Home Blog Page 44

বরযাত্রীর গাড়ি আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে এক নববধূকে মাইক্রোবাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কনে পক্ষও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজীপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রোববার। বিয়ের পর রাত নয়টার দিকে বরপক্ষ একটি মাইক্রোবাসে করে তামান্নাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

পথে হাজীপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চর হাজীপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মিয়াদ মিয়া ২০ থেকে ২৫ জন যুবক নিয়ে মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বরকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তামান্নাকে জোর করে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে নিয়ে মিয়াদ ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে তামান্নাকে নিয়ে মিয়াদ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে আটক এবং নববধূকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রহিদ বলেন, তামান্না বিয়েতে রাজি ছিলেন এবং বিয়েতে তার কোনো আপত্তি ছিল না। এ কারণে মিয়াদের সঙ্গে তার পুরোনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে তামান্নার পরিবারের বরাত দিয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মিয়াদের সঙ্গে তামান্নার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং মিয়াদ বিভিন্ন সময় তামান্নাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় বরপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কনে পক্ষও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নববধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত মিয়াদ ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

 

%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AD%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%20%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%20(11) 1788165436

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

সন্তান বিক্রি করে ফোন কেনার অভিযোগ, বাবা আটক

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক বছর বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, উপজেলার বড়গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের এক বছরের ছেলে মুসাকে তার দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগম লালন-পালন করে আসছিলেন।

শনিবার মারুফ ঢাকা থেকে বাড়ি এসে ছেলে মুসাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন মারুফ। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে আইফোন কিনেছেন মারুফ মুন্সী।

শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমরান বলেন, মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে। মারুফের স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হওয়ায় সন্তান পালন সম্ভব নয় বলে শিশুটিকে আমাকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছে। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝামেলা থাকায় মুসাকে আমি লালন-পালন করতাম। দুই দিন আগে আমার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মুসাকে নিয়ে যায়। পরে আর বাড়িতে ফিরে না এলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সে। সেই টাকায় নাকি মোবাইল কিনেছে। আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার ছেলের বিচার চাই।

শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি বলেন, নাতিকে ফেরত চাই। আমার সন্তান মারুফ ও ইমরানের বিচার চাই।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার শত শত মানুষ মারুফ মুন্সীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন ঘটনা শুনে। এক বছরের শিশুকে কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে; তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সিকে আজ সন্ধ্যায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আইফোন কেনার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলছেন, শিশুটিতে বিক্রি না করে ইমরান হোসেনের কাছে লালন পালন করতে দিয়েছেন। ওসি আরও বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার ও ইমরানকে আটক করে একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে আজ সোমবার এ রায় দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।

গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই রাতুল শেখ এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠতে না চাওয়ায় শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠতে না চাওয়ায় রিসাদ (১২) নামের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রুবেল (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরিসহ রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৮ নম্বর চর রুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর রুহিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সুপারি পাড়া নিয়ে রিসাদের সঙ্গে রুবেলের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রুবেল ছুরি দিয়ে রিসাদের বুক, পেট ও বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় রিসাদ।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিসাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সাহেদ হোসেন বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত ছুরিসহ রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শিরোপা খরা কাটবে জকোর!

০

ইউএস ওপেনের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছেন কার্লোস আলকারাজ। চোটের কারণে শীর্ষ বাছাই ইয়ানিক সিনার না থাকায় স্প্যানিশ এ তরুণই এবার ফেভারিট। তাঁর টানা দ্বিতীয় ইউএস ওপেন জয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন আলেকজান্ডার জেরেভ। ইতিহাস গড়তে নামা সাবেক চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। সেমিতে জোকোভিচের মুখোমুখি হতে পারেন আলকারাজ। হ্যাটট্রিক ইউএস ওপেন শিরোপার মিশনে নামা বেলারুশ সুন্দরী আরিনা সাবালেঙ্কা অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী।

ড্রতে একই অর্ধে পড়েছেন আলকারাজ ও জকোভিচ। আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ মাত্রই চোট থেকে উঠেছেন বলেই এবার জকোভিচের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রেকর্ড ২৫ নম্বর গ্র্যান্ডস্লামের মিশনে নামছেন জকোভিচ। তবে ক্রোয়াট এ তারকা সর্বশেষ গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছিলেন সেই ২০২৩ সালে। ৩৯ বছর বয়সী এ তারকা গত ১১টি গ্র্যান্ডস্লামের মধ্যে ৮টিতেই আলকারাজ বা সিনারের কাছে হেরে বাদ পড়েছেন। এবার চোটের কারণে সিনার নেই, আলকারাজও চার মাস পর কোর্টে নামছেন। তাই তিন বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ সার্ব এ তারকার সামনে। নারী-পুরুষ উভয় বিভাগ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৪টি করে গ্র্যান্ডস্লাম জিতে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন নোভাক জকোভিচ ও মার্গারেট কোর্ট। ইউএস ওপেন জিততে পারলে এককভাবে সে রেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন জকোভিচ।

