Home Blog Page 479

গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় জাতিসঙ্ঘকে অভিনন্দন জামায়াতের

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় হাইকমিশনকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে অমানবিক ও নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে, তারই স্বীকৃতি পাওয়া গেল বিশ্ব সংস্থা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। খুনি ও খুনিদের মাস্টারমাইন্ডদের তথ্য ও পরিচয় এই তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছে জাতিসঙ্ঘ। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ‘সত্য’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশেই যে গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছে তা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হলো। এতে গোটা জাতি স্বস্তিবোধ করছে এবং অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আশান্বিত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে- খুনি শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশে গণহত্যা সংঘটিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। খুনিদের মাস্টারমাইন্ড ও তার দোসরদের মাধ্যমেই দেশের নাগরিকদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন, গুম এবং বীভৎস ও লোমহর্ষক গণহত্যা চালানো হয়েছে। লাশ স্তুপ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আয়নাঘর বানিয়ে দেশের মানুষকে গুম ও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মজলুমের পক্ষে নয়, বরঞ্চ মজলুম বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের এই রিপোর্ট গণহত্যার দলিল হয়ে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে সকল গণহত্যাকারী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ মনে করে, গণহত্যার অপরাধে অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এই জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবির বিষয়টিও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’-বিজ্ঞপ্তি

কেরু কোম্পানি চত্বরে আবারো বোমা, চরম আতঙ্ক গোটা এলাকা

আবারো দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (চিনিকল) প্রতিষ্ঠানের চত্বরে কালো টেপ মড়ানো বোমা দেখতে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা এটি ককটেল বোমা হতে পারে।

এক দিনের ব্যবধানে আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চত্বরে আবারো ককটেল বোমা পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, শনিবার সকালে কেরু কোম্পানি চত্বরে ছাগল চড়াচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে কালো টেপ মড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের জানায়। তবে প্রায় একইস্থান অর্থাৎ এক শ’ মিটার দূরেই একটি বোম পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্ক অবস্থানে আছেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জেনারেল অফিস সংলগ্ন ক্লাবের পাশের ঝোড়ের মধ্যে লাল টেপ মড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান কোম্পানির কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীরা। বোমা হতে পারে এই সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে খবর দেন তারা। এই নিয়ে দিনব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বোমা সদৃশ্য বস্তু সন্দেহে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এটিকে ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে রাত ৯টার দিকে রাজশাহী থেকে র‍্যাব-৫ এর ছয় সদস্যের একটি বোমা নিস্ক্রিয়দল ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায়।

স্থানীয় ও প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকরত কয়েকজন না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানে সদ্য স্থগিত হয়ে যাওয়া শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, আবারো একই ধরনের কালো টেপ মোড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেছে। এটাও ককটেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ পূর্বের পাওয়া ককটেলের সাথে এটার হুবহু মিল হয়েছে। তবে আজকেরটা কালো টেপ মড়ানো। রাজশাহী র‍্যাবের বোমা নিস্ক্রিয় টিমকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতবারের ঘটনায় কেরু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।

সূত্র : ইউএনবি

ছাত্রদের দল গঠনে প্রাধান্য পাবে আন্তর্জাতিক যেসব মডেল

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। কোনোটি টিকে আছে, কোনোটি হারিয়ে গেছে। এই দলগুলোর কোনোটি ডান, কোনোটি বামপন্থী আদর্শের। কোনো দল জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দেয়, আবার কোনোটি ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়েছে।

স্বাধীনতার পর নতুন যেসব দল গঠিত হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল হয়ে উঠেছে বিএনপি। দলটি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায়ও গেছে।

এর বাইরে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেছে। তবে সেসব নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

তবে এটাও ঠিক, জাতীয় পার্টি নির্দিষ্ট কিছু আসনে তার ভোট ব্যাংক তৈরি করতে পেরেছে।

এর বাইরে আর যেসব নতুন দল গঠিত হয়েছে তার কোনোটিই সেভাবে ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারেনি, সারা দেশেও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়নি।

ফলে মোটাদাগে দেশের রাজনীতি মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি–– এই দুই ধারায় বিভক্ত।

এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ছাত্রদের নতুন দল গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সম্ভাব্য দলটির গঠনের সাথে যুক্ত নেতারা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন এই রাজনৈতিক দলের আদর্শ কী হবে? নেতৃত্বে কি শুধু তরুণরাই থাকবেন নাকি অভিজ্ঞদেরও জায়গা হবে? ধর্ম নিয়েই বা দলটির অবস্থান কেমন হবে?

‘সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হবো মধ্যপন্থী দল’
ছাত্রদের নতুন দল গঠনের কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

তারা চান বাংলাদেশে বামপন্থী কিংবা ডানপন্থী রাজনীতির যে ধারা, ছাত্রদের নতুন দল যেন সেটার কোনোটির মধ্যেই না থাকে। এই অবস্থানকে তারা বলছেন মধ্যপন্থী অবস্থান।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি মধ্যমপন্থী রাজনীতির কথা বলছি। আমরা বাম-ডান এমন যে বিভাজন আছে সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলামফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থী বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।’

এক্ষেত্রে দলটি জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলার বা ধর্মভিত্তিক এ ধরনের কোনো আদর্শকেই সামনে রাখতে চায় না।

তাহলে দলটি কোন আদর্শ বা লক্ষ্যের কথা বলছে?

‘আমরা এখানে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের কথা বলছি। এটাকেই হাইলাইট করতে চাই।’

‘একইসাথে একটা রাষ্ট্রে যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, সেই বহুত্ববাদকে স্বীকার করেই কিভাবে একটা এগ্রিমেন্টের মধ্য দিয়ে এগোনো যায় যেভাবে আমরা অভ্যুত্থানে এগিয়েছি, সেইটা হচ্ছে আমাদের মূল ফোকাস পয়েন্ট।’

‘আমরা ডানের দিকেও ঝুঁকবো না, বামের দিকেও ঝুঁকবো না। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হবো একটা মধ্যপন্থী দল যেন আমরা সব ধরনের মানুষকে ধারণ করতে পারি।’

বলছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাঙালি কিংবা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতি যেমন আছে, তেমনি ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলও আছে।

বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দলীয় প্রচার এবং কৌশলে অনেকসময়ই ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে এক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক–– এরকম কোনো পরিচয়ে ঢুকতে চায় না ছাত্রদের সম্ভাব্য নতুন দল।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা অধিকারের রাজনীতি, দায় ও দরদের রাজনীতি এগুলোকে সামনে নিয়ে আসবো যাতে এখানে নির্দিষ্ট কোনো মত বা ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে না ওঠে।’

‘এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে শুধু বাংলাদেশ, এই দেশের মানুষের অধিকার এবং রাষ্ট্র গঠনের কাজ। এখানে যেকোনো ধর্মের মানুষ, যেকোনো মতের মানুষ, যেকোনো আদর্শের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।’

সফল হতে এরদোগান, ইমরান খান ও কেজরিওয়ালে নজর
আদর্শ যেটাই হোক, ছাত্রদের নতুন দল কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবে সেটা আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। তবে এটাও ঠিক গত ৪০ বছরে নতুন তৈরি হওয়া কোনো দল নির্বাচনী মাঠে সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি।

তবে বাংলাদেশে না হলেও গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতায় আসার নজীর আছে।

যার মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তুরস্কের রজব তাইয়্যেব এরদোগানের একে পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি।

সফলতার মন্ত্র খুঁজতে ছাত্ররাও নতুন এই তিনটি দলের কর্মসূচি, সাংগঠনিক কাঠামো ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করছে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এসব দল কিভাবে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হতে পেরেছে সেগুলো খতিয়ে দেখছেন তারা।

