Home Blog Page 439

পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ বলছে ভারত

ওয়াক্ফ আইন ঘিরে অতি সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে যে সহিংসতা ঘটল, তা নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করে ভারত। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত ৮ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
শফিকুল আলমের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ শুক্রবারের বিবৃতিতে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ঘটনায় বাংলাদেশের তরফ থেকে যে বক্তব্য এসেছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।”
“বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চলমান নির্যাতনের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের সাথে তুলনা করার জন্য এটি একটি ছদ্মবেশী এবং ছলনাপূর্ণ প্রচেষ্টা, যেখানে এই ধরনের অপরাধের জন্য দায়ীরা এখনও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অযৌক্তিক মন্তব্য করা এবং সদ্গুণের পরামর্শ প্রদানের পরিবর্তে বাংলাদেশ যদি তার নিজস্ব সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে আরও ভাল করবে।”
গত ২ এপ্রিল গভীর রাতে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা এবং পরের দিন উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হয় ‘সংশোধিত ওয়াক্ফ বিল, ২০২৫’। তারপর ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে আইনে পরিণত হয় সেই বিল এবং ৮ এপ্রিল তা কার্যকর হয়।
আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই ভারতের রাজধানী দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুরসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু করেন মুসলিমরা ও বিজেপিবিরোধী বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই বিক্ষোভকে ঘিরে আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়াসহ বিভিন্ন জেলা। পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘাতে মুর্শিদাবাদে ৩ জন সংবাদও পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ শতাধিক বিক্ষোভকারী। তবে বর্তমানে মুর্শিদাবাদ ও অন্যান্য জেলার অবস্থা আপাতত শান্ত।

জেতা ম্যাচ অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেলো রাজস্থান

লক্ষ্য ১৮১। ১৭ ওভার শেষে রান ২ উইকেটে ১৬৫। ১৮ বলে দরকার ২৫ রান, হাতে ৮ উইকেট। এই ম্যাচও কিনা অবিশ্বাস্যভাবে হেরে বসলো রাজস্থান রয়্যালস, হাতে ৫ উইকেট রেখে! হ্যাঁ, আইপিএলে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ২ রানে হারিয়েছে লখনৌ সুপার জায়ান্টস। ৮ ম্যাচে ৫ জয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে উঠে এসেছে রিশাভ পান্তের দল। সমান ম্যাচে ষষ্ঠ হারের স্বাদ পেয়েছে রাজস্থান।
জসশ্বী জয়সওয়াল আর বৈভব সূর্যবানসির ৫২ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে রান তাড়ায় শক্ত ভিত পায় রাজস্থান। সূর্যবানসি ২০ বলে ৩৪ আর জয়সওয়াল ৫২ বলে খেলেন ৭৪ রানের ইনিংস। অধিনায়ক রিয়ান পরাগ করেন ২৬ বলে ৩৯। ১৮ ওভারে তিনি আউট হওয়ার পর ধ্রুব জুরেল, সিমরন হেটমায়ার আর শুভাম দুবে রান তাড়া করতে পারেননি। ৫ উইকেটে ১৭৮ রানে থামে রাজস্থান। এর আগে ১৯ ওভার শেষে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৫৩। শেষ ওভারে আবদুল সামাদ ঝলক দেখালেন। সন্দিপ শর্মার ওই ওভারে চার ছক্কা হাঁকালেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তার ১০ বলে ৩০ রানের ক্যামিওতে ভর করে ৫ উইকেটে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় লখনৌ।জয়পুরে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের এইডেন মার্করাম ঝোড়ো শুরু করলেও টপঅর্ডারের বাকি ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। মিচেল মার্শ ৬ বলে ৪, নিকোলাস পুরান ৮ বলে ১১ আর রিশাভ পান্ত ৯ বল খেলে ফেরেন মাত্র ৩ রানে।
৩১ বলে ফিফটি করেন মার্করাম। ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আয়ুশ বাদোনির সঙ্গে জুটি গড়েন তিনি। এই জুটিতে আসে ৪৯ বলে ৭৬ রান।
৪৫ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৬৬ করে থামেন মার্করাম। ৩৪ বলে ৫ চার আর ১ ছক্কায় ৫০ করেন আয়ুশ। কিন্তু এই দুজন ছাড়া বাকিরা দলের জন্য সেভাবে অবদান রাখতে না পারায় অল্পতেই থামার শঙ্কায় ছিল লখনৌ। কিন্তু শেষ ওভারে আবদুল সামাদ চমক দেখিয়েছেন। ১০ বলে ৪ ছক্কায় তার ৩০ রানের ইনিংসটি লখনৌকে এনে দিয়েছে স্বস্তি।

