Home Blog Page 438

ভারত – পাকিস্তানের মধ্যে আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়লো

ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে। শুক্রবার প্রতিবেশী দুই দেশ পাল্টাপাল্টি এ পদক্ষেপ নেয়। শনিবার (২৪ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) উড়োজাহাজ পরিচালকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন ভোর ৪টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামরিক ফ্লাইটসহ ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত বা মালিকানাধীন উড়োজাহাজ এবং দেশটির উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

পিএএ বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা ভূমি থেকে শুরু করে সীমাহীন উচ্চতা পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। নির্দেশনার আওতায়, কোনো ভারতীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বা নিয়ন্ত্রকের ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ বা অতিক্রম করতে পারবে না। তবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।

অন্যদিকে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ও একইরকম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সামরিক ফ্লাইটসহ পাকিস্তানে নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

উল্লেখ্য গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এরপর গত মাসে ভারত ও পাকিস্তান প্রথমবারের মতো একে অপরের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

গণহত্যা চলছেই, গাজায় প্রাণহানি ছাড়াল ৫৩ হাজার ৯০০

গাজায় হামাস উৎখাত আর তাদের কবল থেকে জিম্মি উদ্ধারের নামে ইসরায়েলের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চলছেই। প্রতিদিনই তীব্রতর হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা; দীর্ঘতর হচ্ছে লাশের মিছিল। নিরাপদ বলে কোনো স্থান বাকি নেই গাজাবাসীর জন্য। একদিকে আকাশ ও স্থল অভিযান, অন্যদিকে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ; গাজা যেন সাক্ষাৎ নরক হয়ে উঠেছে তার বাসিন্দাদের জন্য।

ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভূখণ্ডটি পুরো দখলের প্রতিজ্ঞা নিয়ে গাজায় হামলার তীব্রতা ব্যাপকহারে বাড়িয়েছে নেতানিয়াহুর সেনারা। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত সাড়ে ১৯ মাসে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৯ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ২১১ জন ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৯ জনে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের এক হামলার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ গাজায় ভয়াবহ এক অভিযানে নামে ইসরায়েলি বাহিনী। দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৭৪৭ জন নিহত ও প্রায় ১০ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলের সব নির্বাচন বাতিল ও ইসি পুনর্গঠনের দাবি এনসিপির

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা সব নির্বাচন বাতিল ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার(২৪ মে) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বলেছি প্রধান উপদেষ্টা যেন তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যান। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করেন।” প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং মনে করেন যে, চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দাবি আদায়ের চেষ্টা চলছে।

এনসিপি প্রধান আরও জানান, তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের নির্বাচনগুলোকে ‘অবৈধ’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সরকারে কাছে সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও নির্বাচন নিয়ে একটি রোডম্যাপ চেয়েছেন।

বিএনপি কর্তৃক দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে অপসারণের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

চট্টগ্রামের আট উপজেলায় হাসনাত-জারার পথসভা আজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা রবিবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ ৮ উপজেলার ৯ স্থানে পথ সভা করবেন। এদিন সকাল ৯টা থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় এ পথ সভা শুরু করবেন তারা।

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র আরফাত আহমেদ রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল ৯টায় কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক, সকাল ১০টায় আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী, বেলা সাড়ে ১১টায় বাঁশখালী উপজেলা চত্বর, দুপুর দেড়টায় সাতকানিয়া কেরানীহাট, দুপুর ২টায় লোহাগড়া উপজেলার আমিরাবাদ। বিকেল সাড়ে ৩টায়  চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভা, বিকেল ৪টায় চন্দনাইশ পৌরসভা, বিকেল ৫টায় পটিয়া উপজেলা কলেজ গেইট মোড়, সন্ধ্যা ৬টায় বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডি, ফুলতলে পথসভা করবেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও ডা. তাসনিম জারা।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক কমিটির চট্টগ্রাম এবং কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য জোবায়ের আলম মানিক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও  ডা. তাসনিম জারা রোববার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন। দক্ষিণের নানা উপজেলায় পথসভা করবেন তারা।

নির্বাচন ৩০ জুনের মধ্যে, সমর্থন দিয়েছে জামায়াত-এনসিপি: প্রেস সচিব

আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার(২৪ মে) সন্ধ্যায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শফিকুল আলম বলেন, “ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। জামায়াত ও এনসিপি এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, তিনটি রাজনৈতিক দলই প্রধান উপদেষ্টার অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় এবং নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের ৩০ তারিখের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে, এর বাইরে যাবে না।

প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি স্থানীয় নির্বাচনে জোর দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। তবে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি কেউই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেনি, বরং তাকে সমর্থন জানিয়েছে।

ঈদ যাত্রা: ট্রেনের চার জুনের টিকিট মিলছে আজ

আগামী সাত জুনকে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ধরে ট্রেনের আসনের টিকিট অগ্রিম বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের এই যাত্রায় পঞ্চম দিনের (৪ জুন) ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে রোববার। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

