Home Blog Page 504

ইসরাইলকে জাতিসঙ্ঘ থেকে বের করে দেয়ার সময় এসেছে : ইরান

ইরান বলেছে, গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং লেবাননে আগ্রাসন চালানোর প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘ থেকে ইসরাইলকে বহিষ্কারের সময় এসে গেছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রোববার ওআইসি ও আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ মন্তব্য করেছেন আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। ওআইসি ও আরব লীগের যৌথ শীর্ষ সম্মেলনে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করার উপায়ে নিয়ে আলোচনা করতে রিয়াদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

গরিবাবাদি বলেন, ইসরাইল যে কেবল জাতিসঙ্ঘের আইনগুলো লঙ্ঘন করেছে তাই নয়; সেইসঙ্গে এই সরকার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক ত্রাণ সংস্থা ইউএনডব্লিউএ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। কাজেই এরকম একটি অবৈধ সরকারকে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ দিয়ে রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ইরানের এই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজায় জাতিসঙ্ঘের শত শত কর্মীকে হত্যা করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের আদেশ অমান্য করেছে। তিনি গাজা উপত্যকা ও লেবাননের চলমান পরিস্থিতিকে বিশ্ব মানবতার জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।

গরিবাবাদি বলেন, গাজা ও লেবানে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান ও গণহত্যা চালাতে আমেরিকাসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশ ইসরাইলকে সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কাজেই পশ্চিমা বিশ্ব মানবাধিকার নিয়ে কোনো কথা বলার সব রকম যোগ্যতা হারিয়েছে।

সূত্র : পার্সটুডে

‘স্বৈরাচারের দোসর উপদেষ্টাদের সরিয়ে না দিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি’

স্বৈরাচারের দোসর উপদেষ্টাদের সরিয়ে না দিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহীতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, স্বৈরাচারের দোসর উপদেষ্টাদের অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজশাহী নগরীর তালাইমারি মোড়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে নগরীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এ সময় তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব বৈষম্য দূরীকরণে যেই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে তার ফলাফল ‘শূন্য’ হতে চলেছে। কারণ বর্তমানে সরকারও একইভাবে বৈষম্য জারি রেখে চলছে। এ সরকারকে কেন নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ থেকে এত সংখ্যক উপদেষ্টা দিতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তো দেশের প্রতিটি বিভাগের মানুষই অংশ নিয়েছেন।’

কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার, সাব্বির হোসেন, রাশেদ রাজন, মো. রাতুল প্রমুখ।

ফারুকীকে উপদেষ্টা করায় হতবাক হেফাজতে ইসলাম

চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (১১ নভেম্বর) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীকে অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি শাহবাগী নাস্তিক্যবাদীদের দোসর। দেশের আধ্যাত্মিক রাহবার, হেফাজত আমির শায়খূল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-কে তেঁতুল হুজুর বলে ব্যঙ্গ করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। যা ক্ষমা করা যায় না। তাকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বিগত সরকার মুজিববাদকে পুঁজি করে একটি ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই জালেম শাসকগোষ্ঠীর পতন নিশ্চিত হয়। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীসহ একাধিক উপদেষ্টা সেই পতিত আওয়ামী সরকারের দোসর। বিভিন্ন সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করেছেন, সমর্থন যুগিয়েছেন। এছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ট সাবেক তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের একাধিক নেতার ঘনিষ্ট ছিলেন ফারুকী। এছাড়াও তিনি গণঅভ্যুত্থানের পর সেই শাসনের প্রতীক সংস্কারের পক্ষে আওয়াজ তুলে এক প্রকার ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেন। যা দেশবাসীর দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিন জুলাই বিপ্লবে হাজারো ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এদেশের ছাত্র-জনতাসহ আলেম ওলামারা সম্মিলিতভাবে বসিয়েছে।’

তারা আরো বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো এই সরকারও ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা আমাদের ভাইদের হত্যা করেছিল, তাদের বিচার এখনো হয়নি। এর বদলে তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, আমাদের সন্তানরা জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে এদেশের আপামর তৌহিদী জনতা আপনাদেরকেও ক্ষমা করবে না।’

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দেশে কি যোগ্যতাসম্পন্ন লোকের অভাব পড়েছে? ফারুকীর মতো একজন নাট্যকারকে কোন যুক্তিতে উপদেষ্টায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা দেশবাসী জানতে চায়? আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, জাতীয় মুনাফিক, গাদ্দার, নাস্তিক, মুরতাদ ও শাহবাগীদের অনুসারী, সমকামিতার পৃষ্ঠপোষক, ফ্যাসিস্টের দোসর কাউকে আমরা উপদেষ্টা পরিষদে দেখতে চাই না। শহিদ ভাইদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কখনোই তা মেনে নেয়া হবে না।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাইডেনকে পদত্যাগ করে কমলাকে প্রেসিডেন্ট করার প্রস্তাব

