Home Blog Page 449

সৌদির সঙ্গে ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান সৌদি আরব সফরে যেসব চুক্তি হচ্ছে তার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্য সামরিক উপকরণ কিনবে। এ প্যাকেজের আওতায় রাডার সিস্টেম ও পরিবহন বিমান কেনার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অস্ত্রের বড় সরবরাহকারী দেশ। যদিও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছিল জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকার সময়। ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ভূমিকা উদ্বেগ প্রকাশ করে তখন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছিল বাইডেন প্রশাসন।

এর আগে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডও দেশ দুটির সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন। যদিও সৌদি আরব সবসময় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছেন। দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি আগামী চার দিন উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকবেন।

তার এবারের সফরে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নতুন বিনিয়োগ বিশেষ করে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এটি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বৈঠক করবেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের সঙ্গে। পরে তিনি রিয়াদের সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দেবেন, যাতে নামিদামি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারাও থাকবেন। ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালি থেকে সৌদি আরবে বিনিয়োগের বিষয়টিতেও দৃষ্টি দেয়া হবে।

বুধবার ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেবেন। শুক্রবার আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে তার চারদিনের সফর শেষ হবে।

গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় বর্বর ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা চলছেই। দখলদার বাহিনীর নৃশংস হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় ভূখণ্ডটিতে আরও অন্ততপক্ষে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত নগরটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে।

বুধবার এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা তীব্রতর করেছে এবং মধ্যরাত থেকে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন উত্তর গাজায় নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার ইউরোপীয় এবং নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই সর্বশেষ হামলাগুলো শুরু হয়েছে। হাসপাতালে হওয়া ওই হামলায় নিহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এ হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

১৪ দলের নিবন্ধন বাতিল চায় গণঅধিকার পরিষদ

জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। এ বিষয়ে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছে গণঅধিকারের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আবেদনে দলটি উল্লেখ করে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে। জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার কারণে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইভাবে তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল বাংলাদেশের নাগরিকের ওপর চালানো গণহত্যাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, তার অন্যতম সহযোগী ও বৈধতাদানকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টিসহ জোটবদ্ধ বাকি দলগুলো। তাই গণহত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে এই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করানোর আহ্বান করছে গণঅধিকার পরিষদ।

গণঅধিকার প্রত্যাশা করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ তাদের দোসরদের নিবন্ধন বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনক্ষোভ দূর করতে আপনার (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, মাহফুজুর রহমান খান, হাবিবুর রহমান রিজু, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিনেরও বিচার হবে: এম এ মালেক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, স্বপরিবার নিয়ে থাকেন যুক্তরাজ্যে। বর্তমান সময়ে বিএনপিতে বেশ আলোচিত নেতা। গত ৬ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গেী হিসেবে লন্ডন থেকে দেশে আসেন। উঠেছেন রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশেফরাসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে। রোববার সকালে রাজধানীর গুলশান ওয়েস্টিন হোটেলে তার সাক্ষাতার গ্রহণ করেছেন মানবকণ্ঠের সিনিয়র রির্পোটার ছলিম উল্লাহ মেজবাহ।

 তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।  
এম এ মালেক: তারেক রহমান বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশে আসবেন, উনার তো বাড়ি নেই, বাড়ি ভাড়া করতে হবে, যেদিন বাসা পাবেন বা ঠিক হবে তারপর দেশে আসবেন। যদি বাসা না পাই তাহলে আমার বোনের (ডা. জোবাইদার) বাড়িতে থাকতে হবে। বর্তমানে ঢাকা শহরে তারেক রহমানের কোন ঠিকানা নেই। বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হলে তিনি আসবেন। এছাড়া আইনের বিষয় আছে, উনার নিরাপত্তার বিষয় আছে, সব কিছু বিবেচনা করে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

 আওয়ামী লীগের রাজনীতি কার্যক্রম বন্ধে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।  
এম এ মালেক: গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদলসহ সারাদেশে ৫শ’ নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তাদের হত্যা করেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা।একই সাথে আন্দোলনে যত লোক মারা গেছে প্রত্যেককে ক্ষতিপূরন দেয়ার দাবি জানাই। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি একটি উত্তম কাজ করেছে। আমি সাধুবাদ জানাই।

 প্রায় ন’মাস আড়ালে থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছাড়লেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
এম এ মালেক: সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদকে যারা বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের বিচার ও শাস্তি চাই, এখানে টাকার খেলা হয়েছে। এবিষয়ে ছাড় দেয়া যাবে না।

