Home Blog Page 445

স্বাধীনতার ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তিতে একমত বিএনপি জামায়াত এনসিপি

মহান স্বাধীনতা সম্পর্কে সংবিধানে সন্নিবেশিত ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তে সম্পূর্ণ একমত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের দেয়া প্রস্তাবনাগুলোর ওপর এই তিন দলের মতামত পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কমিশনের স্প্রেডশিটের সর্বশেষ ‘বিবিধ’ কলামে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে চেয়ে বলা হয়েছে- ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্ত, এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখা।’ এর উত্তরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ‘একমত’ পোষণ করেছে।

বর্তমান সংবিধানের ১৫০ (২) এ বলা হয়েছে- ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখ হইতে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তন হইবার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হইল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভাষণ ও দলিল।’ বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি এই অনুচ্ছেদের বিলুপ্তিতে একমত জানিয়েছে।

সংবিধান সংস্কারে এই তিনটি দলের দেয়া মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট ৭০টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করাসহ মাত্র চারটি প্রস্তাবে তিনটি দলের দেয়া মতামতে মিল রয়েছে।

এর মধ্যে ‘‘বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬ (২) নিম্নোক্তভাবে ‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন হিসেবে ‘প্রতিপ্রস্থাপন করা’, এ বিষয়ে তিনটি দলই ‘একমত’ অপশনে টিক চিহ্ন দিয়েছে। স্প্রেডশিটে দেয়া ‘সংবিধান সংশোধনী’ ও ‘নির্বাহী বিভাগ’ এই দুইটি বিষয় সংক্রান্ত কলামে দুইটি একই ধরনের প্রস্তাবে- ‘রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচারণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিসংশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে’ তিনটি দল ‘একমত’ অপশনে টিক দিয়েছে।

কমিশনের ৭০টি প্রস্তাবের মধ্যে তিনটি দলের দেয়া মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপি ১২টি প্রস্তাবে, জামায়াতে ইসলামী ৩১টি প্রস্তাবে এবং এনসিপি ৪৫টি প্রস্তাবে ‘একমত’ হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনবে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল যেসব প্রস্তাবে একমত হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার দেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব প্রস্তাবে নীতিগতভাবে একমত কিংবা আংশিক একমত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদি আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছা সম্ভব হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

কমিশন থেকে মোট ১৬৬টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সুপারিশ ৭০টি, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সুপারিশ ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত সুপারিশ ২৬টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ ২০টি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পুলিশ সংস্কারের জন্য গঠিত ছয়টি কমিশন গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদনগুলো সরকারের কাছে জমা দেয়।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই ছয়টি কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সাথে আলোচনা এবং পদক্ষেপ সুপারিশের উদ্দেশ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং আলী রীয়াজকে সহসভাপতি করে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- বদিউল আলম মজুমদার, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক এবং ইফতেখারুজ্জামান। এই কমিশনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ছয় মাস।

জানা গেছে, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এসব নিয়ে প্রতিটি দলের সাথে একাধিকবার আলোচনায় বসতে পারে কমিশন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ কিছু দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন সম্ভব। বাংলাদেশে এর আগেও অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ পরবর্তীতে সেটির অনুমোদন দিয়েছে।’ তবে বিএনপি সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনাগুলোর বেশ কিছু মতামতে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সংবিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ করেছে ।

শিবপুরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র গ্রেফতার

নরসিংদীর শিবপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে দায়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র পালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নারায়ণ চন্দ্র পাল (৫০) শিবপুর থানার কুন্দারপাড়া এলাকার কুমার বাড়ির পরলোকগত সুভাষ চন্দ্র পালের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, শিবপুরের কুন্দারপাড়া এলাকায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর থেকে আসামি নারায়ণ চন্দ্র পাল পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার কংশনগর পশ্চিম বাজার এলাকার স্বজনের বাড়ি থেকে নারায়ণ চন্দ্র পালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে শিবপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে শিবপুরের কুন্দারপাড়া গ্রামে মহিলা মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাড়ির পাশে গাছ থেকে আম পাড়তে যান। ওই সময় একই এলাকার নারায়ণ চন্দ্র পাল (৫০) ওই শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চাচি ঘটনা দেখে ফেললে নারায়ণ চন্দ্র পাল দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা নারায়ণ পালের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

