Home Blog Page 503

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট

০

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে আজ বুধবার। এতে ক্ষমতা কাঠামো, সংসদের ধরনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবনা থাকছে।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে দেশটিতে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সংস্কারে ছয় বিশিষ্ট নাগরিককে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর ‘বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে’ অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে নয় সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

তিন মাস ধরে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে কমিশন। প্রায় এক লাখ লোকের মতামত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন দেশের সংবিধানও পর্যালোচনা করেন।

এসবের ভিত্তিতে পাঁচ খণ্ডের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম খণ্ডে রাখা হয়েছে সুপারিশ এবং সুপারিশগুলোর যৌক্তিকতা। বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রাপ্ত মতামত রাখা হয়েছে বাকি চার খণ্ডে।

সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কিছু মতভেদ থাকলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।’

কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের পাঁচটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ক্ষমতার ভারসাম্য: শুধু দুই ব্যক্তি বা অফিসের নয়
বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বদলে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়।

কিন্তু, সংসদীয় ব্যবস্থার বদলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাটি নিছক প্রধানমন্ত্রী শাসিত ব্যবস্থায় রূপ নেয় বলে মনে করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

“প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হিসেবে দল চালান, সংসদের নেতা হিসেবে তিনি সংসদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং এমন প্রধানমন্ত্রী, তিনি যা বলবেন রাষ্ট্রপতিকে তা শুনতেই হবে, এর অন্যথার কোনো জায়গা নেই,” বলেন আলী রীয়াজ।

সংবিধানের মধ্যেই ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের পথ’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে যে ‘একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা’ দিয়েছে, সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বিভিন্ন পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছিল।

অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলে আসছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘তবে, সংস্কার কমিশন ভারসাম্য আনতে চাইছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর’ মধ্য দিয়ে। শুধু দুইজন ব্যক্তি বা দু’টি অফিসের মধ্যে ক্ষমতা বাড়িয়ে কমিয়ে নয়। আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে পারি কি না। জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিয়োগ দেয়ার পদ্ধতি কি তৈরি করা যায়?’

দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথাও বলেন তিনি।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের কাঠামো দাঁড় করানোর কথা প্রস্তাবনায় থাকছে বলে জানা গেছে, তাতে অন্য দুই বিভাগের সাথে আইনসভার সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এতে নির্বাহী প্রধান তথা সরকার প্রধানের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে সেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।

সংসদ: দুই কক্ষ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট
বর্তমানে বাংলাদেশের এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবনা আসতে যাচ্ছে তা একরকম অনুমান করা যাচ্ছিল। কেননা, বর্তমানে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পক্ষে।

সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা বেড়ে চারশো হওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চকক্ষে আরো ১০৫টি আসন যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

নিম্নকক্ষের ৪০০ আসনের ১০০টি নারী আসন। তবে, কেবল দলের মনোনয়নে নয়, তাদেরও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। আসন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। এখন আঠারো কোটি মানুষ, তাদের প্রতিনিধিত্বের জায়গা করতে হবে। আরো ছোট ছোট কনস্টিটুয়েন্সি (নির্বাচনি এলাকা) তৈরি করতে পারলে মানুষ সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবে।’

উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সদস্য নির্ধারণ করা হবে। সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষে আসন পাবে দলটি। সবার প্রতিনিধিত্বের একটা পথ তৈরি হবে। কত শতাংশ মানুষ তাদের ভোট দিয়েছে, সেই বিবেচনা থেকে যদি প্রতিনিধিত্ব থাকে তাহলে সকলের ভয়েসটা থাকবে,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

‘সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব যেন থাকে, সে ব্যাপারেও একটা ধারণা দেয়া হবে। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ক্ষমতার এক ধরনের ব্যালান্স (ভারসাম্য) থাকবে। তারা নিঃসন্দেহে একটা ভূমিকা পালন করবে।’