নেছারাবাদে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হাটের ইজারা তুলতে বাধা

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা হাটে সরকার নির্ধারিত বৈধ ইজারাদারকে ইজারা তুলতে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক নাসির উদ্দীন তালুকদার নেতৃত্বে আটঘরের মাদক ব্যাবসায়ী, সন্ত্রাসী ও একাদিক মামলার আসামীদের নিয়ে ইজাদারের লোকজনকে ইজারা তুলতে বাধা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, পাঁচ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর আটঘরের কিছু মাদক ব্যাবসায়ী, সন্ত্রাসী ও একাদিক মামলার আসামী নেছারাবাদ উপজেলা বিএন পি নেতাদের কাছে আশ্রয় নিয়ে দ্রুত বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। তাদের কর্মকান্ডের কারনে দলের সুনাম দিন দিন ক্ষুন্ন হচ্ছে  এবং আটঘর -কুড়িয়ানা ইউনিয়ন সহ উপজেলার দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে।

তারা হাট থেকে ইজারাদারের লোকজনকে মেরে উঠিয়ে দিয়ে নিজেদের বাহিনী দিয়ে ইজারার টাকা তুলছেন। এ ঘটনায় ইজারাদার আব্দুর রহিম মিয়া, হুমাউন মোল্লা,নাসির উদ্দীন তালুকদার,রুহুল আমীন,জাকির হোসেন সহ মোট দশ জনের বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানাগেছে, আটঘরের আব্দুর রহিম মল্লিক দীর্ঘদিন যাবত ওই হাটের ইজারা ক্রয়ের মাধ্যমে ইজারার টাকা তুলতেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ১৪৩২ বাংলা সনের আটঘর হাটের ইজারা পান আব্দুর রহিম।  যাহার মূল্য একুশ লাখ একুশ হাজার দুইশত একুশ টাকা।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা সনের ১লা বৈশাখ (সোমবার) হাটে ইজারা আদায় করিতে গেলে সেখানকার

এক দল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী টোল আদায় করিতে বাধা দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এসময় ইজারাদার আব্দুর রহিমের সাথে থাকা লোকজনদের  ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে তাদের প্রান নাশের হুমকি দেন।

ইজারাদার আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, হাটের শিডিউল ক্রয়ের পূর্ব থেকে বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার,হুমাউন মোল্লা,রুহুল আমীন সহ তাদের বাহীনি আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি তা উপেক্ষা করে শিডিউল ক্রয় করে হাটের সব্বোর্চ দাম দিয়ে ইজারা পেয়েছি। এখন হাটে ইজারা তুলতে আমাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার চেয়েছিল অল্প টাকায় তার অনুগত কোন লোককে ইজারা পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা নিবেন। তিনি তা না পরায় হাট থেকে আমার লোকদের ইজারা তুলতে না দিয়ে হাটে নিজস্ব লোক বসিয়ে অবৈধ ইজারা তুলছেন।

স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কাজী কামাল বলন, ‘নেছারাবাদের আটঘরের হাট বৈধভাবে ইজারা হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারা পেয়েছে। এখানে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেহ কোন চাঁদাবাজি করতে যাবেনা। যদি কেহ করে থাকে তাহলে ব্যক্তির দায় দল নেবেনা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দীন তালুকদার বলেন, আমি কাউকে ইজারা তুলতে বাধা দেয়নি। কেহ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় সামনে এসে বলুক। তিনি বলেন, দূর থেকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। আমি নির্দোষ। হাটের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

অভিযুক্ত হুমাউন মোল্লা বলেন, আব্দুর রহিমের কাছ থেকে নাসির তালুকদার পচিশ লাখ টাকায় ইজারা কিনি নিয়েছেন। তাই আমরা ইজারা নিচ্ছি।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘হাট ইজারা দেয়ার পর প্রথম দিন একটু সমস্যা হয়েছিল। এরপর কোন অভিযোগ পাইনি। শুনেছি তারা ডিসি মহোদয়ের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে। ডিসি স্যার কি ব্যবস্থা নেয় তা আমি এখনো জানতে পারিনি’।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আলম খান জানান, ‘আমি গত ১৬ এপ্রিল(বুধবার) বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নেছারাবাদ ইউএনওকে দেখার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছি’।

