Home Blog Page 493

ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে, হিন্দুদের নিরাপত্তা আমরা দিব : মামুনুল হক

ইসকনকে রুখে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘ইসকন সন্ত্রাসী সংগঠন, তাদের রুখে দেয়া হবে। ওরা আমাদের দেশের শান্তিকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অতি দ্রæত ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে অন্যথায় হেফাজত ইসলাম রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। আর হিন্দুদের নিরাপত্তা দেব আমরা।’
বুধবার বিকেলে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে খেলাফত মজলিশ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, ‘বিগত জালিম সরকার নিজেদের লোকদের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগে বসিয়ে ইচ্ছামত কাজ করেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল বলেই ২৪ এর আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনরোষে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনিতীতে বিশ্বাসী ছিল বলেই শেষ পর্যন্ত তার দল আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মীদের সঙ্গেও প্রতিশোধ নিয়েছে। তিনি এ দেশের ব্যাংক গুলোকে শূন্য করছেন আজ দেশের মানুষ ব্যাংকে গিয়ে টাকা পায় না। দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। তারপরেও তারা আবার রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।’
এসময় হিন্দু স¤প্রদায়ের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তা রাষ্ট্র দিতে ব্যর্থ হলে হেফাজত ইসলাম আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। ভয়ের কোন কারণ নেই। তবে দেশের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবেন না।’
বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো হয়নি। দ্রæত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই না এদেশের আলেম সমাজ নির্বাচনের দাবি নিয়ে রাজপথে নামক।’

ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি সারজিস-হাসনাতের

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘকে (ইসকন) নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের টাইগার পাস মোড়ে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে সংঘর্ষে নিহত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের জানাজা শেষে আয়োজিত শোক এবং সমপ্রীতি সমাবেশে তারা এ সব দাবি করেন।
এ সময় টাইগার পাস চত্বরে উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে ‘ইসকন জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ভুলে যাইনি আওয়ামী লীগের সহায়তায় ইসকন কীভাবে গত ১৬ বছর বেড়ে উঠে আজকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে স্বৈরাচারের সঙ্গী হয়ে ভারতের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই ভারতের বুবু, ভারতের হাসিনা এই বাংলাদেশে তোমার আর ঠাঁই হবে না। ভারতে বসে যতই ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করা হয়, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের সহাবস্থান থাকবে। যে হিন্দু সে হিন্দু ধর্ম পালন করবে, যে বৌদ্ধ সে বৌদ্ধ ধর্ম পালন করবে, যে খ্রিষ্টান সে খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করবে। আমরা সবার অধিকার রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে উগ্রবাদী সংগঠন পরিচালনা করবে, সেসব উগ্রবাদী সংগঠনকে বাংলাদেশে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেন, জঙ্গি সংগঠন ইসকনকে বিতাড়িত করা হাতের ময়লা। যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা এই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই চিন্ময়রা উসকানি দেয়।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে সব প্রেতাত্মাদের বলে দিতে চাই, আমরা ১৬ বছরের খুনি হাসিনাকে দেশ ছাড়া করেছি, ছোটোখাটো কিছু জঙ্গি ইসকনকে দেশছাড়া করা আমাদের জন্য হাতের ময়লা।
তিনি বলেন, আমরা সব ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু কেউ যদি আমাদের সহানুভূতিকে দুর্বলতা মনে করে, আমরা কি তাদের ছেড়ে দেব? আমরা কি এই জঙ্গি ইসকনকে ছেড়ে দেব। আমরা আমাদের সাইফুল ভাইয়ের খুনিদের বিচার দেখতে চাই। এই বীর চট্টলায় খুনি ইসকনের জায়গা হবে না। আপনাদের বলে দিতে চাই, আমাদের চারপাশে অনেক চক্রান্ত ছিল, আরও চক্রান্ত হবে, কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সব চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রশাসনের যেসব জায়গায় স্বৈরাচারের দোসররা বিরাজমান, তাদের সমূলে নির্মূল করতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ চলবে না। দাদাবাবুদের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ চলবে না। ভারতীয় কোনো আগ্রাসন বাংলাদেশে চলবে না। ভারতীয় কোনো দাদাগিরি বাংলাদেশে চলবে না।
চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, আমাদের এই বাংলাদেশে কোনো উগ্রবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনের ঠাঁই হবে না, কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এই বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে। আমরা ১৫ দিনের মধ্যে ইসকনকে নিষিদ্ধকরণ চাই। ইসকনের সন্ত্রাসীরা গতকাল আমাদের ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচাই চাই। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।

