Home Blog Page 443

আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী

আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, কেউ দীর্ঘদিন রাজনীতি করেনি বা আওয়ামী লীগের আমলে যারা দোসর ছিলেন না, এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন, যারা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, টাকা পাচার পছন্দ করেননি কিংবা নিজেরাও এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় এ ধরনের মানুষ বিএনপির নতুন প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে।
তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে অনেক আগেই দূরে সরে গেছেন। ক্লিন ইমেজ রয়েছে যাদের। এছাড়া শ্রমিক, কৃষক, ব্যাংকার অর্থাৎ এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত তারা সবাই আমাদের নতুন সদস্য হতে পারবেন, যদি আমাদের দলের আদর্শ ধারণ করেন।
আ.লীগের ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন : রিজভী
রিজভী বলেন, বিএনপির নতুন সদস্য হতে পারবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যারা বিএনপিকে পছন্দ করেন, তারা আগ্রহী হবেন বিএনপির সদস্য হতে, এটা প্রত্যাশা করি। কারণ, এখন তো শেখ হাসিনার সেই আগ্রাসন আর নেই।
তিনি আরও বলেন, এবার বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হতে হলে আগে প্রাথমিক সদস্য ফরম নিতে হবে এবং রশিদ কাটতে হবে। এভাবেই যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সদস্য পদ দেওয়া হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। ১৪ মে থেকে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত এ মেয়াদ বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশের কথা বলা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী বর্ণিত অধিক্ষেত্রে অর্থাৎ সারা দেশে ও সময়কালে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ডে প্রেষণে নিয়োজিত সমমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) সারা দেশে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ ধারার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যক্রম চালাতে পারবেন।’ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দুই মাস বা ৬০ দিনের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সরকার।
পরে ১৫ নভেম্বর, ১২ জানুয়ারি ও ১৩ মার্চ তিন দফায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া ক্ষমতা দুই মাস করে বাড়িয়ে আসছে সরকার।

আ. লীগের বিচারে সরকারের নতুন উদ্যোগ, জানালেন উপদেষ্টা

আ. লীগের বিচারে সরকারের নতুন উদ্যোগ, জানালেন উপদেষ্টা

গণহত্যায় জড়িত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রভিশন যুক্ত করা হবে। ফ্যাসিস্ট লীগের বিচার হবেই।
তিনি আরো বলেন, বিচারকাজ তরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হচ্ছে।

দেশে তিন স্তরে কমছে ইন্টারনেটের দাম

দেশজুড়ে তিনটি স্তরে ইন্টারনেটের দাম কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানান তিনি।

ফয়েজ আহমেদ লিখেছেন, ফাইবার অ্যাট হোমের ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছেন নতুন তিনটি স্তরে ইন্টারনেটের মূল্য কমছে। এরমধ্যে আইটিসি পর্যায়ে ১০ শতাংশ, আইআইজি পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং এনটিটিএন বা ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্য হ্রাস করবেন তারা।

‘এর আগে, আইএসপি লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঁচ এমবিপিএসের পরিবর্তে ৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএস ইন্টারনেট প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তারও আগে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে পর্যায়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি সকল আইআইজি এবং আইএসপি গ্রাহকদের জন্য ১০ শতাংশ এবং পাইকারি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ মোট ২০ শতাংশ দাম কমিয়েছে।

এ নিয়ে ইন্টারনেট লাইসেন্স রেজিমের মোট তিন থেকে চারটি স্তরে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাকি আছে শুধু মোবাইলসেবা দাতা ৩টি বেসরকারি কোম্পানির দাম কমানোর ঘোষণা।’

ইতোমধ্যেই সরকার মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বিডব্লিউডিএম এবং ডার্ক ফাইবার সুবিধা প্রদান করেছে জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেটের দাম না কমানোরও কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ কিংবা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না।

‘সরকার মোবাইল সেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে পলিসি সাপোর্ট দিয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তরগুলোতে পাইকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটের দামও কমিয়েছে। এখন তাদের জাতীয় উদ্যোগে শরিক হওয়ার পালা। আশা করছি মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমানোর পদক্ষেপে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিও সামান্য কিছুটা কমে আসবে।’

