Home Blog Page 438

অন্তর্বর্তী সরকার একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত: মাসুদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জাতির প্রধান প্রত্যাশা ছিল—সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। অথচ তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছে, যা ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি জাতীয় ঐক্য বিনির্মাণে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন।

এই জামায়াত নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধু ভোটের রাজনীতি করে না। আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জনগণের কল্যাণের জন্য। জামায়াতের রাজনীতি হচ্ছে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অনিয়মকারীদের আশ্রয় দেয় না, বরং মসজিদের ইমাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমাদের বন্ধু সংগঠনের কেউ কেউ নির্বাচনের আগেই নিজেদের জন্য ২৮০ আসন নিশ্চিত বলে দাবি করছেন। এ ধরনের বক্তব্য সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করতে পারে। জাতি শঙ্কিত—ভোটের আগেই তারা নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে বসতে পারে।” তিনি সব রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতার মোহ পরিহার করে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “ভোটের রাজনীতির কারণে দেশের শ্রমিকরা বারবার প্রতারিত হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তাদের শোষণ করা হয়েছে। তাই শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী আদর্শে সমাজ গড়ার লক্ষ্যে শ্রমিকদের এগিয়ে আসতে হবে।”

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী তাসনুভা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের ফাঁস হওয়া অডিও ফোনালাপে যে নারী কণ্ঠ শোনা গেছে, সেটি নিজের নয় বলে দাবি করেছেন দলটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবীন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

তাসনুভা জাবীন তার পোস্টে লিখেছেন, “শুধু এটুকু বলি, যার অডিও আমার নামে বলে ফটোকার্ড, ভিডিও কনটেন্ট বানিয়ে ভরায় ফেলছেন, আমি বা আমরা খুব সহজে তার নাম প্রকাশ করে আমার বিরুদ্ধে হওয়া এই জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তার নাম পাল্টা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছি।”

এই নেত্রী অভিযোগ করেন, “রাজনীতিতে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো খুব পরিকল্পনামাফিক এই ভয়াবহ সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে আমাকে ঘিরে। আমি শুধু বুঝি, আমার কথা বা লেখা গুরুত্বপূর্ণ না হলে এত মানুষ আমাকে নিচে নামানোর এত আপ্রাণ চেষ্টা করত না। এসবের উত্তর ‘সময়’ অবশ্যই দিবে। আল্লাহ ভরসা।”

এর আগে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের একটি ফোনালাপ ফাঁস করেন প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে সারোয়ার তুষারকে এনসিপির এক নারী নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে শোনা যায়। প্রবাসী ওই সাংবাদিকের দাবি, কুপ্রস্তাব দেওয়া নারী কণ্ঠটি এনসিপির এক নেত্রীর। এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই ঘটনার জেরে সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এনসিপি। তাকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ জানানো হয়।

তবে, সারোয়ার তুষার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল স্বপ্রণোদিত হয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তিনি লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেবেন।

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় ৪৫২ জন নিহত: এইচআরএএনএ

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ৪৫২ জন মানুষ নিহত এবং ৬৪৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১০৯ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় ১৮৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১২৩ জন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে যে, নিহত ১১৯ জন এবং আহত ৩৩৫ জন ব্যক্তি সামরিক নাকি বেসামরিক তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এত বিপুল সংখ্যক হতাহতের তথ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শতাধিক নাগরিক নিহতের তথ্য জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এইচআরএএনএ-এর এই নতুন পরিসংখ্যান চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছে।

ইরানে ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ

ক্রমবর্ধমান ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের সাইবার সিকিউরিটি কমান্ড সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একই সাথে দেশটির নাগরিকদের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস।

সাইবার সিকিউরিটি কমান্ডের ঘোষণায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা দলের সদস্যরা স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, পোর্টেবল কম্পিউটারসহ কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁস প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, চলমান সংঘাতে হতাহতের খবর আসছে উভয় পক্ষ থেকেই। ইরানের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৪৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ২২৪ জন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য ১০৯ জন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে ইরানের হামলায় গুরুতর আহত ১৫৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান। গত চার দিন ধরেই উভয় দেশ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এই সংঘাতের মুখে তেহরান ছাড়ছেন শহরটির অনেক বাসিন্দা। চলমান এই অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর নতুন দুজনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৫০৬ জন।

এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৫ জনের করোনা শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ইশরাকের বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল অফেন্সের’ অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না নিয়েই বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ করার অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন নগর ভবনের মিলনায়তন ও অফিস দখল করে নাগরিক সেবাদানে বাধা দিচ্ছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ইশরাক হোসেনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নাগরিক সেবাদান শতভাগ বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্ব নেননি, কিন্তু নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়ে নগর ভবনের মিলনায়তন ও অফিস দখল করেছেন। এমতাবস্থায় নাগরিক সেবা বিঘ্নিত করা বাড়তে থাকলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুটিংয়ে নিখোঁজ মডেল, খালে মিলল ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

ভারতের হরিয়ানায় মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতল (২৩) নামে এক মডেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার হরিয়ানার সোনিপাতের খরখোদা এলাকার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিখোঁজের একদিন পর শীতলের বোন নেহা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ২৩ বছর বয়সী এই মডেল ১৪ জুন আহার গ্রামে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ে গিয়েছিলেন, এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর নেহা শীতলের প্রাক্তন বন্ধু সুনীলের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন এবং দাবি করেছেন যে সে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

পুলিশ শীতল মডেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পেশায় মডেল শীতল হরিয়ানার সঙ্গীত জগতের সাথেও যুক্ত ছিলেন এবং মাত্র ছয় মাস আগে তার সঙ্গীত জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই কমল কৌর নামে এক ইনফ্লুয়েন্সরের মরদেহ পাঞ্জাবের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনা ঘটায় রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।

