Home Blog Page 443

বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল

আগের মতোই বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে। রোববার (৭ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৩ এপ্রিল) চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পূর্বের ন্যায় বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত’। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে দেশে নতুন ই-পাসপোর্ট চালু করলে সেই পাসপোর্টগুলো থেকে এই লেখা বাদ দেয়। এমনকি এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দেয়া হয়নি।

সূত্র : ইউএনবি

গাজায় ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে ইসরাইলের হামলা

গাজায় সীমিত আকারে সচল থাকা ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতাল বা আল-আহলি আরব ফিল্ড হাসপাতালটি ইসরাইলের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (১৩ এপ্রিল) ভয়াবহ হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি। প্রায় ১০ লাখ মানুষের জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছিল হাসপাতালটি।

গাজা উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর দখলের পরদিনই এই হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপত্যকাটির ফিল্ড হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-হামস।

তিনি বলেন, গত ৪০ দিন ধরে গাজায় কোনো ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা জ্বালানি প্রবেশ করছে না। বেশিভাগ হাসপাতালের অক্সিজেন স্টেশন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বেশ কিছু রোগীর জীবন দ্রুতই ঝুঁকিতে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, গাজার অন্য হাসপাতালগুলোতেও সরঞ্জামের সঙ্কট রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মারওয়ান আল-হামস। ‘বিশ্বের হস্তক্ষেপ ছাড়া গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর যু্দ্ধ শুরু থেকে ইসরাইলের হামলা থেকে বাঁচতে অনেক ফিলিস্তিনিই হাসপাতালগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গাজার সেসব হাসপাতালের বেশিভাগই ইসরাইল ধ্বংস করে দিয়েছে।

ত্রাণ সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘ সতর্ক দিয়েছে, গাজায় ইসরাইলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহ দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স রেসকিউ টিম জানিয়েছে, হামলায় হাসপাতালের অপারেশনের ভবন, অক্সিজেন স্টেশন ও নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

রোববারের হামলায় ব্যাপিস্ট হাসপাতাল ভবনের লোহার দরজা ভেঙ্গে পড়েছে এবং একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। ইরাকের একটি টেলিভিশন জানিয়েছে, তাদের একটি ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ থেকে চালানো ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৫৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ৯৪৪ জন।

দু’মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে গাজায় হামলা বন্ধ করেছিল ইসরাইল। কিন্ত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আবারো তীব্র হামলা শুরু করে ইসরাইল। এর কয়েকদিন পর হামাস ইসরাইলে আবারো রকেট হামলা চালায়।

সূত্র : ইউএনবি

নন্দনগরের সর্বশেষ মুসলিম দম্পতির নিদারুণ লড়াই

উত্তরাখণ্ডের নন্দ নগরে এক মুসলিম নাপিতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে শুরু হয় সহিংসতা। এরপর তা খুব দ্রুতই সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ হামলার শিকার হন; রেহাই পায়নি তাদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট কিংবা ধর্মীয় স্থান। তখন বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারই শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু আহমেদ হাসান নামের এক ব্যবসায়ী এখনো সেখানে শিকড় আঁকড়ে পড়ে আছেন।

নাজিবাবাদ থেকে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হারুন আনসারি নামের এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, তার মাথায় একাধিক আঘাত লেগেছিল। তিনি আরো বলেন, ‘আমার শুধু মনে আছে যে মানুষ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তারপর আর কিছুই মনে নেই।

আনসারিকে মারধরের পর, স্থানীয় মুসলিমরা—যাদের মধ্যে হাসানও আছেন—আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু তাতেও রক্ষা হলো না তাদের। শত শত উগ্রবাদী হিন্দু এসে মুসলিমদের বাড়ি-ঘরে পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। হাসান বলেন, এ সময় আমরা বারবার পুলিশকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। এমনকি আমার পুরনো হিন্দু বন্ধুরাও সেদিন ফোন ধরেনি।

সন্ধ্যার পর উগ্রবাদীরা যখন চলে গেল, মুসলমানরা সবাই আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এলেন। রাত গভীর হতেই হাসান দোকানে যান। গিয়ে দেখেন, তার ‘দ্য হাসান ড্রাই ক্লিনার্স’ নামের দোকানটি পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। শাটার ভাঙা, ধোয়া কাপড় রাস্তায় ছড়িয়ে, কাউন্টার গুঁড়িয়ে গেছে। সেখানে তালাবদ্ধ ড্রয়ারে তিনি সন্তানদের বিয়ের জন্য চার লাখ টাকা সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু পুরো টাকাই চুরি হয়ে যায়।