চিন্ময় ইস্যুতে ভারতের বিবৃতি দেয়া অনধিকার চর্চা : উপদেষ্টা নাহিদ

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়াকে ভারতের ‘অনধিকার চর্চা’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
বুধবার তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করে করি, এই ধরনের স্টেটমেন্ট দেয়া ভারতের অনধিকার চর্চা। এখানে তারা ঘটনাকে আরো উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের উচিৎ তার নিজের দেশের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা।’
‘আমরা ভারতকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহŸান জানাচ্ছি এবং আওয়ামী লীগের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা যেন ভারত সাবস্ক্রাইব না করে,’ বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার ও জামিন বাতিলের ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাকে আটকের পর বাংলাদেশের চরমপন্থী গ্রুপগুলো হিন্দু স¤প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও হিন্দু এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার মতো ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীরা যেখানে ধরাছোঁয়ার বাইরে সেখানে একজন ধর্মীয় নেতা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলেছে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করে ভারত।
এরপর গতকাল রাতেই পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ হতাশা প্রকাশ করে।
ভারতের এ ধরনের ‘অপ্রমাণিত বিবৃতি’ শুধু ঘটনাটিকে ভুলভাবেই তুলে ধরছে না বরং প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব এবং বুঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে, তার মনোভাবের বিরোধী বলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

রয়টার্সের মনগড়া সংবাদের প্রতিবাদ জানালো সিএমপি

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানির পর চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় মঙ্গলবার যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তা নিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
ওই রিপোর্টটি পরবর্তীতে ভয়েস অব আমেরিকা সহ আরো অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সেই রিপোর্টে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ‘উপ-পুলিশ কমিশনার লিয়াকত আলী খান’ নামক একজনকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছিল, ‘চিন্ময় দাসের পক্ষের একজন মুসলিম আইনজীবী আদালতের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে নিহত হন।’
সিএমপি বলছে, ‘রয়টার্স বা কোনো সাংবাদিক এই বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খানের সাথে কথা বলেননি।’
‘ঘটনার সময় তিনি আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে দায়িত্বরত ছিলেন। তারাও কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি,’ জানিয়েছে সিএমপি।
লিয়াকত নামে চট্টগ্রামে চারজন কন্সটেবল আছে, তারাও কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি বলে সিএমপি জানিয়েছে।
সিএমপির পরামর্শ, ‘কারো বক্তব্য গ্রহণ না করেই নিজেদের মনগড়া বক্তব্যকে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বলে চালিয়ে দেয়া সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী।’
‘ভবিষ্যতে রয়টার্সসহ সকল গণমাধ্যম এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে’ আশাবাদ ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরবর্তীতে সংশোধনী দিয়েছে রয়টার্স।

