Home Blog Page 446

ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাস মুখপাত্র নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাবালিয়ায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত আল-আকসা টেলিভিশন।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, জাবালিয়ায় আল-কানৌয়ার তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তিনি নিহত হন। একই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক হামলায় কমপক্ষে ছয়জন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন নিহত হন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এই সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইল হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইসমাইল বারহুম ও আরেকজন সিনিয়র নেতা সালাহ আল-বারদাউইলকে হত্যা করেছে।

হামাস সূত্র অনুসারে, বারদাউইল ও বারহুম উভয়ই ২০ সদস্যবিশিষ্ট হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহ থেকে ইসরাইল দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার তিনি আবারো হুমকি দিয়েছেন, হামাস যদি তাদের দখলে থাকা অবশিষ্ট পণন্দীদের মুক্তি না দেয় তবে গাজার অঞ্চল দখল করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ইসরাইলের বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৮৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

সূত্র : রয়টার্স

প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই কার্ড পৌঁছে দেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুভেচ্ছা কার্ড গ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টার সচিব সাইফুল্লাহ পান্না।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ ও ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন যুত্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুভেচ্ছা বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বর্ধিত নিরাপত্তার জন্য সক্ষমতা তৈরির একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ বছরে আমাদের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ।

ট্রাম্প বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার করার সাথে সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারব এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উন্নয়নে একসাথে কাজ করতে পারব। এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।

এশীয় দেশগুলোর ভাগ্য পরস্পরের সাথে জড়িত : ড. ইউনূস

এশিয়ার দেশগুলোকে অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে এশীয় দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। আমাদের অবশ্যই একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে যা অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে।’

আজ বৃহস্পতিবার চীনের হাইনান প্রদেশের বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘দ্য বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫’ এর পর্দা উঠছে শুক্রবার। গত বুধবার বিকেলে চীন সরকারের পাঠানো বিশেষ ফ্লাইটে হাইনান প্রদেশের বোয়াও পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার তিনি বোয়াও সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। শুক্রবার বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। এছাড়া তিনি দেশটির মর্যাদাপূর্ণ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেবেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হবে বলে জানা গেছে। শনিবার প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।

বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়াকে অবশ্যই একটি টেকসই অর্থায়ন প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে এবং এই প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (মাল্টিলেটরাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্ভরযোগ্য তহবিল প্রয়োজন যা আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।’

বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এশিয়া বিশ্বের অন্যতম কম সংযুক্ত অঞ্চল। এই দুর্বল সংযোগ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের অবশ্যই বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে কাজ করতে হবে।

খাদ্য ও কৃষি সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, এশীয় দেশগুলোকে সম্পদ-সাশ্রয়ী কৃষিকে উৎসাহিত করতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে এবং স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক টেকসই কৃষি সমাধান সম্প্রসারণ এবং পুনর্জীবনশীল ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়াকে অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যা হবে পুনরুদ্ধারমূলক, সমবন্টিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান ও তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ইনকিউবেশনে বিনিয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল সমাধানের ওপর সহযোগিতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও যুবশক্তিকে একত্রিত করতে হবে। আমাদের অবশ্যই একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করতে হবে- একটি আত্মরক্ষা ও আত্মস্থায়ী সমাজ। আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যা শূন্য-বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভোগবাদের সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত শুধু অপরিহার্য চাহিদার মধ্যে। আমাদের অর্থনীতি সামাজিক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে হবে, যেখানে উদ্ভাবন, উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব একত্রিত হয়।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বোয়াও ফোরাম এবং এশিয়ার অন্যান্য অনুরূপ উদ্যোগগুলোকে যুবসমাজ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এশিয়াকে আরো উন্নত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব- প্রতিটি তরুণকে এই ‘তিন-শূন্য’ নীতির অনুসারী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এটাই সেই অভিন্ন ভবিষ্যৎ, যা আমাদের এশিয়াতে একসাথে গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারের অস্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য বাধা অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় এশিয়ার ঋণ সঙ্কটকে আরো গভীর করছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি ধীর। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ শতাংশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর বার্ষিক এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য ২.৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। এসডিজি অর্থায়নের পাশাপাশি, এশিয়ার অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের জন্য দায়িত্বশীল বিনিয়োগের প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের শিকার হয়েছে, যেখানে এসব দুর্নীতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতি বছর আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হারায়, যা তারা মোট উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে যা পায় তার অনেকগুণ বেশি। এশিয়াকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্পদ পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি বহুপক্ষীয় মধ্যস্থতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমাগত চাপে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন-আয়ের পরিবারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই সঙ্কটকে আরো গভীর করছে এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