ফয়েজ আহমেদ জানান, ঈদুল ফিতরের দিন থেকে সরকারি মোবাইল সেবা টেলিটক ১০ শতাংশ মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার আশা করে অতি দ্রুতই তিনটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য পতনের ঘোষণা দেবে। সরকার এখানে দুই ধরনের মূল্য ছাড় আশা করে।

১. মার্চ মাসে এসআরও অ্যাডজাস্টমেন্ট বাবদ মোবাইল কোম্পানিগুলো যে মূল্য বাড়িয়েছিল সেটা কমাবে। (সরকার শুল্ক বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে তা থেকে সরে এসেছে, কিন্তু সে মতে বর্ধিত মূল্য কমায়নি মোবাইল কোম্পানিগুলো।)

২. আন্তর্জাতিক গেটওয়ে/আইটিসি, আইআইজি এবং ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন পর্যায়ে যতটুকু পাইকারি দাম কমানো হয়েছে তার সমানুপাতিক হারে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমাবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী ফেসবুকে আরও ‍লিখেছেন, বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের মানে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি। এমতাবস্থায় গ্রাহকস্বার্থে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিদায় স্কাইপ: ইন্টারনেট যোগাযোগের এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে একে অপরের সাথে জুড়ে রাখার পর, জনপ্রিয় ভিডিও ও অডিও কলিং সফটওয়্যার স্কাইপ সোমবার (৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই অ্যাপটি স্কাইপি বা স্কাইপে নামেই বেশি পরিচিত ছিল।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের ধারণাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছিল স্কাইপ। ২০০৩ সালে বাজারে আসার পর থেকেই বিনামূল্যে ভয়েস ও ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা দিয়ে এটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে কিছু বিশেষ ফিচার যুক্ত করে পেইড সংস্করণও চালু করা হয়, তবে এর মূল আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যে যোগাযোগের সুযোগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্কাইপের এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্কাইপের জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছিল। সেই সময় অ্যাপটির সক্রিয় মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১১ সালে মাইক্রোসফট ৮৫০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কে স্কাইপকে কিনে নেয়। সেই সময় মাইক্রোসফটের অনলাইন যোগাযোগ কৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল এই অ্যাপটি। তবে সময়ের সাথে সাথে হোয়াটসঅ্যাপ, জুম এবং খোদ মাইক্রোসফটের টিমসের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয়তার দৌড়ে স্কাইপকে পেছনে ফেলে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলোতেও যখন অডিও-ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা যুক্ত হলো, তখন অনেকেই একসময়ের অপরিহার্য স্কাইপের ব্যবহার ভুলতে শুরু করেন।

অবশেষে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাইক্রোসফট ঘোষণা করে যে তাদের বিভিন্ন যোগাযোগ সেবাকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ৫ মে স্কাইপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পরিবর্তে মাইক্রোসফট তাদের ‘টিমস’ প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আরও বেশি মনোযোগ দেবে।

ফলে আজ থেকে স্কাইপের পেইড এবং ফ্রি উভয় সংস্করণই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্কাইপ ফর বিজনেস’ আরও কিছু দিন চালু থাকবে। যদিও মাইক্রোসফট তাদের স্কাইপ ডট কম ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ সুবিধা রেখেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্কাইপের কন্টাক্ট এবং চ্যাট হিস্টোরি খুব সহজেই মাইক্রোসফট টিমসে স্থানান্তর করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াতে পুরোনো লগইন পাসওয়ার্ডের কোনো পরিবর্তন হবে না, কেবল স্কাইপের পরিবর্তে একটি টিমস অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। ব্যবহারকারীরা ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তাদের ডেটা ডাউনলোড অথবা মাইগ্রেট করার সুযোগ পাবেন। এরপর স্কাইপের সমস্ত তথ্য চিরতরে মুছে দেওয়া হবে।

এটা যুদ্ধ নয়, মুনাফার খেলা: নচিকেতা

জীবনমুখী গানের শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সুরে ফুটে উঠেছে ফুটপাতের বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে যুদ্ধবিরোধী বার্তাও। সেই গানেই আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি-‘একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে।’

