Home Blog Page 5

সিজেপির আন্দোলন দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় বিক্ষোভে অন্য রাজ্যও চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৬ হাজার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে নজিরবিহীন ধরপাকড় চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে এই কর্মসূচি ঠেকাতে পুরো রাজধানী কার্যত লকডাউন করে ফেলা হয়। আন্দোলন দমাতে মধ্য দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি ৪৫টির বেশি মেট্রোস্টেশন এবং রাজধানীর সঙ্গে আড়াইশটির বেশি ট্রেনযাত্রা বাতিল করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন কড়াকড়ির কারণে যন্তরমন্তরে কোনো বিক্ষোভকারী ঢুকতে পারেননি। তবে দিল্লির এই বিক্ষোভের উত্তাপ মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, চেন্নাইসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্স ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, দিনভর চলা সাঁড়াশি অভিযানে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী– পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরাসহ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে প্রায় ছয় হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এভাবে গণআটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর।

ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। গতকাল রাতে এক্সে এক পোস্টে দলটি জানিয়েছে, ‘আমরা পিছু হটছি না। আগামীকাল (রোববার) আমরা ফের যন্তরমন্তরের দিকে মার্চ করব এবং আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করব।’

এর আগে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ দমন এবং যন্তরমন্তরে জমায়েত হওয়া ঠেকাতে সরকার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে। দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে বন্ধ থাকা ৪৫টির বেশি মেট্রোস্টেশন গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনপথ ও কর্তব্য পথ এলাকার চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামউদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন রুটে অন্তত ২৫০টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়।

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় অন্তত ৩৭টি বেশি পয়েন্টে বসানো হয় বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। কেন্দ্রীয় ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার জওয়ান ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

সিজেপিপ্রধান আটক 
বিক্ষোভের শুরু থেকেই সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা মুম্বাই থেকে দিল্লিতে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে বিমান থেকেই তাদের আটক করে পুলিশ। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ তাদের কোথায় রেখেছে বা তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি দীপকের নানি মারা যাওয়ার খবর আসার পরও পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করে দলটি।

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল শনিবার অন্যদের পাশাপাশি এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা (বাঁয়ে), পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তারা মুক্তি পান	এএফপি, এক্স

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল শনিবার অন্যদের পাশাপাশি এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা (বাঁয়ে), পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তারা মুক্তি পান এএফপি, এক্স

এদিন যন্তরমন্তরের দিকে যাওয়ার সময় বা নিজ বাসার সামনে থেকে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাড়ির সামনে থেকে কেজরিওয়ালকে আটক করার সময় পুলিশ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। অন্যদিকে, মুখে ব্যান্ডেজ বেঁধে দক্ষিণ অ্যাভিনিউতে অবস্থান নেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অভিযোগ করেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আটক করে পুলিশ ভ্যানে করে ঘোরানো হয়েছে।

এ ছাড়া সিপিআই (এম) নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, এম এ বেবি, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ, আপ নেতা সঞ্জয় সিং, সৌরভ ভরদ্বাজ, গোপাল রাই এবং তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাকেত গোখলেসহ বহু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রশাল স্টেডিয়াম, দ্বারকা এবং বানওয়ার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর একটি ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও যৌথ অভিযানে আটক করে গোয়েন্দা বাহিনী।

অন্য রাজ্যেও প্রতিবাদ, দমনপীড়ন
দিল্লির প্রতিবাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের অন্যান্য শহরেও। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে মিছিল শুরুর আগেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে এক নারী আন্দোলনকারীকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়; তাদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং অভিনেতা ইমরান খানও রয়েছেন।

অন্যদিকে, চেন্নাইয়ে এআইএসএফ ও এআইওয়াইএফ কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কলকাতায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। পাশাপাশি মুম্বাইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক বরুণ দেশাইসহ অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভ থামবে না, লড়াই চলবে: রাহুল গান্ধী
ব্যাপক এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী চেন্নাই থেকে এক বার্তায় বলেন, ‘সবাইকে গ্রেপ্তার করুন– নেতাদের, তরুণদের, আমাদের সবাইকে। আমরা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছি এবং পিছু হটছি না।’ তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে অভিনন্দন জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন। এর আগে তারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের আমৃত্যু আইনি সুরক্ষাদানকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্থায়ী স্থগিতাদেশ।