এবার যুক্তরাষ্ট্রে উপর ১২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করল চীন

চীন শুক্রবার মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির এ পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাঙন ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অস্বাভাবিক শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি, মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং সাধারণ বাণিজ্যিক বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বাণিজ্যনীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এটি মৌলিক অর্থনৈতিক আইন ও সাধারণ জ্ঞানেরও পরিপন্থী। এটি এক ধরনের হুমকি ও জবরদস্তি।’

এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেছিলেন যে ‘চীন পণ্যের ওপর এখন থেকে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’ তবে এতে ফেন্টানাইল সম্পর্কিত ২০ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে তিনি পৃথকভাবে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ফলে চীনের উপর আরোপিত শুল্ক ১৪৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি- যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই সিদ্ধান্তের ফলে আরো একবার তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স

চীনা পণ্যে মোট ১৪৫ শতাংশ শুল্কারোপ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করার পর চীনা পণ্যের ওপর মোট মার্কিন শুল্ক ১৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেছিলেন যে ‘চীন পণ্যের ওপর এখন থেকে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’ তবে এতে ফেন্টানাইল সম্পর্কিত ২০ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে তিনি পৃথকভাবে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

বুধবার ট্রাম্প বেশ কয়েকটি দেশকে ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্কের অতিরিক্ত অংশ থেকে ৯০ দিনের জন্য অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দিলে বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া পড়ে। ওইদিন থেকেই নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তবে বৃহস্পতিবার বাজারে বিপরীত প্রবণতা দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি- যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই সিদ্ধান্তের ফলে আরো একবার তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে।

সকালের লেনদেনে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৪.৬ শতাংশেরও বেশি পতন ঘটে। আর ডাও জোন্স সূচক কমে যায় ৩ শতাংশেরও বেশি।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই আবার ভূমিকম্প মিয়ানমারে

চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার মধ্যেই মিয়ানমারে আবারো ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার সকালে রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার এই কম্পনটি আফটারশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনগণের মাঝে।

ভারতের ভূমিকম্প গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারে, অক্ষাংশ ১৮.৩৪° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯৫.৮৯° পূর্বে। এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যা ভূতলের কাছাকাছি হওয়ায় আফটারশকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি হিসাবে, ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩,৬৪৫ জন নিহত, ৫,০১৭ জন আহত এবং ১৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়েছে অসংখ্য ভবন ও অবকাঠামো, বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

নতুন করে আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন কাজ এর ফলে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষত, ভূতলের কাছাকাছি গভীরতায় সংঘটিত কম্পনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের প্রতি সহানুভূতি ও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র : এনডিটিভি

মার্চ ফর গাজার সমাবেশপূর্ব ঘোষণাপত্র

আগামীকাল ১২ মার্চ দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘মার্চ ফর গাজা’ সমাবেশ।

আজ শুক্রবার (১১ মার্চ) এ উপলক্ষে গণমাধ্যমে বিশেষ ঘোষণাপত্র পাঠিয়েছে সমাবেশটির আয়োজনকারী ব্যানার প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট।

ঘোষণাপত্রে তারা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় অবৈধ দখলদার ইসরাইলের পক্ষ থেকে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে আজ বিশ্বের বিবেকবান মানুষ সোচ্চার। ছয় শত কোটি মানুষের চোখের সামনে একটি ভূখণ্ডে প্রতিনিয়ত বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হচ্ছে অবর্ণনীয় সহিংসতা- যেখানে নারী ও শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ মৌলিক অবকাঠামো। অথচ ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ওআইসি এবং তাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শক্তিও এ মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় এখনো সক্রিয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ।

এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে শান্তিপ্রিয় মানুষেরা রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বাংলাদেশেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে গাজায় চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে ‘মার্চ ফর গাজা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে এসে ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করবেন।

এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতীব মুফতি আব্দুল মালেক।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে মার্চ ফর গাজায় আগতদের জন্য গেট ও রাস্তা ব্যবহারের নির্দেশনা : দুপুর ২টায় পাঁচটি পয়েন্ট থেকে মার্চ শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণোজমায়েতের সময় বিকেল ৩টা।

পথ নির্দেশনা :

স্টার্টিং পয়েন্ট ১ : বাংলামোটর। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেইট (শাহবাগ হয়ে)

স্টার্টিং পয়েন্ট ২ : কাকরাইল মোড়। প্রবেশপথ: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট গেইট (মৎস ভবন হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৩ : জিরো পয়েন্ট। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (দোয়েল চত্বর হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৪ : বকশীবাজার মোড়। প্রবেশপথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (শহীদ মিনার হয়ে)।

স্টার্টিং পয়েন্ট ৫ : নীলক্ষেত মোড়। প্রবেশ পথ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেইট (ভিসি চত্বর হয়ে)।

বিশেষ নির্দেশনাসমূহ

-টিএসসি মেট্রো স্টেশন এদিন বন্ধ থাকবে।

-সকল পরীক্ষার্থীর জন্য সকল রাস্তা বিশেষভাবে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার্থীদেরকে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়া এবং যেকোনো প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেয়ার অনুরোধ রইলো।

সাধারণ দিক নির্দেশনা

১. অংশগ্রহণকারীরা নিজ দায়িত্বে ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন পানি, ছাতা, মাস্ক সাথে রাখবেন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

২. যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

৩. রাজনৈতিক প্রতীকবিহীন, সৃজনশীল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করুন। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

৪. দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সক্রিয় থাকুন। প্রতিরোধ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ করুন।

আসুন, আমরা সবাই একত্রিত হই- মানবতার পক্ষে, মজলুমের পাশে। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন। আগামী প্রজন্মকে জানান ফিলিস্তিনের মানুষের যন্ত্রণার কথা, যাতে তারা শিখে কিভাবে মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে দাড়াতে হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলকে পাত্তা দিবে না বাংলাদেশ

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলকে পাত্তা দিবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মনে করছে ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে দেশের ব্যবসার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না। প্রাথমিকভাবে দেশের রফতানিমুখী তৈরী পোশাক খাতের শিপমেন্টের কিছুটা বিঘ্ন ঘটলে খুব শিগগিরই তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ভারতের পরিবর্তে আর কোন কোন দেশে তৈরী পোশাক খাতে শিপমেন্ট করা যায় কি না তা নির্ধারণের জন্য আগামী সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। তবে প্রথমে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ দিকে, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে বাংলাদেশ কোনো সমস্যাবোধ করছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একধরনের দাবি উঠেছে যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাল্টা ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রানজিট বাতিল করা যায় কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি তার বিষয় নয়; তার কাজ হচ্ছে সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, বাংলাদেশে যখন বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সে সময় হুট করে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল করা বিষয়টি নীচু মনমানসিকতার পরিচয় বহন করে। এতে তাদের কোনো দুরভিসন্ধী লুকিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল করে বাংলাদেশে আসা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের একটি বার্তা দিতে চেয়েছে যে ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে এ দেশের রফতানি বাণিজ্য আগামীতে ব্যাহত হবে। ফলে এ দেশ বিনিয়োগের জন্য উপযোগী কোনো দেশ নয়। কিন্তু আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বিনিয়োগ সম্মেলনে আসা কোনো বিদেশী ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। এ বিষয়টি আমরা কেউ পাত্তাই দিচ্ছি না।

উল্লেখ্য, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা গতকাল মঙ্গলবার বাতিল করেছে ভারত।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা সংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা (ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল) আমাদের ওপর হঠাৎ করে আরোপিত হয়েছে। সাথে সাথেই আমাদের সকল অংশীজন নিয়ে গতকাল (বুধবার) আমি মিটিং করেছি। ইনশাআল্লাহ, এটাতে আমরা কোনো সমস্যাবোধ করছি না। আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় যাতে কোনো ঘাটতি না হয় এবং আমাদের রফতানির ক্ষেত্রে যাতে যোগাযোগের কোনো ঘাটতি না পড়ে সে ক্ষেত্রে আমরা সব ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমি আশা করি এটা আমরা উতরে যাবো।’

কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- এ বিষয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমি এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে শেয়ার করবো না। প্রতিযোগিতায় আমাদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে, সেগুলো কিছু কাঠামোগত, কিছু খরচের দিক থেকে- সব জিনিস সমন্বয় করে আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবো। আমি এখানে কোনো সমস্যা দেখছি না।

এটা নিয়ে আপনারা ভারতকে কোনো চিঠি দেবেন কি না- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে বিবেচনা করছি না।’

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধায় কী পরিমাণ পণ্য রফতানি হয়- জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টনের মতো ম্যাটেরিয়াল সড়ক পথে ভারতের বিভিন্ন বন্দর বিশেষ করে দিল্লি, কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে রফতানি হতো। এই ম্যাটেরিয়ালগুলো বহনের জন্য নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সমস্যা অতি দ্রুত সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। সাধারণত ইউরোপীয় দেশগুলোতে পণ্যগুলো যেত।’

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক স্থগিতের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভেরি গুড। আমাদের বাণিজ্যের মধ্যে স্থিরতা দেখা দেবে। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে অনলাইনে। আমরা আমাদের কর্ম সমষ্টিগুলো নিয়ে কাজ করছি। যখন সম্ভব আমরা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরাও যাবো, গিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থগিতাদেশ তো সাময়িক সময়ের জন্য। এ বিষয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদে করণীয় আছে, তাদের আকাক্সক্ষা তো শেষ হয়ে যায়নি। সেই আকাক্সক্ষাগুলোকে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে কতটুকু করতে পারবো- সেই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করছি এবং সেই অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’ তিনি বলেন, ‘মূল আকাক্সক্ষা হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কিভাবে সমন্বয় করা। আমরা সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ করছি। আশা করছি, এ ক্ষেত্রে শিগগিরই ভালো কিছু হবে।

আম্পারদের এলিট প্যানেলে পরিবর্তন, জায়গা ধরে রেখেছেন সৈকত

পরিবর্তন এসেছে আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে। আইসিসির সেরা আম্পায়ারদের এই মিলনমেলায় এসেছে নতুন মুখ। তবে জায়গা ধরে রেখেছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।

২০২৫-২৬ মৌসুমের এলিট আম্পায়ারের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। এই তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশী শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদার এই তালিকায় আছেন তিনি।

তবে এলিট প্যানেলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দুই অভিজ্ঞ আম্পায়ার- ইংল্যান্ডের মাইকেল গফ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসন। তরুণদের জায়গা করে দেয়ার লক্ষ্যে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই সুযোগে প্যানেলে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন দু’জন। তারা হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আলাহুদ্দিন পালেকার এবং ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স ওয়র্ফ। প্রথমবারের মতো এই প্যানেলে এসেছেন তারা।

পালেকার এখন পর্যন্ত ৪টি টেস্ট, ২৩ ওয়ানডে ও ৬৭টি টি-টোয়েন্টিতে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ওয়ার্ফ ৭ টেস্ট, ৩৩ ওয়ানডে ও ৪৫টি টি-টোয়েন্টিতে অন-ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন।

তাছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে ১৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেও খেলেছেন ওয়ার্ফ। পালেকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেললেও খেলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট।

এলিট প্যানেলের আম্পায়ার তালিকা

কুমারা ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা), ক্রিস গ্যাফানি (নিউজিল্যান্ড), অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টোক (দক্ষিণ আফ্রিকা), রিচার্ড ইলিংওর্থ (ইংল্যান্ড), রিচার্ড কেটেলব্রো (ইংল্যান্ড), নিতিন মেনন (ভারত), আলাহুদ্দিন পালেকার (দক্ষিণ আফ্রিকা), আহসান রাজা (পাকিস্তান), পল রেইফেল (অস্ট্রেলিয়া), শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ (বাংলাদেশ), রড টাকার (অস্ট্রেলিয়া) এবং অ্যালেক্স ওয়র্ফ (ইংল্যান্ড)।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভালো করবে : বান কি-মুন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। তিনি বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো ভালো করবে। বাংলাদেশ এখন এমন একজন নেতাকে পেয়েছে, যিনি বিশ্বব্যাপী সম্মানিত।’