সম্প্রতি এক বিতর্কসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইস্তফা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারই প্রশাসনের সাবেক কর্মী জামাল সিমন্স। তিনি বলেন, বাইডেনের উচিৎ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেয়া। এতে কমলা হ্যারিস ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম হবে।

রোববার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন আয়োজিত এক বিতর্কসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। এরপর তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যান্ডলেও অনুরূপ দাবি তোলেন। তার এই দাবির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন অনেক আমেরিকান।

জামালের এই প্রস্তাবের কথা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট হতেই তাতে প্রচুর প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সহমত প্রকাশ করেছেন জামালের সাথে। তবে কেউ কেউ আবার ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন।

উল্লেখ্য, এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হয়েছেন কমলা। তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে কমলার। বাইডেনের আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে তা প্রমাণ করেছেন তিনি। এমনকি এবারের নির্বাচন থেকেও বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর দলীয় প্রার্থী হিসেবে কমলার নাম প্রস্তাব করেছিলেন বাইডেন নিজেই।

আমেরিকা এখনো পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি। কমলা এবার জিতলে, তিনিই হতে পারতেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তবে তা হয়নি। বাইডেন ইস্তফা দিয়ে কমলাকে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও প্রেসিডেন্ট পদে বসানো গেলে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেক আমেরিকান।

সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট

সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু গ্রেফতার

বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রাজধানীর উত্তরা থেকে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

বরগুনা-১ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাতবার মনোনয়ন পেয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য হন শম্ভু। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

‘হল অব ফেমে’ অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে সপ্তম সেনাপ্রধান হিসেবে ‘হল অব ফেম’-এ অভিষিক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১১ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) তাকে ‘হল অব ফেম’-এ অভিষিক্ত করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বিএমএ থেকে ১৩তম বিএমএ লং কোর্স সম্পন্ন করেন এবং পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ২৩ জুন ১৮তম সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আর্টডকের জিওসি, ইবিআরসির কমান্ড্যান্ট, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল, বিএমএ’র কমান্ড্যান্ট, সামরিক সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ সেনা সদর দফতর, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও বিএমএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ইউএনবি

আফগানিস্তানের কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে লজ্জাজনকভাবে হেরে গেছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ গাজাফারের ঘূর্ণিতে চোখে যেন সর্ষেফুল দেখল টাইগাররা। ২৫ বলের মাঝে হারিয়েছে শেষ ৭ উইকেট। আর এতেই শান্তদের হার ৯২ রানে।

অথচ সহজ জয়ের পথেই ছিল টাইগাররা। ২৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৫ দশমিক ৫ ওভারে ২ উইকেটেই তুলেছিল ১২০ রান। অথচ পরের ২৩ রান তুলতে গিয়েই গুটিয়ে গেছে দল। ৩৪ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ১৪৩ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।

শারজায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ (বুধবার) আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদি।

আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। তাসকিন আর মোস্তাফিজের তোপে মাত্র ৭১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। একটা সময় মনে হচ্ছিল হয়তো দ্রুতই গুটিয়ে যাবে তারা। তবে সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন নাবি।

দারুণ সঙ্গ দেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। দু’জনে গড়েন ১২২ বলে ১০৪ রানের কার্যকর জুটি। সুবাদে ৪৯ দশমিক ৪ ওভারে ২৩৪ রান তুলে আফগানিস্তান। ৯২ বলে ৫২ করে আউট হন আফগান অধিনায়ক। ৭৯ বলে ৮৪ করে আউট হন নাবি।

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন সমান চারটা করে উইকেট। অন্যটা শরিফুল ইসলামের।

মাঝারি মানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩ দশমিক ১ ওভারে মাত্র ১২ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তবে দলকে ভালো শুরু এনে দেন সৌম্য সরকার। যদিও ফিরেছেন ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে।

অধিনায়ক শান্তের সাথে ৫৪ বলে ৫৩ রানের জুটি ভেঙে সৌম্য আউট হন ৪৫ বলে ৩৩ করে। ১২ ওভারে ৬৫ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। এরপর অধিনায়কের সাথে মিলে হাল ধরেন মেহেদী মিরাজ।

দু’জনেই দায়িত্ব নিয়ে বুঝে-শুনে খেলতে থাকেন। তাদের জুটিও পঞ্চাশ পেরিয়ে যায়। বাংলাদেশ দলের সংগ্রহও পৌঁছে যায় তিন অংকের ঘরে। ২৫ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১১৮ রান।