এতে খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে কথিত নির্বাচনে কত হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলো। আজ যদি আগামীর জন্য দেশের প্রয়োজনে কিছু অর্থ ব্যয় করি, সেটা ভবিষ্যতের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ব্যয় করা হবে।’

৭০ অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম আলোচিত অংশ ৭০ অনুচ্ছেদ।

এতে বলা হয়েছে – ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তিনি যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসনটি আসন শূন্য বলে বিবেচিত হবে।’

নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকায় সংসদ সদস্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয় বলে মনে করেন অনেকে। অনুচ্ছেদটি থাকা না থাকার প্রশ্ন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশ থাকছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

তবে, সুপারিশে কী থাকছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি উত্তর দেননি কমিশন প্রধান আলী রীয়াজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করুন, আমরা একটা জবাবদিহিতার অবস্থা তৈরির প্রচেষ্টা করছি, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলেই সত্তর অনুচ্ছেদের ভূমিকা কী হবে, সেটা বুঝতে পারবেন।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়েছিল ২০০৭ সালে। লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাব মুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

কিন্তু, বিগত দিনে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিচার বিভাগ আদতে স্বাধীন নয়, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে’ সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় তৈরির সুপারিশ করতে যাচ্ছে। সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে প্রস্তাবনা রাখা হচ্ছে।

‘বিচার বিভাগে আর্থিক বরাদ্দ সরাসরি কনসোলিডেটেড ফান্ড (স্বতন্ত্র তহবিল) থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব থাকছে। যাতে করে এখন যেমন আইন মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়, সেটা স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি, তা আর করতে না হয়,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

স্থানীয় সরকার
বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে হয়ে আসছিল।

স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নের সংসদ সদস্যদের তহবিল বরাদ্দসহ তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়েছিল।

এসব কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ।

‘তাদের বাজেট পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগ এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে স্থানীয় সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। তদুপরি সংসদ সদস্যরা সমস্ত উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল। এটা তো তাদের (সংসদ সদস্য) দায়িত্ব নয়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকারগুলো শক্তিশালী করা ছাড়া আপনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবেন না। এ কারণে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবনা থাকছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘উল্টো তাদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের একটা পথ তৈরি করতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি।

খালেদা জিয়া এখন ‘অনেকটা বেটার’ : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য-সেবায় ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে চিকিৎসা-সেবা শুরুর সাত দিনের-মাথায় তার শারীরিক অবস্থা ‘অনেকটা বেটার’ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলীয় শীর্ষ নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া ‘অনেকটা বেটার’ আছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারাও পত্র-পত্রিকায় খবর দিচ্ছেন, আমরাও খবর নিয়েছি, উনি (বেগম খালেদা জিয়া) মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই আলহামদুলিল্লাহ আগের চাইতে অনেকটা বেটার (ভালো)।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের সেন্ট্রাল-ওয়েস্টস্থ বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

বেগম খালেদা জিয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যান। অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য-সেবা সম্বলিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি গত ৭ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে। কাতারের দোহায় যাত্রা-বিরতিসহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরের দিন ৮ জানুয়ারি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট) হিথ্রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে নেয়া হয়। তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে হাসপাতালে নেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ অর্থাৎ তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও এ সময় সাথে ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বড় ছেলের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (তারেক রহমানের মেয়ে) এবং জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের (দু’জনেই আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে) সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে মানসিকভাবেও প্রশান্তিতে রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি ছেলের বাসায় রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। সকাল ও বিকেলের নাস্তাও বাসা থেকে দেয়া হচ্ছে। ছেলে তারেক রহমান নিজেই খাবার নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সফরসঙ্গী, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. এনামুল হক চ্যেধুরী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতারা লন্ডনে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে ঢাকার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।

৭৯ বছর বয়সী বেগম সখালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা আরো বেড়ে যায়। তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন কয়েকবার। এ জন্য রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসাধীনও থাকতে হয়েছে।
সূত্র : বাসস

