Home Blog Page 510

শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুললো বার্সা

০

শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুললো বার্সেলোনা। গত রাতে রায়ো ভ্যালেকানোকে হারিয়েছে তারা। দারুণ জয়ে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। পেছনে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও আথলেটিকো মাদ্রিদকে।

ঘরের মাঠ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে লা লিগার ম্যাচে রায়ো ভ্যালেকানোর মুখোমুখি হয় বার্সা। যেখানে লেভানডফস্কির একমাত্র গোলে ১-০ সফরকারীদের হারায় তারা।

শুরু থেকেই আধিপত্য ধরে রাখে বার্সা। আক্রমণেও উঠে আসে বেশ কয়েকবার। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৮তম মিনিটে সফল স্পট-কিকে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন লেভানডফস্কি।

মূলত ভাইয়েকানোর বক্সে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার ইনিগো মার্তিনেস ফাউলের শিকার হওয়ায় ভিএআর চেক করে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি।

এই নিয়ে মৌসুমে লা লিগায় ২৩ ম্যাচে ২০তম গোল লেভানডফস্কির। যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে ৩টি বেশি।

৩১তম মিনিটে বাড়তে পারত ব্যবধান। বক্সে ভাইয়েকানো বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সুযোগ পান লামিনে ইয়ামাল। তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গারের শট ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আগুস্তো।

৫৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ হারান লেভানডফস্কি। আর ৭২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি রাফিনিয়া। তার চিপ শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ১০ মিনিট পর তার আরেকটি শট ঠেকান গোলরক্ষক।

ফলে ১-০ গোলে জিতেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসে বার্সা। মূলত এই সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদ ও আথলেটিকো মাদ্রিদ নিজ নিজ ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় এই সুযোগ পেয়ে যায় তারা।

২৪ ম্যাচে ১৬ জয় ও তিন ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৫১। সমান ম্যাচে রিয়ালেরও অবশ্য পয়েন্ট ৫১। কিন্তু মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে কাতালানরা।

এক মিনিটেই শেষ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অতিরিক্ত টিকিট

০

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বৈরথ অনেক আগেই প্রভাব ফেলেছে ক্রিকেটে। দু’দলের ম্যাচ ঘিরে বরাবরই দেখা দেয় তুমুল উত্তেজনা। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব যেন এক হয়ে যায়। সবাই চেয়ে থাকে একই দিকে।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মাঠে গড়ায় না এক যুগের বেশি সময় ধরে। দু’দলের দেখা মেলে কেবল আইসিসির ইভেন্টগুলোতে। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তাই দেখা হচ্ছে দু’দলের। ফলে সাড়া পড়ে গেছে ক্রিকেট পাড়ায়।

স্টেডিয়ামে বসে দু’দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে সমর্থকরা। তাই তো এই ম্যাচের টিকিটের চাহিদা থাকে সবসময়ই আকাশচুম্বী। ব্যতিক্রম নয় আগামী ২৩ জানুয়ারির ম্যাচেও। ভেঙে গেছে আগের সব রেকর্ড।

দুবাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল কাঙ্ক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে টিকিটের হাহাকার চলছে।
আকর্ষণীয় এই ম্যাচের টিকিট নিয়ে ইতোমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র এক মিনিটে বিক্রি হয়ে গেছে ম্যাচের সমস্ত টিকিট।

প্রথম দফায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি ম্যাচটির টিকিট বাজারে ছাড়ে আইসিসি। তবে মাত্র এক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায় সব। টিকিট কিনতে না পেরে হতাশ হন অনেক সমর্থক।

দর্শকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে রোববার অতিরিক্ত কিছু টিকিট বাজারে ছাড়ে আইসিসি। তবে এবার আগের রেকর্ড ভেঙে মাত্র এক মিনিটে শেষ হয় সব টিকিট।

মশাল প্রজ্জ্বলন করে ভারতীয় পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানালো তিস্তা পাড়ের মানুষ

০

জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই- স্লোগানে ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিস্তা অববাহিকা জুড়ে মশাল প্রজ্জ্বলন করে প্রতিবাদ জানালো তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১টি পয়েন্টে একসাথে কয়েক লাখ মানুষ এই মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।

এ সময় তারা ভারতীয় পানি আগ্রাসন মানি না মানব না, পানির ন্যায্য হিস্যা- দিতে হবে দিতে হবে, তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু কর- করতে হবে।

এ সময় তারা একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে তিস্তাকে শুকিয়ে মারার জন্য ভারতকে পানি আগ্রাসী দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিও জানান।

একই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এখন ১১টি পয়েন্টে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

এদিকে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছিল এই লাগাতার কর্মসূচি। জাগো বাহে তিস্তা বাচাই স্লোগানের তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন এই কর্মসূচি দেয়। কয়েক লাখ মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন দিনরাত।

তিস্তা নদীর রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল হাবিব জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ব জনমত তৈরীর জন্য উপস্থাপন করা হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আন্দোলন চলবে।