তার দোকানের নামফলক পড়ে ছিল নন্দাকিনী নদীর ধারে, ছিন্নভিন্ন এক ধ্বংসাবশেষের মতো। এসব ভাঙচুরের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সেই দিনটা কখনো ভুলতে পারব না।

পরদিন আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি

আগের দিন আঘাত পাওয়া হারুন বলেন, ২ সেপ্টেম্বর হিন্দু উগ্র-ডানপন্থী সংগঠনগুলো আরো বড় বিক্ষোভের ডাক দেয়। তারা আশপাশের শহর থেকে লোক এনে নন্দ নগরকে উত্তপ্ত করে তোলে। তাদের ডাকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। অথচ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছিল মাত্র ৬০ থেকে ৭০ জন। আমরা বারবার এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। তবুও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।’

ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য পরিচিত হিন্দু নেতা দর্শন ভারতীও সেদিন নন্দ নগর আসেন। তার বক্তব্যের পর উগ্র জনতা নতুন করে হামলা চালায় মুসলিমদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট ও ধর্মীয় স্থানে। এ সময় তারা একটি পাঞ্জেগানা মসজিদও গুঁড়িয়ে দেয়। এক মুসলিমের গাড়ি তুলে ফেলে দেয় নদীতে। ভারতীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আল জাজিরার প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।

হাসান বলেন, ‘যখন হিন্দুরা পাথর ছুঁড়ছিল, তখন আশেপাশের মুসলিম পরিবারগুলো আমার বাড়ির দোতলায় এসে আশ্রয় নেয়। কারণ, বাড়িটি বহুতল হওয়ায় ও শক্ত লোহার গেট থাকায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে করেছিল তারা। আমার সেই দিনের কথা মনে করলে এখনো গা শিউরে ওঠে।’

ঘটনার দিনই অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে দেয়। কিন্তু এরপর পুলিশ মুসলিম পরিবারগুলোকে জানিয়ে দেয় যে তারা আর মুসলমানদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারবে না। রাতের আঁধারে পুলিশই মুসলিমদের গাড়িতে করে পার্শ্ববর্তী শহরে নামিয়ে দিয়ে আসে।

এটাই ছিল অধিকাংশ মুসলিম পরিবারের জন্য নন্দনগরের শেষ দিন।

‘এটাই আমার ঠিকানা’

কিন্তু আহমেদ হাসান নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে যাননি। তিনি বলেন, ‘এটাই আমার বাড়ি। আমার জন্ম, শৈশব, জীবন, সবকিছু তো এই শহরের সাথে জড়িত। আমার অতীত, আমার শিকড়, সবই তো এখানেই।’ এ সময় তিনি আরো জানান, তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব সরকারি নথিপত্রেই ঠিকানা হিসেবে লেখা রয়েছে নন্দনগর।

হাসানের পরিবার এরপর কিছু দিনের জন্য ২৬৬ কিলোমিটার দূরে দেরাদুনে চলে যায়। সেখান থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর হাসান ও মোহাম্মদ আয়ুম নামের আরেক বাসিন্দা হাইকোর্টে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত চামোলি জেলার পুলিশ প্রধানকে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে হাসান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর মনে হয়েছিল এবার নিরাপদে ফিরতে পারব। কিন্তু কেউই আর ফিরতে রাজি হয়নি। ভয়ে সব পরিবার এখন দূরেই থাকে।’

তার ভাইয়ের সেলুন বন্ধ হয়ে যায় বাড়িওয়ালার হুমকির কারণে। আত্মীয়রাও এগিয়ে আসেননি সহায়তায়।

সাহস দেখালেন হাসানের স্ত্রী

হাসান বলেন, ‘অনেক ভাবনা-চিন্তার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আমাকে ফিরতেই হবে। সবকিছু তো নন্দ নগরেই রয়ে গেছে।’ এসময় তার স্ত্রীই প্রথমে সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যদি আমরা না ফিরি, তাহলে আমাদের জীবনধারা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তবুও হাসানের পরিবার এখনো দ্বিধায় আছে। চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের স্কুল শেষ করেছে। হাসান দেরাদুনে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু তার স্ত্রী মনে করেন, যদি তারা আবার শহর ছেড়ে যান, তবে বাড়ি ও দোকান স্থানীয়দের দখলে চলে যেতে পারে।

