Home Blog Page 506

মার্কিন নির্বাচনে বাংলা ব্যালট পেপার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্যালট পেপারে ইংরেজির পাশাপাশি চারটি বিদেশী ভাষার অন্যতম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে বাংলা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী নিউইয়র্ক রাজ্যের ব্যালট পেপারে অন্য ভাষার সাথে রয়েছে বাংলাও। প্রতিবেদন অনুসারে, এশীয়-ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলাই প্রথম ছাপা হলো নিউইয়র্কের ব্যালট পেপারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা বোর্ড অব ইলেকশন্সের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য শাখার নির্বাহী পরিচালক মাইকেল জে রায়ান সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের প্রধান শহর নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে রায়ান বলেন, ‘অভিবাসী ভোটারদের সুবিধার জন্য ব্যালট পেপারে ইংরেজির পাশাপাশি চারটি ভাষা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড অব ইলেকশন্স নিউইয়র্ক শাখা। এই ভাষাগুলো হলো চীনা, স্প্যানিশ, কোরিয়ান ও বাংলা।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যটি অধিবাসী অধ্যুষিত। দেশটির মোট অভিবাসীদের একটি বড় অংশ থাকেন নিউইয়র্ক সিটিসহ এই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গোটা নিউইয়র্কে লোকজন দু’শতাধিক ভাষায় কথা বলেন। এসবের মধ্যে হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, তামিলসহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষাও রয়েছে। কিন্তু সেসবের মধ্যে ভারতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে একমাত্র বাংলাকে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাভাষী বহু মানুষের বাস। যাদের বেশিভাগ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রদেশে এক লাখেরও বেশি বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন। নিউ ইয়র্কে বাঙালিদের বসবাস মূলত ব্রুকলিন, কুইনস এবং ব্রঙ্কসে। ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকার একাংশকে স্থানীয়েরা ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলে ডেকে থাকেন।

আমেরিকায় যত বাঙালি বসবাস করেন, তাদের ৪০ শতাংশেরই বাস নিউ ইয়র্কে। সামগ্রিক ভাবে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন লক্ষাধিক বাংলাদেশী। এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশী ভোটারদের সুবিধার্থেই ব্যালটে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউ ইয়র্ক প্রশাসন।

নিউ ইয়র্কে বাংলাভাষী বহু মানুষের বাস। যাদের বেশিভাগ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রদেশে এক লাখেরও বেশি বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন। নিউ ইয়র্কে বাঙালিদের বসবাস মূলত ব্রুকলিন, কুইনস এবং ব্রঙ্কসে। ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকার একাংশকে স্থানীয়েরা ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলে ডেকে থাকেন।

আমেরিকায় যত বাঙালি বসবাস করেন, তাদের ৪০ শতাংশেরই বাস নিউ ইয়র্কে। সামগ্রিকভাবে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন লক্ষাধিক বাংলাদেশী। এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশী ভোটারদের সুবিধার্থেই ব্যালটে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউ ইয়র্ক প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রদেশগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। ২০২০ সালে যেমন হিন্দিভাষী ভোটারদের কথা মাথায় রেখে ইলিনয় প্রদেশের ব্যালটে অন্য অনেক ভাষার সঙ্গে হিন্দিও রাখা হয়েছিল।

ব্রিফিংয়ে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মাইকেল জে রায়ান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে (ব্যালট পেপারের জন্য) অন্যান্য ভারতীয় ভাষাকে বাদ দিয়ে শুধু বাংলাকে বেছে নেয়ায় অন্যান্য ভাষাভাষী ভারতীয়রা হয়ত মনঃক্ষুণ্ন হতে পারেন, কিন্তু এটা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো গত্যন্তর ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার অধিকার আইন, ১৯৬৫-এর আওতায় দু’বছর আগে নিউইয়র্কের আদালতে একটি মামলা করা হয় । মামলাকারীদের দাবি ছিল, নিউইয়র্কে যেসব অঞ্চলে অভিবাসীর সংখ্যা বেশি, সেসব অঞ্চলে ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি অভিবাসী ভাষায় ব্যালট পেপার প্রদান করা হোক।