বিজেপির কঠোর অবস্থান
শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং কেন্দ্র সরকার পুরো দমনপীড়ন ও কড়াকড়ির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ভারত কোনো ব্যানানা রিপাবলিক (কলা প্রজাতন্ত্র) নয় এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ কখনও মাথা নত করবে না। দেশের শাসনব্যবস্থা সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, রাস্তার বিশৃঙ্খলা দিয়ে নয়।

সবাইকে মুক্তি না দিলে অনশনের ঘোষণা সোনম ওয়াংচুকের
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আটক সবাইকে রোববারের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল যখন আমি ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে বার্তা দিয়েছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মুখে পড়বে। রোববারের মধ্যে মুক্তি না দিলে আমি অনশন বা পদযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হব।’

বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান 
ভারতে চলমান বিক্ষোভে ‘অযৌক্তিকভাবে আটক’ ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর। গতকাল এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণআটকের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। যাদের অযৌক্তিকভাবে আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।

মমতা, কেজরিওয়াল ও নেহা বোরাকে মুক্তি
দিনভর কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকের পর সন্ধ্যা থেকে তাদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় দিল্লি পুলিশ। পরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। মমতার সঙ্গে আটক বাকি তৃণমূল নেতাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়।

আন্দোলন যেভাবে শুরু 
গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অনেকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে গুরুত্ব দেননি।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এর এক পর্যায়ে এই দাবি নিয়ে মাঠে নামে সিজেপি। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সিজেপির কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে গত জুলাইয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোদির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার বিশেষ শুনানি আজ
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধের মাধ্যমে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ শুনানি হবে। আবেদনে বলা হয়, নির্দেশ অমান্য করে গণপরিবহন বন্ধ রাখা সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করা ও নাগরিকদের অধিকার হরণের শামিল।
এর আগে গত শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শনিবারের কর্মসূচিতে ট্রেন ও মেট্রো বন্ধ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সলিসিটর জেনারেলের আশ্বাসের পরও ৪৫টির বেশি মেট্রোস্টেশন ও ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করে সরকার।

 

সৌদির বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বাংলাদেশি দুজন, আহত ৩ শতাধিক

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবারের এ হামলার বিষয়ে জানেন, এমন তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটল।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য জায়গায় একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি।’

সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এর আগে গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন।

নিউইয়র্কে ঝিলিক-ইমরান-কনার গানে মুগ্ধ শ্রোতারা

নিউইয়র্কে ঝিলিক-ইমরান-কনার গানে মুগ্ধ শ্রোতারা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ বাংলা গান, সুর ও সংস্কৃতির আবেশে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতিয়ে তুলল বর্ণাঢ্য মেগা মিউজিক্যাল শো ‘লাইভ ইন কনসার্ট: অ্যান আনফরগেটেবল মিউজিক্যাল নাইট’। ৩ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লং আইল্যান্ড সিটির ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টার মিলনায়তনে বসেছিল সংগীতপ্রেমী প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের মিলনমেলা। ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস অব ইউএসএ’-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কনসার্টে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন কণ্ঠশিল্পী ঝিলিক, ইমরান মাহমুদুল ও দিলশাদ নাহার কনার গানে মুগ্ধ হন নিউইয়র্কসহ আশপাশের স্টেট থেকে আসা শত শত দর্শক।

সন্ধ্যা ৬টায় মিলনায়তনের দরজা খুলে দেওয়ার পর থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসতে শুরু করেন প্রবাসী বাঙালিরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। প্রিয় শিল্পীদের সরাসরি গান শোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা এবং প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের বাইরে বাংলা গান ও সংস্কৃতির আবহে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।