আজ বৃহস্পতিবার চীনের বোয়াও ফোরামে দু’জনের বৈঠকের সময় বান কি-মুন এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বাংলাদেশে নির্বিঘ্ন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য বান কি-মুনের সমর্থন ও পরামর্শ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে শুরু করতে চাই। এখন আমাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ।’

বাংলাদেশ-কোরিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের স্মৃতিচারণ করে জাতিসঙ্ঘের সাবেক এ মহাসচিব বলেন, ‘যখন তিনি দিল্লিতে কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি যে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলাম, সেটির মাধ্যমেই কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

বান কি-মুন বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করেছে, তবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে আরো এগিয়ে যেতে পারতো।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এক সময় কোরিয়া ও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল, কিন্তু এখন কোরিয়া অনেক এগিয়ে গেছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ চমৎকার, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের ধ্বংস করেছে।’

বান কি-মুন জানান, ‘তিনি বাংলাদেশকে কোরিয়ান ব্যবসায়ী কিহাক সুং-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং কোরিয়ার অন্যতম সম্মানিত ব্যবসায়ী নেতা। পরে তিনি বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।’

প্রধান উপদেষ্টা জানান, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি কোরিয়ান ইপিজেডের দীর্ঘদিনের জমি সমস্যার সমাধান করেছে, যা ভবিষ্যতে আরো কোরিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বৈঠকে জানান, কিহাক সুং নেতৃত্বাধীন ২৬ সদস্যের একটি কোরিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আসন্ন ঢাকা বিজনেস সামিটে অংশ নেবে।

প্রধান উপদেষ্টা বান কি-মুনের সমর্থন কামনা করেন রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে এবং তাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ ভারত

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন। একই সাথে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব সুপারিশের কথা সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশের মাটিতে ভারতের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা র’য়ের হাত রয়েছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে এই পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনামকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটিতে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অবশ্য এই সুপারিশের বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে কমিশন যে দুটি দেশের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশ দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

চীন বিষয়ে যৌথ উদ্বেগের কারণে ‍যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে ভারত ও ভিয়েতনাম। তাই এই পরামর্শের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্বিদলীয় সরকারি উপদেষ্টা সংস্থা। বৈদেশিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে নানা নীতিগত সুপারিশ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারতকে পাল্টা শক্তি হিসেবে গণ্য করে ওয়াশিংটন। তাই দেশটির মানবাধিকার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয় না যুক্তরাষ্ট্র।

কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক না হওয়ায় র’কে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তারা।

২০২৩ সালে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রমে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কে চিড় ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক শিখ নেতাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টায় ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের জড়িত থাকার অভিযোগ আনে ওয়াশিংটন, যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি মনে করে ভারত।

মার্কিন ওই কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছরজুড়ে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।

সবশেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে প্রচারকালেও মোদি মুসলিমদের ভারতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অ্যাখ্যা দেন। শুধু তাই নয়, ‘মুসলিমরা বেশি সন্তান জন্ম দেয়’- এমন মন্তব্যও করেন গত প্রায় ১১ বছর ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীত্ব সামলানো এই নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে।

তবে এসব প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, তার সরকার দেশে বিদ্যুতায়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভতুর্কি দেয়াসহ যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষই উপকৃত হয়েছেন।

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দেশটিকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে এবং র ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে সুপারিশ করেছে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন।

ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্বে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, মুসলিমদের সম্পদ ধ্বংসের মতো মানবাধিকারবিরুদ্ধ কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান মানবাধিকারকর্মীরা।

এই সুপারিশের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় দূতাবাস।

অপরদিকে, সম্প্রতি একটি ডিক্রি জারি করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব চেয়েছে ভিয়েতনাম প্রশাসন। একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন ওই কমিশন।

তাছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম বা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করার দায়ে প্রায় ৮০ জন বন্দীর তথ্য তুলে ধরেছে কমিশন, ভিয়েতনাম সরকার যাদের সাজা দিয়েছে। এসব কারণে ভিয়েতনামকেও ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভিয়েতনাম দূতাবাসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সূত্র : ইউএনবি