Home Blog Page 459

ভারতে গ্রোক ঝড়ে বিপাকে বিজেপি-আরএসএস

এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রশ্ন করলেই মিলছে এমন জবাব, যা দেশটির ক্ষমতাসীন কট্টরপন্থি বিজেপি-আরএসএস সরকারের মুখ বন্ধ করতে যথেষ্ট। এর প্রতিকারও বের করতে পারছে না। কারণ, এর পেছনে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মার্কিন ধনকুবের ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন ইলন মাস্কের। সূত্র: দ্য ওয়্যার

কথা হচ্ছিল উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট ‘গ্রোক-৩’ নিয়ে। ইলন মাস্কের সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে পারছেন। যে কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাই করতে পারছেন। গ্রোকের দাবি, এসব জবাব পুরোপুরি তথ্যনির্ভর। তবে এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো। এতদিন এসব সংগঠন যা দাবি করছিল, গ্রোক তার উল্টো উত্তর দিচ্ছে। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ‘বার ডান্সার’ ছিলেন কিনা– প্রশ্নে বলছে, তিনি বার অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন; ডান্সার ছিলেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মোদির ‘অনুপ্রবেশকারী’ মন্তব্যের জবাবে গ্রোক বলছে, এটা তিনি করেছেন ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’ জাগাতে।

ব্রিটিশদের কাছে সবচেয়ে বেশিবার কে ক্ষমা চেয়েছেন এবং কে তাদের কাছ থেকে মাসে ৬০ টাকা পেনশন নিতেন– এমন প্রশ্নে গ্রোক বলছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের কথা। একজন জানতে চান, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএসের ভূমিকা কী ছিল। উত্তরে বলা হয়, ‘গবেষণালব্ধ তথ্য অনুসারে আরএসএসের ভূমিকা ন্যূনতম অথবা শূন্য ছিল। কারও কারও দাবি– ভূমিকা ছিল, কিন্তু প্রমাণ দেখাচ্ছে তা অতি নগণ্য। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়ে থাকতে পারেন, তবে সংগঠন হিসেবে নয়।

বিজেপির অন্দর মহলে দাবি উঠছে, অবিলম্বে ‘গ্রোক-৩’ নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিন্তু সে দাবি মেনে সরকারের সক্রিয় হওয়াও সহজ নয়। কারণ এটি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের।

হামজাকে নিয়ে ভারতেও মাতামাতি

২০১৩ সালের সাফে পাকিস্তান দলে খেলেছিলেন ইংলিশ লিগের ক্লাব ফুলহ্যামে খেলা জেশ রহমান। তাকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়েছিল এর চেয়ে অনেক বেশি মাতামাতি এখন বাংলাদেশী হামজা দেওয়ান চৌধুরীকে নিয়ে।

লেস্টারসিটির গন্ডী পেরিয়ে হাজমা এখন প্রিমিয়ার লিগের পরের স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ফুটবলার। এরপরও তাকে ঘিরে উন্মদনার কমতি নেই। তা বাংলাদেশে যেমন, লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ ভারতেও তাই। ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের।

এই ম্যাচের জন্য গতকাল ভারত গেছে হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনী। সকালে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে ম্যাচের ভেন্যু মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে পৌঁছা। কলকাতা বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার উপরে ট্রানজিট ছিল বাংলাদেশ দলের। এই অল্প সময়ে জামাল ভূঁইয়ারা বিমানবন্দরের ভেতরেই ছিলেন। তবে এই সুযোগে হামজার সাথে ছবি তুলতে ভুল করেনি বিমানবন্দরে থাকা লোকজন। সেখানেই তারা ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলারটির সাথে নিজেদের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দী করেছেন। ট্রানজিট শেষে হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনী ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বিমানে চড়ে শিলংয়ে যায়।