শুরুতে আয়োজক ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস’-এর সিলভি আকন্দ ও নাদিয়া চৌধুরী অতিথি, শিল্পী ও দর্শক-শ্রোতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁদের স্বাগত বক্তব্যের পর সোনিয়া সিরাজের সাবলীল সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব।

একই মঞ্চে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন শিল্পীর উপস্থিতি ছিল কনসার্টটির প্রধান আকর্ষণ। তিন শিল্পীর স্বতন্ত্র গায়কি, কণ্ঠের বৈচিত্র্য ও নিজস্ব পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। একের পর এক গান পরিবেশনের সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। অনেক সময় শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান শ্রোতারাও। করতালি ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন।

jilik MG 6562

ইমরান মাহমুদুলের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিল ব্যান্ড ‘আই কিংস’। জনপ্রিয় গান পরিবেশনের সময় দর্শকদের একটি বড় অংশকে শিল্পীর সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা যায়। প্রাণবন্ত মঞ্চ উপস্থিতি, সাবলীল পরিবেশনা এবং ব্যান্ডের সংগীতায়োজন মিলিয়ে ইমরান দ্রুত শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করেন।

দিলশাদ নাহার কনার পরিবেশনায় ছিল ভিন্ন ধরনের আবেগ ও সুরের আবেশ। শক্তিশালী কণ্ঠ ও স্বতন্ত্র গায়কিতে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর গান চলাকালে দর্শকদের মনোযোগ ছিল মঞ্চের দিকে। বাংলা গানের আবেগ ও সৌন্দর্য তাঁর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন করে অনুভব করেন উপস্থিত শ্রোতারা।

অন্যদিকে ঝিলিক তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর গানের সঙ্গে শ্রোতারাও কণ্ঠ মেলান এবং করতালিতে উৎসাহ দেন। শিল্পীদের পরিবেশনা ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার এই মেলবন্ধন পুরো কনসার্টকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।

কনসার্টে আলাদা মাত্রা যোগ করে ‘ফিউশন ড্যান্স ট্রুপ ইউএসএ’-এর নৃত্য পরিবেশনা। কোরিওগ্রাফার রাসেল আহমেদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় দলটির শিল্পীরা ছন্দ, গতি ও অভিব্যক্তির সমন্বয়ে মঞ্চে তুলে ধরেন নান্দনিক নৃত্য। সংগীতের সঙ্গে তাল-সমন্বয় ও দলগত উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

কনসার্টটির মূল স্পন্সর ছিলেন এএএ সুপ্রিম প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্টের সিইও ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ আলম। সহযোগিতায় ছিল ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স এলএলসি ও ড্রিম লোন ফর ড্রিম হোম। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল এনওয়াইএসডিসি, সোশ্যাল কেয়ার নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল কেয়ার ফাউন্ডেশন।

আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন দেশী মিউজিক অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার জামান মনির। তাঁর পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন শিল্পীকে একই মঞ্চে হাজির করা হয়। সাউন্ড ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাউন্ড গিয়ারের সায়েম। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় শিল্পীদের কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয় পুরো পরিবেশনাকে আরও শ্রুতিমধুর করে তোলে।

আয়োজক সিলভি আকন্দ ও নাদিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের যথাযথ সম্মান জানিয়ে এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিন শিল্পীই বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে জনপ্রিয় এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী ও স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

jilik MG 6565

প্রবাসে বাংলা গান ও সংস্কৃতির এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়, বরং নতুন প্রজন্মসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখারও একটি মাধ্যম। গান, নৃত্য, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে সন্ধ্যা গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লং আইল্যান্ড সিটির মিলনায়তনে বজায় ছিল উৎসবের আমেজ। স্মরণীয় এই সংগীতসন্ধ্যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য হয়ে থাকল আনন্দঘন এক রাত।