সম্প্রতি কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জবাবে মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মিরের ৯টি স্থানে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত, যাকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গায়ক নচিকেতা। ভারতীয় এক পত্রিকায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নিয়ে আমি আতঙ্কিত একটা কারণেই-সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। আপনি-আমি।’

নচিকেতা বরাবরই স্পষ্টভাষী। তাঁর মতে, ‘‘পৃথিবীতে যত যুদ্ধ হয়েছে, সবকিছুর পেছনেই বাণিজ্যিক স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। সব যুদ্ধই ‘স্পনসর’ করা হয়! আমি সেটা প্রমাণ করতেও পারি।”

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মুনাফাবাজির প্রসঙ্গ টেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন নচিকেতা। তিনি বলেন, ‘রকফেলারদের তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা সেই সময় জার্মানি ও ইতালি-উভয় দেশকেই পেট্রোল সরবরাহ করেছিল। এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে-কারও মতে এটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আবার কারও মতে কেবলই ব্যবসা।’

গায়কের উপলব্ধি, ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যায়, যুদ্ধ আসলে মুনাফার খেলা। আর কারা এই মুনাফা পায়-তা বুদ্ধিমানদের বুঝে নিতে কষ্ট হয় না।

অপারেশন সিঁদুরে বলিউড তারকাদের সমর্থন

পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে ভঙ্গ করে বিভিন্ন চুক্তি। জম্মু-কাশ্মীরে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মধ্যরাত পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের পদক্ষেপ নেয় ভারত সেনাবাহিনী।

‘অপারেশেন সিঁদুর’ নামের মিশনে পাকিস্তানের ৯ টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মতে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন বলিউড তারকারা। পরেশ রাওয়াল, রিতেশ দেশমুখ, নিমরত কৌর, সুনীল শেঠি, অনুপম খের সহ আরও কিছু তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

অপারেশন সিঁদুর-এর হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে রিতেশ লেখেন, ‘হিন্দ সেনাদের জয়, ভারত মায়ের জয়।’ পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর লেখেন, আমাদের বাহিনীর জন্য প্রার্থনা করছি। এক জাতি, আমরা সবাই তোমার পক্ষে। জয় হিন্দ, বন্দে মাতারাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের লিখেছেন, ‘ভারত মাতার জয় অপারেশন সিঁদুর।’

নিমরত কৌর লিখেছেন, আমরা সেনাবাহিনীর পাশে আছি। এক দেশ, এক মিশন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন প্রবীণ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। তিনি কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেননি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে পাওয়া সূত্রমতে, পেহেলগাম হামলার প্রতিবাদে এটি কেবল ভারতের প্রথম পদক্ষেপ। পরবর্তীতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন খালেদা জিয়া, উজ্জীবিত বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে মনে করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পর, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ মে) উন্নত চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরার সময় তাকে হেঁটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লন্ডনে চার মাস পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থাকায় তিনি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, বিএনপি প্রধান এবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র সংকটে রয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি গণতন্ত্রের অগ্রদূত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অপরিহার্য।”

দলের নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপিকে পথ দেখাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দলের বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে তিনি অবশ্যই আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, গণতন্ত্র উত্তরণ এবং গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় তিনি সবসময় আমাদের নেতৃত্বে থাকবেন।”

বিএনপির নেতারা মনে করেন, সভা-সমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে। তবে, সবকিছুই নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর।

হাসপাতাল থেকে মাকে বাসায় নিলেন জোবাইদা রহমান

বাবার কবর জিয়ারত এবং সন্ধ্যায় স্কয়ার হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে ধানমন্ডির বাসা ‘মাহবুব ভবনে’ গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান।

বুধবার বিকেলে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বেরিয়ে প্রথমে যান বনানীর সামরিক কবরস্থানে সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবরে। সেখানে মহিলাদের জন্য নামাজের নির্ধারিত স্থানে আসরের নামাজ আদায় করে বাবার কবর জিয়ারত করেন জোবাইদা। সঙ্গে ছিলেন আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।

