Home Blog Page 451

ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে ফের ড্রোন

ভারত পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজস্থানের বার্মারের আকাশে আজ রোববার (১১ মে) ড্রোন দেখা গেছে। এরপর সেখানে ব্ল্যাকআউট শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে। এর একদিন পরই দেশটির আকাশে আবার ড্রোনের দেখা মিলল।

বার্মার বিভাগীয় কালেক্টর এবং ম্যাজিস্ট্রেটের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ড্রোনের আগমন পরিলক্ষিত হয়েছে। দয়া করে বাড়িতে থাকুন এবং ব্ল্যাকআউট পালন করুন।

এরআগে রাজস্থানের জয়সালমারে পূর্বসতর্কতার অংশ হিসেবে ব্ল্যাকআউট পালন করা হয়। জয়সালমারে ব্ল্যাকআউট শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। অপরদিকে বার্মারে ব্ল্যাকআউট শুরু হয় রাত ৮টা থেকে।

গতকাল শনিবারও সীমান্তবর্তী এলাকায় একই দৃশ্য দেখা যায়। তখন সেখানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে রোববার সকাল থেকে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মানুষ বাইরে বের হন এবং আজ সেখানে বাজারও খুলেছিল।

এদিকে ভারতের সেনাবাহিনী আজ এক সতর্কবার্তায় বলেছে, পাকিস্তান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাহলে সেনাপ্রধান স্থানীয় কমান্ডারদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

ভারতে এক নিমিষেই প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি কার্গোবাহী ট্রাক ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্য ৯ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রায়পুর জেলার রায়পুর-বালোদাবাজার সড়কের সারাগাঁওয়ের কাছে রোববার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাতৌদ গ্রামের একটি পরিবার পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বানসারি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় খারোরা থানা এলাকার সারাগাঁওয়ের কাছে তাদের ট্রাকটির সঙ্গে একটি ট্রেলারের (কার্গোবাহী ট্রাক) সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পরে আহতদের রায়পুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়পুরের জেলা কালেক্টর গৌরব সিং জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পোশাকের বিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের আধিপত্য

পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আধিপত্য বাড়ছে ঈর্ষান্বিত হারে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানিতে দারুণ সাফল্য এসেছে। এসব দেশে পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও দারুণ গতি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি যতটা না দামে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণনির্ভর।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের কারখানাগুলো এখন বিশ্বমানের। ক্রেতারা এখানে নির্ভরতার জায়গা খুঁজে পান। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদন, ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং শ্রমিক-উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আবারও শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই অঙ্ক ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে ইইউ’র বাজারে মোট পোশাক আমদানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ (মূল্য অনুযায়ী), এবং পরিমাণে বেড়েছে ২৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ইউরোস্টাটের বরাতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, আমদানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি যা বাংলাদেশের বাজার দখলের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের বাজার শেয়ার কমার ফলে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান দখলে বাংলাদেশ সফল হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র, দুই বাজারেই বাংলাদেশের অগ্রগতি: একদিকে ইউরোপে রপ্তানিতে দারুণ সাফল্য এসেছে, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশই সেখানে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা ও কিছু সুরক্ষাবাদী-নীতির মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের টেকসই প্রতিযোগিতাশক্তির প্রমাণ দিচ্ছে।

ইউরোপে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান: সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক (৪৯ দশমিক ৮২ শতাংশ)। এই অঞ্চলের শীর্ষ আমদানিকারক হচ্ছে জার্মানি (৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার), এরপর রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও পোল্যান্ড। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য।

যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বাজার: বিজিএমইএ’র তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যেও রপ্তানি বেড়েছে, যদিও হার তুলনামূলকভাবে কম মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যান্য বাজার যেমন- জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

চীন পিছিয়েছে, বাংলাদেশ এগিয়েছে: ইইউ’র বাজারে চলতি সময়ে চীনের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নির্দেশ করে। তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া ২১-২২ শতাংশ হারে বাড়লেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য কমছে। ২০১৮ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি ছিল বাংলাদেশের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি, সেই ব্যবধান কমে এসেছে মাত্র দুই গুণে। বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এবং চীনের কমে ১৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে।

দামে সামান্য হ্রাস, পরিমাণে বড় অগ্রগতি: এই প্রবৃদ্ধি যতটা না দামে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণনির্ভর। ইইউ বাজারে ইউনিট দামে গড়ে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, অথচ পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ক্রেতাদের চাহিদামতো সাশ্রয়ী দামে পণ্য সরবরাহ করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক শক্ত ভিত: বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক শক্ত ভিত। এগুলো হলো- উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন। পরিবেশবান্ধব কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি)। সামাজিক ও শ্রমিক নিরাপত্তায় অগ্রগতি। দ্রুত ডেলিভারি সক্ষমতা। ইইউতে জিএসপি সুবিধা তথা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।

সামনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: উদ্যোক্তারা বলছেন, চলতি বছরের বাকি সময়েও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকার আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে ক্রেতারা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে নতুন কার্যাদেশ আসার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

তবে প্রতিযোগিতা, শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের নীতি সহায়তা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব। এজন্য নতুন বাজারে প্রবেশ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি জরুরি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এখন প্রয়োজন মান বজায় রেখে বহুমুখী বাজারে প্রবেশ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কৌশলী হওয়া।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের ৯০০টির বেশি কারখানা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে, এরমধ্যে ২৫টির প্রধান বাজার আমেরিকা। চীন ও ভিয়েতনামের পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, বাজার শেয়ার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাকের আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

শেয়ারবাজার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ নির্দেশনা

সরকারের অংশীদারত্ব থাকা বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজার নিয়ে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় শেয়ারবাজার নিয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

বৈঠকে দেয়া প্রধান উপদেষ্টার ৫ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—

১. বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেসব বিদেশি বা বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের মালিকানা রয়েছে, সেসব কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. বেসরকারি খাতের ভালো ও বড় বড় কোম্পানিকে প্রণোদনা দিয়ে বাজারে আনার উদ্যোগ নেয়া।

৩. শেয়ারবাজার সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া।

৪. শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

৫. বড় বড় কোম্পানি যাতে ব্যাংকঋণের বদলে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বন্ড বা শেয়ার ছেড়ে পুঁজি সংগ্রহে আগ্রহী হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

গত আগস্টে অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ারবাজার নিয়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার দেয়া ৫টি নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

রোববারদুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

জুলাইকে অস্বীকার করে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই: আসিফ মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সতর্ক হয়ে যান। একটু অসতর্কতা পরের বার আপনাদের পতনের কারণ হতে পারে। জুলাইকে মেনে না নিয়ে বাংলাদেশে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া ‘জুলাই জনতার’

রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের থেকে রক্ষা করা কঠিন। এর চেয়ে কঠিন সত্য আর নেই। লড়াই যেন থামছেই না। রাজপথের লড়াইটা সামষ্টিক, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের মিলনস্থলে পরিণত হওয়ায় একধরনের ভালো লাগার জায়গাও তৈরি করে। মাঝে মাঝে মনে হয় ছেড়ে দিয়ে চলে যাই রাজপথে। সেটাই আমার জায়গা, যা করতে অভ্যস্ত এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা মাথায় এলেও থেকে যেতে হয় গণ-অভ্যুত্থানের পাহারাদার হওয়ার জন্য, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আওয়াজটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। আমাদের এই লড়াইটা হয়তো দেখা যায় না, শোনা যায় না।’

তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় জুলাই জনতার আরেকটি বিজয় হলো। এ এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে যাঁরা আওয়ামী সিম্প্যাথাইজার আছেন, সতর্ক হয়ে যান। একটু অসতর্কতা পরের বার আপনাদের পতনের কারণ হতে পারে। জুলাইকে মেনে না নিয়ে বাংলাদেশে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু উপলব্ধির কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘সরকারে থাকাটা দুধারি তলোয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার মতো হয়ে গেছে। সরকার কোনো ভুল করলে, সেটা আমাদের এখতিয়ারভুক্ত না হলেও জনতার কাঠগড়ায় আমাদের দুজনকে (মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ) দাঁড় করানো হয়। আবার ছাত্র-জনতা মাঠে নামলে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রগুলো আমাদের সন্দেহের চোখে দেখে, টার্গেট করে। এস্টাবলিশমেন্ট মনে করে, এটা আমরা করাচ্ছি। এ ছাড়া ক্ষমতার বিভিন্ন ভরকেন্দ্রের সঙ্গে জুলাই প্রশ্নে আপস না করতে পারায় তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হওয়াটা বোনাস।’

আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘রাষ্ট্র অনেক বড় এবং জটিল জায়গা। এখানে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো এই উপদেষ্টা পরিষদ অনেক বাধা এলেও দিন শেষে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, জনরায়ের বাস্তবায়ন করতে পারছে; যত দিন পারবে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকবে, গণ-অভ্যুত্থানের ভয়েসের (কণ্ঠ) যথাযথ গুরুত্ব এই উপদেষ্টা পরিষদ দেবে, তত দিনই আছি। গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের পক্ষ থেকে সরে গেলে আমার আর এখানে কাজ নেই।’

ফেসবুকে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে নিয়ে আজ দিনভর কিছু ভুয়া ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই ফটোকার্ডগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি লিখেছেন, ‘এমন মিথ্যাচার বন্ধ করুন। আপনার সঙ্গে কারও চিন্তাগত পার্থক্য থাকতেই পারে, সেটাকে নোংরা মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।’ তিনি বলেন, মাহফুজ আলম প্রথম থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা এবং এর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে আর্গুমেন্ট (তর্ক) করেছেন। বিস্তারিত বলতে গেলে গোপনীয়তার শপথ ভঙ্গ হতে পারে বলে এর বেশি আর কিছু লিখতে চাননি বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন এই উপদেষ্টা।

তিন মিনিটের মাথায় উধাও উপদেষ্টা মাহফুজের পোস্ট, কী লিখেছিলেন?