কিছু মানুষ গোটা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

৫ আগস্টের বিপ্লবের তিন মাস না যেতেই আসল চেহারা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেছেন, ‘এই চেহারা নিয়ে কোনো দিনই সাফল্য অর্জন করা যায় না। যতই বড় বড় কথা বলি, যতই লম্বা লম্বা বক্তৃতা করি। নিজের ঘরেই যদি বিভেদ থেকে যায়, আমরা সেটা কখনোই ঠিক করতে পারব না।’
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স¤প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনে চিকিৎসক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভা হয়।
হতাশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছুসংখ্যক মানুষ- তারা নিজেদের অত্যন্ত জনপ্রিয় সবচেয়ে দেশপ্রেমিক মনে করেন, আর গোটা জাতিকে আজকে তারা বিভাজনের দিকে উসকে দিয়ে একটা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’
কারও নাম উল্লেখ না করে বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করবেন, আমি কারও নাম বলব না। কারও নাম বলতে চাই না। আপনারা ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করবেন যে যারা আজকে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলছে, অনৈক্যের দিকে ঠেলছে, তারা আমাদের আসলে শত্রু না মিত্র। এ জিনিসগুলো বুঝতে হবে। আমি কথাগুলো ইচ্ছা করেই আজকে তুলে ধরলাম।’
মির্জা ফখরুল দ্রæত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচনের পথে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহŸান জানান। একই সঙ্গে যারা সরকারের (উপদেষ্টা) দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের এমন কোনো কথা না বলার অনুরোধ করেছেন, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, কারাগারে গেছে, নির্যাতিত হয়েছে। সেই মানুষগুলো ২০২৪-এর ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে। সেই বিজয় অর্জন হয়েছে রাজপথে অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের ভেতর দিয়ে। কিন্তু তার ফল কি এই বাংলাদেশ? তিন মাস হয়নি, এখনই রাস্তায় রাস্তায় লড়াই শুরু হয়েছে। একজন আরেকজনের বুকের রক্ত ঝরাচ্ছি। এখন পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আক্রমণ করছে।’
এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম সা¤প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কয়টা দিনে আমরা খুব চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, ভয়াবহভাবে উদ্বিগ্ন। আপনি চিন্তা করতে পারেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার জন্য আমরা এত দিন লড়াই করলাম, তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’ এ সময় তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ অন্যান্য সব পত্রিকাগুলোতে যে আক্রমণ শুরু হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির পোস্টের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কী উন্মাদনা! যখন দেখি, আতঙ্কিত হই। পুড়িয়ে দাও জ্বালিয়ে দাও- এ ধরনের কথাবার্তা। চিন্তা করতে পারেন, কোন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। আমরা কি বুঝি আমাদের ভয়টা কোথায়, আতঙ্কটা কোথায়? আমরা কি বুঝি আততায়ী কোথায় ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আমাদের পেছনে। বুঝি না, বুঝলে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা আমাদের মুখ দিয়ে বের হতো না।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি ১৪-১৫ বছর ধরে লড়াই করেছি, বহুবার জেলে গেছি, যেকোনো সময় আবারও জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমি এই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আমি যা বিশ্বাস করি, আমার দল যা বিশ্বাস করে, সেই কথা আমার প্রাণ গেলেও আমি বলব। আমি বিশ্বাস করি, উদারপন্থী গণতন্ত্রে, বিশ্বাস করি বাক-স্বাধীনতায়, ভোটের স্বাধীনতায়। আমি জানি, অনেকে অনেক কিছু বলেন, কিন্তু আমি এতটুকুও চিন্তা করি না। কারণ, আমরা রাস্তায় থেকে লড়ে লড়ে এই জায়গায় এসেছি। সময়-সুবিধামতো পালিয়ে যাই না আমরা, সামনেই দাঁড়াই।’
সমাজে ঘৃণা ও বিভাজন দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এই সমাজের শ্রেষ্ঠ লোকগুলো বসে আছেন। ছাত্রজীবনে আপনারা শ্রেষ্ঠ ছিলেন, কর্মজীবনেও শ্রেষ্ঠ। তাই আপনাদের সামনে এই প্রশ্নটা তুলছি। আর কত এই বিভাজন নিয়ে, আর কত ঘৃণা নিয়ে অমরা বাংলাদেশকে টেনে ওপরে তোলার চেষ্টা করব। বারবার টেনে তোলা হবে, আবার পড়বে ঘৃণা নিয়ে। দানবীয় শক্তি দিয়ে আবার উঠবে, আবার পড়বে। এ কোন জাতি আমরা। এবার যে সুযোগ হয়েছিল সবাই মিলে একসঙ্গে একজোটে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসার। ছেলেরাও ছিল, আমরাও ছিলাম।’
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সাবেক সভাপতি একেএম আজিজুল হক, ড্যাবের বর্তমান মহাসচিব আব্দুস সালাম প্রমুখ।

