Home Blog Page 443

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে স্টারলিংক

দেশে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপনে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট স্টারলিংকের অংশীদার হয়ে কাজ করছে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে রয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ভূমি বরাদ্দ, নির্মাণ সহায়তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে। স্টারলিংক টিম এই কাজের জন্য কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সম্পত্তি এবং কিছুক্ষেত্রে হাইটেক পার্কের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে স্টারলিংক।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের স্থান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক বাংলাদেশের শহরে কিংবা প্রান্তিক অঞ্চলে, উত্তর অঞ্চল কিংবা উপকূলে লোডশেডিং কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝামেলামুক্ত রিলায়েবল এবং হাইস্পিড ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দেবে। এটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং উচ্চমান কোয়ালিটি সার্ভিসের নিশ্চয়তা দিবে। যেহেতু বাংলাদেশে টেলিকম গ্রেড ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সীমিত এবং প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে এখনো লোডশেডিংয়ের সমস্যা রয়েছে তাই স্টারলিংক আমাদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, এনজিও এবং এসএমই ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এবং ডিজিটাল ইকোনমিক ইনিশিয়েটিভগুলোকে বেগবান করবে। আমরা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের সাথে একটা বোধগম্য মডেল বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মাস্ককে জানান, এই সফরে মাস্ক বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যারা এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানকে স্পেসএক্স টিমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ও ইলন মাস্কের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপ হয়, যেখানে তারা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। সেই সঙ্গে স্টারলিংক সেবা বাংলাদেশে চালুর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

সুত্র: মানবজমিন

বড় ধাক্কা চিনকে! এবার থেকে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে ২৪৫% শুল্ক! বোমা ফাটালেন ট্রাম্প

আমেরিকা চিন থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন চিন থেকে আমেরিকায় যে পণ্য আসবে, তার উপর ২৪৫% কর লাগবে। আগে এই কর ছিল ১৪৫%, কিন্তু চিনের পাল্টা শুল্ক বৃদ্ধির জবাবে আমেরিকাও এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

চিনকে আরও একবার ধাক্কা

হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে যে এখন চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২৪৫% কর নেওয়া হবে। এটিকে একটি বড় এবং কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকা ভারত এবং অন্যান্য দেশের উপর আরোপিত শুল্ক আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে, কিন্তু চিনকে স্পষ্টভাবে ধাক্কা দিয়েছে।

শুভ বাংলা নববর্ষ

image

নতুন বছর জুড়ে থাকুক সুখ আর শান্তির বার্তা। মুছে যাক সব গ্লানি, গুছে যাক ধরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক এই সুন্দর পৃথিবী।
আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি দিন, নতুন বছর বয়ে আনুক সবার জীবনে সফলতা আর সুদিন। পহেলা বৈশাখে আসুক ভালোবাসার ছোঁয়া, সব গ্লানি মুছে নতুন করে সাজুক আমাদের জীবনের পথচলা। সবার জন্যে রইলো আমার নতুন বছরের অগনিত শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা।

আজকের সকালটা ছিল স্নিগ্ধ, ঝলমলে আর অপার্থিব সুন্দর, নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একেবারে নিখুঁত মায়াভরা রৌদ্রজ্জল ভালোবাসাময় মিষ্টি একটা দিন। 

আমাদের সকলের বাংলা নতুন বছর হোক শান্তিময়, সুস্থতাময় আর আনন্দময়। আমরা যেন একে অপরের কাছাকাছি থেকে, ভালোবাসায় মাখামাখি করে, কাটাতে পারি আরো অনেক অনেক বৈশাখ। আপনারা সকলে আমার অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানবেন। অনেক অনেক ভালো থাকবেন সবাই।

শুভ নববর্ষ!!