বাবরের মুক্তিতে বাধা নেই

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

খালাসপ্রাপ্ত অপর চারজন হলেন- মহসিন তালুকদার, এ কে এম এনামুল হক, রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও নূরুল আমিন।

এছাড়া ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে কমিয়ে আসামী আকবর হোসেন, লেয়াকত হোসেন, হাফিজুর রহমান ও শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর মৃত্যুর কারণে যে চারজনকে এই মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন- আব্দুর রহিম, মতিউর রহমান নিজামী, দ্বীন মোহাম্মদ ও হাজী আব্দুস সোবহান।

এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী। সাথে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসিফ ইমরান জিসান। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান। আসামি নূরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাধন কুমার বণিক।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে একটি ও অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা হয়।

২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ চোরাচালান মামলায় রায় দেন। বিচারিক আদালতের সে রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে, অস্ত্র আইনে করা পৃথক মামলায় একই আসামীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত এ হাইকোর্ট বেঞ্চ চোরাচালান মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার, সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিনকে খালাস দেন। এছাড়া সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অ্যাবেট করে তাদেরকে খালাস দেন হাইকোর্ট। তবে এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অ্যাবেট করলেও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

এছাড়া চোরাচালান মামলায় হাইকোর্টের রায়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও ট্রলার মালিক হাজী আবদুস সোবহানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

সূত্র : বাসস

আগামী নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করতে চাই : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে সরকার এযাবৎকালের সেরা করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এটি গণতন্ত্রের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

রোববার ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা নরওয়ের প্রতি বাংলাদেশকে এশিয়ায় নরওয়েজিয়ান পণ্যের আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার এবং বাংলাদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এদেশে আরো বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘নরওয়ের পণ্য এশিয়ায় বিতরণের জন্য বাংলাদেশকে একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করুন, যাতে আপনাদের নরওয়ে থেকে লোক আনতে না হয় এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো যায়।’

অধ্যাপক ইউনূস উদাহরণ হিসেবে বিদেশে নরওয়েজিয়ান টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের প্রথম উদ্যোগ গ্রামীণফোনের কথা উল্লেখ করেন, যা বিগত বছরগুলোতে টেলিনর পরিবারের সবচেয়ে লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। যেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নরওয়ের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।’

রাষ্ট্রদূত জানান, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার রক্ষা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসন বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং সবুজ জ্বালানি রূপান্তর খাতে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে নরওয়ের সহায়তা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তাই, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন আরো বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু, আন্তর্জাতিক কর ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে নরওয়ে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অবি মিশন মারিয়ানে রাবে নেভেলস্রুদ ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে নরওয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সূত্র : বাসস

ইতিহাস গড়া জয়ে ঘুরে দাঁড়ালো ঢাকা

০

বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের পুঁজি গড়ার দিনে ইতিহাস গড়া জয় পেল ঢাকা ক্যাপিটালস। টানা ছয় হারের ধাক্কা সামলে আসরে প্রথম জয় তুলে নিল রাজধানীর দল। সেই সাথে বাঁচিয়ে রাখলো প্লে অফের সম্ভাবনা।

রোববার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ঢাকা ক্যাপিটালস ও দুর্বার রাজশাহী। সিলেটে আগে ব্যাট করে ১ উইকেটে ২৫৪ রান তুলে ঢাকা। জবাবে ১৫ দশমিক ২ ওভারে ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। ঢাকার জয় ১৪৯ রানে।

১৪৯ রানের জয় বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০১৩ সালের বিপিএলে চট্টগ্রাম ১১৯ রানে জিতেছিল সিলেটের বিপক্ষে। এই জয়ের নায়ক লিটন দাস। ব্যাট হাতে ৫৫ বলে ১২৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতক স্পর্শ করার দিনে তানজিদ তামিমকে নিয়ে গড়েন ১১৮ বলে ২৪১ রানের জুটি। যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেরা এ বিপিএলে সবার সেরা জুটি।