দিনে কতবার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক? জেনে নিন কখন সতর্ক হবেন

প্রস্রাব করা একটি স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় কাজ। প্রস্রাব কম হলে এটি জ্বালাপোড়া, ইনফেকশন ইত্যাদি সমস্যার কারণ হতে পারে। কিডনি রক্ত ​​থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত পানি ফিল্টার করে প্রস্রাব তৈরি করে। তারপর প্রস্রাব মূত্রাশয়ে জমা হয়। মূত্রাশয় পূর্ণ হলে তা মস্তিষ্ককে সংকেত দেয়। প্রস্রাব করার সময় মূত্রাশয়ের পেশীগুলো সংকুচিত হয় এবং স্ফিঙ্কটার পেশী শিথিল হয়, যার ফলে প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে।

স্বাভাবিক প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি কত? প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি শরীর কীভাবে কাজ করছে এবং কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা আছে কি না তা নির্দেশ করতে পারে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি গড়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬-৭ বার প্রস্রাব করেন। এমনকি যদি ব্যক্তি সুস্থ থাকেন তবে দিনে ৪ থেকে ১০ বার প্রস্রাব করাও স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। রাতে একাধিকবার প্রস্রাব করা স্বাস্থ্যকর না-ও হতে পারে। রাতে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

কোন কারণগুলো প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সিকে প্রভাবিত করে: কিছু ওষুধ, হরমোনের পরিবর্তন এবং মূত্রাশয়ের উপর চাপের উপর ভিত্তি করে প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সিও পরিবর্তিত হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অস্থায়ী মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণ সমস্যা সাধারণ। সাধারণত সন্তান জন্ম দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত এটি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ধারণ করে। প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি প্রভাবিত করে এমন অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে-

* বয়স
* মূত্রাশয়ের আকার
* তরল গ্রহণ
* অ্যালকোহল এবং ক্যাফিন গ্রহণ
* ডায়াবেটিস এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) এর মতো চিকিৎসাগত অবস্থা
* কিছু ওষুধ এবং পরিপূরক।

কখন সাহায্য চাইতে হবে: যদিও প্রতিদিন চার থেকে দশবার বাথরুমে যাওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়, তবে এর থেকে বেশি বা কম হলে সতর্ক হওয়া উচিত। রাতে একাধিকবার প্রস্রাব করার জন্য ঘুম থেকে ওঠা (নকটুরিয়া) অন্তর্নিহিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। যদি আপনি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো লক্ষ্য করেন, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।

* প্রস্রাব ধরে রাখতে অক্ষমতা
* ঘন ঘন বা জরুরিভাবে প্রস্রাব করার প্রয়োজন
* ঘোলাটে প্রস্রাব
* প্রস্রাবে রক্ত
* প্রস্রাবের আগে, সময় বা পরে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
* প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা বা প্রস্রাব করার সময় দুর্বল প্রবাহ থাকা
* মূত্রাশয় খালি করতে সমস্যা।

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: বিশ্ববাজারে আরও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

দখলদার ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বেড়েছিল। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৬ জুন) সকাল পৌনে ৮টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৭৩ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে দিনের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার পর্যন্ত বেড়েছিল। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা গত জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ।

গত শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েল ইরানে বিমানহামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও সেদিন থেকেই ইসরায়েলের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সোমবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিব ও হাইফা পোর্ট সিটিতে অন্তত দুটি ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৮-১৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ: বিনিয়োগ স্থবিরতায় বাড়ছে বেকারত্ব

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গতি কমেছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং রাজস্ব খাত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২৬ লাখ ৬০ হাজার কর্মক্ষম মানুষ বেকার। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে দারিদ্র্যের হার ২২.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রমের এই শ্লথগতি মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদরা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার কথা বললেও, প্রস্তাবিত বাজেটে পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব দেখছেন তারা।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “এখনও মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি। আমরা যদি বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, এটাকে প্রণোদিত করতে পারি, কর্মসংস্থান করতে পারি তাহলে মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি। ক্রয় ক্ষমতাটা তখন আমরা ধরে রাখতে পারব।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আয় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমদানি ও অন্যান্য শুল্ক, ভ্যাটে চাপ বাড়ানো হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, বাজেটে করজাল বাড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেই। তাদের মতে, কর বৈষম্যের কারণে এই বাজেট বিনিয়োগ সহায়ক নয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, “অর্থনীতিকে বেগবান করার জন্য এটা কি একটি সাপোর্টিভ বাজেট হয়েছে? আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাচ্ছি, সাপোর্টিভ কোনো কিছু এই বাজেটে আমরা দেখতে পাইনি।”

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের সভাপতি জাভেদ আখতার দেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এফডিআই জিডিপির মাত্র ০.৬ শতাংশ। এটা পাকিস্তানের চেয়েও কম এবং ৪০-৪৫ বছর ধরেই কম। এমন নয় যে গত ২ বা ৩ বছরে কমেছে। আপনি দেখবেন, পাকিস্তানের মতো ইকোনমিতে আমাদের চেয়ে বেশি এফডিআই। এটাই কঠিন সত্য। ভিয়েতনামের কথা বললে বলতে হবে, ওখানে এটা কয়েকগুণ বেশি। সুতরাং, স্ট্রাকচারালি আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।”

২০২৪ সালে দেশে মোট এফডিআই এসেছে ১২৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩.২৫ শতাংশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি টানা ছয় মাস ধরে ৮ শতাংশের নিচে রয়েছে, যা বিনিয়োগ স্থবিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।