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে। তবে পোস্টের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় সেটি উধাও হয়ে যায়। তবে পোস্টটি উধাও হয়ে গে্লেও তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন দায়িত্বশীল উপদেষ্টা কী এমন লিখলেন যে পরে তা মুছে দিতে হলো? জানতে আগ্রহ দেখা দিয়েছে অনেকেরই—তার পোস্টে কী ছিল?

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে করা ওই পোস্টে লিখেছিলেন—

“আমাকে নিয়ে নোংরামি করতেসো, ঝামেলা নাই। ফ্যামিলি টাইনো না, যুদ্ধাপরাধের সহযোগী রাজাকারেরা। এটা লাস্ট ওয়ার্নিং। আর, যে চুপা শিবিররা এ সরকারে পদ বাগাইসো আর বিভিন্ন সুশীল ব্যানার খুলে পাকিস্তানপন্থা জারি রাখসো, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ রাজাকার আর দালালদের তুলনায় আরো অধিক ভুগবা।
যারা বিতর্কের এবং গালাগালির লিমিট জানে না, তাদের আমি সহনাগরিক মনে করিনা।

পাকিস্তানপন্থীরা যেখানেই থাকবে, সেখানেই আঘাত করা হবে। আমৃত্যু!

ঢাবিতে এ রাজাকারদের আগে ঠেকানো হবে, যারা এদের স্পেস দিসে তাদের জন্য গত পঞ্চাশ বছরের তুলনায় অধিক জিল্লতি অপেক্ষা করসে!”

ধারণা করা হচ্ছে, আগের একটি পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিতর্কিত পোস্টটি দেন মাহফুজ আলম। ওই পোস্টে তিনি যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি লেখেন—

“১. ’৭১ এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে।
বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানপন্থা বাদ দিতে হবে। পাকিস্তান এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে।
(পাকিস্তান অফিশিয়ালি ক্ষমা চাইলেও, তদুপরি আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও, যুদ্ধাপরাধের সহযোগীরা এখনো ক্ষমা চায়নি।)
ইনিয়ে বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
জুলাইয়ের শক্তির মধ্যে ঢুকে স্যাবোট্যাজ করা বন্ধ করতে হবে।
সাফ দিলে আসতে হবে…………………………………….”

পোস্টে তার বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, আগের পোস্টের পর তিনি কোনো এক পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছেন, এমনকি তার পরিবার নিয়েও কথা উঠেছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় উধাও হওয়া পোস্টে তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন।

তবে একজন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য কেউই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, শেয়ার করছেন নানান ব্যঙ্গাত্মক ও সমালোচনামূলক ক্যাপশনসহ- যার অধিকাংশ প্রতিক্রিয়াই নেতিবাচক।

শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।সোমবার মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও সিডিসহ প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। মামলার ওপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রসিকিউশন বিভাগ তদন্ত সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর সেটা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) হিসেবে ট্রাইবুনালে দাখিল করবে।

এ নিয়ে জুলাই আগস্টের ঘটনায় প্রশাসন বিভাগ দ্বিতীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করল। এর আগে চানখারপুলে হত্যা মামলার আট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল তদন্ত সংস্থা।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে হত্যা চালায়। প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারান এই আন্দোলনে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্ব নার্স দিবস আজ

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের নার্সরা আমাদের ভবিষ্যৎ : নার্সদের যত্ন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে’। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত নার্স আছে এক লাখ তিন হাজার ১৫১ জন। যেখানে জনসংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজন তিন লাখের বেশি নার্স। ফলে প্রয়োজনের মাত্র ৩৪ শতাংশ নার্স দিয়ে চলছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, যা সেবার মানে চরম সংকট তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শুধু রোগীরাই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, একেকজন নার্সকে গড়ে দ্বিগুণের বেশি কাজ করতে হচ্ছে। তাতে চাপ বাড়ছে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকা আদর্শ।

কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা প্রায় উল্টো—একজন নার্সকে কাজ করতে হয় তিনজন চিকিৎসকের সঙ্গে। আবার প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য একজন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন নার্সকে সামলাতে হয় শতাধিক রোগী। এতে কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএনএসআর) মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বৈষম্যমূলক।