কবজির চোট সারিয়ে চার মাস পর বছরের শেষ গ্রান্ডস্ল্যামে ফিরেছেন টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ। গত শুক্রবার ‘মিডিয়া ডে’তে আলকারাজ জানিয়েছেন, তিনি এখন শতভাগ ফিট। বিরতির কারণে নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পাওয়া নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন তিনি। ২৩ বছর বয়সী এ তারকা গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে বছরের দারুণ সূচনা করেছিলেন। কবজির চোটের কারণে গত ১৬ এপ্রিল থেকে কোর্টের বাইরে আছেন।

শিরোপার আরেক দাবিদার হলেন র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা আলেকজান্দার জেরেভ। জার্মান এ তারকা দারুণ ফর্মে আছেন। গত জুনে ইতালির ফ্যাবিও কোবোলিকে পাঁচ সেটের রোমাঞ্চকর ফাইনালে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। এক মাস পর উইম্বলডনের ফাইনালেও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে সিনারের কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেননি। এবার সিনার নেই, আলকারাজও দীর্ঘ বিরতির পর এসেছেন। তাই তাঁর সামনে সুবর্ণ সুযোগ। যদিও জেরেভ মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির কারণে প্রথম এক-দুই ম্যাচে আলকারাজকে কিছুটা বিবর্ণ লাগতে পারে। তবে ছন্দ ফিরে পেলে তাঁকে আটকানো কঠিন। নবম বাছাই যুক্তরাষ্ট্রের টেলর ফ্রিটজ হলেন আরেক ফেভারিট। এন্ডি রডিকের পর স্বাগতিক আর কেউ ইউএস ওপেন জেতেননি। সে খরা কাটাতে পারেন ১৮ বছরের ফ্রিটজ।

নারী বিভাগে এবারও ফেভারিট সাবালেঙ্কা। তবে শীর্ষ বাছাই এ তারকা হতাশা নিয়ে নিউইয়র্কে এসেছেন। গত মার্চে মায়ামি ওপেন জেতার পর আর কোনো শিরোপা জেতেননি। তবে ২৮ বছর বয়সী এ তারকার দৃঢ়বিশ্বাস, ফ্ল্যাশিং মিডোসে তিনি ঠিকই জ্বলে উঠবেন। ২০২৪, ২০২৫ সালে এখানে আসার আগে তেমন একটা ছন্দে ছিলেন না তিনি। এর পরও শিরোপা জিতেছিলেন। এবারও তেমন কিছুই প্রত্যাশা করছেন সাবালেঙ্কা। সব বাধা পেরিয়ে যদি তিনি এখানে শিরোপা জিততে পারেন, তাহলে ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর সাবালেঙ্কা হবেন হ্যাটট্রিক ইউএস ওপেনজয়ী তৃতীয় নারী।

দিনে ১০ খুন সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ: চরমোনাই পীর

ছয় মাসে হাজার হাজার মানুষ বেকার এবং দিনে গড়ে ১০ জন খুন হওয়া সরকারের ব্যর্থতারই সাক্ষ্য দেয় বলে মন্তব্য করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

শনিবার রাজধানীর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পরে ছয় মাস চলে গেছে, কিন্তু তাদের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণও প্রকাশ পায়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।

চরমোনাই পীর বলেন, গত ছয় মাসে শুধু গার্মেন্টস খাতেই বেকার হয়েছেন ২০ হাজারের মতো কর্মী। প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে মানুষ খুন হচ্ছে, লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয় মাস সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়।

ইসলামী আন্দোলনের আমির সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।

রেজাউল করীম বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা বলে আসছি। কিন্তু এই বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। যদি সরকার সংস্কার না করে তাহলে যে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তার দায় সরকারকে নিতে হবে।

এবি পার্টির আশঙ্কা দুর্বল আইনে রক্ষা হবে গুমকারীর বিএনপির এমপি বললেন, ‘গুজব’

গুম প্রতিরোধে যে বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, তা পাস হলে গুমকারীদের বিচারের পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবি পার্টি।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহিতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন দলটির নেতারা। তবে এবি পার্টি আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেওয়া বিএনপির এমপি এবং গুম থেকে ফিরে আসা হুম্মাম চৌধুরী একে গুজব বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার। তিনি বলেন, গুমের সংস্কৃতিতে দেশকে আর ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।
স্বাগত বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে আমরা আর গুম দেখতে চাই না।

আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া।

তিন দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমলো

দেশের বাজারে গত এক সপ্তাহে তিন দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমেছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে সাত হাজার ১১৫ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম পড়বে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয় ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ছয় হাজার ৮২৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পাঁচ হাজার ৮৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম চার হাজার ৭২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর হলেন ইফতেখার-উল-আলম

দেশের বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রশাসন, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলমের। তার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম (অব.) বলেন, ‘মানবিক সেবা শুধু দান নয়, এটি সমাজের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ফাউন্ডেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও টেকসই উদ্যোগ নেবে। মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলমের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা এ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অসহায় পরিবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বাইরে বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে করোনাকালে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ‘যাকাত স্বাবলম্বী’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ‘মেহমানখানা’ উদ্যোগে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ।

এ ছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকার হাজারীবাগে নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানাও পরিচালনা করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা বলে জানিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

নতুন ডিরেক্টরের দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।