পিএসএলে স্বপ্নের মতো অভিষেক রিশাদের

স্বপ্নের মতো শুরু রিশাদ হোসেনের। পিএসএল অভিষেকেই বাজিমাত বাংলাদেশী লেগ স্পিনারের। লাহোরের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই কাড়লেন আলো। বল হাতে কাঁপিয়ে দিয়েছেন রাইলি রুশো-আমিরদের।

পিএসএলে দলের প্রথম ম্যাচে সুযোগ মেলেনি একাদশে। দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই নিজেকে চেনালেন রিশাদ। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার এমন বোলিংয়ে ৭৯ রানের বড় জয় পেয়েছে তার দলও।

এবারের পিএসএলের ড্রাফটে নাম ছিল সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকাদের। তবে তাদের ছাপিয়ে দল পান তিন বাংলাদেশী; নাহিদ রানা, লিটন দাস ও রিশাদ হোসেন।

নাহিদ রানা এখনো পাকিস্তানের বিমানে ওঠেননি আর আসর শুরুর আগেই শেষ লিটন দাসের, চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তিনি। তবে এর মাঝেই অভিষেক হয়ে গেল রিশাদ হোসেনের।

রোববার এই ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৯ রান করে লাহোর। শুরুতে ফখর জামান ও শেষে ঝড় তুলেন স্যাম বিলিংস। মাঝে বাকিদের ছোট ছোট ইনিংস লাহোরকে পথ দেখায়।

ফখর জামান ৩৯ বলে ৬৭ রান করে আউট হোন। শেষদিকে ১৯ বলে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন বিলিংস। ২১ বলে ৩৭ রান করেন আব্দুল্লাহ শফিক আর ২৩ বলে ৩৭ করেন ডেরিয়েল মিচেল।

শেষ দিকে ব্যাট করতেও নামেন রিশাদ। তবে মাত্র ১ বল খেলে সমান ১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আকিল হুসেইন ও আবরার আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট পান ফাহিম আশরাফ ও উসমান তারিক।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে কোয়েটা। মাত্র ৯ রানের মাঝে তারা হারায় ৩ উইকেট। দুই ওপেনার সাউদ শাকিল ও ফিন অ্যালেনকে বিদায় করেন শাহীন আফ্রিদি। আর হাসান নাওয়াজকে ফেরান আসিফ আফ্রিদি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন লাহোর অধিনায়ক আফ্রিদি। প্রথম ওভারে মাত্র ৬ রান দেন রিশাদ। দ্বিতীয় ওভারে এসে রুশোর কাছে ছক্কা হজম করলেও পরের বলে তাকে বোল্ড করেন তিনি, দেন ৯ রান।

১১তম ওভারে রিশাদ নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে একটু খরুচে ছিলেন, সেই ওভারে একটি ছক্কাসহ ৯ রান খরচ করেন তিনি। তবে শেষ ওভারে রিশাদ তুলে নেন জোড়া উইকেট। এবার মোহাম্মদ আমির ও আবরারকে ফেরান রিশাদ।

রিশাদের তোপে কোয়েটার ইনিংস থামে ১৪০ রানেই। রাইলি রুশোর ৪৪ রান ছিল ইনিংস সেরা, কুশল মেন্ডিস ২৮ ও ফাহিম আশরাফ করেন ২১ রান। বল হাতে রিশাদ ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন সিকান্দার রাজা, শাহীন আফ্রিদি ও আব্বাস আফ্রিদি।

রিতুর ব্যাটে অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশের

অঘটন প্রায় ঘটেই যাচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে হয়েছে রক্ষা। আইরিশ নারীদের বিপক্ষে রক্তহিম করা রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছেন রিতু মণি।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার আয়ারল্যান্ড নারী দলের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ নারী দল। যেখানে রূদ্ধশ্বাস লড়াই হলেও ৮ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় পায় টাইগ্রেসরা।

লাহোরে রোববার আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান করেছে আইরিশ নারীরা। এর আগে কখনো এত রান তাড়া করে জেতেনি নিগার সুলতানারা। ফলে জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হতো টাইগ্রেসদের।

তবে ইতিহাস গড়তে নেমে শুরুতেই হোচট খায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে তৃতীয় বলেই ফারজানা হকের (০) উইকেট হারায় দল। দ্রুত ফেরেন আরেক ওপেনার ইশমা তানজিমও, ১৫ বলে মাত্র ২ রান করেন তিনি।

২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান নিগার সুলতানা ও শারমিন আক্তার। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। শারমিন আউট হোন ৪৫ বলে ২৪ করে। তবে লড়াই চালিয়ে যান জ্যোতি।

দলীয় ৮২ রানে ফেরেন সোবাহানা মোস্তারি (৭)। এরপর অবশ্য জ্যোতিও বেশিক্ষণ টেননি। ৬৮ বলে ৫১ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৯৪ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন রিতু ও ফাহিমা খাতুন।