এরপরই যেন সব হিসেব বদলে যায়। ২৬তম ওভারে বল করতে এসে গাজাফার ফেরান থিতু হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ককে। শান্ত ফেরেন ফিফটি থেকে তিন রান দূরে। ৬৮ বলে ৪৭ করে। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে আরো ১২ রান যোগ করেন মিরাজ।

এরপর যা হয়, তা হয়তো ভুলেই যেতে চাইবেন হৃদয়-মিরাজরা। ৫১ বলে ২৮ রান করা মিরাজকে ৩০ দশমিক ৪ ওভারে ফেরান গাজাফার। পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২) রশিদ খানের শিকার। তবে আসল ধাক্কা আসে ৩৩তম ওভারে।

ওই ওভারেই ৩ উইকেট তুলে নেন গাজাফার। প্রথম বলেই মুশফিকুর রহিম (১), এরপর ৩২ দশমিক ৫ ওভারে রিশাদ হোসেনকে (১) ও শেষ বলে তাসকিনকে ফেরান গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন গাজাফার।

এরপর শেষ উইকেট হিসেবে শরিফুল ইসলামকেও ফেরান গাজাফার। সব মিলিয়ে ২৬ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। মাঝে তাওহীদ হৃদয়কে (১১) শিকার করেন রশিদ খান। বাংলাদেশের হয়ে ৭ ব্যাটারই আউট হয়েছেন এক অংকের ঘরে।

এই হারে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (৬ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

গত ২ অক্টোবর পুঁজিবাজারে কারসাজি ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সাকিব আল হাসান ও স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য তলব করেছিল সংস্থাটি।

তদন্ত শেষে সরকারের নির্দেশে তার সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে বিএফআইইউ।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর আদাবর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয় তাকে।

এতে বর্তমানে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিব আল হাসানের অচিরেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরো ক্ষীণ হলো।

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সাতজন চিকিৎসকসহ সকল সফরসঙ্গীর ভিসা প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।

তার শারীরিক অবস্থাসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৮ নভেম্বর ‘লং ডিসট্যান্স স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’ তাকে প্রথমে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নেয়া হবে। তবে, এয়ার এম্বুলেন্স না পাওয়া গেলে তার বিদেশ যাত্রা দুই-এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শারীরিক অবস্থাসহ সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৮ নভেম্বর তার লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের সাত চিকিৎসক, নার্স ও তিন সহকারীসহ ১৬ জন যাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ঢাকা থেকে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যাবেন। সেখান থেকে পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জার্মানির কোনো ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনারি হেলথ সেন্টারে’ নেয়া হতে পারে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য।

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে লন্ডনের কয়েকটি হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নেয়ার কথা, তাতে থাকবে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
সূত্র : বাসস

ট্রাম্পকে ড. ইউনূসের শুভেচ্ছাবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুভেচ্ছাবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। দ্বিতীয় মেয়াদে আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা আপনার নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, তা প্রতিফলিত করে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধি অর্জন করবে এবং বিশ্বজুড়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। আপনার পূর্বের মেয়াদকালে এই সম্পর্ক গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে আরো প্রসারিত হয়েছে। আমাদের অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করতে এবং টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে একসাথে কাজ করার জন্য আমি অত্যন্ত আগ্রহী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের দুই বন্ধুসুলভ জাতির জন্য নতুন অংশীদারত্বের সুযোগ খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে জয়ের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বিশ্বনেতারা ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নেতাদের অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

ইতোমধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর অরবান, অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার, সাবেক রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘সম্মান এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে আরো শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা আগামী চার বছর একসাথে কাজ করতে প্রস্তুত…।’

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের জন্য অভিনন্দন! হোয়াইট হাউজে আপনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন আমেরিকার জন্য একটি নতুন সূচনা। তিনি ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে আছেন। তিনি ট্রাম্পের এই জয়কে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার বলেছেন, ‘ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে আরো সম্প্রসারিত এবং শক্তিশালী করার জন্য বিশ্বব্যাপী সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমরা উন্মুখ।’

রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ট্রাম্পের এই বিজয় ইউক্রেনের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও ট্রাম্প এই যুদ্ধের জন্য মার্কিন আর্থিক সহায়তা কতটা কমাতে পারবেন, ওই বিষয়ে তিনি নিশ্চত নন।

হাঙ্গেরির উগ্র ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবান বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ের পথে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘শুভ সকাল হাঙ্গেরি! একটি দুর্দান্ত জয়ের পথে।’

ট্রাম্পকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এক্সবার্তায় বলেন, ‘ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য আমার বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনার পূর্ববর্তী মেয়াদের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আমি ভারত-মার্কিন ব্যাপক বৈশ্বিক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করার জন্য আমাদের সহযোগিতা পুনরায় এগিয়ে নেয়ার জন্য উন্মুখ। আসুন একসাথে, আমাদের জনগণের উন্নতির জন্য এবং বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।’