Home Blog Page 474

নিউইয়র্কের টাইমস্ স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণ ১২ এপ্রিল, জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ১৩ এপ্রিল

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ১৪৩২ বাংলা বর্ষবরণের ঘোষণা দিয়েছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে এবারের আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রথিতযশা শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। ২০২৫-এর ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ার এবং ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় দুদিনের আয়োজনে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করা হবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর প্রধান বিশ্বজিত সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলা বর্ষবরণ ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়কে আহ্বায়ক এবং অভিনেত্রী লুৎফুন্নাহার লতা এবং নৃত্য শিল্পী লায়লা হাসান শুভেচ্ছা দূত করা হয়। এরপর রথীন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে তিনটি দেশাত্মবোধক গান পারিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক স্টেটের সর্বোচ্চ আইনপ্রনয়নকারী সংস্থা স্টেট সিনেট সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখকে এই অঙ্গরাজ্যের বাংলা নববর্ষ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের স্বীকৃতি হিসাবে ও এই রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালির জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ সেকথা উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটিতে বলা হয়, প্রতি বছরই বিপুল সমারোহে এই দিনটি উদযাপিত হয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে দিবসটি নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক স্টেট বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের গৌরবময় সাফল্যের, বিশেষত এই রাজ্যে বসবাসরত বাঙ্গালিদের অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে ১৪ এপিল পহেলাকে এই রাজ্যে বাংলা নববর্ষ হিসাবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটর আমেরিকায় বিশেষ অবদানের জন্য শিকাগো টাওয়ার খ্যাত প্রকৌশলী এফ আর খান, Leaving the world behind খ্যাত রুমানা আনম, লেখক ঝুম্পা লাহিড়ী , অমিতাভ ঘোষ, ইকবাল কাদির, ইউটিউবের কো ফাউন্ডার জাওয়েদ করিম, খান একাডেমীর ফাউন্ডার সালমান খান, ওমর ইশরাকসহ কৃতি বাঙালিদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ও সিইও বিশ্বজিত সাহার উদ্দোগে সিনেটর Luis Sepulveda সিনেটে প্রস্তাবনাটি তুলে ধরেন। গতকাল ২২ জানুয়ারী এটি গৃহীত হয়। বিশ্বজিত সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে বিশ্ববাঙালি রয়েছে এই স্বাীকৃতি সকলকে উজ্জীবিত ও গৌরবান্বিত করবে। উল্লেখ্য এন আর বি ওয়াল্ড ওয়াইডের উদ্যেগে গত ২০২৩ সাল থেকে টাইমস স্কয়ারে বিশ্ববাঙালিরা বাংলা বর্ষবরণ করে আসছে।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্না দেশে, যেমন লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন অভিবাসীর কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এই রাজ্যে নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসসবাসের জন্য যুক্ত্ররাষ্ট্রে আসছেন। এদের অর্ধেকই নিউইয়র্কের বাসিন্দা।

নিউইয়র্কে বাহারি পিঠার স্বাদ-গন্ধ নিয়ে জালালাবাদ’র শীতকালীন পিঠা উৎসব

নিউইয়র্ক : ঐতিহ্যপ্রিয় বাঙালির ঘরে শীত এলেই হাজির হয় পিঠার আমোদ। তবে প্রবাসে সেই পরিচিত দৃশ্য নেই বললেই চলে। তাইতো শীত এলে প্রবাসীদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেয় পিঠা উৎসবে গ্রামে-গঞ্জে সেই কৃষাণী আর গৃহস্থবাড়িতে টাটকা চালে তৈরি হয় বাহারি পিঠা-পুলি। পিঠার মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ব্রংসের গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে।
বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে উঠেছে এক একটি পিঠা। কনকনে শীতের সন্ধ্যায় গ্রামে চুলার পাশে বসে যেমন পিঠা খাওয়া হতো, তেমনি এখানেও যেন একই দৃশ্য। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে সেলফি তুলে পিঠা খাওয়ার দৃশ্যকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টাও লক্ষণীয়।

রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র উদ্যোগে শীতকালীন পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। এ সময় সোসাইটি সভাপতি বলেন, পিঠা বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। শীত আর পিঠা একে অপরের পরিপূরক। বাংলার গ্রামের মা, চাচি, খালা, বোন, ভাবিদের চিরায়ত সেই ঐতিহ্য আমাদের প্রবাস জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে। আবহমান বাংলার এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে পিঠা উৎসবকে জালালাবাদ এসোসিয়েশন এই উদ্যোগ স্বাগত জানান ও এরকম অনুষ্টান আরো আয়োজন উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি অনুরোধ জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর বোর্ড অব ট্রাস্টি বদরুন নাহার খান মিতা, ছদরুন নুর, সৈয়দ নাজমুল হাসান কুবাদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি আব্দুস সহিদ, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিল্লু, বাংলাদেশ সোসাইটি সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সুহাগ, মৌলভীবাজার ডিস্টিক সোসাইটির সভাপতি সোহান আহমেদ টুটুল সাবেক সভাপতি তজুমুল হোসেন, হবিগঞ্জ সদর সমিতির সভাপতি মিয়া মোঃ আছকির সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি সাধারণ সম্পাদক মোতাহের রুবেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সাবেক নির্বাচন কমিশনার একে এম কামাল, সাবেক সহ সভাপতি সাব্বির হোসেন ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সাইকুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক সাবেক সহ সভাপতি জোসেফ চৌধুরী, গীতা পাঠ করেন কবি সুধাংশু মন্ডল। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিঠা উৎসব এর আহ্বায়ক মোঃ জাবেদ উদ্দিন, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির সোহেল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক-এর সহ সভাপতি শফিউদ্দিন তালুকদার শফি, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী প্রমুখ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নাম এবং পরিচয় ঘোষণা করেন এদের মধ্যে যারা ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদের সহধর্মিনী আতিকা মহসিন সুমি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের সহধর্মিনী সাজনা হাকিম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিল্লু সহধর্মিনী লুৎফা জিল্লু, সাবেক সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের সহধর্মিনী সাহিদা হোসেন মুক্তা, কমিউনিটি মহিলা উদ্যোক্তা মাকসুদা আহমেদ, ফারজানা লতিফা, সুরাইয়া আলম লাকি, মনজুরা আহমেদ অলি, তাসলিম আরা লিমা, সুলতানা আহমদ, রাহিমা বিনতে উদ্দিন, আয়েশা খাতুন, সামিয়া আক্তার, রুজি আপা, সপসি দেবনাথ, সুস্মিতা দেব, জুলি বেগম, শাকিলা রিতা, নাছরিন চৌধুরী, মাছুদ আহাদ প্রমুখ।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর পিঠা উৎসবে সিলেট সহ গ্রামবাংলার হরেক রকম প্রায় ৩০টি পিঠা সাজানো হয়েছে এ উৎসব। এসব পিঠার মধ্যে মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, কলা পিঠা, খেজুর পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, তেলের পিঠা, দুধ চিতই, ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, নকশি পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, সেমাই পিঠা, নোন পিঠা, পিঁয়াজু, চানা মুড়ি, বরপি পিঠা, গোলাপ পিঠা, চট্টগ্রাম ঐতিহ্যবাহী বিন্নি পিঠা উল্লেখযোগ্য।
বাঙালি ঐতিহ্যে কী সুন্দর করেই মা-বোনেরা তাদের কাছের মানুষগুলোকে পিঠা পরিবেশন করেন। এটাই যেন তাদের সৌন্দর্য। ঠিক তেমনি ঘরের আপ্যায়নের মতোই আপ্যায়ন মিলে এই পিঠা উৎসবে। পিঠা খাওয়া পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় গান, আবৃত্তি, অ্যাক্রোবেটিকসহ ও পথনাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা।
এসময় উপস্থিত জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সহ-সভাপতি মোঃ শফিউদ্দিন তালুকদার, সহ সভাপতি মোঃ জাবেদ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলিম, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, ক্রিয়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কার্যকারি সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ, হুমায়ূন কবির সোহেল ও মোঃ ফজল খান প্রমুখ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, ক্যাপ্টেন মোতাসির মিয়া, ফেঁচুগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, ফেঁচুগঞ্জ অর্গানিজেশন সভাপতি মাহবুব আলম ও সাবেক সভাপতি জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, মরহুম কামাল আহমেদের কন্যা সেবা এইড এর সাধারণ সম্পাদক রুমানা আহমেদ, ব্রংস বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি সামাদ মিয়া জাকের, কমিউনিটি একটিভেস্ট আব্দুর রহিম বাদশা, কুমিল্লা সোসাইটির সাবেক সভাপতি কোভিদ আহমেদ ভূঁইয়া, বাকার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ফারিদা ইয়াসমিন, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সর্পন, হবিগঞ্জ বৃন্দাবন এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সহ সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, কমিউনিটি এক্টিভেষ্ট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, কুলাউড় এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ, মৌলভীবাজার ডিস্টিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি তজুমুল হোসেন, বর্তমান সহ-সভাপতি সৈয়দ কাসেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আহমেদ, উপদেষ্টা মিয়া মোঃ আলতাফ হোসেন, আব্দুল গফুর, সৈয়দ মোস্তাক, আল আমিন জামে মসজিদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কয়েছ আহমদ, কমিটির এক্টিভেষ্ট সামছুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল কাউয়ুম পারভেজ, কবি মোঃ আবু তাহের চৌধুরী, শামীম আহমেদ, সৈয়দ শাহান, সৈয়দ কামরুল হাসান, পারভেজ ফয়সল ও ইতালি প্রবাসী বাবুল প্রমুখ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত অতিথি সহ সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম সকল জালালাবাদবাসী এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং অনুষ্ঠানে কোন ধরনের ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি আবেদন করেন।
এবং আগামী ২ মার্চ জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক-এর আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ।

