Home Blog Page 468

বাংলাদেশঃ আত্মঘাতী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় !!!

রতন তালুকদারঃ একাত্তরের মুজিব নগর থেকে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর একসূত্রে গাঁথা। ৫ই আগষ্ট ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী মানুষগুলি কয়েক ঘণ্টায় বাংলাদেশের মানচিত্রের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধূলায় লুণ্ঠিত করে বিজয়ে মেতে উঠে। যেমনটি হয়েছিল ৭৫-এর ১৫ই আগষ্টে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে। সেবার বঙ্গবন্ধুর কথিত সৈনিকরা গা ঢাকা দিয়েছিলো কেউ কাঁদেনি, কেউ রাস্তায় নামেনি। এবারও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শোচনীয় ও লজ্জাজনক পলায়নে কথিত শেখ হাসিনার সৈনিকরা “চাচা আপন প্রাণ বাঁচা” ফর্মুলায় তাদের নেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এদিক ওদিক পালায়, আত্মগোপনে যায় এবং সঙ্গে নিয়ে যায় ১৫ বছরের সঞ্চিত চুরির সম্পদ!

এদিকে বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অপরাধে নেমে আসে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর এক অবর্ণনীয় দুঃখ বেদনা ও আতঙ্ক। ওরা যেন নিজ দেশে পরবাসী ও ভিন্ন গ্রহের মানুষ!

ভারতের উত্তর প্রদেশে একজন বুলডোজার বাবা আছেন। তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। বাংলাদেশের বুলডোজার বাবা সমন্বয়কারী ছাত্ররা, পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মদদ। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন না থাকলে ৩২ নম্বর অভিযান সফল হতো ? দেশটি কি মগের মুল্লুক !

সামনে ওরা হয়ত গোপালগঞ্জে টুঙ্গীপাড়ার কবর থেকে বঙ্গবন্ধুর হাড্ডি-গুড্ডি তুলে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মতো বঙ্গোপসাগরে সলিল সমাধি করবে। আরও অনেক কিছু দেখবে বাংলাদেশ! মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপ্নভঙ্গ সবে শুরু। শেখ হাসিনার দম্ভ, আত্ম-অহংকার, গণতন্ত্র হত্যা, ভোট ডাকাতির নির্বাচন, খুন, গুম এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন চুরির বাণিজ্য যে কত ভয়াবহ ও নির্মম ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের আগুন তাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ও আদিবাসীরা চিরদিনই শান্তিপ্রিয়, দেশপ্রেমিক ও সোজা সরল প্রকৃতির। বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা দেশে কোন অরাজকতা, দেশদ্রোহিতা, অন্যায়, অবিচার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা আইন নিজ হাতে তোলে নেয়ার কোন রেকর্ড নেই গত ৫৪ বছরে।

শান্তিপ্রিয় এই নিরীহ মানুষগুলির ওপর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কতিপয় এবং খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র বারবার আঘাত এনেছে। ৭২ থেকে শুরু, চলমান ২০২৫ পর্যন্ত। লক্ষণ দেখে বোঝা যায় এই নিগ্রহ অত্যাচার বৈষম্য চলতেই থাকবে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় প্রথম দূর্গাপুজায় মূর্তি ভাঙ্গা হয় সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। সম্প্রদায়িকতার মর্মান্তিক রেলগাড়ি কখনো লাইনচ্যুত হয়নি। রামু থেকে নাসির নগর, যশোরের অভয় নগর থেকে রংপুর, পার্বত্য চট্টগ্রামের লোগান থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি পযর্ন্ত সাম্প্রদায়িকতার কলেবর প্রশস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা হিন্দুদের রক্ষক হিসেবে ভারতের কাছে দেবী ছিলেন। ভারত ভেতরের খবর নেয়নি, তারা বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায় মত্ত ছিলো।

শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের ভ্রান্ত আত্মবিশ্বাসের বলি হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। জানমালের নিরাপত্তার অভাব, উপাসনালয়ে ভাংচুর, হিন্দু মেয়েদের উপর লোলুপ দৃষ্টি ও ধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা, পার্বত্য চট্টগ্রামকে আদিবাসী শূন্য করার নীরব প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশ ছেড়ে ভারতে শরণার্থী হয়েছে।