কুয়েটে ছাত্রদলের হামলায় আহত ৫০, হাসপাতালে ১০

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতির দ্বন্দ্বে ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া সঙ্ঘাত এ রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। অতীতে ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের গুণ্ডামি, নোংরামি ও সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমনকি তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে একজন শিক্ষক পর্যন্ত মারা যান। বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল এখানে আর ছাত্র রাজনীতি ফিরবে না। কিন্ত সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সোমবার থেকে ছাত্রদল কুয়েটে সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ শুরু করে। গতকাল দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে। পথিমধ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় কুয়েটের পকেট গেট দিয়ে বহিরাগত কিছু লোক ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামালা চালায়। এরপর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা ক্যাম্পাস। সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে ছাত্রদল কর্মীরা পালিয়ে গেলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে কুয়েটের আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাল্টা হামলা করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপে একের পর শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদেরকে কুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। অপরদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ শিক্ষার্থী হলেন প্রীতম বিশ্বাস, শাফি, নাফিস ফুয়াদ, সৌরভ, তাওহিদুল, ইউসুফ খান সিয়াম, দেবজ্যোতি, মাহাদি হাসান, নিলয় ও মমতাহিন।

কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে দুপুর ১টায় আমরা সমাবেশ ডেকেছিলাম। সেখানে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, কুয়েটের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইফাজ ছাত্রদলের হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। সংঘর্ষের শুরুতে ছাত্রদল কর্মীরা বলেছিল, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসে আসবে না। তোদেরকে রক্ষা করবে কে? এই বলে তারা হামলা শুরু করে। সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ সময় পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, সেনা বাহিনীর সদস্য ও এপিবিএন, বিজিবি ও নৌ কন্টিনজেন্ট সদস্যরা কুয়েটে আসেন। এ সময় ছাত্ররা কুয়েটের মেইন গেট আটকে দিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। দুপুর ১টায় সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এলো এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, ‘পরিস্থিতি অতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমার কুয়েটের ভিসিসহ সব পক্ষের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয়দের সাথেও কথা হয়েছে। এটা আরো মারাত্মক রূপ যাতে নিতে না পারে সেই চেষ্টা করছি।’

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা জেলা ও মহানগর শাখা কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল আহ্বান করে।

আমাদের ভদ্রতাকে কেউ যাতে দুর্বলতা মনে না করে : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ চলবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা ভদ্র মানুষ। কিন্তু আমাদের ভদ্রতাকে কেউ যাতে দুর্বলতা মনে না করে। ভদ্র মানুষেরা যখন শক্ত হয় তখন কেমন হতে পারে তা দেশের মানুষ দেখেছে।’

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে। একে একে মজলুমদের মুক্তি দিয়েছেন, সর্বশেষ মজলুমকেও মুক্তি দিন। এর মধ্যে যারা হারিয়ে গেলো তাদের তো ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। আর ১৩ মিনিটও তাকে জেলে রাখা হয়- তা আমরা চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। তার প্রধান থাবা পড়েছিল জামায়াতে ইসলামীর ওপর। সেসময় দায়িত্ব নিয়েছেন এ টি এম আজহার। বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও ফ্যাসিবাদের প্রথম সাক্ষী এ টি এম আজহারকে মুক্তি দেয়া হয়নি।’

‘আমরা ভাবতেও পারিনি তার মুক্তিতে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। আজ থেকে তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সমাবেশের শুরুও নেই শেষও নেই,’ বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত কখনো আপস করিনি উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, ‘ফাঁসির কাষ্ঠে নেয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের নেতারা কারো সাথে আপস করেননি। তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য নানা মহল থেকে আপস করার কথা বলা হয়েছিল।’

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিবন্ধন জালিমরা কেড়ে নিয়েছিল, আপনারাও কি জুলুম করবেন? আর কোনো বৈষম্য আমরা মেনে নেব না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ ২০ এপ্রিলের মধ্যে

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

এদিন একই মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১৬ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সরকারে থাকার খায়েশ থাকলে পদ ছেড়ে নির্বাচনে আসুন : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলেছেন, যদি সরকারে থাকার খায়েশ জাগে তাহলে পদ ছেড়ে নির্বাচনে আসুন। সরকারের বাইরে গিয়ে নতুন দল করুন আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারে থেকে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না। আগে জাতীয় নির্বাচন দিন, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কোনোভাবেই আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার যশোরের টাউনহল ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আযোজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যশোরের নওয়াপাড়ায় বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালু ও ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিএনপিকে ভাঙার বহু চেষ্টা করে সফল হতে পারেনি। বিএনপি জনগণের দল। এ কারণে গত ১৭ বছর জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। তার চূড়ান্ত বিজয় ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। বর্তমান সরকার সংস্কারের যে কথা বলছে, বিগত ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া সেই একই কথা বলেছিলেন। এটি নতুন কোনো বিষয় না। তারপরও ভোটের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার ততটুকু করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আমরা আশাবাদী ইউনূস সরকার দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দেবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ফ্যাসিবাদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এটি দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ধর্ম বিষয়ক সহসাংগঠনিক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী, সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক টিএস আইয়ুব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, ফিরোজা বুলবুল কলি ও সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