স্বৈরাচারী শাসনামলের নৃশংসতা নথিভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত সকল নৃশংসতার সঠিক নথিভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এর মধ্যে শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং বছরের পর বছর ধরে ঘটে যাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই দেশে জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল নৃশংসতার যথাযথ নথিভুক্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদি এসব ঘটনার যথাযথ নথিভুক্তি না করা হয়, তাহলে সঠিক তথ্য জানা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।’

আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইস এবং জাতিসঙ্ঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর দফতরের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ বলেন।

আবাসিক সমন্বয়কারী লুইস বলেন, ‘জনগণের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ঘটনাসমূহ যথাযথ অধিভুক্ত করতে জাতিসঙ্ঘ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এটি এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং সত্য প্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া।’

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের বিষয়ে অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় প্রধান উপদেষ্টা জাতিসঙ্ঘকে ধন্যবাদ জানায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি যে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটি প্রকাশ করা সহজ কাজ ছিল না। তবে যথা সময়ে এটি তারা প্রকাশ করেছে।

আবাসিক সমন্বয়কারী লুইস প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফোলকার তুর্ক আগামী ৫ মার্চ জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রিফ করবেন।

আবাসিক সমন্বয়কারী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পুনরায় বৈশ্বিক মনোযোগে আনবেন, বিশেষ করে যখন এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আর্থিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, প্রতি মাসে শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হয়, যা অন্যান্য মৌলিক চাহিদার সাথে যুক্ত।

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব গুতেরেস আগামী ১৩ থেকে ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবেন।

সূত্র : বাসস

খালেদা জিয়াকে খালাসের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি সোমবার

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাসের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি আগামীকাল সোমবার।

আজ রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলামসহ তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন- উভয়পক্ষেরই করা লিভ টু আপিলের শুনানি একসাথে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালেদা জিয়াকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে।

২০১১ সালের আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করে দুদক।

এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তিনি তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে এই ট্রাস্টের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন।

ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করে বিশেষ জজ আদালত।

ভেঙে গেল ১২ দলীয় জোট

শনিবার (১ মার্চ) জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যানের রাজধানীর খিলগাঁও কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির (জাফর) নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে জোট থেকে বের হয়ে গেলেও বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে সকল আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয় পার্টি (জাফর) অংশীজন হিসেবে সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম জোরদার করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক এমপি আহসান হাবীব লিংকন, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি নোয়াব আলী আব্বাস খান, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা আহসান, আলহাজ্ব সেলিম মাস্টার, ব্যারিস্টার মোস্তফা হায়দার জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মাওলানা রুহুল আমিন, অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, কাজী মো: নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন মিয়া, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক লোকমান পাটোয়ারী, দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ছাত্র সমাজের সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, যুব সংহতির আহ্বায়ক রইস উদ্দিন, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টি (জাফর) সাবেক এমপি আহসান হাবিব লিংকন বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে ১২ দলীয় জোটের কতিপয় নাম সর্বোচ্চ নেতার কার্যকলাপ নিয়ে জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার প্রেক্ষাপটে আজ নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় আজকে থেকে মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোট থেকে জাতীয় পার্টি (জাফর) বেরিয়ে এককভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

একইসাথে বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করার জন্য মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জাফর) রাজপথে লড়াই অব্যাহত রাখবে। আজ থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ দলীয় জোটের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিলাম।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, শনিবার অনুষ্ঠিত দলের জরুরি সভায় জাতীয় পার্টির (জাফর) নেতারা ১২ দলীয় জোটের দীর্ঘ দিনের কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জোটের কয়েকজন নাম সর্বোচ্চ নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সকল নেতারা দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে ১২ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড ছাপ সৃষ্টি করেন। তারপর সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ দলীয় জোট বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার।

ইংরেজিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষা হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইংরেজিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষা হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইংরেজিকে সরকারি ভাষা করার মাধ্যমে তা যুক্তরাষ্ট্রে সংহতি বয়ে আনবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, অনেক দিন আগে থেকেই ইংরেজিকে দেশের দাফতরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আদেশে বলা হয়, ‘একটি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত সমাজের মূলে রয়েছে জাতীয়ভাবে মনোনীত একটি ভাষা। একটি সুনির্দিষ্ট ভাষায় স্বাধীনভাবে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জাতীয় মূল্যবোধকে শক্তিশালী করবে এবং আরো সুসংহত ও দক্ষ সমাজ গঠন করবে।’

এই আদেশটি ১৯৯০-এর দশকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে নেয়া আদেশটি রদ করেছে। সে সময় ফেডারেল সংস্থা ও ফেডারেল তহবিল প্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে অ-ইংরেজি ভাষাভাষীদের সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

তবে নতুন আদেশে বলা হয়, ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কতটা সাহায্য প্রদান করা হবে তা নির্ধারণ করবে সংস্থাগুলো।

নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘এই আদেশের কোনো কিছুই কোনো সংস্থার পরিষেবাগুলোতে কোনো পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় না।’

এতে আরো বলা হয়, সংস্থা প্রধানদের ‘তাদের নিজ নিজ সংস্থার লক্ষ্য পূরণ ও মার্কিন জনগণকে দক্ষতার সাথে সরকারি পরিষেবা দেয়ার জন্য কী প্রয়োজন তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।’

ট্রাম্প তার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই দেশটিতে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তার অনেক আদেশই আদালত স্থগিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ টিরও বেশি ভাষায় কথা বলা হয়।

তবে আদেশে বলা হয়, ‘ইংরেজি আমাদের প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই প্রচলিত রয়েছে এবং আমাদের জাতির ঐতিহাসিক পরিচালনা দলিল। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানসহ সবই ইংরেজিতে লেখা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা। কিন্তু ২০১৯ সালের মার্কিন সরকারের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ছয় কোটি ৮০ লাখ মানুষ বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলে। অনুমান করা হয় আমেরিকার চার কোটির বেশি মানুষ বাড়িতে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে।

চীনা ও ভিয়েতনামীসহ অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠী ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি স্থানীয় আমেরিকান ভাষা রয়েছে।

সূত্র : বাসস

ট্রাম্পের সাথে বাগবিতণ্ডা : যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সমর্থন পেলেন জেলেনস্কি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সাথে সাক্ষাত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় স্টারমার তাকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য জুড়ে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন’ আছে।

জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত যে তার দেশের এমন বন্ধু আছে। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আগে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে বাগবিতণ্ডার পর তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বলা হয়েছিল।

জেলেনস্কি এবং স্যার কিয়ের ইউক্রেনে সামরিক সরবরাহের জন্য ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তিতে সই করেছেন। এই অর্থ জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদের মুনাফা থেকে শোধ হবে।

শনিবারের বৈঠকের পর স্যার কিয়ের স্টারমার ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে কথা বলেছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা এবং বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তার বিষয়ে রোববার লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের একটি সম্মেলন আয়োজন করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জেলেনস্কি রাজা চার্লস তৃতীয়-এর সাথে সাক্ষাত করবেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সেতু হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়ে যে কম জড়িত হতে চাইছে, সেই আকাঙ্ক্ষা ইউরোপও গ্রহণ করেছে।

জেলেনস্কির এক দিন আগে কিয়ের স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আন্তরিক পরিবেশেই বৈঠক করেছিলেন।

বৈঠকের সামনে তিনি ট্রাম্পের কাছে রাজার একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু ওভাল অফিসের ঘটনার পর এসএনপি এমপিরা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ওভাল অফিসের বাগবিতণ্ডার ঘটনার পর স্যার কিয়ের ফোনে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সাথে যোগাযোগ করেছেন। তিনি ইউক্রেনের জন্য একটি উপায় বের করতে চান, কারণ তারা শান্তি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইছেন।

শনিবার জেলেনস্কির ডাউনিং স্ট্রিট সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য অব্যাহত সমর্থন জানানোর একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

এ সময় বাইরে জনতার উল্লাসের কথা উল্লেখ করে তিনি ইউক্রেনের নেতাকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের মানুষ এভাবেই বাইরে এসে দেখিয়েছে যে তারা আপনাকে ও ইউক্রেনকে কতটা সমর্থন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আপনার ও ইউক্রেনের সাথে আছি যতটা দীর্ঘ সময় দরকার।’

জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি অনেক মানুষ দেখেছি এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাজ্যের মানুষকে এমন বড় সমর্থনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

তিনি জানান, রাজা চার্লসের সাথে বৈঠক নিয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং ইউরোপিয়ান সম্মেলনের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এটা পরিষ্কার যে রাজার সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বৈঠকটি হচ্ছে তারই অনুরোধে, যাতে যুক্তরাজ্য সরকার সায় দিয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের বৈঠকের পর জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যে সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড এর বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, এই অর্থ ইউক্রেনে অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত হবে। এটি সত্যিকার ন্যায় বিচার। যারা যুদ্ধ শুরু করেছে তাদের অবশ্যই মূল্য দিতে হবে। এই ঋণের ঘোষণাটি প্রথম দেয়া হয়েছিল গত অক্টোবরে।

হোয়াইট হাউজের ঘটনার পর জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিতর্ক সত্ত্বেও আমরা কৌশলগত অংশীদারই আছি। কিন্তু আমাদের পরস্পরের সাথে সৎ হওয়া দরকার এবং সরাসরি যৌথ লক্ষ্যগুলো সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করা দরকার।’

পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুদ্ধের অবসান চান, কিন্তু কেউই আমাদের চেয়ে বেশি শান্তি চায় না। আমরা ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যে বাস করছি। এটা আমাদের মুক্তির, আমাদের টিকে থাকার লড়াই।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে ওয়াশিংটনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিক্রিয়ায় রোববারের বৈঠকই শীর্ষ ইউরোপীয় নেতাদের সর্বশেষ রাউন্ডের বৈঠক।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে রাশিয়ার সাথে প্রাথমিক আলোচনায় ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। রোববারের আলোচনার শীর্ষ অ্যাজেন্ডা থাকবে ইউরোপের নিরাপত্তা সক্ষমতা আর হোয়াইট হাউজের কাছ থেকে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি আদায় করা।

এর আগে প্যারিস সামিটের পূর্বে ইউক্রেনে ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্যার কিয়ের। তবে বলেছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দরকার হবে।

শান্তি চুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়টি ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তবে তিনি ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা বলেছেন, যার আওতায় একটি খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

এখন শুক্রবার ওভাল অফিসে বাগবিতণ্ডার পর ট্রাম্প ইউক্রেনের সহায়তা কমিয়ে আনার কথা চিন্তা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।

একইসাথে ইউরোপীয় নেতারা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী এই মুহূর্তে অতিরিক্ত সামরিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত নয়।

রোববার স্যার কিয়ের ও জেলেনস্কি ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান এবং ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল উপস্থিত থাকবেন।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি স্পেশাল প্যাকেজ ৬ মার্চ ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ওদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও লড়াই অব্যাহত আছে। খারকিভে রাতভর ড্রোন হামলায় সাতজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। রাশিয়ায় এক রাতেই ৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র : বিবিসি

ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির সম্পর্ক ঠিক করতে হবে : ন্যাটো প্রধান

সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট শনিবার বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করা।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর তিনি জেলেনস্কির সাথে দু’বার ফোনে কথা বলেছেন।

ট্রাম্পের সাথেও ফোনে কথা বলেছেন উল্লেখ করে রুট জানান, ফোনালাপে কী আলোচনা হয়েছে তা বলার অনুমোদন তার নেই।

ন্যাটো প্রধান আরো জানান, তিনি জেলেনস্কিকে বলেছেন যে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য যা করেছেন তার জন্য তাকে সম্মান করা উচিত।

রুট জানান, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে আগের দিনের বাগ্বিতণ্ডা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং তাদের সম্পর্ক মেরামত করা দরকার।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মার্কিন নেতৃত্ব দলের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি উপায় খুঁজে বের করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

রুট স্মরণ করে বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছিল।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

হোচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ

আবারো হোচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ। ছন্নছাড়া ফুটবলে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খোলসবন্দী হয়ে থাকল লস ব্লাঙ্কোজরা। তাতে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সাথে বেড়েছে ব্যবধান, কঠিন হয়ে উঠছে শিরোপার লড়াই।

লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিয়াল বেতিসের কাছে হেরে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার ঘরের মাঠ বেনিটো ভিলামারিনায় রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল বেতিস।

এদিন ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর যখন নিজেদের আরো শক্তিশালী করবে তারা, তখন সময়ের সাথে সাথে আরো পিছিয়ে পড়ে লস ব্লাঙ্কোজরা। একটা সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ম্যাচের।

সেই সুযোগে প্রবল চাপ দিল রেয়াল বেতিস। জোড়া সাফল্যও পেয়ে গেল তারা। আগে অনেক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখা রিয়াল এদিন আর তেমন কিছুই করতে পারেনি, দর্শকদের উপহার দেয় হতাশা।

শুরুটা ছিল ভিন্ন। ম্যাচের দশম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ফরাসি লেফট ব্যাক মেন্ডির পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাহিম দিয়াজ। তবে ২২ মিনিটে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ মিলেছিল বেতিসের।