লিটন দাস ও তানজিদ তামিম, ঢাকার এই দুই ব্যাটার আজ হয়ে উঠেন রাজশাহীর ত্রাস। সিলেটে মুখোমুখি লড়াইয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে দু’জনেই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। যা বিপিএলে প্রথম।

রাজশাহীর বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করে ২৪১ রানে তানজিদ তামিম ৬ চার ৮ ছক্কায় ৬৪ বলে ১০৮ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর যোগ হয় আরো ১৩ রান। সব মিলিয়ে বিপিএল প্রথমবার দেখল আড়াই শ’ রান (২৫৪)।

২৪ বলে ফিফটি, আর ৪৪ বলে লিটন করেন সেঞ্চুরি। যা বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। (৪২ বলে সেঞ্চুরি আছে পারভেজ ইমনের)। লিটনকে থামাতে পারেননি রাজশাহীর কোনো বোলার। ১০ চার আর ৯ ছক্কায় ৫৫ বলে ১২৫ রান করেন তিনি।

জবাব দিতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইন-আপ। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেন মোহাম্মদ হারিস। ৫ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন পাকিস্তানি ব্যাটার। তিনে নামা অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফিরেন।

পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান তোলে রাজশাহী। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই যেন হেরে বসে দুর্বার রাজশাহী। শেষ দিকে রায়ান বার্ল কিছুটা লড়াই চালিয়েছেন।

তাতে হারের ব্যবধান কমেছে শুধু। বার্ল ৩২ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। মাঝে বলার মতো ১৩ বলে ১৭ রান করেন ইয়াসির আলি। রাজশাহী অলআউট হয় ১০৫ রানে।

ঢাকার হয়ে ২টি করে উইকেট তুলেছেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আবু জায়েদ রাহি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ফারমানউল্লাহ। একটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

মায়ের খাবার হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তারেক রহমান

বাসা থেকে খাবার তৈরি করে দ্য লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিদিনের মতো রোববারও হাসপাতালে যান তিনি। সাথে ছিলেন যথারীতি তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ ও বিএনপি নেতা কামাল আহমদ।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে লন্ডনের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল দ্য ক্লিনিকে লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির অধীন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

গত কয়েকদিন ধরে তারেক রহমান হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করলেও কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন লন্ডনে সাংবাদিকদের জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের রুটিন পরীক্ষা চলছে, তবে সোমবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশেষ কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। সেসব পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে তার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খালেদা ড. এনামুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে ভালো সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা তিনি। রিল্যাক্স মুডে আছেন বলা যায়।

শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে যা বললেন প্রেস সচিব

শতাধিক পণ্যে শুল্ক-কর (ভ্যাট-ট্যাক্স) বাড়ানো হলেও দেশের মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে সরকার। বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর জন্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্যটা ভালো হবে। দেশের মানুষেরই উন্নয়ন হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অজনপ্রিয় হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রোববার রাজধানীর ফরেন একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে ট্যাক্স আদায় সবচেয়ে কম। সরকার চায় ট্যাক্স, জিডিপি এমন জায়গায় থাক, যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটে। তাহলে সামনে দেশের মানুষেরও উন্নয়ন হবে। ম্যাক্রো ইকোনমি বাড়ানোর জন্য ট্যাক্স বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইএমএফের চাহিদার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও তো ভালো অর্থনীতিবিদ আছেন। তাদের পরামর্শেই এটা করা হয়েছে। এটা করা না হলে ডলারের দাম ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা হয়ে যাবে। বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। কারণ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দেখেন দেশের ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণ কেমন। অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যটা কতটা মজবুত। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও উচিত বিষয়টি নিয়ে জনগণকে বুঝানো।