 নির্বাচন এবং সংষ্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও সময় ক্ষেপনের কথা তুলছে আপনার দল। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এম এ মালেক: নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। আমার দল বারবার বলে আসছে দীর্ঘকাল সংস্কার চলতে পারে না। আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলে আসছি।

 যুক্তরাজ্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে আপনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে বৈরি পরিস্থিতির মোকাবেলা করলেন কী ভাবে?
এম এ মালেক: যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনার গুম খুন হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহুবার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছি। আমাকে রাশিয়ান হিটম্যান দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল। যুক্তরাজ্যের পুলিশ দিয়েও চেষ্টা করা হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য।

বিএনপি চেয়ারপার্সন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ থেকে রাজনীতি করছেন, খুব কাছ থেকে দেখেছেন দীর্ঘদিন। দলনেতা হিসেবে তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন।  
এম এ মালেক: বেগম খালেদা জিয়া আমার মা, উনি কথায় কাজে মিল রেখেছেন, তিনি বলছেন বাংলাদেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই, এদেশের মাটি ও মানুষ হচ্ছে আমার আসল ঠিকানা। তাই তিনি দেশের বাইরে থাকেননি। দেশেই ফিরে এসেছেন। বারবার তিনি তার কাজে প্রমাণ করেছেন তিনি আপোসহীন। ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একই বিমানে আমি ও আমার পরিবারসহ দেশে এসেছি তার সফরসঙ্গী হিসেবে। জীবন স্বার্থক মনে হয়। এর থেকে আর বড় পাওয়া কি হতে পারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দুর্নীতি খোঁজ নিতে সারাবিশ্বে চিরুনি অভিযান করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পলাতক অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাওয়া ভবন নিয়ে মিথ্যাচার করছে শেখ হাসিনাসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। একটা প্রমাণও করতে পারেনি। যারা অপপ্রচার করছে তাদের ট্রাইব্যুনাল করে অবশ্য বিচার করতে হবে।

 লীগ নেতারা দুর্নীতি করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে….
এম এ মালেক :  হ্যাঁ, বিদেশে ১শ ৬২ বিলিয়ন ডলার মাফিয়া হাসিনাসহ তার নেতারা পাচার করেছে। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে। এ টাকাগুলো উদ্ধারে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
 আপনার দল সরকার গঠন করলে ১/১১ এর মুল নায়ক মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিনের কি বিচার করবে?
এম এ মালেক : ১/১১ এর সময় মঈন ও ফখররুদ্দিনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আমেরিকার তৎকালীন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে সাক্ষাত করে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছি। জেনেভা কনভেনশনে অংশ গ্রহণ করছি। ইউকেতে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন জোরদার করেছি। আমি মনে করি বিএনপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার যেইভাবে হবে ঠিক সেইভাবে মঈন উদ্দিন  ও ফখরুদ্দিনের বিচার করতে হবে।

 তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, আপনি সেখানে যাননি। 
এম এ মালেক : শেখ হাসিনা ক্ষমতা থাকাকালীন লন্ডনে যখন গেলেন তখন আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। সেই দাওয়াতে আমি অংশ নিতে যাইনি। আমি শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রিলিজ দিতে হবে চিকিৎসার জন্য। খালেদা জিয়াকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করেছেন শেখ হাসিনা। সেøা পয়জন দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এই জন্য হাসিনা যখন যুক্তরাজ্য যায়, তখন লন্ডনে হাসিনাকে অবরোধ করছি। গত ১৬ বছর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আমি আন্দোলন করেছি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেছি হাসিনাকে রিজাইন করার জন্য। বৃটিশ পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বলেছি বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট হটাও। বিগত দিনে লন্ডনে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জড়ো করে সেই দেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এখন আবার শেখ হাসিনা ভারতে বসে দেশে বিশৃঙ্খলা করার চেস্টা করছে।  এ ব্যাপারে দেশের সকল রাজনীতি দলগুলোকে সর্তক থাকতে হবে। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।

 কি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবেন?
এম এ মালেক : হ্যাঁ, আমি সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং বালাগঞ্জ উপজেলা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবো। সেজন্য কাজ করছি। আপনারা দোয়া করবেন। সোমবার (গতকাল) এলাকায় যাচ্ছি। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ থাকবো। তারপর ঢাকায় ফিরবো।

 রহমানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কীভাবে ?
এম এ মালেক : আমি আর মহিদুর রহমান সাহেব নামের এক ভদ্রলোক একসঙ্গে কারওয়ান বাজারে তারেক রহমানের কাছে যেতাম, তখন উনি কারওয়ান বাজারে বসতেন, তখন আমার সঙ্গে সম্পর্ক হয়। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই সম্পর্ক রয়েছে। লন্ডনে বর্তমানে বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছি। এর আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সেইসাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রয়েছি।