ইসকোর নেয়া ফ্রি কিক রুডিগার ক্লিয়ার করলেও বলের দখল নেন অ্যান্টনি, তারই বানিয়ে দেয়া বলে রিকার্ডো রদ্রিগেজ শট নিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বেঁচে যায় সফরকারীরা।

এরপর পর এক আক্রমণ করে গোলও আদায় করে নেয় বেতিস। ৩৪তম মিনিটে ইসকোর কর্নার থেকে হেডে গোল করে বেতিসকে সমতায় ফেরান জনি। রিয়াল দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যেতো দ্রুতই। তবে বিরতির ঠিক আগে কোর্তোয়ার নৈপুণ্যে বেঁচে যায় রিয়াল।

বেতিসের মিডফিল্ডার কার্দোসোর হেড ঝাঁপিয়ে কোনোমতে আটকান বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক। তাতে সমতা ধরে রেখেই বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে বেতিস। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে এগিয়েও যায় স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের ভেতরে বেতিসের ফুটবলারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রিয়াল ডিফেন্ডার রুডিগার।

একইসাথে পেনাল্টি পায় বেতিস। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবলার ইসকো। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

বাকি সময়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রিয়াল। ফলে বেতিসের বিপক্ষে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এই হারে বার্সেলোনাকে টপকে শীর্ষে ওঠার সুযোগ হারাল রিয়াল।

লিগে ২৬ ম্যাচে এটি রিয়ালের চতুর্থ হার। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনেই রইল তারা। আর এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে বার্সা।

আর দিনের অন্য ম্যাচে অ্যাটলেটিকো বিলবাওকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৬ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। এদিকে ২৬ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে এসেছে রিয়াল বেতিস।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোতে মাঠে নামার আগে বেতিসের কাছে হার রিয়ালের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিলো।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমামতি ফেরত পেলেন মুফতি আবুল খায়ের

১৫ বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়েছে বরেণ্য আলেম মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহকে।

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদ-উল-ফিতরের ১৯৮তম জামাত উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান। এতে ঈদের জামাত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবারো শোলাকিয়ায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের জামাত সকাল ১০টা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি ছাড়াও সেনাবাহিনী

স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করবে।

প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো: রমজান আলী, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো: আল আমিনসহ অনেকেই মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহকে ইমাম হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের মেজর রায়হান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারী কাদেরী, সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম, জেলার পিপি অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন, জিপি অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া ও আমিনুল ইসলাম আশফাক, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি আলমগীর হোসাইন তালুকদার, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: আল আমিন, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন, সদস্য সচিব মো: ফয়সাল প্রিন্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভা সঞ্চালনা করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো: এরশাদ মিয়া।

উল্লেখ্য, শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির বৈধ নিয়ম অনুযায়ী ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: শাহ কামাল তাকে বেআইনিভাবে

সরিয়ে দেন। পাশাপাশি মোতাওয়াল্লির অধিকারকেও ছিনিয়ে নেয়া হয়। ওয়াকফ দলিলকে তোয়াক্কা না করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শাহ কামাল ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেন বেসরকারি এনজিও ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান বিতর্কিত আলেম ফরীদ উদদীন মাসউদকে। তখন এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করে ঈদের জামাত নিয়ন্ত্রণ করে। মুফতি ছাইফুল্লাহর আগে তার বাবা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ নুরুল্লাহ (রহ:) ৩০ বছর শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে অবৈতনিক দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ১৫ বছর শোলাকিয়া ইমামের পদ থেকে সরিয়ে রাখা হয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আবুল খায়ের মুহাম্মদ নুরুল্লাহ রহ:-এর সন্তান ও কিশোরগঞ্জের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহকে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম পরিবর্তনেরও দাবি উঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সোচ্চার হন অনেকেই। তাদের দাবি, ‘চাপিয়ে দেয়া’ ইমামকে অবিলম্বে সরিয়ে মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত আগের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মো: সাইফুল্লাহকে আবারো ইমামের দায়িত্ব দিতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহকে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।