শফিকুল আলম বলেন, খরচ কিভাবে কমানো যায়, সরকার সে জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগের প্রধানমন্ত্রী তিন শ’ লোক নিয়ে বিদেশে যেতেন। এখন প্রধান উপদেষ্টার বহরে ৫০ জন যাচ্ছেন। তারও একটি বড় অংশ থাকছে নিরাপত্তার জন্য। আগে দেখা গেছে, একজন মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর জন্য কর্ণফুলী টানেল করা হয়েছে। টানেল থেকে নেমে তার বিশ্রাম নেয়ার জন্য সাড়ে চার শ’ কোটি টাকা খরচ করে সেভেন স্টার হোটেল বানানো হয়েছে।

পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, সেগুলো ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। গতকালও পূর্বাচলের একটি প্লট নিয়ে দুদকের মামলা হয়েছে। এগুলো সরকারের কোষাগারে আনা যায় কিনা সেই চেষ্টা চলছে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখতে হবে বাজারে সরবরাহ চাহিদা মতো আছে কি না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যটা ভালো থাকলে মূল্যস্ফীতিও কমিয়ে আনা যাবে। যারা ভ্যাট-ট্যাক্সের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তারা অনেক বুঝে-শুনেই দিয়েছেন। মানুষের ভালোর জন্যই এটা করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কেরানীগঞ্জের অস্থায়ী আদালতে

০

ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠের বদলে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী আদালতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

রোববার (১২ জানুয়ারি) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঢাকার বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে অবস্থিত অস্থায়ী আদালতের পরিবর্তে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী আদালতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।

এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অস্থায়ী আদালত বসানোর প্রতিবাদে সড়কে নামেন শিক্ষার্থীরা। তখন মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের এজলাসও পুড়িয়ে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের মাঠ দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন দখল করে রেখেছিল। আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই বিপ্লবের পর এই মাঠ আমাদেরই থেকে যাবে।’

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সংস্কার কাজ শেষে আলিয়া মাদরাসার মাঠকে ‘বকশীবাজার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ’ হিসেবে উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। মাঠটি সিটি করপোরেশন দখল করছে—অভিযোগ তুলে উদ্বোধনের আগেই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা।

সূত্র : ইউএনবি

প্রচণ্ড বাতাসের আশঙ্কা, লস অ্যাঞ্জেলসে দাবানলে মৃত্যু ২৪

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে, যা চলতি সপ্তাহেই লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, রোববার থেকে শুষ্ক বাতাস আবার বেড়ে বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

বাতাস বেড়ে যাওয়ার আগেই পালিসেইডস ও ইটনের দাবানল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

স্থানীয় দমকলকর্মীদের সাথে একযোগে কাজ করছে আরো আটটি রাজ্য এবং কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা কর্মীরা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত দাবানলে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪-এ। এর আগে কর্মকর্তারা ১৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলেছিলেন।

১৬ জনের লাশ ইটন এলাকায় আর আটজনের পালিসেইডস এলাকায় পাওয়া গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলসের তিনটি এলাকায় দাবানল এখনো চলছে।

সবচেয়ে বড় দাবানলের শিকার হয়েছে পালিসেইডস, যেখানে প্রায় ২৩ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে। অন্যদিকে ইটনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবানলে প্রায় ১৪ হাজার একর এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া হার্স্টে পুড়েছে ৭৯৯ একর। তবে সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

দমকলকর্মীরা যখন বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেছে তখনি কর্তৃপক্ষ নতুন করে প্রচণ্ড বাতাসের বিষয়ে সতর্ক করল, যা ‘সম্ভাব্য বিপর্যয়কর বাতাসে’ পরিণত হতে পারে।

এতে পুরো লস অ্যাঞ্জেলসই দাবানলের হুমকির মুখে পড়ল।

পাসাডেনার দমকল বিভাগের প্রধান চাদ অগাস্টিন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা আবারো সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছি। কারণ মঙ্গলবার বাতাসের গতি সর্বোচ্চ হতে পারে। আমরা কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করলেও এর সমাপ্তির কাছেও আসতে পারিনি।’