জাতীয় ঐক্য গঠনে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান বিএনপির

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দেশের শান্তি বিনষ্টকারী শক্তিকে প্রতিহত করতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐক্য গঠনে উদ্যোগ নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপির প্রতিনিধি দল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির সূত্রে জানা যায়, দেশের চলমান পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম, নির্বাচনী রোডম্যাপ ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।
এর আগে ২৩ অক্টোবর যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির তিন নেতা। ওই বৈঠকে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমদ। বৈঠকের বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে যাতে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট না সৃষ্টি হয়, সে জন্য তারা সরকারকে খেয়াল রাখতে বলেছেন।
তারও আগে ৫ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপসহ আরও কিছু দাবির কথা তুলে ধরে বিএনপি। ওই বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যেও এমন অনেকে আছেন, যারা গণঅভ্যূত্থানের যে স্পিরিট সেটাকে ব্যাহত করছেন। তাদেরকে সরানোর কথা বলে এসেছি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার কাছে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে বলেছি। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ দিতে বলেছি। জাতীয় পরিচয়পত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অধ্যাদেশ দিয়ে বাতিল করতে বলেছি। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যেন নির্বাচন সংস্কার কমিটিতে না যায়, সেটা আমরা বলেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ভুয়া ভোটের মাধ্যমে হওয়া সকল ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল করতে বলেছি। সেইসঙ্গে ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালে নির্বাচনের সময় যারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশনার ছিলেন তাদেরসহ ভুয়া ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

পিছু হটল পিটিআই, সংলাপে জোর দেওয়ার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের

নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক ধরপাকড় আর অভিযানের মুখে বিক্ষোভ থেকে পিছু হটল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করতে ইসলামাবাদের ডি-চকে পৌঁছে যায়। তবে আজ ভোরে তিন দিন ধরে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে ইমরান খানের দল। দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের পুলিশ আজ জানায়, এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। তারা আদিয়ালা কারাগারে বন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ করছিলেন। নিরাপত্তা রক্ষায় অভিযানের পর আজ ভোরেই সিটি সেন্টার থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে পিটিআই নিয়মিত বিক্ষোভ করে আসছে। গতকাল বিক্ষোভ ছিল তাদের সবচেয়ে বড়। এ বিক্ষোভ রাজধানী ইসলামাবাদ অচল হয়ে পড়ে।
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারের বর্বরতা এবং নিরস্ত্র নাগরিকদের জন্য রাজধানীকে কসাইখানায় পরিণত করার পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
সাবেক ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবে।
২৪ নভেম্বর ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭ জন নিহত হওয়ার বিস্তারিত তথ্য এসেছে। তাঁরা হলেন আনিস শেহজাদ সাত্তি, মালিক মুবিন আওরঙ্গজেব, আবদুল কাদির, মালিক সফদার আলী, আহমেদ ওয়ালি, মুহাম্মাদ ইলিয়াস ও আবদুল রশিদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলটির রাজনৈতিক এবং প্রধান কমিটিগুলো বিক্ষোভ ও পরবর্তী সময়ে নাগরিকদের ওপর সরকারের বর্বরতার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করছে। পরে এসব বিশ্লেষণ ইমরান খানের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, কারাবন্দী ইমরান খানের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ ও সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে ডি-চকে সমাবেশের ডাক দেয় পিটিআই। সংবিধানের এই সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে অর্পণ করা হয়।
পিটিআইয়ের এই কর্মসূচিকে ‘চূড়ান্ত ডাক’ অভিহিত করে দলীয় সব নেতা-কর্মীকে তাতে অংশ নেওয়ার আহŸান জানান ইমরান খান। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত রোববার ইসলামাবাদ অভিমুখে গাড়িবহর নিয়ে যাত্রা শুরু করেন নেতা-কর্মীরা। এই গাড়িবহরে ছিলেন ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও। এই সমাবেশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী ইসলামাবাদ। সমাবেশে যাওয়ার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পিটিআই নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের বাইরে ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে জড়ো হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও ইটপাটকেল মেরে এর জবাব দেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমরান খান কারাগার থেকে আরও লোকজনকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আহŸান জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের শান্তিপূর্ণ এ ঐক্যবদ্ধ থেকে দাবি আদায় করতে আহŸান জানান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ বিক্ষোভকে চরমপন্থা বলে মন্তব্য করেন। গত রোববার থেকে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের কোনো ক্ষমা করা হবে না বলে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে পিটিআই সদস্যরা পিছু হটলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের ওপর দ্রæত রাজনৈতিক সংলাপের জন্য চাপ বাড়ছে।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিটিআই ও প্রধানমন্ত্রীর দলকে দ্রæত রাজনৈতিক সংলাপে বসা উচিত। উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, এ বিক্ষোভের কেউ বিজয়ী নন। বিক্ষোভ দমনের কারণে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে পিটিআই সদস্যদেরও এ মূল্য গুনতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বিক্ষোভ দমনে সরকারি কর্মকর্তারা বেআইনি ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের আইনপ্রণেতারা দ্রæত ইমরান খানের মুক্তি ও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।