শেখ হাসিনার সোনার ছেলে ছাত্রলীগ দিনে-দুপুরে পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তথাকথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস, রংপুরে টিটু, বরিশালের সুমন ও কুমিল্লার নারায়ণ সহ শত শত হিন্দু যুবককে ধর্ম অবমাননার নামে জেলে দেয়া হয়েছে। হিন্দু শিক্ষকের গলায় জুতার মালা দিয়ে গলাধাক্কার ঘটনাগুলি এখনো সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করে।

৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পলায়নের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসে অমাবস্যার কালো রাত্রি। কারও অজানা নয় যে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের চিরচেনা মানুষগুলিও অচেনা হয়ে আঘাত এনেছে। ওদের কেটেছে বিনিদ্র রজনী। তথাকথিত সংঙ্কার আর বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হয়ে উঠে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের করুণার পাত্র। কি বিচিত্র এই মুল্লুক, আমরা কোন গ্রহে বসবাস করছি?

ইসকন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। পৃথিবীর প্রায় দেড়শো দেশে ইসকন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবা দিচ্ছে। অনেক মুসলিম দেশেও ইসকন বহাল তবিয়তে আছে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেও। মামুলি অভিযোগ এনে বাংলাদেশে ইসকন নেতা শ্রী চিন্ময় প্রভুকে জেলহাজতে রাখা হল জাতীয় পতাকার অবমাননা ও দেশদ্রোহিতার কাল্পনিক অভিযোগে, পক্ষান্তরে জাতীয় পতাকাকে জায়নামাজ বানিয়ে এর উপর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে অবমাননা হয় না?

বাংলাদেশে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলির গুতা-গুতিতে শিলপাটার ঘর্ষণে যেমন মরিচের জান বিপন্ন তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ইসলাম রক্ষার সংগ্রামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আত্মমর্যাদা, সহাবস্থান ও নিরাপদে বসবাস হুমকির মুখে।

এসব নাটক, গল্প উপন্যাস আর কত? দয়া করে হিন্দুদের বাঁচান। ওরা মানুষ, বাংলাদেশের ভূমিপুত্র। একাত্তরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভূমিকা ছিল গগন ছুঁই ছুঁই দেশপ্রেম।

শেখ হাসিনার অপরাধে তাকে এনে শাস্তি দিন। পারলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন। বাংলাদেশের পতাকা, সঙ্গীত সংবিধান সব বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করে ওপারের পাকিস্তান ভাঙ্গার জন্য পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চান, তাতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কিছুই আসে যায় না। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা শুধু নিরাপদ থাকতে চায়, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমুতে চায়, তারা চায় ঘরে ষোড়শী মেয়েটি যেন নিরাপদ থাকে।

বাংলাদেশের প্রায় সব কটি রাজনৈতিক দল ও সরকারের তথাকথিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বয়ানে সংখ্যালঘুরা আর ভরসা রাখতে পারছে না। ক্রমাগত হিন্দু বিদ্বেষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনে, মননে ও চেতনায় ভয় ও দুঃস্বপ্নের হাতছানি দেখছে! মনের ভেতর রেখাপাত করছে একাত্তরের পাকহানাদার বাহিনীর নির্মমতা ও হত্যাযজ্ঞ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনের বাঁকে বাঁকে তারা ধৈর্য্যর অগ্নি পরীক্ষা দিচ্ছে। তবু পরাজিত সৈনিকের মতো ওরা আর ভারতে যাবে না, দেশের মাটির ঘ্রাণ নিয়েই ওরা আজন্ম, আমৃত্যু এদেশেই শিকড় ধরে বেঁচে থাকবে।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভাঙ্গার ব্যাথা বুকে চেপেই বলবো, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জেনারেল জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি “কে” ভেঙ্গেছিল? দিল্লির চার দেয়ালের ভেতর হতাশায় ভুগতে ভুগতে শেখ হাসিনা ভেবে দেখুন। একমাঘে শীত যায় না, উপর দিকে থুথু দিলে নিজের মুখেই এসে পড়ে।