কিন্তু তাদের ৫৫ রানের জুটি ভাঙতেই বিপদে বাড়ে। ৩৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন ফাহিমা। তবে থামেননি রিতু। জান্নাতুলকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে যোগ করেন ৪০ রান। জান্নাতুল আউট হোন ১২ বলে ১৮ করে। দ্রুত ফেরেন রাবেয়াও।

১৮৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দল যখন হারের প্রহর গুনছে, তখন জাদু দেখান রিতু। বোলারদের নিয়ে লিখেন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি।

শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ৬৭ রানের অবিশ্বাস্য এক হার না মানা ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিলেন রিতু। আর জয়সূচক রানটা করেন ছক্কা মেরে। আর টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপ-স্বপ্নটা আরো উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তুলে নেয় সারাহ ফোর্বসের (৪) উইকেট। তবে এরপর অধিনায়ক গ্যাবি লুইসকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন অ্যামি হান্টার।

তবে ভয়ংকর হবার আগে এই জুটি ভাঙেন জান্নাতুল। ২৪ রানে ফেরেন লুইস। আর হান্টার ফেরেন রান আউট হয়ে। ৩৮ বলে ৩৩ রান করে। কিন্তু ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট ও লরা ডিলানি মিলে এবার গড়েন ৭২ রানের জুটি।

৬৪ বলে ৪১ রান করে দলীয় ১৪৯ আউট হন প্রেন্ডারগাস্ট। ডিলানি আউট হোন ৬৩ রানে। ১৮২ রানে ৫ উইকেট পতনের পর অবশ্য আর কেউ তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যালি।

বল হাতে রাবেয়া খান ৩ ও ফাহমিদা খাতুন নেন ২ উইকেট।

নববর্ষের অঙ্গীকার হোক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ যেন আমরা না হারাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন। আজকে সবাইকে আপন করে নেয়ার দিন। এবারের নববর্ষ, নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ। আসুন, আমরা বিগত বছরগুলোর গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় এবং তা এগিয়ে যাওয়ায় আমাদের সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের এসব ঐতিহ্য শুধু যেন নিজেদের মধ্যেই না থাকে, আমাদের সংস্কৃতি যেন আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি বিশ্ব দরবারে। বছরের এই দিনটিতে আমরা সুযোগ পাই আমাদের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে তুলে ধরতে এবং পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে।’

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব, বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। পুরো পৃথিবীতে যেখানে যেখানে বাঙালিরা আছেন আজ আমাদের সবার আনন্দের দিন, বর্ষ বরণের দিন।

‘ফসলি সন’ এর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলা সাল গণনা শুরু হয়েছিল কৃষিকাজের সুবিধার জন্য, ‘ফসলি সন’ হিসেবে। এখনো এদেশের কৃষকরা বাংলা তারিখের হিসেবেই বীজ বোনেন, ফসল তোলেন।

বাংলা নববর্ষের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘হালখাতা’ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখনকার আধুনিক সময়েও এখনো এই হালখাতার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের হাটে বাজারে শহরে বন্দরে। নববর্ষের বৈশাখী মেলায় বাংলাদেশের জেলায় জেলায় উদ্যোক্তারা সারা দেশে ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, হাত পাখা ইত্যাদি তৈরি করে নিজেদের সৃজনশীলতাকে তুলে ধরেন এই দিনকে উপলক্ষ্য করে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীও চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষে এবার বড় পরিসরে উৎসব উদযাপন করেছেন।

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সবার জন্য শুভদিনের সূচনা করুক। নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সকলের জন্য নতুন ও গভীর আনন্দের উন্মোচন করুক— এই কামনা করছি।

তিনি নববর্ষের সকল আয়োজন ও উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন।

জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশী জাতিসত্তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নববর্ষ উদযাপন। বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশীদের হৃদয়ে তার প্রকাশ অনন্য ভিন্নরূপ। আমি এই উৎসবমুখর দিনে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে নানা রূপ ও বৈচিত্র্য নিয়ে জাতির জীবনে বার বার ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের উৎসবের সাথে যেন ভরে ওঠা প্রকৃতি ও প্রাণের যোগ আবহমানকাল ধরে বিদ্যমান। আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় স্বজাতির অতীত গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুদূর অতীতকাল ধরে নির্মীয়মাণ বিশালত্ব এক শক্ত ভিত্তি লাভ করে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্বের বাণী একত্রিত হয়ে গঠন করে এক সুগ্রন্থিত জাতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতির আত্মপরিচয়ে পহেলা বৈশাখ এক উজ্জ্বল উপাদান। প্রতি বছর নববর্ষ পেছনের আলোকের দীপ্তিতে উৎকর্ষ ও অগ্রগতির পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়। এখন আমাদের প্রাণবন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের উদার দৃষ্টিভঙ্গির যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবণতা রয়েছে তার ভিত্তিতে বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিরস্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেন, ‘১৪৩১ সাল নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনার সাক্ষী। আমরা ১৪৩২ সালের প্রভাতে দাঁড়িয়ে আছি। শান্তির জন্য শুধু অপেক্ষা করলে হবে না, সমাধান হতে হবে নিঃস্বার্থ। তাহলেই রক্তপাত থামবে, শান্তি ধরা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিদগ্ধজনের মানসিক আশ্রয় ও মননের পরিচর্যার উৎসস্থল। সুপ্রাচীনকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির নিবিড় বন্ধন ভেঙ্গে ফেলার জন্য বিদেশী আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের এ সম্পর্কেও সচেতন ও সদা জাগ্রত থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘নববর্ষের প্রথম দিনে আমি সকলের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি। বৈশাখের বহ্নিতাপে সমাজ থেকে মুছে যাক অসত্য, অন্যায়, অনাচার ও অশান্তি। চারিদিকে প্রবাহিত হোক শান্তির সুবাতাস, সুশীলা নদী, সমস্ত জগৎ হোক অমৃতময়।’

১৪৩২ বাংলা সনের নতুন প্রভাতের প্রথম আলোতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।

সূত্র : বাসস

শোভাযাত্রায় সবার নজর ফ্যাসিস্টের মুখাবয়বে

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ করে নিতে নেওয়া হচ্ছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ শুরুর কথা রয়েছে।

বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে অন্যবারের মতো এবারও রঙের ছটা ও আমেজ থাকলেও একটি বিশেষ মুখাবয়ব সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেটি হচ্ছে ফ্যাসিস্টের মুখাবয়ব।

সম্প্রতি আগে তৈরি করা মুখাবয়বটি পুড়িয়ে ফেলার পর ফের ককশিট দিয়ে এই মুখাবয়ব তৈরি করা হয়েছে। এর সাথে দেখা গেছে জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের স্মরণে ‘পানি লাগবে পানি’ মোটিফ।

শোভাযাত্রার জন্য চারুকলার সামনে মুখাবয়বটি রাখা হলে উপস্থিত দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেককে বেশ আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলতেও দেখা গেছে। কেউ করেছেন ভিডিও।

শোভাযাত্রা শুরু হলে মুখাবয়বটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিনের বেশি থাকা বিদেশীদের নিবন্ধনের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিনের বেশি সময় অবস্থানকারী সব বিদেশীকে নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স প্ল্যাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশীদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, নিবন্ধনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।

পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের সূত্রে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি তাদের বার্তা স্পষ্ট- যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ুন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যান।

একটি ছবিসহ প্রকাশিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে নিজের মতো করে ফ্লাইট ঠিক করা যাবে, আয় করা অর্থ সাথে করে নেয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে বৈধভাবে ফেরার সুযোগও থাকবে। এমনকি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ ফিরতে না পারলে মার্কিন সরকার ভর্তুকি দেবে।

তবে কেউ যদি অবৈধভাবে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তাহলে তাদের কঠোর জরিমানা, তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো এবং কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের প্রতিদিনের জন্য ৯৯৮ ডলার জরিমানার কথাও জানানো হয়েছে।

এছাড়া যাদের ফেরত পাঠানো হবে, তারা আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র : সিবিসি ও অন্যান্য

বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল

আগের মতোই বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে। রোববার (৭ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৩ এপ্রিল) চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পূর্বের ন্যায় বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত’। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে দেশে নতুন ই-পাসপোর্ট চালু করলে সেই পাসপোর্টগুলো থেকে এই লেখা বাদ দেয়। এমনকি এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দেয়া হয়নি।

সূত্র : ইউএনবি