তাঁর ভাষায়, পেশাটি অবহেলিত। বেতন কাঠামো নিম্নমানের, পদোন্নতি নেই, অবসরে যাচ্ছেন অনেকে চাকরির শুরুর পদেই। ৯০ শতাংশ নার্সের জন্য নেই আবাসনব্যবস্থা। ঝুঁকি ভাতা এখনো চালু হয়নি। ধোলাই ভাতা মাত্র ২১৯ টাকা! তিহান বলেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতেও ঘাটতি।

অনেক প্রতিষ্ঠান সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দিয়েই চলছে, যাঁরা অধ্যাপক বা প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছেন সংযুক্তি হিসেবে। যদিও গত বছর কিছু প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এসএনএসআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার। সে অনুযায়ী নার্স দরকার চার লাখ দুই হাজার। তবে নিবন্ধিত নার্স আছেন মাত্র এক লাখ ১০ হাজার, ঘাটতি প্রায় দুই লাখ ৯২ হাজার। প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও গড়ে মাত্র ১২ হাজার পেশায় যুক্ত হন।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান মো. গোলাম মোরশেদ বলেন, রাষ্ট্রের কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। নার্স তৈরি হচ্ছে, কিন্তু কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ২০২১ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিতে নার্স নিয়োগ বন্ধ। বিদেশে নার্সের চাহিদা থাকলেও উপযুক্ত নীতিমালা ও আইনি কাঠামোর অভাবে পাঠানো যাচ্ছে না।

গোলাম মোরশেদ আরো বলেন, যথাযথ বেতন কাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে নার্স সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার বলেন, নার্স সংকট দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করছে। তবে চাহিদার তুলনায় নার্স তৈরির হার অনেক কম। বিদেশে চাহিদা বাড়ায় সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন এই সংকট নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, গ্লোবাল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ, নিয়মিত অ্যাক্রেডিটেশন ও মূল্যায়ন, নীতিমালাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের জন্য নিরীক্ষা ও অডিট কার্যক্রম চালু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের মূল ভিত্তি হিসেবে নার্সদের উপযুক্ত স্বীকৃতি ও মর্যাদা না দিলে শুধু সেবার মান নয়, পুরো ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।

আর্জেন্টিনার ভারত সফর বাতিল!

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে বাংলাদেশে আনার একটা চেষ্টা ছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায় সে পরিকল্পনা। এরপর শোনা গিয়েছিল পাশের দেশ ভারতে আসতে যাচ্ছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

১৪ বছর পর দ্বিতীয়বার ভারতে আসার কথা ছিল লিওনেল মেসিদের। চলতি বছরের অক্টোবরে মেসিদের কেরালায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন সেখানকার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরহিমান। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি।

কেন বাতিল হতে পারে মেসিদের ভারত সফর? কারণ হিসেবে উঠে আসছে আর্থিক সংকটের কথা।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মেসিদের ভারত সফরের জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ১০০ কোটি রুপি। যা এখনও জোগাড় করা হয়ে ওঠেনি।

কেবল তাই নয়, জানা গেছে আয়োজকদের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ, আয়োজকরাও  প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

অল কেরালা গোল্ড অ্যান্ড সিলভার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে স্পন্সরশিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তারা ‘ওলোপ্পো’ অ্যাপে ১০০ কোটি টাকা তোলার চেষ্টাও করে। যার মধ্যে আর্জেন্টিনা দলের উপস্থিতির জন্য খরচ হিসেবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়।

তবে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি সফল হয়নি। যখন পরিকল্পনাটি আকর্ষণ অর্জনে ব্যর্থ বলে মনে হয়েছিল, তখন কেরালা সরকার স্পন্সরশিপ স্থানান্তরিত করে রিপোর্ট ব্রডকাস্টিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে তুলে দেয়।

মার্চে কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী কোঝিকোড়ে এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন, মেসি ২৫ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর, সাতদিনের জন্য রাজ্য সফর করবেন।

একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তার। পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে কথোপকথনের জন্য একটি সভামঞ্চে ২০ মিনিট সময় কাটানোর কথা বলা হয়েছিল কেরালা সরকারের তরফে।

যদিও এ মুহূর্তে মেসিসহ গোটা আর্জেন্টিনা দলের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন তামিম ইকবাল

তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির তিন অঙ্গসংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও চট্টগ্রামের সন্তান তামিম ইকবাল খানের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার (১০ মে)  বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে তামিম ইকবাল খানকে ‘বীর চট্টলার গর্বের সন্তান’ উল্লেখ করে তারুণ্যের সমাবেশে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এই সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, এই মহাসমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি তরুণ প্রজন্মকে তাদের রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়ে সচেতন করা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।