মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, আমার হাতে কারো রক্তের দাগ নেই। আমি কারো টাকাও চুরি করিনি। সিরিয়ায় বাশার সরকারের পতনের সপ্তাহখানেক পর সামরিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সিসি ছিলেন মিসরের সামরিক বাহিনীর প্রধান। এক দশক আগে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন। বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকে তিনি এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই মন্তব্য তার শাসনের নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত প্রদান করে।
বাশারের পতনের পর সিসি আগের চেয়ে বেশি হুঁশিয়ার হয়ে গেছেন। কারণ, আরব অঞ্চলে তিনিই এখন সবচেয়ে বড় স্বৈরাচারী শাসক। তার কারাগারে এখনো ৬৫ হাজার রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন। হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্যাতনকে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতির পর্যায়ে উন্নীত করেছেন, যেটি মানবতাবাধিকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় সিসি নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের সদর দফতরে সামরিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠক করেন। এ সময় সরকারপন্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রচার করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি শিরোনাম প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম দুটি শিরোনাম হলো, ‘সিসি আসাদ নন’ এবং ‘মিসরীয়দের সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত নয়।’
তারপর ২৩ ডিসেম্বর মিসরীয় রাষ্ট্র-সংযুক্ত নিউজ আউটলেটগুলো জনসাধারণের উদ্দেশে সিসির একটি বক্তৃতার ভিডিও সম্প্রচার করে। সেখানে সিসি বলেছেন, ‘তারা সিরিয়ায় তাদের মিশন শেষ করেছে। তারা সিরিয়াকে ধ্বংস করেছে। এখন টার্গেট হলো মিসরীয় রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলা।’ তবে সিরিয়ার ধ্বংসের জন্য তিনি কাকে দায়ী করেছিলেন, তা উল্লেখ করেননি।
গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়ার পরেই সচিবালয়ে আগুন লাগায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (RUNESA) আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ ব্যানারে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, সরকারের এই সংস্কার যে কেমন হবে, কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে, তা আমরা বলতে পারি না। কারণ, সাইবারসংক্রান্ত সংস্কারের যে রূপটি আমরা দেখছি, ওই রূপটি আমার মনে হচ্ছে ভালো কিছু ফিরছে না।
তিনি বলেন, চারদিকে বিভিন্ন ঘটনায় আমরা শঙ্কিত, আমরা ভয়ার্ত। ব্যক্তিগত কারণে ভয়ার্ত নই, রাষ্ট্র নিয়ে আমরা ভয়ার্ত। আমরা এর আগেও দেখেছি, যখন কোনো সচিব, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ আসে, তখনই সচিবালয়ের ফাইল গায়েব হয়ে যায়, আগুন ধরে। গতকাল সচিবালয়ে মধ্যরাতে যে আগুন, এ বিষয়ে আমরা কোনো মুখরোচক কথা বলতে চাই না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সচিবালয়ের আগুনে অনেক নথিপত্র পুড়ে গেল। একটি ঘটনা আরেকটি ঘটনার মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। গতকালই আমরা সংবাদপত্রে দেখেছি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এই নথি চাওয়ার পরেই গতকাল গভীর রাতে আগুন। এটা জনমনে বিরাট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে একেবারে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি দিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মত দেন রিজভী। কারণ, গতকাল শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের কিছু নথিপত্র চাওয়ায় সচিবালয়ে নতিপত্র পুড়ে যাওয়া ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এটি মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কারা নির্বাচিত হবে রাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি তা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে এ আত্মত্যাগের কী দাম থাকবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয় কিভাবে। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভারতের নীতি শেখ হাসিনার মাধ্যমে দেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পরিবর্তিত দেশকে শুধু ভারত ছাড়া সবাই স্বীকৃতি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার কালা-কানুনের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ অনেক দলের আত্মত্যাগ অস্বীকার করা যাবে না। বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য এই সরকারের ভেতরে ক্ষীণ প্রচেষ্টা কাজ করছে কিনা তা নিয়ে জনগণের ভেতরে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সচিবালয়ে লাগা আগুন ১০ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিভেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে সিদ্দিক বাজার, লালবাগ, পলাশী, সচিবালয়, তেজগাঁও, বারিধারা, উত্তরা ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর সেই আগুন পুরোপুরি নিভেছে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে বলা হয়েছিল, আজ সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অর্থাৎ আগুন লাগার ছয় ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
উল্লেখ্য, রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ওই ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এর মিনিট দুয়েক পরই সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ২০ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
এদিকে সচিবালয়ে আগুন নেভানোর সময় ট্রাকচাপায় আহত হওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মী মো: সোহানুর জামান নয়নের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার আটপনিয়া গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে। তিনি তেজগাঁও ফায়ার টিমের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য।
এর আগে দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সচিবালয়ের দক্ষিণ দিকের ১ নম্বর ফটকের সামনের রাস্তায় ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। পরে ট্রাক ও ট্রাকের চালককে ধাওয়া করে আটক করেছে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য বিকল্প পানির ব্যবস্থা করছিলেন। এ সময় তিনি পাইপ কাঁধে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি দ্রুতগামী ট্রাক এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান।
দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট কাজ শুরু করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সহ বিভাগের অফিস রয়েছে। নয়তলার এই ভবনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ রয়েছে।
জ্যাকসন হাইটসকে বলা হয় উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র। প্রবাসী ভোজন রসিকদের তৃপ্তি দিতে এবং আকর্ষণীয় পার্টি হলের চাহিদা মেটাতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৩৭ এভিনিউ ও ৭৪ স্ট্রিটে উদ্বোধন করা হলো ‘সানাই রেস্টুরেন্ট এবং পার্টি হল’। আধুনিক ডেকোরেশন, উন্নতমানের খাবার এবং সুন্দর পরিবেশনার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসীদের মাঝে আস্থা বয়ে আনবে বলে কমিউনিটির প্রত্যাশা। ১৪ ডিসেম্বর শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগত সকলকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার রণজিৎ দেব, গোপাল সাহা, সমীক রঞ্জন, ফারজানা আলম ও সামসুন্নাহার রিমি। উদ্বোধনের পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঢল নেমেছিল প্রবাসী ভোজন রসিকদের। দুপুর ২টায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।এতে মোনাজাত পরিচালনা করেছেন আহলে বাইত জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি ড.সাইয়েদ মুতাওয়াককিল বিল্লাহ রব্বানী। উপস্থাপক আশরাফুল হাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় পর্বে উপস্থিত নানা পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকর্তা, জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা ‘সানাই রেস্টুরেন্ট’র অগ্রযাত্রা কামনা করেছেন। বক্তারা বলেছেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ‘সানাই রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হল’ একটি বড় সংযোজন। আধুনিক ফিটিংস দিয়ে সাজানো রেস্টুরেন্টটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও এগিয়ে থাকবে বলে আগতরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অনতম কর্ণধার দেব জানান, আমরা এখন প্রতিদিন ব্রেকফাস্টের সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার পরিকল্পনা করেছি। তবে প্রবাসীদের চাহিদা থাকলে আমরা ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার পরিকল্পনা করব। তিনি বলেন, আমাদের রেস্টুরেন্টে ১৪ রকমের ভর্তা নিয়মিত থাকছে। এছাড়াও নানা ধরনের দেশীয় মাছের আইটেম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাখার চেষ্টা করব। রেস্টুরেন্টের সবগুলো খাবার সম্পূর্ণ হালালভাবে প্রসেস করা হয়। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি বেসমেন্টে প্রায় ২শত মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় ৮০ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পার্টি হল রয়েছে। ফ্যামিলি পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান, সভা-সমিতির প্রোগ্রামসহ যে কোন আয়োজনে পার্টি হল ভাড়া দেয়া হচ্ছে। জ্যাকসন হাইটসের এই জায়গায় আগে ছিলো ভারতীয় রেস্তোরা-জ্যাকসন ডাইনার। এখন সেখানে গ্র্যান্ড ওপেনিং হয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ‘সানাই’।
“মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতা” – এই থিমের ওপর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ঊনবাঙালের ৪৬তম সাহিত্যসভা। নির্ধারিত বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বিজয় দিবসের মাসে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেন। অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন নাট্যজন মুজিব বিন হক, ডাক্তার ও সাহিত্যানুরাগী মুশফিক চৌধুরী, পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট রওশন হক।
ঊনবাঙালের প্রথা অনুযায়ী এ-মাসের জন্য নির্বাচিত আবৃত্তি শিল্পী আহসান হাবিব, জিএম ফারুক খান এবং দিমা নেফারতিতি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। এ-মাসের নির্বাচিত কবি সুমন শামসুদ্দিন পড়ে শোনান তার রচিত ৩টি মুক্তিযুদ্ধের কবিতা। এ-ছাড়া স্বরচিত কবিতা পড়েন সোহেল হামিদ, এস এম মোজাম্মেল হক, মোঃ নজরুল ইসলাম, ইশরাত মিতা, রেণু রোজা, সৈয়দ রাব্বী। নিজেদের লেখা গল্প ও মুক্ত গদ্যাংশ পাঠ করেন কাওসার পারভীন চৌধুরী এবং ইমাম চৌধুরী। আবৃত্তি করেন আদিত্য শাহীন, মুন্না চৌধুরী, ফরিদা ইয়াসমিন প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে মোঃ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দুটি দেশের গান পরিবেশন করেন ঊনবাঙালের সদস্যরা। এতে অংশ নেন সোহানা নাজনীন, ফরিদা ইয়াসমিন, চমক ইসলাম, ইশরাত মিতা, মোজাম্মেল হক, সৈয়দ রাব্বী, সুমন শামসুদ্দিন, কাওসার পারভীন চৌধুরীসহ আরো অনেকে।
কাজী জহিরুল ইসলাম তার থিমেটিক বক্তব্যে অ্যালান গিন্সবার্গ, জর্জ হ্যারিসন, জোয়ান বায়েজের নাম উল্লেখ করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত গান ও কবিতার জন্য। তিনি বলেন গিন্সবার্গের কবিতা “সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড” এবং জর্জ ও জোয়ানের “বাংলাদেশ” গান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আন্তর্জাতিক কম্যুনিটির সমর্থম জুগিয়েছে। বাংলাদেশী কবিদের প্রায় সকলেই মুক্তিযুদ্ধের ওপর কবিতা লিখেছেন। তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা ও কবিদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এখন আমরা যারা কবিতা লিখছি এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করছি, আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে, বিজয়ের মাসে এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আবু জাফর মাহমুদ তার ভাষণে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের শত্রু কে তা চিহ্নিত করে বাকী পৃথিবীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে। ঊনবাঙালের ঐক্য এবং প্রত্যয়ের তিনি প্রশংসা করেন। মুজিব বিন হক বলেন, আমরা সব সময় একজন বীরের প্রতীক্ষায় থাকি, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সবাইকেই বীর হয়ে উঠতে হবে।
অতিথিরা, সদস্যরা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রাকে তুচ্ছ করে নিজ হাতে তৈরি করা সুস্বাদু খাবারের পশরা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ঊনবাঙাল সভার এই কাব্যিক মিলনমেলায়। শুদ্ধ শিল্পের নিবিড় চর্চা – ঊনবাঙালের এই স্লোগানে মোড়া কাব্যিক উষ্ণতা বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঊষ্ণ রাখে অভ্যাগত সবাইকে। এখন থেকে ঊনবাঙাল সভা ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা আয়োজনের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম চৌধুরী, সদস্যসচিব সুমন শামসুদ্দিন, সদস্য হিসেবে থাকবেন সৈয়দ ফজলুর রহমান, রওশন হক, সৈয়দ রাব্বী এবং কাওসার পারভীন চৌধুরী।