ভারতের বিবৃতি ‘তথ্যের ভুল উপস্থাপন, বন্ধুত্বের মেজাজের বিপরীত’: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার ও জামিন নাকচের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়ে ভারত সরকারের বিবৃতিকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে তুলে ধরে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্ববর্তীকালীন সরকার।
মঙ্গলবার পাল্টা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, এই ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি কেবল তথ্যের ভুল উপস্থাপনই নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার যে মেজাজ, সেটারও পরিপন্থি।”
দিল্লির আহŸানের বিপরীতে ঢাকা বলেছে, “দেশে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখতেও বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।”
চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে গ্রেপ্তার ও জামিন নাকচের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাতে বলা হয়, ‘উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা’ বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক হামলার পরে চিন্ময় দাশকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর এ ঘটনা ঘটল।
“সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটের পাশাপাশি প্রতিমা ও মন্দিরে চুরি, ভাঙচুর ও অবমাননার ‘কিছু নথিবদ্ধ ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতরা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত দাবি উত্থাপনকারী একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনাটা দুর্ভাগ্যজনক।”
সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধসহ আট দফা দাবি আদায়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসা সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে সোমবার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এরপর রাত থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলায় চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে গত ২৫ অক্টোবর জনসভার পাঁচ দিন পর ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় দাশসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়। ওই মামলার বাদী চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান, যাকে পরে অব্যাহতি দেয় দলটি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, লালদীঘি মাঠের সমাবেশের দিন নিউ মার্কেটে জাতীয় পতাকার ওপর ‘সা¤প্রদায়িক ধর্মীয় গোষ্ঠী ইসকনের’ গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা স্থাপন করে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের ‘অখণ্ডতাকে অস্বীকার করার শামিল’।
‘দেশের সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা প্রদর্শন ও দেশের অখণ্ডতাকে অস্বীকার করার মানসে’ এভাবে পতাকা অবমাননা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলার এজাহারে বলা হয়, “জাতীয় পতাকার ওপরে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে আসামিরা দেশের ভেতর অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর করার রাষ্ট্রদ্রোহ কাজে লিপ্ত আছে।”
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আদালত চিন্ময় দাশের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সমর্থকরা প্রায সাড়ে তিন ঘণ্টা আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের প্রিজন ভ্যান আটকে রাখেন। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরায়।
এরপর পাহাড়ের উপর অবস্থিত আদালত থেকে নেমে আসার পথে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনজীবী ও দোকান কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে, যাতে এক আইনজীবী নিহত ও কয়েকজন আহত হন।
চিন্ময় দাশকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহŸান জানায়।
এরপর রাতে ওই বিবৃতির পাল্টায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে আজকে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে।
“অত্যন্ত হতাশা ও গভীর দুঃখের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার লক্ষ্য করছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্বত্বেও শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কোনো কোনো গোষ্ঠী ভুল বুঝেছে।”
ভারতের বিবৃতিকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে তুলে ধরার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সব বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে যে স¤প্রীতি এবং এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণের যে অঙ্গীকার ও উদ্যোগ, এই বিবৃতি তার প্রতিফলন ঘটায়নি।
“সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনে জড়িতদের বিষয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুরোপুরি দূর করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ, এখানে তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ জোরালো ভাষায় পুনর্নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে প্রত্যেক বাংলাদেশির তার ধর্মীর রীতি ও চর্চা প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা বা প্রতিপালনের পাশাপাশি কোনো বাধা ছাড়াই মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রত্যেক নাগরিকের, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। ঠিক গত মাসে দুর্গা পূজার শান্তিপূর্ণ উদযাপনের মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বিচার বিভাগ যে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন’, তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং সরকার বিচার বিভাগের কাজে কোনো ‘হস্তক্ষেপ করছে না’। চিন্ময় দাশের ঘটনাটিও আদালত দেখভাল করছে।
আদালতের আদেশের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে কারাগারে নেওয়াকে কেন্দ্র আদালতের অদূরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সনাতনীদের সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
আলিফের প্রাণহানির কথা তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “আজ (মঙ্গলবার) বিকালে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ধর্মীয় স¤প্রীতি যাতে যে কোনো মূল্যে বজায় থাকে, সেজন্য বন্দরনগরীতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ।”