আজ যাঁরা ধানমন্ডির বাংলাদেশের ঠিকানা ৩২ নম্বর ভেঙ্গে উল্লাস করছে, খিলখিল করে হাসছে তারা একদিন ইতিহাসের মীর জাফর আলী খাঁন হবে।

তারপরও শেখ মুজিব একাত্তরের সূর্য, দেশের স্থপতি।

পাদটীকাঃ ৩২ নম্বর ভাঙ্গার পর নিউইয়র্কে কতিপয় সুশীল সমাজ ও চেতনাধারী হিজড়া প্রতিবাদ করেছে। এদের বেদনা ৩২ নম্বর নয়। বাংলা একাডেমী, একুশ বা স্বাধীনতা পুরস্কার না পাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ !!!

যা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না : ট্রাম্প

যা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী ক্ষমতাবলে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এতে তিনি বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখে পড়েন। এদিকে ইঙ্গিত করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

ফরাসি সেনানায়ক ও রাজনীতিবিদ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তি -যা দেশকে রক্ষা করে, তা অবৈধ হতে পারে না- উল্লেখ করে লিখেছেন, যে দেশকে সুরক্ষা দান করে, সে আইন ভঙ্গ করতে পারে না।’

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলে এর বেশি কিছু জানায়নি। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এসব মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স

ভারতে রেল স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু

ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লিতে রেল স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এই ঘটনায় নিহত ১৮ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন, সেখানে চারজন শিশু এবং ১০ জন নারী রয়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে একটা বড় অংশ কুম্ভ মেলায় যাওয়ার জন্য প্রয়াগরাজের ট্রেনে সফর করার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন ওই স্টেশনে।

কিন্তু ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্ল্যাটফর্মে হুড়োহুড়ি করার পাশাপাশি ফুট ব্রিজে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

এ সময় পদপিষ্ট হন অনেকে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না- এর বাইরে ঘটনার নেপথ্যে যে সমস্ত কারণ রয়েছে তার সব খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি রেলের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা, গুরুতর আহতদের জন্য আড়াই লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের জন্য এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি, প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন অনেকে।

সঙ্গমস্থলে ভোর বেলায় স্নানের উদ্দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

কী ঘটেছিল?
কুম্ভমেলার কারণে প্রয়াগরাজ যাওয়ার ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। স্টেশনে একদিকে যেমন কুম্ভ মেলায় যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ঢল ছিল, তেমনই অন্য গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন শনিবার।

১৪ এবং ১৫ নম্ভর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। পাশাপাশি অন্য দু’টো ট্রেন লেট করায় যাত্রীদের সংখ্যা আরও বেড়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য যে ফুট ব্রিজ ব্যবহার করা হয়, সেখানেও বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিলেন। হুড়োহুড়ি শুরু হয়, অনেকে ভারসাম্য সামলাতে না পেরে পড়ে যান।

রুবি দেবী নামে এক যাত্রী বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘আমরা ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিলাম। এত ভিড় ছিল যে আমরা ভেতরের দিকে যেতে পারছিলাম না। ওখানে অনেকের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমরা কোনোমতে বেঁচে গেছি।’

বিহারের পাটনার বাসিন্দা ললিতা দেবি তার ভাগ্নে গিরিধারী সাথে দিল্লি থেকে পানিপথ যাচ্ছিলেন।

গিরিধারী বলেছেন, ‘আমরা দু’জনেই প্রথমে পাটনা থেকে এসেছিলাম। নিউ দিল্লি থেকে ট্রেনে করে পানিপথ যাচ্ছিলাম। কিন্তু ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হয়ে মামির মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসা মাত্রই দেখলাম সেখানে প্রচণ্ড ভিড়। সিঁড়িতে ধস্তাধস্তির কারণে আমরা দু’জনে আলাদা হয়ে যাই।’