ভারতের সেভেন সিস্টার্সের এই শহরে বাংলাদেশ দল পৌঁছার পর থেকেই চলেছে হামজাকে নিয়ে মাতামাতি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল লবিতে থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের নতুন প্রবাসী ফুটবলারটির পিছু নেয় ভারতীয়রা। হোটেল লবিতে এক ঘণ্টরও বেশি ছিল বাংলাদেশ দল। তখন লবিতে হামজার সাথে ছবি তুলেছেন হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাথে বিভিন্ন কর্মকর্তার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ছিল। জানান বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সবাইকে সম্মানসূচক বস্ত্র উত্তরীয় গলায় পরিয়ে দেয়।

গতকাল অবশ্য বাংলাদেশ দলের কোনো অনুশীলন ছিল না। আজ মাঠে নামবে জামাল-হামজারা।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ দল ২৩ ফুটবলারের বদলে ২৪ জনকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

সাধারণত ২৩ ফুটবলার নেয়ার নিয়ম। কেন এক খেলোয়াড় বেশি নিয়েছে দলের সাথে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। দলের সাথে ভারত যাওয়া হয়নি মিডফিল্ডারম আরিফ হোসেন, স্ট্রাইকার পিয়াস আহমেদ নোভা ও ডিফেন্ডার তাজউদ্দিন। নোভাকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার ভাবা হচ্ছে। মালদ্বীপের বিপক্ষে সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ খেলেছিলেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশকে মোকাবেলার আগে গত পরশু প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তাদের ৩-০ গোলে জয়। এর একটি গোল অবসর ভেঙ্গে ফেরা সুনীল ছেত্রীর। ম্যাচ শেষে ভারতের কোচ মানোলো মার্কুয়েজ বেশ সতর্ক উত্তর দিলেন বাংলাদেশ দল ও হামজা চৌধুরীকে নিয়ে।

তার মতে, ‘হামজা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডে গেলেও সেখানে সে নিয়মিতই খেলছে। সে অসাধারণ এক খেলোয়াড়।’

এরপর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তার বক্তব্য, বাংলাদেশ দল গত কয়েক বছর ধরে একই কোচের অধীনে বেশ ভালো খেলছে। আমার মনে হয় ম্যাচটি করোর জন্যই সহজ হবে না। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি কঠিন হবে।

ভারতে যাওয়া বাংলাদেশ দল : হামাজ চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, শাকিল আহাদ তপু, রহমত মিয়া, শাকিল হোসেন, ঈসা ফয়সাল, তারিক রায়হান কাজী, তপু বর্মন, সাদউদ্দিন, মোহাম্মদ হৃদয়, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানী, মো: সোহেল রানা, সোহেল রানা, চন্দন রায়, মজিবুর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, আল আমিন।

আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের রেকর্ড গড়া জয়

ক্রিকেট মানেই যেখানে অনিশ্চয়তার খেলা, পাকিস্তান যেন সেখানে একটু বেশিই রহস্যে ঘেরা। আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটা তো এমনি এমনিই জুটেনি। অকল্যান্ডেও তার ব্যক্তিক্রম কিছু ঘটেনি।

অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের করা ২০৪ রান ২৪ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১৬ ওভারেই দুই শতাধিক রান তাড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই প্রথম।

এমন দাপুটে জয় দেখে কে বলবে, এই দলটাই আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ধুঁকেছে। প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে গুটিয়ে যাবার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে ১৩৫ রান। হেরে যায় সেই দুটো ম্যাচেই। আর এবার যখন লক্ষ্য ২০৫ রানের। দেখা দেয় দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারের শঙ্কা।

সেই শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন হাসান-নাওয়াজ। সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে রানের খাতা খুলতে না পারা এই তরুণ ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই পৌঁছে যান তিন অংকের ঘরে! খেলেন ৪৫ বলে ১০৫ রানের ইনিংস।

হার না মানা এই ইনিংস খেলার পথে হাসান ভাঙেন পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। মাত্র ৪৪ বলে পৌঁছান তিন অংকের ঘরে। বাবরের দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ছিল ৪৯ বলে।

ওপেনার হারিসের সাথে তুলেন ৭৪ রান। ২০ বলে ৪১ রান করে ৫.৫ ওভারে আউট হন হারিস। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সালমান আগার সাথে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৩৩ রানের জুটি। যেখানে ৩০ বলে ৭৫ রানই তোলেন হাসান।

৩১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন আগা সালমান। তাতে মাত্র ১৬ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান। দুই শতাধিক রান তাড়ায় যা সবচেয়ে দ্রুততম জয়ের রেকর্ড।

এর আগে আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ২০৪ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন মার্ক চাপম্যান। ১৮ বলে ৩১ রান আসে ব্রেসওয়েলের ব্যাটে।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩, শাহিন আফ্রিদি, আব্বাস আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ নেন দুটো করে উইকেট।

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু

২০২৪ সালে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৮,৯৩৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয় না বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান মেলে না। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এপি।

আইওএম-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত বছর অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল ছিল এশিয়া, যেখানে ২,৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, যেখানে ২,৪৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে আফ্রিকা, যেখানে ২,২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩৪১ জন, ইউরোপে ২৩৩ জন এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন গিরিখাতে ১৭৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

আইওএম-এর মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রকল্পের সমন্বয়ক জুলিয়া ব্ল্যাক জানিয়েছেন, বাস্তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয় না এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ মেলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থসহায়তা সঙ্কটের কারণে আইওএম তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘জীবন রক্ষাকারী’ কর্মসূচির অনেকগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের লাখো অভিবাসী নতুন করে সংকটে পড়বেন। বিশেষজ্ঞরা এই গুরুতর অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

পাঁচ লাখের বেশি অভিবাসীর বৈধতা বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলা থেকে আসা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী বৈধতা বাতিল করতে যাচ্ছে। এই অভিবাসীদের থাকার অনুমতি ও বহিষ্কার সুরক্ষা বাতিল হবে আগামী ২৪ এপ্রিল। এর আগেই তারা যেন দেশটি ছেড়ে চলে যায়, সে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন ফেডারেল সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই বলা হয়েছে।

এই পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীকে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সিএইচএনভি নামক একটি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ দেয়া হতো। তবে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রোগ্রাম স্থগিত করেন।

অভিবাসীদের মধ্যে কতজন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য অন্য কোনো ভিসা বা আইনি অবস্থান অর্জন করেছেন, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া এই প্রোগ্রামটি প্রথমে শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলানদের জন্য ছিল। পরে প্রোগ্রামটি অন্যান্য দেশের জন্যও চালু হয়।

এই প্রোগামের আওতায় এসব অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছিলো এবং তাদেরকে দুই বছরের জন্য অস্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা বা প্যারোল দেয়া হয়েছিলো।

সিএইচএনভি প্রোগ্রামটি চালুর বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন কমাতে সহায়তা করবে। একইসাথে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন, এই প্রোগ্রামের আওতায় তাদেরকে আরো ভালোভাবে যাচাই করা যাবে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করেছে এবং জানিয়েছে, এই কর্মসূচি তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

সংস্থাটি থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাইডেন প্রশাসন অভিবাসীদের যুক্তারাষ্ট্রে চাকরির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রতারণার ঘটনা চিহ্নিত করা হলেও কর্মচারীদেরকে জোরপূর্বক এই কর্মসূচির প্রচার করতে বাধ্য করেছে এবং পরে অপরাধ বৃদ্ধির দায় রিপাবলিকানদের উপর চাপিয়েছে।’

তবে ফেডারেল রেজিস্টারের ৩৫ পৃষ্ঠার এক নোটিশে বলা হয়েছে, সিএইচএনভি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু ব্যক্তিকে বিশেষ বিবেচনায় থাকার অনুমতি দেয়া হতে পারে।

এদিকে, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়া প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনের নাগরিকদের অস্থায়ী বৈধতা বাতিল করা হবে কিনা সেই বিষয়েও বিবেচনা করতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ওই কর্মসূচির আওতায় হাইতি থেকে দুই লাখ ১৩ হাজার, ভেনেজুয়েলা থেকে এক লাখ ২০ হাজার ৭০০, কিউবা থেকে এক লাখ ১০ হাজার ৯০০ এবং নিকারাগুয়া থেকে ৯৩ হাজার অভিবাসীকে ভিসা দেয়া হয়েছিল।

জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর একাধিক অভিবাসী কর্মসূচি বাতিল করেছেন ট্রাম্প। যদিও তার বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি করা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক’

সংস্কার ও নির্বাচনকে যেভাবে মুখোমুখি করা হচ্ছে তা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক’ বলে মনে করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংস্কার এবং নির্বাচনকে দৃশ্যত যেভাবে মুখোমুখি করে ফেলা হয়েছে এটি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক।’

শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে পেশাজীবীদের সন্মানে এক ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা সংস্কার শেষ করার পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কথা বলছেন, তাদেরকে উদ্দেশে বলতে চাই, যেটি শেষ হয়ে যায় সেটি সংস্কার নয়। কারণ সংস্কার কখনো শেষ হয় না। সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দেশের বর্তমান সংবিধান যেটিকে ইচ্ছামতন কাটাছেঁড়া করে পতিত পলাতক স্বৈরাচার প্রায় তাদের দলীয় সংবিধানে পরিণত করে ফেলেছিল সেই সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২ দফায় লেখা রয়েছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার পরেও পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, বার বার সারা বিশ্ব দেখেছে বার বার জনগণের ভোট ছাড়াই গঠন করা হয়েছিল জাতীয় সংসদ। পলাতক স্বৈরাচার সংবিধান মানেনি।’

তিনি বলেন, ‘এই কারণে বিএনপি মনে করে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কেতাবি কিংবা পুঁথিগত সংস্কার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার এবং আচরণের ব্যবহারিক প্রয়োগ। জনগণের গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে কেবল সংস্কার টেকসই, সফল এবং কার্য্কর হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিশিষ্ট নাগরিক তথা সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা ও অবদান অনিস্বীকার্য। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির ভালো-মন্দের অনেক কিছুই নির্ভর করে রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির ওপর। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের ভূমিকা যত বেশি কার্য্কর থাকে রাজনৈতিক সরকারও তত বেশি দায়িত্বশীল এবং শক্তিশালী হয়।’

‘রাজনীতিকে যদি একটি সুসংগঠিত সুসংঘবদ্ধ ঘরের ছাদের সাথে আমরা তুলনা করি তাহলে খুব সম্ভবত সিভিল সোসাইটি এবং পেশাজীবীরা হচ্ছে সেই ঘরের খুঁটি বা পিলার। সুতরাং একটি রাষ্ট্রে রাজনীতিবিদ, সিভিল সোসাইটি এবং পেশাজীবীরা একে অপরের পরিপূরক।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গৌণ ইস্যুকে মুখ্য ইস্যু বানাতে গিয়ে নিজেদের অজান্তে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের মধ্যে সংশয়-সন্দেহের জন্ম দেয়া হয়েছে বা হচ্ছে। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবারো বলতে চাই, সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না যাতে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়।’

‘পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের হাতে এখনো রাষ্ট্র থেকে লুন্ঠন করা, জনগণের পকেট থেকে লুন্ঠন করা হাজার হাজার কোটি টাকা রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার হওয়ার অর্থ সারা দেশে ঘাপটি মেরে থাকা পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের

সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।’

তারেক বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের মাফিয়া শাসনকালে তরুণ প্রজন্মের প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভোটারসহ কেউ ভোট দিতে পারেনি। এসব ভোটারদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্যে সবার আগে প্রয়োজন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান।’

‘নাগরিক রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী না হলে কোনো সংস্কারই কিন্তু টেকসই হবে না।’