রাজনীতিতে যাত্রা শুরুর সময়টা কখন? 
এম এ মালেক : আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ইয়াং মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। চাচার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছি। চাচা আবু মিয়া চেয়ারম্যান, তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। উনারা লন্ডনে থাকতেন, আমাকে দেখাশোনা করেছেন। রাজনীতিতে আসতে উৎসাহ দিতেন। ছোটবেলা থেকে এলাকা আমাদের দাপট ছিল। সে জায়গায় থেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদ সমর্থক ছিলাম। তারপর ১৯৭৬ সালে জাতীয় তরুণ সংঘের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বি. চৌধুরী দল গঠন করলেন। ১৯৭৭ সালে ধানমন্ডিতে তখন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করি। জিয়াউর রহমান একটি সম্মেলনে ভাষন দেন। সেই অনুষ্ঠানে আমিও বক্তব্য রাখি, এক মিনিট। কিন্তু বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল তিন মিনিট। আমি নার্ভাস হয়ে বক্তব্য শেষ করি। পরে তৎকালীন যুব রাজনীতির নেতা মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায় ও হারিছ আহমদ এর মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই।

 প্রায় চারদশক কাটিয়ে দিলেন প্রবাসে, লন্ডনে। কৈশোর, তারুণ্যর সময় কতটা উপভোগ্য ছিল?
এম এ মালেক : ১৯৮১ সালে লন্ডনে বাবা-চাচাদের সঙ্গে পার্টটাইম ব্যবসা করেছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের মার্শাল ল’ এর সময় সিলেটে তখন দায়িত্বশীল সেনা কর্মকর্তা আমিন আহমেদ চৌধুরী, কর্নেল দেওয়ান লন্ডনে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন। আমার বাবা লন্ডনে একজন ফ্যাক্টারির ওয়ার্কার ছিল। আমার বড় ভাই ব্যবসা করত। আমি রেস্টেুরেন্টে কাজ করেছি। এরপর লন্ডনে এলাকার দূর সর্ম্পকের চাচাতো বোনের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্ত্রী ছিলেন তরুণ শিক্ষক। তখন এরশাদের বির’দ্ধে লন্ডনে সভা সেমিনার করেন টনবি হলে। ৭ দলের নেতৃত্বে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করা হয়। ধানমন্ডি বিএনপির অফিস থাকাকালীন তৎকালীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার জন্য তখন ম্যাডাম দিক নির্দেশনা দেন। লন্ডনে সেটেল্ডে হওয়ার পর একাধিক মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতি মনা ছিলাম। ছবি প্রডিউস করেছি। ছবির নাম যেই প্রেম কথা কয়, ছবির নায়ক ছিলেন প্রবীর মিত্র ও নায়িকা ছিলেন শাবানা। এছাড়া নাটকেও অভিনয় করেছি মাঝেমধ্যে। একটা নাটকের নাম মনে করতে পারছি, বিলাতে বিলাস। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে।

আন্দালিব পার্থের স্ত্রীকে বিদেশ যাত্রায় বাধা

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের স্ত্রী শেখ শাইরা শারমিনকে বিদেশ যাত্রায় বাধা দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ শারমিনকে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে উঠতে দেননি।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ শাইরা শারমিন দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে যাত্রার জন্য থাই এয়ারলাইনসের টিজি৩২২ ফ্লাইটে চেক-ইন করলেও ইমিগ্রেশন থেকে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, তার স্ত্রী ও ছোট কন্যা মেডিকেল চেক আপের জন্য ব্যাংকক যাচ্ছিলেন। এসবি তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর তারা বাড়িতে চলে এসেছে। তবে তাদের সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি।

এখন কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আইনের মানুষ। আইন আমার পেশা। যথাযথ অনুমতি নিয়ে আমার পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকক যাবে।

উল্লেখ্য, শেখ শাইরা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দীনের মেয়ে এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের বোন। শেখ হেলাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বাগেরহাট-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার ছেলে শেখ তন্ময়ও বাগেরহাট-২ আসন থেকে একই প্রতীকে নির্বাচিত হন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দুই ভাগ করার কারণ জানাল সরকার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সৃষ্টি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে কেন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা মঙ্গলবার বিকেলে সে ব্যাপারে ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, কর নীতিনির্ধারণ ও কর প্রশাসনকে আলাদা করে দক্ষতা বাড়ানো, স্বার্থের সংঘাত কমানো ও দেশের করভিত্তি বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, প্রায় পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর কখনোই তাদের রাজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ায় সর্বনিম্নের মধ্যে পড়ে। তুলনার জন্য বলা যায়, বৈশ্বিক গড় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার অনুপাত ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে এই অনুপাত কমপক্ষে ১০ শতাংশে উন্নীত করা জরুরি।

এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিলে স্বার্থের সংঘাত ও অদক্ষতা তৈরি হয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত মত।

দীর্ঘদিনের সমস্যা: স্বার্থের সংঘাত নীতিনির্ধারণ ও কর আদায় একই ছাতার নিচে থাকায় নীতিগুলো অনেক সময় দুর্বল হয়েছে এবং অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে যারা কর আদায় করছেন, তাদের জন্য কোনো কার্যকর জবাবদিহি নেই। কর ফাঁকি দেয়া করদাতাদের সঙ্গে তারা অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থে সমঝোতায় যান। কর কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পরিমাপের কোনো নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেই এবং তাদের পদোন্নতি বা মূল্যায়নও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে হয় না।

অদক্ষ রাজস্ব আদায়: একই সংস্থার নীতি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকায় দুই ক্ষেত্রেই মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে করের আওতা সংকীর্ণ রয়ে গেছে এবং সম্ভাবনা মতো রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি।

দুর্বল শাসনব্যবস্থা: এনবিআরের এনফোর্সমেন্ট ছিল খামখেয়ালি, বিনিয়োগ সহায়তায় ছিল ঘাটতি এবং পুরো ব্যবস্থায় ছিল শাসনসংক্রান্ত ত্রুটি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে।

বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রধান, একই সঙ্গে এনবিআরের প্রধান হওয়ায় দায়িত্ব বিভাজন পরিষ্কার ছিল না। এতে করনীতি তৈরিতে ও বাস্তবায়নে কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে।

মনোবলহীনতা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা এ সংস্কারের কারণে অভিজ্ঞ কর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তারা হয়তো উপেক্ষিত হবেন।

সংস্কারে কী ধরনের উন্নয়ন হবে: দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রণয়ন, হারে নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে কাজ করবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর আদায়, অডিট ও অনুগততা নিশ্চিত করবে। এতে যারা করের নীতি ঠিক করবেন, তারা আর তা আদায় করবেন না। ফলে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতির সুযোগ কমবে।

দক্ষতা ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন: প্রতিটি বিভাগ নিজের দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারবে ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

করভিত্তি প্রসারণ ও প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ জোরদার: এ সংস্কার প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহে দক্ষ পেশাজীবীদের নিযুক্ত করার মাধ্যমে করের আওতা বাড়াবে এবং পরোক্ষ কর নির্ভরতা কমাবে।

উন্নয়নমুখী নীতি: একটি বিশেষায়িত নীতিনির্ধারণ বিভাগ প্রমাণভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নয়নবান্ধব কর নীতি প্রণয়ন করতে পারবে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: স্বচ্ছ, পূর্বানুমেয় করনীতি ও পেশাদার প্রশাসন ব্যবসার পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

সবশেষে শফিকুল আলম বলেন, এ সংস্কার কেবল একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, এটি বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। উন্নত নীতিনির্ধারণ ও পরিচ্ছন্ন কর প্রশাসন দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস।

সোমবার রাতে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ত্রিপোলিতে সাম্প্রতিক সশস্ত্র যানবহরের আগমন ও উদ্ভূত অস্থির পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল নাগরিককে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ত্রিপলীতে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিককে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সীমান্তে সেনা উপস্থিতি কমাতে সম্মত হলো ভারত-পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরসহ সব সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি কমাতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তান। সোমবার (১২ মে) দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের প্রধান (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স-ডিজিএমও) পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।

বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের ডিজিএমও পর্যায়ের বৈঠকের নির্ধারিত সময় ছিল সোমবার দুপুরে। কিন্তু পরে সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী সোমবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের ডিজিএমও এবং মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লাহ এবং ভারতের ডিজিএমও এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। সেখানেই সেনা উপস্থিতি হ্রাসের ব্যাপারে একমত হন তারা।

প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয় এ বৈঠক। বৈঠক শেষে এ সম্পর্কে কোনো বিবৃতি দেয়নি ভারত কিংবা পাকিস্তান কেউই। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জম্মু-কাশ্মির এবং ভারত-পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্স। সীমান্তে সেনাবাহিনীও থাকবে, কিন্তু সংঘাত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে তারা সামনে আসবে না।

আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে দুই দেশের সীমান্তরেখার ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো হেলিকপ্টার ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিমান প্রবেশ করবে না।