অবশেষে ১৬ অক্টোবর হাসান পৌঁছান নন্দ নগরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, একজন হিন্দু ব্যক্তি তার দোকানের সামনেই সরাসরি প্রতিযোগিতার জন্য একটি ড্রাই-ক্লিনিং দোকান খুলে বসেছে।

হাসান নিজের দোকানটি মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো হিন্দু কর্মী তাকে সাহায্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, ‘তাদেরকে পুরোপুরিভাবে মুসলিমদের বয়কট করার জন্য বলা হয়েছে। তারা এতটা ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে যে কেউ আমাদের দোকান মেরামতেও সাহস করছে না। কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো তাদের মুসলমানদের সাহায্য না করার নির্দেশ দিয়েছে।’

হিন্দুত্ববাদ হলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের হিন্দু জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ। এর একটি আধাসামরিক সংগঠন রয়েছে। তার নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে আছেন।

অবশেষে হাসান নিজেই দোকান মেরামত করে তা খোলেন। কিন্তু কোনো গ্রাহক আসেনি। তিনি তার আগের নিয়মিত হিন্দু ক্লায়েন্টদের ফোন করেন। কিন্তু তারা আসতে অস্বীকার করে। যারা আসতো, তাদের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর গুন্ডারা হুমকি দিতো এবং হিন্দু ড্রাই-ক্লিনারের কাছে যেতে বলতো। হাসান বলেন, ‘সেদিন আমি বুঝলাম যে ড্রাই-ক্লিনিংয়েরও একটি ধর্ম আছে।’

নতুন নন্দ নগরে হাসানের পরিবারের লড়াই এখানেই শেষ হয়নি। সেখানেও তাদের ধর্ম তাদের আলাদা করে ফেলেছে। তিনি জানান, তার ১৬ বছরের বড় মেয়েকে স্কুলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে ধর্মের কারণে।’ এক সহপাঠী তাকে বলেছিল, তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। কারণ সে একজন মুসলিম। আমরা যখন অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করি, এরপর নির্যাতন বন্ধ হয়।’

হাসান এবং শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য মুসলিমদের জন্য ন্যায়বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে। ১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরে উত্তরাখণ্ড পুলিশ একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করে। সেটি নন্দ নগর থানার ওসি সঞ্জয় সিং নেগি নিজেই করেন।

নথিতে তিনি লেখেন, ‘আমি দেখি ২৫০-৩০০ জন লোক জোরে জোরে ‘একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে’ গালিগালাজ করছে। আমি তাদের থামাতে গেলে তারা আমাকে সরিয়ে দেয়। তারপর আমি আমার ঊর্ধ্বতনদের ডেকে অতিরিক্ত পুলিশ চেয়েছিলাম।’ এরপর তিনি লেখেন, হিন্দুরা মুসলিমদের দোকান ভাঙচুর শুরু করে এবং একটি মসজিদও আক্রমণ করে।

তিনি আরো লেখেন, ‘উত্তেজিত জনতা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কাজ করছিল। তাদের আক্রমণে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে নারী ও শিশুরা ভয়ে চিৎকার করে ওঠে।’ তিনি বলেন, এ সময় হিন্দুরা লাঠি, বেলচা ও লোহার রড নিয়ে এসেছিল। তবুও উত্তরাখণ্ড পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।’

আল জাজিরা চামোলি জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট সর্বেশ পানওয়ারের সাতে যোগাযোগ করে। কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

নন্দ নগর হয়ে উঠেছে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের এক বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে মোদির বিজেপি শাসিত এই রাজ্য বহু শহরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ এবং বৈষম্যের দ্রুত বৃদ্ধি দেখেছে। শহরের পর শহরে, উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো মুসলিমদের দেশত্যাগে বাধ্য করতে প্রচারণা শুরু করেছে। অনেকক্ষেত্রেই তারা সফলও হচ্ছে।

সেখানে মুসলিমদের দোকান লুটপাট বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। বয়কট চলে অর্থনৈতিকভাবে। প্রায়ই মুসলমানরা শারীরিক সহিংসতারও মুখোমুখি হন। সম্প্রতি ধামির সরকার একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছে, যা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখে।