‘এই পার্টিগুলো আসলে কীভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে, জনগণের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের কৌশল নিয়েছে, তাদের গঠনতান্ত্রিক কাঠামোটা কেমন -এসব বিষয় আমরা স্টাডি করছি।’

‘আমরা বোঝার চেষ্টা করছি ওই অঞ্চলের তরুণদের বোঝার ক্ষেত্রে এবং রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে তারা কী চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এসেছে যেটা ওই দেশের লোকজন গ্রহণ করেছে এবং তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে শাসনক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছে।’

‘এখানে দেখবেন এরদোগানের পার্টি কিন্তু ফোকাস করেছে ইনসাফের ওপর। তার নামই হচ্ছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। যেটা আমরাও বলছি।’

‘আমরা ন্যায়বিচারের কথা বলছি, সুশাসনের কথা বলছি। অন্যদিকে ভারতের আম আদমি পার্টি দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম করেছে। আমরা সেগুলোও দেখছি,’ যোগ করেন আলী আহসান জুনায়েদ।

নেতৃত্বে কারা?
দলটির শীর্ষ পদে কে বসবেন সেটা এখনো প্রকাশ্য নয়। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এ পদে আসতে পারেন এমন গুঞ্জন প্রবল। সেক্ষেত্রে উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।

তবে শীর্ষপদে যিনিই দায়িত্ব পান না কেন এটা নিশ্চিত যে তিনি হবেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদেরই কেউ একজন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দলটির পুরো নেতৃত্বের কাঠামোয় কি শুধু তরুণরাই থাকবে, নাকি অভিজ্ঞদেরও জায়গা হবে?

এক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য থাকলেও অভিজ্ঞদের দলের নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থান দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যিবরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মুজমদার।

‘তরুণদের পাশাপাশি সিনিয়র সিটিজেনও অনেকে আছেন যারা আমাদের সাথে রাজনীতি করতে ইচ্ছুক। আমরা বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক ও সিভিল সোসাইটিভিত্তিক যারা আছেন কিংবা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন- এরকম মানুষদেরও আমরা আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলে আনার প্রক্রিয়ায় আছি।’

‘যেমন আমাদের উপদেষ্টা প্যানেলে তরুণরা থাকবে, সিনিয়ররাও থাকবে। আবার দলের অন্যান্য কমিটিতেও তরুণদের পাশাপাশি সিনিয়ররাও থাকবেন।’

সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই আসবে ছাত্রদের নতুন দল। তবে এমন এক সময়ে নতুন দলটি আসতে যাচ্ছে যখন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সেটা হলে খুব দ্রুতই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে নতুন দলকে।

সেক্ষেত্রে শুরুতে দেশের সবগুলো সংসদীয় আসনে দলটি প্রার্থী দেবে কি-না বা সে সক্ষমতা আছে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও এখন সব আসনেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বলছেন সম্ভাব্য নতুন দলের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

নাগরিক কমিটির নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক যাত্রায় অভ্যুত্থানের পক্ষের দলগুলোকে তারা পাশে পাবেন। তবে কোনো জোটের অংশ হওয়া বা ভোটের আগে নির্বাচনী ঐক্য তৈরির চিন্তা আপাতত নেই। কারণ এককভাবেই বড় রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে চান তারা।

সূত্র : বিবিসি

রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিতকে না পুড়িয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যেভাবে হলো

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থলে গড়ে তোলা রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহন্ত সত্যেন্দ্র দাসকে হিন্দু ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সাধারণ রীতিতে না পুড়িয়ে ‘জল সমাধি’ দেয়া হয়েছে।

গত বুধবার লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ৮৫ বছর বয়সী সত্যেন্দ্র দাস মারা যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরযূ নদীতে তার লাশ ডুবিয়ে দেয়া হয়।

এদিন সত্যেন্দ্র দাসের দেহাবশেষ তার বাসভবন থেকে পালকিতে করে সরযু নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তুলসীদাস ঘাটে তাকে পানিতে সমাহিত করা হয়।

এর আগে, বিকেলে তার লাশ নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রায় তার লাশ রথে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হয়।

তার উত্তরসূরী প্রদীপ দাস ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, রামানন্দী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী দাসকে পানিতে সমাহিত করা হবে। এর প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেহের সাথে ভারী পাথর বেঁধে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।’

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে যখন সরকার পুরো প্রাঙ্গণটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন তাকে অস্থায়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত করা হয়।

সূত্র : দ্য ‍প্রিন্ট

৩ ইসরাইলি বন্দীকে হস্তান্তর করল হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস তিন ইসরাইলি পণবন্দীকে হস্তান্তর করেছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলেকজান্ডার ট্রুফানোভ, সাগুই ডেকেল-চেন ও ইয়ার হর্ন নামে তিন ইসরাইলি বন্দীকে আইসিআরসি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মুক্তির বিনিময়ে ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল।

আল-জাজিরা আরো জানিয়েছে, উভয় পক্ষের কয়েক ডজন যোদ্ধার উপস্থিতিতে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কোনো ঝামেলা ছাড়াই তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা কারাবন্দীদের মধ্যে ৩৩৩ জনই গাজার বাসিন্দা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাকি ৩৬ জন যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাপ্রাপ্ত।

এদিকে ২০২৩ সালে ইসরাইলের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যে আড়াই শতাধিক মানুষকে পণবন্দী হিসেবে গাজায় নিয়ে এসেছিল হামাস, তাদের মধ্যে এই তিনজনও ছিলেন।

হামাস জানিয়েছে, তারা আশা করছে যে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ইসরাইলের সাথে পরোক্ষ আলোচনা আগামী সপ্তাহে শুরু হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এ হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৬ ফিলিস্তিনি।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। দেশটির অব্যাহত এ হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসাথে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিসরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে।
সূত্র : আল-জাজিরা

কয়েকদিনের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে আদানি

ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ার আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশে পুরো এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দামে যে ছাড় ও কর সুবিধা চেয়েছিল, তা দিতে রাজি হয়নি তারা।

শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে বকেয়া জমায় গত ৩১ অক্টোবর আদানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক করে দেয়। এর ফলে ১ নভেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি সমান আকারের ইউনিটের একটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শীতকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকায় এবং বকেয়া সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাংলাদেশ কেবল অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ চাহিদার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অনুরোধে আদানি পাওয়ার আগামী সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। পূর্ব ভারতের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কেবল বাংলাদেশেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

আদানি পাওয়ারের কথা উল্লেখ করে অপর সূত্রটি বলেন, ‘তারা কোনো কিছুতেই হাল ছাড়তে চায় না। এমনকি ১ মিলিয়ন ডলারও। আমরা কোনো ছাড় পাইনি। আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়া চাই। কিন্তু তারা বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি সামনে নিয়ে এসেছে।’

বিপিডিবির চেয়ারপারসন মো: রেজাউল করিম আদানির সাথে এ মতপার্থক্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, ‘এখন আদানির সাথে কোনো বড় সমস্যা নেই।’

তিনি আরো জানিয়েছিলেন, পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে চলেছে এবং তিনি মাসে ৮৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধের চেষ্টা করেছিলেন।

ডিসেম্বরে আদানির একটি সূত্র জানায় যে বিপিডিবি কোম্পানির কাছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার ঋণী। তবে রেজাউল করিম সে সময় বলেছিলেন, ঋণের পরিমাণ মাত্র ৬৫০ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে, বিপিডিবি আদানি পাওয়ারকে একটি চিঠি দিয়েছিল। চিঠিতে তারা কর সুবিধা এবং মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের দামের ছাড় চেয়ে শর্ত দিয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ‘হাসিনার পালানো’ প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালানো ও ভারতের আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা।

প্রশ্নপত্রে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘২০২৪ সালে ভারতের কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন?’ এটি ছিল ‘বিশ্বয়ানের পৃথিবীতে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি’ সংক্রান্ত বিষয়ের প্রশ্ন।

এই প্রশ্নটি নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রশ্নটি সম্পূর্ণ ভুল হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলো তাদের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শেখ হাসিনা ছিল সরকার প্রধান। এছাড়া এতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের কথা বলা হয়েছে। ভারত হাসিনাকে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি। এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এটি অগ্রহণযোগ্য।’

তবে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত প্রশ্ন করা হয়েছে কি না সেটিও দেখার বিষয় বলে জানিয়েছেন সাবেক এই ভিসি। তিনি বলেছেন, ‘এটি কী সাধারণ একটি ভুল ছিল নাকি? ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল প্রশ্ন করা হয়েছে।’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর সমীর কুমার দাস বলেছেন, ‘এটি একটি সাধারণ জ্ঞানের ‘সাধারণ’ প্রশ্ন। তবে প্রশ্নে রাজনৈতিক আশ্রয় থাকার বিষয়টিতে তিনি খুশি হতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘যদি প্রশ্নে রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়ে থাকে, তাহলে দেখতে হবে এটি আমাদের কূটনৈতিক কথাবার্তার সাথে যায় কি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজি বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন, ‘শিক্ষকরা প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে লিখিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার জন্য তিন সেট প্রশ্ন তৈরি ও একটি চূড়ান্ত করা হয়। যদি কেউ এটি আগে বলতো তাহলে বৈঠকে এ নিয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা করা যেত।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

একতারার বর্ষপূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে পারফরম্যান্স করবেন জায়েদ খান

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় আছেন আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এই নায়ক ভিনদেশে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আমেরিকার ফ্লোরিডা মাতাবেন তিনি। একতারার ১০ বছর পূর্তিতে বেশ কয়েকটি গানে আজ পারফরম্যান্স করবেন বলে দূর দেশ থেকে বলে জানিয়েছেন জায়েদ খান।

তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশীদের নিয়ে গঠিত একতারার ১০ বছর পূর্তিতে প্রথমবারের মতো দেশের কোনো নায়ক হিসেবে আমি অংশ নিচ্ছি। আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাই আয়োজক ইমরান জনিকে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় নিউইয়র্কে যান ঢালিউড নায়ক জায়েদ খান। এরপর আর দেশে ফেরেননি, সেখানেই বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন এই অভিনেতা।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’য় যোগ দিয়েছেন জায়েদ খান। সেখানে প্রথমবারের মতো উপস্থাপক হিসেবে দেখা যাবে এই নায়ককে। একটি টকশো উপস্থাপনা করবেন, যেখানে শোবিজ ও চলচ্চিত্রের তারকারা উপস্থিত থাকবেন। শিগগিরই এটি প্রচারে আসবে বলে জানিয়েছেন জায়েদ খান।

খলিল ফুড ফাউন্ডেশন’র আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ডস ২৪ মে

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ২৪ মে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ । কুইন্সের ট্যারেস অন দ্য পার্কে অনুষ্ঠিত হবে এ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান। এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা খলিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহ প্রতিষ্ঠান খলিল ফুড ও খলিল ফুড ফাউন্ডেশন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিউইয়র্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আশা গ্রুপ অব কোম্পানিজ। আশা গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠান আশা মাল্টিমিডিয়া এলএলসি (সাপ্তাহিক সাদাকালো এবং এটিভি ইউএসএ) এই আয়োজনের অংশীদার হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে এবং আয়োজনটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

সমঝোতা স্মারক সই উপলক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার আশা পার্টি হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন খলিল গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মো. খলিলুর রহমান ও আশা গ্রুপ অব কোম্পানীজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান। এ সময় তারা সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
অনুষ্ঠানে কিং শেফ মো. খলিলুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে খলিল বিরিয়ানি হাউজ যাত্রা শুরু করে। আর অল্পসময়ের মধ্যেই আমাদের খাবার মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাবারের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় আমেরিকানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছেও আমাদের খাবারসমূহ সমান জনপ্রিয়। খলিলুর রহমান বলেন, আমরা একটি বিশ্বমানের ইভেন্ট ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনে কাজ করে যাচ্ছি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কারি রন্ধন শিল্প যেমন অন্য একটি উচ্চতায় যাবে, তেমনি বাংলাদেশের নামও হবে উজ্জ্বল। অত্যন্ত জমকালো ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই আয়োজন হবে। এতে অংশ নেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শেষ ও প্রতিযোগীরা। ’আশা গ্রুপ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আশা গ্রুপ অব কোম্পানীজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান বলেন, ‘যেখানেই ভালো উদ্যোগ থাকবে, সেখানেই যুক্ত হবে আশা গ্রুপ। তিনি বলেন, ‘তার উদ্দেশ্য ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক নানা দায়িত্ব পালন করা। আশা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আশা মাল্টিমিডিয়া এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক সাদাকালো এবং এটিই ইউএসএ এই আয়োজনে অফিশিয়াল পার্টনার।’
আকাশ রহমান বলেন, ‘অসাধারণ একটি ইভেন্ট আয়োজনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যা এটিভি ইউএসএর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষ দেখতে পাবে।’ এই উদ্যোগে অংশিদার করায় তিনি খলিল গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এটিভি ইউএসএর স্টেশন চীফ শামীম আল আমিন ও সাপ্তাহিক সাদাকালোর নির্বাহী সম্পাদক কাশেম মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এটর্নি রাজু মহাজন, কী/ম্যাক্স রিয়েলটির ফাউন্ডার মোহাম্মদ কবীর, সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক নবযুগের সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী তানভীর তারেক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এজাজ খান স্বপন,  আশা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার বোরহানুস সুলতান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতোয়ারুল আলম, রুহুল আমিন সরকার, এউচ এম মতিন, আহসান হাবীব, আশরাফুজ্জামান আশরাফ,অভিনেতা তরিকুল ইসলাম মিঠু, সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক প্রমুখ।

নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনি’র প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুল হক স্মরণে ‘কিছু কথা কিছু গান’

 নিউইয়র্ক : আনন্দধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত সাধক ওয়াহিদুল হকের স্মরণে প্রথম শ্রোতার আসর ‘কিছু কথা কিছু গান’ শীর্ষক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কে।
৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউর কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারে মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ওয়াহিদুল হকের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়।

A 1

আনন্দধনির সভাপতি অর্ঘ্য সারথী সিকদারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোশ্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হকলেখক সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, ওবায়েদ উল্লাহ মামুন, মিথুন আহমেদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের বরেণ্য ব্যক্তিরা।

A 2

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও আলোচনায় ওয়াহিদুল হককে স্মরণ করা হয়। আলোচনায় ওয়াহিদুল হকের জীবনী ও কর্মযজ্ঞ তুলে ধরেন বক্তারা।
বিপুল সংখ্যক দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করেন। সমবেত কণ্ঠে অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশনাও ছিল। অন্যদের মধ্যে একক সংগীত পরিবেশন করেন উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব।

A 3

বক্তারা বলেন, ‘ওয়াহিদুল হক একজন কিংবদন্তী ছিলেন। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমাদের আলোকবর্তিকা হতে পারে।’
অর্ঘ্য সারথী সিকদার বলেন, ‘আনন্দধ্বনি প্রথম নিউইয়র্কে পহেলা বৈশাখ শুরু করেন। আমার এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত করতে চাই।’

A 5

ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমরা ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আনন্দধ্বনি আমাদের সাথে আছে।’ তাদের এ আয়োজনের সাথে থাকতে পেরে গর্ববোধ করছি।
কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারের স্পন্সরে এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ার সবার জন্য খাবারের আয়োজন করে।