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র উদ্যোগে বাংলাদেশের ৫৪তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় নিউইয়র্কের কুইন্স আল মদিনা পার্টি হলে এ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ মোস্তফা বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দুদু মিয়া মঈন, বাংলাদেশ সোসাইটির উপদেষ্টা আজিমুর রহমান বোরহান, বাংলাদেশ সোসাইটি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি ও বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক এর সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল মসব্বির, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক এর সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
সভায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হোসেন আহমেদ, কোরআন তেলাওয়াত শেষে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক এর সহ-সভাপতি মোঃ জাবেদ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলিম, সহ-সভাপতি মোঃ শফিউদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কুদ্দুস টিটু, সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক এর সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম অপু, সাবেক ছাত্রনেতা কে এইছ সুমন প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান খান ও জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক ক্রীড়াবিদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক এর সহ সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট চৌধুরী মুমিত তানিম, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, রোমান আহমেদ, জিসান আহমেদ, মুশফিকুর রহমান, আবিদ আহমেদ, রুবেল আহমেদ, শাহ আলম, আব্দুল কালাম, হাসান মাহমুদ, কবির আহমদ, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবুল খায়ের, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক মনিয়া, সাংবাদিক মিছবাহ আহমেদ, মোঃ জাকির উদ্দিন, মোঃ আব্দুল মতিন, মোঃ আলী জিন্নাহ, মোঃ নুরুল হক, কামাল চৌধুরী, কয়েছ আহমেদ, শামিম আহমেদ, হাসান আহমেদ, কবির আহমদ, ছাত্র নেতা জামাল হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন, আইন উদ্দিন, মোঃ সামছুল ইসলাম প্রমুখ।
আমন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধার হাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ মোস্তফা বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দুদু মিয়া মঈন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জাওয়াদ আলী, এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রিত অতিথি সহ সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম সকল জালালাবাদবাসী এবং উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অনুষ্ঠানে কোন ধরনের ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি আবেদন করেন উপস্থিত অতিথি নৈশ ভোজের আমন্ত্রণ জানান।
বিএনিউজ: উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সর্ববৃহৎ ইসলামি সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)’র ন্যাশনাল ও জোনাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সেশনের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইমাম দেলোয়ার হোসাইন, ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মনোনীত হয়েছেন আরমান চৌধুরী, সিপিএ। এছাড়া ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন, আবু আহমদ নুরুজ্জামান, ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরী, হারুন অর রশীদ, মাওলানা আবুল ফয়জুল্লাহ, ন্যাশনাল এসিস্টেন এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আহমদ আবু ওবায়দা, আনিসুর রহমান গাজী, ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও আব্দুল্লাহ আল আরিফ। উল্লেখ্য, সংগঠনের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র সদস্য ও সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই বছরের জন্য ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচন করেন সদস্যরা। নির্বাচন পরিচালনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান ছিলেন আবুসামিহাহ সিরাজুল ইসলাম। অপর সদস্যরা ছিলেন মো: দিদারুল আলম ও মো: রেজাউল করিম। গত ২১ ডিসেম্বর মজলিশে শুরার অধিবেশনে উপস্থিত সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহন করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর নবনির্বাচিত মজলিশে শুরার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসাইন। ২০২৫-২৬ সেশনে মজলিশে শুরার নির্বাচিত সদস্যরা হলেন, হারুন অর রশীদ, আবুল বাশার ফয়জুল্লাহ, আরমান চৌধুরী, তোয়াহা আমিন খান, ডা: আতাউল হক ওসমানী, আহমদ আবু ওবায়দা, সাফায়েত হোসেন সাফা, এমদাদ উল্লাহ, ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন, আবদুল্লাহ আল আরিফ, ড. মোহাম্মদ নকিবুর রহমান, মো: মাহমুদুল কাদের তফাদার, মো: জিয়াউল ইসলাম শামীম, আব্দুল কাইয়ূম, খায়রুল হাসান রফিক, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, প্রফেসর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এদিকে নবনির্বাচিত ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য ন্যাশনাল কমিটি ও জোনাল সভাপতিদের মনোনয়ন প্রদান করেন। জোনাল সভাপতিরা হলেন, নিউইয়র্ক নর্থ জোন মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, নিউইয়র্ক সাউথ জোন ইমদাদ উল্লাহ, আপষ্টেট নিউইয়র্ক জোন আব্দুল কাইয়ূম, ওয়েষ্ট জোন সভাপতি আব্দুল মান্নান, ইষ্ট জোন মাহমুদুল কাদের তফাদার, সাউথ জোন সভাপতি ডা: আমিনুল ইসলাম, নর্থ জোন সভাপতি নেসার উদ্দিন।
চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব নর্থ অ্যামেরিকা ইনক কতৃক আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সমিতির নিজস্ব ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি জনাব মোহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কার্যনির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ ইছা এবং গীতা পাঠ করেন বিশ্বজিত দাশ।
উক্ত অনুষ্ঠানে ৭১’র রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মোহাম্মদ হোসেনকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করা হয়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের লাল সবুজের আবহে তৈরী করা উত্তরীয় পরিয়ে দেন সমিতির কর্মকর্তারা। মহান বিজয় দিবসের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সর্বজনাব নিউজার্সি থেকে আগত উত্তম দাশ, মামুন চৌধুরি, সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান লিটন, সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব নাদের চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ দিদারুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সাবেক সহসভাপতি সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোকন কে চৌধুরি, সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কার্য্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য কামাল হোসেন মিঠু, সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মুনির আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।
বক্তারা বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। এই ইতিহাসকে বিকৃত করা কিংবা মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই ধরনের অপচেষ্টা যাতে রুখে দেয়া হয় সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সর্বজনাব সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ফোরকান উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ চৌধুরী, জামাল চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মেজবা আহমেদ, কাউচার আহমেদ, শওকত স্বজন, এডভোকেট হামিদ, সৈয়দ মানু, মোঃ করিম, মোঃ হাসান, হাবিব উললাহ, মোঃ ফরিদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শফিকুল আলম, সহকারী কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন, দপ্তর সম্পাদক অজয় প্রসাদ তালুকদার, সহকারী দপ্তর সম্পাদক ইমরুল কায়সার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ এনাম চৌধুরী এবং ক্রীড়া সম্পাদক মোহামদ ইসা, স¤্রাট আজিম, জাবেদ হোসেন, তানিম আহমেদ, মহিম উদ্দিন। সর্বশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব আবু তাহেরের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসের দুই জনপ্রিয় শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য এবং চন্দ্রা রায়। দুই শতাধিক নারী পুরুষ সেই জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথোরিটি বাংলাদেশী-আমেরিকান কর্মকর্তাদের উদ্যোগে গত ২১শে ডিসেম্বর শনিবার জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে এক ফ্যামিলি নাইট উদযাপিত হয়। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথোরিটির বাংলাদেশী-আমেরিকান কর্মকর্তাদের পরিবার পরিজন সহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গল্প,গান, বক্তৃতা,ছড়া ও নৃত্যের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি একটি বাঙালি উৎসবে পরিণত হয়েছিল। তাছাড়া হরেক রকমের সুস্বাদু বাঙ্গালী খাবারও পরিবেশিত হয়।