আদালত কয়েকবার হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু অনেক কর্মী মনে করেন আরো কিছু করা দরকার। দেরাদুনের এক কর্মী খুরশিদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশের আদালত এখনো বোঝে না যে মুসলিমরা কতটা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।’ খুরশিদ হাইকোর্টে আবেদন করতে হাসানকে সাহায্য করেছিলেন। মোটকথা, নিপীড়ন চলছে সব দিক থেকে- শারীরিক, মানসিক, আর্থিক।’

তবুও সম্প্রতি হাসান একটুখানি আশার আলো দেখতে পান।

১ সেপ্টেম্বরের সহিংসতার প্রায় পাঁচ মাস পর ১৯ ফেব্রুয়ারি, মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী একজন হিন্দু ব্যক্তি হাসানের দোকানে আসেন। ওই সময় তার স্ত্রী দোকান চালাচ্ছিলেন। লোকটি একটি কোট এবং ট্রাউজার নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করেন, সেগুলো দ্রুত ড্রাই-ক্লিন করা যাবে কিনা। হাসানের স্ত্রী তখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি তো আমাকে বোন বলেছিলে এবং বলেছিলে মুসলমানরা যেন চলে যায়?’ লোকটি জবাব দেয়, ‘যা হয়েছে ভুলে যাও। তোমার কাজ খুব ভালো। তাই তোমার কাছেই এসেছি।’

ঘটনাটি মনে করে হাসান হেসে বলেন, ‘আমি এই দিনটা দেখতে পারলাম। কারণ আমি গিয়ে ঝগড়া করিনি।’

তবুও ভাঙা বন্ধুত্বের যন্ত্রণা তাকে কষ্ট দেয়। যখন মুসলিম পরিবারগুলো নিজেদের জিনিসপত্র নিতে ফিরে আসত, তখন তাদের সাথে আমরা একসাথে বসে হাসি-ঠাট্টা করতাম। তারা জিজ্ঞাসা করতো, আমরা কেন ফিরে এসেছি। এতে আমার হৃদয় ভেঙে যায়। শারীরিক সহিংসতা কিছুটা কমেছে। কিন্তু সামাজিক নিঃশব্দ সহিংসতা এখনো চলছে।’

তবু ভবিষ্যৎ নিয়ে এবং নন্দ নগর নিয়ে আশাবাদ হারাতে রাজি নন হাসান।

সূত্র : আল জাজিরা

শেষ হলো বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এটি ১০টা ৩০ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনেই এসে সমাপ্ত হয়।

শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়। এটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় যোগ দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিশিষ্টিজনেরা। এছাড়া শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী এবং নানা বয়সী মানুষ।

ভোরের আলো ফুটতেই জনস্রোত জমতে শুরু করে চারুকলায়। রমনা, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায়ও ছিল মানুষের ঢল।

শোভাযাত্রায় মুখোশ, পাপেট, বাঁশের তৈরি বাঘ, পাখি, মাছসহ নানা বিশালাকৃতির শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতিনির্ভর মানুষের সংগ্রামের রূপ।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এসেছেন এই বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে। হলুদ, লাল, সবুজ ও কমলা রঙের পোশাকে সেজেছেন সবাই। নারীদের মাথায় ফুলের মালা, হাতে রঙিন চুড়ি এবং শিশুদের মুখে উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। ছোট ছোট মুখোশ পরে এবং হাতে পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিলে অংশ নেয় তারা।

বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এদিকে, পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বছর যেখান-সেখান থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাস্থলগুলো ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হচ্ছে। রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ মোট ২১টি স্থানে ব্যারিকেড রয়েছে।

প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া ও শোভাযাত্রার রোড সমূহ সিসি ক্যামেরাসহ স্থির ও ভিডিও ক্যামেরা দ্বারা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুট পেট্রোল রয়েছে। সিটিটিসি, সোয়াত ছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া : রিজভী

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া।’

তিনি বলেছেন, ‘কারণ ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের মানুষের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

আজ সোমবার রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সতীর্থ স্বজন।

জুলাই ছাত্রদলের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘তুমুল আন্দোলন চলছে, আমি কারাগারে। সেখান থেকে শুনছি, তারুণ্যের উদ্দীপনা, তেজ। পুলিশ বলছে, “গুলি করি, একটা পড়ে যায়, আবার সেখানে এসে আরেকজন দাঁড়ায়।” এই উদ্দীপনা দিয়েছে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের গান, লেখা, অনেক কবির লেখিনীর মাধ্যমে।’

তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ১৫ বছর পরিকল্পিতভাবে একটি দেশের সংস্কৃতি এদেশে ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা করা হতো।

তিনি বলেন, ‘এই পহেলা বৈশাখে মুখোশের আড়ালে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হতো। এমনকি দাড়ি-টুপি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করা হতো, দাড়ি-টুপি পরা সব মানুষ কি খারাপ? না।’

রিজভী বলেন, ‘যার জন্য আমাদের ১৬ বছরের লড়াই, সেটি আমরা নিশ্চিত করি । সেই গণতন্ত্রকে নিশ্চিত করা নিয়ে কোনো টালবাহানা করা যাবে না।’

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকারকে কেন সংস্কারের সাথে এক করে দেখা হচ্ছে? গণতন্ত্র মানেই সংস্কার। গণতন্ত্র হচ্ছে প্রবাহমান খরস্রোত নদীর মতো। এখানে কর্তৃত্ববাদের কোনো জায়গা নেই, আর যেখানে কর্তৃত্ববাদের জায়গা নেই সেখানেই গণতন্ত্র বয়ে যায়। সংস্কার হচ্ছে বয়ে যাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছে, তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার বাদ দিয়ে কিভাবে গণতন্ত্রের পরিবর্তে সংস্কারকে ভাবছে, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।’

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা মুক্ত দেশ, ছাত্রদলের জন্য আজ আরেকটা ঈদের দিন।’

বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, দেশের খ্যাতিমান কবি রেজা স্টালিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব ইসলাম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ।।

নিউ ইয়ারের চেয়ে নববর্ষ বেশি আনন্দময়

নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে আয়োজিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের এবারের আনন্দ শোভাযাত্রা। আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের সকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ১০টা ২০ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনেই এসে শেষ হয়।

এবারে শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, কৃষক, রিকশাচালক, নারী ফুটবলারসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। এছাড়া শোভাযাত্রায় গণমাধ্যমসহ সবার আগ্রহের জায়গায় ছিল বিদেশি পর্যটক। বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা আসেন এবারের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ উপভোগ করতে।

রাশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বেড়াতে এসে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন ‘নিনা’ নামের এক পর্যটক। তিনি বাংলা নববর্ষের এই আনন্দ দারুণভাবে উপভোগ করেন। এই রাশিয়ান পর্যটক বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উৎসবে এসেছি। আমি দারুণভাবে উপভোগ করছি। খুব ভালো লাগছে এই আয়োজন। এখানকার মানুষগুলো দারুণ। সবাই উজ্জ্বল রঙে রঙিন হয়ে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন সঙ্গীত, যা আমি আগে কখনও শুনিনি। ব্যাপারটা আমার জন্য খুবই ইন্টারেস্টিং।’

জার্মান থেকে বাংলা নববর্ষ দেখতে আসা ক্যাটরিনার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলা নববর্ষ ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের পার্থক্য নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বেশি সুন্দর, এখানকার মানুষ নববর্ষকে যেভাবে উদযাপন করে তা আর কোথাও নেই। ইংরেজি নতুন বছর উদযাপন এতটা রঙিন হয় না। ওখানকার আয়োজন ভিন্ন। কিন্তু বাংলা নববর্ষের আয়োজন অত্যন্ত রঙিন।’

আরেক রাশিয়ান পর্যটক স্রিথলানা বলেন, ‘এটা খুবই সুন্দর, আমার দারুণ লেগেছে। এটা আমার জন্য একদমই নতুন, আমি খুব উপভোগ করছি, আনন্দ করছি।’

গ্রিস থেকে আসা আগোতো থেনোস বলেন, ‘এখানে আমার দারুণ সময় কাটছে। আমি প্রথমবারের মতো আমার কিছু রাশিয়ান বন্ধুর সঙ্গে এখানে এসেছি। এখানকার সংস্কৃতি ও উৎসব আমি খুব উদযাপন করছি।’

আনা নামে আরেক বিদেশি পর্যটক বলেন, ‘এই বাংলা নববর্ষ খুবই রঙিন, এখানকার র‌্যালিতে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি আমায় মুগ্ধ করেছে। আমি নিউ ইয়ার উদযাপন করেছি বেশ কয়েকবার। এবারই প্রথম নববর্ষতে এলাম। আমার কাছে নিউ ইয়ারের চেয়ে নববর্ষ বেশি আনন্দময় লেগেছে।’

আনা আরো বলেন, ‘আমি একটি ট্যুরিস্ট কোম্পানিতে জব করি। এবার পর্যটকদের সাথে এই উৎসব দেখতে বাংলাদেশে এসেছি। এবারই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি আমি।’

মুসলিম বিশ্বের উপর এখন জিহাদ ফরজ : মুফতি তাকি উসমানী

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানী বলেছেন, জিহাদ এখন আমাদের এবং সকল মুসলিম শাসকদের ওপর ফরজ হয়ে গেছে। এখন শুধু মৌখিক আনুগত্য প্রকাশ করে দায়িত্ব পালন করা যথেষ্ট নয়।

ইসলামাবাদে আয়োজিত জাতীয় ফিলিস্তিন সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উচিৎ ছিল, আমরা এখানে নয়, গাজায় গিয়ে জড়ো হওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে আমরা ফিলিস্তিনি মুজাহিদিনদের জন্য বাস্তবে কিছুই করতে পারছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন ফিলিস্তিনি জনগণকে ব্যবহারিক, মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করাও মুসলিম উম্মাহর নৈতিক কর্তব্য হয়ে পড়েছে।

মুফতি উসমানী প্রশ্ন রাখেন, ‘৫৫ হাজারেরও বেশি কালেমা পাঠকারী মুসলমানকে হত্যার ঘটনা দেখার পরেও কি জিহাদ ফরজ হবে না?’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান কখনোই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাও এটিকে একটি অবৈধ রাষ্ট্রসন্তান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ইসরাইল যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি ইসরাইলের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি না থাকে, তাহলে অজুহাত কোথায়? আর যদি তারা কোনো চুক্তি ভঙ্গ করে থাকে, তাহলে তারা নিজেরাও তো আর কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ থাকে না।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ প্রথম কিবলা রক্ষায় লড়াইরত মুজাহিদিনদের সহায়তা পর্যন্ত করতে পারছে না। আজ মুসলিম বিশ্ব কেবল সংকল্প ও সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ এখনই উচিত ছিল উম্মাহর পক্ষ থেকে জিহাদ ঘোষণা করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের না আছে নৈতিকতা, না আছে আন্তর্জাতিক আইন মানার কোনো প্রবণতা।’

জাতীয় ফিলিস্তিনি সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্র

-সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় যে নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে, তার কোনো ঐতিহাসিক নজির নেই।

-এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২ লাখ মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন।

-নাগরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, স্কুলসহ মানবিক সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

-এটি কেবল একটি যুদ্ধ নয়। বরং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি প্রকাশ্য গণহত্যা।

-বিশ্বব্যাপী বিবেক আজ নিস্তব্ধ। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনপন্থী প্রস্তাবনাগুলোতে ভেটো প্রদান করেছে।

-আন্তর্জাতিক বিচার আদালতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও আজ পঙ্গু ও অসহায়।

-ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী “আল-আকবর ফি আল-আকবর” নীতির আলোকে- বর্তমানে সকল মুসলমানের উপর জিহাদ ফরজ হয়ে গেছে।

-জাতিসঙ্ঘ ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে আসছে এবং একাধিক রেজুলেশনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।

-নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই করা একটি সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক অধিকার।

-আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় সংঘটিত অপরাধসমূহকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

-ফিলিস্তিনের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাধা নয়; তবে ফিলিস্তিনের নামে তাদের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম কিংবা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

-ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত, যারা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে, সেসব মুসলিম রাষ্ট্রের উচিত তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা।

-জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান প্রয়োজন, এবং এই উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানকে এগিয়ে আসতে হবে।

-আগামী শুক্রবারকে নির্যাতিত ও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

-আমরা ট্রাম্পের অভিবাসন ও জন্মভূমি ত্যাগ সংক্রান্ত মন্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

-ইসরাইলসহ সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও স্বাভাবিক অধিকারভুক্ত অঞ্চল।

-যদি আমেরিকা ইসরাইলকে বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তাদের উচিত অন্য কোথাও তাদের জন্য উপযুক্ত বসতি গড়ে তোলা।

সূত্র : ডেইলি জং

ভারতে তরুণীকে আটকে রেখে এক সপ্তাহ ধরে ধর্ষণ ২৩ জনের!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্রে সাত দিন ধরে আটকে রেখে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ২৩ জনের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

এদিকে, এ গণধর্ষণকাণ্ডে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ৫০তম বার নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানে পা রাখা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সাম্প্রতিক গণধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। তিনি বারাণসী বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথেই পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার এবং বারাণসীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে শহরে সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন। এই গণধর্ষণকাণ্ডে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বারাণসীতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।

নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল ওই তরুণী। নির্যাতিতা তার বন্ধুর সাথে একটি জায়গায় যান। সেখানে আর বেশ কয়েকজন যুবক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেসময় তার ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে মাদক মিশিয়ে তাকে অচেতন করে ফেলে ওই যুবকদের মধ্যে একজন। এরপর সাত দিন ধরে সিগ্রা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অন্তত ২৩ জন।

এরপর ৪ এপ্রিল খোঁজ মেলে ওই তরুণীর। ৬ এপ্রিল লালপুর থানায় অভিযোগ করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে ইতোমধ্যেই নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অভিযুক্ত ২৩ জনের মধ্যে অনেকেই নির্যাতিতার পূর্বপরিচিত ছিল বলেও জানা গেছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারে বজ্রপাতে ৬১ জনের মৃত্যু

গত ৪৮ ঘণ্টায় বিহারে কমপক্ষে ৬১ জনের মৃত্যু। নালন্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সব থেকে বেশি। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২। শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১।

এর মধ্যে পাটনা, ভোজপুর, সিওয়ান এবং গয়াতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গোপালগঞ্জ এবং জামুইতে তিনজন, মুজাফফরপুর, জেহানাবাদ, সরণ এবং আরওয়ালে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বেগুসরাই, দারভাঙ্গা, সহরসা, কাটিহার, মুঙ্গের, মাধেপুরা, আরারিয়া এবং ভাগলপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

নালন্দার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শশাঙ্ক ভুবনকর জানিয়েছেন, বজ্রপাতের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মানপুর থানা সীমানার অন্তর্গত নাগমা গ্রামে বৃহস্পতিবার একটি মন্দিরের উপর গাছ পড়ে ছয়জন মারা গেছেন। শিলাবৃষ্টির সময় গ্রামবাসীরা একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দেয়াল ধসে তাঁদের মৃত্যু হয়।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবার পিছু চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে বারণ করা হয়েছে। গত দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শিলাবৃষ্টিতে বিহারের ৩৮টি জেলার কমপক্ষে ২৫টি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের ফলে ঘরবাড়ি, গবাদি পশু এবং কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : পুবের কলম

ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভে অবরুদ্ধ কলকাতা শহর

একদিকে চাকরিহারা শিক্ষকদের যোগ্য তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে ওয়াকফ অ্যাক্ট নিয়ে সমাবেশ। দু’টি পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে কলকাতা শহর। বিশেষ করে শিয়ালদহ, মৌলালি, ধর্মতলা। কার্যত অবরুদ্ধ পুরো শহরতোলি। সামান্য পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টারও অধিক। রাস্তায়-রাস্তায় ব্যাপক যানজট। রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়ি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মধ্য কলকাতায়।

ঘটনাস্থলে থাকা পুবের কলমের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, একদিকে সকাল ১১টা থেকে শিয়ালদহে জমায়েত করেছেন এসএসসির চাকরিহারারা।

অন্যদিকে রামলীলা ময়দানে জমায়েত-এ-উলেমা-এ হিন্দের ডাকে মহা সমাবেশ। মূলত নয়া ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় হাজার হাজার মানুষ (সর্ব ধর্মের) এসেছে সংশ্লিষ্ট ময়দানে।

ইতোমধ্যেই বহু বাস এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। এখনো অনেকে রাস্তায় রয়েছে। যার প্রভাবে কার্যত স্তব্ধ একাধিক রাস্তা। যানজট তৈরি হয়েছে পার্ক সার্কাস, মৌলালি, লেনিন সরণি, এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভারে।

মল্লিকবাজারমুখী সমস্ত রাস্তা এবং মা ফ্লাইওভারে ধীরে ধীরে চলছে গাড়ি। কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে সিআইটি রোড।

সূত্র : পুবের কলম