Home Blog Page 461

‘সন্দেহজনক’ আউট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিসিবি

ম্যাচে চলছে তখন ৪৪ তম ওভার। শেষ উইকেটে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ৭ রান। স্ট্রাইকে থাকা মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বসেন। এতটুকু পর্যন্ত ঠিক আছে। তবে এর পর সাব্বির যেটা করেছেন তা নিয়েই আলোড়ন তৈরি হয়েছে গোটা ক্রিকেট মহলে।

বল মিস করার পর আউট থেকে বাঁচতে ব্যাটটি পপিং ক্রিজে ঢুকিয়েও রহস্যজনকভাবে বাইরে এনে রাখেন সাব্বির। আর তাতেই শাইনপুকুরকে হারতে হয়েছে ৫ রানে। সাব্বিরের এমন সন্দেহজনক আউট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা ক্রিকেট পাড়ায়। আজ ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সেই আউটকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি)।

বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০২৪-২৫-এর গুলশান ক্রিকেট ক্লাব এবং শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে উদ্বেগের বিষয়টি অবগত আছে বোর্ড। বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট এবং লীগের টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যেই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিসিবি খেলার অখণ্ডতা বজায় রাখার এবং ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো ধরণের দুর্নীতি বা অসদাচরণের প্রতি বোর্ডের শূন্য-সহনশীলতা নীতি রয়েছে বলেও জানানো হয়।

তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

ইনজুরি কাটিয়ে মেসির জোড়া গোল, ভক্তদের ভাষায় ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’

ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছিল ইনজুরির সময়টা। বাড়ছিল ভক্তদের অপেক্ষাও। সবুজ ঘাসের গোল বলটাও যেনো মিস করতে শুরু করেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে। অবশেষে মাঠে ফেরার গানে শুধু সাড়াই দেননি এলএমটেন। ৩৭ বছর বয়সে ইনজুরি থেকে দুই মাস দুই দিন পর ফিরে জোড়া গোলে রিতিমত মাতালেন মঞ্চ, মেজর লিগে রেকর্ড গড়ে পেলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ভক্তদের ভাষায়, ‘দ্য কিং ইজ ব্যাক’।

ম্যাচের শুরুতেই অ্যারন লং যখন গোল করলেন, ইন্টার মায়ামি তখন খাদের কিনারায়। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া দলের সামনে তখন দুই গোল ফিরিয়ে দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ। লিওনেল মেসি নামের জাদুকর আছে যে দলে, তাদের জন্য অসম্ভব বলে তো কিছু নেই! ৩৭ বছর বয়সেও সেরা সময়ের ছবি মেলে ধরে সেই চ্যালেঞ্জ জিতেই ইন্টার মায়ামিকে সেমি-ফাইনালে তুললেনে আর্জেন্টাইন মহানায়ক।

কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লস অ্যাঞ্জেলস এফসিকে ৩-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় মেসির দল পৌঁছে গেল শেষ চারে।

জোড়া গোল করে সেই জয়ের নায়ক মেসি। পিছিয়ে থাকা দলের আশা ফেরে তার গোলে, পরে জয়সূচক গোলও আসে তার পা থেকে।

প্রথম লেগে লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে ১-০ গোলে হেরে আসা মায়ামি দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে আরও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের নবম মিনিটেই। জটলার মধ্য থেকে মায়ামির রক্ষণের ভুলে নবম মিনিটে গোল করেন অ্যারন লং।

৩১তম মিনিটে চকিতে ফ্রি-কিক নিয়ে সরাসরি বল জালে পাঠান মেসি। মায়ামি মেতে ওঠে উল্লাসে। তবে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার উগো লরিস ও অন্যরা কেউ তখনও প্রস্তুতই ছিলেন না। তাদের দাবির মুখে ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি।

তবে মিনিট চারেক পরই সমতায় ফেরে মায়ামি। লুইস সুয়ারেসের টোকায় বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকেই আচমকা শট নেন মেসি। তার বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কোনাকুনি শট আশ্রয় নেয় জালে।

মায়ামির দ্বিতীয় গোলটি ছিল অদ্ভুত। ৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলমুকে আলতো করে চিপ করেন নোয়াহ অ্যালেন। তার সতীর্থ ফেদেরিকো রেদোন্দো ছুটে গিয়েও বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি, তবে উড়ন্ত বল ধরতে এগিয়ে এসে ফ্লাইট বুঝতে পারেননি লস অ্যাঞ্জেলসের গোলকিপার লরিসও। বল মাটিতে পড়ে ঢুকে যায় জালে।

৮২তম মিনিটে মায়ামির কর্নার থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের গোলমুখে জটলার মধ্যে হ্যান্ডবলের আবেদন তোলেন মেসিরা। ভিএআর দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, মার্ক দেলগাদোর হাতে লেগেছে বল। থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া পেনাল্টিতে গোল করেন মেসি।

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দফায় বড় বিপদ থেকে মায়ামিকে রক্ষা করেন গোলকিপার অস্কার উস্তারি। শেষ বাঁশি বাজতেই খ্যাপাটে উদযাপনে মেতে ওঠেন মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো।

মাগুরায় ছাত্রদলের আহবায়ক চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সি কে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়  কেন্দ্রীয় সংসদের  সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মাগুরা জেলা  শাখার অধীনস্থ শ্রীপুর উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মুন্সি ইয়াসিন আলী সোহেলকে  কে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো এবং ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের তার ৎেকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার ও নির্দেশ দেন।

মাগুরা  শ্রীপুর উপজেলার আহবায়ক সোহেল মুন্সির  বিরুদ্ধে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফয়জুর রহমান নামে এক স্কুলশিক্ষক হুমকির মুখে ওই শিক্ষকের এখন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এমন সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশিত হলে উর্ধতন নেতৃবৃন্দের নজরে আসে এবং জেলা ছাত্রদল সোহেল মুন্সি কে একটি কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন এবং নোটিশে বলা হয় আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষ জনক জবাব দিতে বলা হয়।

নোটিশের সঠিক জবাব না পাওয়ায় এবং চাঁদা,সরকারি জমি দখল,সরকারী গাছ কাটা সহ সকল ধরনের অপরাদ প্রাথমিক  প্রমানিত  হওয়ায় জেলা কমিটি শ্রীপুর  উপজেলা আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী  সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করে। তারই প্রেক্ষিতে ২৭/০৪/২৫ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেল মুন্সিকে  সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেন।

দলের সাথে গড়ে তুলছে সুসম্পর্ক জাকির খান

বিএনপির বাঘ বলতেই নারায়ণগঞ্জবাসির প্রথমেই মাথায় আসে জাকির খান,জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ধীরে ধীরে দলের দিকে ঝুকে পড়ছে তিনি।

এরই মাঝে কেন্দ্রীয় নেতাদের  অন্তরে জায়গা করে নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত জাকির খান।

এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান।

 

ইরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২৫, আহত ৮০০

ইরানের বন্দর আব্বাসের শহিদ রাজি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দেশটির সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বন্দরে বিশাল এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হরমুজগান প্রদেশের বিচার বিভাগের প্রধান মোজতবা গাহরেমানির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ২৫। সংবাদসংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আহতদের শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদ রাজি বন্দরে এখনও ঘন ধোঁয়া উড়ছে। গতকাল বিস্ফোরণের পরপরই অনেকে ধারণা করতে থাকেন সেখানে নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখপাত্র হোসেন জাফারি জানিয়েছেন, নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি।

তিনি বার্তাসংস্থা আইএলএনএ-কে জানিয়েছেন, কনটেইনারের ভেতর থাকা রাসায়নিক বস্তুর কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জাফারি জানান, বিস্ফোরণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেগুলোতে বিশ্বাস না করে সরকারি তথ্যের জন্য সবাইকে অপেক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সেখানে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রকৃত হতাহতের তথ্য জানা যাবে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আশেপাশের ভবনের ছাদ, জানালা উড়ে গেছে। পুড়ে গেছে গাড়ি। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দারাও এই বিস্ফোরণের আঁচ পেয়েছেন।

দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ছোট একটি আগুন থেকে সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। যেটির প্রভাবে বিশাল বিস্ফোরণ হয়। সেখানকার আবহাওয়া অত্যাধিক গরম এবং দাহ্য প্রদার্থ থাকায় বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যেসব কনটেইনারে বিস্ফোরণ হয়েছে সেগুলোর ভেতর কী ছিল তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে সেখানে সালফার জাতীয় পদার্থের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম বিস্ফোরণের পর সেখানে আরও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এটি ইরানের সবচেয়ে আধুনিক সামুদ্রিক বন্দর, যা হরমুজগানের প্রাদেশিক রাজধানী বন্দর আব্বাস থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এবং হরমুজ প্রণালির উত্তর দিকে অবস্থিত। যেখান দিয়ে পৃথিবীর মোট উত্পাদিত তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হয়।

সামরিক ঘাটতির মুখে ইসরাইল: পালিয়ে বাঁচছে কি অর্থোডক্স ইহুদিরা?

ইসরাইলে সামরিক ঘাটতির গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ ছাড়াই নতুন সৈন্যদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলি রাজনীতিতে অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়, বিশেষ করে হারেদিদের সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলার ইস্যু আবারো তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে সেবা না দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “কেউ যদি দেশের জন্য কাজ করতে না চায়, তবে তার এক শেকেলও পাবার অধিকার নেই।” ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার সূত্রে জানা গেছে, লাপিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতিই রিজার্ভ বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হারেদি ইহুদিদের সামরিক সেবায় বাধ্য না করা নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে আসছে। ডানপন্থী দলগুলো সাধারণত হারেদিদের ছাড় দেয়, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থীরা তাদেরও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনতে চায়।

হারেদিরা ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে (ইশিভা) জীবন অতিবাহিত করে এবং সেনাবাহিনীতে যোগ না দিয়ে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। তবে গাজায় চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং সৈন্য সংকটের মুখে এই সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বামপন্থী দলগুলো একটি আইন পাসের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে হারেদিদের এই ছাড় বাতিল করা হয়। যদিও এতে হারেদি সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ছে সরকার।

সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন, বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বেনেট বলেন, “ইসরাইলের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি কখনো আসেনি, যখন আমাদের এত বিশাল সংখ্যক সেনার প্রয়োজন ছিল।”

ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইয়েদিয়ত আহারোনত-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে অন্তত ২০,০০০ সৈন্যের অভাব রয়েছে। গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং রিজার্ভ বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সেনাবাহিনীকে তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির সময়সীমা পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

হিব্রু ভাষার টিভি চ্যানেল “কান” এক অনুসন্ধানে দেখিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এখন গোলানি এবং গুয়াতি ব্রিগেডের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি গাজার যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করছে। বিষয়টি সামরিক দক্ষতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গাজায় চলমান সংঘর্ষ, সৈন্য ঘাটতি এবং অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী যদি হারেদিদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ দিতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সংহতি উভয়ই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

‘তিন সাংবাদিকের কথাগুলো, জুলাই দেখেছে এমন যেকোনো মানুষকেই আহত করে’

ম্যাস মার্ডার ডিনায়ালের একটা সুক্ষ্ম চেষ্টা থেকে কালকের প্রেস কনফারেন্সে যে কথাগুলা বলেছেন তিনজন সাংবাদিক, সেই কথাগুলা জুলাই দেখেছে এমন যেকোনো সেনসেটিভ মানুষকেই আহত করতে পারে। যে মা তার সম্তান হারিয়েছে মাত্র আট মাস আগে, যে সম্তান খুনীর গুলিতে আহত হয়েছে, যে বোন-যে ভাই শহীদ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে এসেছে, তাদের বুকে শেলের মতো বিঁধেছে সাংবাদিক তিনজনের কথা।’

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনা থেকে মাত্র আট মাস দুরে দাঁড়িয়ে আমরা, খুনীর বিচার হয় নাই এখনো। পশ্চিমে বিচার হওয়ার পরেও এখনো হলোকাস্ট ডিনায়াল মানুষের বুকে লাগে। আর কালকে যখন প্রশ্ন করা হলো, একজন খুনীকে খুনী বলা যাবে কিনা- এই প্রশ্ন জনতার জুলাইকেই বেমালুম নাই করে দেয়ার একটা চেষ্টা হিসাবেই দেখেছে সবাই। প্রেস কনফারেন্সে তাদের কথাগুলা আমাকে বিস্মিত করলেও ধৈর্য নিয়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারপর মানুষ তাদের ক্ষোভ জানিয়েছে। এবং আজকে সন্ধ্যায় জানলাম চ্যানেলগুলা তাদের চাকরীচ্যুত করেছে। প্রত‍্যেক চ‍্যানেলেরই নিজস্ব এডিটোরিয়াল পলিসি থাকে। তারা সেই পলিসির আলোকে কি সিদ্ধান্ত নেবে সেটা তাদের ব‍্যাপার। তারপরও অনলাইনে কাউকে কাউকে একটা কথা বলার চেষ্টা করতে দেখছি যে আমাকে প্রশ্ন করায় চাকরী গেছে তাদের।হাস্যকর কথা। বিষয়টা যে আমি না, বিষয়টা যে জুলাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পলিসির ব্যাপার- এটাও তারা বুঝতে পারছে না।’

সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘সবার উদ্দেশ্যে ফর দ্য রেকর্ড বলে রাখছি, তাদের চাকরীর ব্যাপারে আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নাই। এই বিষয়ে সংশয় থাকলে ঐ চ্যানেলগুলার সাথে যোগাযোগ করলেই সবাই সত্য জানতে পারবেন। অনুমানে দুইয়ে দুইয়ে চার না মেলানোই ভালো।’

বগুড়ায় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

বগুড়ায়  আজগর আলী পিয়াল হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং  একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত । বুধবার বেলা সাড়ে  ১১টার দিকে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত- ২ এর বিচারক মো: আবু হানিফ এ রায় দেন।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ছোট কুমিড়ার দুলু খানের ছেলে রাশেদ খান এবং একই এলাকার মৃত.জমির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হান্নান। এছাড়া দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নয়াপাড়া এলাকার নুরুন্নবী মুন্নাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া কোর্ট ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন। মামলার বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার মহিদুল ইসলাম খোকার ছেলে  আজগর আলী পিয়াল ২০২০ সালের ২১ মার্চ অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। ২৮ মার্চ শহরতলির বড় কুমিড়া হিন্দুপাড়ার কবরস্থান থেকে তার গলিত লাশ পাওয়া যায়। লাশ শনাক্তের পর তার বাবা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত চলাকালে হত্যায় জড়িত সন্দেহে রাশেদ ও হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুজন হত্যার দায় স্বীকার করেন। তারা জানান, অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে নেশার প্রলোভনে ২১ মার্চ রাতে পিয়ালকে তার অটোরিকশায় বড় কুমিড়া গ্রামে বিএড কলেজের পেছনে বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ইট দিয়ে  মাথায় আঘাত করলে পিয়াল মারা যায়। পরে তার লাশ পাশের পাকা কবরে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই রিকশাটি ঘোড়াঘাটে নিয়ে বিক্রির জন্য মুন্নার কাছে রেখে আসে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রিকশা ক্রেতা নুরুন্নবী মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আদালত সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের তিন বছরের জেল ঘোষণা করেন।

জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের নায়কোচিত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন ছিল। যেখানে মিরাজের দারুণ সেঞ্চুরিতে ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৪৪ রান করে বাংলাদেশ। ২১৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। এরপর মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি জাদুর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে পাঠানো তো দূরের কথা, থামে ১১১ রানে। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ টাইগাররা শেষ করেছে ১-১ সমতায়। ঘরের মাঠে টানা ছয় টেস্ট হারের পর জিতলো বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪৪৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ফলে লিড পায় ২১৭ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের তোপে ৪৬.২ ওভারে ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে।
দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে সেকেন্ড স্লিপে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান বাঁহাতি স্পিনার।
ওই ওভারের তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটার নিকোলাস ওয়েলচকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এতে দলীয় ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এরপর শন উইলিয়ামস (৭) দ্বিতীয় স্লিপে সাদমানের হাতে ধরা পড়েন নাঈম হাসানের বলে।
চতুর্থ উইকেটে ১১১ বলে ৪৭ রানের প্রতিরোধগড়া জুটি গড়েন ক্রেইগ আরভিন আর বেন কারেন। অবশেষে এক ওভারে জোড়া শিকার করে জিম্বাবুয়েকে আবারও বিপদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৩০তম ওভারের প্রথম বলে মিরাজ বোল্ড করেন ক্রেইগ আরভিনকে (২৫), শেষ বলে এলবিডব্লিউ হন ওয়েসলে মাদভেরে (০)। নিজের পরের ওভারে আরও এক শিকার মিরাজের। এবার তার ঘূর্ণিতে শর্ট লেগে এনামুল বিজয়ের ক্যাচ তাফাজওয়া টিসিগা (০)। ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে জিম্বাবুয়ে।
মিরাজ এখানেই থেমে থাকেননি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ১০ রানে এবং জিম্বাবুয়ের শেষ ভরসা বেন কারেনকে দুর্দান্ত টার্নে উইকেটরক্ষক জাকের আলীর ক্যাচ বানান এই অফস্পিনার। লড়াকু কারেন ১০৩ বলে করেন ৪৬ রান।
৯৮ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর লেজের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। দিনের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আর মাত্র একটি উইকেট বাকি ছিল জিম্বাবুয়ের। আম্পায়াররা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বেশি সময় লাগেনি। ভিনসেন্ট মাসেকেসাকে সরাসরি থ্রোতে মুমিনুল হক রানআউট করলে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে শিকার করেন ৫টি উইকেট। ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। বাকি এক উইকেট নাঈম হাসানের।
চট্টগ্রাম টেস্টে এর আগে সাদমান ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ১২৯.২ ওভারে ৪৪৪ রান করে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ২২৭ রানে।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মাত্র ২.৪ ওভার খেলা হতেই বৃষ্টি নামে। ফলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ক্রিকেটাররা।
১৫-১৬ মিনিটের বৃষ্টির পর ফের খেলা শুরু হয়। বৃষ্টি থামার পর যথারীতি ব্যাটিংয়ে নামেন বাংলাদেশ দলের দুই অপরাজিত ব্যাটার মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।
অষ্টম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি করেন মিরাজ ও তাইজুল। টাইগারদের এই জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ের অভিষিক্ত স্পিনার ভিনসেন্ট মাসেকেসা। তাইজুলকে উইকেটরক্ষক তাফাদজওয়া সিগার হাতের ক্যাচ বানান তিনি। ৩৪২ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশের। ৪৫ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন তাইজুল।
নিজেদের দিন বলে কথা। সে কারণে নবম উইকেটেও দারুণ এক জুটি হয়ে গেল বাংলাদেশের। মিরাজ ও তানজিম হাসান সাকিবের ৯৬ রানের এই জুটিতে বড় সংগ্রহের আভাসই দিচ্ছিলো স্বাগতিকরা। যদিও ততক্ষণেই দলীয় সংগ্রহ ৪০০ পেরিয়ে গেছে।
৮০ বলে ৪১ রানের দারুণ ও কার্যকর ইনিংস খেলে আউট হন তানজিম সাকিব। ওয়েসলি মাধভেরের বলে নিকোলাস ওয়েলচের হাতে ক্যাচ হন সাকিব।
নতুন ও সর্বশেষ ব্যাটার হাসান মাহমুদকে নিয়ে খুব বেশি এগোতে পারেননি মিরাজ। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা করে ফেলেছেন ঠিকই। মিরাজ যখন ৯৯ রানে অপরাজিত, হাসান মাহমুদ তখন স্ট্রাইপ্রান্তে। তবে জিম্বাবুইয়ান স্পিনার মাসেকেসাকে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখেন হাসান। পরে স্ট্রাইকে গিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিরাজ।
মিরাজ লাল বলের ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই শতকটাও তিনি করেছিলেন চট্টগ্রামে। চার বছর পর আজ বুধবার দ্বিতীয়বার তিন অংকের ম্যাজিক সংখ্যা স্পর্শ করেছেন মিরাজ। ভেন্যুও সেই একই, চট্টগ্রাম।
১৬২ বলে ১০৪ রান করে মাসেকাসের বলে স্টাম্পড হন মিরাজ। জিম্বাবুইয়ান স্পিনারকে সামনে এসে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন টাইগার ব্যাটার। তবে ব্যাটে-বলে সংযোগ না ঘটায় বল চলে যায় উইকেটরক্ষক তাফাদজওয়া সিগার হাতে। মিরাজকে ফেরাতে বাকি কাজটা তিনিই সারেন।
১৬ বল খেলেও ০ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ১২০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ১১৫ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন ভিনসেন্ট মাসেকেসা। ব্লেসিং মুজারাবানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধভেরে ১টি উইকেট নেন।

পায়ের জাদুতে ফুটবলবিশ্বের দুই যাদুকর

ভিড়ে ঠাসা স্টেডিয়াম। আলো ঝলমলে চারপাশ। নিঃশব্দে দোলা দিচ্ছে গ্যালারি… যেন পুরো পৃথিবী অপেক্ষা করছে। হঠাৎ, রেফারির বাঁশির শব্দ। অতঃপর, বল ছোঁয়া পায়ের ছন্দ।

একদিকে এক তরুণ, কাঁধ ঝুঁকিয়ে নিঃশব্দে এগিয়ে আসছেন। পায়ের ছোঁয়ায় বল যেন জ্যামিতির নিয়ম ভুলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মাটিতে গর্জন তুলতে তুলতে এগিয়ে আসছে এক সৈনিক—চোখে বিদ্যুৎ, শরীরে আগুন; লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

মেসি যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক চিত্রকর্ম। তার প্রতিটি ড্রিবল, প্রতিটি পাস ছিল নিখুঁত সংগীতের মতো—শান্ত অথচ ধ্বংসাত্মক। রোনালদো ছিলেন মানব শরীরের সীমা ভেঙে ফেলার এক জীবন্ত অধ্যায়। তার প্রতিটি স্প্রিন্ট, প্রতিটি হেড, প্রতিটি গোল ছিল আগুন আর বরফের মিশ্রণ। একজন জন্মেছিলেন ফুটবলের প্রেমিক হয়ে। অন্যজন গড়ে তুলেছিলেন নিজেকে বলের শাসক হিসেবে।

পেলে থেকে ম্যারাডোনা, ক্রুয়েফ থেকে জিদান। অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে অনেকের তুলনা হয়েছে, অনেকের একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয়েছে। কিন্তু মেসি ও রোনালদোর মতো এমন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করছেন এ দুই তারকা। কখনো এগিয়ে যান মেসি, আবার কখনো রোনালদো। দ্বৈরথের গল্প নয়, এটা ফুটবলের সবচেয়ে মহান যুদ্ধের গল্প।

২০০৪ সাল। ফুটবলবিশ্ব তখন নতুন কিছু খুঁজছিল। তখনই পৃথিবীর দুই বিপরীত মেরু থেকে উদিত হলো দুটি তারা। ছোটখাটো গড়ন, নিস্তব্ধ গতি, চোখে অদম্য নরম গর্জন নিয়ে হাজির হলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। বল পায়ে যেন জন্মগত এক শিল্পী। অন্যদিকে মেদহীন শক্তি, দুর্দান্ত গতি, গোলের জন্য অমোঘ তৃষ্ণা নিয়ে ফুটবল জগতে পা রাখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যেন আত্মনিয়ন্ত্রণের এক জীবন্ত উদাহরণ। দুজন—দুইভাবে, কিন্তু ছুটছিলেন অমরত্বের দিকে।

ক্যাম্প ন্যু বনাম সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। মেসি বনাম রোনালদো। যখন একজন পুরো মাঠ ড্রিবল করে বল জালে পাঠান, আরেকজন উত্তর দেন আরও প্রবল ঝড়ে। একজন হ্যাট্রিকের দাবানল জ্বালালে, আরেকজন প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠেই উঠিয়ে দিতেন বিদ্রোহের ঝড়। প্রতিটি এল ক্লাসিকো হয়ে উঠত একেকটা অগ্নিপর্ব। যেখানে শুধু গোল হয়নি, তৈরি হয়েছিল ইতিহাসের দালান, লেখা হয়েছিল কিংবদন্তির গল্প।

তীব্র লড়াইয়ের মাঝেও কখনও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ছিল না। ছিল নিঃশব্দ সম্মান, চোখের ভাষায় অনুপ্রেরণা।

মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আমি হয়তো তার মতো শক্তিশালী নই, কিন্তু তার মতো দৃঢ় হতে চেয়েছি।’
রোনালদোও বলেছিলেন, ‘মেসি না থাকলে আমি হয়ত এতটা চেষ্টা করতাম না।’

এটাই আসল যুদ্ধ—যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীকে শ্রদ্ধা করে নিজেকে সেরা বানানো যায়। আজ তারা দুই ভিন্ন মহাদেশে, ভিন্ন সময়ের গল্প বলছেন। কিন্তু ফুটবল যখনই একটুখানি নিঃশ্বাস নেয়, ভক্তরা আজও খুঁজে ফেরে সেই পুরনো ঝড়ের ঘ্রাণ—মেসি বনাম রোনালদো। তারা দেখিয়ে দিয়েছে—তাদের জন্যই ফুটবল হয়ে উঠেছে কেবল খেলা নয়, এক দেশ, এক যুদ্ধ, এক কবিতা।

কখনো কখনো, পৃথিবী যেন বিভক্ত হয়ে যায় দুটি নামে—মেসি ও রোনালদো। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য—আমরা এমন এক সময়ের সাক্ষী, যেখানে দুজনেই একসঙ্গে জ্বলেছেন আকাশের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে। দুজন ভিন্ন পথে, ভিন্ন ছন্দে শিখিয়েছেন কীভাবে সীমারেখা মুছে ফেলে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা যায়।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের বুঝিয়েছে, সেরা হওয়ার চেয়ে বড় কথা হলো নিজেকে প্রতিদিন ছাড়িয়ে যাওয়া। নিজেকে হারিয়ে জয়ের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করা। দুই মহারথীর এ গল্প চিরকাল বয়ে যাবে ফুটবলের প্রতিটি শিরায়, প্রতিটি শিরোনামে, প্রতিটি স্বপ্নে।