Home Blog Page 481

প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয় : জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সংস্কার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচন করার জন্য যে সংস্কার লাগে সেটুকুর জন্য জামায়াতে ইসলাম দিতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘সেটি করতে অনেক সময় লাগবে এবং সেটি নির্বাচিত সরকারের কাজ। তবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের পক্ষে জামায়াত।’

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাওস্থ নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার ইসির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিরে সাথে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছি। আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছি। তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করেছি। ২৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

নিবন্ধন নিয়ে আলোচনা হয়েছি কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আদালতের বিষয়। আমরা আশা করি, ন্যায় বিচার পাবো। আশা করি, সুবিচার পাবো।’

দলের প্রতীকের বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রতীক তো আছেই। আশা করি, আমরা আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাবো।’

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্খা স্থানীয় নির্বাচন আগে হোক। আমরা জনগণের এই আকাঙ্খাকে সমর্থন করি। আমরা আনুপাতিক নির্বাচন চেয়েছি, কালো টাকা মুক্ত করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। আরপিওতে ৯১ (এ) সংশোধন করে ইসির ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল। সেটা বহাল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে হয়রানি নিরসনের অনুরোধও করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের দল করার অধিকার আছে। নিবন্ধন শর্ত কঠিন করে সেই অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সেটা সহজ করার জন্য বলেছি। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন পর নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান আনতে বলেছি।’

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একমত কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাস আমাদের কাছে বিষয় না। বিষয় হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করতে হবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার সক্ষমতা জামাতের আছে। আমরা প্রস্তুত।’

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা গুম, খুন নিয়ে যে তদন্ত করেছে সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পায়নি। এই বিষয়ে আপনাদের দলের অবস্থান কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে গতকালকে আমরা গণমাধ্যমে কথা বলেছি। এই তথ্য সঠিক নয়। আমরা চেক করে দেখেছি। আমরা জাতিসঙ্ঘ হিউম্যান রাইটস কমিশনের সাথে তথ্য, যত ফ্যাক্স, যত মেইল সব আমরা রেসপন্স করেছি। এই তথ্যটা কিভাবে এসেছে আমরা চেক করবো। আমরা তথ্য যাচাই করেছি, তথ্যটা সঠিক নয়।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘নিবন্ধন বাতিলের আগে নির্বাচন কমিশনে দলটির সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর। সে সময় নিবন্ধন বাঁচাতে দলটি গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনে জমা দিয়েছিল। ওই দিন তৎকালীন আইনবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার সংশোধিত গঠনতন্ত্রের মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির সাথে বর্জন করে। ২০১৫ সালে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকে দাঁড়িপাল্লা বাদ দিলে স্থানীয় নির্বাচনেও জামায়াতের ভোটে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের এসে সংসদ নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকেও দলটির প্রতীক বাদ দেয় ইসি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেএম নূরুল হুদার কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তৎকালীন ইসি সচিব মো: হেলালুদ্দীন আহমদের ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর দলটিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল।

হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট, এটা প্রমাণিত : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক টিমের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে শেখ হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সাথে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকটি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করেছে জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষণ টিম’ এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাতে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। সত্য যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোই উদঘাটিত হয়েছে। প্রবলেমটা হচ্ছে কী- যখন জাতিসঙ্ঘ বলে তখন আমরা বিশ্বাস করি। আর যখন রাজনৈতিক দলগুলো বলি, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নির্দেশেই গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রকে হত্যা, ভায়োলেন্স সবকিছু হয়েছে। এটি ফুটে উঠেছে প্রতিবেদনে। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে হাসিনা একজন ফ্যাসিস্ট।’

এ সময় তিনি জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক টিমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, আমরা চাইব ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সরকারের হাতে তুলে দিবে এবং তার ও তার সহযোগিদের বিচার আওতায় আনতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কি করবে না, থাকবে কি থাকবে না, কোন পার্টি নিষিদ্ধ হবে, এটি সিদ্ধান্ত দিবে জনগণ। আমরা হচ্ছি, একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা গণতন্ত্রের সব নর্মসকে ধারণ করি, করে আসছি।

তিনি আরো বলেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি বিরোধী। অত্যন্ত জোরালোভাবে বিরোধী। এ ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই আমরা সমর্থন করব না। এখানকার মানুষ এটাতে অভ্যস্ত না। প্রশ্নই উঠতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যত দ্রুত নির্বাচন হবে, ততই দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুরু হবে।’