 

বিওয়াইডি বাংলাদেশের আয়োজনে ‘সিলায়ন সিক্স’ হস্তান্তর অনুষ্ঠান

বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি বিওয়াইডি বাংলাদেশ আয়োজন করেছে ‘বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স’ হস্তান্তর অনুষ্ঠান।

সম্প্রতি রাজধানীর বিওয়াইডি সার্ভিস সেন্টারে আয়োজিত এই আয়োজনে ৬ জন নতুন গ্রাহকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় তাদের নতুন বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স গাড়ি।

অনুষ্ঠানটি ছিল এক উষ্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো একটি মিলনমেলা। গ্রাহক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিওয়াইডি শোরুমে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স-এর আধুনিক ফিচার, উন্নত প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়। পরে সার্ভিস সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিজি রানার বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খান এবং বিওয়াইডি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জনাব ঝ্যাং জি। তারা নতুন গ্রাহকদের অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে বিওয়াইডি’র অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিওয়াইডি সিলায়ন সিক্স বাজারে আসে। ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রেঞ্জের মাধ্যমে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। বাজারে আসার পর থেকে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলাদেশের পিএইচইভি ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

কেকে/এএম

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আপনিও বুঝবেন যেভাবে

অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক বা সান স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। হিট স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো জানা থাকলে নিজে যেমন সচেতন থাকা যায়, অন্যদের দিকেও খেয়াল রাখা যায়। এক নজরে দেখে নিন লক্ষণগুলো।

প্রচণ্ড মাথাব্যথা : হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এ ছাড়া গরমে মানুষের মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এটি হিট স্ট্রোকের অন্যতম একটি লক্ষণ হতে পারে।

বেশি তৃষ্ণা অনুভব ও অতিরিক্ত ঘামানো :  হিট স্ট্রোকের আগে অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভব হবে, সেইসঙ্গে ডিহাইড্রেটেড এবং আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে। শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম তৈরি করতে পারে।

হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া : হিট স্ট্রোকের আগে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।

শ্বাসকষ্ট : হিট স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ও ভারী শ্বাস-প্রশ্বাসও

দুর্বলতা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া : তীব্র গরমের কারণে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। এতে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এগুলো হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।

পেশিতে ব্যথা : হিট স্ট্রোকের আগ মুহূর্তে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদিও সাধারণ ব্যথা ভেবে অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না।

বমি বমি ভাব : মাথাব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও হাইপারভেন্টিলেশন থেকে অক্সিজেনের অভাব ইত্যাদির কারণে হিট স্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।

কথা জড়িয়ে যাওয়া : হিট স্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তারমধ্যে একটি হলো কথা জড়িয়ে যাওয়া। ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করতে পারে।

বিরক্তি-বিভ্রান্তি : মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের আগে মানুষ বিরক্ত বোধ করতে পারে, রাগান্বিত হতে পারে, অযৌক্তিক কথা বলতে পারে এবং এমনকি প্রলাপ বকতে করতে পারে।

ঘাম না হওয়া : হিট স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া। সাধারণত এর মানে  হচ্ছে, শরীরে ঘাম হওয়ার মতো পানি আর নেই বা শরীরের প্রাকৃতিক শীতল প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।

চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক এড়াতে শরীর হাইড্রেট রাখার কোনো বিকল্প নেই। তাপমাত্রা বেশি হলে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরে ঘরের বাইরে যেতে হবে। সূর্যের আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তবে কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।

কেকে/এআর

পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ওপেনার সাদমান ইসলাম আউট হয়েছিলেন ১২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ বাঁহাতি ব্যাটার। এই ইনিংসে করেছেন মাত্র ৪ রান। দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের অস্বস্তির কারণ হয়েছেন তিনি।

মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক কিছুটা দেখেশুনে খেলায় দ্বিতীয় দিনের শেষটা খুব বেশি খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। তবে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৮২ রানের লিড টপকে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভারে ১ উইকেটে ৫৭ রান করে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর দল এখনো ২৫ রানে পিছিয়ে। জয় ২৮ ও মুমিনুল অপরাজিত আছেন ১৫ রানে।

আজ সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে জিম্বাবুয়ে। সকাল সকাল বাংলাদেশকে আশা দেখান নাহিদ রানা-হাসান মাহমুদরা। দিনের শুরুতেই তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সে পরাস্ত হয়ে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বেন কারেন (১৮)। তার তিন ওভার পর নাহিদের দ্বিতীয় শিকার হাফসেঞ্চুরিয়ান ব্রায়ান বেনেট।