নিউইয়র্কে ইউএসবিসিসিআই বিজনেস এক্সপো অনুষ্ঠিত, ১৪ জন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান

বিশেষ প্রতিনিধি: নিউইয়র্কে তৃতীয়বারের মতো বিপুল উৎসাহে ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউএসবিসিসিআই) আয়োজিত রিভারটেল বিজনেস এক্সপো-২০২৪ অনুষ্ঠিত হলো। অভিবাসী ও সংখ্যালঘু-মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে মনোনিবেশ করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের নতুন ব্যবসার জন্য পরামর্শ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ করে স্মল বিজনেসকে প্রমোট করতেই শনিবার (২৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী লাগোর্ডিয়া মেরিয়ট হোটেলের বলরুমে এই এক্সপো’র আয়োজন করা হয়। এছাড়াও এক্সপোতে ১৪ জন বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা জানানো হয়। তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় ক্রেস্ট। এক্সপোতে অর্ধশতাধিক স্টল প্রদর্শনী ছিলো। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য এবং সেবাসমূহ প্রদর্শনের সুযোগ পায়। এতে মর্টগেজ, ব্যাংক, সিপিএ, রিয়েল এস্টেট, রেষ্টুরেন্ট প্রভৃতি ক্যাটাগরীর স্টল দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। আয়োজকদের প্রত্যাশা এমন এক্সপো বাংলাদেশী কমিউনিটির উপকারের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

USBCCI Business Expo 23 Nov 2024 Pic 14

সকালে ব্রেকফাস্ট পরিবেশেনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এবারের এক্সপো’র কর্মকান্ড চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এক্সপো’র কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো শুভেচ্ছা বিনিময়, আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকদেও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, বিজনেস সেমিনার, জনপ্রিয় খলিল বিরিয়ানীকে ফ্রানচাইজ-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রভৃতি।
এক্সপোতে কীনোট স্পীকার ছিলেন এমডবিøউবিই এন্ড স্মল বিজনেস ডিভিশন অব মাইনরিটি’র এক্সিকিউটিভ এডভাইজর জেনী লো। এক্সপো’র বিভিন্ন পর্বে নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান জোহরান কে মামদানী, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল নাজমুল হাসান, বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের সহ মূলধারার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ইউএসবিসিসিআই’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ লিটন আহমেদ সহ বোর্ড সদস্য শেখ ফরহাদ, আহাদ আলী সিপিএ, ইসমাইল আহমেদ, মিলি এ ভূঁইয়া, রফিক খান, মোহাম্মদ বদরুদ্দুজা সাগর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিজনেস এক্সপো চলাকালে অপরাহ্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট হিসাবে খলিল বিরিয়ানির ফ্রানচাইজিস সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ঘোষণা দেয়া হয়।

Khalil Press Confa Pic 02

উল্লেখ্য, ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউএসবিসিসিআই) যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রæতিবদ্ধ একটি প্রধান সংস্থা। ইউএসবিসিসিআই বাংলাদেশী-আমেরিকান উদ্যোক্তা এবং পেশাদারদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যা সহযোগিতা এবং সমর্থনের সুযোগ প্রদান করে। যা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আরও ক্ষমতায়িত এবং ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ তৈরি করে।

বাংলাদেশ সোসাইটির নবনির্বাচিত ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলকে লালগালিচা সংবর্ধনা

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির নবনির্বাচিত ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের কর্মকর্তাদের লাল গালিচা সম্বর্ধনা আর ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো প্রবাসের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ইনক। গত ২৫ ডিসেম্বর সোমবার রাতে উডসাইডের গুলশান টেরেসে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। কমিউনিটির সর্বস্তরের বিশিষ্টজন, বাংলাদেশ সোসাইটি এবং আয়োজক সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোকিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান মঞ্চ। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতিতে মূলত অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উল্লেখ্য, সোসইটির নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদেই ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করে। খবর ইউএনএ’র।