ট্রাম্প-মোদির আসন্ন বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং কৌশলগত সম্পর্ক প্রাধান্য পাবে

বুধবার দু’দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই সফর নতুন ও বাস্তব অংশীদারিত্বের সূচনা করবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসনের মত বিতর্কিত বিষয় থাকবে। এগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম। ফ্রান্স সফর শেষে মোদি ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত একটি বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

বাণিজ্য উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ট্রাম্পের উদ্বেগ আমলে নিচ্ছে এমনটা প্রদর্শন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি ভারতকে ‘অনেক বড় শুল্ক অপব্যবহারকারী’ দেশগুলোর তালিকাভুক্ত করেছেন। গত মাসে মোদির সাথে ফোনালাপে ট্রাম্প ন্যায্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সোমবার ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট এ ধরনের উদ্বেগের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

আমেরিকান বেসিক ক্যাবল বিজনেস নিউজ চ্যানেল সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারতে অনেক বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে’ যা আমদানি স্থবির করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য উত্তেজনা এড়াতে চায় নয়াদিল্লি। এ মাসের শুরুতে তারা ঘোষণা দেয়, তারা এমন কিছু পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমাবে যা আমেরিকার রফতানিকারকদের জন্য লাভবান হবে, যেমন উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেল ও গাড়ি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অন্যান্য ছাড়ও দিতে পারে। এই পদক্ষেপ আমেরিকান পণ্যগুলোর ভারতের বাজারে প্রবেশাধিকার পেতে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ভারতের ঝুঁকি অনেক বেশি-যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১১৮ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৩ সালে ভারতের পক্ষে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

অভিবাসন উভয় দেশের জন্য আরেকটি উদ্বেগের বিষয়। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতামূলক ব্যবহার করেছে এবং বলেছে, তারা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক বিমানে ভারতে ফিরিয়ে আনার সময় ১০৪ জন অনিবন্ধিত ভারতীয়কে ৪০ ঘণ্টা ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হইচই ফেলে দেয় এবং তারা এর প্রতিবাদ জানায়। সূত্র : ভিওএ

ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ বাংলাদেশী নারী ক্রিকেটার

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারো ফিক্সিং কাণ্ড। আবারো লাল-সবুজের পতাকায় লেপন হলো কলঙ্ক। এবার দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন সোহেলি আক্তার। যার জেরে পেয়েছেন বড় শাস্তি। হয়েছেন ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।

আইসিসির দুর্নীতি দমন কোডের পাঁচটি বিধান লঙ্ঘন করেছেন সোহেলি। যার দায়ে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

সোহেলির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সাল থেকে। যা চলবে ২০৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে বলাই যায় এক প্রকার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল সোহেলির।

২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কোনো এক ক্রিকেটারকে মোবাইল ফোনে ফিক্সিংয়ের বার্তা পাঠান সোহেলি। তবে তাতে রাজি হননি ওই ক্রিকেটার, উল্টো তিনি আইসিসির দুর্নীতি কমিশনকে এ কথা জানিয়ে দেন।

তাদের দু’জনের কথোপকনের অডিও ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে জানা যায়, জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটার সোহেলি আক্তার বিশ্বকাপ দলের এক সদস্যকে নিয়মবহির্ভূত প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই ক্রিকেটার প্রস্তাবে রাজি হননি।

জাতীয় দলে থাকা সেই ক্রিকেটার ঘটনাটি দ্রুত টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান। টিম ম্যানেজমেন্ট পরে বিষয়টি বিসিবিকে জানায়। বিষয়টি দ্রুত আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিইউ) নজরেও আনা হয়।

এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি দুই বছর তদন্ত করেছে এসিইউ। আর মোট পাঁচটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে শাস্তি দেয় তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হয়ে সব মিলিয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি ও ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন সোহেলি আক্তার। সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২০২২ সালে।

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নিরাপত্তা ও উন্নয়ন : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুসংহত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা অফুরন্ত।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৫তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে দেয়া আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৫তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে এ বাহিনীর নিবেদিতপ্রাণ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাই। দেশের তৃণমূল প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এ বাহিনীর রয়েছে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং মানুষের দুয়ারে সেবা পৌঁছে দেয়ার মতো কার্যকর নেটওয়ার্ক।’

তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিভিন্ন দুর্যোগে আক্রান্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় এ বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব বহুবিধ সংস্কার কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিল্পকারখানা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে ৫০ হাজারেরও অধিক অঙ্গীভূত আনসার সদস্য কাজ করছে।

ড. ইউনূস বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহে নিরাপত্তা প্রদানে এ বাহিনীর ভূমিকা দৃশ্যমান। যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাহিনীর গৃহীত অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপসমূহ আগামীতে এই বাহিনীকে আরো বেশি জনসম্পৃক্ত করে তুলবে।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং দেশ গড়ার কাজে তাদের অব্যাহত কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

সূত্র : বাসস

সরকারি দফতরের ডেভিলদের আগে ধরতে হবে : মির্জা আব্বাস

সরকারি দফতরে ঘাপটি মেরে থাকা ডেভিলদের আগে ধরার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ডেভিল হান্ট অপারেশন করছেন-ঠিক আছে। কিন্তু বনে জঙ্গলে ডেভিল না খুঁজে সরকারি দফতরের ডেভিলদের খুঁজে বের করুন। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এখনো আওয়ামী প্রেতাত্মারা বসে আছে। এরাই এই সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কমলাপুরে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে মুগদা থানা বিএনপি।

বিএনপির নির্বাচন চাওয়ার দাবির সমালোচনার জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি মানুষের ভোটাধিকারের জন্যইতো দেড় যুগ ধরে আন্দোলন করেছে। হাজার হাজার কর্মী জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে-এটাতো নতুন দাবি নয়।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। আর কেউ কেউ চাচ্ছেন স্থানীয় নির্বাচন দিতে। তারা জানেন না এখন গর্তে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা স্থানীয় নির্বাচনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে মাথা বের করবে। এটা অশুভ চক্রান্ত।’

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি মহাসচিবের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র এ নির্বাচন বানচাল করতে না পারে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় কর্মশালাটিয় উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবিব।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা বিলীন করতে সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ৩১ দফার আলোকে দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং সহযোগীদের বিচার যেকোনো মূল্যে সম্পন্ন করার মাধ্যমেই এদের অপরাজনীতি নির্মূল করতে হবে।’

জুলাই হত্যা মামলার রায় অক্টোবরের মধ্যে : আসিফ নজরুল

জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়ের হওয়া তিন থেকে চারটি মামলার বিচারের রায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

এসব মামলায় শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও সাবেক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলার নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলাবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন শ’র বেশি অভিযোগ দায়ের করা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিম যাচাই-বাছাই করে ১৬টি মামলা দায়ের করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। এই ১৬টি মামলার মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত কাজ এই মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আমরা আশা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর পর আইন অনুযায়ী তিন সপ্তাহ সময় এটা ডিফেন্স টিমকে দিতে হয়। ঈদের পর এপ্রিল মাস থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে’।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘মামলার রায় পরবর্তী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করা যাবে বলে আমরা আশা করি। অর্থাৎ এই হিসাবে অক্টোবরের মধ্যে আমরা তিন-চারটা মামলার রায় পেতে যাচ্ছি বলে আমরা আশা করি’।

এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই পলাতক রয়েছেন।

শেখ হাসিনাকে কি ভারত ফেরত দেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এই আইনে যারা পলাতক আছেন, পলাতকের বিচারের বিধান রয়েছে। আমরা তাকে (শেখ হাসিনাকে) আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ভারতের মনোভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তারা নানান অজুহাতে এটাকে নাকচ করার চেষ্টা করবে’।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, পুরো বিচার শেষ হতে ট্রাইব্যুনালের এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে।
সূত্র : বিবিসি

দেশে ছেড়ে পালানোর সময় শেখ হেলালের ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেফতার

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনের ব্যক্তিগত সহকারী হোসেন মুহাম্মদ মুরাদ ওরফে সোহেল মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকিট চেকিংয়ের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, মুরাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আগুনে ছাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফির বাড়ি

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় এক প্রতিবাদী সমাবেশের ডাক দিয়েছেন কাফি। তিনি জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের একজন ছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ অভিযোগ করেন ও সমাবেশের ডাক দেন তিনি।

ফেসবুকে কাফি লেখেন, ‘মধ্য রাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলেছিলাম! যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। নিরাপত্তা পাইনি।’

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আরেক স্টাটাসে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে কাফি লেখেন, আজ সকাল ১১টায় আমার পোড়া বাড়িতে কলাপাড়া থানা, পটুয়াখালী জেলার সাংবাদিক ভাইদের থাকার আহ্বান করছি। আমি এই দায়িত্বহীন সরকারকে বিগ মেসেজ দেবো। মেসেজ সম্পূর্ণভাবে মানবে, নতুবা আমিই নিজেই বিকল্প হবো- আমিই বিপ্লবী সরকার হবো।’

সমাবেশের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে কলাপাড়া থানার পায়রা সমুদ্র বন্দর জিরো পয়েন্টে, ৪ লেন ও ৬ লেন সড়কের মাঝামাঝি, হাইওয়ের পাশে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, ‘রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি আগুন সিলিংয়ে উঠে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনতে সক্ষম হই। তবে কেবল পাশের গোয়াল ঘরটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সবাই নিরাপদে ও অক্ষত আছেন।’

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফির বাবা মাওলানা এ বি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যে যার মতো করে দরজা ভেঙে বের হয়েছি। বাড়ির কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।’

প্রতিবেশী ওয়ালি উল্লাহ ইমরান বলেন, ‘আমরা আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তাদের সাথে আমরাও আগুন নির্বাপণের কাজে নেমে যাই। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কারণ জানালার বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো ছিল। সবাই খালি কাপড়ে নেমে পড়েছে। কোনো রকমের জানে বাঁচা গেল।’

নূরউজ্জামা কাফির বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামে। তার বাবা রজপাড়া দ্বীন এ এলাহী দাখিল মাদরাসার সুপার।

কাফি ২০১৯ সাল থেকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি মূলত বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় ভিডিও তৈরি করে থাকেন। ভিডিওগুলোতে হাস্যরসে দেশের সঙ্কটময় পরিস্থিতিসহ নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদও করা হয়ে থাকে।

এছাড়া বইও লিখেছেন তিনি। যা এবারের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় নিয়মিত থাকছেন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তবে মেলার প্রথম দিকে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন তিনি।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হাজারো অভিবাসী মা-বাবা

প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন নেহা সতপুতে এবং অক্ষয় পিসে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এই ভারতীয় দম্পতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এইচ-১ বি ভিসাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। দক্ষ বিদেশী কর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য এই এইচ-১ বি ভিসা।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের আসন্ন পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা। তাদের আশা ছিল মার্কিন নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করবেন তাদের প্রথম সন্তান।

একটা বড় প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন এই দম্পতি। নতুন অভিভাবকদের জন্য ছুটির নীতি রয়েছে ওই প্রযুক্তি সংস্থায়, সেই সমস্ত কিছুকে মাথায় রেখেই ধীরে ধীরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিলেন তারা।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অস্থায়ী বিদেশী কর্মীদের (যুক্তরাষ্ট্রে) জন্মানো সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ে তিনি আইন করতে চান।

এতদিন মা-বাবার অভিবাসন স্ট্যাটাস যাই থাকুক না কেন, তাদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেয়া হতো।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে পরিবর্তন আনতে চান, সেই সংক্রান্ত মামলায় প্রাথমিকভাবে দু’সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সিয়াটল আদালত। সেই মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আপাতত আটকে দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক।

এর অর্থ হলো আদালতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিধি কার্যকর করা যাবে না। যদিও উচ্চতর আদালত যে কোনো সিদ্ধান্তকে বদলে দিতে পারে এবং এক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয় সংক্রান্ত একাধিক মামলা এবং আইনি চ্যালেঞ্জ, অক্ষয় পিসা এবং তার স্ত্রী নেহার মতো হাজার হাজার মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পিসা বলেন, ‘এর সরাসরি প্রভাব আমাদের ওপর পড়েছে। যদি এই বিধি কার্যকর হয়, তাহলে আমরা জানি না এর পরে কী হবে- এটা সম্পূর্ণ ধোঁয়াশার মতো একটা ব্যাপার।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী যারা খুব শিগগিরই অভিভাবক হতে চলেছেন, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নতুন বিধি চালু হলে তাদের সন্তানের জাতীয়তা কী হবে?