লস অ্যাঞ্জেলস ফায়ার বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিন ক্রাউলি ইভাকুয়েশন জোনগুলোর অধিবাসীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন যাতে করে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলেই তারা সরে যেতে পারে।

একইসাথে তাদের এমনভাবে অবস্থান করতে বলা হয়েছে যাতে করে কর্মীদের কাজে প্রতিবন্ধকতা না হয়।

টোপাঙ্গা ক্যানিয়নের অধিবাসী অ্যালিস হুসুম বলছিলেন, রাতে নতুন করে সেখানে আগুন শুরু হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে তিনি ও তার প্রতিবেশীদের নিয়ে ভয়ে আছেন কারণ সেদিন বাতাস সবচেয়ে বেশ গতিতে বয়ে যেতে পারে।

আগুন রোববার নতুন করে ছড়িয়েছে, যার কারণে সান ফার্নান্দো উপত্যকা ও নিকটবর্তী নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি এলাকার কমিউনিটিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

রোববার দমকলকর্মীরা অ্যানগেলেস ন্যাশনাল ফরেস্ট এলাকায় নতুন আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এলাকাটি গোপন প্রযুক্তিসহ যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ কর্মসূচি এলাকার সাথেই।

এদিকে যেসব এলাকা থেকে অধিবাসীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে সেখানে লুটপাটের দায়ে অন্তত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন দমকলকর্মী সেজে চুরি করছিল।

লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি শেরিফ রবার্ট লুনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি ন্যাশনাল গার্ডের আরো সদস্য চেয়েছেন। চার শ’ জন এর মধ্যেই কাজ করছে।

ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গেভিন নিউসন এর আগে এক হাজার অতিরিক্ত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শেরিফ লুনা সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘মালিবু এলাকায় আমি একজনকে দেখলাম একেবারে দমকলকর্মীর মতো। তিনি বসেছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে তিনি ঠিক আছেন কি না। বুঝতেই পারিনি যে তাকে হ্যান্ডকাফ পড়াতে হবে। আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছি। কারণ তিনি দমকল কর্মীর মতো পোশাক পড়েছিলেন কিন্তু তিনি তা নন। তিনি একটি বাড়িতে লুটপাট করছিলেন। এমন পরিস্থিতি আমাদের পুলিশ কর্মকর্তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।’

ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এখন ১৪ হাজার দমকল কর্মী কাজ করছে। তাদের সহায়তা করছে ৮৪টি এয়ারক্রাফট ও ১৩৫৪টি ফায়ার ইঞ্জিন।

১ লাখ ৫ হাজার মানুষ এখনো বাধ্যতামূলকভাবে অন্যত্র অবস্থান করছেন আরো ৮৭ হাজারের ওপর সরে যাওয়ার সতর্কতা আছে।

ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাজেন্সির প্রশাসক ডিয়ানে ক্রিসওয়েল সিএনএনকে বলেছেন হুমকি এখনো বহাল আছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই নিজ এলাকায় ফিরতে চাইছেন ও ঘরবাড়ির অবস্থা দেখতে চাইছেন। তবে বাতাস আরো বাড়লে আপনি জানেন না যে কোন পথে তাদের সরে যেতে হবে।’

লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশের প্রধান জিম ম্যাকডনেল জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্বল্প পরিসরে কিছু ব্যক্তিকে তাদের ঘরবাড়িতে যেতে দেয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা দাবানল জোনগুলোর কাছে ড্রোন না ওড়াতে বারবার মানুষকে সতর্ক করেছে। এর মধ্যে একটি ড্রোনের সাথে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিমানের সংঘর্ষ হয়েছে। এফবিআই এর ছবি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে গভর্নর নিউসন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিতর্ক লেগেই আছে।