ভারত ন্যায্য হিস্যা না দিলে বিকল্প ভাবতে হবে : তারেক রহমান

‘প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ ভারত যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয় তবে দেশী-বিদেশী সকল বিকল্প ভাবতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে তিস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটির সমাপনী দিনের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ভারতের ৫৪টি নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, এটা কোনো করুণার বিষয় নয়। তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবা বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দিয়েছে ভারত। তিস্তার ন্যায্য পানি আদায়ের জন্য আজকে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ পানিবণ্টন নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ অপ্রতিবেশীমূলক আচরণ করছে। ৫০ বছর যাবৎ ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাই নাই। এখন আবার এসেছে তিস্তার অভিশাপ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের এমন আচরণের কারণে আজকে তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ মানুষ বন্যায়-খরায় অসহায় জীবন-যাপন করছে। পানির অভাবে কোটি কোটি টাকার শস্য ক্ষতি হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ৫ আগস্টে একটি খুনি-স্বৈরাচার দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এই স্বৈরাচার এক দিন একটি কথা বলেছিল, ‘ভারতকে যা দিয়েছি তা তারা সারা জীবন মনে রাখবে’। তাই এই পার্শ্ববর্তী দেশ পলাতক স্বৈরাচারকে মনে রেখেছে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে মনে রাখেনি। ভারত শুধু পলাতক স্বৈরাচারকে জায়গা দিয়েছে আর কিছু দেয়নি। স্বৈরাচার নিজের ক্ষমতা দখল রাখতে গিয়ে ভারতের সেবাদাসীতে পরিণত হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, পলাতক স্বৈরাচার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতকে এক তরফাভাবে ট্রানজিট দিয়ে গেছে, এ চুক্তিগুলো পুনবিবেচনা করা দরকার।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই। সম্পর্ক হতে হবে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। এর বাইরে কিছু নয়। এজন্যই বিএনপির স্লোগান, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে আর অন্যায্য দেখতে চায় না, বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে কাঁটাতারে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ আর দেখতে চায় না।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তা রক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য যেসব নদী আছে সেগুলোকে আমাদের পুনরায় সংস্কার এবং খনন করতে হবে। শহীদ জিয়ার খাল খনন করবো, ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার গত ১৫টি বছর নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একটি মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বৈরাচার ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের কোনো হটকারী সিদ্ধান্তে বা আমাদের অসতর্কতায় যেন খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের কেউ যেন পুনর্বাসন হওয়ার সুযোগ না পায়, সেদিকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, দুই দিন যাবত তিস্তা পাড়ের মানুষ যে আন্দোলন করছে এটা বৃথা যাবে না। তিস্তাকে রক্ষা করতে হলে তিস্তাবাসীকে একটি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর সেটি হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনারা আপনাদের পছন্দের দলকে সমর্থন দিবেন। সেই সাথে তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের এই আন্দোলন বৃথা যাবে না। ক্ষমতায় এলে সকলকে সাথে নিয়ে তিস্তার সমস্যা সমাধান করব ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখেছে মানুষের ঐক্যবদ্ধতা। কিভাবে তারা একটি সঙ্কটে নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। আপনারা যেভাবে বলেছেন, জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও। একইভাবে আমাদের বাংলাদেশের সকলকে বলতে হবে, ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও, জাগো বাহে বাংলাদেশ বাঁচাও’।

বাংলাদেশ চাইলে তিস্তায় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত চীন : রাষ্ট্রদূত

০

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তার দেশ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় চীন দূতাবাসে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সরকার চাইলে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে প্রস্তুত চীন। তিস্তার নদীর তীরে বসবাসকারী হাজারো মানুষের কল্যাণে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা প্রকল্পের জন্য চীনের সহায়তা চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। প্রকল্পটি মূল্যায়ন করার পর ২০২৩ সালে চীন বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে জানায় যে, তাদের দেয়া প্রকল্পে কিছু অপ্রয়োজনীয় উপাদান থাকায় প্রকল্পটি সংশোধন করা উচিত। কিন্তু তারপর থেকে আমরা এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।’

প্রয়োজনে র‌্যাব নতুন করে গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রয়োজন হলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) নতুন করে গঠন করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সভায় র‌্যাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা র‌্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছি। আগামী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা হবে, আমরা কাজ করছি। কোনো ঘটনা জানার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাই আগের চেয়ে কমেছে। তবে এটি এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি।’

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় দম্পতিকে রামদা দিয়ে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় জড়িতদের সাথে সাথে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

উপদেষ্টা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র : বাসস