Home Blog Page 468

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোর চায় মেঘালয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে দেশটির বাকি অংশের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোরে আগ্রহী মেঘালয় সরকার।

শুক্রবার (৭ মার্চ) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘালয় সরকার বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রাজ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আর তা হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ ট্রান্সন্যাশনাল ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে সম্ভব হবে।

হিলি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত শহর আর মহেন্দ্রগঞ্জ মেঘালয়ের সীমান্ত শহর। উভয় অঞ্চলেরই বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত রয়েছে। তাই প্রস্তাবিত এই করিডোরটি মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জের সাথে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বন্দরশহর হিলিকে সংযুক্ত করতে পারবে।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেছেন, ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি কলকাতা থেকে তুরা, বাগমারা, ডালু এবং ডাউকির মতো উন্নয়নকেন্দ্রগুলোর সাথে যোগাযোগের সময় এবং খরচ ২৫-৬০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারবে।

সূত্র : এনডিটিভি

নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের খুঁজে বিসিবি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতার পর নাজমুল হোসেন শান্তকে ওয়ানডে অধিনায়ক রাখা হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন অনেকটাই নিশ্চিত। ইতোমধ্যে তার বিকল্প হিসেবে লিটন দাসের নাম ভেসে বেড়াচ্ছে ক্রিকেট পাড়ায়।

নাজমুল হোসেন শান্তর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার খবরটা অবশ্য পুরনো। গত বছরেই এই নিয়ে কথা খবর আসে গণমাধ্যমে। বছরের শুরুতে বোর্ড প্রধান ফারুক আহমেদও নিশ্চিত করেছিলেন সেই খবর।

বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছের কথা তাকে জানিয়েছেন শান্ত। তবে এরপর বিসিবির পক্ষ থেকে তখন চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যস্ততা না থাকায় বিসিবিরও তাড়া ছিল না।

তবে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এগিয়ে এসেছে। তাই অবধারিতভাবেই নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হবে বিসিবিকে। ফলে ক্রিকেট পাড়ায় প্রশ্ন, তবে কে হবেন নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক?

এমনই এক প্রশ্নের জবাবে শনিবার (৮ মার্চ) মিরপুরে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নেব। খুব শিগগির জানা যাবে। টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব করেছেন, আর যারা এখনো দলের বাইরে নয়। এ রকম কাউকে আমরা চেষ্টা করব।’

সাম্প্রতিক সময়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বাদে টি–টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা একমাত্র ক্রিকেটার লিটন দাস। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে লিটনই এগিয়ে সবার থেকে।

সাকিব আল হাসান নেই, তামিম ইকবালও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন আগেই। সদ্যই অবসর নিলেন মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও শেষের পথে। ফলে বিসিবি সভাপতির কাছে প্রশ্ন ছিল দলকে নতুন করে সাজানো নিয়ে।

উত্তরে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে। আমি আগামী বিশ্বকাপে বিশ্বাস করি না। বোর্ড থেকে একটা পলিসি দেয়া হবে। আমরা বলে দেব কী চাই। ক্রিকেট অপারেশন্সের সাথে আলাপ করে চিন্তা করব আমাদের ক্রিকেটটাকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।’

চীন-পাকিস্তানের যোগসাজশ দিল্লির জন্য যুদ্ধের আশঙ্কা : ভারতের সেনাপ্রধান

ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, পাকিস্তান এবং চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে। এই দুই দিক থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে উপেন্দ্র বলেন, আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তা প্রায় শতভাগ। পাকিস্তানের যাবতীয় সরঞ্জাম চীন থেকে আসে। ফলে দু’দিক থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কার বিষয়টি বাস্তব।

জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে দাবি করেন সেনাপ্রধান। তার আশঙ্কা, এর ফলে আগামী দিনে উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে কাশ্মীরে উগ্রবাদী হামলার ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেনাপধান বলেন, গত বছরে কাশ্মীরে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাদের ৬০ শতাংশই পাকিস্তানের নাগরিক। ফলে প্রতিবেশী দেশ থেকে অনবরত বহিরাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে ভারত।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মাগুরার ধর্ষণের শিকার সেই শিশুকে নেয়া হলো সিএমএইচে