Jalalabad B H Honored Selim Ali Panel 25 Nov 2024 Pic 08

জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ঠিকানা গ্রæপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। এছাড়াও ষ্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজ কুমার সহ বিশেষ অতিথি ছিলেন সংবর্ধিত অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির নবনির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এবং ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আজমল হোসেন কুনু, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক শাহনেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন খান, সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সদস্য ও সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, উপদেষ্টা সদস্য ছদরুন নুর, সাবেক সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক উপদেষ্টা সদস্য ও বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি ও বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সংস্কৃতি সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিগ অ্যাপল ব্রোকারেজ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও শমসের আলী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য মো. আব্দুস সহিদ, ট্রাস্টি ও সাবেক সভাপতি এবং হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এডভোকেট নাসির উদ্দিন, সিলেট সদর সমিতির সাবেক সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি শামস উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল, সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি সোহেল আহমেদ এবং বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম।
অনুষ্ঠানে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা লালগালিচায় ‘সেলিম-অঅলী’ প্যানেলের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের একে একে বরণ করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

Munazat 06

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির উপদেষ্টা সদস্য মো. হারুন মিয়া। এরপর জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক কর্মকর্তাসহ প্রবাসী বাংলাদেশী যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং অসুস্থদের আশু রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মওলানা রশিদ আহমদ। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি (সিলেট) মো. লোকমান হোসেন লুকু, সহ-সভাপতি (সুনামগঞ্জ) শামীম আহমেদ, সহ-সভাপতি (হবিগঞ্জ) শফিউদ্দিন তালুকদার, সহ-সভাপতি (মৌলভীবাজার) মো. জাবেদ উদ্দিন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফজল খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ সহ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি আলী ইমাম সিকদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সোহাগ, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি প্রধান উপদেষ্টা ওসমান গণি, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি কাজী আজম, জ্যামাইকা বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি ও কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড সদস্য আহসান হাবীব, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু, বাংলাদেশ সোসাইটির নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মাহবুব, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও বিয়ানীবাজার সমিতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সহ-সভাপতি ও ফেঞ্চুগঞ্জ অর্গানাইজেশন অব আমেরিকার সভাপতি মাহবুব আলম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান, স›দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন রুবেল, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এম এ মুহিত, আহসান হাবিব, নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি এবাদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক পুলিশের ডিটেকটিভ বিলাল উদ্দিন, প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান ময়না, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটি অব ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রুহুল আলী, এস্টোরিয়া ওয়ালফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র কোষাধ্যক্ষ এমদাদ তরফদার প্রমুখ।

Jalalabad B H Honored Selim Ali Panel 25 Nov 2024 Pic 07

অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের নবনিবাচিত কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ সোসাইটিকে একটি সত্যিকারের কল্যাণমুখী সংগঠনের পরিণত করবেন বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন।
জনাবে সম্বর্ধিত ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পক্ষে নবনির্বাচিত সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হবে ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। তারা বলেন, নির্বাচন শেষ এখন আর কোন প্যানেল নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী, সবাই বাংলাদেশ সোসাইটির। তারা সকল বাংলাদেশীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সোসাইটিকে আরো গণমূখী সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী রানো নেওয়াজ সহ অন্যান্য শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

Jalalabad B H Honored Selim Ali Panel 25 Nov 2024 Pic 05

অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক ছাড়াও কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টি তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, মো. জোসেফ চৌধুরী, মাহবুব আলম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান রুহুল, বিয়ানীবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম অপু, বারী হোমকেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আসেফ বারী টুটুল ও সহধর্মিনী মুনমুন হাসিনা বারী, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, সাবেক ফুটবলার হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সোহেল চৌধুরী, বিয়ানীবাজার সমিতির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম, গহর চৌধুরী কিনু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামছুল আবদীন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটি ইউএসএ’র উপদেষ্টা ফখরুল ইসলাম, সালেহ আহমদ চৌধুরী, জালাল চৌধুরী, মো. আলতাফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ রহমান তফাদার, সফিকুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ব্রঙ্কস বরো আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মুহিত, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আসাদ উদ্দীন, অহসান হাবীব, জামাল উদ্দীন, আলতাফ চৌধুরী, মুরশেদ আহমেদ, আশরাফুল আম্বিয়া, হাসনু মিয়া, শোয়েব আহমদ, আবুল হোসেন, নাজমুল হক, আরিফ আহমেদ, হেলথ ফার্স্ট ম্যানেজার সালেহ আহমেদ, এজেন্ট তহিদুল ইসলাম সজিব, নজির উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, নানু মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োকরা জানান।