পেহেলগাম হামলাকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং তার জেরে ৭ মে থেকে ১০মে পর্যন্ত সংঘাত চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ভারত-পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ের বৈঠক হলো।

সর্বকালের সব রেকর্ড ভাঙল প্রবাসী আয়

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় অর্থনীতির একটি প্রধান খাত হিসেবে জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবার আয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন প্রবাসীরা। চলতি অর্থ বছরের সাত মে পর্যন্ত এসেছে ২৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে দেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে, জুলাই ২০২৩ থেকে ৭ মে ২০২৪ পর্যন্ত এসেছিল ১৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। আর ৭ মে ২০২৫ এ প্রবাসী আয় এসেছে ১১০ মিলিয়ন ডলার। এ মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছে ৭৩৫ মিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। সে সময়ে এসেছিল ৬০১ মিলিয়ন ডলার।

মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে। সেবার দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল রেকর্ড ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। ঈদের পর এপ্রিলে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মাসের হিসাবে যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এরপর শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য (ইউকে), মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

বিদায়ী এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তবে গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই তিন মাসে প্রবাসী আয় পাঠানোয় শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিলে দেশটি থেকে ৩৩ কোটি সাত লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নেমে গেছে তিনে। এ ছাড়া আলোচিত সময়ে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে যথাক্রমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ২১ কোটি ৯ লাখ ডলার, ১৬ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার, ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া বাহরাইন থেকে এসেছে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ফ্রান্স থেকে তিন কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সাউথ আফ্রিকা থেকে দুই কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার, সাউথ কোরিয়া থেকে দুই কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ডলার, কানাডা থেকে দুই কোটি ৩৭ লাখ ডলার, জার্মানি থেকে এক কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে এক কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, গ্রিস থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, জর্ডান থেকে এক কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, মালদ্বীপ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

স্পেন থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ডলার, মরিশাস থেকে এক কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার, জাপান থেকে ৮৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, পর্তুগাল থেকে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার, ইরাক থেকে ৭৩ লাখ ডলার, লেবানন ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পোল্যান্ড ৫৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, সুইডেন থেকে ৫৫ লাখ ডলার এবং ফিনল্যান্ড থেকে ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। অন্যান্য দেশ মিলে প্রবাসী আয় এসেছে চার কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

কেয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না

পরকালে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন প্রতিটি মুমিনের পরম আকাঙ্ক্ষা। এই পথে চলতে মহান আল্লাহর নির্দেশনার পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।

এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। পরকালের অনন্ত জীবনে সফলতা লাভের জন্য এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)।

বিপদ-আপদও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এমতাবস্থায় ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে অবিচল থাকতে হবে। আনাস (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা যখন তার কোনো বান্দার কল্যাণ করতে চান, তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তার কোনো বান্দার অকল্যাণ সাধন করতে চান, তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকেন। তারপর কেয়ামতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন।’ (তিরমিজী, হাদিস: ২৩৯৬)।

পরকালে সফলকাম হতে নবীজি (সা.) বিভিন্ন হাদিসে উম্মতদের জন্য নানা আদেশ ও নিষেধের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও বাতলে দিয়েছেন। তেমনই এক হাদিসে কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ এই তিন শ্রেণীর মানুষ হলো:

১. কৃপণ: যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে কোনো মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। সংকটকালে সাহায্যপ্রার্থীকে সহায়তা না করা আল্লাহর অপছন্দনীয়।

২. দুনিয়ালোভী শাসক: যে ব্যক্তি শুধুমাত্র পার্থিব স্বার্থের জন্য কোনো ইমাম বা নেতার হাতে আনুগত্যের শপথ করে। যদি ইমাম তাকে কোনো জাগতিক সুবিধা দেন, তবে সে সন্তুষ্ট হয়, আর যদি না দেন তবে অসন্তুষ্ট হয়। নেতৃত্ব বা আনুগত্যকে ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আল্লাহ তাআলার কাছে ঘৃণ্য।

৩. মিথ্যা শপথকারী বিক্রেতা: যে ব্যক্তি আসরের নামাজের পর তার পণ্য বিক্রির জন্য উপস্থাপন করে এবং মিথ্যা শপথ করে বলে যে, আল্লাহর কসম, এই পণ্যের এত মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছিল (কিন্তু সে বিক্রি করেনি)। এরপর সরল বিশ্বাসে কোনো ক্রেতা সেই মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে পণ্যটি কিনে নেয়।

এই প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, তারা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, বস্তুতঃ তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ৭৭)।