Home Blog Page 460

অস্কার জিতল ইরানি অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম ‘ইন দ্য শ্যাডো অফ সাইপ্রেস

হোসেইন মোলায়েমি এবং শিরিন সোহানি পরিচালিত ইরানি শর্ট অ্যানিমেশন মুভি ‘ইন দ্য শ্যাডো অব সাইপ্রেস’ ২০২৫ সালের সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্মের জন্য অস্কার জিতেছে। ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই বিভাগে প্রথমবারের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৭তম আসরে ২০ মিনিটের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পুরস্কার পায়। এটি ইরানি ইনস্টিটিউট ফর দ্য ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অফ চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডাল্টস-এর একটি প্রযোজনা।

ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ‘ইরনা’র উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

দুই ইরানি পরিচালক অস্কারে উপস্থিত থাকার কথা ছিল না কিন্তু তারা শেষ মুহূর্তের ভিসা পেতে সক্ষম হন এবং অনুষ্ঠানের মাত্র তিন ঘণ্টা আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেন।

ইরানি অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম ‘ইন দ্য শ্যাডো অফ সাইপ্রেস’-এর একটি দৃশ্য।

এর আগে, ২০২৮ সালে ২১ থেকে ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১২তম পোর্টল্যান্ড ফেস্টিভ্যাল অব সিনেমা, অ্যানিমেশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (পিএফসিএটি) শর্ট ফিল্মটি এই দুই পুরস্কার জিতেছে।

ইন্সটিটিউট ফর দ্য ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়াং অ্যাডাল্টস (কানুন নামে পরিচিত) প্রযোজিত অ্যানিমেশন মুভিটি শর্ট অ্যানিমেশন বিভাগে সেরা টু-ডি অ্যানিমেটেড শর্ট এবং বেস্ট স্কোর বিভাগে দু’টি রৌপ্য পুরস্কার জিতেছে।

এছাড়া, এলএ শর্টস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, লেবু ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ট্রিবিকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে ‘ইন দ্য শ্যাডো অব সাইপ্রেস’ ফিল্মটি।

এটি ভেনিস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, অ্যানি অ্যাওয়ার্ডস, অ্যানেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ক্লারমন্ড ফের্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একাধিক মনোনয়ন অর্জন করে বেশ প্রভাব ফেলেছে।

সূত্র : বাসস

চলতি বছরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কাইপ

অডিও-ভিডিও কলিং পরিষেবা সংস্থা স্কাইপ আগামী মে মাস থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

স্কাইপ একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছিল। এটি ব্যবহার করে মানুষ কম্পিউটারের মাধ্যমে সারা বিশ্বে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সাথে বিনামূল্যে ভয়েস কল করতে পারত।

ওই সময় স্কাইপের মতো আরো বেশ কিছু পরিষেবা ছিল। কিন্তু জনসাধারণকে বিনামূল্যে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার কারণে এটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক ঘোষণায় স্কাইপ জানায়, ব্যবহারকারীরা ‘মাইক্রোসফ্ট টিমসে’ সাইন ইন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত চ্যাট ও অন্যদের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারবেন।

এ বিষয়ে মাইক্রোসফট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

স্কাইপ ২০০৩ সালে চালু হলেও পরে ২০১১ সালে আট দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। সে সময়ে সবচেয়ে বেশি দামে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কেনার ঘটনা ছিল।

সূত্র : বিবিসি

রুয়েটে আজীবন বহিষ্কার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ ৪ জন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের ছাত্রত্ব আজীবনের জন্য বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে আরো ৪৪ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪২ জনকে হল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার এবং দু’জনকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিস্কার করা হয়।

রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক ও ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন- নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রুয়েট শাখার সভাপতি ও পুরকৌশল বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ফাহমিদ লতিফ লিয়ন, সাধারণ সম্পাদক ও সিএসই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সৌমিক সাহা, ছাত্রলীগ কর্মী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী শাশ্বত সাহা সাগর এবং পুরকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী মৃন্ময় কান্তি বিশ্বাস।

অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রুয়েট প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সব অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে অর্ডিন্যান্স রয়েছে সেটির ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য চার শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও ৪২ জনকে আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা করা হয়। গত বছরের ১৯ আগস্ট অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘৪২ জনের মধ্যে রুয়েটের প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম রহমান নিবিড়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ডাটা প্রসেসর মো: মহিদুল ইসলাম, শিক্ষা শাখার সাব-এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার একেএম আনোয়ারুল ইসলামকে চাকরি থেকে বহিস্কারসহ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রুয়েটের সংশ্লিষ্ট ফোরামে অনুরোধ করা হয়েছে।’