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন মিঠুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ আসাদুজ্জামান ও সুব্রত তালুকদারের যৌথ পরিচালনায় প্রথমেই সবার উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক কামাল হোসেন মিঠু, বক্তব্য রাখেন সৈয়দ রহমান মিজান,ফরিদা ইসলাম,আইরীন ইয়াসমীন,রাশেদ মামুন, নাজমুল ইসলাম,ডালি আকতার, সলিমউল্লাহ চৌধুরী, শেখ শহীদ , সানাউল হক,আকতার হোসেন,মোহাম্মদ রহিম পলাশ, অনুপমা দেবনাথ, রিজওয়ানা রাশিদ।অবসরপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,মীর মাহমুদ,কামাল আহমেদ,আতাউর চৌধুরী ,মহসিন জামান,খন্দকার আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। তাছাড়া ছড়া পাঠ করে নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ছড়াকার মঞ্জুর কাদের।
এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোক্তার হোসেন,আবু কামাল,সুলতানা পারভীন, চন্দ্রনাথ পাল, লুবানা ইসলাম, মোহাম্মদ আজগর, দুর্জয় সাহা, সানিউর রহমান, মাহবুবুর রহমান রাজিব আহমেদ, মোহাম্মদ আজাদ, লায়লা নাহার, নাসিমা হুদা, ইফাত, ফরিদা আক্তার, সুস্মিতা, মহসিন তানিম প্রমুখ।
বক্তব্যের পর পরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে গান পরিবেশন করেন স্বপ্নীল তালুকদার। তারপর হাউজিং অথরিটি কর্মকর্তাদের মধ্যে গান পরিবেশন করেন সানাউল হক, নাজ কামাল। তবে হাউজিং অথোরিটি কর্মকর্তাদের মধ্যে দর্শকদের গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেন বাপ্পি সোম ও শামীম রেজা এবং চন্দ্রা রায়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন অতিথি শিল্পী, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কৃষ্ণা তিথি। তিনি রাত ১০:১৫ থেকে রাত ১২:০০ পর্যন্ত গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কুরআন তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ মহসিন জামান এবং গীতা পাঠ করেন বিধান চন্দ্র পাল। তারপরেই বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে সবাই সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এবং শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আহ্বায়ক কামাল হোসেন মিঠু সহ সকল বক্তাদের বক্তব্যের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশী-আমেরিকান নিউইয়র্ক সিটি হাউসিং অথোরিটি কর্মকর্তাদেরকে নিয়ে একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করানো। বক্তারা বলেন,আমাদের এই অনুষ্ঠানেই প্রমাণ করেছে আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন। সুতরাং আমরা অচিরেই একটি সংগঠন গড়ার লক্ষ্য সবাইকে নিয়ে বসব।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে এক লাফে ১৩ ধাপ এগিয়ে ১০ নম্বরে উঠে এসেছেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ছেলেদের র্যাঙ্কিংয়ে আইসিসি-এর সাপ্তাহিক হালনাগাদে এ তথ্য উঠে আসে।
টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করা তিন ম্যাচ সিরিজে টাইগারদের সেরা পারফরমার ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান, যার পুরস্কার পেলেন আইসিসি-এর র্যাংকিংয়েও।
ওই তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মেহেদী, রেখেছেন ব্যাট হাতেও অবদান। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করার পাশাপাশি বল হাতে ২৪ বলে অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
লো স্কোরিং দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে ১১ বলে ১১ এবং পরে বল হাতে ২০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন এ অফস্পিনার।
তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শূন্য করলেও বল হাতে ঠিকই আলো ছড়িয়েছেন। ১৩ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। সবমিলিয়ে তিন ম্যাচে ৩৭ রান দিয়ে আটটি উইকেট শিকার করেন মেহেদী। এমন পারফরম্যান্সের পর বোলিং র্যাংকিংয়ে সেরা দশে উঠে এসেছেন তিনি।
মেহেদীর ঠিক পরের অবস্থানেই আছেন বাংলাদেশের আরেক বোলার তাসকিন আহমেদ। ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করা এ পেসার সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১১ নম্বরে।
এদিকে, বড় লাফ দিয়েছেন রিশাদ হোসেন আর হাসান মাহমুদ। ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করা রিশাদ হোসেন ২১ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৭তম অবস্থানে, সমান ম্যাচে ৪ উইকেট পাওয়া হাসান ২৩ ধাপ এগিয়ে ২৪ নম্বরে।
ব্যাটিং র্যাংকিংয়ে সেরা ত্রিশজনের মধ্যেও নেই বাংলাদেশের কেউ। ক্যারিবীয় সফরে না খেলা তাওহিদ হৃদয় দু’ ধাপ পিছিয়ে ৩১ নম্বরে, লিটন দাস এক ধাপ পিছিয়ে ৪৭তম অবস্থানে।