নাহিদের পঞ্চম স্টাম্পে করা শর্ট অব গুড লেহ্নের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক জাকের আলীর গ্লাভসে ধরা পড়েন বেনেট। ৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৫৭।

পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের চোখ ধাঁধানো এক ডেলিভারি। অফস্টাম্প উড়ে যায় নিক ওয়েলচের (২)। ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে শন উইলিয়ামস আর ক্রেইগ আরভিনের অনেকটা সময় প্রতিরোধ।

চতুর্থ উইকেটে ৪১ রানের জুটি করেন উইলিয়ামস ও আরবিন। এই জুটিও ভাঙেন নাহিদ রানা। দুর্দান্ত এক ডেলিবারিতে আরবিনকে উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিকের ক্যাচ বানান তিনি। ৩৯ বলে মাত্র ৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান আরবিন।

পঞ্চম উইকেটে আবারও জুটি করেন উইলিয়ামস ও ওয়েসলি ম্যাধেভেরে। এই জুটিতে আসে ৪৮ রান। ম্যাধেভেরেকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন পেসার খালেদ আহমেদ। ৩৩ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন ম্যাধেভেরে।

আঠার মতো উইকেটে লেগে থাকা উইলিয়ামসকে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি টাইগার স্পিনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ হন তিনি। আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি ব্যাটার অবশ্য ফিফটি করে ফেলেছেন। ১০৮ বলে করেছেন ৫৯ রান।

লোওয়ার মিডলঅর্ডারে রান করে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে দিয়েছেন নায়াশা মায়াভো। ৫৪ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। নিচের দিকে ৪৪ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রিচার্ড এনগারাভা। ব্লেসিং মুজারাবানির অবদান ১৬ বলে ১৭ রান। এতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি দাঁড়ায় ২৭৩ রানের। সঙ্গে লিড যোগ হয় ৮২ রানের।

দিনের তৃতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানের মাথায় উইকেট বিলিয়ে দেন সাদমান। ১০ বলে ৪ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে সেকেন্ড স্লিপে শন উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংনে বাংলাদেশের হয়ে ৫২ বলে রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নাহিদ রানা ৩ এবং খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদ নেন একটি করে উইকেট।

কেকে/এজে

প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় মেঘনা আলম গ্রেফতার

সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় মডেল মেঘনা আলমকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানিতে বলেন, ‘এই আসামিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ অ্যাম্বাসিগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের হানি ট্র্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য চক্র দাঁড় করিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতারণা করে আসছেন। সবশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং তার কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

এরপর বিচারক আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কিনা জানতে চান। মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, ‘আমাদের কোনো আইনজীবী নেই। এরপর তিনি কথা বলতে অনুমতি চান।

আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, আমার নাম মেঘনা, মেঘলা নয়। সৌদি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন যে কেউ চাইলে কি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে? আপনারা কি তার কাছে যেতে পারবেন?

এ পর্যায়ে বিচারক তাকে থামিয়ে মামলা সম্পর্কে কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান। এরপর মেঘনা বলেন, আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে কোনো আইনজীবী পাবেন না। বিষয়টি হলো রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার একমাত্র সম্পর্ক, আর কারও সঙ্গে না। সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। ঈসা অভিযোগ করেন আমি নাকি তার বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেছি। এটা মোটেও সত্য না। এ বিষয়ে আমি ঈসার সঙ্গে কথা বলি। তাকে এসব তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলি। এসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুরের সঙ্গে কথা বলি। এরপরেই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে।’

এদিকে মেঘনার সহযোগী দেওয়ান সমির আদালতকে বলেন, ‘আমাকে মেঘনা আলমের বয়ফ্রেন্ড বলা হচ্ছে। এটা ভুল তথ্য, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি সাধারণ একজন মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমি মামলার এসব ঘটনার কিছুই জানি না।’

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তাদের দুইজনকে গ্রেফতার দেখান। একইসঙ্গে দেওয়ান সমিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এজলাস থেকে হাজতখানায় যাওয়ার পথে মেঘনা আলম বলেন, ‘একমাত্র ঈসার সঙ্গে আমার সম্পর্ক, আর কারো সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।’ এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও বিডার আশ্বাস