গত বছরের ১৯ আগস্ট অভিযানের সময় ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে অস্ত্র ও মাদকসহ নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি পাওয়া যায়। এছাড়াও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় দু’জনকে চার সেমিস্টার বা দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।

ভারত থেকে সাড়ে ১০ হাজার টন চাল নিয়ে জাহাজ পৌঁছেছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ভারত থেকে আমদানিকৃত ১০ হাজার ৫০০ টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ভিসিটি ওশেন জাহাজটি।

আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের (প্যাকেজ-০৩) আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত ১০ হাজার ৫০০ টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ভিসিটি ওশেন জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষে আজই খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস

কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিকমানের নবনির্মিত এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে রঙ-বেরংয়ের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামের আঙ্গিনা।

এদিন ক্রীড়া উপদেষ্টা সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ জামে মসজিদ সম্প্রসারণ কাজের ফলক উম্মোচন করবেন। দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মাঠে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যোগ দেবেন। দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভায় অংশ নিবেন।

কুষ্টিয়া নবনির্মিত বিশালাকার স্টেডিয়ামে বিশালাকার মাঠ এবং রঙিন গ্যালারি ভিন্ন এক রূপ নিয়েছে। জেলার ক্রীড়াবীদ ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের মাঝে আনন্দ উল্লাস দেখা গেছে।

কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রতিক্ষিত নতুন স্টেডিয়ামের মাধ্যমে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রসার ও ব্যপ্তি ঘটবে সেই সাথে জাতীয় ও আন্তার্জাতিক খেলাধুলার ভেন্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেল। ৪০ কোটি এক লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি নবনির্মিত স্টেডিয়ামের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

সাড়ে আট হাজার দর্শক ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামে চারতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন, দু’টি প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুম, অফিস কক্ষ, প্রেসিডেন্ট বক্স, ভিআইপি বক্স ও ভিআিইপি গ্যালারি খেলার মাঠের পরিচর্যার জন্য একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আরসিসি ড্রেন ও গার্ড ওয়ালসহ গ্রীল ফেন্সিং রয়েছে। ১৪০ জন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ভিআইপি গ্যালারি, প্রেসকর্ণার। এছাড়া স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ও ফুটবল মাঠ রয়েছে। স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক সেই সাথে মূল মাঠ সুন্দর কাঠামোতে করা রয়েছে।

গতকাল দুপুরে নবনির্মিত স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) যুগ্ম সচিব আজমুল হক। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভির রহমান, ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।

মুশফিকের অবসরের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে মুশফিকুর রহিমের দেয়া পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’

‘আজকের মত ওডিআই ফরম্যাটের অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি।’

‘সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। যদিও আমাদের অর্জন বৈশ্বিক পর্যায়ে সীমিত ছিল, একটা জিনিস নিশ্চিত: যখনই আমি দেশের জন্য মাঠে নামলাম, আমি ১০০% এর বেশি দিয়েছি নিষ্ঠা ও সততার সাথে।’

‘গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, এবং আমি বুঝতে পেরেছি যে এটাই আমার নিয়তি। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেন: “ওয়া তু’ইজ্জু মান তাশা’ ওয়া তু’যিলু মান তাশা’”- “এবং তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। ” (৩:২৬)’

‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং সবাইকে সঠিক ইমান দান করুন।’

‘অবশেষে, আমি আমার পরিবার, বন্ধু এবং আমার ভক্তদের গভীরভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই যাদের জন্য আমি গত ১৯ বছর ধরে ক্রিকেট খেলেছি।’

‘জাযাকাল্লাহ খাইরান।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘যেকোনো ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে চীন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক বাড়ানোর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে চীন। দেশটি বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তারা।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তি এখন বাণিজ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সব ধরনের চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চীনও দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্যের ওপর ১০-১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে এক্স-এ এক পোস্টে বলেছে, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায়- সেটি শুল্ক যুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ বা অন্য যেকোনো ধরনের যুদ্ধ- আমরা চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি চীনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্ত বক্তব্য। এটি এলো এমন এক সময় যখন বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উদ্বোধনের জন্য শীর্ষ নেতারা বেইজিংয়ে সমবেত হচ্ছেন।

বুধবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আবারো প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

বেইজিংয়ে নেতারা চীনের জনগণকে একটি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছেন যে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি সত্ত্বেও দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় স্থিতিশীল ও শান্ত ভাবমূর্তি দেখাতে আগ্রহী। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করে থাকে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছে তার সুবিধা নেয়ার বিষয়েও আগ্রহী তারা।

মঙ্গলবার চীনের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, তারা আরো উন্মুক্ত হওয়া অব্যাহত রাখবে এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

সূত্র : বিবিসি

আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদের গণ-ইফতারে হাজারো রোজাদার

কেউ সারিবদ্ধ হয়ে আবার কেউ গোল হয়ে বসে আছেন। সবার সামনে রাখা আছে নানা পদের খাবারে সজ্জিত ইফতারি। একদল স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে দিচ্ছেন ইফতারির ছোট প্লেট-বড় প্লেট। কয়েকজন হরেক রকমের মগে শরবত ও পানি এগিয়ে দিচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ একে অপরের পরিচিত আবার অনেকে অপরিচিত। ধনী গরিব সব বিবেধ ভুলে সবাই সমবেত হয়েছেন সারা দিন রোজা রেখে একসাথে ইফতার করতে। চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে একসাথে হাজার হাজার মানুষের ইফতারের দৃশ্য এটি।

আসরের নামাজের পর থেকে মসজিদের দিকে ছুটে আসেন রোজাদাররা। আসরের নামাজ পড়ে কেউ ব্যস্ত থাকেন কুরআন তিলাওয়াতে আবার কেউ বসে দুরুদ পাঠ করেন। এরপর বিকেল ৫টার দিকে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। ছাত্র থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজের অনেক প্রতিষ্ঠিত মানুষের পাশে ভিক্ষুক, রিকশাওয়ালা, হকারসহ নানা বয়সীরা একসাথে বসে পড়েন। স্বেচ্ছাসেবকরা শুরু করেন ইফতারি বিতরণ। জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে এভাবেই ইফতারের আয়োজন শুরু হয় মসজিদটিতে। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয় বড় আকারে মক্কা-মদিনার আদলে গণ-ইফতার। এখন রোজার শুরুর দিকে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ এখানে নিয়মিত ইফতার করেন। রমজানের শেষ দিকে সেই সংখ্যা চার হাজারে পৌঁছায়। এখানে ইফতারসামগ্রীর মধ্যে থাকে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, শরবত, জিলাপি, আলুর চপ, সমুচা, অন্থন, পেঁয়াজু ইত্যাদি। সকাল থেকে এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন বাবুর্চিরা।

আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসুল স. হজরত মাওলানা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি এই মসজিদে খতিব নিযুক্ত হই ১৯৯৬ সনে। মক্কা-মদীনায় যেভাবে রোজাদারদের ইফতারের ব্যবস্থা থাকে আমি এই মসজিদে সেটা চালু করার স্বপ্ন দেখি। ১৯৯৭ সালে প্রাথমিকভাবে শুরু করে ২০০১ সালে এটি পরিপূর্ণ ইফতার মাহফিল হয়ে উঠে। পর্যায়ক্রমে এটি এখন গণ-ইফতারে রুপ লাভ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি যেদিন এই দুনিয়ায় থাকবো না, সেদিনও যাতে এই ইফতার মাহফিল অব্যাহত থাকে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি সেই অনুরোধ রইলো।’

খতিবের ব্যক্তিগত সহকারী মুহাম্মদ হাছান মুরাদ জানান, রোজা শুরু প্রথম কয়েক দিন মানুষ কম হলেও রোজা বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বৃদ্ধি পায়। এখানে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হয় ইফতারি। টাটকা ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারি যাতে সবাই খেতে পারেন সেই চেষ্টা করা হয়। মূলত আমাদের এই আয়োজনে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি সহায়তা করেন। তবে তারা নাম প্রকাশ করেন না। সবাই সওয়াবের উদ্দেশে ইফতার আয়োজনে শরিক হন। দানশীল ব্যক্তিরা ইফতারসামগ্রী দিয়ে যান। আমরা মসজিদের পেছনে ১০ থেকে ১২ জন বাবুর্চি দিয়ে সেসব রান্না করে পরিবেশন করি। তিনি জানান, ‘প্রথম রোজার ইফতারে স্বয়ং খতিব সাহেব হুজুর উপস্থিত ছিলেন। এদিন আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মুসল্লি পরিষদের সাবেক সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।’

মসজিদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজল আহমদ হারুন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের মসজিদে প্রতিদিন শত শত মানুষের ইফতারির আয়োজন হয়। এটা এই মসজিদের ঐতিহ্য। খতিব সাহেব এটা চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জ থেকে অনেক মানুষ শহরে কাজকর্ম সারতে আসেন, তারাও এখানে ইফতার করেন।

দারুল হিকমাহ লাইব্রেরির মালিক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এভাবে এত মানুষের সাথে ইফতার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বাড়ায় । মানুষে মানুষে ভালোবাসা বাড়ায়। এ আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।’ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিল রিকশা-শ্রমিক ও দিনমজুরদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। খেটে খাওয়া মানুষ সন্ধ্যা হলেই এখানে চলে আসেন। এখানে ধনী-গরিব সব মানুষ একই সারিতে বসে ইফতার সারেন। এই দৃশ্য অনিন্দ্য সুন্দর।’

প্রসঙ্গত, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ চট্টগ্রামসহ তার আশপাশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসার মসজিদে রূপ নেয়। বিশেষ করে জুমআর নামাজ পড়তে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিরা উপস্থিত হন। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের স্থাপত্য ও গঠন মোগল রীতি অনুযায়ী তৈরি। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে ছোট্ট পাহাড়ের ওপর মসজিদটির অবস্থান। চট্টগ্রামে মুসলিম বিজয়ের স্মারকস্বরূপ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদটি। এটির প্রতিষ্ঠাকাল ১০৭৮ হিজরি।

উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক সি আর আবরার

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সি আর আবরার।

বুধবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে, মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার কথা জানান।

তিনি জানান, অধ্যাপক সি আর আবরারকে শিক্ষা উপদেষ্টা করা হতে পারে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

নতুন একজন উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা হবে ২৩ জন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। এবার আরেকজন নতুন উপদেষ্টা দায়িত্ব পাচ্ছেন।

হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার হবেই, কোনো সন্দেহ নেই: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু হাসিনাই নয়, তার সহযোগীদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্কাই নিউজের এশিয়া অঞ্চলের সংবাদদাতা কর্ডেলিয়া লিঞ্চ।

ড. ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ও তার সহযোগীদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কারণ সব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। যদিও সে এখন বাংলাদেশে নেই, প্রশ্ন হচ্ছে আমরা তাকে বাংলাদেশে আনতে পারব কি না। সেটি নির্ভর করছে ভারত ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর। আমরা ইতোমধ্যে ভারতকে বলেছি তাকে ফেরত দিতে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক তার বিচার হবেই।

‘আউসটেড পিএম শেখ হাসিনা উইল স্ট্যান্ড ট্রায়াল ফর ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি, বাংলাদেশ’স ইন্টেরিম লিডার সেইজ’- শিরোনামে স্কাই নিউজের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কেননা হাসিনার বিরুদ্ধে তার শাসনামলে জোরপূর্বক গুমে জড়িত থাকার এবং জুলাই-আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার বিচার হবে কি না এমন প্রশ্নের অবকাশই নেই। তার বিচার হবেই, সেটি তার উপস্থিতিতেই হোক কিংবা অনুপস্থিতিতে। শুধু হাসিনাই নয়, তার সাথে জড়িত সবারই বিচার হবে। তার পরিবারের সদস্য, ক্লায়েন্ট, তার সহযোগী, অলিগার্ক যারা তাকে সহায়তা করেছে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দু’টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক, তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবেই।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আশা করব তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এটা একটি আইনি বিষয়। আইনগতভাবে তাকে যদি ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয়, আন্তর্জাতিক আইন তাদের (ভারত) নির্দেশনা দেবে। আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী। ভারতের কাছে আমরা হাসিনাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি।

ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব কি না এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেননি তিনি। বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হওয়ায় সময় লাগছে।