এরপর তিনি ধানমন্ডিতে স্কয়ার হাসপাতালে যান মা ইকবাল মান্দ বানুর কাছে। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও তার সহধর্মিণীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। সন্ধ্যার পর চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে মাকে নিয়ে ধানমন্ডির বাসায় আসেন জোবাইদা।

এ সময়ে বিএনপির নাসির উদ্দিন অসীম ও তার স্ত্রী মেহনাজ মান্নান, আবদুল লতিফ জনি ও তার স্ত্রী, নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা জানান, সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা উনার(ইকবাল মান্দ বানু) ছাড়পত্র প্রদান করলে বড় মেয়ে শাহীনা জামান এবং ছোট মেয়ে (জোবাইদা রহমান) সাথে মাহবুব ভবনের বাসায় আসেন তিনি। এই সময়ে সৈয়দা শামিলা রহমানও ছিলেন।

মঙ্গলবার লন্ডন থেকে শাশুড়ি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ঢাকা আসেন জোবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। গুলশানে ফিরোজায় শাশুড়ির সাথেই থাকছেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ মাকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে যান জোবাইদা। সেখানে মায়ের সাথে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ছিলেন তিনি। পরে মাহবুব ভবনেও কিছু সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যান ফিরোজায়।

ভারতের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের জবাব

পেহেলগামে হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হামলায় ৩১ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছে। জবাবে রাতেই স্বল্প পরিসরে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৩ জন আহত হয় বলে জানায় ভারতের সেনাবাহিনী।

ইসলামাবাদের দাবি, তারা হামলায় অংশ নেওয়া ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডের সদরদপ্তর ও তল্লাশিচৌকি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ২৫ মিনিট ধরে চলেছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযান। পাকিস্তানের ছয় স্থানে সব মিলিয়ে ২৫টি আঘাত হানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র। এতে প্রাণ গেছে ‘৭০ সন্ত্রাসীর’। এই ছয় স্থান হলো– পাঞ্জাবের শিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর ও মুরিদকে, আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ, বাগ ও কোটলি শহর। ভারতের সেনাবাহিনী বলছে, তারা কোনো সামরিক বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালায়নি। পাকিস্তানের জিও নিউজ জানায়, ভারতের হামলায় নিলম-ঝিলাম হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে জাতিসংঘের একটি দল।

ইসলামাবাদে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত আগ্রাসন চালিয়েছে; পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এটি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। বিনা উস্কানিতে এ হামলা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে পাল্টা হামলার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনীকে ভারতের হামলার জবাব দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘যুদ্ধের কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো উস্কানি ছাড়া ভারতের এ হামলার সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তানের আছে; উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন জানায়, তিনি ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পাকিস্তানে হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চীন বলেছে, ভারতের সামরিক পদক্ষেপ হতাশাজনক; চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাপান, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকতে বলেছে।

বুধবার ভারতজুড়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়া শুরুর আগে পাকিস্তানে এ হামলা হলো। এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করে আসছিল ইসলামাবাদ। হামলায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (আজাদ কাশ্মীর) মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঞ্জাবেও একটি মসজিদে হামলা হয়। দিল্লি বলছে, জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ হয়েছে। ভারতে এ হামলার উদযাপন হলেও পাকিস্তানে বিক্ষোভ করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ইসলামাবাদের রাস্তায় গাড়িতে ট্যাঙ্ক বহনের দৃশ্য দেখা গেছে।
গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীর গুলিতে ২৬ পর্যটক নিহত হন। এ ঘটনায় ইসলামাবাদ জড়িত বলে অভিযোগ করে নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হামলার জেরে সিন্ধুর পানিচুক্তি স্থগিত, আকাশসীমা বন্ধ রাখাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারত। এবার তারা পাকিস্তানে হামলা চালাল। এর আগে ২০১৬ সালে আজাদ কাশ্মীরে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালিয়েছিল ভারত।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, ভাওয়ালপুরে পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান কার্যালয়, মুরিদকে শহরে পাকিস্তানভিত্তিক আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়্যেবার প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন আস্তানায় হামলা চালিয়েছে নয়াদিল্লি। এর আগে পেহেলগামে হামলার দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফ নামের সংগঠন। ধারণা করা হয়, এটি লস্কর-ই-তৈয়্যেবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