পরে নিউইয়র্কের রাজ্য প্রশাসন ও মামলাকারী- দু’পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এই চার ভাষায় ব্যালট পেপার প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সূত্র : বাসস

চলতি মাসে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন খালেদা জিয়া

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে তার সফরসঙ্গী ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের ভিসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কবে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন, তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত না হলেও চলতি মাসে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার সফরসঙ্গী হতে ১৫ জন আবেদন করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার পাসপোর্ট এবং ভিসাসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। 

তার সাথে যারা যাবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিবারের সদস্য, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক, ব্যক্তিগত সহকারী, নার্স ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাদেরও ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এসব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ড বসে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই তিনি কবে বিদেশে যাচ্ছেন, এটা চূড়ান্ত করে বলা যাচ্ছে না। 

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ম্যাডামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কবে বিদেশ নেয়া হবে, তা আমি জানি না। এই বিষয়ে উনার মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ‘চলতি মাসের যেকোনো সময় ম্যাডামকে প্রথমে লন্ডন নেয়া হবে। সেখান থেকে উনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো একটি দেশে নেয়া হবে। যেখানে মাল্টিডিসিপ্ল্যানারি হাসপাতাল রয়েছে। কারণ, ম্যাডামের অনেকগুলো রোগ রয়েছে। যার ফলে একসাথে উনার অনেকগুলো রোগের চিকিৎসা করতে হবে।

এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে প্রথমে লং ডিসটেন্স স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে তাকে তৃতীয় একটি দেশে মাল্টিডিসিপ্ল্যানারি মেডিক্যাল সেন্টারে নেয়া হবে। তার অংশ হিসেবে আমরা লং ডিসটেন্স স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার জন্য কাজ শুরু করেছি, যোগাযোগ চলছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের লিভার ট্রান্সপারেন্ট করতে হবে। এটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দুই-একটি সেন্টার রয়েছে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, আর্থরাইটিস, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

পরিবর্তন আনতে তরুণদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের মনস্থির করার ও স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৩ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে এনডিসি ও এফডব্লিউসি কোর্সের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিশেষ করে তরুণদের তাদের মনস্থির করতে, চিন্তা করতে ও স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করি। স্বপ্ন হলো পরিবর্তনের সূচনা। স্বপ্ন দেখলে পরিবর্তন হবে। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন তবে এটি কখনোই হবে না।’

তরুণদের দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নিজেকে প্রশ্ন করুন আমি বিশ্বের জন্য কী করতে পারি? একবার আপনি কী করতে চান তা বুঝতে পারলে আপনি তা করতে পারবেন, কারণ আপনার সেই ক্ষমতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম এখন সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম। তারা যথেষ্ট স্মার্ট হওয়ার কারণে নয় বরং তাদের হাতে প্রচুর প্রযুক্তি রয়েছে বলে।’

প্রযুক্তিকে আলাদিনের চেরাগ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি ছাত্রবিপ্লবের দিকে তাকান, তবে এটি প্রযুক্তির বিষয়। তারা একে অপরের সাথে খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারত। তাদের কোনো কমান্ড কাঠামো ছিল না।’

ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লব সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের তরুণ যুবকরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।

তিনি বলেন, তরুণরা রাজনীতিবিদ নয় এবং কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টাও তারা করছে না। তবে তারা নিজেদের জন্য একটি নতুন দেশ চায়।

বিশ্ব শান্তির কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি বিজয়ী বলেন, বেশির ভাগ সময় মানুষ শান্তির নামে একে অপরকে হত্যা করে।