এদিন সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট।

এবার শুধু ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মোট আসন সংখ্যা থাকছে ৩৩ হাজার ৩১৫টি। ঈদ উপলক্ষ্যে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে এ তথ্য জানা যায়।

কর্মপরিকল্পনার তথ্য মতে, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ৩১ মের আসন বিক্রি হয়েছে ২১ মে, ১ জুনের আসন বিক্রি হয়েছে ২২ মে, ২ জুনের আসন বিক্রি হয়েছে ২৩ মে, তিন জুনের আসন বিক্রি হয়েছে ২৪ মে, পাঁচ জুনের আসন বিক্রি হবে ২৬ মে এবং ছয় জুনের আসন বিক্রি হবে ২৭ মে।

রেলওয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে সাত দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করবে। এ সময় কেনা টিকিটগুলো যাত্রীরা রেলওয়েকে ফেরত দিতে পারবেন না। প্রতিজন টিকিটপ্রত্যাশী চারটি আসনের টিকিট একবার একসঙ্গে সংগ্রহ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম চারদিনের ম্যাচ ড্র

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের প্রথম চার দিনের খেলা হয়েছে ড্র। ম্যাচ কেউ জিততে না পারলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের স্পিনার রাকিবুল হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে ৮৩ রান করার পর ম্যাচটিকে ড্র ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রান তোলে বাংলাদেশ দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে আফ্রিকা দল সংগ্রহ করে ২৪৩ রান।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে ফিরেছেন অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দিপু। দলের ৮ রানের মাথায় ৫ বলে ২ রান করে আউট হন তিনি।

এরপর আইচ মোল্লাহর সাথে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরিফুল ইসলাম। কিন্তু আইচও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩২ বলে ১১ রান করেছেন তিনি। অন্যদিকে আরিফুল খেলেন ৬৩ বলে ১৪ রানের ইনিংস।

শেষ দিকে দলের হাল ধরেন প্রীতম কুমার এবং মইন খান। ৭৩ বলে ২১ রান করে অপরাজিত ছিলেন প্রীতম। মইন টিকে ছিলেন ৪৪ বলে ১৮ রান করে। বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান তোলার পর দুই দলের অধিনায়ক ড্র মেনে নেন।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে গড়াবে আগামী ২৭ মে থেকে। এই ম্যাচটি হবে মিরপুরের শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে।

পাকিস্তানে উর্দুভাষী সাকিব আল হাসান!

পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে সাকিব আল হাসান এখন আছেন পাকিস্তানে। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ইতোমধ্যেই তিনটি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। যদিও চেনা সাকিবের দেখা মিলছে না এখনও। তবে এবার আরও একভাবে সাকিব রীতিমতো ‘অচেনা’ হয়ে গেলেন। সাকিবের মুখে অনর্গল উর্দু ভাষা, এমন কিছু আপনি শুনেছেন আর কখনো?

‘উর্দুভাষী’ সে সাকিবের দেখা মিলেছে লাহোর কালান্দার্সের ফেসবুক পাতায়। সেখানে এক ভিডিওতে দেখা গেল সাকিবকে অনর্গল উর্দু ভাষায় কথা বলতে। উর্দু তার সহজাত ভাষা নয়, অথচ তিনি এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন যুগ যুগ ধরে সে ভাষায় কথা বলে গেছেন তিনি, আটকাননি একটা জায়গাতেও!

সাকিবের এই রূপ মূলত বেরিয়ে এসেছে রিশাদ হোসেনের কারণে। রিশাদ শুধু বাংলাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে কারণে তার দোভাষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হলো একটা সময়ে তিন ফরম্যাটের বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে।

রিশাদ একটা বিরতির পর আবারও ফিরে গেছেন লাহোরের স্কোয়াডে। গত ৮ মে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সামরিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তান সুপার লিগ স্থগিত হয়ে যায়। তখন খানিকটা দুশ্চিন্তা তৈরি হলেও শেষমেশ দেশে ফেরেন রিশাদ হোসেন। এরপর আর পিএসএলে ফিরে যাননি টুর্নামেন্ট আবার শুরু হওয়ার পরও, কারণ বাংলাদেশের হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে হতো তাকে।

সে সিরিজের পর রিশাদ আবারও যোগ দিয়েছেন লাহোরের সঙ্গে। তাকে টিম হাডলে বরণ করে নেয় পিএসএলের ফাইনালিস্ট দলটি। কাজটা করেছেন দলটার ম্যানেজার সামিন রানা। তিনি তাকে বরণ করে নিয়ে জানতে চান রিশাদের মনের কথা।

তার জবাবে বাংলা ভাষায় রিশাদ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, এটা আমাদের লক্ষ্য। এ ছাড়া আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা তাই করব আজকে, ২৫ তারিখেও।’

গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে কানে সোচ্চার ১০০০ হলিউড ব্যক্তিত্ব

কান শহরে লালগালিচায় হাঁটার কথা ছিল এক ফিলিস্তিনি তরুণীর। নাম ফাতিমা হাসৌনা। মাত্র ২৫ বছর বয়সে গাজা শহরের নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি বোমায় নিহত হন প্রতিভাবান এই আলোকচিত্রী। তিনি জানতেন না, তার জীবনকাহিনি নিয়ে বানানো ডকুমেন্টারিটি ততক্ষণে পৌঁছে গেছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মনোনয়নের তালিকায়। শিরোনাম ছিল ‘পুট ইউর সোউল অন ইউর হ্যান্ড অ্যান্ড ওয়াক’।

নির্মাতা ইরানি পরিচালক সেপিদেহ ফারসি। তিনি বলেন, ‘সে ছিল গাজায় আমার চোখ।’ ফাতিমা তাকে বলেছিলেন, ‘যদি মরে যাই, চাই আমার মৃত্যুর আওয়াজ হোক পৃথিবীব্যাপী।’

ফাতিমার সেই আকাঙ্ক্ষা যেন বাস্তবেই রূপ নিল। শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, গোটা কান উৎসবের শহরজুড়েই মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার নাম।

তার নামে গড়ে উঠেছে এক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম, নাম ‘আর্টিস্টস ফর ফাতেম’। সেখানে একত্র হন ৯০০-র বেশি শিল্পী, পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সুরকার থেকে শুরু করে ফ্যাশন দুনিয়ারও বহু তারকা।

এ তালিকায় আছেন মার্ক রাফালো, সুসান সারানডন, রিচার্ড গিয়ার, রুনি মারা, জিম জারমুশ, ক্যাথরিন দেন্যুভ, গাই পিয়ার্স, রালফ ফাইনস, জাভিয়ের বারদেম, ওয়াকিন ফিনিক্স, ক্যাট ব্ল্যাঞ্চেট, ডুয়া লিপা, জেইন মালিক, বেলা ও গিগি হাদিদ, ব্র্যাডলি কুপার, জন স্টুয়ার্ট, সিনথিয়া নিক্সন, জানেল মোনে, আয়ো এডেবিরি, সেলেনা গোমেজ, এমনকি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জও।

তারা সবাই এক খোলা চিঠিতে গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন। চিঠির ভাষা তীক্ষ্ণ, ‘আমরা শিল্পের মানুষ, তাই নীরব থাকতে পারি না। গাজায় যা চলছে তা মানবতার বিপর্যয়, এক ধরনের জাতিগত নিধন।’

কান উৎসব সাধারণত রাজনীতি থেকে দূরে থাকে। কিন্তু এবার কিছুটা ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। উৎসব কর্তৃপক্ষ নিজেই এক বিবৃতিতে ফাতিমার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং একে ‘অপ্রত্যাশিত, অগ্রহণযোগ্য’ হিসবে অভিহিত করে।

এই চিঠি এমন সময় প্রকাশিত হয়, যখন গাজায় মৃতের সংখ্যা অতিক্রম করেছে ৫০ হাজার। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত কয়েক মাসে নারী ও শিশুরাই মারা গেছে সবচেয়ে বেশি।

এই দুঃসহ বাস্তবতায় ফাতিমার মৃত্যু যেন হয়ে উঠেছে এক প্রতীকের মতো। কান উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে জুরি প্রেসিডেন্ট জুলিয়েট বিনোশ বলেন, ‘ফাতিমা আজ এখানে থাকার কথা ছিল। সিনেমা টিকে থাকে, সে আমাদের স্বপ্ন আর সাহসের দলিল।’

যে মেয়ে একদিন ভিডিও কলে বলেছিলেন, ‘এই বেঁচে থাকাটাও এক ধরনের যুদ্ধ’, তার গল্প এখন যুদ্ধবিরোধী শিল্পীদের একক আওয়াজ। কান শহরে এবার শুধু সিনেমা ও গ্ল্যামারের আলো নয়, ছড়িয়ে আছে প্রতিবাদের আলোকচ্ছটাও।

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এমনকি ফোন ব্যবহারের ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা।

এক বিবৃতিতে ফারিয়া বলেন, ‘আমি জানি, আপনারা অনেকেই আমার খোঁজখবর, ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও উদ্বেগ আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, বর্তমানে আমি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি।’

বিবৃতিতে তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে এখন কিছু সময়ের জন্য বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

নুসরাত ফারিয়া আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়টা দ্রুতই পেরিয়ে আবার সুস্থভাবে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারব। গত কয়েকদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময়। মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সাহচর্য আমাকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে।’

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, ‘বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের, যাদের মানবিকতা ও ইতিবাচক ভূমিকাটি এই সময়ে আমার জন্য ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।’