩০ মে) সকালে ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। আগামীকাল পর্যন্ত জেলাজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও নিম্নচাপে অস্বাভাবিক জোয়ার এবং তীব্র স্রোতের কারণে গতকাল জেলার উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীর চার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল, তবে পানি আবার নেমে গেছে। বৃষ্টি বাড়লে ভারতের উজানের পানিতে মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত বাড়লে বাংলাদেশের অংশে নদীর পানি বাড়বে। এখনো মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার আশঙ্কায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার পরশুরাম উপজেলায় ২১টি ও ফুলগাজীতে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সিলেটমুখী নিম্নচাপটি লঘুচাপে পরিণত হচ্ছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর এটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা ও আশেপাশের এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করে সিলেটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্নচাপটি এখন দেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অর্থাৎ সিলেট ও আশেপাশের এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আজ শুক্রবারের পর এটি লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি আরও উত্তর, উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

তবে এর প্রভাবে আজ দিনভর বৃষ্টি ঝরবে। শুধু আজ নয়, আগামী চারদিন পর্যন্ত থাকবে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, নিম্নচাপের প্রভাব রয়ে যাবে, অর্থাৎ বৃষ্টি হতেই থাকবে। দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কুরবানির বিধান

কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিনগুলোর নির্ধারিত সময়ে কুরবানি আদায় করা হয়।

তবে কুরবানি সব মুসলমানের ওপর ওয়াজিব নয়। এটি কেবল সেইসব মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান, যাদের কাছে মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে- যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানির সময় ঋণগ্রস্ত থাকে, তাহলে কি তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে? ইসলামি ফিকহবিদরা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

যদি কোনো ব্যক্তি ঈদুল আজহার দিনগুলোয় সাময়িকভাবে ঋণগ্রস্ত থাকেন এবং চলতি বছর পরিশোধযোগ্য ঋণের অংশ বাদ দেয়ার পর তার হাতে ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না। কারণ, শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি আর্থিকভাবে সক্ষম বলে বিবেচিত নন।

অন্যদিকে যদি কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকে যে, চলতি বছর পরিশোধযোগ্য ঋণ বাদ দেয়ার পরও তার হাতে ‘নেসাব’ পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ, ঋণ থাকলেই কুরবানি থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না, বরং মূল বিবেচ্য বিষয় হলো পরিশোধযোগ্য ঋণের অংশ বাদ দেয়ার পর ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ তার হাতে অবশিষ্ট থাকে কিনা। (বাদায়িউস সানায়ি, ৪/১৯৬; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, ৫/২৯২)

সুতরাং কুরবানি আর্থিক ইবাদত হওয়ায় তা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তির আর্থিক অবস্থাই মূল বিবেচ্য। একজন মুসলমানের উচিত কুরবানির সময় নিজের আর্থিক অবস্থার সঠিক পর্যালোচনা করে শরিয়তের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া।

১৯৮টি ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে: ক্রীড়া পরিষদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি জাতীয় ক্রীড়া স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব স্থাপনার মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ছিল। সে সব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় বীর ও বিভিন্ন শহীদের স্মৃতিকে স্মরণ করে রাখা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা বা উপজেলার নামে।

নাম পরিবর্তন হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, যার নতুন নাম রাখা হয়েছে শুধু ‘জাতীয় স্টেডিয়াম’। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম’। রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম’।

এছাড়া, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নতুন নামকরণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিয়া গোপের নামে।