Home Blog Page 481

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের খসড়া তালিকা প্রকাশ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বা আহত হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণঅভ্যুথান সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার জহিরুল ইসলামের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ৬৪টি জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইট (https://musc.portal.gov.bd) এ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের উল্লিখিত খসড়া তালিকা দুটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত খসড়া তালিকা দুটিতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই/সংশোধন/চূড়ান্ত করতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য/ওয়ারিশ/প্রতিনিধিদেরকে মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। এই প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত/পরামর্শ থাকলে অথবা সংযোজন/বিয়োজন করার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ইমেইলে (muspecialcell36@gmail.com) জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

নির্বাচনী সময়ের বিষয়ে সরকারের ‘স্পষ্ট বক্তব্য’ চায় বিএনপির যুগপৎ সঙ্গীরাও

দীর্ঘ দিন পর যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে মূলত সঙ্গীরা বর্তমান সরকারের বক্তব্য কিভাবে দেখছেন, ওই বিষয়ে মতামত চেয়েছ বিএনপি। সঙ্গীরাও ওই বিষয়ে মতামত দিয়েছে। বিএনপির মতোই নির্বাচনের সময় বিষয়ে ‘স্পষ্ট বক্তব্য’ চায় যুগপৎয়ের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা।

আজ শনিবার বিকেলে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যুগপৎ জোট ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট ও লেবার পার্টির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে বৈঠক হয় দলটির লিয়োজোঁ কমিটির সাথে।

লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়া লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা তো বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়নি। সর্বশেষ ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। সরকার প্রধান নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, এ বিষয়গুলোতে আমাদেরকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে। ওই বিষয়গুলোই আলোচনায় উঠে এসেছে।

নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে বিএনপি। আমরা মনে করি, অন্তবর্তীকালীন সরকার চাইলে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে পারে। কিন্তু তারা কেন যে ২৬ সালের জুনের কথা বলছে? এক্ষেত্রে সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কাজের কথা বলেনি, কোনো কোনো কাজে তারা সময়গুলো ব্যয় করবে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের বক্তব্য আমরা ধুম্রজাল হিসেবেই মনে করি। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে।

তিনি বলেন, বিএনপি আমাদের থেকে মতামত চেয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য, সংস্কার ও সার্বিক বিষয়ে এবং আমরা সেটাকে কিভাবে দেখছি। সরকার যে এত সময় চাচ্ছে মূলত কী কাজে, সংস্কারের জন্য নাকি তারা রাজনৈতিক দল গঠন করবে, কী কেন দরকার? ওই বিষয়টা সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে। সরকার চাইলে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে পারে। সেটি আমরাও মনে করি, বিএনপিও মনে করে।

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এহসানুল হুদা বলেন, বিএনপির আমাদের কাছে মতামত চেয়েছে, আমরা মতামত দিয়েছি। আমরা বলেছি, ২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন হওয়া দরকার। আমরা বিএনপিকে মতামত দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলনের সবার সাথে আলোচনা করে বিএনপি দুই তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তা তুলে ধরবে।

দ্বিতীয় ধাপের বৈঠক শেষে সমমনা জোটের পক্ষ থেকে এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন করেছি। পরে একপর্যায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি। দেশের সকল সমস্যার সমাধান হবে যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কোনো লাভ হবে না। তাই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জরুরিভাবে নির্বাচন প্রয়োজন। আমরা চাই সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ না করে সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করবে সরকার।

নির্বাচনের পর নিজের কাজে ফিরে যাব : প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজের কাজে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারো বর্ষসেরা দেশ নির্বাচন করেছে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ হিসেবে এবার বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যম। এ উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।

নির্বাচন আয়োজনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিকল্পনা জানতে চান উপস্থাপক। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসলে আমার চাকরি কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাকে জোর করে এ কাজে আনা হয়েছে। আমি আমার কাজ উপভোগ করছিলাম। এজন্য প্যারিসে ছিলাম। সেখান থেকে অন্য কিছু করার জন্য আমাকে টেনে আনা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে পারলে খুশি হবো। যা আমি সারা জীবন ধরে করেছি এবং তরুণরাও এটিকে ভালোবাসে। সুতরাং আমি আমার সেই দলে বা কার্যক্রমে ফিরে যাবো যেটা আমি সারা বিশ্বে তৈরি করেছি।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। উগ্রবাদের ঝুঁকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নে জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেবে না, এটি আমি আশ্বস্ত করছি। তরুণরা ধর্ম নিয়ে নিরপেক্ষ। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এই তরুণরা পুরো বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারে। এটা শুধু এক দেশ বা আরেকটি দেশ পরিবর্তনের বিষয় না। বাংলাদেশ যা করেছে এটি একটি উদাহরণ যে তরুণরা কত শক্তিশালী। আমাদের উচিত তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া। বিশেষ করে তরুণীদের ওপর। তারা বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের উচিত তরুণ-তরুণীদের ওপর মনোযোগ দেয়া যাতে তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাদের সুযোগ এসেছে। তাদের সক্ষমতাও রয়েছে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তিন তরুণ আমার ক্যাবিনেটে আছেন। তারা দুর্দান্ত কাজ করছে। তারা সক্ষম। এই তরুণরা গত শতাব্দীর তরুণ নয়। তারা এই শতাব্দীর তরুণ। তারা অন্যদের মতোই সক্ষম।’