নিউ ইয়র্কভিত্তিক ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি সাইরাস মেহতা জানিয়েছেন, উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মেহতা বলেছেন, ‘মার্কিন আইনে এই দেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিকে অ-অভিবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) মর্যাদা দেয়ার কিন্তু কোনো রকম বিধান নেই।’

এদিকে, সন্তান জন্মের নির্ধারিত তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে হবু মা-বাবাদের। আসন্ন সন্তানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সি-সেকশনের মাধ্যমে প্রসবের বিষয়ে ডাক্তারের সাথেও পরামর্শও করেছেন নেহা এবং অক্ষয় পিসার মতো অনেকেই।

চিকিৎসকদের মতে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে গর্ভবতী নারীরা ৪০তম সপ্তাহে সন্তান জন্ম দিতে পারেন।

এই অবস্থায়, নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেহা সতপুতে ও তার স্বামী।

হবু মা নেহা সতপুতে বলেছেন, ‘আমি চাই প্রাকৃতিক নিয়মেই সমস্ত কিছু চলুক।’

অন্যদিকে, অক্ষয় পিসে জানিয়েছেন তার অগ্রাধিকার হলো তার সন্তান এবং স্ত্রীর স্বাস্থ্য। তার কথায়, ‘সন্তানের নির্বিঘ্নে জন্মগ্রহণ করা এবং স্ত্রীর স্বাস্থ্যই আমার কাছে অগ্রাধিকার। তার পরে আসবে সন্তানের নাগরিকত্বের বিষয়টা।’

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ানস অফ ইন্ডিয়ান অরিজিনের (এএপিআই) সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ডা. সতীশ কাঠুলা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় পরিবারগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের সন্তানের জন্মের কথা ভাবছেন- এরকম প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে দেখার পর ডা. কাঠুলা আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করেন।

তিনি জানিয়েছেন, ‘নিউ জার্সিতে এমন কয়েকটা ঘটনা’ ছাড়া বেশিভাগ চিকিৎসকই এ জাতীয় কোনো বিষয়ের কথা তাকে জানাননি।

ওহাইও-ভিত্তিক ডা. সতীশ কাঠুলা বলেছেন, ‘এমন এক দেশে যেখানে কঠোর চিকিৎসা আইন রয়েছে, সেখানে শুধু নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে সি-সেকশন করার বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় পরামর্শ দেই। আমাদের চিকিৎসকরা নীতিবান। চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন না হলে, তারা কোনোভাবেই তা (সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার) করবেন না।’

মার্কিন নাগরিকত্ব ‘অত্যন্ত লোভনীয়’, বিশেষত দক্ষ এইচ-১ এস বি ভিসাধারী ব্যক্তিদের কাছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দ্বিতীয় বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী হলো ভারতীয়রা।

অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক স্নেহা পুরী এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জন্মগত নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে বিধি নিষেধ ভারতীয়দের জন্য বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ লাখেরও বেশি ভারতীয়ের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাতে (অ-অভিবাসী ভিসায়) রয়েছেন।

স্নেহা পুরী বলেন, ‘এটা কার্যকর হলে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো তাদের কোনো সন্তানই নাগরিকত্ব পাবে না।’

অনলাইন গ্রুপগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার হবু মা-বাবারা এই নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা ক্রমাগত জানিয়ে চলেছেন। আইন কার্যকর হলে তার প্রভাব এবং সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সেই নিয়েও অনলাইনে আলোচনাও করে চলেছেন তারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, এটা বৈধ ও স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ডকুমেন্টেশন পাওয়ার ক্ষমতাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ নয়। তার জন্য যে কোনো বিদেশী নাগরিকদের যতদিন অপেক্ষা করতে হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় ভারতীয়দের।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটা নির্দিষ্ট দেশের মানুষকে দেয়া গ্রিন কার্ডের সংখ্যা মোট গ্রিন কার্ডের সংখ্যার সাত শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

প্রতি বছর, এইচ-১বি ভিসার ৭২ শতাংশ পেয়ে থাকেন ভারতীয়রা। কেটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশই ভারতীয়।

বর্তমানে যারা কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, সেই ভারতীয়রা ২০১২ সালে এর জন্য আবেদন করেছিলেন।

কেটোর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের পরিচালক ডেভিড বিয়ারওয়ার্ন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘নতুন ভারতীয় আবেদনকারীদের আজীবন অপেক্ষা করতে হবে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার আগেই চার লাখ আবেদনকারীর মৃত্যু হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে, বেশিভাগ অভিবাসী এক বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান, যা তাদের নাগরিকত্ব লাভের পথকে ত্বরান্বিত করে দেয়।

যদি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়িত হয় তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নথিপত্রহীন অভিবাসীদেরও প্রভাবিত করবে।

এই নথিহীন অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। তাদের ২১ বছর বয়স হলে, তারা তাদের অভিভাবকদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার জন্য স্পন্সরনও করতে পারতেন।

তবে পিউ রিসার্চ এর তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭২৫,০০০ কাগজপত্র ছাড়া ভারতীয় অভিবাসী রয়েছে, যা তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নথিপত্রহীন অভিবাসী গোষ্ঠীর তালিকায় তৃতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাব আবার ভিন্ন।

এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, এই সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার এবং কাগজ ছাড়া অভিবাসী গোষ্ঠীর তালিকায় ভারতের স্থান পঞ্চম। মার্কিন জনসংখ্যার তিন শতাংশ নথিপত্রহীন অভিবাসী মানুষ। তারাই ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এমন জনসংখ্যার ২২ শতাংশ।

এইচ-১বি বা ‘ও’ ভিসায় থাকা ভারতীয়দের প্রধান উদ্বেগের বিষয় তাদের সন্তানদের জীবনযাত্রার মান।

বিদেশে মার্কিন দূতাবাসে ভিসা স্ট্যাম্প লাগানোর জন্য পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয় এই ক্যাটাগরির ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের। ভিসা স্ট্যাম্পের উদ্দেশে যাদের নির্দিষ্ট সময়ে ভারতে আসতে হয়, তাদের প্রায়শই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দেরি হয়।

যারা এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই অভিবাসীরা চান না যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মানো তাদের সন্তানদেরও একই আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির সম্মুখীন হতে হোক।

বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অক্ষয় পিসেকে। তিনি জানেন মার্কিন নাগরিকত্ব জীবনকে কতটা সহজ করে দিতে পারে।

তিনি বলেছেন, ‘ “আমরা এখানে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। আমার মা-বাবার বয়স বাড়ছে, তাই আমার নাগরিকত্ব থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য সমস্ত কিছু সামলে যাতায়াত করা আমাদের জন্য কঠিন। এবার আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে বিষয়টা আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক চিকিৎসক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষ বিদেশী কর্মীরা কী ভূমিকা পালন করেন।

ডা. কাঠুলা বলেছেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ ডাকোটার মতো গ্রামীণ অঞ্চলে ভারতীয় চিকিৎসকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা না থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে। এখন তারাই নিজেদের সংসার শুরু করার ব্যাপারে দ্বিধায় ভুগছেন।’

গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এইচ-১ বি ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরতদের সন্তানদের তাদের অভিভাবকদের অবদানের কারণে জন্মগত নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ার্ক ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসায় আসা ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এরা অবশ্য ইতোমধ্যেই তাদের আইনি অনিশ্চয়তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের কাছে একটাই ‘গ্যারান্টি’ ছিল- যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব। কিন্তু সেই বিষয়েও এখন সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সান জোসের বাসিন্দা প্রিয়দর্শিনী জাজুও। আগামী এপ্রিল মাসে মা হতে চলেছেন তিনি।

তার কথায়, ‘পাসপোর্টের জন্য আমাদের কি ইন্ডিয়ান কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে হবে? কোন ভিসা কার্যকর হবে? এই নিয়ে অনলাইনে কোনো তথ্য নেই।’

সন্তানের আগমনের দিন গুনতে গুনতে নেহা সতপুতে বলেন, ‘এই অনিশ্চয়তা বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেছেন, ‘গর্ভাবস্থা এমনিতেই যথেষ্ট স্ট্রেসের সময়। আমরা ভেবেছিলাম, এক দশক পর এখানে বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গিয়ে এটা ঘটল!’

তার স্বামী অক্ষয় পিসে বলেন, ‘বৈধ অভিবাসী এবং করদাতা হিসেবে আমাদের সন্তানেরও মার্কিন নাগরিকত্ব প্রাপ্য- এটাই তো আইন, তাই না?’
সূত্র : বিবিসি