তিনি বলেন, ‘…কিন্তু আমরা প্রতিদিন আমাদের সমস্ত উচ্চারণ ও আমাদের সমস্ত দর্শনে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করি। আমরা শান্তি চাই। দেশের ভেতরে শান্তি, সকল দেশের মধ্যে শান্তি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তার কাছে অত্যন্ত হাস্যকর মনে হয় যে বিশ্বের প্রতিটি সরকারেরই একটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আছে, যা আক্ষরিক অর্থে এটি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়, কিন্তু কোনো শান্তি মন্ত্রণালয় নেই।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যদি আপনার লক্ষ্য শান্তি হয়, তাহলে আপনার কি শান্তি মন্ত্রণালয় থাকা উচিত নয়?’

আক্রমণের বিরুদ্ধে জনগণকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে- এটি পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের সরকারগুলোতে শান্তি মন্ত্রণালয় ও যুদ্ধ মন্ত্রণালয় উভয় মন্ত্রণালয়ই রাখার ওপর জোর দেন।

তিনি প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেসহ বৈদেশিক সম্পর্কে শান্তি অ্যাটাশে প্রবর্তনের পরামর্শ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি আত্ম-ধ্বংসাত্মক গ্রহ। কেননা আমরা শুধুমাত্র নিজেদের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত সবকিছু করেছি।’

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ গ্রহ ধ্বংস করতে পরিবেশ ধ্বংস করছে।

প্রতিদিন মানুষ গ্রহকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভুল সভ্যতা তৈরি করেছি – আত্মবিধ্বংসী সভ্যতা।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে এনডিসি ও এএফডব্লিউসি কোর্সের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন।

সূত্র : বাসস

বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না : মির্জা ফখরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পরিষ্কার কথা, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না। এটা বাংলাদেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। একবার রাজনৈতিক বিরাজনীকরণ, মাইনাস টু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আবারো ওই রাস্তায় যাওয়ার কথা কেউ চিন্তা করবেন না।’

রোববার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি নয় শুধু, এখনো বাংলাদেশ কিন্তু সংকট অতিক্রম করতে পারেনি। হাসিনা গেছে, এতে যারা বাংলাদেশী বিদেশে থাকে তাদের আনন্দ হয়েছে। আমরা একটা ভয়াবহ পাথরের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি, বুকের ওপর চেপে থাকা পাথরটা গেছে। পাথর গেলো এখনো কিন্তু স্বস্তি নেই, কোথাও যেন আটকে আছি।’

‘এখন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন’- অন্তর্বতী সরকারের প্রতি এমন ইঙ্গিত করেন বিএনপির এই নেতা।

আজকের সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘খবরের পাতায় দেখলাম, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের মোলারিরিটি, মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ। যেখানে যাবেন চোর, চোর মানে আওয়ামী লীগের চোর। সব জায়গায় ওরা বসে আছে।’

‘রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় বসার জন্য উসখুস করছে’ এক উপদেষ্টা এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য খুব দুর্ভাগ্যজনক, আমরা আশা করিনি যে এই মাপের মানুষ এ ধরনের কথা বলবেন। আমরা রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উসখুস করছি না, আমরা বাংলাদেশকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনামুক্ত করার জন্য কাজ করছি, জীবন ও প্রাণ দিয়েছি। এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা যুদ্ধ করছি। কেন যুদ্ধ করছি? যত দেরি করবেন, তখন হাসিনা আবার ফিরে আসবে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিদ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। জঞ্জাল সাফ করে ফেলুন। পদে পদে আমরা ক্ষমতায় যেতে উসখুস করছি, এ সমস্ত কথা বলে জনমতকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমরা তো ক্ষমতায় যেতেই চাই। আমরা রাজনীতি তো করিই ক্ষমতার জন্য।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খোকা ভাই একজন লিজেন্ড ছিলেন। তিনি ’৭১, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সরব ভূমিকায় ছিলেন। তিনি কিন্তু শেখ হাসিনাকে হারিয়েছিলেন নির্বাচনে। একথা অনেকে এখন বলেন না। তাদের জন্ম হয়েছিল রাজনীতি করে মানুষের কল্যাণ করার জন্য। তার মৃত্যু আমাদের কাছে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে উঠেছিল।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘খোকা ও আব্বাস সাহেব যখন তরুণ ছিলেন তখন ঢাকা কাঁপতো। এখন তোমাদেরকে দেখাতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজুন সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান প্রমুখ।