তিনি আরো বলেন, শক্তি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেসব উন্নয়নশীল দেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ঋণের চাপ বাড়ে। আমাদের টেকসই জ্বালানি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করে, তারা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় ভালো ফলাফল পায়।’

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাকরির জন্য আমাদের যুবসমাজকে প্রস্তুত করতে ডিজিটাল শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী সঙ্কট সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র হচ্ছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠছে এবং মানবিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দুর্বল হচ্ছে এবং বিশ্ব সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৫৫ শতাংশের আবাসস্থল এশিয়া এখন এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তিনি বলেন, উদীয়মান নীতিমালা, নিয়মকানুন এবং প্রযুক্তি প্রশাসন ও অর্থনৈতিক নীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এক দশক আগে নীতিগুলো যে অনুমানগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এশীয় নেতাদের সামনে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গত সাত বছর ধরে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। তিনি বলেন, ‘আমরা বিপুল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যয় বহন করে চলেছি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি সংহতির নিদর্শনস্বরূপ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদিও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাচ্ছে, তবে তা চলমান রয়েছে। এশিয়ার নেতাদের অবশ্যই একসাথে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ব সঙ্কটের ওপর আলোকপাত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্ব বহুমুখী সঙ্কটে ভুগছে, যেখানে যুদ্ধ ও সংঘাত মানবাধিকারের ক্ষতি এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী নিন্দা চলমান থাকলেও গাজায় গণহত্যা এখনো চলছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ফিলিস্তিন সঙ্কট শুধু আরব বা মুসলিমদের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সমস্যা।’

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ইউক্রেন সঙ্কটের দীর্ঘায়িত উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ার সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার চালিকা শক্তি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তরুণদের উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও টেকসই সমাধানের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মানবসম্পদে বিনিয়োগ এবং বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এশিয়ার ভবিষ্যত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নির্ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, এশিয়ায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এখনো কম এবং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর এবং তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য- যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাষা, ঐতিহ্য, দর্শন ও রীতিনীতি- মানব সভ্যতার স্থিতিশীলতা যা সৃজনশীলতার সাক্ষ্য বহন করে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম, কনফুসিয়ানবাদ, বৌদ্ধধর্ম এবং হিন্দুধর্মের দর্শন বিশ্ব চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা নৈতিকতা, শাসন ও মানবিক চেতনার ওপর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস আরো বলেন, ‘বহু শতাব্দী ধরে এশিয়ার সভ্যতা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এই গতিশীল বিনিময় শুধু এই অঞ্চলকেই নয়, পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ এশিয়ার সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি তার বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ, প্রাচীন জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা এবং আধুনিক উদ্ভাবনের সংযুক্তি একসাথে এক শক্তিশালী গতি তৈরি করেছে, যা অঞ্চলটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তার গভীর ঐতিহাসিক শিকড়কে সম্মান জানাচ্ছে।’

সম্মেলনে তিনি বিশ্ব নেতাদের বাংলাদেশ পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের যুব সমাজ এবং নাগরিকরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে অসাধারণ দৃঢ়তা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে আমাদের জাতির মৌলিক রূপান্তর ঘটবে। আমরা যখন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলছি, তখন আমাদের একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্কিত।’

সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব ও বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার চেয়ারম্যান বান কি-মুন, চীনের স্টেট কাউন্সিলের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং এবং বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার মহাসচিব ঝাং জুন বক্তব্য দেন।

ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ঘোষণা

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ফল বাতিল করে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: নুরুল ইসলাম এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন।

২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিকসহ নিহত ৬৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং দুই সাংবাদিক রয়েছেন।

সোমবার (২৪ মার্চ) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত সপ্তাহে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের বিমান হামলায় গাজায় দুই মাসের তুলনামূলক শান্তির অবসান ঘটেছে। এতে প্রায় ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবন বাঁচাতে গাজা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।