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন যৌথভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পুলিশ বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিশেষ জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে কোনো ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা পাওয়া যায়। এই উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিনিয়োগবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ।

সম্প্রতি গাজা ইস্যুতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রেক্ষাপটে সোমবার (২১ এপ্রিল) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন শহরে এসব সহিংস ঘটনায় অন্তত ১৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ডজনখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেসলে বাংলাদেশ, কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজস, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, পেপসিকো এবং জুবিল্যান্ট ফুড ওয়ার্কস বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলা, ক্ষয়ক্ষতি ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রথম-যধহফ তথ্য উপস্থাপন করেন।

বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আইজিপি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিডার নেতৃত্ব একসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বসেছেন—এটি ছিল সময়োচিত ও নজিরবিহীন উদ্যোগ। এটি কেবল একটি প্রতীকী বার্তা নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা হাজার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবিকার যোগানদাতা। প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা কোনো সমাধান হতে পারে না।’

আইজিপি বাহারুল আলম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাতে নয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতেও এখানে এসেছি। যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।’ তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে বিডা, পুলিশ ও ব্যবসায়িক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি প্রতিরোধ পরিকল্পনা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট এবং উন্নত সংকট-যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সংলাপ প্রতিক্রিয়া নয়, প্রতিরোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটি সরকারের সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন—সমৃদ্ধির সময় যেমন বিনিয়োগকারীদের পাশে আছে সরকার, তেমনি সঙ্কটের সময়ও একসাথে পথচলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বহন করে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বিডা ও বাংলাদেশ পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন

বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন।

সোমবার  (২১ এপ্রিল) তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। ভ্যাটিকানের কাসা সান্তা মার্তায় নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয়। এর আগে পোপ ফ্রান্সিসের স্বাস্থ্যের অবস্থা সংকটজনক বলে জানানো হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছুক্ষণ আগে কার্ডিনাল ফারেল, দুঃখের সাথে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যু ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, গভীর দুঃখের সাথে আমাদের পবিত্র পিতা ফ্রান্সিসের মৃত্যু ঘোষণা করছি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “তিনি আমাদেরকে আনুগত্য, সাহস এবং সর্বজনীন প্রেমের সাথে গসপেলের মূল্যবোধের সাথে বাঁচতে শিখিয়েছেন, বিশেষত দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে প্রান্তিকদের পক্ষে।”

ফারেল যোগ করেছেন: “প্রভু যীশুর একজন সত্যিকারের শিষ্য হিসেবে তার উদাহরণের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতার সাথে, আমরা পোপ ফ্রান্সিসের আত্মাকে এক এবং ত্রিমূর্তি ঈশ্বরের অসীম করুণাময় ভালবাসার জন্য প্রশংসা করি।”

সূত্র : বিবিসি

পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, যানজট ও জলাবদ্ধতা রাজধানী ঢাকার দুইটি প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক সচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।

সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার নাগরিক জীবনের নানা সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) মো. নুরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে রাউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মো. নুরুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট, যা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই যানজটে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা, বেড়ে চলেছে শব্দ ও বায়ু দূষণ, সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। ঢাকার জনসংখ্যার তুলনায় রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন অত্যন্ত অপ্রতুল। অপরিকল্পিত নগরায়ন, দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সমস্যাকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, ফুটপাত দখল, রিকশা ও বাসের এলোমেলো চলাচল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির অভাব, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা এবং মেট্রোরেল বা উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের কারণে অস্থায়ী সংকোচন ঢাকার যানজটকে অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।

ঢাকার আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে আসে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার খালগুলো ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে অবকাঠামো, বন্ধ হয়ে গেছে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমায় ময়লার স্তূপ এবং বক্স কালভার্টে জমে থাকা অপচনশীল বর্জ্যের কারণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা আজ নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

সমাধানের উপায় তুলে ধরে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত ও আধুনিক করতে হবে, ব্যক্তি যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ট্রানজিট-ভিত্তিক উন্নয়ন (টিওডি) বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া কম দূরত্বে কমিউটার রেল চালু করা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও এলোমেলো পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখিত ৪৭টি খাল উদ্ধার ও সীমারেখা নির্ধারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ, নদী ও খালগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং স্কুল পর্যায় থেকে জনসচেতনতা গড়ার কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।

অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বিআইপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র-ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল্লাহ, স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান প্রমুখ। সংগঠনের সিনিয়র সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ।