Home Blog Page 444

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। প্রাথমিক প্রতিবেদন দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলো।

রোববার (২০ এপ্রিল) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদনটি তুলে দেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদকে প্রধান করে এই সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এই অধ্যাপকের নেতৃত্বে কাজ করেছেন সাত সদস্য।

এই কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, বিআইএসএস’র পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাশহুদা খাতুন শেফালী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনগুলো হলো: সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগ সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, জনপ্রশাসন সংস্কার, পুলিশ সংস্কার ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার।

দ্বিতীয় ধাপে গঠিত পাঁচটি কমিশন হচ্ছে: স্বাস্থ্যখাত সংস্কার, শ্রম সংস্কার, নারী বিষয়ক সংস্কার, স্থানীয় সরকার সংস্কার ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।

এসব কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রথমে ৩১ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

কমিশনগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা পড়ে ২২ ফেব্রুয়ারি।

ইউক্রেনে ২ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পুতিনের

খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে ইউক্রেনে দু’দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) ক্রেমলিন জানিয়েছে, আপাতত ইউক্রেনে ‘সব ধরনের সামরিক অভিযান’ বন্ধ রাখবে রাশিয়া। এটিকেই ‘ইস্টার যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আজ (শনিবার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

পুতিনের ভাষায়, মানবিক বিবেচনায় রাশিয়া একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছে। এই সময়সীমার মধ্যে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিচ্ছি।

মস্কো আরও জানায়, তারা ধরে নিচ্ছে ইউক্রেনও ‘আমাদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে’। তবে এখনো পর্যন্ত কিয়েভের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বার্তায় রুশ সেনাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, একই সময়ে রাশিয়ার বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য উসকানি কিংবা আক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

আবা/এসআর/২৫

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অভিযানে গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। একইসময়ে আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় অভিযান শুরু করার পর থেকে গতকালকের হামলা পর্যন্ত গত দেড় বছরে নিহতের সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

গতকালকের হামলায় নিহতদের অধিকাংশই গাজা সিটি এবং উত্তর গাজার বাসিন্দা। তবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী মধ্য, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলেও ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে।

বর্তমানে আইডিএফ গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার কাছে শাবৌর এবং তেল আস সুলতান এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দুটি ঘাঁটি থেকেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে ইসরায়েল তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসকে পরাজিত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এখন চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল। কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। দ্বিতীয় দফার এ অভিযানে গত ১ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক মানুষ।

আবা/এসআর/২৫

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক আজ

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আজ শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে এ বৈঠকের শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ও দলটির ‘সংস্কার বিষয়ক সমন্বয় কমিটির’ সদস্য আরমান হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে আমরা যেসব দ্বি-মত করেছি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

এরআগে গত ২৩ মার্চ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে লিখিত মতামত দেয় এনসিপি। কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ২২টির সঙ্গে তারা একমত নন। যে সুপারিশগুলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন ও সংবিধান–সম্পর্কিত বিষয়গুলোর জন্য গণপরিষদ নির্বাচন প্রয়োজন বলেও মত দেয় এনসিপি।

 

আবা/এসআর/২৫

এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করে বলেন, এই সরকারকে তারাই ক্ষমতায় বসিয়েছেন। এজন্য আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন তারা দেখছেন না।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

শনিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করে কী ধরনের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা মনে করি না যে তেমন কিছু করার দরকার হবে। কারণ, এই সরকারে যাঁরা আছেন এখন, তাঁদের তো আমরাই এ সরকারে বসিয়েছি এই প্রত্যাশায় যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁরা ভূমিকা পালন করবেন এবং জন-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করবেন। কাজেই এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার প্রয়োজন আছে বলে তো আমরা মনে করি না।’

এর আগে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে লিয়াঁজো কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আবা/এসআর/২৫

নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, এক নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের কাজ সবাই মিলে যেন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারি। যেন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন ফেরত না আসে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ী রূপ নেয় এবং যেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং সমস্ত নিপীড়ন মোকাবিলা করতে পারি। সেই ব্যবস্থাগুলোকে অপসারণ করতে পারি।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বৈঠকের শুরুতে এসব কথা বলেন তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর পক্ষ থেকে যে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আপনাদের কিছু একমত, কিছু ভিন্নমত আছে। আমরা একমতের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি, সেগুলো নিয়ে অগ্রসর হব। যেসব জায়গায় আংশিকভাবে একমত বা ভিন্নমত সেগুলো নিয়ে আজ আলোচনা করব এবং প্রয়োজনে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। কেননা আমরা চাই, জাতির আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করতে।

এসময় এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রাণবাজি রেখে লড়াই করে ফ্যাসিবাদী শাসককে পলায়ন করতে বাধ্য করেছেন। সেই বিজয়ের পাশাপাশি আপনারা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চান এবং আপনাদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।

এ দেশের ইতিহাসে বারবার গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে পর্যুদস্ত করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, কী করে গণতন্ত্রের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে বিজয় অর্জিত হয়, সে বিজয়কে বিভিন্নভাবে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। রাষ্ট্রকে কীভাবে এক ব্যক্তির করতলগত করে একটি শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল দেখেছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার অপর দিকে, এনসিপির ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা।

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে স্টারলিংক

দেশে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপনে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট স্টারলিংকের অংশীদার হয়ে কাজ করছে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে রয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ভূমি বরাদ্দ, নির্মাণ সহায়তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে। স্টারলিংক টিম এই কাজের জন্য কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সম্পত্তি এবং কিছুক্ষেত্রে হাইটেক পার্কের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে স্টারলিংক।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের স্থান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক বাংলাদেশের শহরে কিংবা প্রান্তিক অঞ্চলে, উত্তর অঞ্চল কিংবা উপকূলে লোডশেডিং কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝামেলামুক্ত রিলায়েবল এবং হাইস্পিড ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দেবে। এটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং উচ্চমান কোয়ালিটি সার্ভিসের নিশ্চয়তা দিবে। যেহেতু বাংলাদেশে টেলিকম গ্রেড ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সীমিত এবং প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে এখনো লোডশেডিংয়ের সমস্যা রয়েছে তাই স্টারলিংক আমাদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, এনজিও এবং এসএমই ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এবং ডিজিটাল ইকোনমিক ইনিশিয়েটিভগুলোকে বেগবান করবে। আমরা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের সাথে একটা বোধগম্য মডেল বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মাস্ককে জানান, এই সফরে মাস্ক বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যারা এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানকে স্পেসএক্স টিমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ও ইলন মাস্কের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপ হয়, যেখানে তারা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। সেই সঙ্গে স্টারলিংক সেবা বাংলাদেশে চালুর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

সুত্র: মানবজমিন

বড় ধাক্কা চিনকে! এবার থেকে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে ২৪৫% শুল্ক! বোমা ফাটালেন ট্রাম্প

আমেরিকা চিন থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন চিন থেকে আমেরিকায় যে পণ্য আসবে, তার উপর ২৪৫% কর লাগবে। আগে এই কর ছিল ১৪৫%, কিন্তু চিনের পাল্টা শুল্ক বৃদ্ধির জবাবে আমেরিকাও এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

চিনকে আরও একবার ধাক্কা

হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে যে এখন চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২৪৫% কর নেওয়া হবে। এটিকে একটি বড় এবং কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকা ভারত এবং অন্যান্য দেশের উপর আরোপিত শুল্ক আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে, কিন্তু চিনকে স্পষ্টভাবে ধাক্কা দিয়েছে।

শুভ বাংলা নববর্ষ

image

নতুন বছর জুড়ে থাকুক সুখ আর শান্তির বার্তা। মুছে যাক সব গ্লানি, গুছে যাক ধরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক এই সুন্দর পৃথিবী।
আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি দিন, নতুন বছর বয়ে আনুক সবার জীবনে সফলতা আর সুদিন। পহেলা বৈশাখে আসুক ভালোবাসার ছোঁয়া, সব গ্লানি মুছে নতুন করে সাজুক আমাদের জীবনের পথচলা। সবার জন্যে রইলো আমার নতুন বছরের অগনিত শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা।

আজকের সকালটা ছিল স্নিগ্ধ, ঝলমলে আর অপার্থিব সুন্দর, নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একেবারে নিখুঁত মায়াভরা রৌদ্রজ্জল ভালোবাসাময় মিষ্টি একটা দিন। 

আমাদের সকলের বাংলা নতুন বছর হোক শান্তিময়, সুস্থতাময় আর আনন্দময়। আমরা যেন একে অপরের কাছাকাছি থেকে, ভালোবাসায় মাখামাখি করে, কাটাতে পারি আরো অনেক অনেক বৈশাখ। আপনারা সকলে আমার অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানবেন। অনেক অনেক ভালো থাকবেন সবাই।

শুভ নববর্ষ!!

পিএসএলে স্বপ্নের মতো অভিষেক রিশাদের

স্বপ্নের মতো শুরু রিশাদ হোসেনের। পিএসএল অভিষেকেই বাজিমাত বাংলাদেশী লেগ স্পিনারের। লাহোরের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই কাড়লেন আলো। বল হাতে কাঁপিয়ে দিয়েছেন রাইলি রুশো-আমিরদের।

পিএসএলে দলের প্রথম ম্যাচে সুযোগ মেলেনি একাদশে। দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই নিজেকে চেনালেন রিশাদ। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার এমন বোলিংয়ে ৭৯ রানের বড় জয় পেয়েছে তার দলও।

এবারের পিএসএলের ড্রাফটে নাম ছিল সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকাদের। তবে তাদের ছাপিয়ে দল পান তিন বাংলাদেশী; নাহিদ রানা, লিটন দাস ও রিশাদ হোসেন।

নাহিদ রানা এখনো পাকিস্তানের বিমানে ওঠেননি আর আসর শুরুর আগেই শেষ লিটন দাসের, চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তিনি। তবে এর মাঝেই অভিষেক হয়ে গেল রিশাদ হোসেনের।

রোববার এই ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৯ রান করে লাহোর। শুরুতে ফখর জামান ও শেষে ঝড় তুলেন স্যাম বিলিংস। মাঝে বাকিদের ছোট ছোট ইনিংস লাহোরকে পথ দেখায়।

ফখর জামান ৩৯ বলে ৬৭ রান করে আউট হোন। শেষদিকে ১৯ বলে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন বিলিংস। ২১ বলে ৩৭ রান করেন আব্দুল্লাহ শফিক আর ২৩ বলে ৩৭ করেন ডেরিয়েল মিচেল।

শেষ দিকে ব্যাট করতেও নামেন রিশাদ। তবে মাত্র ১ বল খেলে সমান ১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আকিল হুসেইন ও আবরার আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট পান ফাহিম আশরাফ ও উসমান তারিক।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে কোয়েটা। মাত্র ৯ রানের মাঝে তারা হারায় ৩ উইকেট। দুই ওপেনার সাউদ শাকিল ও ফিন অ্যালেনকে বিদায় করেন শাহীন আফ্রিদি। আর হাসান নাওয়াজকে ফেরান আসিফ আফ্রিদি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন লাহোর অধিনায়ক আফ্রিদি। প্রথম ওভারে মাত্র ৬ রান দেন রিশাদ। দ্বিতীয় ওভারে এসে রুশোর কাছে ছক্কা হজম করলেও পরের বলে তাকে বোল্ড করেন তিনি, দেন ৯ রান।

১১তম ওভারে রিশাদ নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে একটু খরুচে ছিলেন, সেই ওভারে একটি ছক্কাসহ ৯ রান খরচ করেন তিনি। তবে শেষ ওভারে রিশাদ তুলে নেন জোড়া উইকেট। এবার মোহাম্মদ আমির ও আবরারকে ফেরান রিশাদ।

রিশাদের তোপে কোয়েটার ইনিংস থামে ১৪০ রানেই। রাইলি রুশোর ৪৪ রান ছিল ইনিংস সেরা, কুশল মেন্ডিস ২৮ ও ফাহিম আশরাফ করেন ২১ রান। বল হাতে রিশাদ ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন সিকান্দার রাজা, শাহীন আফ্রিদি ও আব্বাস আফ্রিদি।