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) পাঠানো হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের উপপরিচালক আশরাফুল আলম শনিবার (৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে আজ দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে দেখতে যান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুর্শিদ। উপদেষ্টার নির্দেশ ও শিশুটির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশে শিশুটিকে সিএমএইচে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টার পর শিশুটিকে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্সে সিএমএইচে নেয়া হয়। এ সময় শিশুটির সাথে একদল চিকিৎসক ছিলেন।

এর আগে আজ দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে। পাশবিক নির্যাতনের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। তার গলার আঘাত গুরুতর। শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার আট বছরের ওই শিশুর এখনো অচেতন। তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তারা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখবেন। অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢামেক হাসপাতালে।

হিযবুত তাহরীরের অন্যতম সংগঠকসহ ৩৬ সদস্য গ্রেফতার

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের অন্তত ৩৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অন্যতম সংগঠক সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার থেকে আজ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (৮ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একথা জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের বাইরে সমাবেশে অংশ নেয়া নিষিদ্ধঘোষিত দলটির সদস্যদের ধরতে পুলিশ দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা সমাবেশের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। হিজবুত তাহরীরের অনেক সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য তাদের গ্রেফতার করা হবে।’

সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ শুরু করেছে স্টারলিংক

বাংলাদেশে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপনে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট স্টারলিংকের অংশীদার হয়ে কাজ করছে কয়েকটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শনিবার (৮ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এই সফরে বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়েছে।

স্টারলিংক প্রতিনিধিদলের সফরের ফলে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আগ্রহী ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে সহায়তা দেবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে স্টারলিংক হাইটেক পার্কের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, লোকেশন নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা চলমান রয়েছে।

ফয়েজ আহমদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্টারলিংক বাংলাদেশের শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করবে, যা লোডশেডিং বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাঁধা থেকে মুক্ত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি নিরবচ্ছিন্ন এবং উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করবে। যেহেতু বাংলাদেশে টেলিকম-গ্রেড ফাইবার নেটওয়ার্কের কভারেজ সীমিত এবং অনেক দূরবর্তী এলাকায় এখনো লোডশেডিং সমস্যা রয়েছে, স্টারলিংক আমাদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, এনজিও এবং এসএমই ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং ডিজিটাল অর্থনৈতিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করবে।’

তিনি জানান, ‘আমরা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের সাথে যৌক্তিক একটি মডেল বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৯ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা চালুর আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে ফয়েজ আহমেদ জানান, বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে তিনি দেশের তরুণ-তরুণীদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন, যারা এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হবেন।

অধ্যাপক ইউনূস তার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানকে নির্দেশ দেন যেন তিনি স্পেসএক্স দলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করেন, যাতে আগামী ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রধান উপদেষ্টা স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সাথে দীর্ঘ টেলিফোন আলোচনা করেন, যাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করা যায়।

সূত্র : বাসস

রোববার ফাইনাল ম্যাচ হলে হারে ভারত

সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল কি রোববার ‘সিনড্রোমে’ ভোগে? ঐতিহাসিকভাবে পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে অত্যন্ত তেমনটাই মনে হবে। কারণ ভারত যখনই আইসিসি আয়োজিত সীমিত ওভারের ক্রিকেটের কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে এবং সে ম্যাচটি রোববার হয়েছে, সেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হেরে গেছে টিম ইন্ডিয়া।

এ ‘ফাঁড়া’ কাটাতে পারেননি সৌরভ গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাও। শুধু মাহেন্দ্র সিং ধোনি একবার সেই ফাঁড়া কাটাতে পেরেছিলেন। তাছাড়া বাকিরা সেই রোববার ‘ফাঁড়ায়’ ভুগেছেন।

সবমিলিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রোববার ছয়টি ফাইনাল (২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ধরা হয়নি) খেলেছে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল। তার মধ্যে পাঁচটিতেই হেরে গেছে। আর এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালও পড়েছে রোববার। যা ভারতের ক্রিকেট ভক্তদের নিঃসন্দেহে ঘুম কেড়ে নেবে।

২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল

ভারতের এই ‘রোববার ফাঁড়া’ শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল থেকে। ১৫ অক্টোবর (রোববার) ম্যাচ ছিল। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৬৪ রান তুলেছিল সৌরভের নেতৃত্বাধীন ভারত। জবাবে ২ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে জিতে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। আর এবারো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ সেই কিউইরা।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল

শুরুটা আহামরি না হলেও পরে দুর্দান্ত খেলে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় দল। ফাইনাল হয়েছিল ২৩ মার্চ (রোববার)। প্রথমে ব্যাট করে ২ উইকেটে ৩৫৯ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ২৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ভারত। আরেকবার আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছিল সৌরভের।

২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল

বাংলাদেশের মীরপুরে ফাইনাল হয়েছিল ৬ এপ্রিল। যথারীতি রোববার পড়েছিল। প্রথম ব্যাট করে ৪ উইকেটে মাত্র ১৩৪ রান তুলেছিল ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত। ১৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জিতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ধোনির অধীন ভারত যে আইসিসি টুর্নামেন্টের চারটি ফাইনাল খেলেছিল ভারত, তার মধ্যে একমাত্র ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই রানার্স-আপ হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া।

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল

পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও ফাইনালে দাঁড়াতেই পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ফাইনাল হয়েছিল ১৮ জুন (রোববার)। প্রথমে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জবাবে মাত্র ১৫৮ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল বিরাটের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। হেরে গিয়েছিল ১৮০ রানে।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল

আর সেই ১৯ নভেম্বর, রোববার পড়েছিল সেই স্বপ্নভঙ্গের দিনটি। প্রথমে ব্যাটিং করে মাত্র ২৪০ রান করেছিল ভারত। ৪২টি বল বাকি থাকতে থাকতেই অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ফাইনাল জিতেছিল। আর তারপর রোহিত, বিরাট, জসপ্রীত বুমরাহ, কে এল রাহুল, মুহাম্মদ সিরাজ, মুহাম্মদ শামিদের ভেঙে পড়ার ছবিগুলো এখনো ভুলতে পারেননি ভারতীয়রা।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের আইসিসি ট্রফি জয়

১. ১৯৮৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৫ জুন (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

২. ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) খেলা হয়েছিল।

৩. ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২ এপ্রিল (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

৪. ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল : ২৩ জুন (রোববার) খেলা হয়েছিল।

৫. ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৯ জুন (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালও রোববার হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর (রোববার) ম্যাচটি হয়নি। পরদিন খেলা হয়েছিল। তবে সেদিনও বৃষ্টির জন্য খেলা পরিত্যক্ত হয়েছিল। যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। (যেহেতু ম্যাচের ফয়সালা হয়নি। তাই হিসেবের মধ্যে ধরা হয়নি।)

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

স্বাধীনতা পুরস্কার নেবেন না বদরুদ্দীন উমর

স্বাধীনতা পুরস্কার না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেখক গবেষক ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমর।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেয়া এই পুরস্কারও আমার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দেয়া হয়।

বায়তুল মোকাররম : এক কাতারে ধনী-গরিবের ইফতার

আসরের পর থেকেই রোজাদারদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম। সূর্য ডোবার সাথে মাগরিবের আল্লাহু আকবার আজানের ধ্বনির সাথে ভ্রাতৃত্বের আবহে পরিণত হয় গোটা মসজিদ। দিনের বাকি সময়টা কারো কারো মধ্য স্তর বিন্যাস থাকলেও দিন শেষে সবাই এক হয়ে যান। ভেদাভেদ ভুলে ধনী গরিব এক কাতারে শামিল হন ইফতারে।

গতকাল সরেজমিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গিয়ে দেখা যায়, আসরের পর থেকেই মসজিদে আসতে শুরু করেছেন নানা পেশার মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী, বড় ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা, পথচারী, ভিক্ষুক, টোকাইসহ নানান বর্ণ পেশার মানুষ।

আগত রোজাদাররা মসজিদের ভিতরে একদিকে সারিবদ্ধভাবে বসছেন। আরেক দিকে ছোট ছোট গ্রুপ করে বসছেন অনেকে। এরই মধ্যে চলছে ইফতার প্রস্তুতির মহা ব্যস্ততা। একদল বড় থালায় মুড়ি, পেঁয়াজু, জিলাপি, খেজুর, কলা, পেঁপেসহ নানান ইফতার সামগ্রী সাজাচ্ছেন। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে বাড়ছে রোজাদারের সংখ্যা। অল্পক্ষণ আগেই মসজিদের প্রধান ফটক থেকেও পথচারীদের ইফতারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই ইফতারের আগ মুহূর্তে ভেদাভেদ ভুলে একীভূত হন হাজার হাজার লোক। দিনের সূর্য ডুবার সাথে ভেসে আসা মাগরিবের আজানের ধ্বনিতে এক কাতারে সবাই শামিল হন ইফতারে।

মসজিদ কমিটির একজন জানান, বরাবরের মতো এবারো বায়তুল মোকাররমের এ ইফতার আয়োজনে রয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তাবলিগ জামাত ও মুসল্লি কমিটি। এখানে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক, আশপাশের দোকানের কর্মচারী, কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ, ভবঘুরে, এতিম-মিসকিন সবাই ইফতারে শামিল হন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুই হাজার মানুষের ইফতার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দৈনিক দুই হাজার জনের ইফতার এবং অন্য একটি সংগঠন থেকে এক হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ এক সাথে এই মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতার করেন। এতে করে প্রতিদিন জাতীয় মসজিদ পরিণত হয় ধনী-গরিবের মিলনমেলায়।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, এখানে কয়েকটি ভাগে ইফতার আয়োজন করা হয়। মসজিদের পূর্ব সাহানের উত্তর দিকে ইফতারির আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দক্ষিণ দিকে আয়োজন করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং তাবলিগ জামাত (জোবায়েরপন্থী)।

এ বিষয়ে তাবলিগ জামাতের আমির (জোবায়েরপন্থী) আবুল কালাম বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইফতারির আয়োজন করছি। আপতত প্রতিদিন ৬৫০ জন মানুষের জন্য ইফতারির ব্যবস্থা হচ্ছে। সামনে আরো বেশি করার ব্যবস্থা করবো।

এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির সদস্য মনসুর হাওলাদার জানান, এখানে প্রতিদিন একই হারে মানুষ হয় না। একেক দিন একেক রকম হয়। যেমন এরই মধ্যে একদিন দুই হাজার মুসল্লির জন্য ইফতারির আয়োজন করা হয়েছে। একদিন ১২০০ জনের। যদি চাহিদা বেশি থাকে তাহলে সে অনুযায়ী আয়োজন হয়।

অন্যদিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উপপরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর সরকারের কাছে আবেদন করেও অনুমতি না পাওয়ার কারণে ইফতারির ব্যবস্থা করা যায়নি। এ বছর অনুমতি পাওয়ায় প্রতিদিন দুই হাজার মুসল্লির জন্য ইফতারি আয়োজন করা হচ্ছে। মানুষ বাড়লে বাড়তি আয়োজনও থাকছে।

আগত একাধিক রোজাদারদের ভাষ্য, সারা দিন রোজা শেষে সবার সাথে ইফতার আনন্দটাই আলাদা। তারা বলেন, এখানে বসে হাজারো মানুষের সাথে বসে ইফতার করলে যে প্রশান্তি তা আর কোথাও নেই। তাই তাদের অনেকেই প্রতি রমজানে এখানে ইফতার করতে আসেন। তা ছাড়া একসাথে বসে ইফতার করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। এমন সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চান না।

জাতিসঙ্ঘ টিমের সাথে শেখ হাসিনার বৈঠকের ভিডিও সম্পর্কে যা জানা গেল

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠকের দাবি ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীনে ফ্যাক্ট চেক এবং মিডিয়া গবেষণা ইউনিট ‘বাংলা ফ্যাক্ট’-এর অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান দেখা গেছে, ২০২৩ সালে লন্ডনে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার ভিডিও আপলোড করে দিল্লিতে জাতিসঙ্ঘ টিমের সাথে বৈঠক দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়।

বাংলা ফ্যাক্ট-এর অনুসন্ধানে শেখ হাসিনার সাথে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠক দাবি ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে এই সত্য ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে আসে।

শেখ হাসিনার যে ছবিটি দিল্লিতে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠক দাবি করে প্রচার করা হয়, একই ছবি দিয়ে লন্ডনে তাকে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের দেয়া সংবর্ধনা বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পায় বাংলাফ্যাক্ট।

ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভিন্ন ঘটনায় পুরনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। সূত্র : বাসস