সোমবার গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলের হামলায় আল জাজিরা মুবাশ্বের চ্যানেলের সাংবাদিক হোসাম শাবাত নিহত হয়েছেন। বেইত লাহিয়ার পূর্ব অংশে তার গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এর আগে, প্যালেস্টাইন টুডের একজন প্রতিবেদক মোহাম্মদ মনসুর দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মনসুরকে ‘তার স্ত্রী ও ছেলের সাথে তার বাড়িতে’ কোনো পূর্ব-সতর্কীকরণ ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২০৮ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী নিহত হয়েছেন।

এদিকে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোমবার গাজা উপত্যকায় একটি স্কুলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়স্থলে ইসরাইলি হামলায় এক শিশুসহ কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।

সোমবারের নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় আরো ১৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-আওদা হাসপাতাল। সেখানে হতাহতদের ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে আরো তিনটি হাসপাতাল রাতভর এবং সোমবার পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ২৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলে হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো এক লাখ ১৩ হাজার ৪০৮ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৫’ তুলে দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক এই পুরস্কার প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এবার স্বাধীনতা পুরুস্কার প্রাপ্তরা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ পুরস্কার বিতরণী পর্বটি সঞ্চালনা করেন। তিনি পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।

সূত্র : বাসস

গণতন্ত্র ধ্বংসকারী আ’লীগকে গণতন্ত্রের সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারি না

৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বাকশালের ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের বার বার বলতে হবে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করতো না। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। সুতরাং, আওয়ামী লীগকে আর কোনো গণতন্ত্রের সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারি না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চের এই কালো দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই দেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হত্যা করেছে লাখো নিরীহ মানুষকে। কিন্তু পাকিস্থান এখনো ক্ষমা চায়নি। এ কথা বলছি এ কারণে, একটি গোষ্ঠী এই বিষয়ে আমলে নিচ্ছে না, তারা বলেছ, ৭১ কোনো ঘটনা না। তারা বরং পাকিস্তান সেনা বাহিনীকে সহায়তা করেছে। তাদের নাম বলতে চাই না। এখন তারা আবার গলা ফুলিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে। ইতিহাস তো ইতিহাস। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে। এটাই এদের চরিত্র। ওরা দেখে, জনগণ যখন ক্ষেপে উঠে, তখন ওরা এভাবে কর্মীদের অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়। এবার তাই করেছে, জনতার ক্ষোভে ভারতে পালিয়ে গেছে।

‘বাংলাদেশের মহিয়সী নারী বেগম খালেদা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে নয় মাস জেলে ছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার প্রথম শুরু হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে, পরে করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের মৌলিক সংস্কার কিন্তু বিএনপির হাতে দিয়েই। এখন ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছে তো বিএনপি, ১৬ সালে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ ভিসন দিয়েছেন। সংস্কার কোনো নতুন বিষয় নয়। অথচ অন্তর্বতী সরকার সংস্কারের পাহাড় এনেছে। আমরা সংস্কারের প্রস্তাবনায় মতামত দিয়েছি, পক্ষে-বিপক্ষে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আজ সোশাল মিডিয়া কিছু কুতুবের আবির্ভাব হয়েছে। তারা যে বাংলাদেশকে কোথায় নিতে চায়, আমাদের জানা নেই। দেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। যেটা আমরা মেনে নেব না। কারণ সেনাবাহিনী দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, আন্দোলনের ভিত্তি তো বিএনপি করেছে। হঠাৎ করেই একটা বিপ্লব হয়নি, বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে উঠে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি খারাপ কাজ করে এমন কথা যেন না শুনতে হয়। এতে সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। আগামী বাংলাদেশ আপনাদের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বাস করি, ওরা গাড়ি বহর নিয়ে যা করুক, সমস্যা নেই। আমরা জানি ওরা কী করতে পারবে। আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যকে আমরা সফল করতে পারিনি। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বার বার হোঁচট খেয়েছি। শুধু কী তাই, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করেছিল স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ। জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করতে গিয়ে বার বার আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। অথচ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। দেশের মানুষ প্রমাণ করছে, ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে সরকার পরিবর্তন করতে পারে, যেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে দেখিয়েছে। ভোট দিতে বাধা সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়িত করে পারে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষিত ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে, উছিলা সামনে আনার চেষ্টা করেছে। জনগণ সন্দেহ পোষণ করছে, আমরা কিন্তু বুঝি। কেউ বলছে, সংস্কার আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এগুলো বলে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিলম্ব করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। দেশ নির্বাচনমুখী হলে যত ষড়যন্ত্র আসুক না কেন, জনগণ তা মোকাবেলা করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, স্বৈরাচার পতনের মধ্যে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ফিরে পাব, ‘না’। এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হচ্ছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দেখি, বিএনপি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, বিএনপিকে আটকে দেয়া চেষ্টা করা হচ্ছে। বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা করেছিল তাকে জনগণ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