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

ইফতার অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শফিক রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এ এস এম ফায়েজ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ ও সৈয়দ আবদাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক, উলামা-মাশায়েখ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা এই ইফতারে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম পিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএম আবদুল হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে : হাসনাত

ক্যান্টনমেন্ট থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রজেক্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফেরানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার রাতে হাসনাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসব তথ্য জানান।

হাসনাত ওই পোস্টে বলেন, কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমিসহ আরো দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ বেলা আড়াইটায়। আমাদেরকে প্রস্তাব দেয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়, ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে- তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলে আপনি দেখবেন গত দুই দিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে আরো বলা হয়, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে। আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সঙ্কট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’। আলোচনার একপর্যায় বলি- যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘ইনক্লুসিভ’ ইলেকশন হবে না।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি উত্তরে বলি, ‘আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সঙ্কট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে’। পরে- মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়। জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেককিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের উপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সাথে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি। আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারো আপনাদের উপরেই ভরসা রাখতে চাই।

ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পরে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী প্রেসারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে। হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোন ধরনের আপস করার সুযোগ নাই। জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সব প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারো যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারো এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব। আসুন, সব যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিবো না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।

আ’লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহতে এনসিপির অঙ্গীকার

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার অঙ্গীকার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ সময় বিচার, অনুশোচনা, পাপমোচন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে যেকোনো তৎপরতা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এই মাফিয়া গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবিলম্বে জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী রেজিমির সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। আমরা তার এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম, ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এনসিপি মনে করে, বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছি- কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপ মোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল। এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চয়তা চায়।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আক্তার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

সূত্র : ইউএনবি

গাজা উপত্যকায় তিন দিক থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর স্থল অভিযান

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী তিনটি প্রধান ফ্রন্টে তাদের স্থল অভিযান ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় সূত্র ও সরকারি বিবৃতির ভিত্তিতে জানা গেছে যে সেনাবাহিনী নেটজারিম অক্ষ (মধ্য গাজা), রাফাহ শাবুরা শরণার্থী শিবির (দক্ষিণ গাজা) এবং বেইত লাহিয়া (উত্তর গাজা) অঞ্চলে আক্রমণ চালাচ্ছে।

নেটজারিম অক্ষ : গাজাকে বিভক্ত করার কৌশল

ইসরাইলি বাহিনী নেটজারিম অক্ষে ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। গাজার পূর্ব সীমান্ত থেকে সালাহ আল-দিন স্ট্রিটের দিকে অগ্রসর হয়ে তারা গাজার প্রধান উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এরপর পশ্চিম দিকে হামলা চালিয়ে উপকূলীয় রশিদ স্ট্রিটে অতিক্রমের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর ফলে গাজা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বরের গোড়ার দিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই নেটজারিম অক্ষ তৈরি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল গাজা শহর ও উত্তরের অঞ্চলকে মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এটি গাজার পূর্ব সীমান্ত থেকে পশ্চিম উপকূলরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই অক্ষ থেকে সরে আসে।

রাফাহ অক্ষ : শরণার্থী শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞ

একই সময়ে মধ্য গাজায় স্থল আক্রমণ চালিয়ে ইসরাইলি বাহিনী ফিলাডেলফিয়া অক্ষ বরাবর সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। তারা রাফাহ শহরে স্থল অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে শাবুরা শরণার্থী শিবিরে প্রবেশের দাবি করেছে। অভিযানের সময় বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

ফিলাডেলফিয়া অক্ষটি দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকাকে ঘিরে রেখেছে। যদিও শাবুরা এলাকায় সেনাবাহিনীর গতিবিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে, তবুও সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।

বেইত লাহিয়া অক্ষ : উত্তর গাজায় সহিংসতা

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বাহিনী উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার উপকূলরেখা বরাবর তৃতীয় স্থল অভিযান শুরু করে। এর সাথে গাজার বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার সকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বেইত লাহিয়ায় প্রবেশ করে এবং সেখানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনা করে। একই সঙ্গে ভারী গোলাগুলি ও কামানের গোলাবর্ষণ চলে।

উত্তর গাজার বিশাল অংশ বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চলমান অবরোধের কারণে খাদ্য ও মৌলিক চাহিদার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে, যার ফলে বহু বেসামরিক নাগরিক দুর্ভিক্ষ ও চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন।

মানবিক সঙ্কটের তীব্রতা

ইসরাইলি বাহিনীর এই সামরিক অভিযানের ফলে গাজার হাজার হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অবরোধের ফলে মানবিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। বেসামরিক জনগণ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।

গাজার জনগণ ইসরাইলি আক্রমণের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে, যা একটি চরম মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করছে।

সূত্র : ওয়াফা নিউজ এজেন্সি

হাসিনাসহ আ’লীগের দেড় শতাধিক মন্ত্রী-এমপি দুদকের মামলাজালে

ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ দেড় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ছাড়াও কয়েকজন আমলা রয়েছেন। গত সাত মাসে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবারও অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও তার পবিবারের বিরুদ্ধে তিনটি এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

মামলার বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো: আক্তার হোসেন বলেন, প্রতিটি মামলারই দুদকের বিধি বা আইন অনুযায়ী যথাসময় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ আড়াই শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। অনেকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মামলা করা হয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অপর দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক তা জনগণ প্রত্যাশা করে। কাউকে ছাড় না দিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তা হলে দুদক নিয়ে আবার মানুষের হতাশা বাড়বে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তাদের পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে জানুয়ারি মাসে ৯টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

এ ছাড়া জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, বিদেশে টাকা পাচার, টাকা আত্মসাৎ ও জালজালিয়াতির ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর তার পরিবার ও তার শাসনামলের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৩০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান ও মামলা ছাড়াও দুদক বিতর্কিত ব্যবসায় গ্রুপ এস আলম, বেক্সিমকোসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করেছে। গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরসহ পাঁচজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে।

হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

তথ্য গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গত ১৪ জানুয়ারি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। একই অভিযোগে শেখ রেহানা ও তার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক (রূপন্তী) এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের (ববি) বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এই তিন মামলায় রেহানার আরেক মেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রেহানার বোন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়।

তিনটি বিমানবন্দরের চার প্রকল্পে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এই অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়। এ ছাড়া তার সূচনা ফাউন্ডেশন ও আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। পাশাপাশি গাজীপুরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বাগানবাড়ি নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধান শেষে গত বৃহস্পতিবার সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

এই মামলার একটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসভুক্ত ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ৩৩ কোটি টাকা সহায়তার নামে আত্মসাতের অভিযোগে এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।

গতকাল আরো এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমু, তার শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। লন্ডনে ৭৬ কোটি টাকা পাচার ও ঋণের ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে বেক্সিমকো এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৩ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

গত ৪ মার্চ সাবেক মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ৫ মার্চ সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার স্ত্রী হাসিনা গাজীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও তার স্ত্রী আইরিন মালবিকা মুনশির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৯ মার্চ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে সন্দেজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী ডা: মো: এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১২ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৪৫০ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: ওমর ফারুক চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

গত ১৪ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল ও সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলায় মেহের আফরোজ চুমকির স্বামী ও শেখ হেলালের স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রায় ১২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

গত ১৮ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রী নিলীমা দাসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুদক প্রথম মামলা করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর আগে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত প্রায় ৯ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার স্ত্রী মোছা: হোসনে আরা বেগম এবং তাদের ছেলে মো: রাকিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ছাড়াও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ একাধিক আমলা ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধ মামলা দায়ের করেছে দুদক।

দুদকের সূত্র বলছে, গত বছর প্রায় ১৬ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮০ ভাগ অভিযোগ এসেছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৫ বছরে বড় বড় প্রকল্পেও দুর্নীতি হয়েছে।