হামলা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী মঙ্গলবার গভীর রাতে গণমাধ্যমে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে কাপুরুষ শত্রু ভারত ভাওয়ালপুরের আহমেদ ইস্ট এলাকার সুবহান মসজিদ, কোটলি ও মুজাফফরাবাদের অন্তত তিন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।’ পরে অন্য এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হওয়ার কথাও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। তিনি জানান, ভারতের আকাশসীমা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, এর জবাব দিচ্ছে সামরিক বাহিনী। ভারত ‘আগুন নিয়ে খেলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার।

হামলায় পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের শীর্ষ নেতা মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রাণ গেছে তাঁর বড় বোন, শ্যালক, ভাগিনা-ভাগিনির। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে মাসুদ আজহার জানান, নিরপরাধ শিশু, অবিবাহিত নারী ও বয়স্কদের টার্গেট করা হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানান। পরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ধুনদিয়াল সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডের সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। রয়টার্স জানায়, ভূপাতিত পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমানের মধ্যে তিনটি রাফায়েল, একটি রাশিয়ান এসইউ-৩০ ও আরেকটি মিগ-২৯। ভারত তিনটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এটি কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

ভারতের হামলা নিয়ে বুধবার ভোরে ব্রিফ করেন পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি জানান, পাকিস্তানে হামলায় ভারত বিভিন্ন সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আজাদ কাশ্মীরের ভাওয়ালপুরের আহমেদপুর ইস্টের সুবহান মসজিদে হামলা হয়েছে। সেখানে চারটি হামলা করা হয়। এতে পাঁচ পাকিস্তানি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের এক কন্যাশিশু রয়েছে। আহত হন ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক। আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বিলাল মসজিদে হামলা হয়েছে জানিয়ে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সেখানে সাত দফায় হামলা হয়। এতে একটি মসজিদ ধ্বংস ও এক কন্যাশিশু আহত হয়।

তিনি জানান, এ অঞ্চলের আরেক শহর কোটলির আব্বাত মসজিদে হামলা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দু’জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরী ও ১৮ বছরের এক তরুণ রয়েছে। এক নারী ও তাঁর শিশুকন্যা আহত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক জানান, পাঞ্জাবের মুরিদক শহরের উমালকুরা মসজিদে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সেখানে একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এ জায়গায় দুই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাঞ্জাব প্রদেশের আরেক জেলা শিয়ালকোটের কোটকি লোহারা গ্রামে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট ও আরেকটি খোলা মাঠে পড়ে। তাতে কেউ হতাহত হয়নি। এ অঞ্চলের শাখারগড়ে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে একটি ওষুধের দোকানে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বিলাল মসজিদে হামলা প্রসঙ্গে স্থানীয় মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণে আমার বাড়িটা কেঁপে ওঠে। দৌড়ে রাস্তায় বের হই। সেখানে দেখি অন্যরাও জড়ো হয়েছে। আমরা তখনও বুঝে উঠতে পারিনি কী হচ্ছে। এর মধ্যেই আরও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।’ তিনি জানান, ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াহিদ জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না, মসজিদকে কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হলো। তিনি বলেন, ‘এটি তো সাধারণ একটা মসজিদ। এখানে আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তাম। আমরা এ মসজিদ ঘিরে কখনও সন্দেহজনক কিছু দেখিনি।’

পাকিস্তানে হামলার প্রেক্ষাপটে গতকাল ভারতের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল অংশ নেন। পরে অমিত শাহ এক এক্স পোস্টে পাকিস্তানে হামলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘পেহেলগামে আমাদের নিরপরাধ ভাইদের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভারতের জবাব অপারেশন সিঁদুর।’ এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। দরপতন হয়েছে রুপির।

বিমানবন্দর বন্ধ

বুধবার ভোর থেকে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফ্লাইট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, ইন্ডিগো, স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলো ‘যাত্রীর সুবিধার্থে’ এসব বিবৃতি দিয়েছে।

অপরদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, দেশটিতে ভারত হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এমন ঘোষণা এলো।