আলোচনা সভায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে হবে

জাতির সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বহুমত ও পথের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে গণতন্ত্রবিনাশী শক্তির চক্রান্ত এখনো থেমে নেই। বার বার ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও অবৈধ শক্তি আমাদের সে লক্ষ্য পূরণ করতে দেয়নি। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের ফলে আমাদের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হোঁচট খেয়েছে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসে আনন্দোজ্জ্বল মুহূর্তের মধ্যে প্রথমেই যে কথা মনে পড়ে, তা হলো এ দেশের অগণিত দেশপ্রেমিক শহীদের আত্মদান; আমি এ মহান দিনে তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই। যাদের অবিস্মরণীয় আত্মদানে অর্জিত হয়েছে দেশমাতৃকার মুক্তি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সব জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি আমি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। যাদের জীবন মরণ লড়াইয়ে ৯ মাসে আমরা বিজয় লাভ করেছি সেইসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা জাতি কখনোই বিস্মৃত হবে না। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেসব মা-বোনদের কথা, যারা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধিকার আর স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রক্তস্নাত পথে বিশ্ব মানচিত্রে উদ্ভাসিত হয় আমাদের মানচিত্র। এ দিনে দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তার ঐতিহাসিক ঘোষণায় সেই মুহূর্তে দিশেহারা জাতি পেয়েছিল মুক্তিযদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র। একটি শোষণ, বঞ্চনাহীন, মানবিক সাম্যের উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এদেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হীন লক্ষ্যে পলাতক অবৈধ সরকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে আজও তাই এদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সংহত করা। এটিই হচ্ছে স্বাধীনতার মূল চেতনা।

এছাড়াও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি সশ্রদ্ধচিত্ত্বে স্মরণ করি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এদিনে গোটা জাতি মরণপন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

‘এদেশের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবস সবচাইতে গৌরবময় ও পবিত্রতম দিন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রক্তস্নাত স্বাধীনতা বিশ্বের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জল দিন। কোনো জাতিকেই জন্মভূমির জন্য এমনভাবে আত্মত্যাগ করতে হয়। তবে ১৯৭১ সালে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য আজও দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আজও বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এজন্য গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য।

ভালো আছেন তামিম, তবে ‘মুভ করা খুবই রিস্কি’

স্থিতিশীল আছেন তামিম ইকবাল। উন্নতি হয়েছে তার শারিরীক অবস্থার। অনেকটা শঙ্কামুক্ত বলা চলে। তবে এই মুহূর্তে তাকে অন্য কোথাও ‘মুভ করা খুবই রিস্কি’ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুরের কেপিজে স্পেশালাইডজ হাসপাতালে আছেন তামিম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মুহূর্তে মুভ করা তার জন্য খুব-ই রিস্কি, সে বিষয়টা নিয়ে তামিম ইকবালের সাথেও তাদের আলাপ হয়েছে।

হাসপাতালের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তামিম ইকবালের হার্টে যে পিসিআই হয়েছে (হার্টের ব্লক খোলার চিকিৎসা পদ্ধতি), তাতে কখনো কখনো একটু রিয়্যাকশন হতে পারে। যে রিংটা লাগানো হয়েছে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ডাক্তারি ভাষায় যাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। যদিও পরিসংখ্যানে এটি হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে সেই আশঙ্কা বা ঝুঁকি রয়েছে।

ওই ঝুঁকি নিয়ে তামিম ইকবালের পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকালে বিকেএসপিতে শাইনপুকুরের বিপক্ষে মোহামেডানের হয়ে ম্যাচ খেলতে এসে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তামিম। পরে তাকে পাশেই কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আবার কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে আনার পর তার বুকে ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে এরপর দু’টি রিং পরানো হয় হার্টে।