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা – ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে নিউইয়র্ক প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী সমাবেশ হয়েছে। সভায় প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার বক্তাগণও বিশেষ করে বৃহত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলেও দাবী করেছেন। এই সভার মধ্য দিয়ে সকল কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হবেন বলেও আশাদাদ ব্যক্ত করা হয়। অপরদিকে সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, আমরা কোন বিভক্তির পক্ষে নই, আমরা সকল বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষে। বাংলাদেশ সোসাইটিকে শক্তিশালী করার পক্ষে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাই। নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জীবনের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে লুকোচুরি করতে চাই না। সভায় বক্তারা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে যোগ্য ও সবার সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 1

গত ৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে ‘কুনু-ফিরোজ’ কুমিল্লাবাসীদের পক্ষ থেকে প্রথম বৃহৎ আকারে মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী সহ বাংলাদেশীরা উপস্থিতি ছিলেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতি সন্তান ও সোসাইটির সাবেক ট্রাষ্টি এমদাদুল হক কামাল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহŸায়ক ভিপি জহির মোল্লা, আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন, কবি শামসুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সভাপতি মোস্তফা রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, জেএফকে এয়ারপোর্ট এমপ্লয়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন মজুমদার, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম, কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হাজী আবু তাহের, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুরুল আলম হারুন, মোহাম্মদ আলম সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ শওকত, ইয়ার আহমেদ ও বদরুল হক আজাদ।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি সহ ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, কসবা সোসাইটির উপদেষ্ঠা ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কালাম ভূইয়া, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের আইয়ুব, সিলেট সদর সমিতি ইউএস’র সভাপতি সাইফুল খান হারুন, ব্রাক্ষণবাড়িয়া কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া। সভা পরিচালনা করেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার ও সিদ্দিক পাটোয়ারী।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 2

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান। এর আগে ব্যক্তিগত জরুরী কাজের জন্য চলে যেতে হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান মিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রতি সর্বাত্বক সমর্থন জানান। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সভায় সোসাইটির আগামী নির্বাচনে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বৃহত্তর কুমিল্লার ৬ প্রার্থীকে সভায় বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং তারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীরা হলেন- সহ সভাপতি পদপ্রার্থী, বর্তমানে সোসাইটির সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও পুনরায় একই পদে প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বি মেহের চৌধুরী, কার্যকরী পরিষদ পদপ্রার্থী সিদ্দিক পাটোয়ারী, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও কাওছার আলম।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী এলিন, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি জাকির হোসেন, কসবা সমিতি ইউএসএ’র উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাসিম, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা সহ রেজাউল করীম, আবুল ভূইয়া সিদ্দিকী, মোস্তফা মামুন মজুমদার, কবীর হোসেন প্রমুখ।

সভায় আজমল হোসেন কুনু তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছি সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করবো না। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো। আমরা সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে চাই না, বা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করবো না। যেদিন সোসাইটির একাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে সেদিনই ভবন কিনবো। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথ দেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাবুল চৌধুরী বলেন, আমাদের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে সোসাইটিতে ছিনিমি খেলতে দেয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা দুই বছরের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তারা আবার তিন বছর সময় বাড়িয়ে কি দায়িত্ব পালন করবেন? তিনি বলেন, আমরা জবাবদিহিমূলক সবার সোসাইটি চাই। এজন্য ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের বিকল্প নেই।

সভায় আবুল কালাম ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ও সিদ্দিক পাটোয়ারী বলেন, আমরা বিগত নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু কমিটির কর্মকতাদের অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি আর বুহত্তর চাঁপুরবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সাখে সম্পৃক্ত হবে নির্বাচন করছি। আজকের সভায় বৃহত্তর চাঁদপুরবাসী যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত করেছে তা সোাসাইটি কমিউনিটির ইতিহাসে দৃষ্টন্ত হয়ে থাকবে।

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতারে খরচ হয়, ২৪ হাজার ডলার ফটো কার্ড, ম্যাগাজিনে খরচ হয়েছে- তার হিসাব দিতে হবে। কবর ক্রয়ের অর্থ কেন ফেরৎ আনা হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বিদায়ী কমিটিকে আগের মূল্যেই সোসাইটির কবর ক্রয় করে দিতে হবে। তিনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। প্যানেলের প্রার্থীর হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।

নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক খবর কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিউইয়র্কে নিখোঁজের ৫ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিকলীগ নেত আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর মিললো বুধবার স্থানীয় সময় রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। নিখোঁজের ওইদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এখানে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রুকলিনের আই ৯৯ উইনত্রোপ স্ট্রীট চীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তার মরদেহ রয়েছে।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, সবার প্রিয় কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। কিছুতেই কেউ মেনে নিতে পারছে না কেউ , চিরচেনা সেই মানুষটির সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না! এই প্রবাসজীবনে নিঃসন্দেহে কাজী আজিজুল হক খোকন-্এর মুখে থাকত সেই চিরচেনা হাসি। কথাবার্তায় ছিল অদ্ভুত এক আপনত্ব। অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, সদালাপী এবং অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর থেকে নিউইয়র্কের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কোথায় আছেন খোকন ? কেমন আছেন তিনি? মনে মনে সবাই আশা করছিল, হয়তো হঠাৎ কোনো একদিন খবর আসবে, খোকনকে পাওয়া গেছে। তিনি ভালো আছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সংবাদ দিয়ে। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই! কী নির্মম এই সংবাদ! কী অসহায় মানুষের জীবন!

প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন তিনি। মাগুরার সন্তান এই মানুষটি দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছিলেন। জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অনেক বড় ছিল তাঁর মানবিক পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আপনজন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে এমন মানুষ খুব বেশি পাওয়া যায় না, যাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বললেও মনটা ভালো হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।

প্রসঙ্গত খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন খোকন। কিউ গার্ডেনের বাসায় একা থাকতেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হয়নি বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি।

এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার প্রয়াত কাজী আজিজুল হক খোকন-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের গভীর সমবেদনা জানান।

সোনালী এক্সচেঞ্জে বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন শুরু

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সরকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রবাসী বাংলাদেশী সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’। প্রতিষ্ঠানটির জ্যামাইকা শাখা থেকে শুরু হয়েছে এই ক্যাম্পেইন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন-এর উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর। এসময় সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক ম্যানেজার এমরাম হোসেন ভূইয়া, সিনিয়র অফিসার মনিউর রহমান ও কর্মকর্তা সৈয়দা আর মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জানান, সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণে বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রবাসীদের কথা ভেবে বিশেষ করে গ্রাহক সেবা আরো বাড়াতে অক্টোবর মাসব্যাপী ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। তিনি বলেন, বিশেষ করে অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করাও এই ক্যাম্পেইন-এর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কেননা, অ্যাপসের মাধ্যমে সহজেই ঘরে বসে দেশে অর্থ প্রেরণ সম্ভব। এতে সময়ও বাঁচবে আবার দ্রæত অর্থ প্রেরণ করা যাবে। কাটা যাবে না বাড়তি অর্থ। এছাড়াও সোনালী এক্সচেঞ্জ’র মাধ্যমে বন্ড ক্রয় সহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

মোহাম্মদ মহসিন কবীর বলেন, সোনালী এক্সচেঞ্জ’র জ্যামাইকা শাখার মাধ্যমে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্কের আরো ৫টি শাখা এবং নিউজার্সী, লস এঞ্জেলেস ও জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শাখায় ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’-এর কার্যক্রম চলবে।

প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত জ্যামাইকা শাখায় অবস্থান করেন এবং আগত গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সেবার কথা জানান। এছাড়াও তিনি জ্যামাইকা শাখার কর্মর্তাদের নিয়ে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কথা বলে গ্রহক সেবা আরো বৃদ্ধির আহবান জানান।

উল্লেখ্য, সোনালী এক্সেচেঞ্জের মাধ্যমে বছরব্যাপী স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে দুই ঈদের সময় রেকর্ড পরিমান অর্থ প্রেরণ করে থাকেন প্রবাসীরা।