বিদ্যুতের বকেয়ার জন্য বাংলাদেশকে সময় বেঁধে দিলো আদানি

আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ না করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।

রোববার (৩ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

অবশ্য এরই মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার বকেয়া পরিশোধে আল্টিমেটাম দিলো প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্রের বরাতে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩১ অক্টোবর বকেয়া পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করেনি বিপিডিবি।

বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড থেকে গত ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে মাত্র ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। পায়রা, রামপাল ও এসএস পাওয়ার ওয়ানসহ অন্যান্য বড় কারখানাগুলোতেও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির বাগেরহাটের রামপাল প্ল্যান্ট এবং এসএস পাওয়ার আই এরই মধ্যে কয়লার ঘাটতির কারণে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া আরো উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ থেকে বকেয়া পরিশোধ খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে, যার ফলে বকেয়া দিন দিন আরো বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে আদানি পাওয়ারকে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর আগের মাসগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মাসিক বিলের বিপরীতে বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন করে।

যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি আদানি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছেন, দ্রুতই এ বিষয়ে একটি সমাধানে আশাবাদী তারা।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আদানির এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যকারিতাও শঙ্কায় পড়বে। কারণ শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ না দিলে তাদের একটি ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট বেকার পড়ে থাকবে। যদি তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে মাসে ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার করে বিল নিতে পারে তাহলে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে।

এদিকে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরই আদানি গ্রুপ সতর্ক হয়ে যায়। কোম্পানিটির মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি শঙ্কায় পড়ে যেতে পারে। এ কারণে তারা ভারতের ভেতর বিদ্যুৎ সরবরাহের উপায় খুঁজতে থাকে। এখন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ না দিলে অভ্যন্তরীণ গ্রিডে যুক্ত হবে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বছরে পাচার ১৫ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। গতকাল রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ কার্যালয়ে) ‘পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উপায়’ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ ধারণা পোষণ করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে মোট কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়। ব্যাংকের মতো আনুষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করে ১৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাচারের কথা জানা যায়। বিভিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে ধারণা করা যায়, প্রতিবছর গড়ে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, দেশের ব্যাংক খাতকে যে খাদের কিনারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে মূল দায়ী হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সংস্কার ও ঢেলে সাজানো ছাড়া বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইআরএফ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে। গ্রিনওয়াচ ঢাকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েস্ট সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসীম উদ্দিন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বলয় প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসা- এই ত্রিমুখী আঁতাত মৌলিক ভূমিকা পালন করেছে। সব প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘ সময় ধরে দলীয়করণের চর্চা হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরে যার চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখেছি। এতে আমলাতন্ত্রকে কর্তৃত্ব দিয়েছে রাজনৈতিক শক্তি আর তা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সিকে। ফলে এসব জায়গায় কতটুকু পরিবর্তন আনা যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি, তা যেন টেকসই হয়। অর্থ পাচার রোধে বেশ কিছু আইনের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পাচার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি, এনবিআর, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, বিএফআইইউ- এসব প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার পথনকশা আছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে, শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব, যদিও তা অনেক কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যেসব দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে, ওই সব দেশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশগুলোর সহযোগিতার মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া দুর্নীতি বন্ধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর ও অর্থ পাচার- উভয় পদ্ধতিতেই দেশ থেকে অর্থ সরানো হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়। অনুমান করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে।

জেল নাকি হোয়াইট হাউস, মঙ্গলবার ভাগ্য পরীক্ষা ট্রাম্পের!