‘কিছুক্ষণ পর আমি শুনতে পেলাম দুই-তিনজনকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছেন। চাদর দেখে আমি মামিকে চিনতে পারলাম। চাদরটা সরাতেই হালকা একটা নিঃশ্বাস পড়ল।’ কথা বলতে বলতে ভেঙে পোড়েন তিনি।

শনিবারের পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে যে পরিমাণে টিকিট বিক্রি হচ্ছিল তাতে রেল কর্তৃপক্ষের আগেই অনুমান করা উচিত ছিল এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি বলেও যেমন অভিযোগ উঠেছে।

তেমনই কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়। যদিও রেল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হিরালাল মাহাতো নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘যখন ঘোষণা করা হয় যে ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা ট্রেন ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসবে, তখন দু’দিক থেকে লোকজন আসতে শুরু করে।’

‘এমন পরিস্থিতিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্রিজের উপরেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ ছিল না। প্রশাসন এক ঘণ্টা পর এখানে এসেছিল।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রবি অবশ্য ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের লোকজন যখন দেখেন ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে, তখন তারা সকলেই এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করেন। ভিড় এত বেশি ছিল যে থামানো যাচ্ছিল না। তবে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করা হয়নি।’

‘(অন্য প্ল্যাটফর্মে) ট্রেন দেখা মাত্রই সেখান থেকে লোকজন দৌড়ে আসতে থাকে। ব্রিজের উপরে আরো লোক দাঁড়িয়ে ছিল। ব্যাপক ভিড় ছিল। পুলিশ সব দেখছিল, কিন্তু ভিড় থামাতে পারেনি।’

অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলেছেন
পদপিষ্টের ঘটনায় দিল্লির কিরারির বাসিন্দা উমেশ গিরি তার স্ত্রী শিলাম দেবিকে হারিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা মহাকুম্ভে যাচ্ছিলাম। আজমেরি গেট থেকে আমরা উঠলাম, ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসের ট্রেন ছিল। আমার টিকিট ছিল এসি কোচে।’

‘(ব্রিজের) উপরে ওঠার পর ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।’

‘আমার সামনে অনেকের দেহ পড়ে ছিল। তারপর ধাক্কাধাক্কি হয়, লোকজন তাদের ওপর দিয়ে যেতে শুরু করে। সেই সময় সিঁড়ির সামনে তাদের (লাশ) রাখা হয়। তখন মিডিয়া ছিল না, প্রশাসনের কেউ ছিল না।’

তার অভিযোগ সাহায্য চাইলেও, সময় মতো তা মেলেনি। তিনি বলেছেন, ‘কারো কাছে কোনো সাহায্য পাইনি। পরে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি বহু পুলিশকর্মী, আরপিএফের লোকজনকে বলেছি, কিন্তু কেউ শুনতে রাজি ছিল না।’

দিল্লির সুলতানপুরীর বাসিন্দা শোভা আদতে বিহারের বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার দেবর আহত হয়েছেন এবং দেবরানির মৃত্যু হয়েছে।

তার দেবর আহত অবস্থায় তাকে ফোন করেন। শোকতপ্ত শোভা বলেন, ‘ফোনে আমাকে সে বলেছিলে- পদপিষ্ট হয়ে আমার স্ত্রী মারা গেছে, আমার আঘাত লেগেছে। তাড়াতাড়ি এস।’

‘ওর দুই সন্তানও চাপা পড়ে গিয়েছিল কিন্তু তারা নিরাপদে ছিল। তবে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।’

‘চিৎকার করে লোকজনকে থামতে বলেছিলাম, কিন্তু..’
ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মকর্তা অজিত ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ভিআইপি মুভমেন্টের জন্য এসেছি। মুভমেন্ট শেষ করে ফিরছিলাম। কিন্তু যেতে পারিনি।’

‘এমনটা ঘটার আশঙ্কা আমার সন্ধ্যাতেই হয়েছিল। কারণ আমি যখন লোক কল্যাণ মার্গ দিয়ে নয়া দিল্লি আসছিলাম, তখন নয়া দিল্লি মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোতে এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল, যা আসলে মাত্র দুই মিনিটের কাজ।’