ইউনূস জানান, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী কণ্ঠ দমনে বন্দিশালা আয়নাঘরে চলে অমানবিক নির্যাতন। এর বীভৎসতা সবাইকে শুধু হতবাকই করেনি নৃশংসতার চরম পর্যায়কে তুলে ধরেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোনো মানুষ আরেকজন মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করতে পারে তা কল্পনার বাইরে। এসব বিষয় দেখে হতবাক বললে তা বলতে হয় খুবই নরম শব্দ। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে তাদের কাছে আমি তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। এগুলো হচ্ছে সবচয়ে নোংরাতম জঘন্য কাজ, যা আপনি সেখানে দেখতে পাবেন তা সবচেয়ে বীভৎস কোনো বিষয়।

যারা এসব নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেকে দেশ থেকে পালিয়েছে; কিন্তু নির্যাতনের সাথে জড়িতদের অনেকে এখনো তৎপর, তাদের সবাইকে কেন এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, প্রত্যেকে এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এ ধরনের গুম, হত্যা, নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিল। ক্যান্টনমেন্টের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এলাকায় এসব আয়নাঘরে নির্যাতন চলত। পুলিশ, সেনাবাহিনী এতে জড়িত ছিল। কেউ ভয়ে এসব বলতে চাইত না। আপনি চাইলেও পার্থক্য করতে পারবেন না কে অতি উৎসাহী হয়ে ওই কাজ করেছে বা কে আদেশ পালন করেছে। জুলাই-আগস্ট মাসের বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার জন্য শেখ হাসিনার সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরাও অভিযুক্ত। জাতিসঙ্ঘের অনুমান হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসব আয়নাঘর উন্মোচন করেছি এবং জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারা নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের পার্থক্য করে বিচারের মুখোমুখি করতে সময় লাগছে।

যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে তাদের স্বজনরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের কাছ থেকে এ হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের বিচার পাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। আমরা গ্যারান্টি দিতে পারছি না। কারণ আমরা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে এসেছি। বিচারে আইনগত প্রক্রিয়া খুবই ধীরগতির। আমরা খুব দ্রুত এটা করতে পারছি না; কিন্তু আমরা কারা জড়িত তা চিহ্নিত করছি। তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেককে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা আমাদের চেষ্টার সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করছি। আমাদের মেয়াদের সময় যতটা সম্ভব আমরা করব, বাকিটা একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছি যাদের পরবর্তী সময়ে যাতে বিচার করা সম্ভব হয় এবং এভাবে তাদের বিচারের কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের সংখ্যা এবং পরিসর বিবেচনায় নিয়ে বিচারে সময় নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইউনূস। তিনি বলেন, হাসিনার পুরো সরকারই এই অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

অধ্যাপক ইউনূস ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দোষীদের বিচারের প্রক্রিয়া তার আমলে শেষ হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া স্কাই নিউজকে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, কোনো কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে, কারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে, কিছু থাকবে পলাতক।

প্রশ্ন করা হয়- শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা উচিত কি না? জবাবে ইউনূস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। বিষয়টি আইনগত। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হওয়ার পাশাপাশি সে ব্রিটিশ নাগরিক।

টিউলিপের দুর্নীতির অভিযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা উচিত কি না এ প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। দুর্নীতি দমন কমিশন যথেষ্ট গুরুত্বের সাথেই কাজটি করছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ছে। তার বিরুদ্ধে যে মামলাটি রয়েছে তা গুরুতর। দেশে তার নামে প্রচুর সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। যার সবকিছুই ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সীমান্ত সেনাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখনো প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে ঢুকে পড়ছে। সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অনেকটা পদ্ধতিগতভাবেই বাংলাদেশে ছুটে আসছে। তাদের সংখ্যা নির্ধারণের জন্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, মাদক চোরাচালান ছাড়াও প্যারামিলিটারি ধরনের তৎপরতা বাড়ছে। এগুলো সহজ বিষয় নয়। এ জন্য আমরা চাই একটা সেফজোন নিশ্চিত করতে। মানবিক একটা করিডোরের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে আমরা তা চাই। আমাদের ভূখণ্ডে যেমন আমরা তাদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছি, তারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সে জন্য সেখানেও তাদের জন্য একটা সেফজোন তৈরি করা প্রয়োজন।

ইউনূস বলেন, মিয়ানমারের বিদ্রেহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেয়া যায়। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চল যে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে তা স্বীকার করে ইউনূস বলেন, কক্সবাজার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবিরের একটি। যেখানে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণাথী আশ্রয় নিয়েছেন।