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলা স্কুলের নতুন শাখা চালু করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। গত ২ অক্টোবর বিকেলে জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৫ স্ট্রিটের কর্নারে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়। সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে নতুন শাখার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আহসান হাবীব, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও আজিমুর রহমান বোরহান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জে মোল্লা সানি, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, নওশাদ হায়দার, ডিউক খান, ফারুক মজুমদার ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা শিশুদের ইংরেজি বলতে পারা স্বাভাবিক বিষয়। তাই সন্তান ভালো ইংরেজি বলতে পারে— এটি নিয়ে গর্ব করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইংরেজির পাশাপাশি তাকে নিজের মাতৃভাষা বাংলা শেখানো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করা।

তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষা ঠিকমতো বলতে বা বুঝতে পারে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা, মেক্সিকান, ইহুদি ও স্প্যানিশ ভাষাভাষী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সন্তানরা নিজেদের মাতৃভাষা চর্চার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই বাংলা ভাষায় কথা বলাকে কোনোভাবেই হীনমন্যতার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মাতৃভাষার চর্চাকে শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসী প্রজন্মের বন্ধন হিসেবে দেখতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শেখানোর মাধ্যমে শুধু ভাষার চর্চাই নয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিও আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। এ ধরণের উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ইতিমধ্যে ব্রুকলিন ও কুইন্সে দুটি বাংলা স্কুল পরিচালনা করছে। জ্যামাইকায় নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পরিচালিত বাংলা স্কুলের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে।

নতুন শাখায় জ্যামাইকা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্রঙ্কসে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর শনবিার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্রঙ্কসরে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি, প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি
প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

নিউইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় শক্তি ডায়াসপোরা কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অর্থ বিনিয়য়োগ করে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই বিশ্বমানের হাসপাতাল। এজন্য প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলে একটি হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ড. মনসুর বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আশা করছি দেশের জন্য। গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই মতবিনিময় সভা।

ব্যতিক্রমী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক হককথা ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সংগঠনের উপদেষ্টা আশেক খন্দকার শামীম, মোহাম্মদ ফরহাদ তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সভাপতি আরিফ বিন আনোয়ার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আব্দুর রব ইসলাম।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আরমান চৌধুরী সিপিএ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। সভায় ড. মনসুর খোলামেলা মতবিনিময়কালে বলেন, দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের হাসপাতালের উপর মানুষের আস্থা নেই বলেই তারা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড। ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। আর আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বিদেশীরা। আমরা চাই দেশের ভিতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এজন্য উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় ১৬তলা একটি ভবনে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকেই এই হাসপাতালে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে ৩০/৪০ একর জায়গায় প্রাথমিকভাবে হাতে নেয়া হয়েছে হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। টাঙ্গাইল রাজধানী ঢাকার নিকটে আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষেরা সহজেই এই প্রকল্প থেকে সেবা নিতে পারবেন। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের পাশে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশ পথের পাশে বিশাল জায়গা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সুখী প্রকল্প নিয়েও মানুষের সেবায় কাজ করার পরিকল্পনা চলছে। সুখী প্রকল্পে ৫০ লক্ষ সদস্য রয়েছে। কোরিয়ান সরকার এই খাতে আইটি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মনসুর বলেন, দেশে ভালো কাজ বেসরকারী উদ্যোগেই সফল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাক, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রবাসীরা তথা ডায়াসপোরা কমিউনিটি শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। মূলত: আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০ ডলার করে ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। সবার অংশগ্রহণ চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বেসরকারী উদ্যাগে কোন কোন মহলের বিরোধীতা, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা প্রভৃতির প্রসঙ্গ উঠলেও ড. মনসুর বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র পক্ষ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন – প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

নিউ ইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের সামনে ভোটিং মেশিন ও নমুনা ব্যালট পেপার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ভোট গ্রহণের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং নির্বাচন বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কমিশন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের সঙ্গে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে এবং ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সেলিম-আলী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদসহ দুই প্যানেলের বিভিন্ন পদের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব প্রার্থী, প্যানেল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, পোলিং এজেন্ট ও সমর্থককে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মতবিনিময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার কেবল একবারই তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
‘ডাবল ভোট’ ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধিকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্যানেলের প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও নির্বাচনী উত্তেজনা।