আগামী মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত দুই প্রার্থী।
জনমত জরিপ বলছে- ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে কমলা হ্যারিসের। তাই কমলা ও ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরেই দোদুল্যমান সাতটি অঙ্গরাজ্যে চষে বেড়াচ্ছেন। কেননা, এই অঙ্গরাজ্যগুলোই নির্ধারণ করে দেবে তাদের ভাগ্য।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে হ্যারিস মাত্র ১ শতাংশ এগিয়ে আছেন। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার যেখানে ৪৭ শতাংশ, সেখানে হ্যারিসের জনপ্রিয়তার হার ৪৮ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্য প্রেসিডেন্ট পদ ও কারাবাসের ঝুঁকির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। জিতলে তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন; আর হেরে গেলে তাকে কারাগারে যেতে হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র কোডের অ্যাক্সেস পাওয়া প্রথম দোষী সাব্যস্ত অপরাধী। তার হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ে নানা অভিযোগ আছে; তার বিরুদ্ধে আছে কর জালিয়াতির অভিযোগও।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যদি ট্রাম্প বিজয়ী হন, তাহলে তিনি হবেন হোয়াইট হাউসে যাওয়া ও পারমাণবিক অস্ত্র কোডের অ্যাক্সেস পাওয়া প্রথম দোষী সাব্যস্ত অপরাধী। আর যদি তিনি বিজয় থেকে ছিটকে পড়েন, তাহলে ৭৮ বছরের ট্রাম্পকে আরও অপমানজনক আদালতের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে; এমনকি কারাগারেও যেতে হতে পারে। এটি হবে তার মোহনীয় জীবনের সমাপ্তি, যে জীবনে তিনি সবসময় আইন ও জবাবদিহিতাকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
তাই বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার দিনটি কার্যত ট্রাম্পের জন্য রায়ের দিন।
ট্রাম্পের জীবনী লেখক গোয়েন্ডা বেøয়ার বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) নিজেকে সেই লোক হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি এগুলো (আইন-জবাবদিহি) থেকে দূরে চলে গেছেন। তবে তিনি এবার অনেক হিসাব-নিকাশের মুহূর্তের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাকে জেলে যেতে হতে পারে; সম্পত্তি কমে যেতে পারে। যাই ঘটুক না কেন এবং তিনি জিতুন বা হারুন– তার স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকবেই। তিনি মৃত্যু, অসুস্থতা, স্মৃতিভ্রংশ– এগুলো এড়িয়ে যেতে পারবেন না।”
১৯৭০-এর দশকে সাদা ভবনগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দিতে অস্বীকার করায় জাতিগত বৈষম্যের জন্য বিচার বিভাগ ট্রাম্প ও তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করে। তার হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। তার ট্রাম্প ইউনিভার্সিটি প্রোপার্টি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রস্তাব করে ব্যবসা, জালিয়াতি, বিভ্রান্তিকর বিপণন ও গুণমান সম্পর্কে মিথ্যা দাবির জন্য একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৬ সালে ট্রাম্প ভুল স্বীকার না করে ২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করেন।
দাতব্য সংস্থা ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে দাতব্য তহবিল ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক খরচের জন্য ব্যবহারের অভিযোগে মামলা ও তদন্ত চলছে। অবশেষে ট্রাম্প দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অবশিষ্ট তহবিল দিয়ে ফাউন্ডেশনটি ভেঙে দিতে সম্মত হন। প্রতারণার মামলারও মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। তার কোম্পানিকে কৃত্রিমভাবে তার নেট মূল্যস্ফীত বাড়ানোর জন্য আদালত ৩৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। তার বিরুদ্ধে কর জালিয়াতির অভিযোগও আছে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনও নানা বিতর্ক ও স্ক্যান্ডালে পূর্ণ। অভিযোগ আছে- তিন স্ত্রীর সঙ্গেই প্রতারণা করেছেন ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছে মার্কিন রণতরী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সেখানে মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান, জ্বালানি বিমান ও নৌবাহিনীর বিমান বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী মাসগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমান, জ্বালানি বিমান ও বিমান বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হবে। পেন্টাগনের মুখপাত্র মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেনারেল প্যাট্রিক রাইডার বলেছেন, ‘ইরান, তার অংশীদার অথবা প্রক্সিরা যদি এই মুহূর্তটিকে আমেরিকান কর্মীদের বা ওই অঞ্চলে স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ব্যবহার করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ জনগণ ও স্বার্থকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’
গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী দুটি রণতরী মোতায়েন রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রত্যাহারে ওই অঞ্চলে নতুন করে রণতরী মোতায়েন না করা পর্যন্ত বিমানবাহী রণতরীর শূন্যতা তৈরি করবে।
তবে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কবে নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাবে সেই বিষয়ে পেন্টাগনের বিবৃতিতে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আলোর উৎসবে এক টুকরো আলো কাঞ্চন-শ্রীময়ীর জীবনে

২০২৪ সালের দীপাবলি স্মরণীয় হয়ে থাকবে টালিউড অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের জীবনে। কারণ আলোর উৎসবে এক টুকরো আলো তাদের ঘরে। কোল আলো করে এলো কন্যাসন্তান। মা হলেন শ্রীময়ী, আর বাবা হলেন কাঞ্চন। এ মুহূর্তে তারা দুজনে খুশিতে আহ্লাদে আটখানা।
আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে, কেমন আছেন নতুন মা আর সদ্যোজাত? হাসপাতাল থেকেই জানালেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। গলায় ক্লান্তি আর তৃপ্তি মিলেমিশে একাকার। তিনি বলেন, মেয়ে ভালো আছে। আমিও ভালো আছি। তবে ধকল গেছে একটু, তাই ক্লান্তি রয়েছে। শ্রীময়ী বলেন, খুশিতে আত্মহারা কাঞ্চন। কালীপূজার পরেই বাড়িতে কন্যাসন্তান!
অন্যদিকে বিধায়ক কাঞ্চন বলেন, দেবীই কন্যা রূপে তার ঘরে। তবে কার মতো দেখতে হয়েছে এখনই বুঝতে পারছেন না নতুন মা-বাবা। অভিনেত্রীর দাবি, খুব ফুটফুটে দেখতে। বেবিকট আলো করে শুয়ে আছে। শ্রীময়ী বলেন, কাঞ্চন তার কন্যার নাম রেখেছেন কৃষভি।
এর আগে কালীপূজার দিন কাঞ্চন-শ্রীময়ী যুগল ভিডিওবার্তায় ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানান। তখনই অভিনেত্রীকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু। অনুরাগীরা বলেছেন, তার গর্ভ স্পষ্ট। বিষয়টি জানতে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তখনও কিচ্ছু জানাননি অভিনেতা দম্পতি।
শ্রীময়ী বলেন, কাঞ্চন আমার সঙ্গে ছিল। সারাক্ষণ পাশে বসে গল্প করেছে। অস্ত্রোপচারে মেয়ের জন্মের পরেই আনন্দে চিৎকার করে ওঠে। খবর পেয়ে দুই পরিবারের সব সদস্য হাসপাতালে হাজির। অভিনেত্রী বলেন, আমার মা-বাবা খুব খুশি। বাড়ির ছোট মেয়ে আমি। দিদির বিয়ের ১৮ বছর পর বাড়িতে আবার শিশুর কলরব। ওরা আনন্দে কেঁদেই ফেলেছেন।
ছেলে বা মেয়ে নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না কাঞ্চন-শ্রীময়ীর। সুস্থ সন্তান পৃথিবীর আলো দেখুক, এটিই প্রার্থনা ছিল তাদের। আপাতত দিন পাঁচেক হাসপাতালে থাকতে হবে মা ও নবজাতককে। তার পর বাড়ি ফিরবেন তারা।

আমিরের তৃতীয় বিয়ের জল্পনা

২০০৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর গাঁটছড়া বাঁধেন বলি মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান ও পরিচালক কিরণ রাও। ২০১১ সালে সারোগেটের মাধ্যমে আজাদকে স্বাগত জানান এ দম্পতি। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন আমির খান ও কিরণ রাও।
বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই ছেলে আজাদ রাও খানের কো-প্যারেন্টিং করছেন আমির ও কিরণ রাও। কিন্তু বাস্তবজীবনে আমির কতটা হ্যান্ডস-অন বাবা তা জানিয়েছেন কিরণ। অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের চ্যাট শো হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট-এ হাজির হয়ে শেয়ার করেছেন পরিচালক। তিনি বলেছিলেনÑ সা¤প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রক্রিয়াটি ‘অনেক মসৃণ’ হয়ে উঠেছে, যদিও আমির আজাদের স্কুল সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে থাকতে চান না এখনো।
চ্যাট শো চলাকালীন যখন আমিরের সঙ্গে আজাদের সম্পর্ক নিয়ে কিরণকে প্রশ্ন করেন কারিনা, তখন লাপাতা লেডিজের পরিচালক বলেন, ‘এটি জটিল। ভীষণ ব্যস্ত বাবা। সত্যি বলতেÑ আমাদের যখন বিয়ে হয়েছিল, তখনো অভিভাবকত্বের বেশিরভাগটাই আমি করতাম। তবে ডিভোর্সের পর আমির বুঝতে পারেÑ এবার আমার মনে হয় ও বুঝেছে ওকে একটু এফোর্ট দিতে হবে।
কারণ আপনি যখন একই বাড়িতে একসঙ্গে থাকেন, তখন কোনোভাবে এটা হয়েই যায়। কিন্তু যখন আলাদা থাকেন, তখন আলাদাভাবে আপনাকে সময় বের করতে হয়। অনেক বেশি সচেতন হতে হয়।
কিরণ বলেন, এখন এটা অনেকটাই মসৃণ হয়েছে। এবং আমিরও নিজেকে অনেক বেশি জড়িয়েছে। ভাগ্য করে, এখন আমরা ওপরের আর নিচের তলায় থাকি। তবে আমরা চলে গেলেও খুব বেশি দূরে দূরে থাকব না। আজাদ এখন বড় হওয়ার পর বাবার সঙ্গে সময় কাটানো খুব উপভোগ করে। এখন ওদের বন্ডিং দারুণ। তিনি বলেন, আমারও মনে হচ্ছেÑ আজাদকে একটু আমিরের কাছে রেখে শান্তিতে এখন বিশ্রাম নিতে পারি। শুধু আমির ছেলের স্কুল সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমি মনে করি, এটা বেশিরভাগ বাবাদের সমস্যা। তারা সবসময় বলেÑআমাকে স্কুলসংক্রান্ত কাজে জড়াবে না, আমি অন্য কাজ নেব।
মাঝে শোনা গিয়েছিল, তৃতীয় বিয়ের কথাও নাকি ভাবছেন আমির। যদিও রিয়া চক্রবর্তীর পডকাস্টে অভিনেতা জানান, বয়সের কারণে পুনরায় বিয়ে করা আর সম্ভব নয় তার পক্ষে।
আমির সেই সময় জানিয়েছিলেনÑআমার বয়স এখন ৫৯। আর কবে বিয়ে করব… এই বয়সে মনে হয় সেটা বেশ মুশকিলের। তা ছাড়া পরিবারে এখন প্রচুর সদস্য। সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। সন্তানদের সঙ্গেও খুব ভালো সময় কাটাই আজকাল। মোট কথাÑ আমার পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকতে বেশি ভালো লাগে এখন। দারুণ আছি। এখন আমি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি।