Home Blog Page 483

‘বিচারের পরেই আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে’

বিচারের পরেই আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া সবাইকে নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগকে ফেরত আনতে বিএনপির ঠেকা পড়েনি। কারণ, আওয়ামী লীগ ভারতের দল। গত ১৫ বছর ভারত ঠিক করে দিয়েছে এ দেশে কীভাবে নির্বাচন হবে। এখনো তারা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

রোববার (২২ ‍ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্য, বিএনপি ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। সত্যিটা হলো বিএনপি ক্ষমতার জন্য পাগল না। বিএনপি চাইলে ৫ আগস্টের পর আন্দোলনকারী সব দলকে সাথে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে পারত। কিন্তু করেনি। আমাদের বিশ্বাস তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর পর যখনই নির্বাচন দেন না কেন; বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।’

এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ও রাজশাহী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, সদস্যসচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়া। সঞ্চালনা করেন নির্বাচন কমিশনার তাজমুলতান টুটুল।

পরে সন্ধ্যায় ঘোষিত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুব আর রশিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাচ্চু রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির ছয়টি ইউনিয়নের ৪২৬ জন কাউন্সিলর ছিলেন। তিনটি সাংগঠনিক পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১১ জন।

নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪ দফা দাবি

নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট।

আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ দাবিনামা পেশ করেন।

দাবিনামায় বলা হয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুপ্ত-হত্যা ও হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সারাদেশের ছাত্রসমাজ। অতীতে বেশকিছু ইস্যুতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের নমনীয়তাকেই আজকের এই পরিণতির কারণ হিসেবে মনে করে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ।

এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে তারা চার দফা দাবি পেশ করেন।

চার দফার দাবিগুলো হলো একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে, যার দায়িত্ব হবে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞগুলোর মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বা বিগত রেজিমের আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসরদের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা বের করা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে; প্রতিটি থানায় কমপক্ষে পাঁচটি টহল গাড়ি সাত দিন ২৪ ঘণ্টা টহলে থাকতে হবে, তারা ক্রাইম পেট্রোলিং করতে থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে; প্রতিটি ওয়ার্ড এরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে কমপক্ষে চার সদস্যবিশিষ্ট নন-লিথ্যাল ওয়েপন-ধারী একটি প্লাটুন বা টিম নিযুক্ত করতে হবে, তারা ওই নির্দিষ্ট এলাকার পাহারার দায়িত্বে নিযুক্ত থাকবে। এদের সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধকরণের পরও এই জঙ্গি সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনলাইনে ও ময়দানে সক্রিয় সকল নেতাকর্মী এবং তাদের সহযোগীদের নির্মূল করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রমকে বেগবান করতে রাষ্ট্রের সকল গোয়েন্দা সংস্থার তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এসব দাবি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : বাসস

নিজেদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্র!

লোহিত সাগরের উপর উড়তে থাকা একটি যুদ্ধবিমানকে ভুলবশত গুলি করে ভূপাতিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রোববার সকালে এই ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি ভুলবশত ঘটেছে। তবে ভূপাতিত হওয়ার সময় বিমানে থাকা দুই পাইলট বেরিয়ে পড়েন। তাদের একজন কিছুটা চোট পেয়েছেন।

তবে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি রণতরী হ্যারি এস ট্রুম্যান থেকে উড্ডয়ন করেছিল। রণতরী বহরের একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পাহারাদার যুদ্ধজাহাজ গেটিসবার্গ ‘ভুলবশত’ হর্নেট বিমানটিকে লক্ষ্য করে গুলি করে আর সেটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

সূত্র : রয়টার্স

তথ্য উপদেষ্টার সাথে সঙ্গীতশিল্পী রাহাত ফাতেহ আলীর সাক্ষাৎ

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী রাহাত ফাতেহ আলী খান।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে উপদেষ্টা বলেন, রাহাত ফাতেহ আলী খান একজন গুণী ব্যক্তি। তিনি শুধু পাকিস্তানের নন, তিনি উপমহাদেশ তথা সারাবিশ্বের সঙ্গীত জগতের সম্পদ। বাংলাদেশে তার অনেক ভক্ত রয়েছে।

শনিবার ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে কনসার্টের জন্য রাহাত ফাতেহ আলীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এ ধরনের একটি কনসার্ট আয়োজনের প্রয়োজন ছিল।

সাক্ষাৎকালে রাহাত ফাতেহ আলী খান বাংলাদেশের সঙ্গীত নিয়ে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নেও কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে আমন্ত্রণের জন্য তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো: মুশফিকুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

নাটোরের সেই তরুণ দাস মন্দিরের পাহারাদার নয়, ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে

নাটোরের মহাশ্মশানে হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণ কুমার দাসের হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তবে যেখানে হত্যার শিকার হয়েছেন তিনি সেই মন্দিরের পাহারাদার ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মো: মারুফাত হুসাইন বলেছেন, আসামিদের চিহ্নিত করে খুব দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে নাটোরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে তরুণ কুমার দাস (৫৮) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি শহরের আলাইপুর ধোপাপাড়া এলাকার কালীপদ দাসের ছেলে।

মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক সত্য নারায়ণ রায় টিপু বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ দাস ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন। প্রায় প্রতিরাতে মহাশ্মশানের রান্নাঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকতেন। নাটোর পৌরসভার অর্থায়নে শ্মশানে চারজন কর্মচারী নিয়োজিত থাকলেও তরুণ দাস শ্মশানে কর্মরত কেউ ছিলেন না। শনিবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মহাশ্মশানে ঢুকে ভবঘুরে তরুণ দাসকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ভান্ডার কক্ষ থেকে কাঁসার পাতিল, গামলাসহ কাঁসা এবং পিতলের কিছু মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তরুণ দাসকে অনেক বার শ্মশানে রাত্রিযাপন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, কিন্তু তিনি শোনেননি। নিজের মতো করে তিনি জীবনযাপন করতেন তিনি।’

নিহতের ভাই প্রদীপ দাস জানান, ‘তরুণ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিল।’

তরুণের ছেলে তপু কুমার দাস বলেন, ‘বাড়িতে বাবা আসতেন, অনেক দিন দুপুরের খাবার খেতেন, তার প্রিয় নাতনি ছোট্ট তিন্নির সাথে খেলতেন, চলে যেতেন। ঠান্ডা শীতের রাতে শ্মশানের বারান্দায় রাত কাটানোর ব্যাপারে বাবা বলতেন, তার শীত লাগে না। ওই এলাকার সবাই তাকে শ্মশান বাবু নামেই জানতেন। তিনি ছিলেন সংসার ত্যাগী।’

নাটোর পৌরসভার প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ দা’কে নাটোর শহরের প্রায় সব মানুষই চিনতো। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আবোল তাবোল বক্তৃতা দিতে দেখেছি তাকে। মাঝে মাঝেই কুকুরের সাথে খেলা করা, কুকুরের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার ঘটনাও আমরা সবাই দেখেছি।’

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পরে কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণকে শ্মশানের পাহারাদার, আবার কেউ কেউ সেবায়েত, আবার পুরোহিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নাটোরের কাশিমপুর মহাশ্মশানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তরুণ দাসকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে তাকে মন্দিরের দেখভাল ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বলে উল্লেখ করলেও এই সংগঠনের নাটোর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট খগেন্দ্র নাথ রায় বলেছেন, বিবৃতিতে তরুণের পরিচয়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথকে বিবৃতি সংশোধন করার জন্যও তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কাশিমপুর মহাশ্মশানটি এতটা নির্জন এলাকায় নাইটগার্ড থাকলেও চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে কেউ এলে তার ভাগ্যেও তরুণের মতো ঘটনাই ঘটতো।’

রোববার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে নাটোর সদর থানার ওসি মো: মাহাবুর রহমান জানান, হত্যার বিষয়টি তদন্তের জন্য রাজশাহী থেকে সিআইডি ও ক্রাইমসিন ইউনিট এসেছে। জেলা পুলিশও কাজ করছে।

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি : বদিউল আলম মজুমদার

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘কারা নির্বাচনে আসবে, কারা যোগ্য, কারা যোগ্য নয়, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে। আমাদের কাজ হলো নির্বাচনীব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া।’

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলে।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও জেসমিন টুলীও উপস্থিত ছিলেন।

বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ, আবেগ ও উচ্ছ্বাস সেটা আমরা উপলব্ধি করছি। আমরা কোথাও গেলে মানুষ দু’টি কথা বলতে চায়, তাদের মনের আকুতি ব্যক্ত করতে চায়। অনেকে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে চায়। সবার প্রস্তাবগুলো আমরা নিচ্ছি। ইমেইলেও হাজার হাজার মানুষ মতামত দিচ্ছে আমাদের। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রস্তাবগুলো দেব। তবে বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার সেখানে ভূমিকা থাকবে। আশা করছি ৩১ ডিসেম্বরের আগেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।’

বদিউল আলম মজুমদার যোগ করেন, ‘আমরা কতগুলো প্রস্তাব দেব। কিন্তু বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। বাস্তবায়ন হবে সরকারের দ্বারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে অনেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তারা আর ব্যবহৃত হতে চান না। তারা চান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই সেভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। আর হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়া হয়। তথ্য গোপন করা হয়। এগুলো যাতে যাচাই-বাছাই করা হয়, ওই সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোনো আইনে পরিচালিত হলেও সংস্কার কমিশনের সাথে তা সাংঘর্ষিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজের সাথে তাদের কোনোরকম সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে না। যাদেরকে নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে তারা অত্যন্ত সম্মানিত এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারা সঠিক ব্যক্তি এবং তারা আমাদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে। সংখ্যানুপাতিক আসনের পক্ষেও আছে, বিপক্ষেও প্রস্তাব আছে প্রবল। সব কটা বিবেচনায় নিচ্ছি। তবে এখানে আরেকটা জিনিস জানা দরকার, এসব সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের নয়। এগুলোর জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তো সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে কমিশন হয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বলেন, ইভিএম এর আর প্রশ্নই আসে না। ওটা হবে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, আমরাও একই মত দিয়েছি।

হলফনামায় তথ্য গোপন প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া তথ্য থাকে, গোপনও করা হয়। আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করছি। আমাদের প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ সময় ছিলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডা. মো: আবদুল আলীম ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।

ইসরাইলের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে ফেসবুক

ইসরাইলের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্যাম্পেইনিং অর্গনাইজেশন ইকো এমন ৯৮টি বিজ্ঞাপন চিহ্নিত করেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও আইনপ্রণেতাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে ফেসবুক। অথচ ওই সেনারা গাজায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত। আর আইনপ্রণেতারা গাজায় পুনর্বাসনে আগ্রহী।

ইকোর এক জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক এমন অন্তত ৯৮টি বিজ্ঞাপন প্রমোট করেছে। বিজ্ঞাপনগুলো বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে টার্গেট করে দেখানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, যেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত প্রযুক্তির থার্মাল ড্রোন, অ্যাসল্ট রাইফেল সাইট, আর্মার, নাইট ভিশন গগলস এবং হেলমেটসহ উন্নত সমরাস্ত্র কেনার জন্য সহযোগিতা করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, তহবিল সংগ্রহের এই বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এতে তারা ড্রোন কেনার জন্য তহবিল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে। সম্ভবত এই ড্রোনগুলো তারা গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধে ব্যবহার করবে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ইসরাইল যেসব ড্রোন কিনতে চাচ্ছে, তার অধিকাংশগুলোই বিস্ফোরক বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মিডল ইস্ট আই থেকে অনুবাদ করেছেন আবু সাঈদ

কনসার্টে মঞ্চ মাতালেন রাহাত ফতেহ আলী খান

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ইকোস অব রেভল্যুশন’ কনসার্টে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় মঞ্চে ওঠেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করার পর এ শিল্পী শুরু করেন শ্রোতাদের পরিচিত ‘আস পাস হ্যা খুদা’ গানটি দিয়ে। রণবীর কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘আনজানা আনজানি’ ছবিতে শোনা গিয়েছিল গান।

এ কনসার্টে গাওয়ার জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও গাইবেন এ শিল্পী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা দিতে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্টের টিকিট বিক্রির অর্থ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার নিয়ে কাজ করা কল্যাণমূলক সংস্থা ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাহাত ফতেহ আলী খান প্রাথমিকভাবে মুসলিম সুফি হিসেবে ভক্তিমূলক গান গাইতেন। তিনি ওস্তাদ নুসরাত ফাতেহ আলী খানের ভাস্তে এবং ওস্তাদ ফররুখ ফতেহ আলী খানের ছেলে। এছাড়াও তিনি পুরাণখ্যাত কাওয়ালি শিল্পী ফাতেহ আলী খানের নাতি।

পাশাপাশি তিনি বলিউডের জনপ্রিয় একজন নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। তার গাওয়া প্রথম বাংলা গান ‘তোমার-ই নাম লেখা’ এবং গানটি লিখেছেন বাংলাদেশী গীতিকার রবিউল আউয়াল। গানটি গেয়ে তিনি বাংলাদেশে বেশ প্রশংসিত হন।

সাকিব-তামিমকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া যাবে : ফারুক

দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা দু’ সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে আগামী বছর পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু দু’ সিনিয়র ক্রিকেটার এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। তাই নির্বাচকরা যদি মনে করেন দলে তাদের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে দু’ সিনিয়রকে নির্বাচনে কোনো বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো পলিসি নেই। যদি কোনো ক্রিকেটার অবসর না করে থাকে আর যদি নির্বাচকরা মনে করেন তাকে দলে দরকার, তাহলে তাদের সাথে আলাপ করতে পারে নির্বাচকরা।’

চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর তামিমকে দলে পাবার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিলেন বিসিবি-এর প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তারপরও বল ঠেলে দিয়েছিলেন বিসিবি-এর কোর্টে।

আশরাফ বলেছিলেন, ‘তামিম ইকবাল খেলা শুরু করেছেন এটা খুব আশার কথা। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই আমরা জানতে পারব যে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য তাকে পাওয়া যাবে কি-না। যদি তিনি থাকেন তাহলে তো দারুণ হবে।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিমের মতো সাকিবকে পাবার কথা থাকলেও তার ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য দিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সাকিবের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটা নতুন কিছু নয়। সর্বশেষ যখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছিলাম তিনি তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তাই তাকে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন শুধু সাকিবই বলতে পারবেন তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলবে কি-না। তার অবস্থা সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। আমার কাছে তার কোনো আপডেট নেই।’

বর্তমানে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলছেন তামিম। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে ফরচুন বরিশালকে নেতৃত্ব দিবেন তিনি। সাকিব দেশে আসতে না পারলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হবার কথা রয়েছে। হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্টটি হবে। এখনো টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্র : বাসস

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের খসড়া তালিকা প্রকাশ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বা আহত হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণঅভ্যুথান সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার জহিরুল ইসলামের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ৬৪টি জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইট (https://musc.portal.gov.bd) এ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের উল্লিখিত খসড়া তালিকা দুটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত খসড়া তালিকা দুটিতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই/সংশোধন/চূড়ান্ত করতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য/ওয়ারিশ/প্রতিনিধিদেরকে মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। এই প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত/পরামর্শ থাকলে অথবা সংযোজন/বিয়োজন করার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ইমেইলে (muspecialcell36@gmail.com) জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।