বিমান বাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাজ শেষ করে ফেরার সময় পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এর পর আমি নিজেই ১৩ ও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করি যে ভারতীয় সেনা ও প্রশাসনের তরফে সবাইকে তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।’

‘আমি লোকজনকে বলেছি, একই সময়ে পাঁচ থেকে দশ হাজার মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারে না। কিন্তু কেউ শুনতে করতে রাজি ছিল না।’

প্রশাসন কী বলছে?
উত্তর রেলের মুখপাত্র হিমাংশু উপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যখন ঘটনাটা ঘটে, তখন ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পাটনাগামী মগধ এক্সপ্রেস ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জম্মুগামী উত্তর সংক্রান্তি এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল।’

‘সেই সময়, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে যাওয়ার সিঁড়িতে কিছু যাত্রী পা পিছলে পড়ে যান যার ফলে তাদের পিছনে থাকা কয়েকজন যাত্রী ঘটনার কবলে পড়েন এবং এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।’

একটা উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এই ঘটনার তদন্ত করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রেল পুলিশের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা বলেন, ‘কেন হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদপিষ্ট হয়, তার সঠিক কারণ তদন্তের পরে জানা যাবে। যে কাজ রেল করবে।’

‘আমরা ভিড় অনুমান করেছিলাম। কিন্তু দু’টো ট্রেন দেরি করায় সেখানে বেশি সংখ্যক মানুষ জড়ো হন এবং এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘রাত ৯টার দিকে ভিড় বাড়তে থাকে। কোনো জায়গায় যখন বেশি মানুষ জড়ো হয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করে এবং সেই সময় যদি কোনো ভুল তথ্য ছড়ায়, তাতে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এখন, এক্ষেত্রে কেন এমনটা ঘটল, তা জানা যাবে তদন্তের পরে যে কাজ (তদন্ত) করবে রেল।’

পদপিষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিসিপি মালহোত্রা বলেন, ‘যে ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেই সময় বেশি সংখ্যক মানুষ একজাগায় ছিলেন এবং দু’টো ট্রেন দেরিতে চলছিল। তবে এর নেপথ্যে কী ঘটনা রয়েছে, তা রেলের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে।’

অভিযোগ উঠেছে, যাত্রীদের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসতে বলা হয়েছিল, যে কারণে হঠাৎ হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

এই প্রসঙ্গে রেলের ডিসিপি মালহোত্রা বলেন, ‘না, সেরকম কিছু নয়। ঘোষণা করা হয়েছিল, রেল থেকে একটা বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। তবে ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করার মতো কোনো ঘটনার কথা আমার জানা নেই।’

পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, প্রতি ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে লাখে লাখে মানুষ জড়ো হন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হয়।

এই প্রসঙ্গে ডিসিপি বলেন, ‘না, ৬টা থেকে লাখ লাখ মানুষ ছিলেন না। রাত ৯টা নাগাদ যে ট্রেন ছিল, ওই সময় ভিড় বাড়ে। সন্ধ্যা ৬টার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’

এনডিআরএফ-এর কমান্ড্যান্ট দৌলত রাম চৌধুরি বলেছেন, ‘১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাই। আমরা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়েছিলাম।’

রাজনৈতিক বিতর্ক
এই ঘটনার জন্য কেন্দ্র সরকারকে দুষেছেন বিরোধী নেতারা। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ ইয়াদভ। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘দিল্লিতে মহাকুম্ভ ভক্তদের মর্মান্তিক মৃত্যু হৃদয়বিদারক। সরকারকে রাজনীতিবিদদের মতো নয় বরং একজন পরিবারের সদস্যের মতো করে ভাবতে হবে যিনি তার বাবা-মা, ভাইবোন, সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনকে হারিয়েছেন।’

‘নিহতদের লাশ পূর্ণ সম্মানের সাথে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা উচিৎ এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করা উচিত। বিজেপি সরকারের মৃত্যুর বিষয়ে সত্য গোপন করার পাপ করা উচিৎ নয়।’

এর আগে জানুয়ারি মাসে কুম্ভ মেলায় পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিজেপিকে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, সেই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন করেছে বিজেপি যদিও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন , ‘গত রাতে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনে যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে সরকারের একের পর এক সত্যি উন্মোচিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে রেল প্রশাসন এবং রেলমন্ত্রী এই খবর চাপা দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছিলেন। তিনি ক্রমাগত টুইট করছিলেন যে কেউ পদদলিত হননি, ভিড় বেড়েছে। কিন্তু কেন ভিড় বাড়ল? আপনাদের অব্যবস্থার কারণেই ভিড় বেড়েছে।’
সূত্র : বিবিসি

নাট্যকর্মীরাই স্থগিত করেন মহানগর নাট্যোৎসব : মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

মহানগর নাট্যোৎসব স্থগিতের আসল রহস্য ফাঁস হয়েছে। এটি বন্ধে সরকার কিংবা তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা ছিলো না। নাট্যকর্মীদের একটি অংশ এই উৎসব বন্ধ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, উৎসব বন্ধের জন্য নাট্যকর্মীদের একটা অংশই ভূমিকা রেখেছে। এখানে পুলিশ বা সরকার পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ জড়িত নন।

চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘নাট্যোৎসব বন্ধের খবরটা দেখে আমরা কাল সন্ধ্যা থেকেই খোঁজ খবর নেয়া শুরু করি। কারণ সরকার শিল্পকলার মাধ্যমে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিচ্ছে, গতকালও শিল্পকলায় তিনটা প্রদর্শনী হলো। আজকেও প্রাচ্যনাটের শো আছে শিল্পকলায়। তাহলে এখানে কেনো পুলিশ উৎসব বন্ধ করতে বলবে? খোঁজ নিয়ে জানলাম, পুলিশ এ রকম কিছুই বলেনি। কালকে রাতেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারা কাউকে উৎসব বন্ধ করতে বলেনি। বরং তারা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। তাহলে?’

ফারুকী বলেন, ‘আমাদের দ্রুত অনুসন্ধান থেকে জানা গেলো, নাট্যকর্মীদের মধ্যেই একটা অংশ এই উৎসবের বিরোধিতা করে মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষের কাছে হল বরাদ্দ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে। বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীদের দাবি, এই উৎসবের আড়ালে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যায় বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দেয়া কিছু ব্যক্তি বা তাদের গোত্রীয় কিছু মানুষ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি জানায় জুলাইয়ে তাদের ভুমিকার জন্য বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো পূনর্বাসন চলবে না। অবশেষে কালকে মহিলা সমিতি বরাদ্দ বাতিল করে।

এর আগে রাজধানীর মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব। উৎসব স্থগিতের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান জানান, রমনা থানা থেকে ফোনে নাট্যোৎসব বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পরে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।

ফারুকী বলেন, ‘কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, বিবৃতিতে তারা এইসব কিছু না বলে কৌশলে প্রথমে পুলিশের কাঁধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করলো। এবং বিবৃতির শেষে বললো- মবের কারণে উৎসব বাতিল করতে হলো। তারা তো জানেই কারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তাদের পরিচয় না লিখে মব বলে চালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য কি একটা বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা? বা কেন ঐ বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীরা প্রতিবাদ করছে তারা জানে। কিন্তু সেটাও তারা বিবৃতিতে উল্লেখ না করা কি ওই বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কিনা সেটা সবাই ভেবে দেখতে পারেন।’

ফারুকী প্রশ্ন রাখেন, ‘পাশাপাশি আরেকটা প্রশ্নও আসে, জুলাইয়ে তাদের ভুমিকার জন্য জাতির কাছে এখনো কি একবারও ক্ষমার চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছে তারা।’

কারো ধমকে কাজ করার প্রয়োজন নেই : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী এই সরকারের আমলে কারো রক্তচক্ষু বা ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। নিজের মতো করে যেটা আইন, যেটা দেশের জন্য করা দরকার, সেটা করতে হবে।

আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ জেলায় সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এক নম্বর হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় তিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার ডিসি সম্মেলন শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সাথে ডিসিদের মুক্ত আলোচনা হবে। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে। রাতে হবে প্রধান উপদেষ্টার সাথে নৈশভোজ।

বিদ্রোহ থেকে সরে এসেছেন সাবিনারা, ফিরবেন অনুশীলনে

শেষ পর্যন্ত কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে অনুশীলন করতে রাজি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ১৮ নারী ফুটবলার।

আজ রোববার বাফুফের মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজ আক্তার কিরণের সাথে মিটিং শেষে অনুশীলনে ফিরতে রাজি হয়েছেন সাবিনা খাতুনসহ ১৮ জন। তবে এখনই তাদের অনুশীলনে নেয়া হচ্ছে না।

মাহফুজ আক্তার কিরণ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় দল দু’টি ম্যাচ খেলতে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে। সে উপলক্ষে ক্যাম্প ছুটি হবে। তখন জাতীয় দল যাবে আমিরাতে। আর বিদ্রোহী ফুটবলার চলে যাবেন যার যার বাড়িতে। এরপর আবার যখন ক্যাম্প শুরু হবে তখনই বাটলারের অধীনে যোগ দিবেন সাবিনা, নীলা, সানজিদা, মনিকা, মারিয়ারা।

তবে ওই ক্যাম্পে এই বিদ্রোহীদের সবাই ডাক পাবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ বাফুফের বিশেষ কমিটি শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করেছে এই বিদ্রোহীদের। হয়তো তখন কয়েকজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে আর নাও ডাকা হতে পারে।

আ’লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে : তারেক রহমান

আওয়ামী লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছে। নির্বাচনের নামে দেশের জনগণের সাথে তামাশা ও প্রসহন করেছে। বিরোধী দলের প্রতি দমন পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও গুম করেছে। কাউকে ভোট দিতে দেয়নি।’

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে কাউকে ভোট দিতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা মানুষের কথা বলার অধিকারকে হরণ করে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একছত্র অপশাসন কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার ও খুনি আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর পর বাংলার মাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোকে মেরামত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’

এর আগে নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। এ সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান পলাশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি অতীতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেকারদের প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ, এদেশে রফতানি আয়ের প্রধান উৎস গামের্ন্টসের সূচনা ও কৃষি তথা কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, কলকারখানা স্থাপনপূর্বক বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, যুগ্মসম্পাদক আলী হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সেলিম হোসেন, নড়াইল পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমানসহ অনেকে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রকাশ্যে নড়াইল জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০৭ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এ সম্মেলনে সভাপতি পদে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং জুলফিকার আলী মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম, শাহরিয়ার রিজভী জর্জ এবং কামরুল হাসান প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন টিপু সুলতান, খন্দকার এজাজুল হাসান বাবু, মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও এস এম ফেরদৌস রহমান।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে দীর্ঘ ১৬ বছরেও প্রকাশ্যে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে চেষ্টা করব : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সার্থক করতে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি বলেন, প্রতিজ্ঞা করি আমরা যেন গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান না জানাই। যে কারণে তারা আত্মত্যাগ করেছিল সেটা যেন পরবর্তী সব প্রজন্ম মনে রাখে, তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে। তাদের আত্মত্যাগ সার্থক করার জন্য আমরা সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব যেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।

‘তারা এ ত্যাগ না করলে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও জবাব খোঁজার আমাদের কোনো সুযোগ থাকত না। প্রশ্ন আমাদের মনে যতটুকু ছিল, বহু বছর ধরে ছিল, সুযোগ পাইনি। অসংখ্য ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা সুযোগ পেয়েছি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমরা ছোটখাটো একটা হাডুডু খেলার জন্য আইন বানাই। ফুটবল খেলা তো বটেই, এটা আন্তর্জাতিক খেলা। সে আইন আমরা মেনে চলি, মেনে চলি বলেই খেলাটা খেলা হয়, তামাশা হয় না। আইনগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে সবাই যেন উপভোগ করে। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে তামাশায় পরিণত করে ফেলেছি। আইন বলে কিছু নেই, নিয়ম বলে কিছু নেই। যারা আত্মত্যাগ করেছে তারা আমাদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, আমরা যেন সেসব আইনকানুন পাল্টে ফেলে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হই।

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী প্রতুল মুখার্জি আর নেই

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের প্রখ্যাত শিল্পী প্রতুল মুখার্জি মারা গেছেন। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

গেল সপ্তাহ থেকেই তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। গত জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই স্নায়ু এবং নাক-কান ও গলার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা হয় তার।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুত তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে শিল্পীর ফুসফুসেও সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্রুতই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

তার গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান হলো- ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও সাগরে সাথী রে’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তার গানের গুণমুগ্ধ ছিলেন। মমতার তত্ত্বাবধানেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাকে।

বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রতুল মুখার্জি। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। শৈশব থেকেই গান লিখে তাতে সুর দিয়ে গাওয়ার ঝোঁক ছিল তার।

প্রতুল মুখার্জিকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনে তার গাওয়া ‘আমি বাংলায় গান গাই’। এছাড়া সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ ছবির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন তিনি।

তার মতে, সৃষ্টির মুহূর্তে লেখক-শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সাথে মিলিয়ে দেয়া যায়, কেবল তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।’
সূত্র : ইউএনবি

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ

অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। জীবন কেটেছে সাদাসিধেভাবে। বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন, শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে। এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।

কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পর সর্বস্তরের বিশেষ করে সাধারণের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বাউল শাহ আব্দুল করিম।

শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকজ সঙ্গীতের ধারাকে এগিয়ে এনেছেন সামনে। ভাটি অঞ্চলের সুখদুঃখ তুলে এনেছেন গানে। নারী-পুরুষের মনের কথা ছোট ছোট বাক্যে প্রকাশ করেছেন আকর্ষণীয় সুরে। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।

তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে। জীবিকা নির্বাহ করেছেন কৃষিকাজ করে। কিন্তু কোনোকিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিম অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন।

গানে-গানে অর্ধ শতাব্দীরও বেশী সময় লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের নানা লাঞ্চনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা যোগায় শাহ আবদুল করিমের গান।

শাহ আবদুল করিম লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ১৬০০’র বেশি গান। যেগুলো সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পেয়েছেন একুশে পদক।

শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ভাটির পুরুষ’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র। সুবচন নাট্য সংসদ করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের প্রদর্শনী করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়াও ২০১৭ শাহ আবদুল করিমের জীবনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস লিখেন সাইমন জাকারিয়া। নাম কূলহারা কলঙ্কিনী।

বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের গানের মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজতে প্রতিদিন ভক্ত ও স্বজনরা গানের আসর বসান। তার গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা আর গানের মধ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই সবার মাঝে তার গান ছড়িয়ে দিতে চান ভক্ত আশেকানরা। একইসাথে তার সুরধারাকে বিকৃতভাবে না গাওয়ার দাবিও তুলেছেন বাউলরা।

বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে/আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না/আমি কূলহারা কলঙ্কিনী/কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া কোন মেস্তরি নাও বানাইছে/কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু/বসন্ত বাতাসে সইগো/আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু/মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও/আমি বাংলা মায়ের ছেলেসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ আব্দুল করিম না থাকলেও গানে আর সুরে তিনি আমাদের মাঝে রয়েছেন, অনন্তকাল থাকবেন।

একটি সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিম গাড়ি চলে না গানটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বন্ধুর বাড়ি এ আত্মায়। গাড়িতে চড়ে আত্মশুদ্ধির সন্ধানে ছুটি। কিন্তু পাই না। রিপু থামিয়ে দেয়। একদিন হয়তো এই গাড়ি পুরোদমে থেমে যাবে। প্রকৃত মালিকের কাছে ধরা দেবে। এই করিমকে তখন মানুষ খুঁজে পাবে শুধুই গানে আর সুরে।

সূত্র : ইউএনবি