গভর্নর ট্রাম্পকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্প ‘দেশটির ইতিহাসের অন্যতম এই বিপর্যয়ের’ জন্য ‘অযোগ্য রাজনীতিকদের’ দায়ী করেছেন।

নিউসন একজন ডেমোক্র্যাট এবং তিনি আগুনের বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন।
সূত্র : বিবিসি

জামায়াতের সাথে বিএনপির দূরত্বের কিছু নেই : নজরুল ইসলাম খান

জামায়াতের সাথে বিএনপির দূরত্বের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দেশপ্রেমিক।’

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমমনা জোটের নেতাদের সাথে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

জামায়াতের সাথে দূরত্ব কমানোর কোনো উদ্যোগ বিএনপির পক্ষ থেকে নেয়া হবে কিনা- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এমন কোনো দূরত্বের কিছু নেই। তারাও গণতন্ত্র চায়, নির্বাচন চায়, মানুষের অধিকারের কথা বলে; আমরাও বলি। কিন্তু যদি কেউ বলে তারা শুধু দেশপ্রেমিক, তাহলে তো আমাদের কষ্ট লাগবেই। আমরা তো বলব- ভাই, কথাটা ঠিক না।’

‘আমরা সবাই দেশপ্রেমিক। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তারপর যদি বলেন, শুধু আপনি দেশপ্রেমিক, আপনার আরেক বন্ধু দেশপ্রেমিক, তাহলে তো আমাকে বাদ দিলেন না আপনি! এটা তো কষ্ট লাগার কথা। আমরা আশা করব, এরকম কথা কেউ না বলুক,’ বলেন নজরুল ইসলাম খান।

জামায়াতের সাথে বিএনপি বৈঠক করবে কিনা জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জামায়াতের সাথে ফরমালি যুগপৎ আন্দোলনে আমরা ছিলাম না। তাদের কর্মসূচি আমাদের কর্মসূচি একরকম ছিল না কিন্তু তারা আন্দোলনে ছিলেন। নিশ্চয়ই আগামী দিনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সবাই আমরা থাকবো, তারাও থাকবে। এটা নিয়ে কনফিউশনের কিছু নেই।’

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে সব সময় যারা আমাদের সাথে ছিলেন তারা হলেন সমমনা জোট। সমমনা রাজনৈতিক দলের সাথে আজকে আমরা বসেছিলাম। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি কিভাবে সেটা দূর করা যায়। এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সময়ে সরকারকে যেসসব পরামর্শ দিয়েছি সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। যে গণতন্ত্রের জন্য দলের, জোটের এবং দেশের হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে। অতি সম্প্রতি সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছে। এখনো আমাদের অনেক নেতাকর্মী মামলা-হামলার শিকার হচ্ছেন।’

সমমনা জোটের প্রধান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘সামাজিক, রাজনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বিএনপির সাথে আমরা যুগপৎভাবে আন্দোলন করেছি ২০০৯ সাল থেকে এবং আমাদের জোটের এবং বিএনপির শত লোকে মারা গেছে। আন্দোলনের জন্য লাখো মানুষের নামে মামলা হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি আমাদের এক দফা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সেই এক দফাটি ছিল শেখ হাসিনার বিদায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমরা যে দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন করেছি এর সফলতা এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। প্রথম দফা আমরা সফলতা অর্জন করেছি, এখন দ্বিতীয় দফা হবে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতি দ্রুত আসুক কিন্তু নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার আমরাও চাই। দীর্ঘদিন মানুষ যে ভোট দিতে পারেনি সেজন্য সরকারকে বলব, ন্যূনতম সংস্কার করে অতি তাড়াতাড়ি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। যদি সংসদ নির্বাচন হয় তাহলে দেশের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হবে। বাকি যেসব সংস্কার আছে তা নির্বাচিত সরকার করবে।’

জানা গেছে, বেলা সোয়া ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি চলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী।

বৈঠকে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনডিপির চেয়ারম্যান আবু তাহের, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি নাসিম খান, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি এস এম শাহাদাত।