প্রসঙ্গত, বর্ষসেরা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যম বলেছে সবচেয়ে ধনী, সুখী বা নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকারী কি না, সেই হিসাবে নয়, সেরা দেশ বেছে নেয়া হয় আগের ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে কি না, সেই বিচারে।

এবারের সেরা দেশ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকায় ছিল পাঁচটি দেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও সিরিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড রয়েছে এই তালিকায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেই বেছে নেয়া হয়।

আইনজীবী আলিফ হত্যা : তদন্ত কমিটির সব সদস্যের পদত্যাগ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রধান সাবেক মহানগর পিপি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে এই সুপারিশ করেন এবং তিনি তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে, কমিটির সদস্যসচিবসহ চার সদস্য অব্যাহতি চেয়েছেন।

গত বুধবার ও তার আগে কমিটির সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বিষয়টি আজ শনিবার জানাজানি হয়।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনার পর সমিতির পক্ষ থেকে ১০ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ১৫ নভেম্বর রিপোর্ট দিতে বলা হয়। এর মধ্যে সদস্যসচিবসহ চারজন পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সাতটি মামলা হয়েছে। তাই এ ঘটনা সাধারণ কেউ তদন্ত করলে হবে বলে মনে করছি না। একজন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক দিয়ে আলোচিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। এ কারণে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আমি নিজেই এ তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি।’

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো ছয়টি মামলা করা হয়।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য নামের তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিভেদ তৈরি হতে দেয়া যাবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা। আমাদের ঐক্যের বন্ধনকে মজবুত রাখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বিভেদের প্রাচীর তৈরি হতে দেয়া যাবে না।

শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সমিতি ঢাকা’র রজতজয়ন্তী ও মেজবান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের বসবাস। আমাদের মিলেমিশে থাকতে হবে। একে অপরের দুঃখে-সুখে অংশিদার হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সে লক্ষ্যে সার্বিক প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। তাই আমাদের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যেকে ধরে রাখতে হবে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, একটি সুন্দর, স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এই প্রয়াসকে সফল করতে হবে।

ড. খালিদ বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া একটি আলোকিত জনপদের নাম। এ জনপদে শত-শত বছরের পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জ্ঞানী-গুণী, প্রথিতযশা ও আলোকিত মানুষের জন্ম হয়েছে। এই নক্ষত্রগুলোকে খুঁজে বের করা দরকার। এ জাতীয় বরেণ্য মানুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগামী প্রজন্ম সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারবে।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সমিতির কর্মকাণ্ড তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই সমিতি অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি, অভাবগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তা, ঘর নির্মাণে ঢেউটিন বিতরণ ও চিকিৎসা উপকরণ প্রদানসহ নানামুখী সেবাধর্মী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরূপ কার্যক্রমের জন্য উপদেষ্টা সমিতির সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানান।
এর আগে, ধর্ম উপদেষ্টা সংগঠনটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ডলুপ্রবাহ’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকউল্লাহর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

এ অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন চৌধুরী সমিতির বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অন্যান্যের মধ্যে সিবিএম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক জয়নুল আবেদীন জামাল, অনুষ্ঠান উদযাপন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন, সমিতির সহ-সভাপতি মো: মুনীর চৌধুরী, সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মো: আবদুল করিম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সূত্র : বাসস

নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

নেপালকে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ফাইনালে উঠেছে টাইগ্রেসরা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বায়েমাস ওভাল মাঠে যুব এশিয়া কাপে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও নেপালের মেয়েরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের গণ্ডি কমিয়ে ১১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এরপর মূল কাজটা প্রথম ইনিংসেই সেরে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এ ম্যাচে আগে ব্যাট করা নেপাল বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। বাংলাদেশের বোলিং তোপের পরও আট উইকেট হারিয়ে নেপাল তুলেছিল ৫৮ রান। নয় ব্যাটারের মধ্যে মাত্র ওপেনার সাবিত্রি ধামিই পেরেছিলেন দু’ অংক ছুঁতে।

রান তাড়ায় দাপুটে শুরু করে বাংলাদেশ। প্রায় জয়ের কাছেই দলকে নিয়ে যায় দু’ ওপেনার ফাহমিদা ও ইভা। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে কাসুম গোদার শিকার হয়ে ফেরেন ১৮ রান করা ইভা। ভাঙে ৪৬ রানের জুটি। এরপর সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণাকে সাথে নিয়ে জয় তুলে মাঠ ছাড়েন ফাহমিদা। ৩২ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ফাহমিদা। তার সাথী সুমাইয়া আক্তার ছয় বলে খেলেছেন ১০ রানের জয়সূচক ইনিংস।

সুপার ফোরে ভারতের কাছে হারলেও এবার ফাইনালে সেই ভারতকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতীয় মেয়েরা শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। যদিও পয়েন্ট টেবিলে আগে থেকে শীর্ষে ছিল ভারতের মেয়েরা। প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে আগামী ২২ ডিসেম্বর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ।

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিসরে ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বাসসকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধান উপদেষ্টার ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ১১তম ডি-৮ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিনি কায়রোতে নতুন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পরিদর্শনে গেলে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে প্রাসাদে স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ‘গাজা ও লেবাননে মানবিক সঙ্কট এবং পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনেও বক্তৃতা করেন।

ড. ইউনূস ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে একটি হোটেলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মহাসচিব হুসেইন আল শেখ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার রাতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ড. জাম্বরি আব্দুল কাদির কায়রোর সেন্ট রেজিস হোটেলে ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মিশরের রাজধানী কায়রো পৌঁছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা কায়রোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
সূত্র : বাসস

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের কর ছাড়, বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার : শ্বেতপত্র

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কর মওকুফের সুযোগ পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গ্রুপকে কর ছাড়ের সুযোগ করে দেয়। এতে রাষ্ট্রের কোষাগার প্রকৃত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিাতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিরূপণ এবং গত ১৬ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। ৯০ দিনের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন সরকার প্রধানের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বাসসকে বলেন, বিগত শাসনামলে কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুণ করা যেত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এনবিআরকে এসআরও জারি করতে হয়েছিল, যার মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা কর ছাড়ের সুযোগ পায়। সুবিধাপ্রাপ্ত এই ব্যবসায়ীরা হয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিকদলের সাথে সম্পৃক্ত অথবা উঁচু পর্যায়ের আমলাদের ঘনিষ্ট ছিলেন।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘শেখ হাসিনার সময়ে এসআরও’র (কর মওকুফ সুবিধা) অতিরিক্ত ব্যবহার রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের কর নীতির কার্যকারিতা দুর্বল করেছে।’

এসআরওর মাধ্যমে কর মওকুফ সুবিধা দেশের কর-ভিত্তি দুর্বল এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে বলে শ্বেতপত্রে চিহ্নিত করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘এসআরওর মাধ্যমে কর আইনে প্রায়ই অ্যাডহক পরিবর্তন স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতার পরিপন্থী ছিল, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত করেছে এবং রাজস্ব আহরণ হ্রাস করেছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বেক্সিমকো, এস আলম, সামিটের মতো একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ নিয়মিত এই সুবিধা পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে সামিট গ্রুপ ২০১৮ সালে তাদের এলএনজি টার্মিনাল অপারেশনের ক্ষেত্রে হিসাব বজায় রাখা এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শর্তে প্রকল্প আয়, বিদেশীদের আয়, রয়্যালিটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ ফি এবং টেকনিক্যাল সহায়তা ফি, শেয়ার হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত মূলধনী লাভ এবং বিদেশী ঋণের সুদের ওপর পূর্ণ কর মওকুফ পায়।

গ্রুপটি আরো ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশে আগমনের তিন বছরের মধ্যে বিদেশীদের আয়, বিদেশী ঋণের সুদ, রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং সহায়তা ফি এবং শেয়ার হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত মূলধনী লাভের ওপর পূর্ণ কর মওকুফ পেয়েছে।

অনুরূপভাবে অন্যান্য কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন আকারে কর মওকুফ সুবিধা ভোগ করেছে। তবে শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে এই করছাড় সুবিধা পাওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা গত ১ ডিসেম্বর শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন গ্রহণ করে উল্লেখ করেছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। তিনি এর থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য পাঠাস্যূচিতে শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করারও কথা বলেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তার ভাষণে এ বিষয়ে আরো বলেন, ‘শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন পড়ে দেশের মানুষ হতভম্ব হয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়ে গেছে এটা সবাই বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু অর্থনীতিকে কী পরিমাণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দিয়ে গেছে, তার পরিমাপ সম্বন্ধে কোনো ধারণা করতে পারছিল না। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি হিসাব-নিকাশ করে এর পরিমাণ বের করে দিয়েছে।’

সূত্র : বাসস

শীর্ষ ৫ বোলারই বাংলাদেশের, সর্বোচ্চ উইকেট মাহেদির

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ শুক্রবার শেষ হওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে উইকেট শিকারী তালিকায় শীর্ষ পাঁচ বোলারই বাংলাদেশের।

৩ ইনিংসে ১১ ওভারে ৪৬ রানে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট নিয়েছেন অফ-স্পিনার মাহেদি হাসান। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৩৭ রান করায় সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। বল হাতে তার ইকোনমি ছিল ৪ দশমিক ১৮। প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে ৪ উইকেট ও অপরাজিত ২৬ রান করায় ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মাহেদি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ উইকেট নিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর ৬ উইকেট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৪টি করে উইকেট শিকার করে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার স্পিনার আকিল হোসেন।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শীর্ষ পাঁচ বোলার :
খেলোয়াড় ম্যাচ ইনিংস রান উইকেট
মাহেদি হাসান (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৪৬ ৮
তাসকিন আহমেদ (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৭৪ ৭
রিশাদ হোসেন (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৬৫ ৬
হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৫০ ৪
তানজিম হাসান সাকিব (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ১০০ ৪
সূত্র : বাসস

মসজিদের নিচে মন্দির খোঁজা গ্রহণযোগ্য নয়, কড়া বার্তা আরএসএস প্রধানের

মসজিদের নিচে মন্দির খোঁজা গ্রহণযোগ্য নয় বলে হিন্দু নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার তাদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইদানিং দেশজুড়ে এক নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন মসজিদের সমীক্ষার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে ছোট-বড় নানা আকারের হিন্দুপন্থী সংগঠন, এমনকি কোনো কোনো হিন্দু নেতা বা ব্যক্তিও। উদ্দেশ্য একটাই, ওই মসজিদের স্থানে কোনো যুগে মন্দির ছিল কিনা, সেটা যাচাই করে দেখা! এর জেরে সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্তে অশান্তি, সাম্প্রদায়িক হিংসা পর্যন্ত ছড়িয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়েই এবার মুখ খুললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার এমন আচরণের তীব্র ধিক্কার জানালেন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

ভাগবত বলেন, ইদানীং কিছু হিন্দু নেতা দেশের নানা প্রান্তে অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতো ‘ডিসপিউট’ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এটা গ্রহণযোগ্য নয় একেবারেই।

বৃহস্পতিবার ভাগবত কার্যত মনে করিয়ে দেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তিনি বলেন, ‘ভারতের সেই নজির গড়ে তোলা উচিত, যেখানে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী ও সম্প্রদায়ের মানুষ একইসাথে পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে।’

বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুণেয় আয়োজিত ‘বিশ্বগুরু ভারত’ কর্মসূচির মঞ্চে ভাষণ দেয়ার সময় এই মন্তব্য করেন মোহন ভাগবত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের জামা মসজিদ, এমনকি রাজস্থানের আজমির শরিফ নিয়েও সমীক্ষার দাবি তোলা হয়, যা নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।

ওই প্রেক্ষাপটে মোবন ভাগবত বলেন, ভারতকে তার অতীতের সমস্ত ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবেই বিশ্ব মানচিত্রে ভারত ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠতে পারবে। আমাদের প্রমাণ করতে হবে, নানা বৈচিত্র থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একত্রে থাকা যায়।

এই বিষয়ে কথা বলার সময়েই ভাগবত বুঝিয়ে দেন, অযোধ্য়ার রাম মন্দিরের বিষয়টি ছিল স্বতন্ত্র। তার সাথে অন্যান্য ঘটনা গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

ভাগবত বলেন, ‘রাম মন্দির একটা বিশ্বাস ও আস্থার বিষয় ছিল। আর হিন্দুদের মনে হয়েছিল, এটা অবশ্যই গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু যেভাবে নতুন বেশ কিছু স্থানে একই ধরনের ইস্যু তুলে ধরা হচ্ছে এবং তার ফলে যে ঘৃণা এবং শত্রুতার বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তার মতে, সমাজে এই ধরনের বৈষম্য ও বিবাদ মেটানোর সবথেকে ভালো উপায় হলো প্রাচীন সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া। খুবই তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভাগবত বলেন, ‘চরমপন্থা, আগ্রাসী মনোভাব, জোর জবরদস্তি করা এবং অন্য ধর্মে আরাধ্যকে অপমান করা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’

ভাগবত এরপর কার্যত ঘোষণার সুরে বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগুরু ও সংখ্য়ালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সকলেই এক। এই দেশে যেন প্রত্যেকেই তার ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে ঈশ্বরের উপাসনা করার সুযোগ পান।’

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস