Home Blog Page 470

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মন্তব্য, আদালতে তলব রাহুল গান্ধীকে

ভারত জোড়ো যাত্রার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে লক্ষ্ণৌয়ের একটি আদালত বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীকে তলব করেছে।

মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌয়ের এমপি এমএলএ আদালতে তাকে হাজির হতে হবে। এ বিশেষ আদালতটি এমপি ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলার বিচার করে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সড়ক নির্মাণ সংস্থা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের (বিআরও) সাবেক পরিচালক উদয় শঙ্কর শ্রীবাস্তব সেনাবাহিনীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মানহানির মামলা করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত জোড়ো যাত্রার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে অরুণাচল প্রদেশে চীনা সৈন্যরা ভারতীয় সৈন্যদের মারধর করছে।

তার এ মন্তব্য তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় এবং ব্যাপক রাজনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি করে। এ সময় অনেক বিজেপি নেতা তাকে দেশদ্রোহী বলে অভিহিত করেন এবং রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে চীনা আতিথেয়তা ও তহবিল গ্রহণের জন্য তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন।

তবে এসব অভিযোগ রাহুল গান্ধীকে চীন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

সূত্র : এনডিটিভি

শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ বিএনপির

গত বছরের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে দেশব্যাপী ৮৪৮ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন দাবি করে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির।

গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

দলটি ৮৪৮ জন নিহতের তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে। একইসাথে দেশব্যাপী হওয়া মামলার এজাহার, পত্রিকার ছবি, অডিও ভিডিও জমা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী আরাফাতসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয় : জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সংস্কার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচন করার জন্য যে সংস্কার লাগে সেটুকুর জন্য জামায়াতে ইসলাম দিতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘সেটি করতে অনেক সময় লাগবে এবং সেটি নির্বাচিত সরকারের কাজ। তবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের পক্ষে জামায়াত।’

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাওস্থ নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার ইসির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিরে সাথে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছি। আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছি। তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করেছি। ২৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

নিবন্ধন নিয়ে আলোচনা হয়েছি কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আদালতের বিষয়। আমরা আশা করি, ন্যায় বিচার পাবো। আশা করি, সুবিচার পাবো।’

দলের প্রতীকের বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রতীক তো আছেই। আশা করি, আমরা আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাবো।’

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্খা স্থানীয় নির্বাচন আগে হোক। আমরা জনগণের এই আকাঙ্খাকে সমর্থন করি। আমরা আনুপাতিক নির্বাচন চেয়েছি, কালো টাকা মুক্ত করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। আরপিওতে ৯১ (এ) সংশোধন করে ইসির ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল। সেটা বহাল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে হয়রানি নিরসনের অনুরোধও করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের দল করার অধিকার আছে। নিবন্ধন শর্ত কঠিন করে সেই অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সেটা সহজ করার জন্য বলেছি। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন পর নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান আনতে বলেছি।’

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একমত কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাস আমাদের কাছে বিষয় না। বিষয় হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করতে হবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার সক্ষমতা জামাতের আছে। আমরা প্রস্তুত।’

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা গুম, খুন নিয়ে যে তদন্ত করেছে সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পায়নি। এই বিষয়ে আপনাদের দলের অবস্থান কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে গতকালকে আমরা গণমাধ্যমে কথা বলেছি। এই তথ্য সঠিক নয়। আমরা চেক করে দেখেছি। আমরা জাতিসঙ্ঘ হিউম্যান রাইটস কমিশনের সাথে তথ্য, যত ফ্যাক্স, যত মেইল সব আমরা রেসপন্স করেছি। এই তথ্যটা কিভাবে এসেছে আমরা চেক করবো। আমরা তথ্য যাচাই করেছি, তথ্যটা সঠিক নয়।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘নিবন্ধন বাতিলের আগে নির্বাচন কমিশনে দলটির সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর। সে সময় নিবন্ধন বাঁচাতে দলটি গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনে জমা দিয়েছিল। ওই দিন তৎকালীন আইনবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার সংশোধিত গঠনতন্ত্রের মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির সাথে বর্জন করে। ২০১৫ সালে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকে দাঁড়িপাল্লা বাদ দিলে স্থানীয় নির্বাচনেও জামায়াতের ভোটে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের এসে সংসদ নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকেও দলটির প্রতীক বাদ দেয় ইসি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেএম নূরুল হুদার কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তৎকালীন ইসি সচিব মো: হেলালুদ্দীন আহমদের ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর দলটিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল।

হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট, এটা প্রমাণিত : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক টিমের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে শেখ হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সাথে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকটি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করেছে জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষণ টিম’ এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাতে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। সত্য যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোই উদঘাটিত হয়েছে। প্রবলেমটা হচ্ছে কী- যখন জাতিসঙ্ঘ বলে তখন আমরা বিশ্বাস করি। আর যখন রাজনৈতিক দলগুলো বলি, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নির্দেশেই গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রকে হত্যা, ভায়োলেন্স সবকিছু হয়েছে। এটি ফুটে উঠেছে প্রতিবেদনে। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট।’

এ সময় তিনি জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক টিমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, আমরা চাইব ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সরকারের হাতে তুলে দিবে এবং তার ও তার সহযোগিদের বিচার আওতায় আনতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কি করবে না, থাকবে কি থাকবে না, কোন পার্টি নিষিদ্ধ হবে, এটি সিদ্ধান্ত দিবে জনগণ। আমরা হচ্ছি, একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা গণতন্ত্রের সব নর্মসকে ধারণ করি, করে আসছি।

তিনি আরো বলেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি বিরোধী। অত্যন্ত জোরালোভাবে বিরোধী। এ ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই আমরা সমর্থন করব না। এখানকার মানুষ এটাতে অভ্যস্ত না। প্রশ্নই উঠতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যত দ্রুত নির্বাচন হবে, ততই দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুরু হবে।’

ট্রাম্প-মোদির আসন্ন বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং কৌশলগত সম্পর্ক প্রাধান্য পাবে

বুধবার দু’দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই সফর নতুন ও বাস্তব অংশীদারিত্বের সূচনা করবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসনের মত বিতর্কিত বিষয় থাকবে। এগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম। ফ্রান্স সফর শেষে মোদি ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত একটি বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

বাণিজ্য উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ট্রাম্পের উদ্বেগ আমলে নিচ্ছে এমনটা প্রদর্শন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি ভারতকে ‘অনেক বড় শুল্ক অপব্যবহারকারী’ দেশগুলোর তালিকাভুক্ত করেছেন। গত মাসে মোদির সাথে ফোনালাপে ট্রাম্প ন্যায্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সোমবার ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট এ ধরনের উদ্বেগের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

আমেরিকান বেসিক ক্যাবল বিজনেস নিউজ চ্যানেল সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারতে অনেক বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে’ যা আমদানি স্থবির করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য উত্তেজনা এড়াতে চায় নয়াদিল্লি। এ মাসের শুরুতে তারা ঘোষণা দেয়, তারা এমন কিছু পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমাবে যা আমেরিকার রফতানিকারকদের জন্য লাভবান হবে, যেমন উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেল ও গাড়ি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অন্যান্য ছাড়ও দিতে পারে। এই পদক্ষেপ আমেরিকান পণ্যগুলোর ভারতের বাজারে প্রবেশাধিকার পেতে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ভারতের ঝুঁকি অনেক বেশি-যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১১৮ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৩ সালে ভারতের পক্ষে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

অভিবাসন উভয় দেশের জন্য আরেকটি উদ্বেগের বিষয়। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতামূলক ব্যবহার করেছে এবং বলেছে, তারা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক বিমানে ভারতে ফিরিয়ে আনার সময় ১০৪ জন অনিবন্ধিত ভারতীয়কে ৪০ ঘণ্টা ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হইচই ফেলে দেয় এবং তারা এর প্রতিবাদ জানায়। সূত্র : ভিওএ

ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ বাংলাদেশী নারী ক্রিকেটার

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারো ফিক্সিং কাণ্ড। আবারো লাল-সবুজের পতাকায় লেপন হলো কলঙ্ক। এবার দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন সোহেলি আক্তার। যার জেরে পেয়েছেন বড় শাস্তি। হয়েছেন ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।

আইসিসির দুর্নীতি দমন কোডের পাঁচটি বিধান লঙ্ঘন করেছেন সোহেলি। যার দায়ে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

সোহেলির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সাল থেকে। যা চলবে ২০৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে বলাই যায় এক প্রকার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল সোহেলির।

২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কোনো এক ক্রিকেটারকে মোবাইল ফোনে ফিক্সিংয়ের বার্তা পাঠান সোহেলি। তবে তাতে রাজি হননি ওই ক্রিকেটার, উল্টো তিনি আইসিসির দুর্নীতি কমিশনকে এ কথা জানিয়ে দেন।

তাদের দু’জনের কথোপকনের অডিও ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে জানা যায়, জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটার সোহেলি আক্তার বিশ্বকাপ দলের এক সদস্যকে নিয়মবহির্ভূত প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই ক্রিকেটার প্রস্তাবে রাজি হননি।

জাতীয় দলে থাকা সেই ক্রিকেটার ঘটনাটি দ্রুত টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান। টিম ম্যানেজমেন্ট পরে বিষয়টি বিসিবিকে জানায়। বিষয়টি দ্রুত আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিইউ) নজরেও আনা হয়।

এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি দুই বছর তদন্ত করেছে এসিইউ। আর মোট পাঁচটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে শাস্তি দেয় তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হয়ে সব মিলিয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি ও ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন সোহেলি আক্তার। সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২০২২ সালে।

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নিরাপত্তা ও উন্নয়ন : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুসংহত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা অফুরন্ত।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৫তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে দেয়া আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৫তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে এ বাহিনীর নিবেদিতপ্রাণ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাই। দেশের তৃণমূল প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এ বাহিনীর রয়েছে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং মানুষের দুয়ারে সেবা পৌঁছে দেয়ার মতো কার্যকর নেটওয়ার্ক।’

তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিভিন্ন দুর্যোগে আক্রান্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় এ বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব বহুবিধ সংস্কার কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিল্পকারখানা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে ৫০ হাজারেরও অধিক অঙ্গীভূত আনসার সদস্য কাজ করছে।

ড. ইউনূস বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহে নিরাপত্তা প্রদানে এ বাহিনীর ভূমিকা দৃশ্যমান। যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাহিনীর গৃহীত অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপসমূহ আগামীতে এই বাহিনীকে আরো বেশি জনসম্পৃক্ত করে তুলবে।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং দেশ গড়ার কাজে তাদের অব্যাহত কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

সূত্র : বাসস

সরকারি দফতরের ডেভিলদের আগে ধরতে হবে : মির্জা আব্বাস

সরকারি দফতরে ঘাপটি মেরে থাকা ডেভিলদের আগে ধরার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ডেভিল হান্ট অপারেশন করছেন-ঠিক আছে। কিন্তু বনে জঙ্গলে ডেভিল না খুঁজে সরকারি দফতরের ডেভিলদের খুঁজে বের করুন। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এখনো আওয়ামী প্রেতাত্মারা বসে আছে। এরাই এই সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কমলাপুরে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে মুগদা থানা বিএনপি।

বিএনপির নির্বাচন চাওয়ার দাবির সমালোচনার জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি মানুষের ভোটাধিকারের জন্যইতো দেড় যুগ ধরে আন্দোলন করেছে। হাজার হাজার কর্মী জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে-এটাতো নতুন দাবি নয়।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। আর কেউ কেউ চাচ্ছেন স্থানীয় নির্বাচন দিতে। তারা জানেন না এখন গর্তে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা স্থানীয় নির্বাচনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে মাথা বের করবে। এটা অশুভ চক্রান্ত।’

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি মহাসচিবের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র এ নির্বাচন বানচাল করতে না পারে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় কর্মশালাটিয় উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিব।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা বিলীন করতে সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ৩১ দফার আলোকে দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং সহযোগীদের বিচার যেকোনো মূল্যে সম্পন্ন করার মাধ্যমেই এদের অপরাজনীতি নির্মূল করতে হবে।’

জুলাই হত্যা মামলার রায় অক্টোবরের মধ্যে : আসিফ নজরুল

জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়ের হওয়া তিন থেকে চারটি মামলার বিচারের রায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

এসব মামলায় শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও সাবেক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলার নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলাবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন শ’র বেশি অভিযোগ দায়ের করা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিম যাচাই-বাছাই করে ১৬টি মামলা দায়ের করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। এই ১৬টি মামলার মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত কাজ এই মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আমরা আশা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর পর আইন অনুযায়ী তিন সপ্তাহ সময় এটা ডিফেন্স টিমকে দিতে হয়। ঈদের পর এপ্রিল মাস থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে’।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘মামলার রায় পরবর্তী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করা যাবে বলে আমরা আশা করি। অর্থাৎ এই হিসাবে অক্টোবরের মধ্যে আমরা তিন-চারটা মামলার রায় পেতে যাচ্ছি বলে আমরা আশা করি’।

এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই পলাতক রয়েছেন।

শেখ হাসিনাকে কি ভারত ফেরত দেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এই আইনে যারা পলাতক আছেন, পলাতকের বিচারের বিধান রয়েছে। আমরা তাকে (শেখ হাসিনাকে) আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ভারতের মনোভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তারা নানান অজুহাতে এটাকে নাকচ করার চেষ্টা করবে’।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, পুরো বিচার শেষ হতে ট্রাইব্যুনালের এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে।
সূত্র : বিবিসি

দেশে ছেড়ে পালানোর সময় শেখ হেলালের ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেফতার

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনের ব্যক্তিগত সহকারী হোসেন মুহাম্মদ মুরাদ ওরফে সোহেল মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকিট চেকিংয়ের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, মুরাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।